Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৫

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৫

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৫
তানিয়া হুসাইন

হাসপাতালে ডাক্তার জানিয়েছে, চিন্তার কিছু নেই। ওয়াশরুমে পড়ে যাওয়ার কারণে পেটে চাপ লেগেছিল, তবে আল্লাহর রহমতে মা – বাচ্চা দুজন-ই সুস্থ আছে। কিছু ওষুধ দিয়েছি, বিশ্রামে রাখবেন।
সবার বুক থেকে যেন একটা পাথর নেমে গেল।
ইশায়া ও সাফা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সারা বিকেল দৌড়াদৌড়ির পর একটা নিশ্চিন্ততা এলো। হাসপাতালের পরিবেশ, ডাক্তারের কথা আর অপেক্ষার দীর্ঘ সময়ের মাঝে তারা ভুলেই গেল রাস্তায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটা।
এ দৌড়াদৌড়ির মাঝে এগুলো আর মনে হয় নি।
সবাই একটা আতঙ্কের মাঝে ছিল।

____কিন্তু অন্যদিকে,
ভীরের জন্য আজকের দিনটা অস্বাভাবিক। সে বাংলাদেশে এসেছে তার চোরা চালানের নতুন রুট সেট করতে, তার শক্তি বিস্তারের জন্য। সেজন্যই এই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং।
ডিম লাইটের নিচে বসে থাকা ভীরের সামনে ম্যাপ ছড়ানো, পাশে ম্যাটিয়াস আর কয়েকজন বসে,
নিকো তার পাশে,
কিন্তু ভীরের মন নেই মিটিংয়ে।
___তার মাথায় ঘুরে ফিরে ওই সন্ধ্যা বেলার দৃশ্যটা ভাসছে।
সে বুঝতে পারছে না বারবার একই কথা কেন মনে আসছে।
____Boss, this route will be perfect. The security is weak, and we can—
ভীরের হাতের থাবা হঠাৎ টেবিলে বাজ পড়ে। সবাই চুপ। তার মেজাজ আজ তীক্ষ্ণ, কিন্তু কারণটা কেউ জানে না।
বারবার তার মনের ভেতর ভেসে আসছে সেই মেয়ে,
—চোখের কাজল, ছোট্ট তিল, তার আতঙ্কিত মুখ, ভয় মেশানো গভীর চোখের চাহনি।
“Shit!”
বলে হঠাৎ সে উঠে দাঁড়ায়, কাচের গ্লাস টেবিলে ছুড়ে ফেলে দেয়। গ্লাস ভেঙে খানখান। সবাই তাকিয়ে থাকে।
-meeting is over!
বলেই ভীর রাগী পায়ে বেরিয়ে যায়।

রাত গভীর। হোটেলের রুমে একের পর এক ড্রিংক করে চলেছে ভীর। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভীর সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে, কিন্তু আজ ধোঁয়াটাও তার মস্তিষ্কের জট খুলতে পারছে না।
ওই চোখ। ওই ভয়ের অনুভূতি। ওই মুখের সরলতা।
ওই মেয়ে।
এরকম কেউ সে আর দেখে নি।
তার ভিতরে কি যেনো একটা করছে।
কোন কিছুকে কাছে রাখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
কেন এতবার ভেসে আসছে এই দৃশ্য?
ভীর রাগে গ্লাস ছুড়ে ফেলে দেয়।
সামনে রাখা কাচের টেবিলটা উঠিয়ে ছুড়ে মারে।
নিজের ভাবনায় বিরক্ত হচ্ছে সে।
নিজের চুলের মাঝে হাত চালিয়ে মুখ শক্ত করে আয়নার দিকে তাকিয়ে বলে।
_No, this is not happening!
সে কখনও মেয়েদের নিয়ে ভাবেনি। তার জীবন কেবল ক্ষমতার খেলা, হ*ত্যা, শাসন। কিন্তু আজ?
ভীরের নিজের ওপরেই রাগ হচ্ছে।
সে নিজের দিকে তাকিয়ে গর্জে ওঠে—
What the hell is wrong with you, Bheer?!

