শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২
রুহানিয়া ইমরোজ
ফারজানা সুইসাইড করেছে। কথাটা শোনামাত্র আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মেহরিমা। ফোনের ওপাশ থেকে আসা অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ, এম্বুলেন্সের সাইরেন তাকে আরও বিচলিত করে তোলে। তোতলানো স্বরে কোনোমতে বলে,
–” আসছি আমি। এক্ একটু খেয়াল রাইখেন আমার আপার।
ওপাশ থেকে কী বলল শোনা হলো না। তড়িৎ গতিতে কল কেটে প্রিমাকে জানালো অতঃপর নিজেও বেরিয়ে পড়ল হসপিটালের উদ্দেশ্যে৷ মাঝ পথে পৌঁছাতে মেহরিমা দেখে সামনে বিস্তর যানজট। রিকশা নিয়ে কোনোমতেই আগানো যাবে না। বাধ্য হয়ে মেহরিমা তড়িঘড়ি করে নেমে দাঁড়ায় । ভাড়াটা দিয়ে ঝাড়া পায়ে হাঁটতে থাকে সামনের দিকে। তাকে ছুটতে দেখে একজন রিকশাওয়ালা বলে,
–” সামনে যাইয়েন না আফা। বিপদ অইবো। হেরা মানুষ নামে অমানুষ। আপনার প্রয়োজন বুঝতো না..
কথাটা শোনার প্রয়োজনবোধ করলো না মেহরিমা। তাকে তো যেতেই হবে। খুব জলদি হসপিটালে না পৌঁছাতে পারলে অঘটন ঘটে যাবে। পায়ের গতি বাড়িয়ে ছুটতে থাকে সামনের দিকে।
আরশিয়ান ইসফার চৌধুরী এমপি হওয়ার খুশিতে রাস্তা আঁটকে উৎসব করছে তার দলের ছেলেরা। লাউডস্পিকারে গান বাজছে। হৈ-হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে একেকজন অথচ রাস্তায় সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে সমস্ত যানবাহন।
বিরক্ত হলেও কেউ টু শব্দ করার সাহস পাচ্ছে না। কারণ স্বয়ং গ্যাংস্টার তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরী উপস্থিত আছে এখানে। বড় ভাই এমপি হওয়ার সুবাদে এই আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে।
সকলেই যখন খুশি উৎযাপনে ব্যস্ত তখনই হুট করে একজন রমণী হাজির হয়। আঁটকে রাখা বেরিগেড সরাতে সরাতে বলে,
–” অল্প একটু জায়গা করে দিন। হসপিটালে যেতে হবে আমায়…
বেরিগেড ধরে রাখা ছেলে তিনটে খেঁকিয়ে উঠে বলে,
–” রাস্তা বন্ধ থাকবে আপা। আপনে অন্যদিক দিয়ে ঘুইরা যান..
ছেলেটার কথায় মেজাজ খারাপ হয় মেহরিমার। এমনিতেই তাড়াহুড়ায় আছে সে তারমধ্যে আবার এক বান্দর এসে রাস্তা আটকেছে। তাই সে-ও রাগী কন্ঠে বলে,
–” এটা কারও বাপের রাস্তা নয়। আর নইতো কোনো পার্টি হল। রাস্তা ছাড়.. আমায় যেতে দে ।
মেহরিমার মেজাজ দেখে খানিকটা হতবাক হয় ছেলে তিনটা। তাদের সাথে তর্কে জড়ানোর সাহস কখনও কেউ দেখায়নি। সেখানে এই মেয়ে তাদের গালি দিচ্ছে। নিজেদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে একজন ছেলে তাজরিয়ানের এসিস্ট্যান্ট তামজিদ হোসেইনকে জানায় বিষয়টা।
সবটা শুনে চোখ কপালে উঠে তার। মেহরিমা তখনও অনর্গল তর্ক করে যাচ্ছিল। তামজিদ উপয়ান্তর না পেয়ে আড় চোখে তাকায় গাড়ির বনেটর উপর বসে সিগারেট টানতে থাকা তাজরিয়ানের পানে। ফাঁকা ঢোক গিলে তার কাছে গিয়ে বলে,
–” স্ স্যার।
তাজরিয়ান নামক পুরুষটি কপাল কুঁচকে তাকায়। বিরক্ত ভরা কন্ঠে বলে,
–” কী?
এসিস্ট্যান্ট তামজিদ দ্বিধান্বিত কন্ঠে বলে,
–” একটা মেয়ে এসেছে। বলছে ব্যারিগেড খুলে দিতে। উনার বোন নাকি হসপিটালে ভর্তি। জরু..
