অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ৯
YASH
সকালের মিষ্টি আলোয় চারপাশটা ঝলমল করে উঠেছে। জানলার পর্দা গলে সোনালী রোদের একটা চিলতে এসে পড়েছে ইয়াশের বিছানার ওপর।
সেই আলোর ছোঁয়ায় কেয়ারার চোখ দুটো অলসভাবে খুলে গেল। ঘুম ভাঙতেই সে দেখল, সে এখনো ইয়াশের রুমেই আছে।
পাশে তাকাতেই সে দেখল, ইয়াশ একপাশে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সারারাত জেগে পাহারা দেওয়ার পর ভোরের দিকে কখন যে তার চোখ দুটো লেগে এসেছে, সে নিজেও জানে না। ক্লান্তির কারণে ঘুমান্ত ইয়াশের মুখটা সামান্য হাঁ হয়ে আছে। সবসময় গম্ভীর থাকা ইয়াশকে এমন হাঁ মুখে ঘুমাতে দেখে পুচকে কেয়ারার মাথায় এক দুষ্টু বুদ্ধি চাপল।
সে হামাগুড়ি দিয়ে ইয়াশের মুখের কাছে এগিয়ে গেল। তারপর নিজের ছোট্ট হাতটা বাড়িয়ে হাঁ হয়ে থাকা মুখটা টেনে বন্ধ করে দিতে চাইল।
কিন্তু কেয়ারার হাতটা ছোঁয়া মাত্রই ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড! ইয়াশের মুখ তো বন্ধ হলোই না, উল্টো সে চোখ না মেলেই ঝড়ের গতিতে কেয়ারাকে এক ঝটকায় টেনে নিল। আর এক মুহূর্তের মধ্যে কেয়ারার নরম, তুলতুলে গালে টপ করে একটা জোরসে চুমু বসিয়ে দিল!
হুট করে এমন চুমু খেয়ে কেয়ারা বেশ চমকে গেল। সে ইয়াশের থেকে নিজেকে একটু ছাড়িয়ে নিয়ে, বড় বড় কালো চোখ জোড়া রাগে গোল গোল করে বলল,
“দুত্তু ইয়াত ভাইয়া!”
ইয়াশ ততক্ষণে চোখ মেলেছে। সারারাত জাগার কারণে তার বাদামী চোখ দুটো কিছুটা লালচে হয়ে আছে। সে কেয়ারার রেগে যাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত ও ভারী গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কী দুষ্টুমি করলাম?”
কেয়ারা নিজের দুই গালে হাত দিয়ে মুখটা বেলুনের মতো ফুলিয়ে ভারী অভিমানের সুরে বলল,
“সতালে মুখ না ধুয়ে থাবার থেতে হয় না, আর তুমি আমাতে মুখ না ধুয়ে তুমু থেয়ে নিলে? ছিঃ!”
এমন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জ্ঞান শুনে ইয়াশ নিজে হাসবে নাকি কাঁদবে, তা এক মুহূর্তের জন্য বুঝতে পারল না। তার গম্ভীর মুখে এক চিলতে হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে কেয়ারাকে আরেকটু ক্ষেপানোর জন্য বলল,
“আচ্ছা, তাই? তাহলে আমি এখন জলদি মুখ ধুয়ে আমি? মুখ ধুয়ে আসলে কি আমাকে আরেকটা চুমু খেতে দিবি?”
কথাটা শুনে কেয়ারা যেন মস্ত বড় কোনো বিপদের গন্ধ পেল। সে দুই দিকে জোরে জোরে মাথা নেড়ে, চোখ ছোট ছোট করে পরম গম্ভীরতার সাথে বলল,
“উঁহু! চুমু খেলে দাঁতে পোকা হয়!”
“কী?!”
কেয়ারার মুখে এই অদ্ভুত লজিক শুনে ইয়াশ একদম থতমত খেয়ে গেল। তার পুরো মাথা যেন এক সেকেন্ডের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিল। সে বিছানায় সোজা হয়ে বসে কেয়ারার দিকে তাকিয়ে রইল। নিজের শেখানো বুলি আজ তাকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে?