রুমে নক করার শব্দে ভীর বিরক্ত হয়,
চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে,
তারপর গম্ভীর গলায় বলে,
__Come in.
হোটেলের ঘরটা নরম আলোয় আলোকিত, কিন্তু ভীরের মুখে কোনো অনুভূতির ছায়া নেই। বাইরের রাতের অন্ধকারের মতোই তার চোখ গভীর শীতল।
____দরজা খুলে এক লাস্যময়ী যুবতী মেয়ে ঢুকে এলো। পরিপাটি সাজ,রিভেলিং পোশাক, আকর্ষণীয় সৌন্দর্য।
__নিকো ভীরের অস্থিরতা কাটানোর জন্যই মেয়েটাকে পাঠিয়েছে।
কিন্তু ভীরের চাহনিতে কোনো পরিবর্তন নেই।
___মেয়েটা ধীরপায়ে এগিয়ে এল। চোখে এক ধরনের আকর্ষণ জমে আছে। ভীরের সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসে, হাত বাড়িয়ে ভীরের পায়ের উপর রাখার চেষ্টা করল।
“Don’t.”
শীতল স্বরে উচ্চারিত হলো একমাত্র শব্দটি।
মেয়েটা থমকালো, তবে থামল না। এবার সে একটু নিচু হয়ে ভীরের দিকে ঝুঁকল।
ধপ!
এক মুহূর্তের জন্য বাতাস থমকে গেল।
ভীরের পায়ের জোরালো আঘাতে মেয়েটা ছিটকে পড়ল মেঝেতে। হতবিহ্বল চোখে সে ভীরের দিকে তাকাল।
ভীর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল, তার গলা ভয়ংকর, গভীর আর শান্ত, কিন্তু তাতে একটা তীব্র হুমকির আভাস ছিল।

___ভীর হাতে রিভ*লবার তুলে নেয়…
রাগী, কঠোর কন্ঠে বলে,
_Get the hell out before i rip you Apart.
___মেয়েটা আর কিছু না বলে, উঠে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।
___ভীরের চিৎকার শুনে তখনই দরজা খুলে নিকো ভেতরে ঢুকে,
চোখে বিরক্তি, মুখে চাপা উদ্বেগ।
Damn it, Veer.
আমি ভেবেছিলাম, হয়তো এটা তোমার মুড ভালো করবে!
___ভীর কিছু বলে না।
_ভীর ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। চোখের দৃষ্টি হিংস্র হয়ে উঠল, যেন সে একটা দাবানলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে।
ভীর গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। এই অনুভূতি, এই চিন্তাগুলো তার জন্য একেবারেই নতুন। সে কখনো কারো কথা এতবার ভাবে না,এই চেহারা টা তার মাথা থেকে সরছেই না। আজ, এই মেয়েটা যেন তার মন-মস্তিষ্ক দখল করে ফেলেছে।
তারপর একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিল,
—যদি এই মেয়ে তার মাথা থেকে না সরতে চায়, তবে সে তাকে নিজের সামনে রাখবে, তার আয়ত্তে রাখবে।

____গলায় গম্ভীর সুর এনে ভীর ধীরে ধীরে নিকোকে বলল,
“ওই মেয়েকে খুঁজে বের করো।”
নিকো অবাক হয়ে ভীরের দিকে তাকাল। ভীর সাধারণত এভাবে কারো ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় না।
বিশেষ করে কোন মেয়ে।
___নিকো একটু এগিয়ে এসে কৌতূহলীভাবে বলল, Which girl?
ভীর এবার একটু রুক্ষ স্বরে বলল,
আজ বিকেলে যে দুটো মেয়ে ছিল,
__The one behind, the one who was begging.
এবার নিকো হেসে উঠল। চোখে এক ধরনের কুটিল দৃষ্টি।
তাহলে দুজনকেই নিয়ে আসি? ওই তেজি মেয়েটার সাহস আমার পছন্দ হয়নি। ওর তেজ আমি ভাঙবো। নিলামে তুললে ভালো অঙ্কের টাকা উঠবে, কি বলো।
ভীর কঠোর স্বরে বলল,
___আমার শুধু ওই মেয়েটাই চাই। ওকে আমার সামনে হাজির করো।
__নিকো এবার আর কথা বাড়াল না।
সে জানায় কাজ হয়ে যাবে।
নিকো বেরিয়ে যায়।

