Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২১

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২১

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২১
Maha Aarat

আক্বদের আসর থেকে কন্যা পলাতক বিষয়টা আপাতত বিয়ে বাড়ির রমরমা খবর।মি. মাহমুদের মুখে যেনো চুনকালি পড়েছে।পারতপক্ষে অনুষ্ঠান ছোট হয়েই আয়োজন হয়েছিলো বেয়াই সাহেবের কথায়।তবুও তিনি উনার সব গণমান্য বন্ধুসহ বেশ ক’জন অফিস ক্লায়েন্ট নিয়েও এসেছেন।রিলেটিভ দের কথা ছাড়’ই দিলেন।বিষয়টা এমন দাঁড়িয়েছে যে,মেয়ে নয় বরং উনার ছেলেই পালিয়েছে।পাশে বসা বেশ ক’জনের ফিসফিস কানাকানি শোনা যাচ্ছে।কেউ তো সামনাসামনিই কথার তীঁর ছুঁড়ছে।ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, রায়ান একদমই স্থির।তাকে দেখে মনে হচ্ছে না এখানে কোনো দূর্ঘটনা হয়েছে।মনে হচ্ছে এশাকে মাএ পালাতে সক্ষম হয়ে দূ:শ্চিন্তা ঝেড়ে সে মাএ স্বস্তি নিয়ে বসেছে।
মি. মাহমুদ তাকে কড়াকন্ঠে বললেন, ‘সাই ফিল হচ্ছে না?এজন্যই তোমাকে আমি কোনোকিছুতেই ভরসা করতে পারি না।না বিজনেসে না অন্যকিছুতে।’

রায়ান গম্ভীর গলায় উত্তর দিলেন, ‘মেয়ে পালিয়েছে।এখানে আমার কি করার।’
মাহমুদ সাহেব আরো চটে গিয়ে বললেন, ‘দেখা যখন করেছিলে তখন বুঝতে পারো নি তাঁর অন্য এ্যাফেয়ার আছে?’
‘এশার কোনো এ্যাফেয়ার নেই,বাবা।’
‘তাহলে সে তাঁর বান্ধবীর সাথে পালিয়েছে?’
‘হতে পারে।সম্ভাবনা আছে।’
‘চড় মেরে গাল ফাটিয়ে দিবো।তোমার জন্য আজ আমার মানসম্মত সব শেষ! সব!’
‘বিয়েতো আপনার ভাঙ্গে নি।আমার ভেঙ্গেছে।মানসম্মান গেলে যাবে আমার।’
‘সাট আপ।আমি কাদের নিয়ে এসেছি জানো?তাদের সামনে মুখ দেখাবো কি করে?’
‘এমনেই তো দেখবে।দেখানোর প্রয়োজন কোথায়?’
‘তোমাকে বিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আমার জীবনের সেরা একটা ভুল।’
‘গ্রেট।বুঝতে পেরেছেন তাহলে।’

মি. মাহমুদ ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় অথচ কঠিন স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোথাও এটা তোমাদের প্ল্যান ছিলো না তো?সে তাঁর বয়ফ্রেন্ড পাবে,আর তুমি তোমার প্রাক্তনকে?’
রায়ান একেবারে স্বাভাবিক হেসে পাগড়ি খুলতে খুলতে গাড়িতে গিয়ে উঠলেন।মাহমুদ সাহেব এগিয়ে গেলেন কোণায় নিচুমুখ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়াজ সাহেবের দিকে ইচ্ছেমতো কিছু কঠিন কথা শুনিয়ে যখন বাইরে আসলেন দেখলেন রায়ানের গাড়িটা নেই।
মনে মনে তাকে আরও কিছুক্ষণ কথা বলতে বলতে তিনিও রওয়ানা দিলেন।রায়ান একদম স্থির,বিষয়টা তিনি মানতে পারছেন না।ছোটবেলা থেকে মা হারা ছেলেটা।তাঁর হুটহাট এমন নীরব হয়ে যাওয়া মানে ভেতরে ভয়ংকর কিছুর পূর্বাভাস।রায়ান এখন ফোন তুলবে না।ড্রাইভারকে রেখে সে নিজে ড্রাইভ করছে।
তিনি টেক্সট দিলেন, ‘বাসায় যাচ্ছো?’
‘নাহ।’
‘তাহলে?বাসায় আসো তাড়াতাড়ি কথা আছে।’
‘সবকিছু তো এন্ড।আর কী কথা।’
‘বিয়ে তোমাকে এ সপ্তাহের মধ্যেই করতে হবে।ওই বুড়ো লোককে আমি মুখের উপর উচিত শিক্ষা দিবো।মেয়ে পালিয়েছে তবুও কথার কাঠিন্যতা কমছিলো না।’
‘আপনি নিজেও যে ছেড়ে কথা বলবেন না জানা আছে।উনার অবস্থা টা বুঝুন।’
‘আমি কিছু বুঝতে চাই না।তোমার কোথাও পছন্দ থাকলে বলো, বিয়ে এ সপ্তাহেই হবে।’
‘জোর করে সিদ্ধান্ত নিলে এমনই হয়,বাবা।আমি বড়ো হয়েছি ঠিক,কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবিলিটি নেই।জীবনটা আমার বাবা।এতদিন আপনার কথামতো চলেছি, আজ থেকে নিজের চাওয়াকে প্রায়োরিটি দিবো।আর কোনো সিদ্ধান্ত চাপাতে আসবেন না।একমাএ ছেলে ফিরিয়ে দিলে হতাশ হবেন।’

আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরে এলেন আরহাম।আসরের পরক্ষণ।কয়েক দিনের উত্তাপ ছেড়ে সূর্য আজ ক্লান্ত।ধরণীতে আজ শীতলতার রাজত্ব।সারাদিনের শুকনো রোদ,আর বিকেলের হালকা বৃষ্টি যেনো পরিবেশটা মায়ময় করে তুলেছে।
বিকেলে মাইমুনার সাথে সময় কাটিয়েছেন আরহাম।তাঁর এলোচুলে বিনুনি করতে করতে জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘আচ্ছা হানি,আমাকে সবচেয়ে কে বেশি ভালোবাসে বলুন তো?’
‘অবশ্যই আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।আপনি নিজে আপনাকে না যতোটা না ভালোবাসেন আল্লাহ তাঁর চাইতে কোটি কোটি গুণে আপনাকে বেশি ভালোবাসেন।’
‘তাই!’
‘হুমম।আল্লাহ বললেন, ভালোবাসাকে তৈরী করার পর আমি ১০০ টুকরো করলাম।৯৯ টুকরো ভালোবাসা আমি আল্লাহ নিজের মধ্যে রেখে দিলাম,আর ১ টুকরো ভালোবাসা আমি গোটা বিশ্বের মধ্যে ভাগ করে দিলাম।’
‘চমৎকার করে বলতে পারেন তোহ।’
‘আপনিও চমৎকার করে শুনিয়েছিলেন তো!’
‘আপনার একটা জিনিস পাওনা বাকি।উমম মাহেরের বাসা থেকে আসার পরেই পূরণ করে দিবো।’
‘কি পাওনা?’
‘আচ্ছা মনে না করলেই হয়।’তারপর কে আমাকে বেশী ভালোবাসেন?’
‘উমম তারপর…তারপর আম্মু আব্বু আইরা।’

‘তারপর?’
‘হাফসা আমি?’
আরহাম মলিন সুরে বললেন ‘এত পিছনে আপনি?’
মাইমুনাও ঠোঁট উল্টে উত্তর দেন, ‘হু।’
‘উহু।আম্মু আব্বু তো নিশ্চয়ই ভালোবাসেন।তার পরেই আপনি।আমার মনে হয়।’
‘আইরা কেন নয়?হাফসা কেন নয়?’
‘উনার কথা বলতে পারছি না।কয়েকদিনে আমাকে ভালোবাসার কথাও নয়।আর আইরা তাঁর সব বই থেকে নিশ্চয়ই আমাকে ভালোবাসে না।তাঁর পছন্দের মানুষের সবচেয়ে শেষের সারির এক কোণায় হয়তো আমি।’
‘উহু।ও শুনিয়ে শুনিয়ে বলবে নাকি।আচ্ছা আপনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন কাকে?’
‘সবাইকে।’
‘সিরিয়ালি বলুন।’
‘আম্মু আব্বু,সবাইকেই।’
মাইমুনা হালকা হাসলো।আরহামকে সে আর অস্বস্তিতে ফেলতে চায় না।আর তিনিও কখনো কথার মধ্যে ইচ্ছে করে হাফসার প্রসঙ্গ তুলেন না।

