Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪০

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪০

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪০
মহাসিন

শাপলার আর এই বন্ধ রুমে বসে থাকতে ভালো লাগছে না। দম বন্ধ হয়ে আসছে। ধীর পায়ে জানালার কাছে গিয়ে জানালাটা খুলে দিল। ‘ক্যাঁচ’ করে একটা পুরোনো শব্দ হলো। বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ল চারদিক কেমন নিস্তব্ধতায় ভরে আছে। না আছে মানুষের কোলাহল, না আছে গাড়ির হর্ন। শুধু গাছের পাতায় বাতাসের হালকা শোঁ শোঁ শব্দ।

হঠাৎ ‘খট’ করে দরজা খুলে গেল। সিয়াম রুমে প্রবেশ করল। হাতে লাগেজে আর একটা ব্যাগ।
শাপলা ধীরে ধীরে ওর দিকে এগিয়ে এলো। কপাল কুঁচকে, একটু অভিমানী গলায় বলল,
“এই, এখন আপনার আসার সময় হলো?”
সিয়াম হাসতে হাসতে লাগেজটা শাপলার দিকে এগিয়ে দিল।
“রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ছিল রে পাগলি। তাই এত দেরি হয়ে গেল।”
কথা শেষ করেই সিয়াম দ্রুত পায়ে গিয়ে দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিল। ‘খটাস’।
শাপলা মুচকি হাসল। চোখে দুষ্টুমির ঝিলিক। বলল,
“আর পালাবো না। এখন থেকে আপনার সাথে থেকেই আপনার মাথা চিবিয়ে খাবো।”
এই বলেই শাপলা লাগেজ খুলে নিজের পোশাক বের করে নিল। তারপর ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াল।
পেছন থেকে সিয়াম ডাক দিল, ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।
“আমিও আসবো। দুজনে রো*মা*ন্স করতে করতে একসাথে গোসল করবো।”
শাপলা পেছন ফিরে মুখ ভেংচি কাটল। তারপর ওয়াশরুমে ঢুকে সজোরে দরজা বন্ধ করে দিল ‘ধাম’ শব্দ হলো।

সিয়াম দাঁড়িয়ে মুচকি হাসল। তারপর আরাম করে বিছানায় শুয়ে পড়ল। বাইরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে ওর বুকের ভেতর এখন শুধু শাপলার হাসির শব্দ।
ওয়াশরুমের ভেতর থেকে পানির ঝরঝর শব্দ আসছে। শাপলা গুনগুন করে গান গাইছে। সিয়াম বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।
কয়েক মিনিট পরেই সিয়াম উঠে বসল। ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে ওয়াশরুমের দরজার কাছে এলো। আস্তে করে টোকা দিল । ‘টক টক’ শব্দ হলো।
“শাপলা… দরজা খোল । একটু রো*মা*ন্স করি দুজনে। আমি কিন্তু দরজা ভেঙে ফেলবো হ্যাঁ?” গলাটা ইচ্ছে করে ভয় দেখানোর মতো করল।
ভেতর থেকে শাপলার ঝাঁঝালো গলা ভেসে এলো,
“খবরদার! দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে আপনার মাথা আমি ভেঙে দেবো। চুপচাপ বসে থাকেন।”
সিয়াম আর সহ্য করতে পারল না। রাগ আর অস্থিরতায় সজোরে দরজায় লা*থি মা*র*ল।
ওয়াশরুমের ভেতর থেকে শাপলা চিৎকার করে উঠল,
“কি করতেছেন এসব! পাগল হয়ে গেছেন নাকি?”

