শেহেজাদার আদর পর্ব ৬১
সুমাইয়া ইসলাম নূর
মেহেদির অনুষ্ঠানের পুরো পরিবেশটা তখন হাসি-আনন্দে মুখর।রঙিন আলো, ফুলের সুবাস, ডিজের মৃদু সুর আর চারপাশে অতিথিদের কোলাহলে ছাদের প্রতিটি কোণ যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই সবার দৃষ্টি আটকে গেল এক দৃশ্যে।পিয়াসা আর নিজেকে সামলাতে পারল না।দৌড়ে গিয়ে শক্ত করে ইউভিকে জড়িয়ে ধরল।হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল ভাইয়া… আমি জানতাম তুমি আমার কথা রাখবেই।আমি জানতাম আমার ভাই আমাকে কখনো কষ্টে থাকতে দেবে না।আমি… আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম ভাইয়া।আই এম সরি…
আমাকে মাফ করে দাও।ইউভি কিছু বলল না।
শুধু এক হাত দিয়ে বোনের মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল।তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল প্রশান্তির এক টুকরো হাসি।
দূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু নিঃশব্দে দেখছিল রেদোয়ান।
মুহূর্তের জন্য তার বুকের ভেতরটা হালকা হয়ে গেল।চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু লুকিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এল সে।ঠিক তখনই পেছন থেকে রাশেদ মির্জা এসে আলতো করে তার কাঁধে হাত রাখলেন। যাও…
আর দেরি করো না।রেদোয়ান যেন হঠাৎ বাস্তবে ফিরে এলো।ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেল।
আজ তাকে দেখে সবাই অবাক কালো শার্টটা ধুলো আর ময়লায় ভরে গেছে।হাতার বোতাম গুলো।খোলা।চুলগুলো সম্পূর্ণ এলোমেলো।চোখের নিচে স্পষ্ট কালচে দাগ।মুখভর্তি অগোছালো খোচা খোচ দাড়ি।চোখেমুখে ক্লান্তি আর নির্ঘুম রাতের ছাপ।
দেখলেই বোঝা যাচ্ছে কতদিন ঠিকমতো ঘুমায়নি।
ঠিকমতো খায়নি।ধীরে ধীরে পিয়াসার সামনে এসে দাঁড়াল সে।দুই হাত দিয়ে আলতো করে পিয়াসার মুখটা ধরে কাঁপা গলায় বলল, তুই তো মাত্র জানলি আমার সাথেই তোর বিয়ে তাহলে বল কার জন্য এত সুন্দর করে সেজেছিস?হ্যাঁ?বল!
হঠাৎই রেদোয়ান চিৎকার করে বললো
জানিস এই চারটা দিন আমার কীভাবে কেটেছে?
একটুকরো খাবারও মুখে দিতে পারিনি।ঘুমাতে পারিনি।সারাক্ষণ শুধু একটাই চিন্তা আমার পিহুকে হারিয়ে ফেলব না তো?আর তুই তুই দিব্যি মেহেদির সাজে সেজে বসে আছিস?বাহ…
খুব ভালো।কথাগুলো শুনেই পিয়াসা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।ঝাঁপিয়ে পড়লো তার উপর রেদোয়ানকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।কিন্তু রেদোয়ান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
সে একবারও পিয়াসাকে জড়িয়ে ধরল না।
কয়েক মুহূর্ত কেটে গেল।অবশেষে বুকের সব অভিমান ভেঙে গেল তার।দুই হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল নিজের পিহুকে।কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল, তুই শুধু আমার শুধু আমারই বুঝলি, পিহু।আমি ছাড়া অন্য কারও বউ সাজার অধিকার তোর নেই।এবার কান্না বন্ধ কর।
