Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৯ (২)

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৯ (২)

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৯ (২)
নুসাইবা আরা নুরি

মেহেরাজের কথা শেষ হতে না হতেই মিলি ফুশে উঠে রেগে বলে,
-খবদদার মেহু।আমাকে লিলিপুট বলবি না।ভালো হবে না কিন্তু??
মিলির কথায় সবাই একত্রে হেসে উঠে।তখন মিলি আবার বলে,
-এই হাসবি না।আমি লিলিপুট হইলে তোরা কারেন্ট এর খাম্বা।পাঁচ ফুট পাচ ইঞ্চি আমি লিলিপুট বলবি না একদম।আর এবার হাসলে দাত খুলে দিবো।
মিলির কথায় আরেক দফা হাসির রোল পড়ে ডাইনিং এ।শ্রেয়সীর ভিষন লজ্জা ও লাগছে আবার ভালো লাগছে এই বন্ধুদের এমন হাসি ঠাট্টা দেখে ইরুকেও মনে পড়ছে ভিষন।যদি ইরুর সাথে কথা হতো।তবে তা তো সম্ভব না এখন।শ্রেয়সী ভাবনার মাঝে মেহেরাজ মিলির দিকে তাকিয়ে বলে,
-আমি কি একবারো তোকে মিন করে বলেছি।আমি তো তুহিন্নাকে মিন করে বলেছি।তাই না তুহিন্না।
বলেই হাসলো মেহেরাজ।দূর থেকে সেই হাসির উপর এক দফা ক্রাশ খেলো শ্রেয়সী। ইশ মানুষ টা হাসলে কি সুন্দর লাগে।নজর না লাগুক।মেহেরাজেরকথায় মিলি বলে,

-দেখ মেহু ভালো হবে না কিন্তু।আমাকে পচালে পরে কিন্তু পস্তাবি??
মিলির কথায় সবাই হাসে তারপর ইভান ঠাট্টা করে বলে,
-কিসের পস্তাবে আর কেনোই বা পস্তাবে।তুই কি পচা আলু যে তোকে পচাবে??
-ইভাইন্না মেরে দিমু কিন্তু।
এবার তুহিন হেসে সবাইকে থামতে বলতেই মিলি মুখ ফসকে বলে,
-কি জন্য চুপ করবো।কোনো প্রশ্নই আসে না।আমাকে পচাইলো কেন।এবার বাসর করিস শালা।শ্রেয়সী কে আজ আমাদের সাথেই রাখবো।দেখবোনি কেমনে না পস্তাই থাকিস।
কথাটা বলেই দাত দিয়ে জিভ কাটলো মিলি।কি বলতে গিয়ে কি বলে দিয়েছে।সবাই কতবার নিষেধ করেছিলো এই কথাটা শ্রেয়সীর সামনে না উঠাতে আর সে বলে ফেলল।আজ আর রক্ষা নেই।মিলির কথা শুনে শ্রেয়সীর ভিষন লজ্জা লাগলো।ছিহ মাটি ফাক করে ঢুকে যেতে ইচ্ছা করছে।আড়চোখে মেহেরাজের দিকে তাকাতেই দেখলো মেহেরাজ তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
শ্রেয়সী লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিতেই মেহেরাজ তোহার দিকে তাকিয়ে বলল,
-রাতে কি বিরিয়ানি খাবি নাকি তন্দুরি??
-তন্দুরি।

মেহেরাজের কথার পিঠে তোহা কথাটা বলতেই মেহেরাজ ইশারায় শ্রেয়সীকেও জিজ্ঞাসা করতে বলে।মেহেরাজের ইশারা চোখ এড়াই না ইভান আর মিলির।দুজন একই সাথে খুক খুক করে কেশে উঠে একই সুরে গেয়ে উঠে,
-ওদের হয়েছে কবে আমাদের ও হবে।
-মামু এভাবেই কাটবে কি তবে।
-ওদের হয়েছে কবে আমাদেরও হবে।
মিলি আর ইভানের এমন গান শুনে তোহা ধমক দেয় ওদের তারপর বলে,
-তোরা কি বাচ্চা ভাই।চুপ করতে পারিস না??
-আমরা তো বাচ্চাই।এখোনো বিয়ে করলাম না।
-চুপ কর বেয়াদব।
তোহার কথায় ইভান চুপ হয়ে যায়।এদিকে ইভান্দের কানের মানে ধরতে পেরে শ্রেয়সী আরো লজ্জা পায়।তোহা শ্রেয়সীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
-ননদিনী তুমি কি খাবে??
-সবাই জা খাবে।
-আরে এর বাইরে কিছু।থাকলে কানে কানে বলো আমি বলে দিচ্ছি।
তোহার কথায় মিলি বলে,

