হামিংবার্ড পর্ব ৬০
তাসমিয়া তাসনিন প্রিয়া
আজ পাঁচ দিন পর খান বাড়িতে পা পড়লো অরার। অনাগত অতিথিকে হারিয়ে সবার মন ভারাক্রান্ত থাকলেও অরাকে আবারও ফিরে পেয়ে সবাই খুব খুশি। তামান্না বলতে গেলে অরার পছন্দ অনুযায়ী সব খাবার রান্না করেছে। এতো এতো পদের রান্না দেখে চমকে গিয়েছিল সে। সবাই আদরযত্ন করে অরাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে চায়। তবে অরার মনে অশান্তির বীজ যেন তড়তড় করে বাড়ছে। আরিশের অতিরিক্ত রাগ, জেদ সবকিছু আজকাল অরাকে খুব ভাবাচ্ছে।
দুপুরের খাওয়াদাওয়া করে রুমে এসে শুয়েছে অরা। আরিশ ল্যাপটপে মুখ গুঁজে, কাজে ব্যস্ত। এতদিন বিজনেসের দিকে ভালো করে খেয়াল দিতে পারেনি বলে নানান সমস্যা দেখা দিয়েছে। অরা আনমনে আরিশের কথাই ভাবছে। বাবা-মা, বোন সবাই তাকে স্বান্তনার বাণী শুনিয়ে গিয়েছিল – আরিশ শুধরে যাবে। কিন্তু আসলেই কি শুধরবে? দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল অরা। হঠাৎ করে জীবনটা কেমন জানি দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে তার।
“ আরিশ! ভেতরে আসব?”
আচমকা চাচির কণ্ঠস্বর শুনে মাথা তুলে তাকাল আরিশ। তাসলিমা খাতুন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। আরিশ একনজর দেখার পর আবারও ল্যাপটপের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলল,
“ আসুন। “
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আরিশের এমন হাবভাব অরার ভীষণ খারাপ লাগে। ছেলের ঘরে আসতে গেলেও অনুমতি লাগবে? প্রথম প্রথম তামান্নার কাছে আরিশের বিষয় সবকিছুই শুনতো অরা। আরিশ বরাবরই এমন স্বভাবের। কাউকে নিজের ঘরে আসতে দিতেও অসহ্য লাগতো তার। এমনকি কেউ অনুমতি ছাড়া ঘরে ঢুকতে পারে না।
তাসলিমা মুচকি হেসে অরার দিকে এগোলেন। অরাও হাসির বদলে চওড়া হাসি উপহার দিলো তাকে।
“ কেমন আছো এখন, অরা?”
বিছানার পাশেই দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন তাসলিমা। অরা মুচকি হাসল। পরক্ষণেই ম্লান হয়ে গেলো তার চেহারা।
“ আলহামদুলিল্লাহ। আপনি বসুন, চাচি। “
তাসলিমা ধীরেসুস্থে অরার পাশে বিছানায় বসলেন। অরা আবারও বলল,
“ আপনার শরীর কেমন আছে এখন?”
“ ভালো আছি রে মা… শুধু ইদানীং কোমড়ের ব্যথাটা বেড়েছে একটু। “
“ সে কী! ঔষধ খাননি? না-কি ডাক্তার দেখাননি? “
কিছুটা ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠল অরা। আরিশ তার আচার-আচরণ দেখছে কেবল। একটা মেয়ে এতো সহজে কাউকে এভাবে আপন করে নিতে পারে?
“ সবকিছু করেছি। বয়স হচ্ছে তো। শরীরে এখন একটু-আধটু অসুখ থাকবে। তুমি ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করো, অরা। চোখমুখ কেমন ফ্যাকাসে লাগছে। “
“ জি, করবো চাচি। “
তাসলিমা খাতুন বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। অরা শোয়া থেকে উঠতে চাইলে আরিশ ধমকে ওঠে –
“ উঠছো কেন?”