সেদিন কেয়ারা যখন অনেকগুলো চকোলেট একসাথে খেতে চেয়েছিল, তখন ইয়াশ তাকে কড়া গলায় ধমক দিয়ে বলেছিল, “বেশি চকোলেট খেলে দাঁতে পোকা হয়।” আর আজ এই পিচ্চি মেয়ে নিজের মতো করে হিসাব মিলিয়ে বলছে চুমু খেলেও নাকি দাঁতে পোকা হয়! ইয়াশ নিজের কপালে হাত দিয়ে মনে মনে ভাবল, এই মেয়ের মাথায় এত বুদ্ধি কোথা থেকে আসে?
বর্তমান…
অতীতের সেই দিনগুলোর কথা ভাবতে ভাবতে ইয়াশের ঠোঁটের কোণে একটা মৃদু হাসির রেখা ফুটে উঠল। এতক্ষণ তার চোখের সামনে ভেসে ওঠা প্রতিটি দৃশ্যই ছিল এক যুগ আগের ফেলে আসা স্মৃতি। ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে অনেক গুলো বছর পেরিয়ে গেছে। ইয়াশের বয়স এখন আর সেই বারো বছরের কিশোরের মতো নেই, সে এখন সাতাশ বছরের এক পূর্ণ যুবক। আর তার সেই ছোট্ট, গোলুমুলু মুরগির বাচ্চার বয়সও নিশ্চয়ই এখন উনিশ ছুঁয়েছে।
দীর্ঘ পনেরোটি বছর সে দেশের বাইরে। বর্তমানে সে আমেরিকার ব্যস্ততম শহর নিউ ইয়র্কের থাকে।
এই দীর্ঘ পনেরো বছরে সে একবারের জন্যও দেশে ফেরেনি, দেখেনি তার সেই বাটারফ্লাইয়ের মুখ। এতগুলো বছরে একটা চার বছরের শিশুর চেহারা কেমন বদলে যায়, তা ইয়াশ ভালো করেই জানে। হয়তো আজ তাকে রাস্তাঘাটে দেখলে সে নিজেও চিনতে পারবে না।
ইয়াশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে আওড়াল,
“কেমন আছিস তুই? এখন হয়তো অনেক বড় হয়ে গেছিস, আমাকেও হয়তো ভুলে গেছিস তাইনা? তবে আমি তোকে ভুলতে দিবো না আমাকে ওয়েট কর”
ঠিক তখনই হাতের ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই ইয়াশের বাদামী চোখ দুটো কিছুটা সংকুচিত হলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে বাবার নাম ল৷ আদিল মির্জা ফোন করেছে।
ইয়াশ কলটা রিসিভ করে কানে নিতেই ওপাশ থেকে আদিল মির্জার চেনা ভারী গলা ভেসে এলো, “কেমন আছো ইয়াশ?”
ইয়াশ নিজের স্বভাবসুলভ গম্ভীর গলায় উত্তর দিল,
“ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।”
আদিল মির্জা ওপাশ থেকে একটু ইতস্তত করে বললেন, “তো, তুমি কি এবারও দেশে আসবে না? বোনের বিয়েতে অন্তত তোমার থাকা উচিত।”
বাবার কথা শুনে ইয়াশ মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। তার কপাল কুঁচকে উঠল। কোন বোনের বিয়ে? ইনায়া আপুর বিয়ে নাকি?
সে বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোন বোনের বিয়ে?”
আদিল মির্জা ওপাশ থেকে স্বাভাবিক গলায় বললেন, “কেন, আবার কার? তোমার ছোট বোন কেয়ারার।”
কথাটা কান দিয়ে মগজে পৌঁছানো মাত্রই ইয়াশের পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না। তার পুরো শরীর এক ঝটকায় শক্ত হয়ে উঠল। সে চিৎকার করে বলে উঠল,
“হোয়াট?!”
আদিল মির্জা ওপাশ থেকে হালকা কেশে গলাটা পরিষ্কার করে বললেন, “হ্যাঁ, ওর বিয়ে সামনের সপ্তাহে। তুমি আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি দেশে ব্যাক করো।”
ইয়াশ কিছু একটা বলতে যাবে, তার আগেই ওপাশ থেকে ঠাস করে লাইনটা কেটে গেল। ইয়াশ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মাথায় তখন রক্ত চড়ে গেছে, বুকের ভেতরটা যেন কেউ খামচে ধরেছে। তার বাবা কি পাগল হয়ে গেছেন? আদিল মির্জা কি জানেন না যে এই পনেরোটা বছর ইয়াশ কার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছে? সে কেয়ারাকে কতটা ভালোবাসে, তার মনের পুরোটা জুড়ে যে কেবল ওই একটা মেয়েই রাজত্ব করে, সেটা কি তার পাপা আসলেই জানেন না?
