Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩
নুসাইবা আরা নুরি

বাড়ি এসে নিজের ঘরে সুয়ে আছে শ্রেয়সী।বারবার কলেজের সেই লোক্টার প্রতিচ্ছবি মনে পড়ছে।কতই বোকা না শ্রেয়সী।লোক্টার সামনে কেমন বোকার মতো আচরন করেছে।এখন সেগুলো ভাবলেই শ্রেয় মসীর নিজের উপর রাগ লাগে।
শ্রেয়সীর ভাবনার মাঝেই দরজা খাবারের প্লেট নিয়ে এসে দাঁড়ায় তোহা তারপর বলে,,,,
-শ্রেয়সী আসবো??
-হুম ভাবি আসো আসো তা আবার জিজ্ঞাসা করা লাগে??
তোহা হেসে ভিতরে ঢুকে।শ্রেয়সী বিছানায় উঠে বাবু হয়ে বসে।তোহা শ্রেয়সীর সামনে খাবারের প্লেট রেখে বলে,,,

-তো আজ অনুষ্ঠান কেমন উপভোগ করলে বললে না তো??
-অনেক ভালো। কিন্তু।
-কিন্তু আবার কি???
শ্রেয়সী এবার একটু মন খারাপ করে বলল,,,
-আব্বুর কিনে দেওয়া নতুন নুপুর টা হারিয়ে গেছে।কত করে খুজেও পেলাম না ভাবি।
-কিভাবে??
-যখন স্টেজে ছিলাম তখন ছিলো কিন্তু নেমে আসার পর আর দেখি নেই।ইরু আর আমি কত খুজলাম ম্যাম কেও বলেছি।তবে পাইনি।এখন আব্বুকে বললে আব্বু কষ্ট পাবে।
-ধুর বোকা আব্বু কিছুই বলবে না।কারন আব্বু জানে আমাদের শ্রেয়সী ইচ্ছা করে হারায়নি।
কথাটা বলে তোহা হাসলো।তার সাথে সিয়ামের বিয়ের পর ভেবেছিলো তার শশুর বাড়ি কেমন হবে।তার ননদ দেবর কেমন হবে সব কিছু ভেবে ভয় পেতো।কারন তার বড় বোনের শশুর বাড়ির লোক খুব খারাপ।তার বোনের গায়ে তার দুলাভাই হাত তুলতো।কিন্তু এই বাড়িতে আসার পর তোহার ভাবনা কেটে গেছে।আলতাফ শেখ আর খাদিজা খাতুনের মতো শশুর শাশুড়ী নামক বাবা মা পেয়ে সে গর্বিত।
আর শ্রেয়সীকে নিজের আপন ছোট বোনের মতো দেখে।শ্রেয়সীর ছোট একটা ভাই আছে।সায়ান।বয়স দশ এর কৌঠায় তবে এখোনো বাচ্চা।ক্লাস ফোর এ পড়ে।সেও ভাবি বলতে পাগল।তোহা নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করে এমন একটা শশুর বাড়ি পেয়ে।

প্রবল ঠান্ডা স্নিগ্ধ বাতাশ চারিপাশে।পাখিরা উড়ছে আকাশে।চট্রগ্রাম বন্দরের নির্দিষ্ট একটা জাহাজের একদম কিনারা দাঁড়িয়ে আছে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেহেরাজ মির্জা।সামনে নীল সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি।মেহেরাজের পরনে সাদা রঙের শার্ট কাধে ব্যাজ লাগানো।হাতেও ব্যাজ।মাথায় থাকা টুপিটা হাতে রাখা।পায়ে পালিশ করা কালো বুট।ইগলের চোখে তাকিয়ে দেখছে চারিপাশ নিখুঁত ভাবে।
বেশ কিছুক্ষন চারিপাশ টহল দিয়ে জাহাজের কেবিনের দিকে হাটা ধরতেই একজন সাব লেফটেন্যান্ট এসে দাঁড়ায় মেহেরাজের সামনে।মেহেরাজ সালাম দিলে সেও উত্তর দেয় সালামের।তারপর লোকটা মেহেরাজের সাথে হেটে আবারো জাহাজের কিনারায় এসে দাঁড়ায়।প্রবল বাতাসে মেহেরাজের চুল উড়ছে।লোক্টা বেশ কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,,,,