আচমকা ধমকে কিছুটা ভয়ই পেয়েছে অরা। তাসলিমা নির্বাক।
“ ওঠা যাবে না? এমনি বসতে চেয়েছিলাম। “
“ মাত্রই তো খেয়ে শুয়েছিলে, আরকিছু সময় থাকো। “
অরার ভালো লাগছে না। সে কথা বাড়াতে চায় না। চুপচাপ শুয়ে পড়ে। আরিশের এমন অতিরিক্ত যত্নশীল মনোভাব আজকাল বিরক্ত লাগে তার।
“ আমি আসছি, পরে কথা হবে। “
“ আচ্ছা চাচি।”
তাসলিমা খাতুন ধীরপায়ে দরজার দিকে এগোলেন। উনি চলে যেতেই আরিশ গিয়ে দরজা আঁটকে দিয়ে বিছানায় গিয়ে বসে।
অরা মুখ গোমড়া করে চুপচাপ শুয়ে আছে। আরিশ তাকে শোয়া অবস্থায় কোলের উঠিয়ে শুইয়ে দিলো। একহাতে অরার মাথা রাখা, অন্য হাতে তার কপালের ওপর পড়ে থাকা ছোটো চুলগুলো সরিয়ে দিচ্ছে আরিশ।
“ কী হয়েছে? মন খারাপ, হামিংবার্ড?”
অরা কথা বলে না। মাথা নাড়ে কেবল। আরিশ নিজে থেকেই বলে,
“ আমার পাখিটা আর আগের মতো নেই। ছোট্ট, ভীতু, আদুরে একটা মেয়ে ছিলো – আমার হামিংবার্ড। যাকে শত যন্ত্রণা দিলেও একটু ভালোবাসা পেলে গলে যেতো। সেই মেয়েটাকে হুট করেই যেন হারিয়ে ফেলেছি আমি। তুমি কি জানো অরা, কোথায় গেলে তাকে আমি পাবো?”
অরার বুক চিঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। চোখ ছলছল করছে। চাইলেও আগের মতো আরিশের সাথে মিশতে পারছে না সে। হয়তো শুরু থেকেই আরিশের অতিরিক্ত ভালোবাসা, আদর, জেদ, রাগ, হিংস্রতা নিয়ে অরার মনে একটা ক্ষোভ লুকিয়ে ছিলো। বাচ্চা নষ্ট হওয়ার পর থেকে সেই ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
“ আমি জানি না, আরিশ। “
আরিশের বুকটা কেমন করছে। মনে হচ্ছে খালি হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকে অরার কপালে ঠোঁট স্পর্শ করায় সে, তারপর গালে, একে একে নাকের ডগায় এবং পরিশেষে অরার হাতে।
“ বিশ্রাম নাও। আমি একটু বের হবো। “
“ কোথায় যাবেন?”
“ কিছু কাজ আছে। সেগুলো করতে হবে। এতদিন অফিসে যাইনি তো, নানান ঝামেলা হয়েছে। “
আরিশ অরাকে বিছানায় আলতো করে শুইয়ে দিয়ে ওয়ারড্রবের দিকে এগোল।
“ ঠিক আছে। “
অরার সংক্ষিপ্ত উত্তর। আরিশ বাইরে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই রুম ত্যাগ করে। ভদ্রলোক চোখের আড়াল হতেই শোয়া থেকে উঠে বসে অরা। সাথে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কিছুদিন বাবার বাড়ি থাকতে পারলে ভালো লাগতো – এসব ভাবতে থাকে অরা। কিন্তু আরিশ? সো কি যেতে দেবে অরাকে! রাগে বালিশ ছুড়ে ফ্লোরে ফেলল অরা। সামান্য বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়েই এতো ঝামেলা কার ভালো লাগে?
ফোনের রিংটোনের শব্দে নড়েচড়ে উঠল সে। কে কল করলো ভাবতে ভাবতে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল, আরিশ কল করেছে। মাত্র বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো, এরমধ্যেই কল কেন? কিছুটা বিরক্তি নিয়ে কল রিসিভ করলো অরা।
“ হ্যালো!”
“ ঘর থেকে বেরিয়ে বেশি হাঁটাহাটি করবে না, পাখি। তোমার শরীর অনেক দূর্বল। আমি তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো। “
“ আচ্ছা। “
কল কেটে দিলো অরা। চুপচাপ বসে রইলো ওভাবেই!