সিয়াম দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল,
” তোর সাথে রো*মা*ন্স করবো। দরজা খোল!”
শাপলার বুকের ভেতর ধুকপুক বাড়তে লাগল। কাঁপা হাতে দরজাটা খুলে দিল।
সিয়াম ভেতরে ঢুকতেই চোখ আটকে গেল। শাপলার পুরো শ*রী*র ভেজা। ভেজা জামা কাপড় শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। চুল থেকে টপটপ পানি পড়ছে মেঝেতে।
সিয়াম জিভ দিয়ে নিজের শুকনো ঠোঁট ভেজালো। ধীর পায়ে শাপলার দিকে এগিয়ে গেল। ওর প্রতিটা পায়ের শব্দে শাপলার হার্টবিট দ্বিগুণ হয়ে গেল। লজ্জায় গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে গেল।
সিয়াম আর দাঁড়ালো না। এক টানে শাপলাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। শাপলার নিঃশ্বাস আটকে গেল।
তারপর সিয়াম হাত বাড়িয়ে শাওয়ারটা ছেড়ে দিল। সাথে ঝরঝর করে ঠান্ডা পানি নেমে এলো দুজনের উপর। শাপলা চোখ বন্ধ করে ফেলল। সিয়াম ওর ভেজা মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড… তারপর আলতো করে শাপলার ঠোঁট ছুঁ*য়ে দিল।
শাপলার পুরো শরীর কেঁপে উঠল। লজ্জা, ভয় আর অদ্ভুত এক শিহরণে ওর গলা শুকিয়ে গেল। সিয়াম ধীরে ধীরে ওর গাল বেয়ে নামতে লাগল…
শাপলা হঠাৎ নিজেকে সামলে নিল। দুই হাতে সিয়ামকে হালকা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। দ্রুত নিজের জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ধাম করে দরজাটা আটকে দিল।
ওপাশ থেকে সিয়ামের গর্জন ভেসে এলো।
“শাপলা! দরজা খোল বলছি!”

শাপলার দুষ্টু হাসির শব্দ হলো। ফিসফিসিয়ে বলল,
“পারবো না।”
বলেই শাপলা হাসতে লাগল। এই হাসিতে লজ্জা আছে, আর সিয়ামকে জ্বালানোর আনন্দও আছে।
সন্ধ্যা সাতটা। নীলাঞ্জনা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে। চিরুনির প্রতিটা টানে তার ভাবনাগুলোও যেন জট খুলছে।
এমন সময় ওয়াশরুমের দরজা খুলে গেল। গোসল সেরে আরিফ বেরিয়ে এলো। মাথার চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। খাটের এক কোণে এসে বসলো সে।
নীলাঞ্জনা আরিফের দিকে তাকাল। গলাটা একটু নরম করে জিজ্ঞেস করল,
“বাবার সাথে কথা হয়েছিল?”
আরিফ কপাল কুঁচকে তাকাল। অবাক সুরে শুধালো,
‘কী কথা?”
“আরে, সিয়াম আর শাপলাকে নিয়ে।”
আরিফ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
‘ হ্যাঁ, বলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বলতে পারিনি। তার আগেই বাবা চোখ গরম করে তাকালেন। তারপর আর মুখ দিয়ে কথা বের হয়নি।”
নীলাঞ্জনা আরো কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে খ্যাঁক খ্যাঁক করে কাশির শব্দ ভেসে এলো।

কবিতা ঘরে ঢুকল।
“ভাই, নিচে চল। বাবা সবাইকে ডাকছে।”
আরিফ মাথা নাড়ল।
“তুই যা, আসতেছি।”
কবিতা চলে গেল।
নীলাঞ্জনা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এখন আবার সবাইকে নিচে ডাকছে কেন?”
আরিফ খাট থেকে উঠে দাঁড়াল। তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বলল,
“আমার মনে হয় মা বাবা কালই বিদেশে চলে যাবেন। অফিসে ম্যানেজারের সাথে এটা নিয়েই কথা বলতেও শুনেছি।”
নীলাঞ্জনার হাত থেমে গেল। চিরুনিটা টেবিলে রেখে বলল,
“তাহলে কিন্তু আলোকে পাঠিয়ে দেব।”
আরিফ হাসল।
“ঠিক আছে। আগে নিচে যাই, তারপর সব ঠিক করা যাবে। চলো।”
এরপর নীলাঞ্জনা আরিফ দুজনে ড্রয়িংরুমে চলে এলো। ঘরটায় থমথমে পরিবেশ। সোফায় সায়েক আহমেদ বসে আছেন গম্ভীর মুখে। পাশে মহুয়া, কবিতা, আলো নিরব বিরাজ সবাই উপস্থিত। সবার চোখে মুখে উৎকণ্ঠা।
সায়েক আর মহুয়ার
বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে তোমাদের সবাইকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বললেন।
তাদের কথা শেষ হতেই নীলাঞ্জনা একবার শ্বশুরের দিকে তাকালো। চোখে জল টলটল করছে, কিন্তু গলাটা শক্ত।
“বাবা, একটা অনুরোধ। সিয়াম আর শাপলাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনবেন।
কথাটা শুনে সায়েম আহমেদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। গম্ভীর গলায় বললেন,
“আমরা চলে যাওয়ার পর ওদের বাড়িতে আসতে বলিয়ো। রক্তের সম্পর্ক অস্বীকার করা যায় না ।”

