Home শ্রাবণ ধারা শ্রাবণ ধারা পর্ব ৮

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৮

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৮
অনামিকা তাহসিন রোজা

রাত আটটা পার হয়েছে। ক্লান্ত হয়ে ধারা এতটাই হতাশ ছিল যে কখন এত রাত হয়ে গেছে সে টেরও পায়নি। বালিশের নিচ থেকে ছোট্ট একটা পুতুল বের করল ধারা। নাহ, তার পুতুল খেলার মত বয়স নয়। কিন্তু যখন সেরকম বয়স ছিল, যখন ধারা ভীষণ ছোট ছিল, তখন তার বাবা অনেক কষ্টে এই পুতুল কিনে দিয়েছিল। পৃথিবী ত্যাগ করার সপ্তাহখানেক আগে ধারার আবদার পূরণ করে তার বাবা। আর পিতামাতার স্মৃতি বলতে শুধু এই ছোট্ট পুরোনো পুতুলটাই আছে ধারার। ভীষণ আদুরে এটা। কেও তার হাতে এটা দেখলে যদি কটুক্তি করে সেই ভয়ে ধারা এটা সবসময় লুকিয়ে রাখে। মাঝে মাঝে বালিশের নিচেই রাখে, আর কখনো কখনো বের করে দেখে। যখন যন্ত্রনার মাত্রা পেরিয়ে যায়, ধারার হৃদয় সিক্ত হয়, তখন পুতুলটা বের করে আদর করে সে। সমস্ত অভিযোগ জানিয়ে দেয় পুতুলটার কাছে। ধারার বিশ্বাস কেও তার অভিযোগ না শুনলেও এই পুতুল শুনবে।

ছোট্ট ফ্রক পড়ানো পুতুলটির চুলগুলো বুলিয়ে দিল ধারা। মিষ্টি হেসে ওটা নিয়েই শুয়ে পড়ল তার নামমাত্র বিছানায়। এরপর সোজা চোখ তুলে তাকাল উপরের সিলিং ফ্যানের দিকে। ঘরটা পুরো অন্ধকার করে রেখেছে সে। জানালা দিয়ে গলিয়ে আসা আশেপাশের বাড়ির আলোতেই কিছুটা আলোকিত হয়ে আছে এই ঘর। এমনিতেও বেশি আলো পছন্দ করেনা ধারা। একাকী, নীরবে, আঁধারে থাকতেই বেশি পছন্দ করে সে। নিজের মত করে ভাবনায় ডুবে গেলে দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনে উঠে বসে ধারা। দরজা খোলাই ছিল, তবুও দৌঁড়ে গিয়ে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল সে।
সালমা বেগমের মুখে মলিন হাসি। তিনি বিনয়ী সুরে বললেন

—” বিরক্ত করলাম নাকি ধারা? ঘুমাচ্ছিলি?”
ধারা দুদিকে মাথা নেড়ে হেসে বলল,
—” না না মা, আসুন।”
বলে দ্রুত দৌঁড়ে বালিশের নিচে আবারো পুতুলটাকে লুকিয়ে রাখল সে। সালমা বেগম এর মধ্যে ঢুকে পড়েছেন ঘরে। একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে হতাশ হলেন তিনি, ঠোঁটের হাসি মিলিয়ে গেল। এই ছোট্ট স্টোর রুমে ধারা কীভাবে থাকে তা বুঝতে পারেন না ভদ্রমহিলা। তার উপর এখানে কোনো বিছানাও নেই।
সালমা বেগম এসে পাতানো বিছানাটিতে বসে ধারাকেও বসালেন। আকুল হয়ে বললেন,
—” তুইও কি আমার একটা কথাও শুনবি না হ্যাঁ? কতবার করে বললাম গেস্টরুমে থেকে যা। এই ছোট্ট স্টোররুমে কী মধু খুঁজে পেয়েছিস তুই? আবার খাটও আনতে দিস না৷ গেস্টরুমের বেডটা তো আনা যায় এখানে। সেটাতেও রাজি না তুই। সমস্যা কী?”