বিয়ে আমার সাথেই হবে।
তবে অন্য কারও জন্য মেহেদির সাজে সেজেছিস…
এর শাস্তি কিন্তু তোকে পেতেই হবে।দূরে দাঁড়িয়ে ইউভি দুই পাগলের এই ভালোবাসা দেখে মুচকি হেসে ফেলল।নুসরাত চৌধুরী চোখের জল মুছতে মুছতে রাতিব চৌধুরীকে বললেন, দেখেছো…
আমার ছেলেটা এই চারটা দিনে কতটা কষ্ট পেয়েছে?রাতিব চৌধুরী স্ত্রীর হাতটা ধরে শান্ত গলায় বললেন, কষ্টের পরেই তো সুখ আসে, নুসরাত।যে জিনিস একটু কষ্ট করে পাওয়া যায়…
সেই জিনিসের মূল্য আর মায়া দুটোই অনেক বেশি হয়।তারপর ধীরে বললেন যাও ওকে একটু খাইয়ে দাও।নুসরাত চৌধুরী নিজের হাতে এক প্লেট খাবার নিয়ে রেদোয়ানের কাছে এগিয়ে গেলেন।কিন্তু রেদোয়ান মাথা নেড়ে চিৎকার করে উঠল, প্লিজ মা এগুলো সরিয়ে নাও।আমার কিছু লাগবে না।
এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে সোজা নিজের রুমের দিকে চলে গেল সে।তার চলে যাওয়া দেখে পুরো পরিবেশটাই আবার ভারী হয়ে উঠল সবাই বুঝতে পারল রেদোয়ান সত্যিই খুব কষ্ট পেয়েছে।
কিছুক্ষণ পর ইউভি নিজের হাতে এক প্লেট খাবার এনে ইনায়ার হাতে দিল।আদর…তুমি গেলে ও না বলতে পারবে না।নিজের হাতে ভাইটাকে খাইয়ে দিয়ে আসো।আর হ্যাঁ ওকে রেডি করেও নিয়ে এসো।ইনায়া কয়েক সেকেন্ড শুধু ইউভির দিকে তাকিয়ে রইল।মনে মনে ভাবল একটা মানুষ এতটা পারফেক্ট হয় কীভাবে?”হালকা হেসে খাবারের প্লেটটা নিয়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটল।অন্যদিকে তিয়া রাগে নিজের চুল নিজেই মুঠো করে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।চোখ দুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে মনে মনে বলতে লাগল, আমি কী ভেবেছিলাম আর কী হয়ে গেল!এখন আমি বাপিকে কী বলব?
না…এভাবে কিছুতেই শেষ হতে দেব না।যেভাবেই হোক…এই সুখ আমি টিকতে দেব না।
ওদিকে…
ইনায়া প্লেট হাতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে বিপদে পড়ল।ভারী লেহেঙ্গা তার ওপর হিল এক হাতে খাবারের প্লেট।এক পা-ও ঠিকমতো ফেলা যাচ্ছে না।বিরক্ত হয়ে কখনো লেহেঙ্গা ঠিক করছে…
কখনো উড়ে আসা চুল মুখ থেকে সরাচ্ছে।ঠিক তখনই পেছনে তাকিয়ে দেখে ইউভি দুই হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে সব দেখছে।ইনায়া কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল, এই জুতা পরে আমি একদমই হাঁটতে পারছি না।ইউভি এক মুহূর্তও দেরি করল না।
ধীরে ধীরে সামনে এসে প্রথমে ইনায়ার ওড়নাটা সুন্দর করে ঠিক করে দিল।তারপর লেহেঙ্গার সামনের অংশ আলতো করে গুছিয়ে তার হাতে ধরিয়ে দিল।অন্য হাতে খাবারের প্লেটটা ঠিক করে দিল।ইনায়া খিলখিল করে হেসে বলল, এবার ঠিক আছে কিন্তু জুতা?
