রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪২
মহাসিন
রাত এখন দশটা। বাড়ির সবাই ডাইনিং টেবিলে খাবার খেতে বসেছে। নীলাঞ্জনা ব্যস্ত হাতে সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু নিরব এখনো এলো না।নীলাঞ্জনা সবার দিকে তাকিয়ে বলল,
”তোমরা খাও, আমি গিয়ে নিরবকে ডেকে আনি।”
কথাটা বলেই সে চলে গেল। নিরবের রুমের দরজা হালকা ভেজানো। নীলাঞ্জনা ভেতরে ঢুকে চারপাশে চোখ বুলালো। কোথাও নিরব নেই।
ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে ডাকলো,
”নিরব? নিরব, খাবার খাবে না?”
ভেতর থেকে কোনো সাড়া এলো না। নীলাঞ্জনা দরজা খুলে দেখলো, ওয়াশরুমও ফাঁকা।
রুম থেকে বের হয়ে করিডোর ধরে হাঁটতে লাগলো। হঠাৎ ব্যালকনির দিক থেকে ভেসে এলো নিরবের গলা অসম্ভব মিষ্টি, নরম। কার সাথে যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। নীলাঞ্জনার কৌতূহল বেড়ে গেল। পা টিপে টিপে ব্যালকনির আড়ালে এসে দাঁড়ালো। শুনতে চাইলো, নিরব কার সাথে এত মিষ্টি করে কথা বলছে? কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হলো না। নিরব তাকে দেখে ফেললো।
চোখে মুখে অপ্রস্তুত ভাব নিয়ে তড়িঘড়ি করে কল কেটে দিলো। তারপর হাসার চেষ্টা করে বলল,
”একি ভাবী, আপনি এখানে?”
”কি ব্যাপার নিরব? কার সাথে এভাবে কথা বলছিলে হ্যাঁ?”
”আরে তেমন কেউ না ভাবী। এমনিই… একটা ফ্রেন্ড।”
নীলাঞ্জনা ঠোঁট টিপে হাসলো।
”উঁহু, কিছু তো চলছে। নাহলে এত মিষ্টি করে কেউ কথা বলে না।”
নিরব মাথা চুলকে বলল,
”কি আবার চলবে ভাবী?”
নীলাঞ্জনা হাসলো।
”ঠিক আছে। একদিন না একদিন জেনেই যাবো। যাই হোক, চলো খাবার খাবে।”
এরপর দুজন নিচে নেমে এলো। নিরব চুপচাপ বসে পড়লো চেয়ারে। নীলাঞ্জনা তার প্লেটে ভাত বেড়ে দিলো। কিন্তু তার চোখ মুখ দেখে স্পষ্ট তার মাথায় এখনো সেই ফোনকলের রহস্যটাই ঘুরছে।
কবিতা খাবার খেতে খেতে শাপলাকে ঠ্যাস মেরে নিরবের দিকে তাকিয়ে বলল,
”ভাই, এখন দেখছি সবাই চুরি করে বিয়ে করতেছে। তুই আবার চুরি করে বিয়ে করিস না কিন্তু। আমার অনেক আশা আছে, তোর বিয়েতে অনেক মজা করবো। অনেক আনন্দ করবো।”
কবিতার কথা শুনেই সিয়ামের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে এলো রাগে। শাপলা তাড়াতাড়ি চোখের ইশারায় তাকে থামালো।
নীলাঞ্জনা হাসতে হাসতে বলল, “কবিতা, নিরবের বিয়ে খাওয়ার আগে আমরা সকলে আরো একটা বিয়ে খেতে পারবো।”
কবিতা অবাক হয়ে বলল, “কার বিয়ে ভাবী?”
নীলাঞ্জনা চোখ টিপে বলল, “আরে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে? আমাদের ফোকরা মশাইয়ের বিয়ে।”
কথাটা শুনেই কবিতা খিলখিল করে হেসে উঠলো। লজ্জায় বিরাজের মুখ একদম লাল হয়ে গেল। ও মাথা নিচু করে ভাত নাড়তে লাগলো।
বাকি সবাই অবাক হয়ে তাকালো।
আরিফ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো, “এই ফোকরা মশাইটা আবার কে ?”