-কেন কেন কানে কানে কেন বলবে আমতা কি দোষ করলাম।মেহু কোল্ড্রিংস নিয়ে আসিস।তোর বিয়েতে ইঞ্জয় খাইতে পারলাম না।আজ মন ভরে খাবো।
-খাদক আপু এবার অন্তত চুপ থাক।
তোহার কথায় মুখ ভেংচায় মিলি।তোহা শ্রেয়সী মুখের কাছে কান এগিয়ে নিয়ে যেতেই শ্রেয়সী লজ্জামাখা কন্ঠে বলে,
-কিছু লাগবে না ভাবি।
-আরে বলো।
তোহার জোরাজোরি তে শ্রেয়সী এবার লজ্জা নিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
-চকলেট নিয়ে আস্তে বইলেন সবার জন্য।
-সবার জন্য লাগবে না তোমার জন্য শুধু। এবার বলো আর কি।
-শুধু চকলেট ই ভাবি।
শ্রেয়সীর কথায় তোহা হাসে তারপর ফিশফিশ করে বলে,
-কোন ফ্লেবার।
তোহার কথায় আরো লজ্জা পায় শ্রেয়সী তারপর একই সুরে বলে,
-উনি জানে।
-বাবাহ উনি।
কথাটা বলে ঠোঁট টিপে হাসে তোহা।এদিকে শ্রেয়সী লজ্জায় রাঙা হয়ে যায়।তোহা শ্রেয়সীর থেকে সরে উঠে দাড়াতেই মেহেরাজ ও উঠে দাঁড়ায়।তারপর দুজন দরজার কাছে যায়।তোহা দরজা খুলে দেওয়ার পর মেহেরাজ বেরিয়ে গিয়ে শান্ত গলায় জিজ্ঞাসা করে,

-কি বলল??
-চকলেট।কোন ফ্লেভার তুই জানিস বলল।আর কিছুই না।
-আচ্ছা।থাক।
-দ্রুত ফিরবি।খিদে লেগেছে ওর।সন্ধাই খাওয়ার অভ্যাস।
-আচ্ছা।তুই এদিকটা দেখ।আমি আসি।
মেহেরাজ লিফট ও উঠে নিচে নেমে চলে যায়।তোহা ও আর না দাঁড়িয়ে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে আবার সবার সাথে আড্ডা দিতে বসে পড়ে।

আনাম মিয়া চট্রগ্রামে নেই শহরের বাইরে গেছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে।যার কারনে সিয়াম সেদিন রাতে আনাম মিয়ার খোজে গিয়েও পায়নি।সাথে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে গেছে যে আনাম মিয়া তার সাথে শত্রুতা করেছে নয়তো শহর ছেড়ে গেলো কেন হটাৎ কিছু না বলেই।অন্যবার তো ঠিকই বলে যায়।।হয়তো এবার।তার বোন আর বউকে সে।সিয়াম কথাটা ভাবতে চায়না।বুকের ভিতর ভিষন পিড়া দেয়।তবে আনাম মিয়াকে সিয়াম ছাড়বে না।যেখানেই থাকুক তার বোন আর বউকে মুক্ত করবেই।
আনাম মিয়ার পিছনে কয়েকজন লোক লাগইয়ে দিয়েছে সিয়াম যেন আনাম মিয়া বাড়িতে আসলেই যেনো সে খবর পায়।তারপর বাড়িতে আসার পথেই কল পায় খাদিজা খাতুনের তার বাবা নাকি হসপিটালে ভর্তি রাস্তায় পড়ে ছিলো।চিন্তার উপরে চিন্তা নিয়ে হস্পিটালে পৌছায় সিয়াম।তবে যে লোক দুটো সিয়ামের বাবাকে এনেছিলো হসপিটালে তাদের খোজ না পেলেও চকিদার এর খোজ পায়।আর চকিদার জানায় অচেনা দুজন লোক।।

সিয়ামের ধুর্ত মন বুজে যায় লোক গুলো আনাম মিয়ার লোক তার বাড়িতে নজর রাখছিলো।আর তার বাবাকে তার্গেট করে আবার ভালো সাজার চেষ্টা করছে এখন। ছাড়বে না সিয়াম এক টাকেও।একবার শ্রেয়সী আর তোহার সন্ধান পেয়ে নিক তারপর গলার টুটি ছিড়ে ফেলবে একদম।
আই সি ইউ কেবিনের বেড এর পাশে বসে আছে সিয়াম তার চোখ ঘুমন্ত আলতাফ শেখ এর দিকে।পাশে খাদিজা খাতুন এখোনো কাদছে নিঃশব্দে। একদিকে সন্তান হারানোর বেদনা অন্য দিকে স্বামির এই অবস্থা।বেশিরভাগ আত্মীয়রা মজা নিচ্ছে এখন।পিছনে বড় বড় কথা বলতেও ছাড়ছেন না।কেও তো বলছে ভালোই হয়েছে এখন ভালো মানুষ কে অপমান করতে গিয়ে নিজেরাই ফেসেছে।এখন সিম্প্যাথি নিতে অসুস্থতার নাটক।এখন আর মানুষ কে বিশ্বাস হয় না।