ইউভি নিচু হয়ে নিজ হাতে ইনায়ার পা থেকে জুতাজোড়া খুলে নিল।হাতের ইশারায় বলল,
তুমি সামনে যাও আমি আসছি।ইনায়া মিষ্টি হেসে খালি পায়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগল।আর তার ঠিক পেছনে এক হাতে নিজের বউয়ের জুতা অন্য হাত পকেটে ঢুকিয়ে ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসি নিয়ে ধীর পায়ে হাঁটছে ইউভি। দুজনকে দেখে দূর থেকে উপস্থিত সবাই শুধু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।এ যেন ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে নীরবপ্রকাশ।
দরজাটা আলতো করে ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই ইনায়ার বুকটা কেঁপে উঠল।
রুমের ভেতর অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা।
বিছানার পাশে মেঝেতে হেলান দিয়ে বসে আছে রেদোয়ান। এলোমেলো ভেজা-শুষ্ক চুল, চোখের নিচে গভীর কালি, মুখভর্তি ক্লান্তির ছাপ। কালো শার্টটা ধুলোময়লায় মলিন হয়ে গেছে। ইনায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে হাতে থাকা খাবারের প্লেটটা টেবিলের ওপর রাখল।তারপর নিঃশব্দে ভাইয়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।খুব আলতো করে রেদোয়ানের চুলে হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল,
সরি, ভাইয়া তোমাকে একটু বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।আমরা শুধু তোমাকে আর বেবিকে একটা সুন্দর সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।
রেদোয়ান ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল।
চোখদুটো এখনও লাল হয়ে আছে
মৃদু স্বরে বলল গায়ে অনেক ময়লা, বোনু আমাকে ধরিস না।কথাটা শুনেই ইনায়ার বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠল।এক সেকেন্ডও দেরি না করে সে ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।চোখ ভিজে উঠল তার।
কাঁপা কণ্ঠে বলল,ভাইয়া। তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র মানুষ গুলোর মধ্যে একজন তোমার গায়ে ধুলো থাকুক, কাদা থাকুক, র*ক্ত থাকুক আমার কোনো সমস্যা নেই। ছোটবেলা থেকে তো তোমার বুকেই মাথা রেখে বড় হয়েছি।
আজ কী করে তোমাকে ছুঁতে ভয় পাবো রেদোয়ানের চোখের কোণও ভিজে উঠল।
সে ধীরে ধীরে বোনের মাথায় হাত রেখে বলল,
পাগলি একটা ইনায়া একটু হেসে চোখ মুছে বলল,
এখন ওঠো। আগে ফ্রেশ হয়ে আসো আমি খাবার এনেছি। আজ আমার হাতেই খেতে হবে।রেদোয়ান হালকা হেসে জিজ্ঞেস করলো বোনু বল তো পুরো প্ল্যানটাই কী ভাইয়ার ছিল?
ইনায়া দুষ্টু হেসে একটু দূরে সরে দাঁড়াল।
হ্যাঁ। ইউভি ভাইয়া অনেক আগেই জেনে গিয়েছিল তোমার আর বেবির সম্পর্কের কথা। এই বিয়ের প্রতিটা আয়োজন প্রতিটা সারপ্রাইজ সবই উনার প্ল্যান। সবাইকে আগে থেকেই বলে রেখেছিল।
শুধু তুমি, বেবি আর তিয়াকে কিছু জানতে দেয়নি।
কথাগুলো শুনে রেদোয়ানের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
খুব আস্তে বলল ভাইয়া তুমি ও।
ইনায়া হেসে বলল, এখন এসব পরে হবে।
আগে গোসল তারপর খাবার খাবে তারপর তোমাকে একদম রাজপুত্র বানিয়ে ছাদে নিয়ে যাব।
রেদোয়ান আর কিছু না বলে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসতেই দরজায় কড়া নাড়ল একজন ফ্যাশন ডিজাইনার।
তার হাতে গাঢ় সবুজ রঙের রাজকীয় শেরওয়ানি।
সম্মানের সঙ্গে বলল, স্যার এটা আপনার জন্য।
ডিজাইনার চলে যেতেই ইনায়া শেরওয়ানিটা হাতে নিয়ে মুগ্ধ হয়ে বলল,
উফ!একদম ইউভি ভাইয়ারটার মতো!রেদোয়ান অবাক হয়ে বলল, একই রকম?ইনায়া মাথা নেড়ে হাসল। হুম।বাবা নাকি বলেছেন আজ দুই ভাইকে দেখতে হবে একদম একই রকম।
ইনায়া নিজের হাতে খুব যত্ন করে রেদোয়ানের শেরওয়ানির বোতাম লাগিয়ে দিল।কলারটা ঠিক করে দিল।চুলগুলো আঙুল দিয়ে সুন্দর করে আঁচড়ে দিল।তারপর একটু দূরে গিয়ে দু’হাত কোমড়ে রেখে মাথা কাত করে বলল,
—মা শা আল্লাহ! আমার ভাইয়াকে একদম সিনেমার হিরোর মতো লাগছে।রেদোয়ান মুচকি হেসে বলল, সত্যি?ইনায়া ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
সত্যি না মিথ্যা, সেটা বেবিকে জিজ্ঞেস করলেই বুঝবে।দুজনেই হেসে উঠল।তারপর ইনায়া খাবারের প্লেটটা নিয়ে এসে নিজের হাতে ভাত তুলে ধরল।
— মুখ খোলো।রেদোয়ান বাধ্য ছেলের মতো মুখ খুলল।খেতে খেতে সে বারবার নিজের ছোট্ট বোনটার দিকে তাকাচ্ছিল।
হঠাৎ খুব আস্তে বলল, বোনু ভাইয়া কি ইউভি ভাইয়া আমার ওপর রেগে আছে?ইনায়া হালকা হেসে মাথা নাড়ল। একদম না। তুমি জানো এই চার দিনে সবচেয়ে বেশি কষ্ট যদি কেউ পেয়ে থাকে তাহলে সে ইউভি ভাইয়াই। শুধু কাউকে বুঝতে দেয়নি।
রেদোয়ানের চোখ ভিজে উঠল।
সে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ইনায়ার মাথায় হাত রেখে বলল, আল্লাহ তোকে সবসময় এমনই হাসিখুশি রাখুক, বোনু।ইনায়া মুচকি হেসে ভাইয়ের কাঁধে মাথা রাখল
বেশকিছু সময় পর সিঁড়ির দিক থেকে ধীরে ধীরে উপরে উঠে এলো ইনায়া।তার পাশে হাঁটছে রেদোয়ান।গাঢ় সবুজ রঙের রাজকীয় শেরওয়ানিতে তাকে আজ একেবারে রাজপুত্রের মতো লাগছে। কিছুক্ষণ আগের সেই এলোমেলো, ভেঙে পড়া ছেলেটার জায়গায় এখন দাঁড়িয়ে আছে এক আত্মবিশ্বাসী, সুদর্শন যুবক।ওদের দুজনকে একসাথে দেখেই পুরো ছাদের সবাই যেন আনন্দে ফেটে পড়ল।
আলভি ( রেদোয়ান এর বন্ধু) সবার আগে চিৎকার করে উঠল, আমাদের জামাই চলে এসেছে!
সঙ্গে সঙ্গে অর্ক, আদিল, (ইউভির বন্ধু)রাজ্য, সাম্মি, রানি, আয়াত, আতিকা, রিদ—সবাই একসাথে হাততালি দিয়ে উঠল। জামাই এসেছে… জামাই এসেছে!চারদিকে হাসির রোল পড়ে গেল।রাশেদ মির্জা হেসে বললেন, এই তো আমাদের নায়ক!
লিখন চৌধুরী আর রাতিব চৌধুরীও মুচকি হেসে একে অপরের দিকে তাকালেন।নুসরাত চৌধুরীর খুশিতে চোখ ভিজে উঠল ছেলেকে আবার হাসতে দেখে।ইনায়ার বুকটাও হালকা হয়ে গেল।সে মনে মনে বলল আলহামদুলিল্লাহ… অবশেষে আমার ভাইটা একটু হলেও হাসছে।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার চোখ কাউকে খুঁজতে লাগল।ইউভি পুরো ছাদ একবার চোখ বুলিয়ে দেখল।স্টেজের পাশে নেই।অতিথিদের মাঝেও নেই।বাবাদের আড্ডাতেও নেই।বন্ধুদের সঙ্গেও নেই।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে চারপাশে তাকিয়ে মনে মনে বলল, মানুষটা আবার কোথায় গেল?এদিকে রেদোয়ান একবারও পিয়াসার দিকে তাকাল না।সোজা হেঁটে চলে গেল নিজের বন্ধুদের কাছে।আলভি, অর্ক, আদিল আর রাজ্য একসাথে তাকে জড়িয়ে ধরল।
দূর থেকে সবকিছু দেখছিল পিয়াসা।
তার বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।
একবার…শুধু একবার যদি রেদোয়ান তার দিকে তাকাত!কিন্তু না রেদোয়ান যেন তাকে দেখেও দেখল না।পিয়াসা মাথা নিচু করে ফেলল।মনে মনে ভাবল,এখনও কি আমার ওপর রাগ করে আছে?”
রেশমা চৌধুরী পরিবেশটা আবার প্রাণবন্ত করে বললেন আচ্ছা, সবাই আবার নিজের নিজের জায়গায় বসো। মেহেদির কাজ এখনও শেষ হয়নি।
সবাই আবার নিজেদের জায়গায় বসে পড়ল।
মেহেদি আর্টিস্টরাও নতুন করে কাজ শুরু করলেন।
হাসি, গল্প, ঠাট্টায় আবার জমে উঠল পুরো অনুষ্ঠান।
কিছুক্ষণ পর…
একটানা বসে থাকতে থাকতে তুবার আর ভালো লাগছিল না।সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
নিজের হাতের মেহেদিটা সাবধানে সামলে নিচে নেমে এল।মনে মনে ভাবল, একটু হাঁটাহাঁটি করে আবার উপরে চলে যাব।চারপাশে কেউ নেই।
ভিলার নিচতলাটা তুলনামূলক নিরিবিলি।তুবা অন্যমনস্ক হয়ে করিডোর দিয়ে হাঁটছিল।
হঠাৎ…
একটা শক্ত, উষ্ণ পুরুষালি হাত তার কব্জি শক্ত করে ধরে ফেলল।কিছু বোঝার আগেই প্রচণ্ড টানে তাকে পাশের একটা রুমের ভেতরে নিয়ে গেল।
তুবা ভয় পেয়ে চিৎকার করতে যাবে।ঠিক তখনই…
আরেকটা হাত আলতো করে তার মুখ চেপে ধরল।
ভয়ার্ত চোখে তাকাতেই পরিচিত কণ্ঠটা কানে ভেসে এলো। শশশ…
আমি, পিচ্চি। ভয় পেয়ো না আমি রাজ্য।
তুবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
তারপর রাজ্যের হাতটা মুখ থেকে সরিয়ে বিরক্ত গলায় বলল, এইভাবে কেউ ভয় দেখায়?
রাজ্য একদম নির্বিকার।ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলল, হুম চলো না বিয়ে করে ফেলি।
তুবা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— কী?
রাজ্য নাটকীয় ভঙ্গিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— হ্যাঁ সবাই বিয়ে করছে সবাই বাসর করছে শুধু আমি আর আমার বউটাই বাকি।তুবা অবাক হয়ে বলল, আপনার বউ কে?রাজ্য গম্ভীর মুখে বলল,
যাকে আমি বিয়ে করব সে-ই আমার বউ।
আর সে হচ্ছে। আমার পিচ্চি।
তুবার লজ্জাই গাল লাল হয়ে উঠল।মাথা নিচু করে মুচকি হেসে বললো আমার সামনে ফার্স্ট সেমিস্টারের পরীক্ষা। এখন আমাকে শুধু পড়াশোনায় মন দিতে হবে। জেনারেল থেকে প্রাইভেটে ভর্তি হয়েছি। ডাক্তার হওয়া এত সহজ না, বুঝলেন?রাজ্য আরও একটু কাছে এগিয়ে এল।
ফিসফিস করে বলল, বিয়ে করে ফেলি না…
তারপর আমি নিজেই তোমার সব পড়া দেখিয়ে দেব। বিশেষ করে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি…
সব। আমার একা একা একদম ভালো লাগে না, পিচ্চি। মা, বাবা, বোনকে ছেড়ে একা একটা ফ্ল্যাটে থাকি। বুঝো… জীবনটা কতটা বিরক্তিকর।
তুবা এবার হেসে ফেলল।খুব নরম গলায় বলল,
আর একটু অপেক্ষা করুন।সব ঠিক সময়েই হবে।
রাজ্য ধীরে ধীরে আরও কাছে এল।এতটাই কাছে…
যে দুজনেই একে অপরের উষ্ণ নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারছে।রাজ্য নিচু স্বরে বলল,
— পিচ্চি…
কাল আমার আব্বু-আম্মুও আসবে।তোমার মা-বাবাও আছেন। আজই কথা বলি না?
প্লিজ না বলো না।
তুবা কিছু বলতে যাবে…
হঠাৎ খেয়াল করল রাজ্যের চোখ-মুখের অভিব্যক্তি বদলে যাচ্ছে।সে উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,কী হয়েছে?
এমন লাগছে কেন আপনাকে ?কোনো উত্তর না দিয়ে রাজ্য হঠাৎ তুবাকে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরল।অনেকক্ষণ চুপচাপ এভাবেই দাঁড়িয়ে রইল।তারপর ধীরে ধীরে তুবার কপালে একটা চুমু এঁকে ফিসফিস করে বলল, যতটা পারো। আমার থেকে একটু দূরে থেকো। আমি কিন্তু আর নিজেকে সামলাতে পারব না। খুব তাড়াতাড়িই তোমাকে বিয়ে করে ফেলব।তুবা ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল, আমি তো দূরেই ছিলাম।আপনিই তো আমাকে টেনে কাছে আনলেন।রাজ্য হেসে ফেলল।
আচ্ছা আমার পিচ্চি মেহেদি পরেছ?তুবা ছোট্ট বাচ্চাদের মতো উচ্ছ্বাস নিয়ে দুটো হাত সামনে বাড়িয়ে দিল। এই যে দেখুন।রাজ্য মুগ্ধ হয়ে দুটো হাত নিজের হাতে তুলে নিল।একটার পর একটা হাতের পিঠে আলতো চুমু এঁকে বলল,
খুব সুন্দর হয়েছে।
তারপর ধীরে ধীরে মুখটা তুবার আরও কাছে নিয়ে গিয়ে কপালে মুখে ঠোঁটে আলতো ভালোবাসার স্পর্শ রেখে মুচকি হেসে বলল
— চলো সবাই খুঁজতে শুরু করার আগেই উপরে যাই।দুজন পাশাপাশি রুম থেকে বেরিয়ে ছাদের দিকে হাঁটতে লাগল।
ঠিক সেই সময় ইনায়া ইউভিকে খুঁজতে খুঁজতে নিচে নেমে এল।হঠাৎ করিডোরে রাজ্য আর তুবাকে একসাথে রুম থেকে বের হতে দেখে থেমে গেল।
দুজনের মুখের লাজুক হাসি দেখে নিজের অজান্তেই ইনায়ার ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে বলল, বাহ.. অন্যের ভালোবাসা দেখতে যে এত ভালো লাগে আগে জানতাম না।
মুচকি হেসে আবার ইউভিকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ল সে।খুঁজতে খুঁজতে একসময় বাগানে এসে দাঁড়াল।
দূরের সাদা কাঠের দোলনায় বসে আছে ইউভি।
সামনে খোলা ল্যাপটপ।এক মনে অফিসের কাজ করছে।মনে হচ্ছে চারপাশের কোলাহল যেন তার কানে পৌঁছাচ্ছেই না।ইনায়া ধীরে ধীরে গিয়ে ওর পাশে বসল।
মিষ্টি গলায় ডাক দিল এই যে… মিস্টারইউভি কোনো উত্তর দিল না।চোখ এখনও ল্যাপটপেই।
ইনায়া চুপচাপ বসে রইল।
বেশ কিছু সময় পর ইউভি এখনও কাজে ব্যস্ত।
অভিমানী মুখ করে ইনায়া উঠে চলে যেতে নিল।
ঠিক তখনই হঠাৎ ইউভি ওর হাত ধরে জোরে টান দিল।এক নিমিষে ইনায়া গিয়ে পড়ল ইউভির কোলের ওপর।ইউভি আরও কয়েক সেকেন্ড কাজ শেষ করে ল্যাপটপ বন্ধ করল।তারপর মুচকি হেসে বলল, এখন বলো, বউ মিটিংয়ে ছিলাম।
বাড়ির এত শব্দের মধ্যে কথা বলা যাচ্ছিল না।
তাই এখানে এসে বসেছিলাম।ইনায়া দুহাত দিয়ে ইউভির গলা জড়িয়ে ধরল।তারপর নিজের দুই হাত সামনে এনে বলল হাতে আপনার নাম লিখেছি সুন্দর হয়েছে না কি হলো দেখবেন না?
ইউভি হাতের দিকে না তাকিয়েই বলল,
সুন্দর…খুব সুন্দর…ভীষণ সুন্দর মারাত্মক সুন্দর।
ইনায়া ঠোঁট ফুলিয়ে বলল, আমার মুখে না…
হাতের দিকে তাকান।ইউভি চোখ না সরিয়েই আলতো করে ইনায়ার কোমরে হাত রাখল।
আঙুলগুলো অন্যমনস্কভাবে চলতে লাগলো
ইউভি নরম গলায় বলল, আদর…
তুমি একটুও ভয় পাচ্চো না?
একটা ছেলের এতটা কাছে বসে আছো।
ইনায়া কাঁপা কণ্ঠে বলল, আপনি তো আমার স্বামী।
আপনার কাছে আমার কিসের ভয়?ইউভির চোখ নরম হয়ে গেল।সে ধীরে ধীরে মুখ গুঁজে দিল ইনায়ার ঘাড়ে।গভীর শ্বাস নিয়ে পরিচিত সেই মিষ্টি ঘ্রাণ অনুভব করল।খুব নিচু স্বরে বলল,
ভয় পাওয়ার মতো কাজ কখনও করিনি। তাই ভয় পাও না। তবে এই মানুষটা কিন্তু অতটাও ভালো মানুষ না, আদর।এখানে না এলে হতো না ?
