Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৮

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৮

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৮
Maha Aarat

ভোরের মৃদুমন্দ বাতাস বইছে।শীত শীত অনুভূতির সাথে মখমলি বাতাস যেনো পরিবেশটাকে আরো স্নিগ্ধ করে তুলেছে। ফজরের বাতাস থাকে নির্মল,এতে কোনো কাফেরের নি:শ্বাস থাকে না।বারান্দার ওপাশ থেকে ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ কক্ষটাকে আরো মোহময়ী করে তুলেছে।মাইমুনা ততক্ষণ জায়নামাজে বসে রইলেন যতক্ষণ আরহাম না মসজিদ থেকে ফিরলেন।সূর্য উঠার নির্দিষ্ট সময় পর ইশরাকের সালাত আদায় করে উঠতেই আরহাম ফিরলেন।রুমে এসেই টুপি খুলে মাইমুনার কোলে মাথা রাখলেন।’একটা সূরা শোনান’ বলতে বলতে পরম আবেশে প্রিয় স্থানে চোখ বুজে নিলেন।মাইমুনা মুচকি হাসলো।তাঁর মানুষটার হুটহাট এমন ভালোবাসা তাকে বারবার স্মরন করিয়ে দেয়,এ মানুষটা তাঁর কেবল দুনিয়াবি সুখ না,জান্নাতি সুখ।জান্নাতের সুপ্রশস্ত বারান্দায় ঠিক এভাবেই প্রিয়তমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে,রবের প্রশংসা শেষ করে তাঁরা হয়তো জান্নাতের নিয়ামতগুলো থেকে নিজের পছন্দের খাবারটা বেছে নিবে,তারপর তাদের গল্পে গল্পে কেটে যাবে বছরের পর বছর।আহ কি সুখময় কল্পনা!

মাইমুনা ধীরে ধীরে সুরা ইয়াসীন পড়তে আরম্ভ করলেন।উনার কন্ঠের মিহি সুর যেনো প্রত্যক্ষ করছে গোটা পরিবেশ।পিনপতন নীরবতা মাড়িয়ে সুরেলা কন্ঠের স্বরের সাক্ষী হতে হতে আরহাম প্রশান্তির নি:শ্বাস ফেললেন।
আরহাম মাঝে মাঝে মাইমুনার হাত নিয়ে কোমল কায়ার স্পর্শ মেখে শিহরন জাগিয়ে তুলছেন।একসময় তাঁর হাতের নখগুলো নিয়ে কথা আরম্ভ করলেন।ততক্ষণে তিলাওয়াত শেষ।আরহাম উঠে বসে বললেন, ‘আসুন আপনার নখে মেহেদী দিয়ে দিই।’
‘আমার তো সাদা নখ পছন্দ।’
‘উহু,মেয়েদের হাত সবসময় মেহেদী রাঙ্গানো থাকা উচিত।এটা সৌন্দর্যের প্রতীক।📌মেহেদীর সাজ মহিলাদের সাজ। হাদিস শরীফে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: أَوْمَتْ امْرَأَةٌ مِنْ وَرَاءِ سِتْرٍ بِيَدِهَا، كِتَابٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَبَضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ، فَقَالَ: مَا أَدْرِي أَيَدُ رَجُلٍ، أَمْ يَدُ امْرَأَةٍ؟ قَالَتْ: بَلِ امْرَأَةٌ، قَالَ: لَوْ كُنْتِ امْرَأَةً لَغَيَّرْتِ أَظْفَارَكِ يَعْنِي بِالْحِنَّاءِ
‘হযরত আয়েশা রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা পর্দার আড়াল থেকে একটি কিতাব হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে বাড়িয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত না বাড়িয়ে বললেনঃ আমি বুঝতে পারছি না এটা কোনো পুরুষের হাত না কি নারীর হাত? সে বললো, বরং নারীর হাত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি মহিলা হলে অবশ্যই তোমার নখগুলো মেহেদীর রঙ দ্বারা রঞ্জিত করতে। [সুনানে আবু দাউদ-৪১৬৬]
উপরোক্ত হাদিস দিয়ে বুঝা গেলো, মেহেদী ব্যবহার করা এটা মহিলাদের সাজ। আর মহিলাদের সাজে সজ্জিত হওয়া পুরুষের জন্য হারাম। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ‏
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব পুরুষকে লা’নত করেছেন। যারা নারীর বেশ ধারণ করে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে।’ [সহিহ বুখারী হা-৫৪৬৫]
#আর পুরুষদের জন্য হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে তারা চুল ও দাড়িতে ব্যবহার করতে পারবে। তবে বর্তমান সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে মেহেদির ব্যবহার ব্যাপকভাবে পুরুষদের হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেটা কখনোই কাম্য ছিল না।
আরহাম তাঁর আঙ্গুলে মেহেদী সম্পূর্ণ করেই বললেন, ‘চমৎকার লাগছে না,হানি?’
মাইমুনা মিষ্টি হেসে মাথা নাড়ালেন।মেহেদী দেওয়া সম্পর্কে উপরোক্ত হাদীসগুলো সম্পূর্ণভাবে জানা ছিলো না উনার।নিয়ত করলেন, এখন থেকে সবসময় হাতে মেহেদী পড়বেন।আর আরও পড়তেই হবে কারন উনার শাহ’ এটা পছন্দ করেছেন।স্বামীকে খুশি করার এই সহজ সুযোগটা মাইমুনা মিস করতে চান না।