কবিতা মুখ ভেংচি কাটলো। ঠোঁট বাঁকিয়ে মনে বিড়বিড় করল,
“শাপলা যতোই এই বাড়িতে আসুক না কেন। আমি ওকে তাড়িয়ে ছাড়বোই। দেখি ও কেমন করে এখানে টিকে থাকে।”
আবহাওয়াটা ভারী হয়ে আসছে‌। এই নীরবতা ভাঙলো আরিফ। বাবার দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বলল,
“বাবা, আমি আর নীলাঞ্জনা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সায়েক আহমেদ ভ্রু কুঁচকে তাকালেন, “কি সিদ্ধান্ত?”
আরিফ নীলাঞ্জনার হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,
“আলোকে আমরা তোমাদের সাথে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে চাই। ওখানে গিয়ে ও ভালো, উন্নত পড়াশোনার সুযোগ পাবে। ওর ফিউচারটা সিকিউর হবে।”
প্রস্তাবটা শুনে মহুয়া আর সায়েক আহমেদ দুজনেই চমকে উঠলেন। তারপর মুখে হাসি ফুটে উঠল।
সায়েক আহমেদ খুশি হয়ে বললেন,
“এটা তো খুব ভালো সিদ্ধান্ত আরিফ। আলোর মতো মেয়ের জন্য বিদেশের পড়াশোনাই বেস্ট হবে।”
মহুয়া আবেগে আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“তাহলে আমার কালকেই রওনা দিবো।”

রাত এখন দশটা। বাইরে কোথাও একটা কুকুর অবিরাম চিৎকার করতেছে, যেন মৃ*ত্যু*র আগাম সংকেত দিচ্ছে। ঘরের ভেতরে বাতাস ভারী, দমবন্ধ করা। ঊষা কাঠের চেয়ারের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা। তার চুল এলোমেলো, কপালে ঘামের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। পুরো শরীর ঘামে ভিজে চুপচুপে। মুখ ফ্যাকাশে, চোখ দুটোতে অসীম আতঙ্ক।
একটা মিটমিটে লালচে আলো ঘরের কোণে জ্বলছে, যেন ন*রকের আ*গুনের প্রতিফলন।
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল মুখোশ পরা লোকটা। হাতে একটা প্লেটে খাবার। তার চোখ দুটো মুখোশের ফাঁক দিয়ে জ্বলজ্বল করছে। এক অদ্ভুত উষ্ণতা, যা ভয়কে আরও গাঢ় করে তোলে।
সে ধীর পায়ে ঊষার দিকে এগিয়ে এল।
“খাবার খাবি?”
ঊষার গলা কাঁপছে। ভয়ে শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট নড়ে উঠল, “আমি কিছু খেতে চাই না। শুধু… মুক্তি চাই। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি। প্লিজ… আমাকে ছেড়ে দিন। আমার ওপর দয়া করুন।”
মুখোশ পরা লোকটা জোরে হেসে উঠল। তার হাসিতে ঘরের দেওয়ালগুলো যেন কেঁপে উঠল।
“মুক্তি? ঠিক আছে। তুই মুক্তি চেয়েছিস, তাই মুক্তি পাবি। কিন্তু তার আগে খেয়ে নে। আমি নিজের হাতে রান্না করেছি।”