ধারা মুচকি হাসল। সালমা বেগমের ধমক খেতে তার ভালোই লাগে। যখন ভদ্রমহিলা শাড়ির আঁচল কোঁমড়ে বেঁধে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম নিয়ে মুখ কুঁচকে আদুরে ভঙ্গিতে ধারাকে বকাবকি করে, তখন ধারার নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে। ভালোই লাগে। তার আফসোস হয় এই জিনিসটা কেনো সে ছোট থেকে পায়নি। তাই সালমা বেগম যতই কঠিন কথা বলেও বকতে থাকুক না কেনো, ধারা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইবে, আর নইলে মুচকি হাসবে। সালমা বেগম ধারার হাসি দেখে বেকুব বনে গেলেন, আরো কঠিন গলায় বললেন,
—” আমি কি কৌতুক বলছি ধারা? কথা শুনিস না কেনো? কী আছে এই ঘরে বল তো।”
ধারা এবারে ওড়নায় দু আঙুলে খুট পাকাতে পাকাতে বলল,
—” অত বড় ঘরে একা ঘুমাতে পারিনা আমি মা। ভয় করে খুব। আর…অত বড় খাটেও ভালো লাগেনা। আমার ছোট থেকেই মেঝেতে শুয়ে অভ্যাস। এখানেই ভালো লাগে..আর….
ধারা দ্রুত উঠে গিয়ে বড় জানালাটার পর্দা সরিয়ে দিল। সাথে সাথে জোছনার আলোতে নরম আবেশ ঘর ভরে গেল। সেই আলো এসে থামল ধারার মুখে। মেয়েটা যেন আলোয় ভিজে উঠল। চোখদুটো উজ্জ্বল, ঠোঁটে সরল হাসি, আর কণ্ঠে এক অদ্ভুত শান্তি।
এখান থেকে আকাশটা সম্পূর্ণ দেখা যায়। সেদিকে আঙুল তাক করে ধারা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,

—” আর এখান থেকে আকাশ টা অনেক সুন্দর দেখা যায় মা। দিনে রোদে ঝলমল করে পুরো ঘর, বিকেলে পাখিদের দেখা যায়, আর রাতে পূর্নিমা দেখতে পারি। এত সুন্দর দৃশ্য তো ওসব ঘর থেকে দেখা যায়না। আমার ওই ঘরে দমবন্ধ হয়ে যাবে। আমি এখানেই ঠিক আছি মা।”
সালমা বেগম কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। ধারা যেন সত্যিই খুশি। এই ছোট্ট, অগোছালো, প্রায় শূন্য ঘরটার মধ্যেই সে নিজের একটা পৃথিবী বানিয়ে নিয়েছে, যেখানে অভিযোগ নেই, চাওয়া-পাওয়ার হিসেব নেই। শুধু একটু আকাশ, একটু বাতাস, আর নিজের মত করে বেঁচে থাকার শান্তি। ধারা আবার একটু এগিয়ে গিয়ে জানালার গ্রিলে হাত রেখে বলল,
—”দেখুন না মা, ওই যে চাঁদটা… কত কাছে মনে হয়! মনে হয় হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারবো। ছোটবেলায় আমি ভাবতাম, একদিন না একদিন ধরেই ফেলবো ওটাকে।”
নিজেই হেসে ফেলল ধারা। সালমা বেগমের বুকটা হালকা করে মোচড় দিয়ে উঠল। এই মেয়েটা এত কমে এত খুশি কীভাবে হয়? তিনি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। এসে দাঁড়ালেন ধারার পাশে। বাইরে তাকালেন৷ চাঁদ আছে ঠিকই, কিন্তু তার চোখে বারবার ভেসে উঠছে অন্য কিছু। এই ছোট্ট মেয়েটার নির্ভরহীন জীবন, চাপা কষ্ট, আর তার মাঝেও এমন নির্মল হাসি।

—”তুই…সত্যি এখানে ভালো থাকিস?”
কথাটা বলতে গিয়েও কণ্ঠ কেঁপে গেল তার। ধারা মাথা নেড়ে বলল,
—”হ্যাঁ মা। খুব ভালো থাকি।”
একটুও দ্বিধা নেই কণ্ঠে। মিথ্যা হলে এমন নিখুঁত হতো না। সালমা বেগম তাকিয়ে রইলেন তার দিকে। উপলব্ধি করলেন, এই মেয়েটা সুখ খুঁজে নেয় না, সুখ বানিয়ে নেয়। তিনি ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ধারার মাথায় হাত রাখলেন। খুব আলতো করে চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন।—”পাগলি একটা…” ফিসফিস করে বললেন তিনি।
ধারা মুচকি হেসে চোখ নামিয়ে নিল। সালমা বেগমের চোখ এবার ভিজে উঠেছে। তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন, যেন ধারা দেখতে না পায়। মানুষ তো বড় ঘর চায়, আরাম চায়, হাজারটা জিনিস চায় আর ধারা? একটা জানালা আর একটু আকাশ পেয়েই খুশি। এতেই আনন্দ তার। ভেবেই হাসলেন সালমা বেগম। হুট করে জিজ্ঞেস করলেন,
—”শ্রাবণের ঘরের জানালা থেকে কিন্তু এত সুন্দর আকাশ দেখা যায় না।”
ধারার ঠোঁটের হাসি নিভে গেল। সালমা বেগম সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। বললেন,
—” শ্রাবণের ঘরে থাকলে এমন খুশি থাকবিনা?”
ধারা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। দৃষ্টি জানালা থেকে বাইরের দিকে। গ্রিলে নখ খুটতে থাকল। সালমা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। হুট করেই ধারা ভীষণ আস্তে বলল,