ইয়াশ আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে কাঁপতে থাকা আঙুলে বাবার নম্বরে আবার ডায়াল করল। কিন্তু ওপাশ থেকে রিং হয়ে কেটে গেল, কেউ ধরল না। সে পর পর কয়েকবার কলের পর কল দিয়ে গেল, কিন্তু আদিল মির্জা আর ফোন রিসিভ করলেন না।
ইয়াশ ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখটা চেপে ধরল। তার গালে থাকা সেই ছোট দাগটা রাগে আর উত্তেজনায় লাল হয়ে উঠেছে। কেয়ারার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে অন্য কারও সাথে? এটা সে কিছুতেই হতে দিতে পারে না। যেভাবেই হোক, তাকে এখন দেশে ফিরতেই হবে। নিজের বাটারফ্লাইকে অন্য কারও হতে দেওয়া ইয়াশের পক্ষে অসম্ভব।
ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় ইয়াশের ফোনটা আবার টুং করে শব্দ করে উঠল। স্ক্রিনে একটা নতুন মেইলের নোটিফিকেশন। ইয়াশ মেইলটা ওপেন করতেই দেখল, ওটা আর কিছু নয়
জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ওড়ার এক কনফার্মড ফার্স্ট ক্লাস টিকিট! আদিল মির্জা ফোন দেওয়ার আগে থেকেই ছেলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাক করার সব ব্যবস্থা পাকা করে রেখেছিলেন।
টিকিটটার দিকে তাকিয়ে ইয়াশের পুরো শরীর রাগে থরথর করে কাঁপতে লাগল। এত বড় একটা সিদ্ধান্ত অথচ তাকে জানানোর কোনো প্রয়োজনই মনে করেননি পাপা? কিয়ারার বিয়ের এই মস্ত বড় ধাক্কা, তার ওপর পাপার এমন একতরফা চাল সব মিলিয়ে ইয়াশের ইচ্ছা করছিল এখনই যদি পাপাকে হাতের কাছে পেত, তবে চিবিয়ে খেয়ে ফেলত। কিন্তু নিজেকে শান্ত করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই। সে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে তার পার্সোনাল সিকিউরিটি গার্ড আর সেক্রেটারিকে কল করে জানিয়ে দিল, “আজ রাতেই আমার ফ্লাইট। ব্যাগ প্যাক করো, আমি আজকে রাতেই বাংলাদেশ ব্যাক করছি।”
নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টের বিশাল কাঁচের জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়াল ইয়াশ। বাইরে তখন আমেরিকার নিয়ন আলোর ছড়াছড়ি। কিন্তু সাতাশ বছরের যুবকের মনটা যেন টাইম মেশিনে চড়ে আবার ফিরে গেল
সেই এক যুগ আগের চেনা শহর, চেনা বাড়ি আর তার বাটারফ্লাইয়ের কাছে।
অতীত…
সেদিন ইয়াশের স্কুল থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, আগামী সপ্তাহে সব বাচ্চাদের নিয়ে একদিনের জন্য একটা শিক্ষা সফরে (School Tour) যাওয়া হবে। ঢাকার একটা সুন্দর রিসোর্টে সবাই মিলে পিকনিক করবে। ইয়াশদের ক্লাস তো বটেই, ইনায়াদের ক্লাস থেকেও সবাইকে এই ট্যুরের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ইয়াশ তো ইয়াশই। গম্ভীর স্বভাবের এই ছেলেটির এসব হইচই, পিকনিক বা ট্যুরের ওপর বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট ছিল না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া বা ঘোরাঘুরির চেয়ে নিজের ঘরে বসে পড়াশোনা করাটাই তার বেশি পছন্দের ছিল। তাই সে স্কুল থেকে ফিরেই আদিল মির্জাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, “আই অ্যাম নট ইন্টারেস্টেড। আমি যাব না।”
এদিকে ইনায়া বাসায় ফিরেই আবির মির্জাকে জড়িয়ে ধরে ট্যুরে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেছিল। আবির মির্জাও মেয়ের আবদার ফেলতে পারেননি, তিনি হেসে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। ডাইনিং টেবিলে বসে যখন এই নিয়ে কথা হচ্ছিল, তখন চার বছরের পুতুলের মতো কেয়ারা হঠাৎ চামচ হাতে টেবিল চাপড়ে চিৎকার করে উঠল, “আমিও যাব! আমিও আপ্পির সাতে পিতনিতে যাব!”