ঊষার চোখে এক ঝলক আশা জ্বলে উঠল। সে কাঁপা গলায় বলল, “সত্যি? আমাকে ছেড়ে দেবেন? আরেকবার বলুন…”
“হ্যাঁ। সত্যি। তোকে মুক্তি দেব।”
লোকটা ঝুঁকে পড়ে ঊষার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিল। মুক্তির আনন্দে ঊষা প্রায় পাগলের মতো হয়ে গেল। সে লোকটার হাত থেকে খাবারের প্লেট ছিনিয়ে নিয়ে লোভাতুরের মতো খেতে শুরু করল। তার মনে হচ্ছে, এবার সত্যিই সব শেষ হবে। সে বেঁচে যাবে।
কিন্তু এই খুশি এক মুহূর্তের জন্যও টিকল না।
লোকটা হাসতে হাসতে বলল, “তুই জানতে চাস, তোকে কীভাবে মুক্তি দেব?”
ঊষা খাওয়া থামিয়ে মুখ তুলল। তার চোখে আবার সেই ভয় ফিরে এল। “ক… কীভাবে?”
মুখোশ পরা লোকটা মেঝেতে পড়ে থাকা ধা*রা*লো রা*ম দা*য়ে*র দিকে ইশারা করল। তার গলায় মিষ্টি, কিন্তু বিষাক্ত স্বর, “ওইটা দিয়ে। চিরদিনের জন্য মুক্তি। তোর ইচ্ছে পূরণ করব। তুই তো মুক্তি চেয়েছিস, তাই না?”
ঊষার শরীর হিম হয়ে গেল। সে দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে আর্ত চিৎকার করে উঠল, “না! না! আমি এমন মুক্তি চাই না! আমি বাঁ*চতে চাই! আমাকে ছে*ড়ে দিন!”

কিন্তু ঊষার কথা শেষ হওয়ার আগেই লোকটা নিজের পরনের পো*শা*ক খু*লে ফে*লল। শুধু মুখে মুখোশ। তারপর ন*র*খাদ*কের মতো ঝাঁ*পিয়ে প*ড়ল ঊষার ওপর।
ঊষার ক*রুণ আ*র্ত*নাদ ঘরের চার দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। এই চিৎকার ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে এল, কিন্তু থামল না। লোকটা তার শরীরের প্রতিটি অংশকে নিষ্ঠুর আনন্দে খু*ব*লে খু*ব*লে খেল। র*ক্ত আর ঘাম মিশে একাকার হয়ে গেল মেঝেতে।
অনেকক্ষণ পর, সে সন্তুষ্ট হয়ে উঠে দাঁড়াল। নিজের পোশাক পরতে পরতে হাসল, “উফ্! তুই তো আ*গু*ন। তোকে খে*তে যা ম*জা লাগল… আরও খে*তে ইচ্ছে করছে। কিন্তু না। আমি একই জিনিস বারবার খা*ই না।”
সে আবার বলল, “এবার তোর ইচ্ছা পূরণ করি। মুক্তি।”
ঊষা, শরীরের শেষ শক্তি দিয়ে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়াল। তার শরীর র*ক্তে ভেসে যাচ্ছে, ঠোঁট ফা*টা, সারা গায়ে আঁ*চড়ের দাগ। চুল এলোমেলো। সে চিৎকার করে বলল,
“তোর মতো নোংরা শয়তানের হাতে ম*রা*র চেয়ে আমি নিজেই ম*র*ব!”
এক ঝটকায় সে মেঝে থেকে রা*ম দা তুলে নিল এবং নিজের গ*লা*য় ব*সি*য়ে দিল। উষ্ণর র*ক্তে*র ফোয়ারা ছিটকে এসে মুখোশ পরা লোকটার মুখোশে লাগল। ঊষার শরীরটা ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেল। কয়েকবার ছ*টফট করে তার প্রাণ চিরতরে বে*রি*য়ে গেল।