____কিন্তু মেয়েটাকে তো সে এমনিতেই ছাড়বে না।
___ভীরের হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করা, চোখের ভেতর এক ধরনের দখলের আগুন জ্বলছে।
সে নিজেকে শান্ত করতে চাইছে, কিন্তু পারছে না।
এই মেয়েটা তার মাথা থেকে যাচ্ছেই না।
যদি সে তার চোখের সামনে না থাকে, তাহলে মাথা থেকেও যাবে না।
এটাই সমাধান।
তোমাকে আমার সামনে আসতেই হবে,ভীর ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলল।
এরপর কি হবে জানিনা।
কিন্তু তোমাকে ভীর আলভারেয এর কাছে আসতে হবে।

_ইশায়া আরাম করে মায়ের সামনে বসে আছে, কিন্তু তার মুখটা কেমন যেন অস্বস্তিতে কুঁচকে আছে। কারণ তার মা, সায়মা রহমান, শক্ত হাতে তার মাথায় তেল মাখিয়ে দিচ্ছেন।
___উফফ্ মা! তুমি এত জোরে জোরে ঘষছো কেন? ইশায়া অভিযোগের সুরে বলল, মুখটা একটু ফুলিয়ে।
___সায়মা রহমান বিরক্ত ভঙ্গিতে বললেন, এত বড় মেয়ে হয়েছিস, এখনো নিজের চুলের ঠিকঠাক যত্ন নিতে পারিস না! এত সুন্দর চুল তোর, আর তুই একদম খেয়াল করিস না। দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!
___ইশায়া চোখ গোল করে তাকাল। মা, কালকের দিন বাদেই তো এনগেজমেন্ট! আমি কত সুন্দর একটা হেয়ারস্টাইল ভেবেছি, তুমি এখন এই তেল দিয়ে আমার সব প্ল্যান ভেস্তে দিচ্ছো।
___সায়মা হেসে বললেন, তোর চুল যদি সুন্দর না থাকে, তাহলে হেয়ারস্টাইল কেমন হবে বল তো?
___ইশায়া কিছু বলতে যাবে, এমন সময় টিভিতে চলতে থাকা একটা নিউযে তার চোখে পড়ে। রিমোট হাতে নিয়ে সে ভলিউম বাড়িয়ে দিল।

____আজ সন্ধার পর ঢাকার ব্যস্ত রাস্তার পাশে ১১ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লা*শ উদ্ধার করা হয়েছে।
মুখ দেখে পরিচয় বের করার কোন উপায় নেই।
বীভৎসভাবে খু*ন করা হয়েছে ওদেরকে। পুলিশের সন্দেহ, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের কোনো কাজ। সিআইডি এবং পুলিশের বিশেষ বাহিনী ধারণা করছে, সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকোর কুখ্যাত মাফিয়া সংগঠনের কিছু সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
___সংবাদ উপস্থাপকের কণ্ঠে উত্তেজনার ছোঁয়া। সূত্রের দাবি, এটি মেক্সিকোর মাফিয়া আলভারেয এর গ্যাং এর কাজ হতে পারে, যারা মেক্সিকোর অন্যতম ভয়ংকর মাফিয়া।
___ইশায়ার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল। সে মনে মনে ভাবল,
মাফিয়া।
__তার মা তেল লাগানো হাত মুছতে মুছতে বললেন, “দেখলে? এখন তো এইসব ভয়ের ব্যাপার শুরু হয়ে গেল! তোর বাবা তো বলছিলেন,
শহরে কেমন যেন অস্বাভাবিক কিছু লোক ঢুকেছে। আল্লাহ জানে, এরা কী করতে এসেছে।
___ইশায়ার গলা শুকিয়ে এলো। আজ বিকেলের সেই ঘটনাটা আবার মনে পড়ে গেলো—
এটা তো সেই রাস্তা।
কালো পোশাকের অজস্র গার্ড, বন্দুকের মুখে সাফা, আর সেই হিংস্র দৃষ্টি।