আদিল মির্জা কেয়ারার এমন কিউট আধো-আধো জেদ দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি কেয়ারাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে তার নরম গালে একটা চুমু খেয়ে বললেন, “অবশ্যই যাবে! আমার মা সবার আগে যাবে। আবির, আমরাও না হয় ওদের পেছনের গাড়িতে করে যাবো, বাচ্চাদের একটা আনন্দ হবে।”
বাবার মুখ থেকে কেয়ারার যাওয়ার কথা শুনতেই মেহগনি কাঠের চেয়ারটা এক ঝটকায় পেছনে ঠেলে দাঁড়িয়ে পড়ল ইয়াশ। এতক্ষণ যার এই ট্যুরের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না, সে চট করে গম্ভীর গলাটা একটু উঁচিয়ে বলল, “ওকে, আই অ্যাম ইন্টারেস্টেড। আমিও যাবো।”
ইয়াশের এমন হুট করে মত বদলে ফেলা দেখে আবির মির্জা আর আদিল মির্জা দুজনেই মনে মনে হাসলেন। আদিল মির্জা খুব ভালো করেই জানেন, ইয়াশের এই ইন্টারেস্ট আসলে ট্যুরের ওপর নয়, কেবল কিয়ারার ওপর।
কিয়ারা যাবে আর ইয়াশ বাড়িতে বসে থাকবে, তা তো হতেই পারে না! ইয়াশ যাবে শুনে কিয়ারা তার ছোট ছোট হাত দুটো ওপরে তুলে আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল, “ইয়ে! ইয়াত ভাইয়াও যাবে! আমরা যাব!”
পরের দিন সকালে…
সকাল সকাল পুরো মির্জা বাড়ি যেন এক উৎসবের আমেজে মেতে উঠল। শিউলি আন্টি বাচ্চাদের সুন্দর করে জামাকাপড় পরিয়ে তৈরি করে দিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, সব ছাত্র-ছাত্রীদের একসাথে স্কুল বাসে করেই শিক্ষা সফরে যেতে হবে। তাই আদিল মির্জা আর আবির মির্জা সিদ্ধান্ত নিলেন তারা নিজেদের প্রাইভেট কার নিয়ে বাসের পেছনে পেছনে যাবেন। আর ইয়াশ, ইনায়া এবং ছোট্ট কেয়ারা যাবে মেইন স্কুল বাসে।
স্কুল প্রাঙ্গণে এসে বাসটায় যখন তারা উঠল, তখন চারদিকে বাচ্চাদের তুমুল শোরগোল। ইয়াশ বেশ সাবধানে কেয়ারাকে এক হাত দিয়ে আগলে রেখে বাসের মাঝখানের একটা থ্রি-সিটার সিটে গিয়ে বসল। জানলার পাশে বসল ইনায়া, মাঝখানে ইয়াশ আর ইয়াশের কোলের ওপর একদম রাজার মতো চড়ে বসল চার বছরের কেয়ারা। সে বাসের জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে খুশিতে পা দোলাচ্ছে।
ঠিক তখনই ইয়াশের নজর গেল তাদের ঠিক সামনের সিটটার দিকে। সেখানে অলরেডি এসে বসেছে কেয়ারার বয়সী সেই পুচকে মেয়ে তুষ্টি আর তার মা, যিনি ইয়াশ ও ইনায়ার স্কুলেরই একজন শিক্ষিকা। তুষ্টি সিটের ওপর উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে ইয়াশকে দেখেই চোখ বড় বড় করে বলল, “ওই দেকু, ইয়াত ভাইয়া ওই মেয়েতে কুলে নিয়েতে ইয়াত বাইয়া পুচা”
অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ৮
তুষ্টি ইয়াশকে বললো “আমিও তুলে উঠবো তেমাল”
সামনের সিটে তুষ্টির কথা শুনেই কিয়ারার হয়ে গেলো। ওর দোলাতে থাকা পা দুটো এক মুহূর্তে থেমে গেল। তার মিষ্টি মুখে আবার মেঘ জমে ওঠার উপক্রম হলো। চিৎকার দেওয়ার জন্য যেমনি প্রস্তুতি নিবে ওমনি ইয়াশ ওর ঠোটে একটা চকলেট চেপে ধরলো। কে শুনে কার কথা মেয়েটা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
