Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৪

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৪

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৪
রুহানিয়া ইমরোজ

শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যা। কেবিন রুমের বারান্দার রেলিঙে হাত রেখে রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে প্রিমা। আরশিয়ান রুমে নেই। প্রায় ঘন্টা তিনেক আগে মিটিংয়ের জন্য বেরিয়েছে। যাওয়ার পূর্বে বলে গেছে,
–” অসুস্থ দেখাচ্ছে আপনাকে। আমি খাবার পাঠিয়ে দিবো। খেয়েদেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়েন। আমি মিটিং সেরে আসছি৷
প্রিমা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলে সংক্ষেপে বলেছিল,
–” আমি হসপিটালে যেতে চাই।
আরশিয়ান কথাটা অগ্রাহ্য করে শান্ত স্বরে বলে,

–” কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। কিছু জিনিস বোঝাতে হবে৷ দেনাপাওনার কিছু বিষয় আছে এরপর বিদায় পর্ব৷
কথাটা বলেই বেরিয়ে যায় আরশিয়ান। প্রিমা স্তব্ধ হয়ে ভাবছিল,
–” কী আদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে গেলো লোকটা? ”
প্রিমা অবুঝ নয়। ঢের বুঝেছে কথাটার মানে তবে অবচেতন মন কেনো যেনো বিশ্বাস করতে পারছে না সত্যটা। অসহায়ত্ব ঘিরে ধরেছে তাকে। ওপর পক্ষে আবার মস্তিষ্ক বলছে,

–” বোনের জীবন বাঁচাতে সম্মান বিকিয়েছ। এখন এসব নাটক করে লাভ আছে? সে তোমায় জোর করেনি বরং অপশন দিয়েছে। তুমি তাতে সেচ্ছায় রাজি হয়েছো। এখন এসব ভাবা অর্থহীন নয় ?
মন মস্তিষ্কের দ্বন্দ্বে প্রিমার সম্পূর্ণ রাগ গিয়ে পড়ে নিজের বাবার উপর। তীব্র শীত উপেক্ষা করে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় সে। শীতে কাঁপতে কাঁপতে আকাশের পানে চেয়ে অভিযোগের স্বরে বলে,
–” যে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলে তুমি সেই দেশের সো কল্ড নিয়ম আজ তোমার মেয়ের ইজ্জতভ্রষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। যে সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য শহীদ হয়েছিল তুমি সেই সিস্টেম আজও করাপ্টেড। তুমি অযথা এতিম করে চলে গেছো আমায়। এই দেশে অসহায়দের কোনো ঠাঁই নাই।
রাগ উঠলে মানুষ বোধবুদ্ধি হারায়৷ প্রিমারও হয়েছে সেই দশা। শরীর খারাপ লাগা সত্ত্বেও সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। ঠান্ডায় কাঁপুনি উঠে গেলেও দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রয় সেখানটায়৷

লম্বা মিটিং সেরে ক্লান্ত শরীরে কেবিন রুমে ফেরে আরশিয়ান। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখে রুম খালি। প্রিমা ওয়াশরুমে আছে ভেবে পরনে থাকা পরিচ্ছদ খুলে ফেলে। টিশার্ট নিতে কাবার্ড খুলবে এমন সময় বারান্দা থেকে উদ্ভট কিছু আওয়াজ কানে আসে তার। মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় আরশিয়ানের হাত জোড়া।
তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করতে থাকে চারপাশের অবস্থা। বারান্দায় কারও অস্পষ্ট ছায়া দেখতে পেয়ে আরও সতর্ক হয়ে যায় আরশিয়ান। কাবার্ডের লাস্ট ড্রয়ার খুলে স্টান গানটা হাতে তুলে নেয় অতঃপর নৈঃশব্দ পায়ে এগোতে থাকে বারান্দার দিকে।
বারান্দায় পা রাখতেই আরশিয়ান বোকাবনে যায়। সে মনে করেছিলো কেউ হয়তো এট্যাক করতে এসেছে অথচ এখানে তার সদ্য বিয়ে করা বউ শোক পালনে ব্যস্ত। আরশিয়ান লম্বা একটা শ্বাস ফেলে গলা খাঁকারি দেয়।
নিজ দুনিয়ায় ব্যস্ত প্রিমা তা টের পায় না। ওদিকে প্রিমাকে নিজের ধ্যানে মগ্ন থাকতে দেখে আরশিয়ান তার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। প্রিমা তখনও বেখেয়ালি। এ পর্যায়ে আরশিয়ানের ভ্রু কুঁচকে আসে। তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে সামান্য জোর গলায় বলে,