আইরা ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও আড়চোখে তাকালো একবার।দেখতে পেলো লোকটা বদলে গিয়েছেন ভীষণ।দাঁড়িগুলো বড় হয়েছে,মুখ শুষ্ক।উল্টো ঘড়ি পরে আছেন হাতে।চোখের দৃষ্টিতে কোনো উত্তাপ নেই কেমন যেনো নির্জীবতা।
‘আই এম সরী ফর এভরিথিং।তোমার সাথে অনেক অন্যায় করেছি।শেষবারের মতো সুযোগ দাও।’
আইরা ফিচেল হাসলো।তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, ‘এবারও আপু শিখিয়ে দিয়েছেন না?’
মাহের মাথা নত অবস্থায়ই না বোধক মাথা নাড়ান।
‘আপনাকে অনেকটুকু চিনে নিয়েছি।অনুশোচনা গুলো আমার আঙ্গিনার সীমানা পর্যন্তই।আপনি পারবেন না।বদলানো আপনার জন্য নয়।’
‘আমি তোমাকে নিতে আসছি।প্লিজ চলো।’
আইরার একরোখা উত্তর।
‘আমি যাব না।’
‘আমি তো কথা দিচ্ছি আমি আর কখনো খারাপ আচরণ করবো না।’
‘আপনি খারাপ আচরণ কখনোই করেননি।অবহেলা করেছেন।’
‘করবো না আর।’

‘ভালো লাগছে না যান।আমি আসব না।আপনার সাথে থাকা সম্ভব নয় আর।প্লিজ যান।’
মাহের বেরিয়ে এলেন।আরহামের কাছে গিয়ে হতাশসুরে বললেন, ‘তোমার বোন রাজি হোননি।’
‘বুঝিয়ে বলোনি?’
‘বলেছি।’
‘কি বলেছো?’
‘আমি আর অবহেলা করবো না চলে আসতে।’
‘একটু রোমান্টিক হও মাহের।এভাবে বললে ও কখনো রাজি হবে না।’
মাহের অসহিষ্ণু সুরে বললেন, ‘আমি পারি না আরহাম তোমার মতো।’
আরহাম মাহেরের অপ্রস্তত ফেইস দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন? লজ্জ্বা পাও তুমি?’
মাহের মাথা তুললেন না।আরহাম বেশ শব্দ করে হাসলেন এবার।পুরুষ মানুষ এতো লাজুক হলে কীভাবে হবে।মাহেরের কাঁধ চাপড়ে বললেন, ‘তুমি এখানেই হেরে যাও।এক কাজ করো,তাকে গিয়ে স্পষ্ট করে বলো,তুমি তাকে ভালোবাসো।’

মাহের অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন।আরহাম উনার রিয়েকশন দেখে জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘বাসো না নাকি?’
মাহের খানিক ভাবতে ভাবতে উত্তর দিলেন, ‘বাসি কীভাবে বুঝবো?’
আরহাম দম ছাড়লেন।হতাশার সুরে বললেন, ‘আমি এখন বুঝতে পারছি তোমার বোন এতো আনরোমান্টিক কেন।যাই হোক,তুমি গিয়ে বলো।’
‘কী করে বলব?’
‘ভালোবাসা নিয়ে বলবে।’
‘আ্ আমার মনে হয় না আমি পারবো,আরহাম।’
‘যাওয়ার আগেই কনফিডেন্স শেষ?’
মাহের আস্তে আস্তে এগোলেন।নক করতেই সে উত্তর দিলো, ‘আসো আম্মু।’
অথচ আম্মুর বদলে মাহেরকে দেখে উঠে বসলো আইরা।উনি আবার আসার কারন জিজ্ঞেস করতে মাহের উত্তর দিলেন, ‘এ্ এ একটা ক্ কথা বলবো।’
‘বলে চলে যান।’
‘বলবো?’
‘হু।’

