Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৩

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৩

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৩
মহাসিন

শিখা বিরের দিকে তাকিয়ে শুধালো,
— “তা কী বিপদে পড়েছেন শুনি?”
বির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কপালে চিন্তার ভাঁজ। অসহায় গলায় বলল,
— “অনেক বড় বিপদ। প্লি_জ, একটু সাহায্য করুন।”
শিখা ভ্রু কুঁচকাল।
— “আমি একটা মেয়ে হয়ে একটা ছেলেকে কীভাবে সাহায্য করব?”
বির চোখ তুলে তাকাল। গলার স্বরটা কেঁপে উঠল।
— “একটা মেয়েই পারে আমাকে সাহায্য করতে।”
শিখা চুপ করে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর বলল,
— “আগে বলুন তো, আপনি ঠিক কী বি_প_দে পড়েছেন?”
বির মাথা নিচু করল। তারপর আস্তে করে বলল,
— “আমার পরিবার আমাকে বিয়ে করাতে চায়।”
পাশ থেকে শাপলা হেসে উঠল।

— “আরে এটা তো ভালো খবর! বিয়ে করে ফেলুন। আর কতদিন সিঙ্গেল থাকবেন? বয়স তো আর বসে থাকবে না।”
শিখাও মাথা দোলাল।
— “হ্যাঁ, বিয়ে করুন। পরিবারের কথা শুনতে হয়।”
বির এবার আর চুপ থাকতে পারল না। হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,
— “উফ! আপনারা চুপ করুন প্লি_জ!”
বট তলা নিমেষে নীরব হয়ে গেল। শিখা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
— “আচ্ছা ঠিক আছে। বিয়ে করবেন কি করবেন না, সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আপনার বি_প_দটা কী, সেটা তো বলুন।”
বির ক্লান্ত গলায় বলল,
— “এটাই তো সমস্যা।”
শিখা জিজ্ঞেস করল,
— “কী সমস্যা?”
বির চোখ বন্ধ করে বলল,
— “আমি বিয়ে করতে চাই না! কিন্তু আমার পরিবার জো_র করে আমাকে বিয়ে করাতে চায়! এটাই আমার বি_প_দ!”
কথাটা শুনে শাপলা আর শিখা দুজনেই হাসতে লাগল। হাসি থামিয়ে শিখা কোনোমতে নিজেকে সামলে বলল,

— “আচ্ছা বুঝেছি। আপনি বিয়ে করতে চান না। কিন্তু আমি একটা মেয়ে হয়ে আপনাকে কীভাবে সাহায্য করব?”
বির চোখ তুলে শিখার দিকে তাকাল। চোখে অদ্ভুত একটা মিনতি। গলাটা কাঁপিয়ে বলল,
— “আপনাকে আমার বউ হতে হবে।”
কথাটা শুনে শাপলা চমকে উঠল। চোখ বড় বড় করে বলল,
— “মানে? আমি কেন আপনার বউ হতে যাব হ্যাঁ?”
বির এক পা এগিয়ে এল। অসহায়ের মতো করে শিখা কে বলল,
— “আপনি আমাকে সাহায্য করতে পারেন। তাই আপনাকেই আমার বউ হতে হবে।”
শিখা কপাল কুঁচকে তাকাল।
— “আপনার মাথা ঠিক আছে তো? কী সব আবোল তাবোল বলছেন?”
বির তাড়াহুড়ো করে হাত নাড়ল।
— “আরে না, সত্যি সত্যি বউ না। শুধু নাটক। বউ হওয়ার অভিনয় করতে হবে। এর জন্য আপনাকে টাকা দেব আমি।”
শিখা এবার ধীর গলায় বলল,