নীলাঞ্জনা হাসি চেপে বলল, “ফোকরা মশাই হলো আমাদের বিরাজ। আর শোনো, আমাদের বিরাজ একটা মেয়ের প্রেমে পড়েছে।”
কথাটা শেষ হতেই পুরো ডাইনিং টেবিল হাসির রোলে ফেটে পড়লো। বিরাজ লজ্জায় আর মাথা তুলতে পারছে না, আর সবাই খাবার খেতে খেতে ওকে নিয়েই মজা করতে লাগলো।
ঘর জুড়ে নেমে এলো একরাশ আনন্দ আর আড্ডার ঝড়।
সবাই খাওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে গেছে। নীরব বাড়িটা হঠাৎ করেই ফাঁকা লাগছে।
কবিতা বিছানায় আধশোয়া হয়ে বারবার তার স্বামী আদির নাম্বারে কল দিচ্ছে। কিন্তু ওপাশ থেকে শুধু রিং বেজে বেজে কেটে যাচ্ছে।
একবার, দুইবার, তিনবার… রিসিভ করছে না আদি।
কবিতা রাগে ফুঁসতে লাগলো। বিরক্ত হয়ে ফোনটা ছুঁড়ে ফেলে দিতে গিয়েও দিলো না। তার বদলে টাইপ করলো একটা মেসেজ,
”এই কু_ত্তা, তোর কি সমস্যা হ্যাঁ? আমার সাথে কথা বলার জন্য কি তোর হাতে একটু সময়ও থাকে না? নাকি বিদেশি কোনো গার্লফ্রেন্ড জুটিয়ে বসে আছিস? এই কু_ত্তা, আমার মাথা গরম করাবি না। তাড়াতাড়ি কল রিসিভ কর।”
মেসেজটা সেন্ড করতেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফোন বেজে উঠলো। আদি কল ব্যাক করেছে।
কবিতা গজগজ করতে কল রিসিভ করলো,
”এই, তোমার সমস্যাটা কি হ্যাঁ? আমার কল রিসিভ করো না কেন? মেসেজ করলে রিপ্লাই দাও না কেন?”
ওপাশ থেকে আদির ক্লান্ত গলা ভেসে এলো, “কবিতা, তুমি কেন বোঝো না বলো তো? আমি সারাক্ষণ কাজে ব্যস্ত থাকি। আচ্ছা সরি। এরপর থেকে যেভাবেই হোক তোমার কল রিসিভ করবো, তোমাকে সময় দেবো।”
কবিতা একটু নরম হলো, কিন্তু সন্দেহটা গেল না। “তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো না তো ? আমাকে ঠকাচ্ছো না তো?”
আদি হেসে ফেললো, “তুমি কি সব বলো! আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি কবিতা। আর কাউকে না।”
”সত্যি তো?”
”সত্যি বলছি। এক সত্যি, দুই সত্যি, তিন সত্যি।”
কবিতা অভিমানী গলায় বলল, “যদি কখনো জানতে পারি তুমি আমাকে ঠকাচ্ছো, তাহলে ঐ দিনই হবে তোমার জীবনের শেষ দিন। বলে দিলাম।”
আদি হেসে বলল, “আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, তাই হবে। এবার বলো, খাবার খেয়েছো তো?”
”হুম, খেয়েছি। তুমি?”
”আমিও খেয়েছি।”
এরপর ঝগড়া শেষ। শুরু হলো ভালোবাসার গল্প। দুজন দুই দেশে থেকেও ফোনে মেতে উঠলো নিজেদের ছোট্ট পৃথিবীতে।
শাপলা দীপার সাথে কলে কথা বলছে। সিয়াম তাকে তাড়া দিচ্ছে তাড়াতাড়ি কথা শেষ করে ঘুমাতে আসার জন্য।
শাপলা জানালার পাশে বসে কথা বলছে। ফোনের ওপাশ থেকে দীপা বলল,
”তোর তো বিয়ে হয়ে গেছে। তাহলে পড়াশোনা বন্ধ করে দিবি নাকি?”
শাপলা সিয়ামের দিকে শুধালো,
”ওই স্বামী, আমাকে পড়াশোনা করতে দেবেন তো?”
শাপলার মুখে ‘স্বামী’ ডাক শুনে সিয়াম হাসতে লাগলো।
”ওই স্বামী, কিছু বলেন।”
সিয়াম হাসতে হাসতে বলল, “হ্যাঁ, তোকে অবশ্যই পড়াবো।”
শাপলা ফোনের ওপাশে থাকা দীপাকে বলল, “হ্যাঁ, অবশ্যই পড়বো। পড়া বন্ধ করবো না।”
দীপা বলল, “স্কুল তো খুলছে। সপ্তাহে এক দিন স্কুলে ক্লাস হবে। আর বাকি দিন অনলাইনে ক্লাস হবে। কালকে স্কুলে আসবি তো?”
