Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৮

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৮

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৮
সুমাইয়া ইসলাম নূর

গভীর রাত
চারপাশ নিস্তব্ধ। আকাশজুড়ে কালো মেঘের আনাগোনা, মাঝে মাঝেই দূরে বিদ্যুতের ক্ষীণ ঝলকানি রাতটাকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলছে। মালিথা ভিলার বিশাল ড্রয়িংরুমে জ্বলছে কেবল কয়েকটি ম্লান আলো। অথচ সেই আলোও যেন আজ বাড়ির ভেতরের অন্ধকার দূর করতে পারছে না।
বড় টেলিভিশনের পর্দায় একের পর এক নিউজ সম্প্রচার হচ্ছে। নিউজ চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজের লাল ব্যানার বারবার ভেসে উঠছে।
“অবৈধ অর্থপাচার, চোরাচালান ও একাধিক অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মালিথা ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড গ্রুপ অব কোম্পানিজের বিরুদ্ধে সরকারি তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”

খবরটা শেষ হতেই ড্রয়িংরুমজুড়ে আরও ভারী নীরবতা নেমে এলো।
সোফায় এক কনে মাথায় হাত দিয়ে নিশ্চুপ বসে আছেন রুমি মালিথা। তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্ক, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মনে হচ্ছে, বহু বছরের সাজানো সাম্রাজ্যটা মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়ছে।
তার পাশেই বসে আছে তিয়া। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে গভীর চিন্তায় ডুবে রয়েছে সেও। এতক্ষণ শক্ত থাকার চেষ্টা করলেও এবার তার চোখেও অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট।
হঠাৎই রুমি মালিথা কাঁপা কণ্ঠে নীরবতা ভাঙলেন।
কী হবে এখন আমাদের, তিয়া?টেলিভিশনের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার বললেন, নিউজ দেখে তো মনে হচ্ছে মালিথা ইন্ডাস্ট্রিজ আর আমাদের সব কোম্পানি সরকারের অধীনে চলে যাবে। এত বছরের সবকিছু… সব শেষ হয়ে যাবে।
তিয়া ধীরে ধীরে মাথা তুলল। তার চোখে ভয়ের বদলে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত স্থিরতা।শান্ত, উদাসীন কণ্ঠে বলল, একটা রাস্তা এখনও খোলা আছে, মম।
রুমি মালিথা বিস্মিত হয়ে তাকালেন। কী রাস্তা?
তিয়া ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি টেনে বলল,রাইহান চৌধুরী।কথাটা শুনেই রুমি মালিথা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে মাথা নাড়লেন। তুই কী ভাবছিস? রাইহান চৌধুরী এতটাই বোকা যে এখনও কিছুই বুঝতে পারেনি? আজকের পরও সে আমাদের বিশ্বাস করবে?

তিয়া মায়ের কথায় একটুও বিচলিত হলো না।
বরং আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলল, অবশ্যই সব বুঝেছে, মম। কিন্তু তুমি একটা বিষয় ভুলে যাচ্ছ। রাইহান চৌধুরীর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি।একটু থেমে ঠান্ডা কন্ঠে হাসল সে। আমার জন্য তিনি নিজের পরিবারকেও ছেড়ে চলে যেতে পারবেন। সব সত্য যদি সে জেনে থাকেন তাহলে ও এখনও তিনি আমাকে নিজের মেয়ে বলেই মনে করবেন। সেই দুর্বলতাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।রুমি মালিথা চুপচাপ মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তিয়া এবার আরও নিচু স্বরে বলল,
তুমি কোনো চিন্তা করো না, মম। আমি তোমাকেও আমার সঙ্গে নিয়ে যাব। তবে তার আগে তোমাকে একটু অভিনয় করতে হবে।
রুমি মালিথা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
কী অভিনয়?তিয়া ধীর স্বরে বলল, তোমাকে বোঝাতে হবে, তুমি এসব নিজের ইচ্ছায় করোনি। সবকিছুই দাদুর চাপে, তাঁর নির্দেশে করতে বাধ্য হয়েছিলে। তুমি ছিলে কেবল একটা দাবার ঘুঁটি।
তার চোখে তখন চতুরতার ঝিলিক দেখা দিলো
রাইহান চৌধুরী আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, যুক্তি দিয়ে নয়। আর মানুষ যখন ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে যায়, তখন সত্য-মিথ্যার হিসাব করে না। সেই আবেগকেই আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
রুমি মালিথা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মুখে কোনো কথা না থাকলেও তাঁর চোখে আবারও একটুখানি আশার আলো জ্বলে উঠল।আর তিয়া…
তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল এক রহস্যময় হাসি।

ভোর ৬টা।
রাতের অন্ধকার ধীরে ধীরে সরে গিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে কোমল সকালের আলো। পূর্ব আকাশে সূর্যের লালচে আভা যেন নতুন দিনের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। শিশিরভেজা ঘাসে মুক্তোর মতো ঝিলমিল করছে পানির কণা। বাগানের ফুলগুলোও যেন সকালের মিষ্টি বাতাসে দুলে দুলে হাসছে।আজ চৌধুরী ভিলার পরিবেশটা অন্যরকম।
কারণ রেদোয়ান আর পিয়াসা সাত দিনের জন্য মালদ্বীপে হানিমুনে যাচ্ছে।দোতলার রুমে তখন ব্যস্ত সময় কাটছে।ইনায়া দুই হাতে একের পর এক জামাকাপড় সুন্দর করে ভাঁজ করে পিয়াসার লাগেজে গুছিয়ে রাখছে। কোথাও যেন কোনো কিছু বাদ না পড়ে, সেদিকে তার ভীষণ খেয়াল।
আর বিছানার এক কোণে বসে ল্যাপটপে অফিসের জরুরি কিছু কাজ শেষ করছে রেদোয়ান। মাঝে মাঝেই চোখ তুলে দুই বান্ধবীর কথাবার্তা শুনে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠছে তার।ইনায়া জামা গুছাতে গুছাতেই মুখ ফুলিয়ে বলল, বেবি… এটা যদি হানিমুন না হতো, তাহলে আমিও তোদের সঙ্গে চলে যেতাম। তোকে খুব মিস করব।কথাটা বলেই আবার একটা ড্রেস ভাঁজ করে লাগেজে রেখে দিল সে।পিয়াসা মুচকি হেসে পেছন থেকে এসে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরল

আমিও তোকে অনেক মিস করব, বেবি। সাতটা দিন কীভাবে কাটাব জানি না।ইনায়াও পিয়াসা কে।শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আমাকে ভিডিও কল না দিলে কিন্তু কথা বলব না।পিয়াসা হেসে বলল, দিনে দশবার ভিডিও কল দেব। এবার তো হাস।
দুজনের খুনসুটি দেখে রেদোয়ান মাথা নেড়ে মুচকি হেসে আবার নিজের কাজে মন দিল।এভাবেই হাসি-আড্ডার মধ্যেই শেষ হলো পুরো প্যাকিং।
কিছুক্ষণ পর…
চৌধুরী ভিলার সামনে কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়িটা এসে দাঁড়াল।ড্রাইভার গাড়ির বুটে লাগেজগুলো তুলে রাখতেই বাড়ির সবাই একে একে বাইরে চলে এলেন।বিদায়ের মুহূর্তে পরিবেশটা কেমন যেন আবেগঘন হয়ে উঠল।নুসরাত চৌধুরী এগিয়ে এসে প্রথমে পিয়াসার কপালে স্নেহের চুমু খেলেন।তারপর রেদোয়ানের কপালেও চুমু দিয়ে বললেন, সাবধানে যাস বাবা। আল্লাহ তোদের দুজনকে সবসময় ভালো রাখুন।রেশমা চৌধুরীও দুজনকে বুকে জড়িয়ে ধরে অনেক দোয়া করলেন।
রেদোয়ান এবার হেঁটে ইউভির সামনে এসে দাঁড়াল।

হালকা হেসে বলল, ভাইয়া, আজকের পার্টিটা তুমি একাই হ্যান্ডেল করতে পারবে তো?
ইউভি ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটিয়ে ইনায়ার দিকে ইশারা করে বলল, মিসেস চৌধুরী তো আছেই। তুই কোনো চিন্তা করিস না। আর আমার সম্পর্কে তোর আইডিয়াটা তো আছেই—আমি কী পারি, আর কী না পারি ।তারপর একটু গম্ভীর হয়ে বলল, তুই পুরো ফোকাস আমার বোনের ওপর দিবি। সাবধানে যাস। বনুর ভালো করে খেয়াল রাখিস। আর পরশু কিন্তু বারো তারিখ… মনে আছে তো? আমার বোনের জীবনের বেস্ট বার্থডে যেন এটাই হয়।রেদোয়ান হেসে স্যালুট করার ভঙ্গি করে বলল, ইয়েস, বস।তারপর মুচকি হেসে বলল,
ভাইয়া আসি তাহলে। আল্লাহ হাফেজ।
এক এক করে লিখন চৌধুরী, রাতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরীসহ বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে বসল রেদোয়ান আর পিয়াসা।
ধীরে ধীরে গাড়িটা চৌধুরী ভিলার গেট পেরিয়ে চোখের আড়ালে মিলিয়ে গেল।গাড়িটা আর দেখা না যেতেই ইনায়ার মুখটা মুহূর্তেই ভারী হয়ে গেল।
সে দৌড়ে গিয়ে ধপ করে রেশমা চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো মুখ ফুলিয়ে বলল, ও বড় মা… বেবি আমাকে রেখে চলে গেল।রেশমা চৌধুরী হেসে ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন।ঠিক তখনই দূর থেকে পুরো দৃশ্যটা লক্ষ্য করছিল ইউভি।
সে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে শান্ত গলায় বলল,

মিসেস চৌধুরী… আজ সন্ধ্যায় পার্টি আছে। রেডি থাকবেন। আইভিএ কোম্পানির সিইও আপনি। ভুলে গেছেন নাকি? আজকের পার্টিটা অনেক ইম্পর্ট্যান্ট। আশা করি মনে থাকবে।ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে “চ্” সূচক শব্দ করে বলল,
ধুর! ভালো লাগে না। আপনি সবসময় প্যারা দেন।
কথাটা শেষ হতেই ইউভি আর এক মুহূর্তও দেরি করল না।
সে আলতো করে রেশমা চৌধুরীর কাছ থেকে ইনায়াকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে এক ঝটকায় কাঁধে তুলে নিল।হঠাৎ করেই পৃথিবীটা যেন উল্টে গেল ইনায়ার।তার মাথাটা গিয়ে পড়ল ইউভির প্রশস্ত কাঁধে, আর এলোমেলো চুলগুলো ঝুলে পড়ল ইউভির পিঠজুড়ে।ইনায়া অবাক হয়ে হাত-পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে বলল, এই! এই! আমাকে নামান! আপনি একদম অসভ্য!বলতে বলতেই রাগে ইউভির পিঠে একের পর এক ছোট ছোট চিমটি কাটতে লাগল।কিন্তু ইউভি যেন কিছুই টের পেল না।
নির্বিকার ভঙ্গিতে ইনায়াকে কাঁধে নিয়েই ভিলার ভেতরের দিকে হাঁটতে লাগল।পেছন থেকে রেশমা চৌধুরী আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে বললেন,
আস্তে, বাবা! সাবধানে! পড়ে যাবে কিন্তু!কিন্তু কে শোনে কার কথা!ইউভি নিজের মতো করেই হাঁটতে লাগল।আর বাগানে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই মুখ চেপে হাসতে লাগল।চৌধুরী ভিলার সকালের পরিবেশটা আবারও ভরে উঠল হাসি, ভালোবাসা আর খুনসুটিতে।

সন্ধ্যা ঠিক সাতটা।
ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেলের বিশাল গ্র্যান্ড বলরুম আজ আলোয় ঝলমল করছে। স্ফটিকের ঝাড়বাতির আলোয় পুরো হলরুম যেন রাজপ্রাসাদের রূপ নিয়েছে। চারপাশে ফুলের মনোমুগ্ধকর সাজসজ্জা, আধুনিক লাইটিং আর নরম পিয়ানোর সুর মিলিয়ে পরিবেশটাকে আরও অভিজাত করে তুলেছে।আজকের এই বিজনেস গালা পার্টিতে উপস্থিত হয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। দেশের বড় বড় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির প্রতিনিধি, গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস, রিয়েল এস্টেট, আইটি ও এফএমসিজি সেক্টরের অসংখ্য সফল ব্যবসায়ী এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছেন।
উপস্থিত রয়েছে দেশের খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠান—IVA Grup Bashundhara Group, AKIJ Group, PRAN-RFL Group, BEXIMCO, Square Group, City Group, Meghna Group, Walton, ACI, Jamuna Group, DBL Group, Navana Group-সহ আরও অসংখ্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।
ঠিক তখনই হলরুমের প্রধান দরজা খুলে গেল।