–” হ্যালো ওয়াইফি।
আকস্মিক কারও ডাকে চমকে যায় প্রিমা। ভয়ে আর্তনাদ করে উঠে বেচারি। আরশিয়ান প্রত্যুত্তর করে না। চুপচাপ রেলিঙে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে নিজের সদ্য বিবাহিতা বউয়ের ভয়ার্ত মুখশ্রী অবলোকন করতে থাকে।
শান্ত হতে কিছুটা সময় লাগে প্রিমার। অল্প সময়ের মাঝে নিজেকে সামলে নেয়। চোখ তুলে আরশিয়ান এর দিকে তাকাতেই লজ্জায় সিঁটিয়ে যায় বেচারি। কেননা আরশিয়ান এর শরীরে একটা ফর্মাল প্যান্ট ব্যতীত কিছুই নেই। সবটা বুঝেও আরশিয়ান কোনো ভদ্রতা দেখায় না। উল্টো প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে আরেকটু স্টাইল করে দাঁড়ায়। গা হীম করা কন্ঠে বলে,

–” কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিলো আপনার সাথে। শুরু করি?
প্রিমা ইতস্তত বোধ করে। ইতিউতি চেয়ে মিনমিনে স্বরে বলে,
–” জ্বী।
আরশিয়ান অপলকভাবে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রিমার পানে চেয়ে শীতল কন্ঠে বলে,
–” আম টকিং টু ইয়্যু মিসেস চৌধুরী। লুক এট মাই আইজ্।
আরশিয়ানের কন্ঠস্বরে অজানা এক কর্তৃত্ব ছিলো যা প্রিমাকে বাধ্য করে তার দিকে তাকাতে। লম্বায় প্রায় ছ’ফুট দু ইঞ্চি লম্বা আরশিয়ানের সামনে মাত্র পাঁচ ফিট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার প্রিমা নেহাতই বাচ্চা।
আরশিয়ান সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। এককেবারে জিম করা শক্তপোক্ত পেশিবহুল বডি তার। ওদিকে প্রিমা ছিপছিপে গড়নের এবং হাড্ডিসার দেহের অধিকারী আরশিয়ান সৌম্য সুদর্শন পুরুষ। প্রিমা হলদেটে ফর্সা বর্ণের। এই একটা দিক থেকে আরশিয়ানের চেয়ে কিছুটা আগিয়ে সে। তবে আরশিয়ান নিঃসন্দেহে সুপুরুষ। এই তামাটে বর্ণের রঙটাই তার ম্যানলি ভাইবটাকে কমপ্লিমেন্ট করে।
আরশিয়ানের পানে চেয়ে এসবই ভাবছিল প্রিমা। তাকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে দেখে মজার ছলে আরশিয়ান বলে উঠে ,

–” আপনার অপলক চাউনিতে আমি অস্বস্তিবোধ করছি মিসেস চৌধুরী।
কথাটা শুনে আবারও লজ্জা পেয়ে যায় প্রিমা। ফট করে চোখ নামিয়ে ফেলে। আমতা আমতা করে বলে,
–” আ..আপনার দিকে তাকায়নি আমি।
আরশিয়ান মনে মনে হাসল তবে টপিকটা আর বাড়াল না। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
–” কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ অবৈধ বিধায় বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারে কোনো শর্ত ইনক্লুড করিনি। ওটা আলাদা করে সাইন করতে হবে আপনাকে।
প্রিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

–” ঠিকাছে।
আরশিয়ান পুনরায় জলদগম্ভীর স্বরে বলল,
–” বিয়েটা গোপন থাকবে। আপনি এই বিষয়ে কাউকে জানাতে পারবেন না। এমনকি পাবলিক প্লেইসে কখনোই নিজেকে আমার ওয়াইফ দাবি করতে পারবেন না।
প্রিমা তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
–” এত জটিল ভাবে কেনো বোঝাচ্ছেন স্যার? সহজ করে বললেই তো হয়, আমি আপনার বৈধ রক্ষিতা। যাকে একান্তে ছুঁলে পাপ হয় না কিন্তু লোকসমক্ষে আনলে বেইজ্জতি হয়।
আরশিয়ান থমকায় ওমন রুঢ় কথা শুনে। কিছুটা মেজাজ খারাপও হয় তবে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সামলে নেয়। প্রিমার পানে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে,