ভরদুপুর বেলা। আকাশে কালো মেঘ করেছে। শীঘ্রই হয়তো বৃষ্টি হবে। উত্তরের ঠান্ডা হাওয়া এবং দূর আকাশের কালো মেঘগুলো অন্তত এমনই আভাস দিচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে বোনের শরীর খারাপের বিষয় চিন্তিত থাকার ফলে পলাশের বিষয়টা কিছুটা হলেও ভুলে ছিলো নয়না। কিন্তু আজ ভীষণ করে মনে পড়ছে তাকে। পলাশের নতুন ফোন নম্বর স্কুলের কারোর কাছেই নেই। যাওয়ার আগে কেবল নয়নাকে নতুন সিমের নম্বরটা দিয়ে গিয়েছিল। অথচ নয়না সেটা হারিয়ে ফেলেছে। বুকের পাঁজর ফুঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
“ নয়না ছাদে গিয়ে জামাকাপড়গুলো একটু নিয়ে আয়, তো। “
মায়ের গলা শুনে জানালার পাশ থেকে সরে দাঁড়াল নয়না। রোকসানা নয়নার রুমে একবার উঁকি দিলেন। তড়িঘড়ি করে যেতে যেতে ফের বললেন,
“ দাঁড়িয়ে না থেকে যা, তাড়াতাড়ি। বৃষ্টি এলো বলে…..”
“ হ্যাঁ, মা। যাচ্ছি। “
নয়না দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে এগোয়। ছাদে যেতেই তার দু-চোখ জুড়িয়ে গেল। বৃষ্টি আসার আগমুহূর্তের মতো সুন্দর দৃশ্য প্রকৃতিতে আর দ্বিতীয়টি নেই বলেই মনে হলো তার। ছাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু-হাত ছড়িয়ে আকাশের পানে মুখ করে দাঁড়াল নয়না। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে ধরণীর বুকে, সাথে শীতল হাওয়া বইছে। নয়নার মনটা কেমন ফুরফুরে হতে লাগলো। আচমকাই মনে পড়লো পলাশের দেওয়া সেই চিঠির কথা বক্সের কথা। চোখ খুলে ফেলল নয়না। বুক ধুকপুক করছে। ইতিমধ্যে বৃষ্টির তোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। জামাকাপড়ের দিকে নজর পড়তেই আঁতকে উঠল সে। আজ মা নিশ্চিত বকবে ভেবে তাড়াতাড়ি সবগুলো জামাকাপড় নিজের হাতে, কাঁধে নিয়ে ছাদ থেকে নেমে গেলো নয়না।
জামাকাপড়গুলো ঠিকঠাক জায়গায় রেখে, তাড়াতাড়ি নিজের ঘরে চলে এসেছে নয়না। পলাশের দেওয়া চিঠি আর বক্সটা ড্রয়ারের ভেতরই রেখেছিল। খুব তড়িঘড়ি করে ড্রয়ার খুলে সেসব খুঁজতে শুরু করলো মেয়েটা। মনে মনে ভয় তার– যদি ওগুলোও হারিয়ে যায়! বুকটা হুহু করে ওঠে নয়নার। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত জিনিসগুলো নজরে আসতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে। কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলতে শুরু করে।
নয়না,
তুমি আমাকে পছন্দ করো—এটুকু জানি। সেটা বুঝতে আমার দেরি হয়নি। কিন্তু ভালোবাসো কিনা, সেটা জানাও জানতে চেয়েছিলাম আমি। তবে উত্তর পাইনি। হয়তো তোমার থেকেই সেই উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো আমি।
এই শহর ছেড়ে যাচ্ছি, কিন্তু মনটা তোমার কাছেই ফেলে যাচ্ছি। আমি জানি, একদিন ফিরে আসব—ঠিক দুই বছর পর, আর তখন আমি তোমার চোখে খুঁজবো সেই প্রশ্নের উত্তর।
তুমি হয়তো এখন দ্বিধায় আছো, তোমার অনুভূতির গভীরতা নিয়ে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি জানি, তুমি আমার কথাগুলো মনে রাখবে। এই চিঠিটা হয়তো তোমার ডায়েরির পাতায় চাপা পড়ে থাকবে, কিন্তু কোনো এক নির্জন দুপুরে, হয়তো বৃষ্টির দিনে, তুমি এটা খুলে পড়বে… আর আমায় মনে করবে।
নয়না, আমি চাই না তুমি এখনই উত্তর দাও। আমি শুধু চাই—তুমি সত্যিই যদি একদিন বুঝো আমার ভালোবাসার মানে, তাহলে আমাকে মনে রেখো।
দুই বছর পর, যদি আমি ফিরি আর দেখি তোমার চোখে সেই একই চুপচাপ আলোটা আছে… আমি তোমার হাতটা ধরবো, আর এক মুহূর্তের জন্যও ছেড়ে যাব না।
তুমি যদি ভুলে যাও, তাও দোষ নেই। আমি ভালোবাসি বলেই তোমার স্বাধীনতাটাও ভালোবাসি।
ভালো থেকো নয়না,
আর অপেক্ষা কোরো—
কারণ আমি ফিরবো।
তোমার,
পলাশ।
চিঠির ওপরে নয়নার গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়েছে। নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে সে। বাইরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। পলাশের কথা সত্যি হয়েছে। কোনো এক বৃষ্টির দিনেই নয়না তার পলাশের দেওয়া চিঠিটা পড়েছে। তার মন কেমন করছে আজ এই বৃষ্টিমুখর দিনে।
নয়না চিঠিটা বুকে চেপে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। কেমন লাগামছাড়া লাগছে যেন তার। হুট করেই ফ্লোরে বসে পড়লো সে। তারপর কতক্ষণ ওভাবে বসে রইলো তার হিসাব করা হলোনা আর……..
বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরেছে আরিশ। সেই যে দুপুরে বৃষ্টি নামল আর থামবার নামগন্ধ নেই। গাড়িতে থাকলেও একটু-আধটু বৃষ্টির ছিটে লেগেছে আরিশের শরীরে। রুমে ঢুকেই আরিশের সজাগ দৃষ্টি অরাকে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও দেখতে পেলো না। কেমন অশান্ত হয়ে উঠলো সে। চিৎকার জুড়ে বসল।
“ তামান্না….. তামান্না? অরা কোথায়? “
তামান্না সাবিহার রুমে ছিলো। অরাও সেখানে। আরিশের হাঁকডাক শুনে তিনজনই রুম থেকে বেরিয়ে আরিশের রুমের দিকে এগোল।
“ কী হয়েছে ভাইয়া? ভাবি তো আমাদের সাথে ছিলো। “
অরাকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল আরিশ। ইদানীং আরিশ খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি অরা কোথায় চলে গেলো, তাকে ছেড়ে দিলো।
“ কিছু না। ঠিক আছে। তোরা যা, অরা রুমে এসো। “
তামান্না, সাবিহা আরিশের কথামতো চলে গেলো। অরাও ধীরপায়ে রুমের ভেতর ঢুকেছে।
আরিশ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল অরার দিকে। ততক্ষণে অরাও বুঝতে পারছে, তার প্রতি আরিশের এই পাগলপনা কেবল রাগ বা হঠকারিতা নয়। হয়তো ভেতরের গভীর একটা ভয়, একটা শূন্যতার আশঙ্কা।
“তুমি কোথায় ছিলে? আমি রুমে এসে তোমাকে না দেখে…”
আরিশের গলা কেঁপে উঠল। অরা এগিয়ে এসে বলে,
“আমি তো এখানেই ছিলাম, সাবিহা আপুর রুমে। তামান্না আপু তো বলল।”
“জানি। তাও ভয় পাই… এই ভয়টা যাচ্ছে না, পাখি। মনে হয়—যদি হারিয়ে ফেলি তোমায় ?”
অরা চুপ করে থাকে। আরিশ এগিয়ে গিয়ে তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।
” সন্ধ্যায় নাস্তা করছো? চলো কিছু খাবে। চোখমুখ শুকনো লাগছে ”
অরার চোখে পানি জমে। এই মানুষটা রাগ করে, পাগলামি করে, ভুলও করে। কিন্তু ভালোবাসে প্রাণ দিয়ে। তাই যতই বিরক্ত হোক কিংবা আরিশের পাগলামি দেখে রাগ করুক অরা, অবহেলা করতে পারবে না।
হামিংবার্ড পর্ব ৫৯
“ভয় পেও না, আরিশ। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।”
অরা ধীরে ধীরে বলল। আরিশ চুপ করে মাথা ঝাঁকায়। তারপর বলে,
“তবুও তুমি একটু চোখের আড়াল হলেই আমার বুকটা খালি খালি লাগে। বুঝতে পারো না?”
অরা এগিয়ে গিয়ে তার বুকে মাথা রাখে।
বাইরে তখনও বৃষ্টি ঝরছে, কিন্তু খানিকটা থেমে এসেছে।