_ইশায়া দ্রুত টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকাল, যেখানে সন্দেহভাজনদের ধোঁয়াটে ছবি দেখানো হচ্ছিল।
এই লোকগুলোর সাথেই বিকেলে তাদের দেখা হয়েছিল।
___ইশায়া দৌড়ে গিয়ে ছাফাকে ফোন দিয়ে সব বিষয় বলে।
সাফা ও ভয় পেয়ে যায় শুনে।
এখন সাফার ও আফসোস হচ্ছে কেন ওদের সামনে পড়েছে।
কিন্তু সাফা ইশায়াকে বারন করে এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলতে।
___এমনিতেই জান্নাত ভাবী অসুস্থ,তার মাঝে দুদিন পর একটা অনুষ্ঠান, সবাই টেনশন করবে।
ইশায়া মেনে নেয় সাফার কথা।

ভীরের দেহটা ভারী হয়ে আসছিল। অতিরিক্ত ড্রিংকের কারণে চোখদুটো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে এলো।
ঘুমের গভীরে ডুবে যেতে যেতে হঠাৎ করেই সে দেখতে পায়,
আলোছায়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এক অসামান্য সুন্দরী নারী। ঘন কালো চুল কোমর ছুঁয়ে গেছে, চোখের ভেতর এক অদ্ভুত রহস্যময়তা, ঠোঁটের পাশে সেই ছোট্ট তিলটা যেন পুরো মুখের আকর্ষণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
সে হেসে কিছু বলছে, কিন্তু শব্দগুলো কানে আসছে না। বাতাসে তার চুল উড়ছে, তার চোখ।
ভীর এক পা এগিয়ে গেল।
নারীটা হাত বাড়াল তার দিকে। ভীরও নিজের হাত বাড়াল, তাকে ছোঁয়ার জন্য…
ঠিক তখনই স্বপ্নটা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।
“শিট!”
ভীর ধড়মড় করে উঠে বসল। মাথা দু’হাত দিয়ে চেপে ধরল। চোখ রাগে রক্তিম হয়ে গেছে। বুকের ভেতর প্রচণ্ড অস্থিরতা আর বিরক্তি কাজ করছে।
সে এক ঝটকায় বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। চেয়ারের পাশে রাখা গ্লাসটা টেবিল সহ এক ধাক্কায় মেঝেতে ফেলে দিল। কাঁচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল, কিন্তু সেটা দেখার সময় নেই তার।
“কি হচ্ছে এসব আমার সাথে?”
এই প্রথম কোনো মেয়ে তার মাথার মধ্যে এভাবে ঢুকে গেছে। প্রথমবার সে কাউকে মনে রেখে দিয়েছে এতোক্ষন ধরে।

___তার নিজের ওপরেই রাগ হচ্ছে, কেন তাকে ওইসময় সে যেতে দিল।
কেনো তখন-ই, আটকে রাখেনি।
__তাহলে এখন এই অস্থিরতাটা হতো না।
এখন তাকে যেভাবেই হোক খুজে বের করতে হবে।
সেদিন আর ঘুম হয় নি ভীরের।
নির্ঘুম থাকার কারণে চোখগুলো আগুনের মতো লাল হয়েছিল।
সারাটা বেলা তার আক্রোশের মাঝে পড়তে হয়েছে সবাইকে।
যেই কাজের জন্য এসেছিলো সেটা আর করা হলো না ভীরের।
এই প্রথম বার এমন কিছু হলো।
____
ভীরের আদেশ পাওয়ার পরই পুরো টিম নড়েচড়ে বসে
—এই কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতেই হবে।
নিকো, সান্তিয়াগো, এবং এনরিকো তিনজনেই ভিন্নভাবে মাঠে নামে।
ডিয়েগো ভীরের সাথে ছিলো।

এনরিকো তার হ্যাকারদের কাজে লাগিয়ে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ ট্র্যাক করতে বসে যায়।
রাস্তার ফুটেজ খুঁজতে সময় লাগে না। সেদিনের ঘটনাস্থলের কাছেই একটা হাসপাতালের ফুটেজে ধরা পড়ে ইশায়া ও সাফা।
একটা সাদা স্কার্ট, গোলাপি টপস পরা মেয়ে অস্থিরভাবে তার বোনকে ধরে হাসপাতালে ঢুকছে।
ক্যামেরা ফুটেজ জুম করে দেখা যায় হাসপাতালের নাম: মেডিনসিটি হসপিটাল।
এনরিকো সাথে সাথেই সেটা নিকোকে জানিয়ে দেয়।
–নিকো সান্তিয়াগোকে পাঠায় মেডিনসিটি হাসপাতালের দিকে।
সান্তিয়াগো সেখানে গিয়ে টাকার জোরে এক কর্মচারীকে হাত করে নেয়। কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সে জানিয়ে দেয় যে, “হ্যাঁ, ওই রাতেই দুইজন মেয়ে এখানে এসেছিল।
তাদের পরিবারের একজনের অ্যাক্সিডেন্ট হয়।