সব ক্যামেরা একসঙ্গে সেদিকে ঘুরে দাঁড়াল। বরাবরের মতো ব্যক্তিত্বময় শেহজাদ ইউভি চৌধুরী।
আর তার পাশে অফ-হোয়াইট জমকালো শাড়িতে অপার্থিব সুন্দর লাগছে ইনায়া নূর চৌধুরীকে।
ইউভির ডান হাতের সঙ্গে নিজের হাত আলতোভাবে জড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ভেতরে প্রবেশ করল ইনায়া।দুজনকে একসঙ্গে দেখেই হলরুমে ফ্ল্যাশলাইটের ঝলকানি শুরু হয়ে গেল।
অনেকেই এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানাতে লাগলেন।
ঠিক তখনই প্রায় ত্রিশ বছর বয়সী এক ভদ্রমহিলা এগিয়ে এলেন।মিষ্টি হেসে বললেন, হ্যালো, মিসেস চৌধুরী। আমি নাবিলা রহমান। আপনার সম্পর্কে অনেক শুনেছি। আজ প্রথম দেখা হলো। কনগ্র্যাচুলেশন ফর ইয়োর নিউ জার্নি অ্যাজ আইভিএ কোম্পানির সিইও।ইনায়াও সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে হাত মিলিয়ে বলল,থ্যাংক ইউ সো মাচ। আপনাকে পেয়ে ভালো লাগল।

দুজনের মধ্যে ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সুন্দর আলোচনা শুরু হলো।
অন্যদিকে…ইউভিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন দেশের কয়েকজন প্রখ্যাত শিল্পপতি।কেউ নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছেন, কেউবা বিনিয়োগের বিষয়ে মতামত নিচ্ছেন।ইউভিও শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে সবার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।হঠাৎ করেই পেছন থেকে এক তরুণী দ্রুত এগিয়ে এসে হাসিমুখে ইউভিকে জড়িয়ে ধরল। হেই, মিস্টার চৌধুরী!ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে ইউভি নিজেও খানিকটা অবাক হয়ে গেল।তবে পুরো ঘটনাটা ইনায়ার চোখ এড়াল না।সে কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়েই সবকিছু দেখছে।মেয়েটি ইউভিকে ছেড়ে দিয়ে হেসে বলল, আফটার আ লং টাইম! হাউ আর ইউ?ইউভি ভদ্রভাবে হালকা হাসল।আই’ম ফাইন। হাউ আর ইউ? আই’ম গুড।তারপর মেয়েটি নিজের পরিচয় দিয়ে বলল, আমি সানজিদা রহমান।
ইউভি ভদ্রভাবে হাত বাড়িয়ে দিল।

দুজন হাত মিলাল।সানজিদা বলল,আপনার সঙ্গে অনেকদিন ধরেই একটা বিজনেস ডিল করার ইচ্ছা ছিল। আমাদের কোম্পানি আইভিএ গ্রুপের সঙ্গে কাজ করতে চায়।ইউভি সংক্ষিপ্ত হাসি দিয়ে বলল,
সাউন্ডস গুড। আপনার প্রপোজালটা আমার টিম দেখেছে। আমিও রিভিউ করেছি। আমার দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই।সানজিদার মুখে হাসি ফুটে উঠল। সো… ডিল?ইউভি হাত বাড়িয়ে বলল,
ডিল ফাইনাল।দুজন আবার করমর্দন করল।
চারপাশে উপস্থিত অনেকেই করতালি দিয়ে নতুন এই ব্যবসায়িক চুক্তিকে স্বাগত জানালেন।
কিন্তু…
এই পুরো দৃশ্যটা একদৃষ্টিতে দেখছিল ইনায়া।
তার চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে উঠেছে।
মুখ ফুলিয়ে নিজের মনে বিড়বিড় করে বলল,
— হুম… খুব তো হাসাহাসি হচ্ছে! জড়িয়েও ধরছে! থাকেন আপনি… বাড়ি গিয়ে হিসাব হবে।
তার রাগী মুখটা দেখে পাশেই দাঁড়ানো নাবিলা রহমান মুচকি হেসে ফেললেন।ইনায়া অবশ্য মুহূর্তের মধ্যেই নিজেকে সামলে নিল।আজ সে শুধু ইউভির স্ত্রী নয় সে আইভিএ কোম্পানির সিইও।একটার পর একটা মিটিং, নতুন বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক আলোচনা সবকিছুই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে লাগল সে।তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হয়ে গেলেন।
দূরে দাঁড়িয়ে ইউভির মুগ্ধ হয়ে ইনায়া কে দেখছে ।

সে নিজে যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন…প্রতি কয়েক মিনিট পরপরই একবার করে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে দেখছে সবকিছুর ওপর তার নিঃশব্দ নজর।ঠিক তখনই এক ওয়েটার ট্রেতে করে বিভিন্ন পানীয় নিয়ে ইনায়ার সামনে এসে দাঁড়াল।ট্রেতে সফট ড্রিংকসের পাশাপাশি অ্যালকোহলিক ড্রিংকও ছিল।ইনায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইউভি কোথা থেকে যেন এসে তাদের মাঝখানে দাঁড়াল।
ওয়েটারের দিকে তাকিয়ে শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,জাস্ট সফট ড্রিংক ফর হার।ওয়েটার দ্রুত মাথা নত করে ট্রে থেকে একটি সফট ড্রিংক এগিয়ে দিল।
ইউভি নিজ হাতে গ্লাসটা ইনায়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিচু স্বরে বলল, অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছো। এটা খেয়ে নাও।ইনায়া গ্লাসটা নিল ঠিকই…
কিন্তু মুখটা এখনও ফুলিয়ে রেখেছে।ইউভি বুঝতে পেরে ভ্রু তুলে মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল, কী হলো, মিসেস চৌধুরী? এত রাগ কিসের?ইনায়া চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,
আপনি কিছু জানেন না?