বাকি কথা বলার পূর্বেই হাত উঁচিয়ে ইশারায় থামতে বলে তাকে। চোখে থাকা সানগ্লাসটা খুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মেহরিমার উপর। বেচারি তখনও ছেলে তিনটাকে বকে যাচ্ছে। তীব্র রোদের কারণে ঘেমে উঠেছে তার মুখমন্ডল। রাগের চোটে ফর্সা কপালের দু’টো রগ ফুলে উঠেছে।
মেহরিমা কে মাথা থেকে পা পর্যন্ত স্ক্যান করতেই মস্তিষ্ক হ্যাং হয়ে যায় তাজরিয়ানের। অদ্ভুত কিছু একটা হয় তবে সেটা প্রকাশ করে না। উল্টো এক রোখা গলায় বলে,
–” তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরি কখনো নিজের সিধান্ত বদলায় না। ওকে বলো উল্টো পথ ধরে যেতে..
এসিস্ট্যান্ট গিয়ে সেটাই বলে মেহরিমাকে অথচ সে মানতে নারাজ। সবাইকে ঠেলে সরিয়ে তাজরিয়ানের সামনে এসে দাঁড়ায় মেহু। অনুরোধের স্বরে বলে,
–” আমার বোন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। আমায় যেতে হবে তার কাছে। দেরি হলে, তাকে হারিয়ে ফেলবো হয়তো। প্লিজ যেতে দিন আমায়..
অনুভূতিহীন তাজরিয়ানকে স্পর্শ করে না মেহরিমার আহাজারি। উল্টো অন্যের প্রতি এত দরদ দেখে বিরক্ত হয় সে। নির্বিকার চিত্তে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বলে,
–” তোমার উপস্থিত কাউকে বাঁচাতে পারবে না। তোমার বোনের হায়াত থাকলে সে বাঁচবে নয়তো টাটা বাই বাই। এত লোড নিয়ে কাজ নেই। চিল..
মেহরিমা হতবাক হয়ে তাকায় তার দিকে। অবাক হয়ে শুধায়,
— ” আপনি আদৌ মানুষ?
মেহরিমার সাহস দেখে অবাক হয় তাজরিয়ান। প্রথমবার তার সাথেকেউ নির্ভয়ে কথা বলছে। ইন্টারেস্টিং লাগে বিষয়টা৷ সে এক লাফে গাড়ির বোনেট থেকে লাফিয়ে নিচে নামে। মেহরিমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাঁকা হেসে বলে,
–” না সুন্দরী। আমি মানুষের অবয়বে থাকা পিওর ফেরেশতা।
মেহরিমা অধৈর্য হয়ে পড়ে। তাজরিয়ান কে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগোতে এগোতে রুষ্ট কন্ঠে বলে,
–” সামনে থেকে সরে দাঁড়ান অভদ্রলোক। যেতে..
কথাটা শেষ করতে পারে না মেহরিমা তার আগেই তাজ পাল্টা ধাক্কা দেয় তাকে। এতে করে মেহরিমা দু কদম পিছিয়ে যায়। তাজরিয়ান নিজের পরনে থাকা ব্লেজারটা ছুঁড়ে ফেলে মাটিতে৷ এমন একটা ভাব করে যেনো মেহরিমা ছোঁয়ায় নোংরা হয়ে গেছে ওটা। হতবিহ্বল মেহরিমা কিছু বলার পূর্বেই তাজরিয়ান তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
–” আমায় সিডিউস করার চেষ্টা করে লাভ নেই সুন্দরী। তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরীর টেস্ট বড্ড উন্নত। গুলশান কিংবা বনানীর মোড়ে গিয়ে দাঁড়াও। নিজের টাইপের গুলো পেয়ে য্….
