Home রৌদ্রময় বালুচর রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১০

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১০

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১০
সোহানা ইসলাম

মায়ের ডাক শুনে জোহান ঝাড়ু নিয়ে হাজির হয় বোনের ঘরে। মায়ের হাতে ঝাড়ু ধরিয়ে দিয়ে বলে —–
–তাড়াতাড়ি দুইটা লাগিয়ে ঘুম ভাঙ্গা ও তোমার মেয়ের। আমাকে সেই কোন সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে বসে রেখেছো!! আমার সাথে দূর্নীতি করবে না বলে দিলাম কিন্তু…!!
“জোহানের কথায় পাওা না দিয়ে মারজিয়া বেগম আবার জারাকে ডাকে থাকেন….
” এই জমিদারের বাচ্চা উঠবি তুই, না-কি এই ঝাড়ু দিয়ে দুই এক গাঁ লাগাবো..??
“মায়ের এমন চিৎকার চেচামেচি শুনে শুয়া থেকে এক লাফে বিছানার এক কোণে গিয়ে বসে জারা”
“এই তুই বিছানার কোণায় কেনো গিয়েছিস..??
এদিকে আয় বলছি..??

” আম্মু তোমার হাতের ঝাড়ু টা রেখে এসো প্লিজ। এবারের মতো মাফ করে দাও প্লিজ আম্মু। আমি আর দেরি করে ঘুম থেকে উঠব না!! পাক্কা প্রমিজ..!! ”
“তোর নাটক বাদ দিয়ে, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়। ৮টা প্রায় বাজতে চললো। কলেজ যাবি কখন..?? আবার আমি ডাকতে এলেই মীরজাফর হয়ে যাই..??
” আম্মু ঘুমের গুঁরে বলে ফেলেছি আর বলব না। সরি আম্মু রাগ করো না…!! ইনোসেন্ট ইনোসেন্ট ভাব নিয়ে কথা টা বলে জারা।। “”
মেয়ের এমন কথায় গলে গেলেন মারজিয়া বেগম। মেয়েকে একটু বেশি ভালোবাসেন কি না তিনি । পাশে ফিরে রুম থেকে বের হতে নিবে, দেখে জোহান এখনো দাড়িয়ে আছে। তাই ঝাড়ুটা জোহানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন….

“এই ধর এটা..!! এই ঠ্যাডার মতো দাড়িয়ে না থেকে বাড়িটা ঝাড়ু দিয়ে আয়। সারাদিন তো কিছুই করিস না, মাথা নষ্ট করা ছাড়া..!! ” টুটু কোম্পানির মেনেজার কোথাকার..!!
” জোহান :- কী, – – আমি ঘর ঝাড়ু দিবো..?? অসম্ভব, এটা আমি পারব না।”
” মারজিয়া বেগম :- কেনো পারবি না তুই..??কী সমস্যা ঘর ঝাড়ু দিতে..??
” জোহান :- আম্মু আমি অনেক ছোট.!! তোমার এই স্পেশাল রিমান্ড ঝাড়ুর বর আমি নিতে পারব না। রহম করো আমায়।।””
” মারজিয়া বেগম :- কেনো পারবি না.?? কথা বলার সময় তো তোকে দেখে মনে হয় না তুই ছোট। এক, একটা কথা তো বলিস নিজের ওজনের থেকে ও বেশি ।। এখন কাজের সময় তিনি ছোট।
“জোহান :- অপমান করছো, করো। এখন তো তোমাদেরই দিন !! আমি ছোট বলে এমন ব্যবহার করছো তাই না..??