— নো।
— ঠিক আছে জানা লাগবে না।
কথাটা বলেই মুখ ফিরিয়ে অন্য অতিথিদের সঙ্গে কথা বলতে চলে গেল ইনায়া।আর ইউভি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই মুচকি হেসে উঠল।তার বুঝতে আর বাকি রইল না…মিসেস চৌধুরী ভীষণ রেগে আছেন।
পার্টি শেষ হতে হতে রাত অনেকটাই গড়িয়ে গেছে।
ঢাকার ব্যস্ত শহরও যেন ধীরে ধীরে নিস্তব্ধতার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে। রাস্তার দু’পাশের লাইটগুলো একের পর এক পেছনে পড়ে যাচ্ছে। কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়িটা নিঃশব্দে ছুটে চলছে চৌধুরী ভিলার দিকে।গাড়ির ভেতরটা অস্বাভাবিক নীরব।
ড্রাইভিং সিটে ইউভি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। আর পাশের সিটে জানালার বাইরে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে ইনায়া।পুরো রাস্তা জুড়ে ইনায়া একবারের জন্যও ইউভির দিকে তাকায়নি।
একটা কথাও বলেনি।মুখটা ফুলিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়েই বসে আছে।মাঝে মাঝে নিজের শাড়ির আঁচলটা টানছে, আবার বিরক্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। রাগে গায়ের জুয়েলারি গুলো খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলে গাড়ির মধ্যে। সবকিছুই ইউভি আড়চোখে লক্ষ্য করছে।কিন্তু সে ইচ্ছে করেই কিছু বলল না।বরং নিজের ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি লুকিয়ে গাড়ি চালাতে লাগল।

মনে মনে বলল,সাধে কি আর বলি বুদ্ধি হাটুতে আচ্ছা, আর একটু রাগুক। দেখি কতক্ষণ মুখ ফুলিয়ে থাকতে পারে।”ইচ্ছে করলেই সে ইনায়াকে এক মিনিটে মানিয়ে ফেলতে পারত।কিন্তু সে সেটা করল না।বরং ইনায়াকে আরও একটু রাগানোর জন্য পুরো রাস্তা জুড়ে একেবারে চুপ করেই রইল।
ইনায়া একসময় বিরক্ত হয়ে আড়চোখে একবার তাকাল।দেখল ইউভি তাকে নিয়ে একটু ও ভাবছে না।আরও রাগে তার নাক-মুখ লাল হয়ে গেল।
মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,আমি তো অভিমান করেছি সেটা কি সে বুঝতে পারছে না।
কিন্তু ইউভি সব বুঝেও নির্বিকার।
তার মুখের সেই চাপা হাসিটা আরও গভীর হয়ে উঠল।কিছুক্ষণ পর গাড়িটা এসে থামল চৌধুরী ভিলার সামনে।গাড়ি পুরোপুরি থামার সঙ্গে সঙ্গেই ইনায়া এক মুহূর্তও দেরি করল না।ধপ করে দরজা খুলে দ্রুত নেমে গেল।রাগে গটগট করে ভিলার দিকে হাঁটছে।হঠাৎ…হাই হিলে পা বেঁকে গেল।

—উফফ!
বিরক্ত হয়ে এক পা থেকে হিল খুলল।
তারপর আরেক পাটাও খুলে পরক্ষণেই রাগে…
হাই হিল দুটো লাথি মেরে সামনের দিকে ছুড়ে দিল।
তারপর খালি পায়েই গটগট করে ভিলার ভেতরে ঢুকে গেল। সবকিছু গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল ইউভি।সে নিচু হয়ে হাই হিল দুটো তুলে নিল।
ঠোঁটের কোণে অসহায় হাসি ফুটে উঠল।
নিজের মনেই বলল,ইয়া আল্লাহ! আমার বউটা যে এতটা জেলাস হতে পারে, সেটা সত্যিই ভাবনার বাইরে ছিল। কিন্তু মানতেই হবে… রাগলেও মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগে।”
মুচকি হেসে হাতে ইনায়ার হাই হিল নিয়ে সেও ভিলার ভেতরে প্রবেশ করল।
রাতের খাবার শেষ করে পুরো চৌধুরী পরিবার গার্ডেনে বসে আড্ডা দিচ্ছে তখনও সবাই আড্ডায় মেতে আছে।রাতের খাবার শেষ করে সবাই একসঙ্গে বসেছে।রিমঝিম চৌধুরী মাথা রেখে শুয়ে আছেন নুসরাত চৌধুরীর কোলে।নুসরাত চৌধুরী পরম মমতায় রিমঝিম এর মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছেন।এক পাশে লিখন চৌধুরী, রাতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরী এবং বাড়ির তিন গিন্নি গল্পে মশগুল।ঠিক তখনই…রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইনায়া কারও দিকে না তাকিয়েই সোজা ভিলার ভেতরে দিকে এগিয়ে গেল।লিখন চৌধুরী অবাক হয়ে ডাকলেন, নূর মা! আমরা সবাই এখানে বসে আছি। কী হলো? পার্টি কেমন হলো, সেটা তো বলে যাও। তোমাদের অপেক্ষাতেই ছিলাম।
নুসরাত চৌধুরীও অবাক হয়ে বললেন,

কী হয়েছে রে নূর? এমন রাগ রাগ লাগছে কেন?
ইনায়া দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে রাগী গলায় বলল,
চাচ্চু তোমার ছেলেকে একটু ভালো হয়ে যেতে বলো তো! যাকে-তাকে জড়িয়ে ধরে কেন? আমার কিন্তু এসব একদম ভালো লাগে না!কথাটা বলেই আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না।গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।ইনায়া চলে যেতেই কয়েক সেকেন্ড পুরো গার্ডেনের সবাই নিস্তব্ধ হয়ে রইল।
তারপর…সবার মুখে একসঙ্গে চাপা হাসি ফুটে উঠল।এমন সময় হাতে ইনায়ার হাই হিল নিয়ে ইউভি ভেতরে ঢুকল।রিমঝিম চৌধুরী ইউভির হাতে জুতো দেখে হেসে হাতের ইশারায় বললেন,
— তুই আজ শেষ, বাবা! আজ আর তোর রক্ষা নেই।
ইউভি শুধু মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।
তারপর হাতে ইনায়ার হাই হিল নিয়েই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।ইউভি ভিলার মধ্যে প্রবেশ করার পর গার্ডেনে থাকা সবাই এবার উচ্চস্বরে হেসে উঠল।লিখন চৌধুরী হেসে রেশমা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বললেন, দেখেছ রেশমা? আমার ছেলেটা মেয়েটার প্রেমে ঠিক কতটা পাগল হয়ে গেছে! নিজের বউ রাগ করে জুতো ফেলে চলে গেছে, আর সে কিনা সেই জুতো হাতে নিয়ে পেছন পেছন যাচ্ছে!কথাটা শুনে আবারও হাসির রোল পড়ে গেল পুরো বাগান জুড়ে।