লোকটা কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,
“তুই এটা কী করলি! আমি তোকে মা*র*ব, তার আগে তুই নিজে ম*রে গেলি? এটা হতে পারে না!”
পাগলের মতো সে রা*ম দা তুলে নিয়ে ঊ*ষার মৃ*ত*দে*হের ওপর ঝাঁ*পিয়ে পড়ল। ধা*রা*লো ফলা বারবার নেমে আসতে লাগল। শরীর টু*ক”রো টু*ক*রো হয়ে যেতে লাগল। র*ক্তের ছিটে দেওয়ালে, মেঝেতে, তার মুখোশে সব জায়গায়।
ঘরের মিটমিটে আলোয় এই দৃশ্য যেন ন*রকের একটি জীবন্ত ছবি হয়ে উঠল। বাইরে কুকুরটা এখনও ডেকে যাচ্ছে। যেন সে জানে, আজ রাতে মৃ*ত্যু তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা খেলেছে।

নিরব ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখে বসে আছে। ঘরের নিস্তব্ধতায় শুধু কিবোর্ডের টিকটিক শব্দ। চুলগুলো এলোমেলো, ঠোঁট দুটো শুকিয়ে কাঠ। দীর্ঘক্ষণ কাজের চাপে ক্লান্ত চোখ দুটোতেও ঘুম নেই।
হঠাৎ ফোনের রিংটোনটা বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটা নাম “মাই জান চুমকি”। নামটা দেখতেই নিরবের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি খেলে গেল। ক্লান্তি যেন এক নিমেষে উবে গেল। ফোনটা কানে নিতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে অভিমানে ভেজা কণ্ঠ,
“এই, আপনার সমস্যাটা কী হ্যাঁ? আমাকে একটা কল দেন না কেন? একটু খোঁজও নেন না!”
“আরে, কাজের চাপে একদম দিশেহারা ছিলাম। কল দেওয়ার সময়ই পাইনি ।”
চুমকির গলা আরও গম্ভীর হয়ে গেল “আমি তো আপনার কেউ না, তাই বুঝি কল দেন না। থাক, সমস্যা নেই। যদি ডিস্টার্ব ফিল করেন, তাহলে আমি আর কখনো আপনাকে ফোন দেবো না।”
“আরে, তুমি ভুল বুঝছো । ব্যাপারটা মোটেও তা না।” নিরবের গলায় ব্যস্ততা কমে গিয়ে কোমলতা ফুটে ওঠে।

একটু থেমে চুমকি বলে, “তাহলে কাল দেখা করবেন?”
“কোথায় দেখা করবো?”
“আমি এসএমএস করে লোকেশন পাঠিয়ে দেবো।”
একটু থেমে, গলার স্বর নরম করে আবার জিজ্ঞেস করে, “খাবার খাইছেন?”
“হুম, তুমি খাইছো?”
“হুম, খাইছি।”
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ে। নিরব ফোনটা নামিয়ে , “আচ্ছা পরে কথা বলছি।” বলে কলটা কেটে দেয়।
দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে নীলাঞ্জনা। মুখটা চিন্তায় কালো হয়ে আছে।
“কিছু বলবেন, ভাবী?” নিরব জিজ্ঞেস করে।
নীলাঞ্জনা রুমে ঢুকেই বলে, “সিয়ামের নাম্বারে একটা কল দাও তো। আমি অনেকবার দিয়েছি, কিন্তু সংযোগ পাচ্ছি না।”

নিরব নিজের ফোন থেকে কল দিলো। ওপাশ থেকে ভেসে আসে যান্ত্রিক কণ্ঠ,
“আপনি যে নাম্বারে কল করছেন, সেই নাম্বারটি এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
The number you have dialed cannot be connected at this moment. Please try again later.”
নিরব আর নীলাঞ্জনা দুজনেই চুপ করে গেল। দুজনের কপালেই চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট।