—” উনার ঘরের বারান্দাটা ফুল দিয়ে সাজানোর খুব ইচ্ছে আমার। আর ওখান থেকেও আকাশে চাঁদ দেখা যায়।”
সালমা বেগম নিঃশব্দে হাসলেন। বুঝে ফেললেন ধারার জবাব টা। সরাসরি না বললেও মেয়েটা বুঝিয়ে দিয়েছে সেখানেও আরেক সুখ বানিয়ে নিতে পারতো সে। সালমা বেগম এবারে ধারার হাত চেপে ধরলেন। দ্বিধা নিয়ে বললেন,
—” আচ্ছা শোন এবার, আমার বোনের ছেলে নীল একটু পর বাড়িতে আসছে। বেশ কয়েকদিন এ বাড়িতেই থাকবে। বুঝেছিস?”
ধারা মাথা এলিয়ে বলল,
—” জ্বি আচ্ছা। আপ্যায়নের কমতি হবেনা মা। যা বলবেন তাই করে দেব।”
—” আরে ধুর বোকা, তোকে কাজ করতে বলিনি তো! ওই বজ্জাত আমার হাতের রান্নাই খাওয়ার জন্য আসছে। আমি সব করব সমস্যা নেই। তুই শুধু একটু সাহায্য করে দিস আমায়। ”
ধারা আবারো মাথা এলিয়ে বলল,
—” আচ্ছা।”
সালমা বেগম এবারে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

—” এখন একটা কথা ছিল ধারা। মানে কীভাবে যে তোকে বলি…আমি..আসলে বুঝতে পারছি এটা ঠিক হবেনা। কিন্তু.. আমি.. আমিও নিরূপায়। একটু জেদও ধরেছে আমার। আমিও দেখতে চাই শ্রাবণ কতদিন এইসব চালিয়ে যেতে পারে, আর কত নিচে নামতে পারে।”
সালমা বেগমকে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে কথা বলতে দেখে ধারা চোখ পিটপিট করে তাকাল। শেষ কথাগুলো শুনে একটু থেমে বলল,
—”আপনি বলুন মা, সমস্যা নেই।”
সালমা বেগম ধারার চোখের দিকে তাকিয়ে অনুরোধ করলেন,
—” জানি তুই কখনো মিথ্যে বলিস না। আর এও জানি তোকে দিয়ে মিথ্যে বলানোটাও পাপ হবে। কিন্তু তোর শ্বাশুড়ি হয়ে আমি তোর কাছে অনুরোধ করছি ধারা। একটু সাহায্য কর আমায়। আমি এখন যা যা বলব, তুই সব মনোযোগ দিয়ে শোন। আমায় ভুল বুঝিস না। কয়েকটা দিনের জন্য ভুলে যা তোর পরিচয়। ভুলে যা তুই এ বাড়ির বউ।”

গাবতলী বাস টার্মিনালে রাত এগারোটার ক্লান্তি আর ব্যস্ততা একসাথে মিশে আছে। দূরের আলো ঝাপসা হয়ে এসেছে, তবুও থেমে নেই কিছুই। হর্ণ, হকারদের ডাক, বাসের ইঞ্জিনের গর্জন সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত বিশৃঙ্খল ছন্দ। একটা লং রুট বাস ধীরে ধীরে এসে থামল। ব্রেক কষার কর্কশ শব্দে আশেপাশের শব্দগুলো যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তারপর আবার সব আগের মতো চলতে শুরু করল। বাসের দরজা খুলতেই একে একে নামতে লাগল যাত্রীরা। কেউ ক্লান্ত, কেউ বিরক্ত, কেউ তাড়াহুড়োয়।
তাদের মাঝেই নীলরঙা টি শার্ট পড়ে নামল শক্তপোক্ত গড়নের নীল। মুখে উজ্জবল ভুবনভোলানো হাসি দেখে যে কেও ভেবে বসবে, ছেলেটার বয়স উনিশ বৈকি বিশ হবে। গায়ের রঙ বেশ উজ্জ্বল তার। ঘেমে একাকার হওয়ার পরেও চেহারার এনার্জি দেখে আন্দাজ করা যায় ছেলেটি বেশ পরিশ্রমী এবং চঞ্চল। তার কাঁধে একটা মাঝারি সাইজের ব্যাকপ্যাক, হাতে আরেকটা ট্রাভেল ব্যাগ। ধুলোবালিতে ভরা রাস্তায় পা রাখতেই সে একটু শরীরটা টানটান করে সোজা হলো, যেন লম্বা জার্নির ক্লান্তিটা ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। মুখে একটা সহজ, নির্ভার হাসি লেগে আছে, যেন এই কোলাহল, এই ক্লান্তি কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।