ইনায়া রাগে গজগজ করতে করতে নিজের রুমে ঢুকেই ধপাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা পুরো করিডোরে প্রতিধ্বনিত হলো।আলমারি খুলে তাড়াহুড়ো করে একটা সাদা রঙের থ্রি-পিস বের করল। কিছুক্ষণ পর পোশাক বদলে দরজাটা খুলতেই থমকে গেল।
দরজার ঠিক সামনে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইউভি।তার এক হাতে ইনায়ার হাইহিল জোড়া।দু’জনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য মিলল।
পরের মুহূর্তেই ইনায়া এমন ভাব করল যেন কাউকেই দেখেনি। মাথা উঁচু করে ইউভির পাশ কাটিয়ে সোজা গার্ডেনের দিকে চলে গেল।
ইউভিও ইচ্ছে করেই কিছু বলল না।
মনে মনে হাসল।রাগটা আরও একটু বাড়ুক… তারপর না হয় মান ভাঙানো যাবে।”সে ধীরে ধীরে নিজের রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে কালো রঙের শার্ট আর ব্ল্যাক ট্রাউজার পরে নিচে নেমে এল।গার্ডেনে তখন ও সবাই ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করছে আর আড্ডা দিচ্ছে ইউভি একটা চিপসের প্যাকেট হাতে নিয়ে সাবিহা চৌধুরীর পাশে গিয়ে বসে দুষ্টু হেসে বলল,

কাকিমণি, আমার পুতুল দুইটা কোথায়?সাবিহা চৌধুরী হেসে উত্তর দিলেন,তোদের জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে দু’জনেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
ইউভি মাথা নেড়ে হেসে দিল তাই নাকি অন্যদিকে ইনায়া ফুলে থাকা গাল নিয়ে একদৃষ্টিতে ইউভির দিকে তাকিয়ে আছে।
কিন্তু ইউভি যেন কিছুই টের পাচ্ছে না।
সে স্বাভাবিকভাবেই সবার সঙ্গে গল্প করে যাচ্ছে।
ইনায়ার রাগ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
হঠাৎ করেই উঠে দাঁড়িয়ে বলল,আমি ভেতরে যাচ্ছি। কেউ আমাকে বিরক্ত করবে না। আমি আমার রুমে থাকব। তারপর লিখন চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে মুখে ছোট্ট হাসি এনে বলল, আর চাচ্চু… একটা গুড নিউজ আছে।সবাই কৌতূহলী হয়ে তাকাতেই ইনায়া বলল, আইভিএ কোম্পানি খুব শিগগিরই একটা বড় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডিল ফাইনাল করতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমাদের কোম্পানির জন্য এটা অনেক বড় একটা মাইলস্টোন হবে।কথাটা শুনেই চারদিক থেকে একসঙ্গে ভেসে এলো কংগ্র্যাচুলেশনস!রাতিব চৌধুরী গর্বভরা কণ্ঠে বললেন, এভাবেই এগিয়ে যা মা।রবিউল চৌধুরীও হেসে বললেন,আমরা জানতাম তুই পারবিই।ইনায়া মুচকি হেসে বলল,

আমি ভাইয়া আর বেবির সঙ্গে একটু ভিডিও কলে কথা বলতে যাচ্ছি। তোমরা গল্প করো।কথা শেষ করে হাঁটতে যাবে ঠিক তখনই ইউভি এক সেকেন্ডও দেরি করল না।সবার সামনে এক ঝটকায় ইনায়াকে কোলে তুলে নিল।ইনায়া ভয় পেয়ে দু’হাত দিয়ে ইউভির গলা জড়িয়ে ধরল।ইউভি ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল,তোমরা থাকো গল্প করো আমি আমার বেয়াদব বউটাকে নিয়ে যাচ্ছি।বলেই হেঁটে ভিলার ভেতরে ঢুকে গেল।গার্ডেনে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই কয়েক সেকেন্ড হতবাক হয়ে শুধু ওদের চলে যাওয়া দেখল।তারপর রেশমা চৌধুরী মাথা নেড়ে বললেন, ছেলেটার মাথাটা মনে হয় সত্যিই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একসঙ্গে তিন-তিনটা কোম্পানির দায়িত্ব… চাপটা খুব বেশি পড়ছে।
রিমঝিম চৌধুরী হেসে ফেললেন। না ভাবি। অফিসের কাজ করতে গিয়ে নয়… আমাদের নূরকে সামলাতেই ইউভির এই অবস্থা।কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠল।এদিকে ধীরে ধীরে আকাশের রং বদলে যেতে লাগল।নীল আকাশ মুহূর্তেই কালো মেঘে ঢেকে গেল।দূরে বিদ্যুৎ চমকালো।মেঘের গর্জন শুনে নুসরাত চৌধুরী রিমঝিমের দিকে তাকিয়ে বললেন, তুই ভেতরে যা। বৃষ্টির পানি মাথায় লাগলে ঠান্ডা লেগে যাবে। এখন প্রথম তিন মাস… খুব সাবধানে থাকতে হবে। দৌড়ঝাঁপও একটু কম কর।
রিমঝিম উঠে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলল,

— আমাকে নিয়ে এত চিন্তা কোরো না।
কীভাবে নিজেকে সামলে রাখতে হয়, সেটা আমি ভালো করেই জানি। তার ওপর রাশেদ সারাক্ষণ আমার খেয়াল রাখে। তোমরা নিশ্চিন্ত থাকো।
এই বলে সে ভিলার ভেতরে চলে গেল।এদিকে সাবিহা চৌধুরীর ফোনে হঠাৎ একটা মেসেজ এল।
রবিউল চৌধুরীর থেকে “বৃষ্টিতে ভিজবে?”
সাবিহা চৌড়ুরী চুপিচুপি রিপ্লাই করলেন—
“খুব ইচ্ছে করছে।”কয়েক সেকেন্ড পর আবার মেসেজ এলো
“তাহলে ছাদে চলো।?”
সাবিহা চৌধুরীর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
“চলুন।”
দু’জন একে অপরের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি হাসলেন।তারপর একসঙ্গে হাই তুলে বললেন,
— খুব ঘুম পাচ্ছে। আমরা একটু উপরে যাচ্ছি।
সবাই কিছু না বুঝেই মাথা নাড়ল।আর ওরা দু’জন চুপচাপ ছাদে চোলে গেলো।

অন্যদিকে…
ইউভি ইনায়াকে নিয়ে তাদের রুমের বারান্দায় এসে দোলনায় বসিয়ে দিল।নিজে ধীরে ধীরে হাঁটু গেড়ে বসল ইনায়ার সামনে।মুখে আগের মতোই দুষ্টু হাসি।
কী ম্যাডাম? আজ এত চুপচাপ কেন? ভালোবাসা কি শেষ হয়ে গেল নাকি?বাইরের মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, ওয়েদারটা কিন্তু ভীষণ রোমান্টিক… কী বলো, বউ?ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে রইল।একটা শব্দও করল না। ইউভি এবার একটু নরম গলায় বলল,বোনুকে খুব মিস করছ?
তবুও কোনো উত্তর নেই।
ইউভি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে কোথাও চলে গেল।
ইনায়া মনে মনে অভিমান করে বলল,
“ব্যাস… একবারও আমার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করল না। তাহলে আমার অভিমানের কোনো দামই নেই ওনার কাছে!”সে উঠে রেলিংয়ের পাশে দাঁড়াল।
দূরের কালো মেঘের দিকে তাকিয়ে গুনগুন করে গাইতে লাগল—
যে জন প্রেমের ভাব জানে না,
তার সঙ্গে নেই লেনা-দেনা।
খাঁটি সোনা ছাড়িয়া যে নেয় নকল সোনা,
সে জন সোনা চেনে না…

গান শেষ হওয়ার আগেই পেছন থেকে ইউভির কণ্ঠ ভেসে এল মিসেস চৌধুরী…
ঘুরে তাকাতেই দেখল, ইউভির দুই হাত ভর্তি নানা ফ্লেভারের আইসক্রিম।মুখে সেই চেনা শান্ত হাসি।
এগুলো সব তোমার জন্য।সে আবার ইনায়াকে দোলনায় বসিয়ে নিজেও পাশে বসল।
কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে বলল,একটা জিনিস জানো, আদর আজ পার্টিতে তুমি যা দেখেছ, সেটা তোমার চোখে হয়তো অস্বস্তিকর লেগেছে। আমি সেটা অস্বীকার করছি না।কিন্তু প্রতিটা পরিবেশের একটা নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে।ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ওয়ার্ল্ডে অনেকেই হ্যান্ডশেকের পাশাপাশি হাগ করে শুভেচ্ছা জানায়। ওদের কাছে এটা শুধুই একটা প্রফেশনাল জেসচার।আমি যদি তখন ওদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতাম, তাহলে সেটা শুধু একজন মানুষকে অপমান করা হতো না আমাদের কোম্পানির ইমেজও ক্ষতিগ্রস্ত হতো ব্যালকনিতে নেমে আসা বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাস দু’জনের মাঝখানের নীরবতাকে আরও গভীর করে তুলেছিল। ইনায়া রেলিংয়ে হাত রেখে দূরের কালো মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে অভিমান, ঠোঁটে নীরবতা।
ইউভি ধীরে ধীরে উঠে এসে ঠিক তার সামনে দাঁড়াল। দু’হাত পকেটে গুঁজে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে নরম স্বরে বলল,”আচ্ছা বলো তো, কী করলে তোমার অভিমান ভাঙবে, মিসেস চৌধুরী?”
ইনায়া ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল। দু’চোখে জমে থাকা অভিমানটুকু আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করে শান্ত গলায় বলল,কিছু না… আমার কোনো অভিমান নেই। এমনি ভালো লাগছে না।”
কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সে। ঘুরে সোজা রুমের ভেতরে চলে গেল।ইউভি অবশ্য তাকে আটকানোর চেষ্টা করল না।একই জায়গায় দাঁড়িয়ে মৃদু হেসে নিজের মনেই বলল,‘কিছু না’…! এই একটা শব্দের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে হাজারটা না বলা কথা। কিন্তু আমি তো এসব মানব না, মিসেস চৌধুরী।”

কয়েক মুহূর্ত পর ইউভিও রুমে ঢুকল।
দেখল, ইনায়া বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। জানালার কাঁচ বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো গড়িয়ে পড়ছে।ইউভি দরজার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলল,”বৃষ্টিতে ভিজবে, মিসেস চৌধুরী?”ইনায়া বিস্ময়ে বড় বড় চোখ করে তাকাল।
— “সত্যি?”
— “হুম… চলবে?”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ইনায়া বিছানা থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ল।ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি ফুটিয়ে বলল, “চলুন, মিস্টার। আমার একদম রাগ নেই, অভিমানও নেই। চলুন।”ইউভি কোনো উত্তর দিল না।শুধু শার্টের ওপরের একটি বোতাম খুলে গলার কাছে একটু ঢিলা করে নিল। তারপর ক্লান্ত ভঙ্গিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— ” খুব ক্লান্ত লাগছে… একটু বুকে আসবে, বউ?”