মাগরিবের নামাজ শেষে নিচে আসলেন আরহাম।আজকের একসাথের তিলাওয়াত সকালেই সম্পন্ন হয়েছিলো।সোফায় বসতেই হাফসা সবার জন্য চা নিয়ে আসে।মাইমুনাকে ডেকে এসে আরহামকে সে বেশ ইতস্ততভাব নিয়েই চায়ের কাপ হাতে তুলে দিলো।বিয়ের এতোদিন পরেও তাঁর চোখেমুখে আগের সেই লজ্জা দেখেই আরহাম ঠোঁট কামড়ে হাসছিলেন।
চায়ের পর্ব শেষ করে সবার আড়ালে ধীরসুরে বললেন, ‘মাশা আল্লাহ।ভালো হয়েছে।’
হাফসা কিচেনে।আরহাম তাঁর বের হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন।মাইমুনা রুমে চলে যেতেই তিনি কিচেনে গিয়ে বললেন, ‘এসব আপনি কেন করবেন?আপনি যে পরিমাণ ইনজয় করে কিচেনের কাজ করেন,মনে হয় এই ডিউটির জন্যই আমার বাড়িতে আসা আপনার।রুমে আসুন।কথা আছে।’
হাফসা আরহামের এমন সূক্ষ্ম আক্রমনে মনে মনে ভীষণ সাই ফিল করছিলো।তিনি চলে আসার খানিক পর রুমে আসলে তিনি তাকে মুখোমুখি বসিয়ে বললেন, ‘কয়েকদিন থেকে ভাবছি কথাগুলো আপনাকে বলবো।এতদিন পারছিলাম না।এখন বলবো।আমি যা বলবো তাই-ই।এরবেশী কিছু ধরে নিবেন না।মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।ওকে?’
হাফসা মাথা নাড়ালো।

আরহাম সময় নিয়ে বলতে লাগলেন, ‘আমি…আমি আপনাকে পছন্দ করতাম।
কথাটা কর্ণকুহরে পৌঁছতেই চমকালো সে।আরহাম তাঁর অবস্থা বুঝে বললেন, ‘অবাক হচ্ছেন?আচ্ছা শুনুন।আপনাকে নিয়ে আমার মনে কিছু একটা ছিল,কিছু একটা তো ছিলো সেটা জানি।তবে আপনাকে নিয়ে একান্তে ভাবা,কল্পনা করা বা এরবেশী কিছু, কখনোই আমার মনে আসে নি।আমি শুধু ভেবেছি,একজন লাইফ পার্টনার হিসেবে আপনাকে আমার পছন্দ।এক্সিডেন্টলি আপনি কথা বলতে পারতেন না সেটাও জানতাম।
এগুলো মাইমুনাকে বিয়ে করার আগের কথা বলছি।যখন মাইমুনা আমার লাইফে আসার কোনো কথাই ছিলো না।
মাইমুনাকে আম্মুর পছন্দ করা।আম্মু আমাকে যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার ব্যক্তিগত কোনো পছন্দ আছে কি না তখন একবারের জন্যও আমার আপনার কথা মনে হয়েছে।আমি হয়তো আপনার কথা বলতাম কিন্তু আমি জানি আপনার বাবা-ভাই আমাকে নাকোচ করে দিতেন।মাহের সবসময় বলতো, ‘আমার বোনকে আমি ডাক্তার ছেলের কাছে বিয়ে দিবো।আর আপনার বাবা বলতেন, আমার মেয়েকে আমি রাণীর মতো দেখতে চাই।সেই রাজা হবে একজন ন্যায়বিচারক,আমি মিন লইয়ার।

এসবের কোনোটাই আমি না।তারপরেও আমি যদিও বলতাম উনারা হয়তো মানতেন না আর আপনার পরিবারের সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ হতো।এটা অস্বীকার করবো না মাহের একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড।আমি নির্দিধায় তাকে সব শেয়ার করতে পারি।আমার সুসময় দূ:সময়ের বন্ধু।
আপনার ছোটবেলায় তালিমের ক্লাসে আপনাকে দেখতাম।তারপর একটা সময় পর থেকে আর আসতেন না।তখন খুব ছোট বয়স আপনার।মাধ্যমিক শেষ করার আগ পর্যন্ত তখনো দেড় বছর আমি আপনার বাবার ছাত্র হিসেবে ছিলাম।দ্বীনের তখনো পুরোপুরি বুঝ ছিলো না আমার।যখন থেকে হলো,নিজের মনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছিলাম।
উমায়ের,আপনাকে আমার উইক সাইডগুলো বলে আপনাকে আমার প্রতি দূর্বল করার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলছি না।অন্য কারনে বলছি।

আমার সারকথা এটাই,আপনাকে আমার ভালো লাগতো।কিন্তু আপনার সৌন্দর্য নয়,আপনার দ্বীনদারিতা।মিশর থেকে আসার পর আপনাকে বিয়ের কথা ভাবলেও পরে তো সরে যাই।ভুলে যাই এসব।তারপর যখন মাইমুনা আসলেন আমার জীবনে,আমি ভালো ছিলাম।আল্লাহ সুইয়ার, কখনো আপনাকে নিয়ে ভাবিনি।মনেও করিনি।কিন্তু আপনার বাবার মৃত্যুতে আপনার অসহায়ত্বে আমার করুণা লাগছিলো।শুধুই করুণা বা সিমপ্যাথি কারন এটা জানতাম আপনার এমন স্পর্শকাতর মুহুর্তে আপনাকে ভরসা দেওয়ার কেউ ছিলো না।এতটুকুই,বিশ্বাস করুন এতটুকুই।কোনো ভালোলাগার ফিলিংস ছিলো না।এজ এ্যা হিউমান,খারাপ লেগেছিলো।আমি তো জানতাম আপনি আমার গায়রে মাহরাম।সেক্ষেএে আপনাকে নিয়ে ভাবা অবশ্যই গুনাহ।আর আপনাকে তো একজন জীবনসঙ্গী হিসেবে আমার পছন্দ ছিলো।তবে সেটা মাইমুনা আমার লাইফে আসার আগে।তিনি আসার পর কখনো আপনাকে নিয়ে ভাবিনি।কারন ততদিনে আমার জীবনসঙ্গী পেয়ে গেছি।

আপনার বাবার মৃত্যুর পরের কিছুদিন হলেও আমার মাথায় ছিলেন,আপনার কথা মনে হতো, তবে সেটা পুরোটাই আপনার জন্য সিমপ্যাথি ছিলো।একবারের জন্য ও অন্য কিছু না।অতটা দূর্বল হয়ে যাইনি আমি।কীভাবে জানি মাইমুনা ধরে ফেললেন আমার এমন করার কারন।উনি যখন বারবার আমাকে একটা কথাই স্বীকার করাতে চাচ্ছিলেন রাগবশত আমি বলে দিই,যে আপনাকে পছন্দ করতাম।উনি কষ্ট পেয়েছেন এটা শুনে।আমি উনাকে বুঝাতে পারছিলাম না যে এটা অতীত।আমার সুন্দর সংসার এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিলো।সম্পর্ক ঠিকঠাক থাকলেও মাইমুনা আর আমার মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হচ্ছিলো।
বিয়ের দিন মাইমুনাই আমাকে জোর করেছিলেন মেনে নিতে।অথচ এর আগেই আপনাকে নিয়ে সুঁচ পরিমান ভাবাও সব সিমপ্যাথি চাপা দিয়ে আমি স্ট্রিক্ট ছিলাম যে এমন কিছু আমি করবো না।মাইমুনাই আমার অতীত, বর্তমান ভবিষ্যত।কিন্তু লাস্ট মোমেন্টে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
আর…আর এটা অস্বীকার করবো না যে,মাহের আপনার বিয়ে নিয়ে ভাবলে আমার একটু রাগ হতো।এটা এ কারনেই কারন,কারন আমার তাদেরকে মনে হতো তাঁরা স্পষ্টত আপনার সৌন্দর্যে মাতোয়ারা।আপনার অসুস্থতা নিয়ে পরে কথা উঠাবে না বলে গ্যারান্টি নেই।কেনো জানি,আমার দূজনের ক্ষেএেই সেম মনে হয়েছে এবং দূ’ বেলাতেই তাঁরা আপনার জন্য ইম্পার্ফেক্ট প্রুভ হয়েছে।

কথাগুলো একদমে শেষ করার পর আরহাম লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চুপ হয়ে গেলেন।খানিক সময় পর বললেন,
‘আপনি হার্ট হবেন না আমার কথায়।কথাগুলো না বললেও হতো।বাট এখন তো আপনি আমার ওয়াইফ আপনার জানা উচিত।সবশেষে আমি এটাই বুঝাতে চাই,আপনি আমার প্রথম চয়েস ততদিন ছিলেন,যতদিন মাইমুনা আমার লাইফে আসেননি।উনি আসার পর আপনি নামের কোনো অস্তিত্বই ছিলো না আমার মধ্যে।
আর..আর কেউই তো গুনাহের উর্ধ্বে নয়।সিমপ্যাথির অনুভূতিটাও হারাম ছিলো স্বীকার করছি কিন্তু পরে তাওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমাও চেয়েছি।অনুতপ্ত হয়েছি আমার ভুলের জন্য।নিজের নফসও তো নিজের নয়।সেখানে শয়তান তো বড়ো শত্রু।ভুলটা ভুলবশত হয়ে গিয়েছিল ঠিক,কিন্তু আমি ততক্ষণ পর্যন্ত অনুতপ্ত ও ক্ষমা চেয়েছিলাম যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার সাথে আমার হালাল পরিণয় হয়েছিলো।’