সেই কখন সন্ধ্যায় সিয়াম খাবার আনতে গেছে আর এখন রাত ১১টা, তবুও তার আসার নাম গন্ধ পর্যন্ত নেই। শাপলা খাটে বসে আছে। কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। কেমন একটু ভয় ভয় লাগছে। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল।
হঠাৎ দরজায় টোকা। শাপলা ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিল। সামনে দাঁড়িয়ে সিয়াম। হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট। ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে ও প্যাকেট খাটের কোণে রেখেই ধুপ করে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল।
শাপলার রাগ, ভয়, অভিমান সব একসাথে দলা পাকিয়ে আছে। দরজা আটকে দিয়ে ও সিয়ামের হাত ধরে টেনে তুলল। চোখ দুটো বড় বড় করে বলল ,
“আপনি কি পাগল? সেই সন্ধ্যায় গেছেন আর এখন কটা বাজে খেয়াল আছে?”
সিয়াম এক টানে শাপলাকে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো। তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল ,
“আমার বউটাকে রাগলে এত সুন্দর লাগে কেন বল তো? মনে হয় এই মুখটায় সারাক্ষণ কি*স করি।”

শাপলা লজ্জায় সিয়ামের কোল থেকে উঠে দাঁড়ায়। গাল ফুলিয়ে বলে, “আজাইরা কথা বলা বন্ধ করুন। আমি সেই কখন থেকে একা বসে আছি… আমার ভয় লাগে না বুঝি?”
সিয়াম কান ধরে বাচ্চা ছেলের মতো বলল, “আচ্ছা সরি। ভুল হয়ে গেছে। আর কখনো এমন হবে না। প্রমিস।”
এরপর বিরিয়ানির প্যাকেটটা শাপলার দিকে এগিয়ে দিল। শাপলা ওর পাশে বসতেই সিয়াম প্যাকেট খুলে বলে, “আমি খাইয়ে দিই?”
শাপলা মাথা নাড়াল। সিয়াম যত্ন করে তার মুখে খাবার তুলে দিল। শাপলাও খেতে লাগল। দুজনের নীরবতায় ভালোবাসা জমে উঠলো।
কিছুক্ষণ পর সিয়াম অভিমানী গলায় বলল, “তুই একাই খাবি? আমাকে খাওয়াবি না?”
শাপলা হাতে খাবার নিয়ে তার মুখের সামনে ধরে বলল, “নিন, খান।”
“না, এভাবে খাবো না।”
“তো কিভাবে খাবেন?”
সিয়ামের চোখে দুষ্টু হাসি, “তুই খাবারটা মুখে নে।”
শাপলা লজ্জা চেপে খাবার মুখে নিতেই সিয়াম ওর ঠোঁট দুটো নিজের দখলে নিয়ে নিলো। শাপলার মুখ থেকেই খেতে লাগল। শাপলার সারা শরীর শিরশির করে উঠলো। লজ্জায় কান গাল লাল হয়ে গেল। হার্টবিট দ্রুত হয়ে গেল। সরিয়ে দিতে চেয়েও পারলো না… বরং ইচ্ছে করছে নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিতে। সব ভালোবাসা উজাড় করে দিতে।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৯

সিয়াম মুখ সরিয়ে ফিসফিস করে, “কেমন লাগলো সোনা?”
শাপলা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিলো। সিয়াম আবার ফিসফিসিয়ে বলে, “আবার এভাবে খাবো কি?”
শাপলা মাথা নাড়ে, “না… আমি আপনাকে খাইয়ে দেবো।” বলে নিজ হাতে যত্ন করে স্বামীকে খাইয়ে দিতে লাগল।
সিয়াম অপলক চোখে শাপলার ঠোঁট দুটো দেখতে লাগলো। তার খাওয়া শেষ হলে শাপলা জানালার পাশে গিয়ে বাইরে তাকালো। আর সিয়াম বিছানায় বসে শুধু ওকেই দেখে যাচ্ছে। এই মেয়েটা তার রাগ, তার অভিমান, তার ভালোবাসা সবটুকু।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here