শাপলা বলল, “আসবো। আচ্ছা, ভালো থাক। রাখি। স্কুলে গিয়ে কথা হবে।”
শাপলা জানালা আটকে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে সিয়ামের পাশে শুয়ে পড়ল। সিয়াম শাপলা কে শক্ত করে জ_ড়ি_য়ে ধরল।
রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। অথচ বিরাজের দু’চোখে ঘুম নেই। বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে শুধু একজনের কথাই ভাবছে সে তার আ_গুন সুন্দরী। বুকের ভেতর কেমন যেন ছ_টফট করছে। ফোন হাতে নিয়ে কয়েকবার কল দিল সে। প্রতিবারই রিং হয়ে কেটে গেল। রিসিভ হলো না। কিছুক্ষণ পর ওপাশ থেকে কল এলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো ‘আ_গুন সুন্দরী’। বিরাজ দ্রুত কল রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে ভেসে এলো চেনা সেই কণ্ঠ,
”হ্যালো, ফোকরা মশাই। কি অবস্থা?”
”ভালো না।”
বিরাজ একটুও থেকে আগুন সুন্দরীর কে শুধালো,
”তা এতক্ষণ কল রিসিভ করলেন না কেন?”
”আরে ফোন কাছে ছিল না। খাবার খেতে গেছিলাম। এসে দেখি আপনি কল দিয়েছেন।”
কলি একটু থেমে বিরাজকে শুধালো,
”তা কেন ভালো নেই?”
”কেন ভালো নেই, তা ফোনে বোঝানো যাবে না।”
”থাক, তাহলে বলতে হবে না।”
বিরাজ একটু আমতা আমতা করে বলল,
”আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই।”
ওপাশ থেকে বিস্ময়ের সুর, “কেন? আপনি কেন আমার সাথে দেখা করবেন? আমি তো আপনাকে ভালো করে চিনি না। আপনিও আমাকে চেনেন না।”
বিরাজ কাতর গলায় বলল,
”প্লিজ… না করিয়েন না। আমি আপনার সাথে একটু দেখা করতে চাই।”
কলির গলায় এবার একটু নমনীয়তা। সে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে। কাল সকাল ১১ টায় দেখা করবো। আমি এসএমএস করে লোকেশন পাঠিয়ে দিবো।”
বিরাজের বুক থেকে যেন পাথর নেমে গেল। সে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে।”
কলি বলল, “তাহলে রাখি এখন… ঘুমাতে হবে।”
কথাটা বলেই সে কল কেটে দিলো।
রাতের আঁধার কেটে নতুন সকাল উঁকি দিল।
শাপলা গেট পেরিয়ে স্কুল মাঠে পা রাখতেই দীপা ছুটে এলো তার দিকে।
”কিরে শাপলা, এত দেরি করলি যে?”
শাপলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
”আর বলিস না। রাস্তায় যা জ্যাম! আসতেই দেরি হয়ে গেল।”
দীপা কপালের ঘাম মুছে বলল,
”তাড়াতাড়ি চল। যা গরম পড়ছে, দাঁড়ানোই যাচ্ছে না।”
কথা বলতে বলতে দু’জনে ক্লাসরুমে ঢুকলো।
ক্লাস রুম একদম ফাঁকা। সবাই বট গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে।
শাপলা দীপার দিকে তাকিয়ে শুধালো,
”কিরে, রাজু কলি ওরা কই?”
দীপা ব্যাগ রাখতে রাখতে বলল,
”রাজু তো বলছিল আসবে। কিন্তু এখনো আসেনি, কে জানে কেন। আর কলি? ও আজ আসবে না।”
কথা শেষ হতে না হতেই ক্লাসরুমের দরজায় ছায়া পড়লো। আনিক ঢুকলো। ওকে দেখেই শাপলা আর দীপা দু’জনেই সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
আনিক ধীর পায়ে শাপলার সামনে এসে দাঁড়ালো। চোখে কুৎ_সিত লোলুপতা। ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
”তোমাকে তো হে_ব্বি লাগছে আজ। একদম একের মা_ল। টে_স্ট করতে ইচ্ছে করছে।”
পরের মুহূর্তে ঠাসস!