___কর্মচারী তাদের দেয়া নামও জানায়: সাফা আহমেদ, ইশায়া রহমান।
পেসেন্ট ছিল জান্নাত।
আরো অনেকেই ছিল সবার নাম বলে।
___এবার ইশায়ার পুরো পরিচয় পেতে আর দেরি হয় না
__মেডিনসিটি হাসপাতালের রেকর্ড ঘেঁটে ইশায়ার ঠিকানা পায় সান্তিয়াগো।
__ ধানন্মন্দি ১৫ নম্বর, ব্লক-C—এটাই তাদের বাসার লোকেশন।
___নিকো খবর পেয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। খেলা শুরু করা যাক।
____নিকো প্রথমেই ছুটলো ভীরের কাছে।
দরজা ধাক্কালো ভীরের রুমের।
___ভীর দরজা খুলে তাকালো তার দিকে।
চোখের নিচে গভীর ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু তবুও তার চোখে সেই আগুন জ্বলছে।
___নিকো ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
খুঁজে পেয়েছি।

__ভীর কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না।
___নিকো হাসলো,
ওর নাম ইশায়া রহমান।
___ভীরের দেহে একটা শিহরন বয়ে গেলো।
আজ রাতের মধ্যেই মেয়েটা তার সামনে থাকবে।
__তার চোখের সামনে, তার আয়ত্তে।
ভীরের নির্দেশনা অনুযায়ী মেয়েটির বাড়ির চারপাশে গার্ড ছড়িয়ে পড়ল।
_____মাফিয়া গার্ডরা ইশায়ার বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
তারা ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়—কেউ চায়ের দোকানে, কেউ রাস্তার ধারে পার্ক করা গাড়ির মধ্যে, কেউ সামনের শপিং মলে।
প্রত্যেকেই অপেক্ষায়, কখন ইশায়া বা সাফা বের হবে।
একবার বের হলেই,
—তারা নিশ্চিত, এই মেয়ে আর হাতছাড়া হবে না।

_____ হঠাৎ মারাত্মক বুক ব্যথা আর জ্বরের কারণে আজ ইশায়া স্কুলে যায়নি।
সাফার সাথে শপিংয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যেতে পারেনি।
হয়তো কালকের ঘটনার জন্য ভয় পেয়েই আজ মেয়েটা জ্বরে ভুগছে।
___ইশায়ার কাছে এই কষ্ট টা বিরক্তির হলেও,
হয়তো আজকে এই অসুস্থতার কারণে ও ওর পরিবারের সাথে আরও একটা দিন কাটাতে পারছে, সবার আদর উপভোগ করতে পারছে।
___না হলে ওর উপর যার চোখ পড়েছে, সে কি ওই নজর থেকে বাঁচতে পারবে।
ভীর আলভারেয! যার নামটাই একটা আতঙ্ক, তার হাত থেকে কি বাঁচতে পারবে সাধারণ একটা মেয়ে।

_____ভীর তার সিগারেট ধরিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।
____আজ বেঁচে গেলে কিন্তু কাল।
তারপরের দিন, সামনে তো তোমায় পড়তেই হবে বেবি গার্ল।
ভীর আলবারেয ইজ ওয়েটিং ফর ইউ।
___কালকেই ইশায়া রহমান তার সামনে থাকবে।
সে দেখতে চায় ইশায়াকে, সামনে থেকে দেখতে চায়। কি আছে এই মেয়ের মাঝে, যার এক দেখাতে সে এতটা অস্থির হয়ে গেল।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪

___সে চাইলে এই মুহূর্তে-ই তাকে নিয়ে আসতে পারে।
কিন্তু এটা সে করবে না।
ভীর কোন সাধারণ মাফিয়া না।
সে শিকার ধরতে জানে,কিন্তু তার শিকার কখনোই তাকে চিহ্নিত করতে পারে না।
এটাই তার নিয়ম।
এজন্যই সে রাজভীর আলভারেয।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