মাহের চোখমুখে খিঁচে বলতে শুরু করলেন, ‘আমি ত্ তোমাকে ভালো…ভালো লাগে।’
মাহের দাঁত খিঁচে নিজের অপারগতা হজম করে নিলেন।সামান্য একটা চুনোপুঁটি সমান মেয়ের সামনে উনার এতো নার্ভাস লাগছে।কি আশ্চর্য্য!
আইরার বুকের ভেতরে কালবৈশাখির ঘন অন্ধকার সরে বসন্তের নতুন ফুল ফোটার ন্যায় এক চমৎকার অনুভূতিতে মন ভরে উঠলো।তবুও ঠায় কড়াস্বরে জিজ্ঞেস করলো
‘কবে থেকে?’
‘তুমি আ্ আসার পর থেকে।’
আইরা চমকায়।ভীষণভাবে চমকায়।লোকটা শেষমেশ প্রকাশ করেছেন তাঁর অনুপস্থিতি উনাকে একটু হলেও ভাবিয়েছে।

মাহের অপ্রস্তুত হয়ে তখনো চুপচাপ নিজের অবস্থানে অসার।কোনো এক অজানা খুশিতে আইরার হুট করে খুব করে হাসি পেলো।যেকোনো সিরিয়াস মুহুর্তে মরার হাসি আসাটা তাঁর ন্যাচারাল অভ্যাস।মুখে হাত দিয়ে হাসি আটকাতে চেয়ে ফিক করে শব্দ হলো।অথচ মাহের বুঝলেন মুখে হাত চেপে সে হয়তো কাঁদছে।মাথা নিচু করে ব্যর্থর মতো শেষ একটা কথা বললেন, ‘যতবার এসেছি তুমি ফিরিয়ে দিয়েছো।দয়া করে বরাবরের মতো এবারও ছোট করো না।আমি বিগত সবকিছুর জন্য ক্ষমা চাচ্ছি,তাও যদি আমার লাইফে আসতে না চাও,ইউ ক্যান ডু ইট।আমি আর আসবো না।’
আরহাম অপেক্ষায় থাকলেন।আইরাকে আজকেও ভালোভাবে বুঝিয়েছেন তিনি।স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়ানোর সবচেয়ে বড় শত্রুই হলো শয়তান।অথচ তারা দীর্ঘ সময় আলাদা থাকছে।আম্মু চুপ থাকলেও ইদানীং আব্বু আইরাকে আলাদাভাবে পরখ করছেন।মেয়ের মলিন মুখ,উনার দৃষ্টিগোচর হয় না।আহনাফ তাজওয়ার যদি এ বিষয়ে নাড়া দেন,তবে ব্যাপারটা আরো বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।তাই দূ পক্ষকে বুঝিয়েই আজকে মাহেরকে ডেকেছেন আরহাম।আইরাও চুপচাপ বাধ্যের মতো রাজি হয়েছে দেখা করতে।আজকে একটা চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো হোক।