শাপলার হাতের চ_ড়টা আনিকের গালে সজোরে বসে গেল। টাল সামলাতে না পেরে ছেলেটা ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল। দীপার মাথায়ও আ_গুন জ্বলে উঠলো। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
”এই কু_ত্তা_র বাচ্চা, তুই কি ভালো হবি না?”
বলেই মেঝে থেকে টেনে তুলে ওর গালে ঠা_স করে আরেকটা চ_ড় বসিয়ে দিল।
আনিক চোখ বড় বড় করে তাকালো। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
”তোদের দুই ন_টি_র বাচ্চাকে একসাথে ভো__গ করবো আমি।”
শাপলার চোখ দুটো জ্বলে উঠলো। সে আর কথা বাড়ালো না। আনিকের শার্টের ক_লাট চেপে ধরে একের পর এক চ_ড় মা_রতে লাগলো আর বলতে লাগলো,
”তোর শখ আমি মেটাচ্ছি, জা_নো_য়া_রের বাচ্চা!”
শেষ চ_ড়টা মে_রে শাপলা পা তুলে তার পু_রু_ষা_ঙ্গ বরাবর সজোরে লা_থি মা_রলো। তারপর শীতল গলায় বলল,
”এবার আয়। আমাদের ভো__গ কর। দেখি তোর ক্ষমতা কত!”
ব্যা_থা_য় কুঁকড়ে গেল আনিক। মেঝেতে বসে কা_তরাতে কা_তরাতে হিসহিস করে বলল,
”তোদের দুইটাকে আমি ছা_ড়বো না। বলে দিলাম। এর শো_ধ আমি তুলবোই।”
কথাটা বলেই খোঁড়াতে খোঁড়াতে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে গেল ও।
আনিক চলে যেতেই দীপা একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
”একদম উচিত শিক্ষা হইছে। ফা_লতু ছেলে একটা।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো,
”ফা_লতু কেন? তোর না ক্রাশ ছিল ও?”
দীপা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
”ধ্যাত! ও বা_লে_র ক্রাশ। সুন্দর চেহারা থাকলেই মানুষ ভালো হয় না । ওর মন মানসিকতা ন_র_খা_দকের চেয়েও নোং_রা।”
বিরাজ রেস্টুরেন্টে বসে আছে। চোখ মুখে অস্থিরতা। তার আ_গুন সুন্দরীর জন্য অপেক্ষা করছে। ঘড়ির কাঁটা যেন আজ ইচ্ছে করেই ধীরে চলছে। কিছুক্ষণ পর কলি এলো। পায়ের শব্দ নেই, আছে শুধু একরাশ স্নিগ্ধতা। ধীর পায়ে এসে বিরাজের সামনের চেয়ারটা টেনে বসলো সে।
বিরাজ তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। পৃথিবীর সব কথা ভুলে গিয়ে শুধু তাকেই দেখছে মন প্রাণ ভরে। যেন জন্ম জন্মান্তরের চেনা। কলি হঠাৎ বিরাজের চোখের সামনে হাত নাড়লো। ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি।
”এই যে মিস্টার ফোকরা মশাই, কী দেখছেন অমন করে?”
ধ্যান ভাঙল বিরাজের। নিজের মধ্যে ফিরে এসে আমতা আমতা করে বলল,
”না… না, কই? কিছু না তো।”
একটু থেমে গলা ঝেড়ে নিল। তারপর বলল,
”কী খাবেন বলেন?”
কলি কাঁধ ঝাঁকালো।
”আপনিই অর্ডার দিন। আপনার পছন্দ মতো।”
বিরাজ ওয়েটার ডাকলো। মেনুতে চোখ বুলিয়ে যা ভালো লাগে সব বলে দিল। ওয়েটার চলে গেলে।
কলি চোখ তুলে সোজা বিরাজের দিকে তাকিয়ে শুধালো,
”আমার সাথে দেখা করতে চাইলেন কেন?”
বিরাজ একটু কেঁপে উঠলো। তারপর দৃঢ় গলায় বলল,
”সত্যিটা বলবো। কিন্তু কথা দিতে হবে, শোনার পর আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করবেন না।”
কলি হাসলো। “আচ্ছা, কথা দিলাম। বলুন।”
বিরাজ চোখ নামিয়ে নিল এক সেকেন্ডের জন্য। তারপর চোখ তুলে বলল,
”আমি আপনাকে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছি।”
”কী বলছেন এসব?” কলি অবাক। “আপনি তো আমাকে ভালো করে চেনেন না। তাহলে ভালোবাসলেন কীভাবে?”