চারপাশে একবার তাকাল নীল। চোখে কৌতূহল, মুখে সেই চেনা প্রফুল্লতা। —” এই কুত্তামরা গরমে মানুষ কীভাবে ঢাকাতে থাকে ভাই?” বিড়বিড় করে কথাখানা বলে নিজের সাথেই হেসে ফেলল সে। পকেট থেকে ফোন বের করে সময়টা দেখল। তারপর মাথা তুলে চারপাশে খুঁজতে লাগল। আরেকটু এগিয়ে গেল সে। লোকজনের ভিড় এড়িয়ে রাস্তার পাশের দিকে এলো। কাঙ্খিত মানুষটাকে খুঁজতে লাগল এদিক ওদিক তাকিয়ে।
চোখ ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ থেমে গেল তার দৃষ্টি। রাস্তার একপাশে, একটু দূরে একটা বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেউ। হালকা ঝুঁকে সিগারেট ধরাচ্ছে। আলো-আঁধারির মাঝে মুখটা স্পষ্ট না হলেও ভঙ্গিটা চেনা। নীলের ঠোঁটের কোণে হাসিটা একটু চওড়া হলো।
—”এই তো পেয়ে গেছি।”
ব্যাগটা কাঁধে একটু ঠিক করে নিয়ে সোজা এগিয়ে গেল সে। মোটামুটি দৌঁড়ে আসতে আসতে চেঁচিয়ে উঠল,
—”এই যে বড় ভাই? এদিকে!”
দূর থেকেই ডাক দিল নীল। শ্রাবণ মাথা তুলে তাকাল। সিগারেটের ধোঁয়া ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে তার মুখের সামনে। চোখে সেই আগের মতোই স্থিরতা, আর কোথাও এক চিলতে বিরক্তি। নীল সামনে এসে দাঁড়াতেই হেসে বলল,

— ” কি অবস্থা বড় ভাই? আমি ভেবেছিলাম তুমি বোধহয় আসবেই না। চিনতে পারছো তো, নাকি ঢাকাইয়া হয়ে সব ভুলে গেছো?”
শ্রাবণ একবার তাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখল। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
—”এত চেঁচামেচি না করে আসলেও চিনতাম।”
নীল হেসে ফেলল, একদম নির্ভারভাবে। বলল,
—”আরে, ভাবলাম এত বড় লোক হয়ে গেছো, ছোটলোকদের কি আর চিনতে পারো? যাকগে, তুমি কবে থেকে সিগারেট ধরেছো বড় ভাই?”
শ্রাবণ ঠোঁট থেকে সিগারেট টা আঙুলে নিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল,
—” তোকে কতবার বলেছি খ্যাতদের মত বড় ভাই, বড় ভাই করবিনা। শ্রাবণ ভাই ডাকতে কি জিহ্বা আটকায় তোর?”
নীল লজ্জায় মাথা চুলকালো। বলল,

—” আম্মা বলে দিয়েছে তোমাকে ভাইজান, বড় ভাই আর নাহলে ভাইয়া ডাকতে। তোমার নাম মুখে নেয়াও নাকি পাপ। যতই হোক, বড় ভাই আমার!”
বলেই শ্রাবণের হাত ছুঁয়ে সালাম করার অভিনয় করল নীল। শ্রাবণ চোখ সরিয়ে নিল। কিন্তু নীলের মুখের হাসিটা কমল না। সে একদম নিজের মতো, হালকা, খোলা, সহজ। যেখানে শ্রাবণ একটা দেয়াল তুলে রাখে, নীল সেখানে দরজা খুলে ঢুকে পড়ে অনায়াসে।
শ্রাবণ এবারে সিগারেট টা ফেলে দিল। কথাটা সত্যি। সে আগে সিগারেট খেতো না। মাস পাঁচেক হয়েছে এসব শুরু করার। নীলের বড় ব্যাগটা নিয়ে বাইক পেছনে বেঁধে নিল। হুট করে নীলের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠে বলল,
—” দাঁত বের করে হাসছিস কেনো তুই?”
নীলের হাসি দেখে গা পিত্তি জ্বলে যায় শ্রাবণের। নীল কোনোমতে হাসি আটকিয়ে রেখে বলে,
—” এমনিতেই।”
শ্রাবণ বিরক্তিতে শ্বাস ফেলে বাইকে উঠে বসল। নীলের পায়ে অদ্ভুত এক জুতোর ডিজাইন দেখে হেলমেট পড়তে পড়তে বলল,