-স্যার ছুটিতে যাবেন না এবার???
-কিসের ছুটি???
-এই মিশন সাক্সেস ফুল হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের ছুটি দেওয়ার কথা ছিলো।সেটা তো এপ্রুভ হয়ে গেছে।আর আমার বিয়ের পারমিশন ও দিয়ে দিছে।আপনি কবে বিয়ে করবেন স্যার।
মেহেরাজের সামনে থাকা ছেলেটার নাম অনয়।ছেলেটা বেশ হাসি খুশি মিশুক প্রকৃতির।মেহেরাজ যদিও গম্ভীর চুপচাপ প্রকৃতির তবুও অনয় তার বেশ লাগে।সবাইকে সম্মান করে ছেলেটা।মিশনে থাকা কালীন মেহেরাজের সাথে যোগাযোগ হয় অনয়ের।অনয়ের প্রথম এমন বড় একটা মিশন ছিলো মেহেরাজের টিম এর সাথে।
অনয়ের কথায় মেহেরাজ প্রতি উত্তর করেনা। কিন্তু মনে পড়ে যায় প্রায় আট মাস আগে তার বিয়ে করে ফেলে রেখে আসা মেয়েটার কথা।নাম মাত্র স্ত্রী ছিল তার।মুখটাও দেখার সুজোগ হয়নি।সে কি এখোনো আছে।নিজের ভাবনায় মেহেরাজ নিজেই বিরক্ত হয়।এই আট মাসে একবার ছুটি পেয়েছিলো বিশেষ কোনো ডে তে।তবে মেহেরাজ ছুটি গ্রহন করেনি।কিন্তু এবার অনেকদিন পর বাড়িতে যাবে।কত দিন হয়ে গেলো বাড়ির সাথে তার যোগাযোগ হয়না।

বিকাল সাড়ে পাচটা। ইরুর সাথে রাস্তার ফুটপত দিয়ে হাটছে আর ঝালমুড়ি খাচ্ছে শ্রেয়সী।ইরু হলো শ্রেয়সী ছোট কালের বান্ধুবী।আর বরাবরই ইরু শ্রেয়সীকে সব সময় প্রটেক্ট করে সব খারাপ জিনিস হতে।তাই শ্রেয়সীর ভিষন ভালো লাগে ইরুকে।
হাটতে হাটতে ইরু বলে,,,
-মোস্তফা স্যার কি পড়াচ্ছে বুজতে পারছি না।ফিজিক্সের আগা মাথা কিছুই মাথাতে ঢুকছে না।স্যারকে বলেও লাভ হচ্ছে না।কি করবো বল তো শ্রেয়সী??
শ্রেয়সী গালে থাকা ঝালমুড়ি চিবোতে চিবোতে বলল,,,
-মাস গেলে তিন হাজার দিতে হচ্ছে কিন্তু স্যার ভালো পড়াচ্ছে না।আবার ফেল করলে বলবে ব্রেন ভালো না।আব্বুকে আজ বলবোনি খুলে।স্যার পালটাতে হবে।
-হুম আমিও তাই ভাবছি।
-বাড়িতে গিয়ে আগে ভাইয়া কে বলবো। কারন মোস্তফা স্যার এর কাছে ভাইয়া ভর্তি করাইছিলো।তারপর ভাইয়া কি বলে শুনে আব্বুকে বলবো।
-আচ্ছা আমাকে জানাস কি বলে আঙ্কেল।
-আচ্ছা।