— “আমি ঠিক বুঝলাম না। আপনি একটু খুলে বলুন তো।”
বির একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। তারপর আস্তে আস্তে বলতে লাগল,
— “আমি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাই না। কিন্তু আমার পরিবার পিছে লেগে গেছে। রোজ বিয়ের কথা বলে, মেয়ে দেখায়।”
একটু থেমে সে শিখার চোখে চোখ রাখল,
— “তাই আপনাকে আমার পরিবারের সামনে আমার বউ হিসেবে নিয়ে যাব। বলব, আমি একজনকে ভালোবাসি, তাকেই বিয়ে করে এনেছি। কয়েকদিন পর আমরা ঝগড়ার অভিনয় করব। আপনি রাগ করে চলে যাবেন। ঝামেলা শেষ। আপনার কাজও শেষ, টাকাও পেয়ে যাবেন।”
কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা। শিখা চোখ নামিয়ে নিল। তারপর ধীর গলায় বলল,
— “আপনার নাম্বারটা দিন। পরে ভেবে সিদ্ধান্ত জানাবো।”
বির যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। পকেট থেকে ফোন বের করে দ্রুত নাম্বারটা বলে দিল।
কথা শেষ হতেই বির আর দাঁড়াল না। ওর বন্ধুদের নিয়ে চলে গেল। যাওয়ার সময় একবার পিছন ফিরে তাকাল শুধু।
বট গাছ তলা আবার শান্ত হয়ে গেল। শাপলা এতক্ষণ চুপ করে সব দেখছিল। এবার ভ্রু নাচিয়ে বলল,

— কী রে? নাম্বার নিয়ে নিলি যে?
“দেখি না কি হয়।”
একটু থেমে আবার বলতে লাগলো
—”আজ আর কলেজে যাবো না। ভালো লাগছে না। চল, বাড়ি চলে যাই।”
শাপলা আর কিছু বলল না। দুজনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। কিছু সময় চলে গেল। দুই বোন পা টিপে টিপে বাসায় ঢুকল। বসার ঘরের সোফায় বসতেই পায়ের শব্দ। রিদি বেগম হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ালেন। হাত কোমরে।
— “কিরে শিখা? কলেজে না গেলি, তাহলে এত তাড়াতাড়ি ফিরলি কেমনে?”
শিখা চোখ বড় করে ফিসফিস করে বলল,
— “চুপ, চুপ করো মা। শুনে ফেলবে।”
রিদি বেগম চোখ পাকিয়ে বললেন,
— “শুনুক। তুই আগে বল তো, কী কাহিনি?”
কথা শেষ না হতেই মৌসুমী বেগমের গলা ভেসে এল,
— “কিরে শিখা? কলেজে যাস নাই?”
শিখা ঢোক গিলল। আমতা আমতা করে বলল,

— “না মানে…”
মৌসুমী বেগম রেগে গেলেন।
— “তোর না মানের গুষ্টি কি_লা_ই! কলেজে যাস নাই কেন, সোজা করে বল।”
—” মাথা ব্য_থা করছিল, তাই চলে এলাম।” শিখা মাথা নিচু করে বলল।
মৌসুমী বেগম এবার শাপলার দিকে তাকালেন।
— আর তুই? স্কুলে না গিয়ে ওর সাথে কেন?”
শাপলা ঠোঁট উল্টাল।
— “আমি কি যেতে চাইছি নাকি? তোমার মেয়েই তো আমারে জোর করে নিয়ে গেল।”
শিখা রেগে উঠল।

— “বললেই হলো? তুই যেভাবে বলতেছিস, মনে হয় আমি তোরে কোলে করে নিয়ে গেছি!”
শাপলা মায়ের দিকে তাকিয়ে নাটকীয় সুরে বলল,
— “আমি তো স্কুলেই যাইতাম। কিন্তু তোমার মেয়ে জোর করে ধরে নিয়ে গিছে!”
রিদি বেগম দুই হাতে কান চেপে ধরলেন।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫২

— “উফ! তোরা এবার চুপ কর তো! যা, ঘরে যা দুইজন।”
ধমক খেয়ে শিখা আর শাপলা মুখ বাঁকিয়ে রুমে চলে গেল। ওরা চলে যেতেই মৌসুমী বেগম রিদির দিকে তাকিয়ে দাঁত কটমট করে বললেন,
— “আপনার আদর অস্কারা পেয়েই মেয়ে দুইটা দিন বেয়াড়া হয়ে যাচ্ছে।”
রিদি বেগম মুচকি হাসলেন শুধু।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here