—” আমার খুব মন চাইছে তোকে অপমান করতে। একটা নাম মনে পড়ল তোকে দেখে!”
খুব উচ্ছ্বসিত হলো নীল। আগ্রহ দেখিয়ে বলল,
—” বলো না কী সেটা? কী নাম?”
—” গ্রামের চাচাতো ভাই।”
—” সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমি তো তোমার খালাতো ভাই। তাহলে কথাটা গ্রামের খালাতো ভাই হতো না?”
শ্রাবণ মুখ কুঁচকে তাকালো, ধমকে উঠে বলল,
—” হুম খুব ভালো বলেছিস। শালা আহাম্মক। ওঠ।”
নীল দাঁত বের করে হেসে তড়িঘড়ি করে বাইকের পেছনে উঠে পড়ল। শ্রাবণের কাঁধ ধরে আগ্রহ নিয়ে বলল,
—” তুমি তো বেশ ফর্সা হয়ে গেছো ভাইজান। কাহিনী কী বলোতো? ফেয়ার এন্ড লাভলি মাখো নাকি?”
শ্রাবণ বাইক স্টার্ট করে বলল,
—” কেন রে, তুই মাখিস নাকি?”
—” হ্যাঁ মাখি তো। ফেয়ার এন্ড লাভলির নতুন ভার্সনটা। সেইরকম গ্লো করে।”
শ্রাবণ রীতিমতো নাক মুখ কুঁচকে অবাক হয়ে তাকাল,
—”তুই মেয়েদের ক্রিম কিনিস? ”
—” ধুর! আমার কি টাকার গাছ আছে? তোমার ভালোবাসার খালামনির একমাত্র ছোট মেয়ে নুসাইবার ক্রিম চুরি করে মাখি। বেয়াদব টা আরো কি কি যেন মুখে দিয়ে বসে থাকে, আমাকে দেয়না। নইলে আমিও তোমার মত চকচক করতাম।”

ফাঁকা রাস্তায় উচ্চ গতিতে বাইক চালাতে চালাতে নীলের সাথে আজাইরা আলাপ করার থেকে বিরক্তিকর কিছু খুঁজে পেল না শ্রাবণ। তার ভেবেই হতাশ লাগছে এই আহাম্মকের সাথে এক বাড়িতে থাকতে হবে। না জানি কয়দিন থাকবে। বাইকটা বড় রাস্তায় উঠতেই হালকা ঠান্ডা বাতাস এসে লাগল দুজনের গায়ে। ঢাকার রাত। কোথাও আলো ঝলমল, কোথাও আধো অন্ধকার। রাস্তা প্রায় ফাঁকা, মাঝে মাঝে দু-একটা গাড়ি হুশ করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। নীল পেছনে বসেই একবার ডানে, একবার বাঁয়ে তাকাচ্ছে, যেন শহরটা নতুন করে দেখছে। বেশ অনেক বছর পর আসলো সে।

—”এই শহরটার একটা আলাদা ভাইব আছে, বুঝেছো ভাইয়া? রাতে আরো সুন্দর লাগে।”
শ্রাবণ কোনো উত্তর দিল না। চুপচাপ বাইক চালাচ্ছে। সে বেশ কনফিউশানে আছে নীলের ডাক নিয়ে। এই ছেলে একবার ভাইজান, একবার বড় ভাই, একবার ভাইয়া বলে ডাকছে, না জানি কখন ব্রো বলে ডেকে বসে? এমনটা হলে নীলের গালে দুটো থাপ্পড় কনফার্ম করবে শ্রাবণ।
নীল নিজের মত করে বকবক করতে করতেই আবারো বলল,
—” আচ্ছা শোনো, তোমার এই বাইকটা কিন্তু সেইরকম! কত সিসি? আমি ভাবছি আমিও একটা নেব। ব্যবসা দাঁড়ালে প্রথম ইনভেস্টমেন্ট এইখানেই করব!”
—”আগে ব্যবসা দাঁড়াক, তারপর স্বপ্ন দেখিস!”
তাচ্ছিল্য করে তীক্ষ্ণ গলায় বলল শ্রাবণ।
—”আরে দাঁড়াবেই তো! দেখবে একদিন আমি তোমার থেকেও বড় হবো..
—”হুম, গল্পটা পরে শুনাবি। এখন চুপ থাক।”
নীল আবারো হেসে ফেলল।
—”তুমি একদম বদলাও নি জানো? আগের মতোই খিটখিটে!”
শ্রাবণ এবার সত্যিই বিরক্ত হয়ে বলল,
—”তোকে কি চুপ থাকার জন্য আলাদা করে টাকা দিতে হবে?”
—”না না, ফ্রি সার্ভিস!”
বলেই আবার হেসে উঠল নীল। কিছুক্ষণ চুপ থাকল সে। মনে হলো এবার সত্যিই শান্ত হয়েছে। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ টিকল না। হঠাৎ করেই একটু ঝুঁকে এসে বলল,

—”আচ্ছা ভাইজান.. একটা কথা জিজ্ঞেস করি?”
—”না।”
—”আরে আগে শুনো তো!”
—”শুনতে চাই না।”
—” আরে শোনো, তুমি যে বিয়ে করেছো..বলো তো অনুভূতি কেমন?’
এক মুহুর্তের জন্য অপ্রস্তুত হয়ে আবারো শক্ত গলায় শ্রাবণ বলল,
—” চাবালির নিচে দুটো বাড়ি মা’রব বেয়াদব।”
—” কি আশ্চর্য! খারাপ কী বলেছি? আচ্ছা বলো না, ভাবি কেমন? সুন্দর তো? তুমি না বলেছিলে একদম পারফেক্ট মেয়েকে বিয়ে করবে। বংশে নাকি তোমার বউয়ের মত কেও হবেনা, আরো কত কি!”
বাইকটা হালকা দুলে উঠল এক মুহূর্তের জন্য। শ্রাবণের হাত শক্ত হয়ে গেল হ্যান্ডেলে। কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা বলল না সে। নীল আবার বলল, এবার কণ্ঠে আগ্রহ ভরা,

—” বলো না দেখতে কেমন? সুন্দর না? লম্বা না খাটো? কথা বলে কেমন? রাগী টাইপ, নাকি শান্ত? তোমার মত রাগী না তো আবার?”
শ্রাবণের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
—” শাট আপ।”
নীল সন্দিহান হয়ে একটু সিরিয়াস হয়ে বলল,
—” ভাইয়া, সত্যি করে বলোতো, মনের মত হয়নি নাকি? ভাবি কি সুন্দর না? ঢাকারই নিশ্চয়ই?”
শ্রাবণ লুকিং গ্লাস দিয়ে বলল,
—” আমি যখন বলেছি তখন নিশ্চয়ই সেটাই করেছি। তোর ভাবি অনেক সুন্দর, অনেক স্মার্ট। আর.. আমার মনের মতই।”
নীল ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। ফিসফিস করে বলল,
—” বড়লোক তো?”
শ্রাবণ গলা খাঁকারি দিয়ে ঢোক গিলল। বাইকের গতি বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
—” হুম অবশ্যই। আমাদের স্টাটাসের।”
নীল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে মোটেই এসব জিজ্ঞেস করতো না। অন্তত তার এত ছোট মানসিকতা নেই। কিন্তু শ্রাবণের অহংকার সেই ছোট থেকেই দেখেছে সে। সবকিছুতে বাড়াবাড়ি অহংকার করতে, মানুষকে দেখাতে, বেস্টটা পেতে লাফিয়ে পড়ে সে। নীলের আজও মনে পড়ে তাদের মেঝ খালামনির ছেলে যখন গ্রামের একটা এতিম মেয়েকে বিয়ে করল, তখন শ্রাবণ অনেক তাচ্ছিল্য করেছিল। মুখ কুঁচকে বলেছিল, তোমাদের রুচি এত খারাপ কেনো?
সেই সময় শ্রাবণের ভাষ্যমতে সে নাকি বংশের মধ্যে সবচেয়ে ভাগ্যবান হয়ে দেখাবে। সবার মধ্যে নাকি তার বউ হবে সেরা। এই কারনেই নীল খোটা দেয়ার জন্য কথাটা জিজ্ঞেস করল। কিন্তু হতাশ হলো এখনো বড় ভাইয়ের এমন অহংকার দেখে।
নীল এবারে ঠোঁটে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বলল,

—” বেশি মডার্ন এনেছো নাকি ভাইয়া? রান্না করতে পারে তো? আমি কিন্তু ভাবির হাতের রান্না খাব।”
শ্রাবণ ফট করে সুযোগ বুঝে বলল,
—” পারবিনা।”
—” কী?”
—” তোর ভাবির হাতের রান্না খেতে পারবিনা।”
ফিক করে হাসল নীল,
—” কেনো কেনো? বেশি মডার্ন বিয়ে করেছো? রান্না কাজ কিছু পারেনা?”
—” পারে। কিন্তু তোর ভাবি বাসায় নেই! ”
—” মানে?”
—” বাপের বাড়ি গেছে।”
—” কি আশ্চর্য। এটা কোনো কথা ভাইয়া। আমি তো ভাবির সাথে পরিচিতি হতেই এসেছি। এটা কিছু হলো?”
বাতাসের শব্দে কথাগুলো মাঝেমধ্যে উড়ে যাচ্ছিল, তবুও নীল থামার পাত্র না।পেছন থেকে একটু জোরেই বলল নীল,
—”না না, এটা কিন্তু অন্যায় হয়ে গেল ভাইয়া! আমি এতদূর থেকে এলাম, আর ভাবিই নেই? এটা মেনে নেওয়া যায়?”
শ্রাবণ চোখ না সরিয়েই বলল,

—”তুই বেড়াতে এসেছিস নাকি ভাবি দেখার এক্সিবিশনে?”
একদম নির্ভার উত্তর নীলের,
—” দুটোই৷ আর ভাবি না থাকলে তো ভ্রমণটা ইনকমপ্লিট! ভাবি গেছে কবে?”
—” আজকেই! ”
—” বাহ। বাসায় মেহমান আসবে জেনেও চলে গেছে?”
—’ কে মেহমান?’
বিরক্ত হয়ে তাকাল শ্রাবণ।
নীল বেশ যুক্তি দিয়ে বলল,
—” যতই যাই হোক না কেনো ভাইয়া, আমি তো মেহমানই। আমি আসলে যে খালামনি ইচ্ছেমতো আপ্যায়ন করবে এটা তুমিও জানো।”
শ্রাবণ বিরক্তিতে শ্বাস ফেলল।
—”কয়েকদিন পর আসবে। তখন দেখিস।”
—”কয়েকদিন পর মানে?”
নীল এবার একটু ঝুঁকে এলো,

—” ও ভাইয়া, কালই নিয়ে আসো না! চলো আমরা নিজেই গিয়ে নিয়ে আসব !”
বাইকটা হালকা ব্রেক কষল। শ্রাবণ দাঁত চেপে বলল,
—”তোর এত উৎসাহ কেন?”
—”আরে ভাইয়া, নতুন ভাবি! একমাত্র বড় ভাইয়ের বউ! একটু তো কৌতূহল থাকবেই!”
শ্রাবণ ঠান্ডা গলায় বলল,
—”তোকে যা বলছি, সেটাই কর। অযথা বেশি কথা বলিস না।”
নীল চুপ করে গেল কিছুক্ষণ। তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
—”ঠিক আছে, জোর করলাম না। তবে একটা কথা বলি?”
—”বলিস না।”
—”তবুও বলব। আমার মনে হয় ভাবি একটু বেশি মর্ডান এনে ফেলেছো। নইলে বাড়িতে মেহমান আসছে শুনেও কেনো চলে গেলো? একটা দায়িত্ববোধ আছে তো নাকি। খালামনিকে সব একাই সামলাতে হবে।”
শ্রাবণ কিছু বলল না। নীল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
—”আচ্ছা আচ্ছা, বুঝেছি! বেশি জ্ঞান দিলে আবার বাসা থেকেই নামিয়ে দেবে!”
তারপর হালকা গলায় যোগ করল,
—”তবে ভাবির সাথে দেখা না করে আমি কিন্তু যাচ্ছি না। যতদিন লাগে থাকব।”
শ্রাবণ এবার ভ্রু কুঁচকালো।

—” কতদিন থাকবি?”
—”দেখা যাবে। কাজও আছে, ঘোরাঘুরিও আছে, আর এখন তো ভাবিও একটা রিজন!”
শ্রাবণ বিরক্ত হয়ে গতি আরও বাড়িয়ে দিল। কিন্তু নীল থামল না। সে রাস্তার দিকে তাকিয়ে, বাতাসে চুল উড়তে দিয়ে হালকা গলায় বলল,
—”আচ্ছা ভাইয়া, তুমি বলছো ভাবি অনেক সুন্দর, স্মার্ট, ভালো স্ট্যাটাসের। ভালোই। কিন্তু একটা জিনিস মনে রেখো, মানুষের সৌন্দর্য চোখে যতটা লাগে, তার থেকেও বেশি লাগে ব্যবহারে।”
শ্রাবণের হাত আবার শক্ত হয়ে উঠল হ্যান্ডেলে। কথাটা যেন সোজা কোথাও গিয়ে লাগল, যেখানে সে তাকাতে চায় না। সে কিছু বলল না। বলতে চাইলও না। বাইকটা তখন তাদের বাড়ির গেটের সামনে এসে থামল। নীল নেমে চারপাশে তাকাল। চোখে সেই আগের মতোই উচ্ছ্বাস,
—”ওয়াও! কতদিন পর! ”
নীল নিজের মত করে এগিয়ে গেল বাড়ির দিকে। শ্রাবণ বাইকটা স্ট্যান্ডে তুলে নীরবে ভেতরের দিকে হাঁটতে লাগল। তার ভেতরে তখনও ঘুরছে একটা কথাই, যেটা সে শুনতে চায়নি, তবুও শুনে ফেলেছে।

নীল এতটাই এক্সাইটেড যে শ্রাবণের জন্য অপেক্ষা না করেই বাড়ির দরজায় এসে দুবার কলিং বেল বাজালো। তৃতীয়বার বাজাতে হয়নি। সেকেন্ডের মধ্যে কেও দরজা খুলে দিল। নীল ভেবেছিল সালমা বেগম দরজা খুলবে, তাই সালাম দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সাদারঙা সালোয়ার কামিজ পরিহিতা একটা মেয়েকে দরজা খুলতে দেখে নীল স্তব্ধ হলো। কিছুক্ষণের জন্য নজর স্থির হলো। সে আহাম্মকের মত তাকিয়ে থাকলেও ধারা নীলকে দেখে ভদ্রতার সাথে সালাম দিল, জায়গা করে দিয়ে বলল,
—” আসুন, ভেতরে আসুন।”
নীলের হুঁশ ফিরল। সেও ভদ্রতার সাথে সালাম নিয়ে ভেতরে ঢুকল। জিজ্ঞেস করতে চাইলো আপনি কে? তার আগেই সালমা বেগম তড়িঘড়ি করে এসে জড়িয়ে ধরলেন নীলকে।
—” আমার বাবা টা এসেছে হ্যাঁ? কত্ত বড় হয়ে গেছিস। ভালো আছিস তো? আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো?”
নীল হেসে খালামনিকে জড়িয়ে ধরল। বলল,

—” কোনো সমস্যা হয়নি খালামনি। দেখো একদম ঝাক্কাস আছি। এখন তোমার হাতের চিকেন কাবাব খেলেই আমি টগবগ করে দৌঁড়াতে পারব। ”
ধারা দুজনকে দেখে হাসলো খানিকটা। এরপর দরজার দিকে উদগ্রীব হয়ে তাকাল। চিন্তিত হয়ে বলল,
—” উনি আসেনি?”
“উনি” সম্বোধন শুনে নীল কিছুটা ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে তাকাল। আঁচ করার চেষ্টা করল উনিটা কে? সালমা বেগম বড় করে চোখ মেলে ধারাকে ইশারা করলেন। ধারা সাথে সাথে আঁতকে উঠল। তড়িঘড়ি করে শুধরে নিয়ে বলল,
—” মিস্টার শেখ আসেন নি?”
স্বামীকে নাম ধরে সম্বোধন করতে বুক কাঁপল ধারার। কিন্তু কিছু করার নেই তার। কোনোমতে শুকনো ঢোক গিলে নিজেকে সামলাল মেয়েটা। নীল কল্পনাও করেনি যে এই মেয়ে শ্রাবণের বউ হতে পারে। তাই সে সন্দেহও করেনি। বরং এবারে ধারার কথা শুনে বলল,

—” ভাইয়া বাইক গ্যারেজে রেখে আসবে।”
এরপর সালমা বেগম কে উদ্দেশ্য করে বলল,
—” এই মেয়েটা..কে, খালামনি?”
সালমা বেগম হেসে বললেন,
—” ও ধারা। মোহনপুর গ্রাম থেকে এসেছে। আমার বান্ধবীর মেয়ে। আমাদের সাথে এখানেই থাকে। চাকরি খুঁজতে এসেছে। কিন্তু হ্যাঁ, ও এ বাড়ির মেয়ের মতই।”
নীল হেসে ধারাকে বলল,
—” ওহ, নাইস টু মিট ইউ ধারা। আমি নীল।”
ধারা সৌজন্যতার খাতিরে হাসল শুধু। সালমা বেগম দ্রুত নীলের কাছ থেকে সব ব্যাগ নিয়ে ধারাকে দিলেন,
—” আমি খাবারটা গরম করি। তুই ব্যাগ দুটো গেস্ট রুমে রেখে আয়। নীল ওখানে থাকবে।”
বলেই তড়িঘড়ি করে রান্নাঘরে চলে গেলেন সালমা বেগম।
নীল এবার ধারার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,

—” আরে আরে তোমাকে কেনো ব্যাগ দিল খালামনি? এগুলো অনেক ভারি। আমায় দাও।”
—” না না, সমস্যা নেই। আপনি ফ্রেশ হয়ে খেতে আসুন। আমি রেখে আসছি।”
নীল তবুও শুনলো না। ধারার হাত থেকে ব্যাগ তুটো জোর করে নিয়ে বলল,
—” আরে আমি অনেক শক্তিশালী বুঝেছো। গাছগাছালীতে ঝুলেছি ছোট থেকে। বনে-বাদাড়ে ঘুরেছি। সিঁড়ি দিয়ে ঘরে গিয়ে আবারো ফিরে আসতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবনা। তুমি শুধু ঘরটা দেখিয়ে দাও।”
নীলের কথার ভঙ্গিতে হেসে ফেলল ধারা। এরপর বলল,

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৭

—” ঠিক আছে আসুন।”
নীল কিছুটা থমকে গিয়েছিল ধারার হাসিতে। কি আশ্চর্য! হাসিটা সুন্দর তো। হাসলে অন্যরকম লাগে মেয়েটাকে। নীলও মুচকি হাসল। এরপর ধারার পিছু পিছু সিঁড়ি দিয়ে উঠতে থাকল। কিন্তু কেও লক্ষ্য করল না দরজায় দাঁড়িয়ে এক অবয়ব থমকে গিয়ে তাকিয়ে রয়েছে তাদের দিকে এবং কোনো এক কারনে বা অকারনেই মানুষটার শক্ত হাত মুঠো হয়ে এসেছে।

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here