উমায়ের চলে গিয়েছেন অনেকক্ষণ হলো।কিন্তু আরহাম ঠায় ওভাবেই বসে আছেন।এতগুলো কথা বলার৷ মাঝে তিনি এটাও বলেছেন,উমায়েরকে নিয়ে উনার সিমপ্যাথি ছিলো।সে যদি এটা ভেবে বসে,বিয়ে করাটাও করুণা তাহলে কষ্ট পাবেন।কিন্তু বিষয়টা তো এমন নয়।বোঝার মধ্যে পার্থক্য আছে।
মেয়েটা তো এমনিই নীরব।কখন মন খারাপ, কখন ভালো সেটাও বুঝতে পারেন না আরহাম।অজান্তে তাকে কষ্ট দিয়ে ফেললেন না তো!
পরেরদিন~
দূপুরের দিকে যোহরের নামাজ আদায় করে কিছুক্ষণ আগেই রুমে ফিরেছেন আরহাম।সার্ভেন্ট কে বিশেষ প্রয়োজনে ডাক দিয়ে ল্যাপটপে মনোযোগ দেওয়ার আগে ফোনটা হাতে নিলেন।উমায়ের এর জন্য কেনা ফোন উনার কাবার্ডেই থেকে গিয়েছিলো।ব্যস্ততায় দেওয়ার সুযোগ হয়নি।আজকে সিম লাগিয়ে ওপেন করে তাকে দিয়ে বলেছিলেন, দূপুরে তিনি টেক্সট দিবেন।
সালাম দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রিপ্লাই আসলো।আরহাম জবাব দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘খেয়েছেন।’

‘আলহামদুলিল্লাহ।’
‘কি করছেন?’
‘কিছু না।’
‘একটা কথা বলবো?’
উত্তরটা আসছিলো একটু সময় নিয়েই।হাফসা জিজ্ঞেস করলে আরহাম কথাটা বলতে দ্বিধায় ভোগছিলেন।অমনি দরজায় নক হয়।মাহেরকে দেখে চমকালেন আরহাম।ফোন রেখে সালাম বিনিময় করার পরপরই জিজ্ঞেস করলেন, ‘হঠাৎ?না বলে চমকে দিলে?তুমি তো এখানে আসো না।’
‘খোঁজ নিতে আসলাম।প্রায় এক বছর আগে এসছিলাম।বদলে ফেলেছো পুরো প্লাটফর্ম।’
আরহাম তাকে বসতে বলে ব্যবসায়িক আলোচনায় চলে গেলেন।হুট করে এত কিছুর মাঝে লক্ষ্য করলেন মাহেরের চোখে গ্লাস নেই।সবসময় গ্লাস পরা ছেলেটাকে গ্লাস ছাড়া আরো মায়া লাগছিলো।সুন্দর মুখশ্রীতে কৃএিমতা মানায় না।

‘গ্লাস নাও নি?’
‘নিবো।’
‘নিয়ে নিতে।’
‘পেয়ে যাবো দূদিনের মধ্যে।’
‘মানে?’
‘এভেইলএবল না।অর্ডার দিয়েছি।’
‘আফওয়ান।তোমাকে অসুবিধায় ফেলে দিলাম।’
‘আমাকে চাচা পাঠিয়েছেন।তোমাদের স্পেশিয়ালি ইনভাইট দিতে।’
‘বাসায় যেতে।’
‘সময় নেই।তোমার ব্যস্ততা কমেছে।’
‘মোটামুটি আলহামদুলিল্লাহ।’
‘তাহলে ফিক্সড ডেট জানিয়ো।আজকে উঠতে হবে।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২০

বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে আরহাম যখন হাফসার ঘরে গেলেন দেখলেন সে বারান্দা থেক অজিফা হাতে মাএ ফিরছে।কিন্তু কাছাকাছি থেকে তাঁর ভেজা চোখ দেখে আঁতকে উঠলেন তিনি।আরহামকে দেখে হাফসা স্বাভাবিক হওয়ার বদলে আরো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিলো।আরহাম অনুতপ্ত ফিল করলেন।উমায়েরকে নিজের কথা দিয়ে আঘাত করেই ফেলেছেন না কি!’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২২