–” আমি একজন এমপি। ক্ষমতা এবং টাকা দুটোই আছে আমার। আমি চাইলেই চব্বিশ ঘন্টায় চল্লিশটা মেয়ে নিয়ে ফূর্তি করতে পারি। তাদের গর্ভে জন্মানো সন্তানটা কিন্তু আমারই হবে। সমস্যাটা হলো ওসব আমার রুচির সাথে যায় না। আমি বৈধতা এবং পবিত্রতায় বিশ্বাসী। ডু ইয়্যু গেট দ্যাট?
কথাটুকু বলে সামান্য থামল আরশিয়ান। এরপর আবারও বলল,
–” লোকসমাজে পরিচয় দিতে না চাওয়ার রিজন হলো আপনার সেইফটি। যেখানে এত কড়া নিরাপত্তার মাঝে আমি ধরা পড়ে যায় শত্রুপক্ষের কাছে সেখানে আপনি তো চুনোপুঁটি। আমি নিশ্চয়ই চাইবো না যে আমার স্ত্রী সন্তান আমার পরিচয়ের জন্য মরণঘাতী বিপদে পড়ুক। ”
কথাগুলো শুনে চুপসে গেলো প্রিমা। বলার মতো কিছুই খুঁজে পেলো না। ফর্মালিটি মেইনটেইন করতে ক্লান্ত স্বরে বলল,

–” স্যরি..
আরশিয়ান টের পায় প্রিমার বিষন্নতা কিন্তু সে-তো নিরুপায়। তাই লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
–” ইট’স ওকে।
আরশিয়ানকে চুপ হয়ে যেতে দেখে প্রিমা আবারও রেলিঙে হাত রেখে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও এই ইগনোরেন্স সহ্য হয় না আরশিয়ানের। উপরন্তু প্রিমার চোখমুখে অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট।
আরশিয়ান বেশ ভালোমতো বুঝলো এই মেয়ে যখন তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে।এইটুকু বয়সে এত লোড মাথায় নিলে এমন তো হবেই। বেচারি বড্ড হতাশায় ভুগছে। কিছু একটা ভেবে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে প্রিমার পেছনে দাঁড়াল সে।
এতটাই ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়াল যে আরশিয়ানের উন্মুক্ত শরীরের সাথে মিশে রইল তার পৃষ্ঠদেশ। হুট করে একজন পুরুষের বাহুবন্ধনীতে আবদ্ধ হওয়ায় প্রিমা অস্বস্তিতে গুটিয়ে যায়। আরশিয়ান বুঝেও থামে না। বেলকনির রেলিঙের উপর থাকা প্রিমার কম্পনরত হাতের আঙ্গুলের ভাঁজে নিজের হাত ডুবিয়ে দিয়ে নরম গলায় জিজ্ঞেস করে,

–” আর ইয়্যু ওকে?
প্রিমা শিউরে উঠে তার এমন কান্ডে। মস্তিষ্ক ব্ল্যাংক হয়ে যায় তার। অস্বস্তি লাগলেও অকারণে কিছুটা রিল্যাক্স ফিল হয়। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না সেটা। প্রিমার সুদীর্ঘ কালো চুলগুলো একপাশে সরিয়ে তার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে শীতল কন্ঠে আরশিয়ান শুধায়,
–” ফিলিং বেটার নাও?
প্রিমা কী বলবে বুঝে উঠতে পারে না। ভয় মিশ্রিত লজ্জা ঘিরে ধরে তাকে। ওদিকে প্রিমার শরীরের মিষ্টি সুবাসে অজান্তেই মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আরশিয়ান। ঘোরের মাঝে প্রিমার গলায় মুখ ডুবিয়ে আলতো করে চুমু খায় এরপর হাস্কি স্বরে বলে,

–” দীর্ঘ অপেক্ষার ফল এতটা সুমিষ্ট হয় বুঝি?
প্রিমা শুনেনি তার বলা একটা শব্দও। তীব্র শীত এবং শিহরণে কাঁপতে থাকে বেচারি। প্রিমার অবস্থা দেখে কিছুটা সরে আসে আরশিয়ান। প্রিমার রক্তাভ মুখশ্রীর দিকে তাকাতেই দেখে তার কোমল ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাঁপছে।
দৃশ্যটা এতটাই লোভনীয় যে আরশিয়ান এক মুহূর্তের জন্য হুঁশ হারিয়ে ফেলে। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে প্রিমার কম্পনরত ঠোঁটের দিকে। তা দেখে চট করে ঠোঁট লুকিয়ে ফেলে প্রিমা।
আরশিয়ান নিঃশব্দে হেসে উঠে তার বাচ্চামিতে। আদুরে শাস্তিস্বরূপ প্রিমার ফর্সাটে নরম গলায় পুনরায় আলতো করে একটা দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,