কথাটা শেষ করতে পারে না তাজরিয়ান। তার আগেই সশব্দে চড় পড়ে তার গালে। মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় সব। উৎসবে মগ্ন পার্টির ছেলেরা বড় বড় চোখে তাকায়।
মেহরিমা পুরোই নিয়ন্ত্রণহীন। এতক্ষণ বহু কষ্টে সামলেছিলো নিজেকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সম্ভব হয়নি। রাগে কাঁপতে থাকা মেহরিমা গলা উঁচিয়ে তাজ কে উদ্দেশ্য করে বলে,
–” সবাইকে নিজের মতো চরিত্রহীন ভাবার ভুল করবেন না। অন্যের চোখে নিজেকে এট্র্যাক্টিভ দেখানোর শখ আপনার থাকতে পারে। আমার নেই। ভদ্র ফ্যামিলির মেয়ে আমি। আপনার মতো ব্রোকেন ফ্যামিলির বিগড়ে যাওয়া সন্তান নই। হোটেলে গিয়ে ফূর্তি করার স্বভাব আপনার হতে পারে। আমার জন্য এসব ভাবাও পাপ।
কথাটুকু বলে হাঁপিয়ে উঠে মেহরিমা। শান্ত মেজাজে থাকা তাজরিয়ান রণমুর্তি রুপ ধারণ করে। চারপাশে থাকা মানুষ জন আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে থাকে। গ্যাংস্টার তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরীর গায়ে হাত তোলার অপরাধে মেয়েটার কী হাল হবে সেটা ভেবে শিউরে উঠে সবাই।
তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাজরিয়ান কিছুই করে না৷ থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে কেবল। দলের ছেলেরা মেহরিমার দিকে তেড়ে যেতে নিলে হাতের ইশারায় থামিয়ে দেয়। মেহরিমা আর থেমে থাকে না। চঞ্চল পায়ে বেরিয়ে আসে। অথচ বেচারি বুঝেনি কী করে ফেলেছে সে!
শীততাপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে আছে প্রিমা। মাথায় চলছে অসংখ্য চিন্তা। মেহরিমার কল পেয়ে ছুটে গিয়েছিল ৷ তবে এতে বিশেষ কোনো লাভ হয়নি। ডক্টর স্পষ্ট গলায় বলেছেন,
–” অনেক উঁচু বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে পড়ায় মাথায় সাংঘাতিক রকমের আঘাত পেয়েছেন তিনি। স্কাল ফ্র্যাকচার হয়েছে। ইমিডিয়েটলি সার্জারি করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব টাকার ব্যবস্থা করুন নয়তো উনাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
প্রিমার মাথায় বাজ পড়ে রীতিমতো। সার্জারির জন্য বিশাল একটা এমাউন্ট দরকার। কিন্তু তার তো এত সেভিংস নেই উপরন্তু এত টাকা ধার দেওয়ার মতো কেউই নেই। উপয়ান্তর না পেয়ে সে ছুটে আসে নিজ অফিসে। যদি কোনো সাহায্য পাওয়া যায় সেই আশায়।
সিইওর রুমে বসে আনমনে এসবই ভাবছিল প্রিমা। বোনের চিন্তায় মস্তিষ্ক অকেজো হয়ে গেছে তার। সারাদিন দৌড়ে ক্লান্ত হ’য়ে পড়েছে তবে হাল ছাড়া যাবে না। ভাবনায় মশগুল প্রিমার ধ্যান ভাঙ্গে দরজা খোলার শব্দে। সে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায় তবে দরজার পানে তাকাতেই থমকে যায় তার দৃষ্টি।
দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে এমপি আরশিয়ান ইসফার চৌধুরী। বড্ড সুর্দশন গোছের পুরুষ তিন। তামাটে বর্ণের দীর্ঘদেহী এই পুরুষ কে দেখলে যে কেউ নায়ক আখ্যা দিতে বাধ্য।
প্রিমা বিস্ময়সূচক দৃষ্টিতে দেখছিল তাকে। বিস্মিত প্রিমা ভাবনায় মশগুল থাকার মাঝে শান এসে নিজের সিটে বসে। বিস্ময়াভিভূত প্রিমাকে উদ্দেশ্য করে শীতল কন্ঠে বলে,
–” মিস প্রিমা? ডু ইয়্যু ওয়ান্না সে সামথিং ?
প্রিমা হতবুদ্ধি হয়ে চেয়ে থাকে। আরশিয়ান বোধহয় টের পায় বিষয়টা। সে গলা খাঁকারি দিয়ে লো ভয়েসে বলে,
–” আমি ব্যস্ত কিছুটা। আপনি যদি কিছু বলতে চান তবে দ্রুত বলুন নয়তো ডেস্কে ফিরে অফিসের কাজগুলো কমপ্লিট করুন।
আরশিয়ানের কাট কাট কথা শুনে প্রিমা তড়িঘড়ি করে বলে উঠে,
–” ক্ কিছু জরুরি কথা ছিলো স্যার।
আরশিয়ান একটা ফাইল হাতে নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে বলল,
–” জ্বি বলুন?
প্রিমা জড়তা নিয়ে বসে। আমতা আমতা করে বলে,
–” আমার লোন দরকার…
বড্ড অস্বস্তি নিয়ে কথাটা বলল প্রিমা। আরশিয়ান ফাইলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে প্রশ্ন করল,
–” কয় ডিজিটের?