ইনায়া হালকা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
— না অনেক মিস করছিলাম আপনাকে।
সবাই কত আনন্দ করছে শুধু আপনিই নেই।
চলুন না সবাই অপেক্ষা করছে। আর একটু থাকো না বউ ইউভির কথায় ইনায়া আর কোনো উত্তর দিল না।শুধু নিঃশব্দে আরও একটু সরে এসে ইউভির বুকের ভেতর মুখ গুঁজে দিল।ইউভি মুচকি হেসে আলতো করে তার বিয়াদোব বউ টার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল
এরই মধ্যে ছাদে আবার একে একে সবাই জড়ো হতে শুরু করেছে।রঙিন আলোর ঝলকানিতে পুরো ছাদটা যেন স্বপ্নের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
ডিজের হালকা সুরের সঙ্গে অতিথিদের হাসি, গল্প আর আনন্দে চারপাশ মুখর হয়ে উঠেছে।
মেহেদি আর্টিস্ট শেষবারের মতো সবার হাতে ডিজাইন সম্পূর্ণ করছে।ছোট ছোট বাচ্চারা দৌড়ে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যাচ্ছে।আয়াত, আতিকা, রিদ, সাম্মি, রানি—সবাই মিলে একসাথে হইচই করছে।একপাশে বড়রা গল্পে মেতে উঠেছেন।
অন্যপাশে তরুণ-তরুণীরা ছবি তুলতে ব্যস্ত।
মুহূর্তের মধ্যেই পুরো মেহেদির অনুষ্ঠানটা আনন্দ আর হাসিতে ভরে উঠল।ধীরে ধীরে সবার হাতের মেহেদি শেষ হলো।রাতও অনেক গভীর হয়ে এসেছে।তখন লিখন চৌধুরী উঠে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশে মৃদু হেসে বললেন, আজকের মতো সবাই বিশ্রাম নাও। কাল সকাল থেকেই গায়ে হলুদের আয়োজন শুরু হবে। আর আগামীকাল রাতেই হবে জমজমাট হলুদের অনুষ্ঠান।তিনি একটু থেমে পিয়াসা আর রেদোয়ানের দিকে তাকালেন।
আজ আর কোনো নাচ-গানের অনুষ্ঠান রাখা হলো না। ওদের দুজনের মানসিক অবস্থাও ভালো না।— কাল সবাই মিলে আনন্দ
এরপর আত্মীয়-স্বজনদের তাদের জন্য নির্ধারিত রুমে পৌঁছে দেওয়া হলো।বিশাল চৌধুরী ভিলার প্রতিটি অতিথির জন্য আলাদা আলাদা কক্ষ আগেই প্রস্তুত ছিল।তবে এখনও ইনায়া আর পিয়াসার নানুবাড়ির লোকজন আসেননি।
ওনারা আগামীকাল সকালে এসে পৌঁছাবেন।
ধীরে ধীরে পুরো ভিলা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
মধো রাত পুরো চৌধুরী ভিলা তখন গভীর ঘুমে ডুবে আছে।করিডোরজুড়ে শুধু নাইট ল্যাম্পের নরম আলো।ঠিক তখনই…আস্তে করে নিজের রুমের দরজা খুলল পিয়াসা।চারদিকে একবার তাকিয়ে নিঃশব্দে করিডোর পেরিয়ে হাঁটতে লাগল।
তার গন্তব্য…রেদোয়ানের রুম।দরজাটা আধখোলা ছিল।ভেতরে ঢুকতেই পিয়াসা থমকে দাঁড়িয়ে গেল।
এটা কি সেই রুম যেখানে একটা চুলও এদিক-ওদিক পড়ে থাকতে দেখা যায় নাসবকিছু এলোমেলো।বিছানার চাদর কুঁচকে আছে।টেবিলের ওপর ফাইল ছড়িয়ে আছে।মেঝেতে পড়ে আছে মেহেদির অনুষ্ঠানে পরা গাঢ় সবুজ শেরওয়ানিটা।
পিয়াসা চারদিকে তাকাল।রুমে রেদোয়ান নেই।
ধীরে ধীরে বারান্দার দিকে এগোতেই বুকটা কেঁপে উঠল।বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে রেদোয়ান।
গায়ে কালো শার্ট আর ঢিলেঢালা কালো ট্রাউজার।
চুলগুলো সম্পূর্ণ এলোমেলোএক হাতে সিগারেট।
একটার পর একটা টান দিচ্ছে।পিয়াসার বুকটা হু হু করে উঠল।সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে রেদোয়ানকে জড়িয়ে ধরল।কাঁপা গলায় বলল,তুমি কী করছো?