সিয়ামের কানেও কথা গুলো এসেছে তবে চোখ বুজে কথা গুলো সহ্য করে নিয়েছে।খাদিজা খাতুনের ঘাড়ে হাত রেখে শান্তনা দিয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে নেয় তার বাবার এই অবস্থার কারনে আনাম মিয়ার থেকে প্রতিশোধ নিবেই।তবে দিশে হারা লাগছে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ওই দুই নারিকে হারিয়ে।কোথায় খুজবে ওদের।কোথায় গেলে পাবে।ঠিক আছে তো ওরা।সিয়ামের কি হচ্ছে সিয়াম ছাড়া আর কারোর বোজার ক্ষমতা নেই।
সারাটা দিন হসপিটালে কাটিয়েছে।পাশাপাশি লোকদ্বারা খোজ চালাচ্ছে তার বোন আর তোহার।সত্যিই যদি নিলয় মির্জা পুলিশ কেচ করে তখন আর এক বিপদ।সিয়ামের নিজেরই অসুস্থ পাগল উন্মাদ মনে হয়।মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে।আজ একমাত্র তার বুদ্ধির কারনেই তার বোন আর বউ নিখোঁজ। তার কারনেই আনাম মিয়া সব জানতে পেরেছিলো।আর তার কারনেই তার বাবা অসুস্থ।মস্তিষ্ক কাজ করছে না সিয়ামের।কি থেকে কি করবে সে।

মেহেরাজ বাজারে না এসে বেশ কিছুক্ষন ড্রাইভ করে একটা শুনশান ব্রিজ এর কাছে এসে গাড়ি দাড় করায়।তারপর কারোর কাছে কল দেয়।বেশ কিছুক্ষন পর ব্রিজের নিচ থেকে দুজন উপরে উঠে আসে।একজন ফুয়াদ আর একজন গার্ড।
ফুয়াদ মেহেরাজের গাড়ির জানালায় টোকা দিতেই মেহেরাজ গাড়ির দরজা আনলক করে বাইরে বেরিয়ে আসে।তারপর ফুয়াদের সাথে হ্যান্ডশেক করে।ফুয়াদ হাসি মুখে মেহেরাজের ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করার পর মেহেরাজ বলে,
-যা যা আনতে বলেছিলাম এনেছো??
-জ্বি স্যার।
ফুয়াদ পিছনের ছেলেটার দিকে হাত বাড়াতেই দুটো বক্স এগিয়ে দেয় মেহেরাজের দিকে।মেহেরাজ বেশ খুশি হয় তারপর বক্স দুটো নিয়ে গাড়ির সিটের উপর রেখে বলে,
-মিশন টা শেষ করতে হবে আর টাইম নেওয়া যাবে না।আমার ছুটি তিন মাসের।বাট যখন তখন ডাক পড়ে যেতে পারে।আমি চাই আমি নিজের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার আগে আমার বন্ধুদের মাথা থেকে এই সম্পুর্ন মিশনের ভার টা সরিয়ে দিতে।
মেহেরাজের কথায় ফুয়াদ শান্ত গলায় বলে,

-আলতাফ শেখ কে তো প্যারালাইসড করে দিয়েছি ইঞ্জেকশন পুশ করে।ও এম্নিতেই কাজের ছিলনা স্যার।আমাদের তার্গেট দুজন সিয়াম শেখ আর এমপি আনাম মিয়া।দুজনের মোবাইল এর সাথে আমাদের লোকেশন রাডার এর কানেকশন ফিক্সড আছে।কখন কি কথা হয় কোথায় যায় সব জানা যাচ্ছে।আপনি চাইলে ওদের উপরে পাঠিয়ে পুরো কেচ টা সমাধান করে দেয়।
ফুয়াদের কথায় মেহেরাজ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

-আমরা শুধুমাত্র পুলিশের টিম টাকে গোপনে সাহায্য করবে। বাকি কাজ পুলিশের স্পেশাল টিম মানে আমার বন্ধুরা সামলাবে।আর আমরা যদি আগেই ওদের মেরে ফেলি তাহলে ওদের ঘাটি উদবোধন হবে না।তাই আমরা ক্লু দিবো আর পুলিশের টিম সব খুজে নিবে।তবে মাথায় রেখো আমাদের পরিচয় কেও যেনো জানতে না পারে।তুমি সব সামলে নিও।আর আমাকে জানিও।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪৯

আমি আর আসতে পারবো না কারন আমার বন্ধুরা সব ইন্টেলিজেন্স সন্দেহ করতে সময় লাগবে না।
মেহেরাজের কথায় ফুয়াদ মাথা নাড়ায় হ্যা সুচক তারপর বলে,
-কিন্তু স্যার সব কিছু আপনি করে ক্রেডিট আপনার বন্ধুদের দিবেন কেন।পুলিশের টিম এর আরো অনেক মাস সময় লাগতো এসব ক্লু খুজতে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫০