সাঁঝের মায়া পর্ব ১৭
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
সকাল সকাল দেওয়ান বাড়িতে হৈ হুল্লোড়। বাড়ির ভিতরে ধোয়ামোছা গোছগাছ এ ব্যাস্ত গিন্নি রা।না হলো অনুষ্ঠান তাই বলে বাড়ির ভিতর টা একটু সাজাবে না,একটু আলো থাকবে না তাই হয়! নিশি, নূরি সকাল থেকে বায়না করছিলো হালকা করে হলুদের আয়োজন করতে চায় তারা ছাঁদে, কিন্তু ইশান কিছুতেই রাজি নয়।তিতির এর মেহেদী পরার ইচ্ছা টাতেও তাই সে একপ্রকার রাগ করেই মাটিচাপা দিয়েছে।যাকে বিয়ে করছে সে এতো রসকষহীন হলে কি দরকার বউয়ের আগ বাড়িয়ে এতো কথা শোনার।
শেষবারের মতো আজকেও একবার রাহাত ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে সে।ফলাফল সেই শূন্যই।মিনু টাকে জানিয়েছে বিয়ের কথা।মেয়েটা খুশির চোটে কান্নাকাটি করে একাকার। নেহাৎ এতদূরের রাস্তা,আর কালই বিয়ে তাই হুট করে কিছুতেই আসতে পারলো না মেয়েটা।
বাড়ির সবাই কোনো না কোনো কাজে ভীষন ব্যাস্ত।রাহেলা দেওয়ান অণিমা আর রিতু কে আসতে বলেছে।বিকেলের দিকে একবার শহরে যাবেন তিতির এর জন্য গহনা আনতে।যদিও ছেলের বউয়ের জন্য তিনি আগেই বানিয়ে রেখেছিলেন তার পরেও ইশানের জন্য আংটি কিনবেন,আর তিতির এর জন্য লেটেস্ট মডেলের কিছু জুয়েলারি নেবেন,আর বেনারসি আর কিছু শাড়ি তো আছেই।নিয়াজ,সাজিদ, নাইম কে রাতেই চলে আসতে বলা হয়েছিলো,তবে ওরা কাল সকাল সকাল আসবে বলে জানিয়েছে।
তবে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে ভাবলেশহীন যে সে হলো সয়ং বিয়ের বর।তার মধ্যে বিয়ের কোনো ভাবান্তর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্রেকফাস্ট করে তিতির করে এসে শুয়ে আছে।মাথাটা যন্ত্রণা করছে।নিশি,নূরি দু’জনেই ভার্সিটি গিয়েছে।আসার সময় বোধহয় ওখান থেকে একবার শপিং এও যাবে।তাকে বিকেলে নয়নে ভাইয়ের নিয়ে বের হওয়ার কথা। শপিং এর জন্য। তিতির নিজেও কেনো যেনো আগ্রহ পাচ্ছে না কিছুতে। হয়তো ইশানের এমন অনাগ্রহী ভাবের জন্য।তিতির চুল ছড়িয়ে বিছানায় শুয়ে আছে।বিছানা ছেড়ে মেঝেতে এলোমেলো ভঙ্গিতে আড়ছে আছে লম্বা চুলগুলো।ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো খোলা দরজাটার দিকে।তার ঘুম ঘুম পাচ্ছে।তমা টা যাওয়ার সময় দরজা টা হা করে খুলে রেখে গিয়েছে।এখন তার মোটেও উঠে দরজা বন্ধ করতে ইচ্ছে করছে না।আলসেমি ভঙ্গিতে উপুর হয়ে শুলো দু হাত ভাজ করে থুতনি ঠেকিয়ে তাকালো বারান্দার দিকে।খাঁচায় তার পাখিটাও উদাস হয়ে বসে আছে।আজকে কেমন একটা ঝিমিয়ে আছে।মোটেই ছটফট করছে না।তারও বোধহয় তিতির এর মতো মনটা খারাপ।
বারান্দার হলুদ ফুলওয়ালা সফেদ পর্দা খানা বসন্তের বাতাসে উড়াউড়ি করছে।তিতির এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে।কাল কের পর থেকে জীবনের অনেক কিছুই পাল্টে যাবে।পাল্টে যাবে তার পরিচয়।রেহনুমা হেলাল তিতির থেকে রেহনুমা আরশাদ তিতির…বাবার পরিচয় থেকে স্বামী…স্বামী শব্দ টা মাথায় আসতেই ধকধক করে উঠলো বুকের ভিতর টা।কখনো কি সে ভেবেছিলো এমন হুট করে জীবনের গতি পরিবর্তন হয়ে যাবে তার,ইশান ভাই তার স্বামী হবে!কল্পনায়ও এনেছিলো সে?না। কখনো আনেনি।কালকের পর থেকে বড় মামনী তার শাশুড়ী বড় মামা শশুর… সম্পর্ক গুলো অন্য রকম লাগবে না?সোজা হয়ে শুয়ে কোলবালিশ টা বুকে জড়িয়ে ধরলো সে।আজ মা বাবার কথা মনে পরছে খুব।দারুণ কান্না পাচ্ছে তার।
গায়ে পারফিউম টা মেখে হাতে ঘড়িটা পরে নিলো ইশান।মানিব্যাগটা গুজলো পকেটে।ড্রেসিং এর সামনে দাড়িয়ে চুলে জেলটা লাগিয়ে দু হাতে চুল সেট করে নিলো।গায়ে সফেদ শার্ট আর কালো প্যান্ট।সাজিদ টা কলের ওপর কল করে যাচ্ছে।বিয়ের নাকি টিপস দেবে।ইশান মহা বিরক্ত। ফ্রেন্ড সার্কেল এর মধ্যে বিবাহিত কাপল থাকলে এই এক সমস্যা। উঠতে বসতে তারা বিবাহ সম্পর্কিত উপদেশ দিতে থাকবে।তবে এটা মনে করার একদম কোনো কারণ নেই যে এখন ইশান আরশাদ দেওয়ান সেই টিপস গ্রহন করতে ছুট যাচ্ছে।তার এসবে টিপস থোরাই লাগবে।না গেলে ছেলেগুলো কল করে জ্বালিয়ে মারবে।
ইশান দরজা আটকে বের হলো নিজের ঘর থেকে।ডুপ্লেক্স বাড়িটার দক্ষিন পাশে চারটা বেড রুম।একটা ইশান আর একটা তিতির এর।বাকি দুটো গেস্ট রুম।আপাতত বন্ধ পরে আছে।তিতির এর রুম পার হতে গিয়ে পা থমকে গেলো ইশানের।দরজা খোলা।বিছানায় এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছে তিতির।মাথা রুপানজেল এর চুলগুলো বিছানা,মেঝে জুড়ে সমানে রাজত্ব করছে।পরনে শর্ট টপস।আর পালাজ্জো।দুটোই বিপজ্জনক ভাবে ওপরে উঠে আছে।ইশান বিরক্ত হলো।না আসলো এ সময় এদিকে কেউ,তবুও এমন দরজা সটানে খুলে ঘুমাতে হবে!মেয়েটার আক্কেল কবে হবে।নয়ন টা একশবার তিতির এর খোঁজ করে,ঘরে এসে এমন অবস্থায় দেখলে নিশ্চিত সুন্দর করে ঢেকে দিয়ে যাবে। সেদিন যেমনটা দেখেছিলো।সে তিতির এর বিষয়ে কুব সাবলীল। বিষয়টা আজকাল ইশানের পছন্দ হচ্ছে না।একদম না।মানুক আর না মানুক।আজ বাদে কাল তিতির তার বউ হবে।
সে হিসেবে নয়ন তার দেবোর,ভাই তো আগে থেকেই।তার ওপর নয়নের চোখে তিতির এর জন্য অন্য রকম অনূভুতির দেখা ইশান টের পেয়েছে।সে নিজেও পুরুষ মানুষ। অন্য একটা পুরুষের দৃষ্টিতে কি আছে সে বুঝবে না?ইশান চোখমুখ শক্ত করে ধীর পায়ে ভিতরে ঢুকলো।
ওড়না টা পাশে রাখা।ফ্যান চলছে, বারান্দার দরজাও খোলা।হু হু করো ঠান্ডা বাতাস আসছে বাইরে থেকে।ফ্যানেটা ফুল স্পিডে দেয়া।ঠান্ডা লাগছে তিতিরের।বোঝা যাচ্ছে।ইশান তাকিয়ে রইলো মুখের দিকে।চোখমুখ কেমন একটা কুচকাচ্ছে ঘুমের ঘোরে।স্বপ্ন দেখছে কিছু একটা।ঠোঁট নাড়ছে,কথা বলতে চাচ্ছে। সামনের ছোট চুলগুলো মুখ ছেয়ে যাছে বারবার।ইশান গায়ের চাদর টা টেনে দিলো।এগিয়ে গিয়ে ফ্যান অফ করলো।বারান্দার থাই টা খানিক টেনে দিলো।তবে মুখের ভাবভঙ্গি পরিবর্তন হলো না তিতিরের।হঠাৎ চোখের কার্নিশ বেয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পরতে দেখা গেলো।ঘুমের মধ্যেই ঠোঁট উল্টাচ্ছে।চোখের পাতা ক্রমাগত নড়ছে।ইশান কপাল কুচকে তাকিয়ে রইলো।এবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো মেয়েটা।ইশান হতচকিত হলো।হাত এদিকওদিক করছে। কিছু একটা খুঁজছে হয়তো।ফোঁপানো থামছে না।ইশান কি করবে বুঝতে পারলো না।ডাকবে কি?নাহ থাক।তবে সে চিন্তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারলো না।তিতিরের কান্না থামছে না।খানিক ইতস্তত আলতো হাতে ধাক্কা দিলো । কারোর উপস্থিতি পেয়ে ঘুমের ঘোরেই বোধহয় খানিকটা সস্তি পেলো সে।ভয়ের কিছু স্বপ্ন দেখছিলো হয়তো।মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেলো।পাশে পাওয়ায় ভয় কেটে গেছে হয়তো।ইশানের হাত টা শক্ত করে চেপে ধরতে চাইলো।তবে ইশান সরিয়ে নিলো।ঘুমের ঘোরে শব্দ করে উঠলো হাত টা না পাওয়ায়।আবেদনময়ী শোনাচ্ছে সে কন্ঠস্বর।ইশানের বুক টা ধক ধক করে উঠছে।আর দাড়ালো না সে এখানে।দরজা ভেজিয়ে চলে গেলো সেখান থেকে।
ইশান বাইক সাইট করে এসে বসলো ক্যাফেতে।সাজিদ আর নাইম ও বসে আছে।জানালে নিয়াজ কিছুক্ষণ এর মধ্যেই চলে আসবে।
অনিমা আর রিতু কে না দেখে দুই ভ্রু তুলে প্রশ্ন করলো সাজিদ কে।
“অনি আর রিতু কই?”
সাজিদ উদাস হয়ে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলো।নিয়াজ ঢুকলো ক্যাফেতে,সাথে অনিমা আর রিতু।ইশানকে দেখে চুপসে গেলো তাদের মুখটা।তবে যথাসম্ভব স্বাভাবিক করে এসে বসলো পরপর চেয়ারে।
ওড়নায় মুখের ঘাম মুছলো অনিমা।
“কোথায় গিয়েছিলি,এতো ঘেমেছিস।”
অনিমা পানির গ্লাস হাতে তুলে নিলো।এক ঢোক খেলো।ধীর গলায় বললো,”শহরে।”
“তিনজনই? “
অনিমা মাথা ঝাকালো।প্রায় সাথে সাথে ফোন বেজে উঠলো ইশানের। ইশান পকেট থেকে ফোন বের করে চোখমুখ কুচকে ফেললো।রুষার কল।
অনিমা রা সবাই তাকিয়েই ছিলো।ইশান ফোন কাত করে দেখালো।মূহুর্তের মধ্যে একে অপর কে পরখ করলো সবাই।যেনো জানতো এটাই হবে।
“ফোনটা না ধরলে হয় না।”রিতুর কথায় তাকালো ইশান।
“ কেনো?”
“কাল তোর বিয়ে ইশান।আর প্রাক্তন এর সাথে কথা বলার মানে হয়!”
ইশান অবাক হলো।
“ও আমার প্রাক্তন কম বন্ধু বেশি।তোরা সেটা জানিস।”
ইশান ফোনটা ধরলো।মূহুর্তেই মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন হলো তার।ফোন রেখে কড়া চোখে তাকালো সবার দিকে।
“রুষার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। জানাস নি কেনো তোরা আমাকে!”
নিয়াজ, অনিমা কেউ কিচ্ছু বললো না।
“কাম অন গাইজ।তোরা দেখতে গেছিলি ওকে।অথচ জানাসনি কেনো আমাকে।”
“জানালে কি করতি!দেখতে যেতি?কি দরকার। যাবি।কালকের বিয়েটা হয়ে যাক।তিতির কে নিয়ে যাস।”
ইশান বিরক্ত হলো নিয়াজ এর কথায়।এভাবে বলছে কেনো এরা।
“তিতির কে নিয়ে যেতে হবে কেনো।অসুস্থ মানুষ কে দেখতে যেতে..।
“ অনিমা থামিয়ে দিলো ইশানকে।
“ইশান।তিতির জানে তোর আর রুষার সম্পর্কে? “
“নো।”
“জানাসনি কেনো?”
“প্রয়োজনবোধ করিনি।”
“তোর মনে হয় না তোর জানানো উচিত ছিলো। “
“নো।”
“তুই কি বিয়েটা মন থেকে করছিস না।”
“করছি না।তো?”
সবার চোখমুখ কুচকে গেলো।ভাজ পরলো কপালে।
“ইশান..তোকে এর আগেও বলেছি।রুষার থেকে তুই এখন দূরে থাক।অন্য একজনের সাথে নিজের জীবন জড়াবি কাল থেকে।মেয়ে টা কষ্ট পাবে জানলে।তাছাড়া রুষা তোকে স্ব ইচ্ছেতে ছেড়ে গেছে।তার থেকেও কথা তুই ও ওকে কখনো ভালোবাসতি না।তাহলে তিতির কে মন থেকে না মানার কারণ কি।”
ইশান জবাব দেয়না।মাথার ভিতর নানা কিছু ঘুরছে তার।উঠে দারায়।
“আমি রুষাকে দেখতে যাচ্ছি।”
অনিমা দ্রুত উঠে দাড়ায়।ইশানকে আটকাতে।
“ও সুস্থ। মাইনর ইনজুরি।অল রাইট।আমরা দেখে এসেছি তো নাকি!”
“আমার সাথে ও মিট করতে চাইছে।”
“হোয়াউ ইউ প্রিটেন্ড ইওরসেল্ফ অ্যাজ অ্যা রেড ফ্লাগ?”
অণিমার দিকে নির্বিকার চোখে তাকালো ইশান।
“ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে গেলে,তার অসুস্থতার কথা জানতে পেরে সেখানে গেলে তাকে রেড ফ্লাগ বলে?”
সবাই হতাশ হচ্ছে। তারা ইশান কে না খুলে সবটা বলতে পারছে।আর না তো ইশানকে বোঝাতে পারছে।অনিমা বিরক্ত হয়ে বসে পরে চেয়ারে।রাগে মুখচোখ লাল দেখাচ্ছে।আসার সময় বারবার রুষাকে বলে এসেছিলো ইশানকে যেনো কোনোভাবে আর বিরক্ত না করে,ঝামেলা না করে।মেয়েটা সেই ফোন দিয়ো নাটক শুরু করেছে।ইচ্ছে তো হচ্ছে সব সত্যি ইশান কে বলে দিতে।কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত ই হবে।ইশান থামে না,বেড়িয়ে যায় বাইকে নিয়ে।
“আটকাতে সত্যি টা বললেই হতো।বলতে দিলি না কেনো?”
নিয়াজ এর কথায় অণিমা মাথা নাড়ে।
“ইশানের রাগ জানিস?খুন হবে মেয়েটা।”
“এখন যদি ঝামেলা করে।বিয়েটা…
রিতু মাথা নাড়ে।”আমার মনে হয় না ইশান বিয়েটা ভাঙ্গতে পারবে।দিদা দেবে না।”
“বিয়ে না ভাঙলো।এমনিই কোনো কারণে তিতিরকে নিয়ে ইশান এর সমস্যা। বিয়ে হলেও ওকে মেনে নেবে তার কি গ্যারান্টি।”
নাইমের কথা টা ফেলনা না।যথেষ্ট যুক্তি আছে।আজকে দেখবে রুষা কোনো ঝামেলা করে নাকি।দরকার হলে ইশানকে সবটা জানাতে বাধ্য হবে তারা।
ঘড়ির কাটায় রাত্রির সাড়ে দশটা।তিতির সহ বাড়ির সবাই সোফায় আসে আছে।কালকের জন্য নিশি,নূরি আর বাড়ির তিন গিন্নি মিলে টুকটাক শপিং করে নিয়ে এসেছে।সেগুলো খুলে দেখানো হচ্ছে।
ইশান মিনিট বিশেক হলো বাড়িতে এসেছে।সেই যে সকালে বেড়িয়েছিলো,সারাদিন আর কোনো খোঁজ খবর নেই।তিতির এর জন্য লাল টুকটুকে একটা শাড়ি কেনা হয়েছে।ইশানকে দেখানোর জন্য সবাই অপেক্ষা করছ।ইশান সেই যে ওপরে গেলো আর নামছেই না।রাহেলা দেওয়ান ঠেলা দিলেন তিতিরকে।
“ইশানকে ডেকে আন তো মা যা।”
তিতির চোখ বড় বড় করে তাকালো।
”আমি পারবো না।সবে বাইরে থেকে এসেছেন।আমাকে ধমক দেবেন এখন ডাকাডাকি করলেন।”
সবাই হেসে ফেললেন তিতির এর কথায়।
“কাল থেকে তুই ওকে ধমকাবি।আর আজ এতো ভয় পেলে চলে।যা।”
সবার একপ্রকার জোরাজোরি তে অনিচ্ছা স্বত্তেও উঠে গেলো তিতির।সময় নিয়ে হেটে এসে দাড়ালো ইশানের রুমের সামনে।দরজায় নক করার জন্য ধাক্কা দিতেই সটানে খুলে গেলো দরজা।মাথা ঢুকিয়ে উকি দিলো।ঘরে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।ইতস্তত করেও ঢুকে পরলো ঘরে।ঘরে কেউ নেই।বাথরুম থেকে পানির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।তার মানে বাথরুমে।কি করবে!অপেক্ষা করবে?নাকি নিচে গিয়ে বলবে অপেক্ষা করেও পায়নি।চলে যেতে উদ্যত হতেই বাথরুম এর দরজা খুলে বেড়িয়ে এলো ইশান।তিতির চমকে তাকালো।
সারাশরীর এ পানি চিকচিক করছে।মাথার ভেজা চুল থেকে মুক্ত দানার মতো পানির ফোটা টপটপ করে পরছে।শুধু একটা তোয়ালে কোমড়ে পেচানো।জিম করা সুঠাম পেশিবহুল শরীর দৃশ্যমান হলো তিতির এর সামনে।পেটের ওপরের কারুকার্য ফুটে আছে।
দু হাতে ফট করে মুখ চেপে ধরলো তিতির।বড় অসময় এসে পরেছে সে।ইমব্যারেসিং ব্যাপার ঘটে শুধু তার সাথেই।ইশান হুট করে তার ঘরে কাউকে আশা করেনি।তার ঘরে হুটহাট কারোর আসার পারমিশন ও নেই।তার মধ্যে এই মেয়ে সাহস করবে এটা তো কল্পনাও করতে পারেনি।রাগী চোখে এগিয়ে এসে দাড়ালো তিতির এর সমানে।চোখ বন্ধ অবস্থাতেই ইশানের অস্তিত্ব তার একদম সামনে টের পেলো তিতির।শরীর থেকে কড়া বডিওয়াশ আর আফটার সেভ এর ঘ্রান ভেসে আসছে।
“নক না করে ঘরে ঢুকেছিস কেনো।বেয়াদব। ম্যানারাস্ নেই?
তিতির আহত হলো এমন গলায় কথা বলায়।
“হাত সরা মুখের ওপর থেকে।”
“আপনি জামা কাপড় পরেছেন?”
“তুই হাত সরা।”
ইশানের গমগমে গলার ধমকে কেঁপে উঠলো তিতির। কাঁপা কাঁপা হাত দুতো সরিয়ে তাকালো।ফট করে অন্য দিকে চোখ সরিয়ে নিলো।জামাকাপড় পরেনি এখনো।
“কি সমস্যা। কাপড় পরছেন না কেনো।”
“আমার ঘর আমি যেমন খুশি তেমন থাকবো।তোর সমস্যা কোথায়।”
তিতির ঘুরে দাড়ালো।ত্যাড়া লোকটার সাথে কথায় পারবে না সে।
“আপনারি ঘর।তবুও পরুন প্লিজ।”
“না বলে ঢুকেছিস কেনো।!”
“মহা সমস্যা তো।ভিতরে আপনি থাকলে তবে তো ডাকবো।ডেকেছিলাম,আপনি ছিলেন না।”
“বাইরে দাড়িয়ে থাকতি।”
“ মগের মুল্লুক পেয়েছে।অসহ্য।”
ইশান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো।এমন চোরের মতো এদিক সেদিক চোখ ফেরাচ্ছে মেয়েটা।
“আপনাকে নিচে ডাকছে।আসুন”
তিতির পা বাড়াতেই ওড়নায় টান পরলো।ইশান হেঁচকা টানে পেছনে নিয়ো আসলো।তিতির এর গলা শুকিয়ে এলো।ইশান এগিয়ে গিয়ে দরজার ছিটকিনি আটকে দিলো।
তিতির চোখ বড় বড় করে ফেললো।
“দরজা আটকালেন কেনো।আমি বেরোবো তো।আপনি জামাকাপড় পরে আসুন।”
“দাড়া এখানে।সোজা তাকা আমার দিকে।”
“অসম্ভব। “
“সম্ভব কর।তাকা।”
“পারবো না আমি।”
“পারবি না কেনো। নাচতে নাচতে তো বিয়ে করছিস।
শরীর দেখতে বা দেখাতে সমস্যা হবে কেনো।”
তিতিরের হাত কা কাঁপছে রীতিমতো। এ কি ধরনের কথাবার্তা।
“আমি তো ঘুমাইও এভাবেই।তখন কি করবি।”
তিতির এর কান্না পাচ্ছে এখন।ইশান ওর ওড়না টা এখনো ছাড়েনি।না হলে দিতো এক ছুট।
“কাল থেকে আমিও এ ঘরে যখন থাকবো।জামাকাপড় পরে ঘুমাবেন দয়া করে।”
“” জামাকাপড় পরে ঘুমানোর আমার অভ্যাস নেই।তোর জন্য আমি আমার অভ্যাস পালটাতে পারবো না।”
তিতির এর মেজাজ খারাপ হলো।ঠোঁটকাটা লোক একটা।
,”একি কথা।একটু তো লজ্জা করুন।এককালে তো বোন লাগতাম আমি নাকি।এখনও অবধি বোনই।বউ হইনি”
ইশান এর মধ্যে তিতির এর কথায় লজ্জার উদায় হতে দেখা গেলো না যদিও।বরং আরেকটু এগিয়ে দাড়ালো।তিতির দু পা পিছিয়ে দাড়ালো।ইশান মাথা নিচু করলো।ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,”সে পাঠ চুকিয়েই তো বিয়ে টা করছি।অভ্যাস করে নে এভাবে দেখার।”
তিতির টানাটানি করলো ওড়না টা ইশানের হাত থেকে ছাড়ানোর। ইশান ছাড়লো না।তিতির দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো।
“খোদার দয়ায় তো বানিয়েছেন শরীর একখান।ভালো কথা সেটা।তা এতো দেখানোর কি আছে!”
“শরীর বানিয়েছি কষ্ট করে দেখাবো না?”
“তো এক কাজ করুন।মোড়ের ধারে বিশাল একটা পোস্টার টাঙিয়ে দিন।দেখুক লোকে।”
ইশান হাতে ওড়ান টা পেঁচিয়ে ফেললো বেশ খানিকটা।বাঁকা হাসলো।”ভুল বলিসনি।করা যায়।দেখতো কোমড়ের তোয়ালে টা আরেকটু নিচে নামাতে হবে নাকি।দেখ দেখ..”
তিতির দু হাতে জাপটে ধরলো নিজের চোখ।লোকটার একফোঁটা লজ্জা নেই।এ লোকের সাথে তার নাকি সংসার করতে হবে।খোদা মাফ করো।
“আসতাগফিরুল্লাহ।প্যান্ট পরুন বলছি।অসভ্য লোক।”
“তখন তো হা করে ঠিকই দেখছিলি।”
তিতির অবাক হলো।সে কখন দেখছিলো হা করে।উল্টো নিজেই তো আরও দেখানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে।আবার তাকে দোষ দেওয়া হচ্ছে। চোখ বন্ধ করেই ধাক্কা দিতে গেলো ইশানকে।ইশান ডান হাতে চেপে ধরলো তিতির এর দু হাত।তিতির ছটফট করতে লাগলো ছাড়ানোর জন্য।
“আপনার চোখে ন্যাবা হয়েছে।সরুন তো।মহা পাপ করে ফেলেছি এ ঘরে এসে।অসহ্য।”
ইশান হাত ছাড়লো না।উল্টো আরও শক্ত করে চেপে ধরলো হাতটা।তিতির ব্যাথা নীল হয়ে গেলো।চোখে পানি জমে এসেছে।তাকাচ্ছে না এখনো।ইশান তাকিয়ে দেখলো তাকে।ঠোট উলটাচ্ছে।তিরতির করে কাঁপছে ঠোঁট আর চোখের পাতা।নাক ফুলাচ্ছে।নাক টানলো দু বার।কান্না আটকানোর চেষ্টা আরকি।ইশান বাঁকা হাসলো।বিয়ে নাকি এ মেয়ে স্ব ইচ্ছায় করছে।নাচতে নাচতে রাজি হয়েছে। আবার বড় মুখ করে বলে তাকেই বিয়ে করতে চায়।অথচ এতটুকু তেই এমন মুখ লুকিয়ে আছে!
“তোকে চোখ খুলতে বলেছি।”
“আমাকে ছাড়ুন।ব্যাথা পাচ্ছি।”
“ব্যাথা দিয়েছি?”
“দিচ্ছেন না?”
“এটাকে ব্যাথা বলে?”
“আপনার মতো হাতি বুঝবে কিভাবে।ছাড়ুন।লাগছে।হাত ভেঙ্গে যাবে।”
“এটাকে তো ব্যাথা বলে না।”
“না বললো। তবুও ছাড়ুন। “
“তুই চোখ না খোলা অবধি ছাড়বো না।চোখ খুলবি।আমার মাথা থেকে পা অবধি চোখ বুলাবি।তারপর ভেবে দেখবো ছাড়বো কিনা।”
“জামাকাপড় পরুন।তাকাচ্ছি।”
“জামাকাপড় পরলে দেখবি কি!”
“দেখতে আমি চাচ্ছি না।”
“চাচ্ছিস না মানে! বিয়ে করছিস কেনো তাহলে।কি দেখতে!”
“আপনার রুপ।আহ্। ছাড়ুন।বলছি তো ব্যাথা পাচ্ছি। “
“সাউন্ড টোন টা সুন্দর। “
“আবার কর তো।”
তিতির এর শরীর শিরশির করে উঠলো।ইশান ঘেষে দাড়িয়ে আছে।
কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,”কি সমস্যা আপনার।ছাড়ছেন না কেনো আমাকে।আর নক না করে ঢুকবো না।সত্যি। খুব ব্যাথা লাগছে। “
কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে ইশানের ঠোঁট নিজের কানের কাছে অনূভব করলো।গরম নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে তিতির কে।কেঁপে উঠছে শরীর।শিথিল হয়ে আসছে।ইশান হাস্কিস্বরে বললো
“এর থেকেও বেশি ব্যাথা বিয়েতে। বিয়ের জন্য নাচছিস কেনো তাহলে।””
কি সব বলছে লোকটা।তিতির এর মাথা ঘোরাচ্ছে।একে তো হাতের ব্যাথা,তারপর লোকটা একেবারে গায়ের ওপর এসে এভাবে কথা বলছে।
“করবো না বিয়ে।ছাড়ুন না ভাইয়া।”
কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা লাগলো ইশানের। হঠাৎ হাতের মোচড়টায় শব্দ করে কেঁদে ফেললো তিতির।পিছন দিকে ধাক্কা অনূভব করলো।পিছিয়ে গেলো।পরতে গিয়েও পরলো না।
“বের হ তাড়াতাড়ি। আবার কিছু করে বসার আগে।
আর এখন থেকে জামার গলা ছোট করে দিতে বলবি দর্জিকে।”
দরজার দিকে বারানো পা টা থমকে গেলো তিতির এর।আজকেও সেই জামাটা।এর আগেও একদিন ই জামাটার কথাই বলেছিলো ইশান।ইশশশ কি লজ্জা।
তিতির ঝট করে ঘুরে দরজার ছিটকিনি খোলার জন্য হাত বাড়ালো।আরেক সমস্যা হলো।নাগাল পাচ্ছে না তো।দরজায় কপাল ঠেকিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো সে।কপাল টাই তার খারাপ।বাড়ির মানুষ তার সাথে পুরুষ মানুষ ভেবে একটা বাঘ কে বিয়ে দিচ্ছে।সেও অবশ্য স্ব ইচ্ছায় বাঘের মুখে পরতে চাচ্ছে।কিন্তু হুটহাট এমন অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলার মানে কি।বিয়ে টা হয়নি।একটু সময় লাগবে না মানাতে! দু বার লাফালো। কিছুতেই নাগাল পেলো না।
ইশান দেখছে মেয়েটার বাচ্চামো।লাফাচ্ছে দরজা খোলার জন্য।
“ছোটবেলায় তোর মামারা হরলিক্স খাওয়াতো দেখতাম।গ্লাসে গ্লাসে সকাল বিকাল গিলতি।যখনই সামনে পরতি দেখতাম হাতের তালুতে নিয়ে চেটে চেটে হরলিক্স খাচ্ছিস।লাভ কি হলো তাতে?সামান্য এই দরজা টাই খুলতে পারছিস না।লস!তোর পিছনে হরলিক্স এর টাকা খরচ করা লস।এক ইঞ্চিও বাড়িস নি ওতে।আর তোকে ঝোলাচ্ছে আমার গলায়।ঝোলাচ্ছে শব্দটা শুনে তো কেদেকেদে অস্থির হয়েছিলি।ভেবে দেখ ভুল বলিনি।আমার সমানে তুই কতটুকুন।আমার গলা জড়িয়ে ধরলো আমি সোজা হলে তুই কিন্তু ঝুলেই থাকবি।”
ফালতু লোক।উঠতে বসতে সব বিষয়ে ত্যাড়া, আর খোঁচা মারা কথা।ছোটবেলা গুড়া দুধ,হরলিক্স এর গুড়া কে না চেটে চেটে খেয়েছে।এ লোক আবার সে কথা মনে রেখে ঘটা করে পিন মেরে মেরে শোনাচ্ছে।অসহ্য লোক।তিতির মুখ বাকালো,দাঁতে দাঁত পিষলো।
“হরলিক্স এর ডেট এক্সপায়ার ছিলো বোধহয়। “
“তাহলে যে পরিমাণ গিলতি,এতদিন এ উপরে চলে যেতি।’
“ আপনি অস্বাভাবিক লম্বা।তাই আমাকে খাটো লাগে।”
“নিজেকে আয়নায় দেখেছিস?একটা টেডির সমান।””
তিতির এর ইচ্ছে হচ্ছে গলাটা টিপে ধরতে।কিন্তু দরজা এখনো খুলতে পারেনি।এর আগেই কিছু করলে এ ঘরেই তার কবর হয়ে যাবে।তাই আপাতত গলা টেপার ইচ্ছে টা গলা টিপে মিনমিনে গলায় বললো,”সত্যি খুব লস হয়েছে মামাদের। আমি চাকরি বাকরি করে বয়াম বয়াম হরলিক্স কিনে দিবো মামাদের আবার।এখন অন্তত দরজা টা খুলে দিন না এখন।প্লিজ?”
“এ বাড়িতে আর কেউ হরলিক্স খায়না।”
“আপনার বাচ্চাদের খাওয়াবেন।”
“কি?কাদের? ”
“আপনার বাচ্চা…”
তিতির থমকে গেলো।কথার প্যাচে কি রেখে কি বলছে।কাল এই বিটকেল লোকটার সাথে তার বিয়ে।এই লোকের বাচ্চা মানে তো…ইশশশ কি লজ্জা।তিতির এর মুখটা টমেটোর মতো লাল হয়ে গেলো।
ইশান এগিয়ে এলো।তবে দরজা খুললো না।দু হাত রাখলো দরজার ওপর,তিতিরের দু পাশে।।তিতির আবার বন্দি হলো সেখানে।সুঠাম ইশানের সামনে তিতির কে এতটুকুন দেখালো।তিতির হাত পা চেপে চুপসে রইলো।ইশান হাত বাড়িয়ে চুলের কাকড়া টা খুলে ফেললো।ঝরঝরে চুলগুলো ছড়িয়ে গেলো পিঠের ওপর।কোমড় ছাড়িয়ে নেমে গেলো আরও অনেকটা।
দরজার ছিটকিনি খুলে দিয়ে ফিরে গেলো বিছানার কাছে।তিতির এক সেকেন্ড দাড়ালো না আর।দৌড়ে বেড়িয়ে এলো।ইশশশ নিচে সবাই না জানি কি ভাবছে।ডাকতে এসে ঘন্টা খানেক নিখোঁজ।
যা ভেবেছিলো ঘটলোও তাই।নিচে নামার সময়ই টের পেলো সবার নজরই তার দিকে।মামা রা এখন কেউ নেই।বোধহয় ঘরে গিয়েছেন।রাহেলা আর রিক্তা দেওয়ান খাবার গুছিয়ে ফেলছেন।তিতির সোফার কাছে এসে বসতেই বাঁকা হেসে ধাক্কা দিলো নূরি।
“এতো দেরি হলো?সামান্য একটা ডাক দিতে?”
বড় দু জা মিটমিটিয়ে হাসছেন দূর থেকে।
তিতির স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলো।অজান্তেই লজ্জা পাচ্ছে সে।
“শাওয়ার নিচ্ছিলো তোমাদের ভাই।অপেক্ষা করছিলাম তাই।”
“আমাদের ভাই???তা আমাদের ভাই টা তোয়ালে এগিয়ে দিতে ডাকেনি…”
“নিয়েই ঢুকেছিলো।”
“তাও তো তোয়ালে টা চাওয়ার কথা…তা না হলে এতো দেরি হলো।”
বলেই মুখ চেপে হেসে ফেললো নিশি,নূরি,তমা।ছোট গিন্নি শাড়ির আচলে মুখ চাপা দিলেন।নয়ন আহত হলো সেসব কথায়। সে সব কথায় কান না দেওয়ার চেষ্টায় ফোন কানে উঠে গেলো দূরে।তিতির এর নাক কান লাল হয়ে গেছে।গরম বাতাস বের হচ্ছে কান থেকে।
“ছোটপু।কিসব বলছো।সবাই আছে।”
“ওওওও সবাই আছে!তার জন্য বলছিস না!তার মানে কিছু মিছু?”
“ধ্যাত।কিচ্ছু না।বললামই তো।আমি অপেক্ষা করছিলাম জাস্ট। “
“তাহলে ব্লাশ করছিস কেনো এতেো। আয়না ধরবো?”
“এই না।”
রাহেলা দেওয়ান হাত মুছে এসে বসলেন তিতির এর পাশে।জড়িয়ে ধরলেন তিতির কে।আলতো থাপ্পড় লাগালেন নূরির বাহুতে।তিতির ও মুখ লুকালো বড় মামনীর বুকে।
“মেয়েটাকে জ্বালাচ্ছিস কেনো।আমি শাশুড়ী এখানে আছি।মেয়েটা বুঝি লজ্জা পায়না।যা বলবি আলাদা ডেকে বলবি।”
“বড় মামনী তুমিও..।
সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পরলো।ইশান নেমে আসছে।ইশানকে দেখেই স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো সবাই।যদিও নিশি,নূরি ঠোট টিপে হাসছেই।
ইশানকে দেখে হাতে এগিয়ে পাশে এসে বসতে বললেন রাহেলা দেওয়ান।
“ বোস এখানে।”
ইশান বসলে মায়ের পাশে।
“তোকে বলেছিলাম তিতির এর শাড়ি কিনতে যাওয়ার সময় সাথে থাকবি।ফোনেই পেলাম না তোকে।”
“ব্যাস্ত ছিলাম মা।তাছাড়া আমি এসবের কি বুঝি।”
রাহেলা দেওয়ান কথা বাড়ালেন না।হাত বাড়িয়ে তিতির এর জন্য কেনা লাল টকটকে বেনারসি টা বের করলেন।জড়িয়ে দিলেন তিতির এর গায়ে।
“দেখ তো। তোর বউকে কেমন লাগছে।”
ইশান দেখেও দেখলো না যেনো।ফোন হাতে ব্যাস্ত ভঙ্গিতে উঠে দাড়ালো।
“ভালো মা..সুন্দর। তুমি কিনেছো সুন্দরই হবে।”
রাহেলা দেওয়ান হতাশ হলো।”তাকালিই তো না।”
সাঁঝের মায়া পর্ব ১৬
ইশান সিড়ির দিকে হাঁটা দিলে”দেখেছি মা।আমার ইম্পরট্যান্ট একটা কল এসেছে।তোমরা কথা বলো।”
ইশান অপেক্ষা করলো না আর।আর না তো লাল বেনারসি টা দেখলো একবার।তিতির ছলছল চোখে ইশানের প্রস্থান দেখলো। এখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে এই বেয়াদব মেয়ের ছলনায় পরার মানেই হয়না।
নয়ন দোতলার করিডর থেকে অবিরাম তাকিয়ে দেখছে তিতিরকে।কি সুন্দর লাগছে।বেনারসি তো এখনো পরেই নি।শুধু গায়ের ওপর দেওয়া,তাই একদম লাল টুকটুকে বউ লাগছে।দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে।বুক জ্বালা করে তিতির কে দেখলে আজকাল।ছিদ্র হয়ে যেতে চায় প্রান টা।তবে সব অনূভুতি কে কবর দেবে সে।ভাইয়ের বউয়ের দিকে নজর দেওয়া রীতিমতে অন্যায়,পাপ।থাকলো না হয় কিছু অনূভুতি নিরবে,জীবন কেটে যাবে জীবনের মতো।ঠিক কেটে যাবে!