“” মারজিয়া বেগম :- তুই অপমানের কী বুঝিস হুমম..?? ”
“জোহান :- অনেক কিছু বোঝি। অপমান আর বেশি দিন করতে পারবে না আমায় । যেদিন আমি বিয়ে করে বউ আনবো তোমার ঘরে, সেই থেকে আমি আর এই অপমান নিব না। সব বউকে দিয়ে দিবো।
” মারজিয়া বেগম :- নাক টিপলে দু’ধ বের হবে, এই ছেলে এখনই বিয়ে করার সপ্ন দেখে ভাবা যায়…!! ”
“- আম্মু আমার নাক দিয়ে এখন দুধ বের হয় না, সর্দি বের হয় …. হি হি হি। বলেই একছুটে রুম থেকে বের হয় আসে জোহান।
” জোহানের কথায় জারা দুজনেই হেঁসে উঠে।”
মারজিয়া বেগম :- দেখলি কী পাঁজি ছেলে…??
“” জারা রেডি হয়ে নাস্তা করে কলেজে উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়া আগে মারজিয়া বেগমকে বলে…. । ”

” আম্মু আমি কলেজে চলে যাচ্ছি ”
” মারজিয়া বেগম :- যাবি ভালো কথা, ‘ আগে তোমার এই খরগোশ গুলোকে খাবার দিয়ে যাহ। এ-তো গুলো এনে ঘরে রেখে দিয়েছিস , এগুলোর ঠিক মতো যন্ত করতে পারিস না..??
” আম্মু তুমি দিয়ে দিও আজকে , আমার লেইট হয়ে যাচ্ছে।
” হুম, তোদের আদেশ পালন করার জন্যই তো তোর বাপ আমারে তার সংসারে নিয়ে আচ্ছে..?? তোরা যা অডার করবি,, আমি তা পালন করব,,।
“এখন এখানে দাঁড়ালেই বিপদ, কেটে পরতে হবে এখান থেকে। না হলে দেখা যাবে রাজ্যে সব হিস্টোরি তার মা এখন তাকে শুনাবে। একটু পর চলে যাবে তাদের বংশে দিকে,, রক্ত ভালো না তাদের, এসব হা,জি,বা,জি শুনিয়ে দিবে।

এখন বাজে সকাল ৮:১৮। জারা মাএ বাড়ি থেকে বের বসে বটতলার উদ্দেশ্যে। মনে মনে ভাবে আজকেও যদি ফিহা আর মিমের জান্য দাড়িয়ে থাকে হয়, তাহলে তো আমি মেরেই যাব ভয়ে। যদি আজকেও ঐ লোকটার সাথে দেখা হয়ে যায়। কাল তো ফিহা আর মিম ঠিক সময় চলে আসলো বলে বেঁচে গেছে। আজকে কী হবে..?? আজকে যেনো দেখা না হয়, ” আল্লাহ তুমি রহম করো আমায়।
— জারা বটতলায় এসে দেখে আজকে তার আগে ফিহা ও মিম দুইজনেই দাড়িয়ে আছে। তার বুক থেকে যেনো বারি পাথর নেমে গেছে তাদের দেখে। এখন ঐ লোকটার সাথে দেখা হওয়ার কোনো চান্স নেই। ভয় পাওয়ার ও কোনো কারণ নেই এখন তার —

” জারা :- কী রে, আজকে তোরা এতো আগে চলে এসেছিস কি জন্য..??
ফিহা :- দেখলি মিম, ” যার কথা ভেবে তাড়াতাড়ি চলে এসেছি আমরা, আর সে বলছে কেনো এসেছি তাড়াতাড়ি..??
মিম :- একেই বলে কারো ভালো করতে নেই। মুখ বাকিয়ে কথা টা বলে মিম।
” আরে বা’ব্বা রাগ করছ কেন আমি তো মজা করছিলাম তোদের সঙ্গে। আমি তো যানি তোরা আমায় নিয়ে কতোটা ভাবিস..!! জারা —-
মিম :- চল এখন সবাই দেরি হয়ে যাচ্ছে কলেজের। সময় কম তাড়াতাড়ি আয়।
হুম ” হুম চল তাড়াতাড়ি ” জারা”

জারা, মিম, ফিহা তিন জন মিলে এক সাথে হাসি – ঠাট্টা করতে করতে ঘাটের দিকে চলে যাচ্ছে। মজার কথা শুনে একজন আরেক জন উপর ঢ’লে ঢ’লে পরছে কিছুক্ষণ পর পর। তাদের আশেপাশে কে আসছে, কে গেলো, কারা দাড়িয়ে আছে সে দিয়ে কোনো খেয়ালই নেই। তারা তাদের নিয়ে ব্যস্থ।
–– রোহান ভাইয়া এই তিনজন কাল ‘ কের মেয়ে গুলো না…??
” রোহান, আর জাহেদ ঘাটে বসে ছিলো। গ্রামের এমন সৌন্দর্য আগে দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি কখনো। তাই তারা দু’জন সকালের নাস্তা শেষ করে চলে আসে নদীর ঘাটে। মানুষ নৌকায় করে এক পার থেকে অন্য পারে যাচ্ছে, আসছে এসব বসে বসে দেখছিলো তারা দুইজন। রোহান আরমানের বেস্ট ফ্রেন্ড হলেও, বেশির ভাগ সময় জাহেদের সাথে থাকে। কারণ আরমান তাকে বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে কোনো পাওা দেয় না। আসলে ফ্রেন্ডদের কাছে সম্মান আশা করা বিলাষিতা। কিন্তু এমনিতেই দুইজন ‘ দুইজনের মধ্যে আত্মার সম্পর্ক। যেমন ভাই, ভাই।

” রোহান :- হুমম! এগুলো কালকে ঐ মেয়ে গুলোই।
” জাহেদ :- রাস্তায় কেউ এভাবে হাসে..?? এই বাম পাশের মেয়েটা একবারে যা-তা। কী ভাবে হাসছে দেখো,, কটকটি রাণীকে ও হার মানিয়ে ছারবে এই মেয়ে ..??
( জাহেদ আসলে ফিহার কথা বলছে)
” রোহান :- তাতে তোর সমস্যা কোথায় হচ্ছে, সেটাই তো আমি বোঝাতে পারছি না…??
” জাহেদ :- আমি কেনো সমস্যা হবে ..?? আর দেখো মাঝের ঐ ছোট মেয়েটাকে,, একে না কি ভাবি ডাকবো। আচ্ছা রোহান ভাইয়া এই বিষয় টা মানতে তোমার কষ্ট হচ্ছে না…??
” রোহান :- হচ্ছে তো ভাই,, ভাবতে আমার পু*কি*র পি’ছ’নে’র র’গে টান লাগছে। এই মেয়েকে —–
—— এই মেয়ে না..!! ভাবি ডাকতে বলেছি আমি তোদের দুটোকে। মনে নেই..?? গরুর দল..!! না-কি মনে করিয়ে দিব আমি…??
আরমানের হুংকার শুনে বসা থেকে উঠে পরে রোহান আর জাহেদ। রক্তচুক্ষ নিয়ে তাদের দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছে আরমানের।
আরমানের এমন চাহনি দেখে দুইজনই খুব ভয় পাচ্ছে। হয়তো তাদের কথা সব শুনে ফেলেছে আরমান। মনে মনে দুইজন দোয়া-দরুদ পড়তে থাকে।

” কী রে কথা বলছি না কেনো দুই’টাই…?? কার যেনো পু*কি*র র’গে টান দিয়েছে..?? আয় ঠিক করে দেই।
“” আরমান সাদে দাঁড়িয়ে নজর রাখছিল বটগাছ তলায়। কখন আসবে তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে টা। আজকে ওর সাথে ভালো করে কথা বলবে সকাল ৭ টা থেকে অপেক্ষা করছে সে। কিন্তু তার ভাবনার মাঝে এক বালতি পানি ফেলে জারার আগে বটগাছ তলায় হাজির হয় তার দুই বান্ধবী।
বিরক্ত হয়ে নিজের কপাল চাপড়াতে থাকে আরমান। আজকেও কথা বলার সুযোগ হবে না তার। তাই সাদ থেকে মেনে ঘাটের দিকে চলে আসে। এসে এই দুজনের কথা শুনে মাথায় আগুন জ্বালে উঠে আরমানের। “”
“” রোহান :- আ ‘আ ‘রে… আ ‘আ ‘র’মা ‘ন… তু’তু ‘ই এ’লি কখন এখানে..???
“” আরমান :- কেন আমার আসাতে তোর র’গের টান বেরে গিয়েছে বোঝি..??
রোহান আমতা আমতা করে বলে…
” আরে না !! আমার কেনো র’গে টান লাগবে..?? টান লেগেছে জাহেদের..!! তাই না জাহেদ…??
” দিলো বাঁশ খাইয়ে আমায়..!!নিজে দোষ করে এখন আমায় ফাঁসাচ্ছে হা’রা’মি টা,।