শ্রেয়সী আর ইরু হেটে এসে থামে রিকশা স্টান্ডে। তারপর রিকশায় উঠে বসে।তাদের বাড়ি থেকে বেশ পনেরো মিনিট লাগে মোস্তফা স্যার এর কাছে পড়তে আসতে।তাই রিকশাতে করেই আসে।কিন্তু আবার ফুটপত ধরে বেশ খানিকটা গলির রাস্তায় যেতে হয় কিন্তু সেখানে রিকশা যায় না।
রিকশায় বসার পর রিকশা চলতে শুরু করে।ইরু ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে আজকের কলেজে তোলা ছবি গুলো দেখতে শুরু করে।তারপর হটাৎ একটা ছবিতে চোখ যেতেই ইরু বলে,,,,
-শ্রেয়সী দেখ।স্টেজে তোলা বেশ কয়েকটা ছবিতে প্রধান অতিথি তোর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে।
কথাটা বলে ইরু ছবিটা জুম করে শ্রেয়সীকে দেখায়।কলেযে থাকা অবস্থাতেই শ্রেয়সী লক্ষ করেছিলো কেও তাকে দেখছে বিশেষ করে তার প্রথম দেখায় ক্রাশ খাওয়া লোকটা।কিন্তু শ্রেয়সী যতবার তাকিয়েছে ততবার দেখেছে লোক্টা অন্য কারোর সাথে কথা বলছে।
ইরু শ্রেয়সী যে কিছু বলতে না দেখে নিজেই আবার বলে,,

-যাই বলিশ অফিসার টা কিন্তু সেই হ্যান্ডসাম।মাইমুনা তো কথা বলতে গেছিলো এক ফাকে। যে অন্তত নামটা জিজ্ঞাসা করবে।কিন্তু পাত্তাই দেইনি মাইমুনা কে।কারন লোক্টি বুজেছিলো মাইমুনা পাগল।যেখানে তার বুকের নেম প্লেটে স্পষ্ট লেখা মেহেরাজ।
এতক্ষন ইরুর বলা কথা গুলো চুপচাপ শুনলেও হটাৎ শ্রেয়সীর বুকের ভেতর পুরোনো ব্যাথা শুরু হয় মেহেরাজ নামটা শুনে।মনে পড়ে সেদিন বিয়ের কথা।যখন কবুল বলার সময় নিজ স্বামির নামটা শুনেছিলো মেহেরাজ।মাথায় লম্বা ঘোমটা থাকা মুখটা আর দেখা হয়নি শ্রেয়সীর।তবে সেসব তো এখন অতীত।আর কিসের কি ভাবছে।
একজন সৎ মানুষ কি বিয়ের দুদিন পরে একটা মেয়েকে ডিভোর্সের মতো কলঙ্ক দিতে পারে।নিশ্চয় পারেনা।সেখানে কলেজের প্রধান অতিথি তো বিশাল নামকরা একজন মানুষ সে নিশ্চয় তার প্রাক্তন স্বামির মতো না।নাম এক হলেই কি চরিত্র এক হয়।

সাড়ে আটটার দিকে অফিসের দেওয়া নিজের পারছোনাল গাড়িতে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে মেহেরাজ।কতদিন পর বাড়িতে যাচ্ছে।আরো আগেই বের হতো তবে একটু শপিং এ গেছিলো তাই দেরি।মেহেরাজের অফিস থেকে বাড়ির দূরত্ব আড়াই ঘন্টার।যদি জ্যাম থাকে তাহলে আরো দূর।এই আড়াই ঘন্টার রাস্তা আজ আট মাস পর পার করছে মেহেরাজ।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ২

যদিও সেদিন মায়ের উপর রাগ করে বলেছিলো বিয়েটা সে মানেনা।তবে একটা সাভাবিক বৈবাহিক
সম্পর্ক কি অসিকার করা যায়।তাই মেহেরাজ ও অসিকার করবে না।মেয়েটার জন্য অনেক খুজে তিনটে শাড়ি নিয়েছে।যদিও যানে মেয়েটাকে কেমন দেখতে।তবে এটা জানে মেয়েটার হয়তো অনেক অভিমান জমেছে তার উপর।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here