— প্লিজ আর নিজেকে কষ্ট দিও না। এখন তো আমাদেরই বিয়ে হবে।এসব বন্ধ করো রেদোয়ান কোনো উত্তর দিল না।হাতে থাকা সিগারেটটা শেষ হতেই আরেকটা ধরাতে গেল।ঠিক তখনই পিয়াসা লাইটার আর সিগারেট দুটোই ছিনিয়ে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল।চোখ ভরা জল নিয়ে বলল,
তুমি পাগল হয়ে গেছো?
ধীরে ধীরে রেদোয়ান মুখ ঘুরিয়ে পিয়াসার দিকে তাকাল।রাগে তার ঠোঁট দুটো কাঁপছে।চোখ দুটো লাল।একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
কেন এসেছিস?পিয়াসা বিন্দুমাত্র না ভেবে উত্তর দিল,
কেন? আসতে পারি না? আর এক রাত পর থেকেই তো এই রুমেই থাকব আমি।রেদোয়ান আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল,
তো?
এই এক শব্দেই যেন পিয়াসার বুকটা ভেঙে গেল।
পিয়াসার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।সে কাঁদতে কাঁদতেই ধীরে ধীরে রেদোয়ানের সামনে এসে দাঁড়াল।কিন্তু রেদোয়ান এবারও তাকে দেখল না।যেন ইচ্ছে করেই তাকে উপেক্ষা করছে।আর সেই নীরব উপেক্ষাই পিয়াসার বুকের ভেতর সবচেয়ে গভীর আঘাত হয়ে বিঁধতে লাগল।পিয়াসা কাঁদতে কাঁদতে রেদোয়ানের সামনে এসে দাঁড়াল। চোখ দুটো ফুলে লাল হয়ে গেছে। কণ্ঠটা কাঁপছে।
প্লিজ… আমার সাথে কথা বলো। আর কষ্ট দিও না আমাকে। আমি আর পারছি না আমি তো জানতাম তুমি থাকতে আমার বিয়ে অন্য কোথাও হতে দিতে না। বিশ্বাস করো, আমি একবারের জন্যও ভয় পাইনি। শুধু তোমাকে খুব মিস করেছি।কথাগুলো বলতে বলতেই পিয়াসার গলা ভেঙে গেল।
রেদোয়ান কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। প্রিয় তোমার অশ্রু ভেজা চোখ দুইটা দেখে
বুকের ভেতরে যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মুখে তার কোনো প্রকাশ নেই।
অনেকক্ষণ পর খুব নিচু, শান্ত অথচ ভারী কণ্ঠে শুধু একটা কথাই বলল,
বুকে আয়…
পিয়াসা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।সে যেন ঠিক শুনতে পারেনি।চোখের জল মুছতে মুছতে ফিসফিস করে বলল,
কী…?পরের মুহূর্তেই রেদোয়ানের কণ্ঠ একটু উঁচু হয়ে উঠল।কি হলো? বলছি না… বুকে আয়!
পিয়াসা পুরোপুরি হতভম্ব।এই তো কয়েক মুহূর্ত আগেও মানুষটা রাগে তার দিকে তাকাচ্ছিল না।
আর এখম নিজের বুকেই ডাকছে!পিয়াসা এখনও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার মাথা যেন কাজ করছে না।ঠিক তখনই
রেদোয়ান আর এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করল না।
শেহেজাদার আদর পর্ব ৬০
এক ঝটকায় পিয়াসার হাত ধরে নিজের দিকে টেনে নিল।পরমুহূর্তেই পিয়াসা এসে আছড়ে পড়ল তার প্রশস্ত বুকের মধ্যে।দু’হাত দিয়ে এমন শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন পৃথিবীর কোনো শক্তিই আর মেয়েটাকে তার কাছ থেকে আলাদা করতে পারবে না।পিয়াসা হকচকিয়ে গেল।তার নিঃশ্বাস আটকে আসছে।রেদোয়ানের বুকের ভেতরের দ্রুত হৃদস্পন্দন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সে।মাথার ওপর থুতনি রেখে বললো জানতাম শেষ পর্যন্ত তুই আমারই হবি। কিন্তু তোকে ওই সাজে।
অন্য কারও বউ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে দেখে আমি ভেতরে ভেতরে হাজার বার মরে গেছি, পিহু।