কথাটা এতটাই শিশুসুলভ, এতটাই অকৃত্রিম ছিল যে ইনায়া মুহূর্তেই থমকে গেল।সে শুধু নির্বাক হয়ে ইউভির দিকে তাকিয়ে রইল।এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল ইউভি।তারপর ধীরে ধীরে নিজেই এগিয়ে এসে ইনায়াকে আলতো করে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিল।কোনো তাড়া নেই।কোনো বাড়াবাড়ি নেই।শুধু নীরব এক আলিঙ্গন।ইনায়া অনুভব করল ইউভির বুকের নিয়মিত হৃদস্পন্দন। যেন সেই স্পন্দনই তার সব অভিমান একে একে গলিয়ে দিচ্ছে।কয়েক মিনিট কেটে গেল।কেউ কোনো কথা বলল না।নীরবতারও যে নিজস্ব একটা ভাষা আছে, তা বুঝি এই মুহূর্তেই সবচেয়ে বেশি অনুভব করা যায়।ধীরে ধীরে ইনায়া মুখ তুলে তাকাল ইউভির দিকে।তার চোখে তখন আর রাগ নেই, আছে শুধু মুগ্ধতা আর অদ্ভুত এক শান্তি।
খুব আস্তে করে সে বলল, আপনি যখন প্রতি শুক্রবার বাড়িতে আসতেন, তখন গভীর রাতে আমার রুমে যেতেন… আমার কপালে, গালে… এমনকি ঠোঁটেও চুমু দিয়ে চলে আসতেন… তাই না?”ইউভির ঠোঁটে ধীর হাসি ফুটে উঠল।সে ইনায়ার চোখে চোখ রেখে বলল,তাহলে সবই মনে আছে, পুচকি?”ইনায়া লাজুক হেসে মাথা নাড়ল।

— “হুম… টের তো পেতাম। কিন্তু বুঝতাম না কেন এমন করেন। তবে যেদিন চুল কাটার জন্য আপনি আমাকে থাপ্পড় দিয়েছিলেন… সেদিন রাতেই বুঝে গিয়েছিলাম, আপনার রাগের আড়ালেও কতটা ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। সেদিনই বুঝেছিলাম… আপনি আমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসেন।”
কথাগুলো শুনে ইউভির বুকটা হঠাৎ করেই ভরে উঠল এক অদ্ভুত অনুভূতিতে।সে আর কোনো কথা না বলে ইনায়াকে আরও শক্ত করে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরল।তারপর কপালে একটি গভীর চুমু এঁকে মৃদু স্বরে বলল,ভালোবাসি, বউ… খুব ভালোবাসি। ভালোবাসার থেকেও বেশি ভালোবাসি তোমাকে। এই পৃথিবীতে যদি কোনো কিছুকে নিঃশর্তভাবে নিজের বলতে পারি, তবে সেটা শুধু তুমি।”
ইনায়ার চোখের কোণে অশ্রু চিকচিক করে উঠল।
কিন্তু সে কাঁদল না।কারণ এই অশ্রু দুঃখের নয়, পূর্ণতার।ইউভি মৃদু হেসে এক নিমিষেই ইনায়াকে কোলে তুলে নিল।ইনায়া অভ্যাসবশত দু’হাত দিয়ে ইউভির গলা জড়িয়ে ধরল।”এবার কোথায়?” ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল সে।
ইউভি জানালার বাইরে ঝরতে থাকা বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেসে বলল
“চলো না, বউ… আজ তোমার সঙ্গে এক অন্যরকম বৃষ্টিবিলাস করতে চাই। শুধু তুমি আর আমি… আর সঙ্গী হবে এই ঝুম বৃষ্টি।”

ঝুম বৃষ্টির চাদরে মোড়ানো ছাদের ঠিক মাঝখানে এসে থামল ইউভি। আলতো করে ইনায়ার হাতটা নিজের মুঠোয় ধরে একপা এগিয়ে আনতেই আকাশ যেন আর নিজের অনুভূতিকে আটকে রাখতে পারল না। মুহূর্তেই মেঘ ভেঙে নেমে এলো অঝোর বর্ষণ।নরম বৃষ্টির ফোঁটাগুলো নিমিষেই ভিজিয়ে দিল দু’জনকে। ইনায়া দু’হাত মেলে মুখটা আকাশের দিকে তুলে দিল। চোখজোড়া বন্ধ। ঠোঁটের কোণে অপার্থিব এক হাসি। মনে হচ্ছে, প্রতিটি বৃষ্টিবিন্দু সে হৃদয় দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে অনুভব করছে।
পরক্ষণেই ছোট্ট এক শিশুর মতো গোল গোল ঘুরতে শুরু করল সে। তার হাসির টুংটাং শব্দ যেন ঝরে পড়া বৃষ্টির সুরকেও হার মানিয়ে দিল।ইউভি স্থির দাঁড়িয়ে রইল।দৃষ্টির সমস্ত গভীরতা জুড়ে বিরাজ করছে শুধুই তার আদর। মনে হচ্ছিল—পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য আজ বুঝি এক নারীর মাঝেই এসে আশ্রয় নিয়েছে।ছাদবাগানের কোণে ফুটে থাকা একটি সাদা কাঠগোলাপ তুলে নিল ইউভি। ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে যত্ন করে ফুলটা ইনায়ার কানের পাশে গুঁজে দিল।ফুলের শীতল স্পর্শে ইনায়া চমকে ঘুরে তাকাতেই ইউভি দুষ্টু হেসে কানের লতিতে আলতো করে কুটুস করে কামড় বসিয়ে দিল।

— “এখন ঠিক লাগছে। আমার বউটাকে এখন সম্পূর্ণ লাগছে।”
ইনায়া লজ্জায় চোখ বড় বড় করে ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,মিস্টার! বৃষ্টি উপভোগ করুন। সব সময় দুষ্টুমি করতে হবে?”ইউভি শুধু মুচকি হেসে তাকিয়ে রইল।ছাদের অপর প্রান্তেও যেন আরেকটি ভালোবাসার গল্প বৃষ্টির সঙ্গে ভিজে উঠেছে।
রবিউল চৌধুরী আর সাবিহা চৌধুরী হাত ধরাধরি করে ধীর পায়ে বৃষ্টির ভেতর হাঁটছেন। বহু বছরের সংসার, অথচ ভালোবাসার উষ্ণতায় কোথাও একচিলতেও ভাটা পড়েনি।সাবিহার ভেজা চুলগুলো বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছিল। রবিউল চৌধুরী খুব যত্ন করে চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
— “এখন আরও সুন্দর লাগছে তোমাকে।”
সাবিহা লাজুক চোখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে হাতটা আরও শক্ত করে ধরলেন।
— “দেখতে হবে না… বউটা কার!”
রবিউল চৌধুরীর ঠোঁটেও নরম এক হাসি ফুটে উঠল।
এদিকে ইনায়ার দুষ্টুমি যেন মাত্র শুরু।
দু’হাত ভরে বৃষ্টির পানি তুলে আচমকাই ছপাৎ করে ইউভির গায়ে ছিটিয়ে দিল সে।তারপর একগাল হাসি নিয়ে হাত বাড়িয়ে বলল,