—— না ‘ মানে’ ইয়ে ‘ ভা’ ভা’ই’য়া হয়েছে কী….
—-আরমান এবার বেজায় বিরক্ত হয় এদের তুতলানু দেখে। চোখ মুখ শক্ত করে বলে,’দুইটাই মিলে এমন ভাবে না তু’তলিয়ে ভালো করে কথা বল গরু দলেরা —
আরমানকে আরও রেগে যেতে দেখে রোহান অসহায় ফেইস নিয়ে বলে…
“” ভাই বিশ্বাস কর, পরের বার থেকে এই মেয়ে কে….কী বলছে স্বরণ হতে জ্বিব কাটে রোহান।
–আরমানের দিকে তাকিয়ে দেখে এখনো সে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। রোহান একটা মেকি হাসি দিয়ে বলে….
” না ‘ মানে পরের বার থেকে ভাবি বলে ডাকব..!! হি হি…..
” দাঁত কেলানো বন্ধ কর তুই। তোর দাঁত সুন্দর না এটা সবাই কে দেখা’নোর কী আছে..?? ইস্টুপিট কোথাকার।
আরমানের কথার সাথে সাথে মুখ বন্ধ হয়ে যায় রোহানের। ভোঁতা মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে আরমানের দিকে সে।
এদিকে রোহান কে তার ভাই অপমান করতে দেখে হাসতে হাসতে গরা গরি খাচ্ছে জাহেদ।
তুই এতো হাসছিস কেনো…?? তোরই ঐ বাঁকা দাঁত দেখার কোনো ইচ্ছে নেই আমার। যা এখান থেকে হা’রা’মি কোথাকার।
দুই এবার একসাথে ভোতা মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে আরমানের দিকে। তাদের যখন তখন অপমান করে দেয় সে।

দুপুর ১:৩০ বাজে। কলেজ ছোটি হওয়ার বেল পড়েছে মাএ। জারা’রা তিন বান্ধবী একসাথে কলেজ থেকে বের হয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। গাড়িতে উঠে সোজা ঘাটে চলে আসে তারা। নৌকায় উঠে নদী পার হয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে পরে তিনজন।
রোদে গলা শুকিয়ে গেছে তিনজনের। তাই দোকান থেকে ঠান্ডা আইসক্রিম কিনে আনে তারা। এবার মাজে মিমের বড় ভাই এসে মিম কে নিয়ে যায় তার সাথে। ফিহার বাড়িও উল্টো রাস্তায়। চাইলেই জারা আর ফিহা এক সঙ্গে যেতে পারবে না।
,’ জারা এখন তুই কী করবি…?? আমি তো এখন অন্য রাস্তা ধরে বাড়ি ফিরব.. আর তোদের বাড়ির রাস্তায় তো গাড়ি যায় না এখন..??
” চিন্তা করিস না আমি চলে যাব মাঠ দিয়ে। তুই রিকশা নিয়ে বাড়ি চলে যায়।
দুইজন দুই দিকে চলে আসে।

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৯

রোদের মধ্যে জাতা হাতে নিয়ে বড় মাঠ দিয়ে হেঁটে চলেছে জারা। আজকে তার কী যে শান্তি লাগছে ঐ শয়তান লোক টার সাথে দেখা হয় নি তার। আনন্দে মন আকুপাকু করছে তার। কিন্তু এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। পিছন থেকে ডাক পরে তার।
” এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে ধারাও। কথা আছে তোমার সাথে।

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here