–” অভ্যস্ত হতে শিখুন। মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় পাবেন না আপনি। খুব শীঘ্রই আপনার সর্বাঙ্গ জুড়ে আমার আধিপত্যের বিস্তার ঘটবে।
প্রিমা তখন পুরোপুরি আউট অব মাইন্ড। আকস্মিক এত গভীর স্পর্শের রেশ সামলাতে পারেনি।তার মনে হলো এক্ষুনি জ্ঞান হারাবে সে। তবুও আরশিয়ানের হাত খামচে ধরে কোনোমতে কাঁপা কন্ঠে বলল,
–” এ.. স্ সপ্তাহটা ছাড় দেওয়া যায় না?
আরশিয়ান জেনে বুঝে আরেকটু ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। বলিষ্ঠ হাতের চাপে প্রিমার নির্মেদ কোমর জড়িয়ে ধরে। ওদিকে বেচারি আবারও শিউরে উঠে স্বামীর এমন ছোঁয়ায়। প্রিমাকে ছটফটাতে দেখে আরশিয়ান লো ভয়েসে শুধায়,
–” এসপ্তাহটা ছাড় দিলে আমার ছোঁয়ায় কম্ফোর্টনেস খুঁজে পাবেন? সান্নিধ্যে আসলে সেইফ ফিল হবে? যখন একটু একটু করে আপনাকে সম্পূর্ণ নিজের করে নিবো তখন আপনার মায়াবী চেহারায় প্রশান্তির ছাপ থাকবে?
প্রিমা শুনলো কি-না কে জানে। আরশিয়ানের কথার ফাঁকেই শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে নেতিয়ে পড়ল সে। আরশিয়ান এক হাতে আগলে নিলো তার পাখির ন্যায় হালকা শরীরটা।প্রিমার চেতনাশূন্য মুখের পানে চেয়ে থেকে মলিন স্বরে বলল,

–” বাস্তবতা হয়ে ধরা দেওয়ার জন্য শুকরিয়া প্রেম। আমি জানি এই সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী। তবে স্মৃতিরা তো চিরঞ্জীবী। আপনি যখন মুখ ফিরিয়ে নিবেন তখন এসবই তো হবে আমার একমাত্র সঙ্গী।
কথাটুকু বলে মলিন হাসে আরশিয়ান। দেরি না করে প্রিমাকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে আসে অতঃপর তাকে নরম ফোমের বিছানায় শুইয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার ফলে প্রিমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। তাই এসিটা বন্ধ করে ভারী একটা কম্ফোর্টার টেনে দেয় আরশিয়ান। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে রাত নয়টা বাজে।
সাড়ে নয়টায় তার আরেকটা মিটিং আছে। তবুও প্রিমার পাশ ঘেঁষে শোয়ার লোভটা সামলাতে পারে না আরশিয়ান। ফোন করে ম্যানেজারকে বলে,

–” আজকের সমস্ত মিটিং ক্যানসেল করে দাও আবির্ভাব।অফিসে সিকিউরিটি বাড়াও। আজকের রাতটা আমি এখানেই থাকব আমি। মেইক শিওর কোনোরকম কোনো ডিস্টার্বেন্স যেনো ক্রিয়েট না হয়।
ফোনের ওপাশ থেকে সম্মতি সূচক উত্তর এলো। আরশিয়ান আরও ঘন্টাখানেক নানান কাজের ব্রিফ দিয়ে কল রাখল। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো। প্রায় ঘন্টাখানেক সময় নিয়ে
সব কাজ গুছিয়ে ক্লান্ত শরীর টেনে বিছানায় আসে শান। উন্মুক্ত শরীরেই কম্ফোর্টারের ভেতর ঢোকে এরপর প্রিমার বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। লম্বা একটা শ্বাস টেনে সুবাসটা ইনহেল করে অস্পষ্ট কন্ঠে বলে,

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৩

–” দিলাম সময় আপনাকে। তন্মধ্যে গুছিয়ে নিয়েন নিজেকে। বিগত সাতটা বছর যাবত আমি তৃষ্ণার্ত প্রেম। দিনক্ষণ কাল যত দীর্ঘ করবেন আপনাকে ততটাই পাগলামি সইতে হবে। দায়ভার কিন্তু আমি নিবো না..

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৫