— “মিস্টার… হাতটা দিন।”একটুও প্রশ্ন না করে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিল ইউভি।
ইনায়া আঙুলের ফাঁকে নিজের আঙুল জড়িয়ে নিল। খালি পায়ে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ছপছপ শব্দ তুলে হাঁটতে লাগল দু’জনে।ইউভি শান্ত স্বরে বলল,”সাবধানে, আদর। পা পিছলে যাবে।”
কিন্তু আজ ইনায়া যেন সত্যিই একরত্তি শিশু।
হঠাৎই ফিরে এসে জড়িয়ে ধরল ইউভিকে। তার প্রশস্ত বুকে আঙুলের ডগা দিয়ে এলোমেলো আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে খুব নিচু স্বরে বলল,
— “ধন্যবাদ, মিস্টার… আমার জীবনটা এত সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়ার জন্য।”ইউভির চোখজোড়া গভীর হয়ে উঠল।ভেজা চুল সরিয়ে ইনায়ার কপালে হাত রেখে বলল, “তোমার জন্যই তো আমার সব যুদ্ধ, আদর।”ইনায়া মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল।
ইউভি ধীরে ধীরে বলতে লাগল, “যেদিন থেকে ভালোবাসার মানে বুঝেছি, সেদিন থেকেই দু’জন মানুষকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে ভালোবেসেছি। একজন তুমি… আর আরেকজন আমার দাদুভাই।”
একটু থামল সে।
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো মুখ বেয়ে নেমে আসছে, নাকি স্মৃতির ভার—বোঝা দায়। “যেদিন এই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম, দাদুভাইয়ের আবদারেই প্রতি শুক্রবার এখানে আসতাম। দূর থেকে দেখতাম, আমার ছোট্ট আদরটা একটু একটু করে বড় হচ্ছে। তখন নিজের ভেতর একটা জেদ জন্মাত… আমাকে আরও সফল হতে হবে… আরও শক্ত হতে হবে… শুধু তোমার যোগ্য হওয়ার জন্য।”
ইনায়া আর শুনতে দিল না।
আলতো করে আঙুল রাখল ইউভির ঠোঁটে।

— “চুপ… আজ আর কষ্টের গল্প নয়। আজ শুধু এই বৃষ্টিটাকে অনুভব করুন, জনাব।”
ইউভি মৃদু হেসে তাকে আরও কাছে টেনে নিল।
— “অনুভব তো আমি তখন থেকেই করছি, যখন থেকে আপনি আমার বুকে এসে জায়গা করে নিয়েছেন, মিসেস চৌধুরী। আপনি কি সত্যিই কিছুই টের পাচ্ছেন না?”
কথার সঙ্গে সঙ্গে তার উষ্ণ হাত আলতো করে ছুঁয়ে গেল ইনায়ার কোমর।সেই মৃদু স্পর্শেই যেন বুকের ভেতর একসঙ্গে হাজারো প্রজাপতি ডানা মেলেলো লজ্জায় মাথা নিচু করে ইনায়া ফিসফিসিয়ে বলল,
— “আমি… আমি তো বৃষ্টির কথা বলছিলাম…”

ইউভি কপাল ঠেকিয়ে দিল তার কপালে।দু’জনের নিঃশ্বাস একাকার হয়ে গেল। “কিন্তু আমি তো অত ভালো মানুষ নই, মিসেস চৌধুরী…”বৃষ্টিতে ভিজে সাদা পোশাকটা ইনায়ার শরীরের সঙ্গে মিশে আছে। ইউভি একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।তারপর ইনায়ার হাতটা তুলে নিজের বুকের বাঁ পাশে রেখে খুব নিচু স্বরে বলল, “জানো… তোমার কথা ভেবে আমি কতদিন ভাতের প্লেটের সামনে বসে চোখের জল ফেলেছি। এমনও সময় গেছে খেতে বসে এক লোকমা ভাত ও গিলতে পারিনি। এখানে…”নিজের বুকের ওপর ইনায়ার হাতটা আরও চেপে ধরল। “এখানে খুব কষ্ট হতো। আল্লাহ জানেন, দিনে কতবার তাঁর কাছে শুধু একটাই দোয়া করেছি— ‘আমার আদরটাকে আমার করে দাও।’ তোমাকে নিয়ে আমি আল্লাহর সঙ্গে কত গল্প করেছি জানো।. শেষে তিনি সত্যিই তোমাকে আমার করে দিলেন। এই সুখ… ভাষায় বোঝানোর মতো নয়।”
ইনায়া কোনো উত্তর দিল না।
শুধু নিঃশব্দে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল নিজের মানুষটাকে।ঠিক তখনই ছাদবাগানের বড় গাছটার আড়াল দিয়ে চোখ পড়ল সাবিহা চৌধুরীর।
দেখলেন—ইউভি ঝুঁকে ইনায়ার সাথে কিছু একটা করছে আর ইনায়া লজ্জায় তার বুকেই মুখ লুকিয়ে আছে।দৃশ্যটা দেখে তাঁর মুখ দিয়ে আচমকাই চাপা একটা আওয়াজ বেরিয়ে গেল,

— “উফফ!”
রবিউল চৌধুরী চমকে তাকালেন।
— “কী হলো?”
— “কিছু না!”
— “কিছু না হলে ‘উফফ’ করলে কেন?”
— “আরে, কিছু না বললাম তো!”
— “দাঁড়াও, আমিও দেখি…”
বলে তিনি উঁকি দিতে যাবেন তার আগেই সাবিহা তাড়াতাড়ি ওড়না দিয়ে স্বামীর চোখ ঢেকে দিলেন।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৭

— “এই! একদম না। ছেলেপেলেদের একটু প্রাইভেসি দাও। রবিউল অসহায় মুখ করে বললেন,
আমি তো শুধু এক ঝলক. এক ঝলকও না। চলো নিচে। বলেই প্রায় টেনেহিঁচড়ে তাকে সিঁড়ির দিকে নিয়ে চললেন।নিচে নামতে নামতে সাবিহা চৌধুরী গজগজ করে বললেন
বাবা চাচাদের মতোই হয়েছে ছেলেটা। ভাগ্যিস ওরা আমাদের দেখিনি না হলে কি লজ্জা একটা বিষয় হতো ভাবেন তো। ছি ছি

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here