বিরাজ মাথা নাড়লো। “জানি না। শুধু জানি, আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমার সাথে প্রেম করবেন? প্লিজ না করবেন না। চাইলে সময় নিন। আমাকে জানুন, বুঝুন। তারপর আপনার সিদ্ধান্ত জানাবেন।”
কলি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর আস্তে করে বলল,
”ঠিক আছে। তাই হবে।”
কিছুক্ষণ পর ওয়েটার এসে খাবারের প্লেটগুলো টেবিলে নামিয়ে রেখে চলে গেল। বিরাজ মৃদু হেসে বলল,
”নিন, এবার খাওয়া শুরু করুন।”
কলি খেতে লাগলো।বিরাজ একদৃষ্টিতে তাকে দেখছে। চোখ সরাচ্ছে না।
কলি খাওয়া থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
”কি হলো? চুপ করে বসে আছেন যে? খাচ্ছেন না কেন?”
বিরাজ যেন ঘোর কাটলো। খেতে খেতে হঠাৎ বলল,
”আচ্ছা, আপনাকে আপনি করে বলতে কেমন অদ্ভুত লাগে। আমি বরং তুমি করেই বলি, ঠিক আছে?”
কলি একটু থেমে, ঠোঁটের কোণে হাসি চেপে বলল, “আপনার ইচ্ছা।”
একটু থেমে কলি আবার বলতে লাগলো,
”আচ্ছা, আপনার প্রিয় খাবার কি?”
”চিঁড়ের পোলাও।”
কলি অবাক হয়ে বলল,
”এটা আবার কি? কখনো শুনিনি তো।”
বিরাজ এবার হাসলো।
”চিঁড়ে দিয়ে পোলাও তৈরি করা হয়। খেতে অনেক মজা। আচ্ছা, তোমাকে একদিন রান্না করে খাওয়াবো।”
কলি চমকে তাকালো,
”আপনি রান্না করতে জানেন?”
”হ্যাঁ, অবশ্যই।” বিরাজ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল। তারপর একটু থেমে, বলল, “আমার সাথে যদি প্রেম করো, তাহলে ভবিষ্যতে তোমার রান্না করতে হবে না। আমিই রান্না করবো। তোমার কষ্ট হবে না।”
কলি মুচকি হেসে মাথা নিচু করে ফেলল। “ও, তাই নাকি?”
ঠিক তখনই কলির ফোনটা বেজে উঠলো। ও ফোন কানে ধরতেই ওপাশ থেকে কিছু শুনলো। মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। ছোট করে বলল,
” হ্যাঁ, আমি এখনই আসছি।”
কল কেটে বিরাজের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমাকে এখনই বাড়ি যেতে হবে।”
বিরাজের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। তবুও নরম গলায় বলল,
”আচ্ছা ঠিক আছে। সাবধানে যাও। বাসায় গিয়ে একটা ফোন দিও।”
কলি দ্রুত একটু পানি খেয়ে ব্যাগ নিয়ে উঠে পড়লো। বিরাজ চেয়ারে বসে একদৃষ্টিতে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।
কলি চলে যেতেই বিরাজ ওয়েটার ডেকে বিল মেটালো। এর পর চলে গেল।
দুপুর হয়ে গেছে। রোদের তাপটা এখন কড়া।
স্কুল ছুটি হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। একে একে সবাই চলে গেছে। মাঠ ফাঁকা, বারান্দা নিস্তব্ধ। স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটা মেয়ে শাপলা।
সে অপেক্ষা করছে সিয়ামের জন্য। কখন আসবে সে? কখন তাকে নিয়ে যাবে?
চারপাশের নীরবতায় শাপলার বুকের ভেতর কেমন যেন ধুকপুক করছে। একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে অজানা একটা ভয় গ_লা চে_পে ধরছে।
রোমান্টিক ভাইয়া বোনাস পর্ব
হঠাৎ নিস্তব্ধতা ভেঙে ইঞ্জিনের শব্দ। একটা কালো রঙের গাড়ি এসে শাপলার একদম সামনে ব্রেক কষলো। ধুলো উড়ে গেল। গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলো সিরাজ।
ওকে দেখা মাত্রই শাপলার শরীরটা হিম হয়ে গেল। হার্টবিট অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেল। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। শাপলা ঢোঁক গিলল, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বের হলো না। শাপলার দু চোখে এখন শুধু আতঙ্ক।