প্রিমা থামল। কীভাবে বলবে এত বড় এমাউন্টের কথা? সামান্য বেতনভুক্ত কর্মীর এত টাকা লোন চাওয়া আদৌ সমীচীন? কিন্তু এছাড়া তো উপায় নেই। ফারজানাকে বাঁচাতে হলে মাথা তো নোয়াতেই হবে। জিভ দ্বারা শুষ্ক ঠোঁটজোড়া ভিজিয়ে প্রিমা বলে উঠল,
–” পাঁচ লাখ টাকা..
এমাউন্ট শুনে ফট করে প্রিমার দিকে তাকালো আরশিয়ান। প্রিমা শঙ্কিত হয়ে দৃষ্টি নামিয়ে ফেললো। কাঁচুমাচু করে বলল,
–” আমি কাজ করে পুরো টাকাটা শোধ করে দিবো। আপনারা না-হয় প্রতি মাসের বেতন থেকে নির্দিষ্ট একটা এমাউন্ট কেটে নিয়েন। এমুহূর্তে আমার টাকার খুব দরকার। প্লিজ ..
প্রিমার কন্ঠে স্পষ্ট আকুতি। আরশিয়ান শীতল চোখে চেয়ে রাশভারি স্বরে বলল,
–” আপনার বেতন মাত্র পনেরো হাজার টাকা। এর মধ্যে পড়াশোনা, সংসার, বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত সহ আরও ব্যক্তিগত খরচ সামলে সেভিংস করা কঠিন। তবুও যদি সেভিংস করেন তবে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন হাজার টাকা বাঁচানো যাবে। অ্যাম আই রাইট?
প্রিমা প্রশ্নাত্মক চোখে চেয়ে বলল,
–” জ্ জ্বি।
আরশিয়ান টেবিলের উপর থাকা পেপার ওয়েট টা ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
–” মাসে তিন হাজার টাকা শোধ করলে পাঁচ লাখ টাকা আপনি কয় বছরে পরিশোধ করবেন মিস? আর আমার কোম্পানি কেনো বিনা প্রফিটে এত টাকা লোন দিবে?
প্রিমা চুপসে গেল। অসহায় চোখে চেয়ে রইল মেঝের দিকে। সত্যি তো। কেউ কেনো তাকে বিনা লাভে সাহায্য করবে? স্বার্থের দুনিয়ায় কে কার? কথাটা ভেবেই প্রিমার চোখের কার্ণিশে ব্যর্থতার অশ্রু জমে এবং উপচে পড়ে তার গাল বেয়ে। না চাইতেও মৃদু স্বরে ফুঁপিয়ে উঠে প্রিমা।
আরশিয়ান শান্ত চোখে পরখ করেছিল সবটা। বেচারি কে ভেঙে পড়তে দেখে আনমনে কিছু একটা ভাবে। এরপর খানিকটা সময় নিয়ে দৃঢ় গলায় বলে,
–” আমার কাছে একটা ডিল আছে। আপনি যদি রাজি থাকেন তবে আপনার বোনের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়ভার আমি নিবো।
প্রিমা চমকে উঠে আরশিয়ানের দিকে তাকায়। চোখ বড় বড় করে বলল,
–” কেমন ডিল?
আরশিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রিমার চোখে চোখ রাখে৷ নির্বিকার কন্ঠে বলল,
–” আমার সন্তান ধারণ করতে হবে আপনাকে। যদি রাজি থাকেন তবে আপনার বোনের চিকিৎসার খরচ বহন করতে রাজি আমি।
প্রিমা হতভম্ব চোখে তাকাল। অবাক হয়ে বলল,
–” অসম্ভব! কীসব বলছেন স্যার?
আরশিয়ান নির্লিপ্ত স্বরে বলল,
–” আমি আপনাকে জোর করছি না মিস প্রিমা। শুধুমাত্র অফার দিচ্ছি। আপনার দরকার টাকা আর আমার প্রয়োজন একটা সন্তান। আপনি যদি না চান তবে স্কিপ করতে পারেন ডিলটা। হাজার জন বসে আছে আমার অফার গ্রহণের জন্য।
প্রিমা থমকে যায়। অস্ফুটস্বরে বলে,
শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ১
–” কারও অবৈধ সন্তানের জননী হতে পারব না আমি..
আরশিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানায়,
–” আমাদের বিয়ে হবে দু’বছরের চুক্তিতে। আগত সন্তানটা বৈধ হবে। জন্মের পর ছয়মাস তাকে লালন পালন করবেন আপনি এরপর আপনার মুক্তি।