সকালের রান্নাটা বিনু করেছে আজ।শরীরটা ভালো লাগছিলো না বলে এশা শুয়েছিলো কিছুক্ষণ।মনের রোগই বড় হোক,শরীরের রোগ তো হেতু মাত্র।একটা মামুষ হাসিখুশি, প্রানোচ্ছল থাকলে তাঁর শরীরের অসুস্থতা তাকে খুব একটা কাবু করতে পারে না আবার যদি মন ভালো না থাকে,মনে অস্থিরতা দূ:শ্চিন্তা আর দূ:খ থাকে,তবে অল্প কিছুই অনেক বড়ো রকমের জটিলতা।এশার চোখ মেঝের টাইলসে।ঘুম নেই তাঁর চোখে,মাথাব্যথার যন্ত্রণায় সে টু শব্দটি অব্দি করছে না,এর চেয়ে বড়ো ব্যথা সে বুকে নিয়ে ঘুরছে।সে অসুস্থ জেনেও লোকটা দিব্যি নিজের কাজে ব্যস্ত।সেই সাতসকালে বেরিয়ে নিয়ম করে রাতে ফিরা,দূ একখান কথা বলার চেষ্টায় রাত কাবার,আবার নতুন দিন।ভালোবাসা না হোক,মোহ’ই ধরে নিলাম সেটা।সেটাও এতো ঠুনকো হয়; এই উত্তর খুঁজে ব্যর্থ সে।
দরজায় ফ্যাচফ্যাচ আওয়াজ হলো।এশা মনে করলো বিনু এসছে অথচ কড়া পারফিউমেডর স্মেল নাকে আসতেই এশা চোখ বুঝলো।মনে মনে তাচ্ছিল্য হেসে নিজেকে যতটুকু পারে গুটিয়ে নিলো।
খানিক পর অনুভূত হলো কপালে কোনো ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পড়েছে।উল্টো ঘুরে শোয়ার অজুহাতে এশা কাঁথা দিয়ে মুখ ঢেকে নিতেই রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
এশার পাশ ঘেষে বসলেন।দূ এক মিনিট কি চিন্তা করছেন এশা জানে না,তবে তাঁর অস্বস্তি হচ্ছিলো।অফিস এর গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে বাসায় আসার কোনো প্রয়োজন দেখছে না সে।

‘এদিকে ফিরো।’
এশা ফিরলো না।দাঁত কপাটি শক্ত করে নিরুত্তর রইলো সে।রায়ান কয়েকবার বলার পরও তাঁর কোনো নড়চড় না পেয়ে তাকে শূন্যে কোলে বেডশীটে হেলান দেওয়ালেন।মাত্র কয়েক সেকেন্ড এর ব্যবধানে এশা খেই হারিয়ে ফেলেছিলো।তবুও নিথর হয়ে চুপচাপ বসে থাকতেই রায়ান দরজার দিকে ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকালেন।উঠে সেটা লক করে তাঁর মুখোমুখি বসে কাতরকন্ঠে বললেন, ‘আমাকে নিয়ে তোমার অভিযোগগুলো বলো,আমি জানি আমি দোষী।তাও আজকে শুনবো।’
এশা বলতে চাইলো না কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন সুযোগ পেলো স্পষ্ট অথচ কঠোরস্বরে গড়গড় করে জমে থাকা কথাগুলো উগড়ে দিলো।রায়ানও চুপচাপ শুনলেন,হজম করলেন।তাঁর কথার মধ্যে ভুল কিছু নেই অথচ সে কি জানে,তাকে দেখতে না পেয়ে ছটফট করা তিনি যখন মাঝরাত্রিতে এসে দেখেছিলেন?প্রতিদিন কাগজে মোড়ানো যে প্যাকেটটা সে অযত্নে ফেলে রাখতো,সেখানে তাজা গোলাপগুলো দুমড়েমুচড়ে নষ্ট হয়ে যেতো সে খবর সে রাখতো?ঘুমের ঘোরে ছটফট করতে থাকা তাঁকে রেখে রায়ান নির্ঘুম রাত কাটাতেন সে কখনো জানবে?
রায়ান জানালেনও না।আজ কথা বলার শক্তি যেনো ফুরিয়ে আসছে উনার।ঢোক গিলে শুকনো গলা ভিজিয়ে নিয়ে বললেন, ‘আমি কার জন্য এসব করি?তুমি বাসায় অসুস্থ আমি সারাদিন আড্ডা দিয়ে বেড়াই?তোমার খোঁজ নিই বিনুর থেকে।তোমার ফোন অবহেলায় পড়ে আছে।আমার শত শত ফোন কল এসএসএম বোধহয় আসে না।তাই না এশা?’

এশা তখনো নিজের জায়গায় স্থির।এতো দীর্ঘ দূরত্বের পথে এসব ছোট রিজনগুলো অবশ্যই হেয়!
‘আমার জবটা চলে গিয়েছে।’
‘চলে গিয়েছে!’ কথাটা কয়েকবার কম্পিত হলো এশার কানে!কয়েক সেকেন্ড এর ব্যবধানে সে রায়ানের দিকে তাকালো।উনার ক্লান্ত দৃষ্টির কারন কি এটাই?’
‘হারিয়েছি সপ্তাহখানেক আগে।আমার বাবার নিজের অফিস আছে,বিজনেস আছে।জব চলে যাওয়ার পর আমি বাবাকে গিয়ে বলেছি।উনি বলে দিয়েছেন নিজের টা আমি নিজে বুঝে নিতে।এশা,ছন্নছাড়া লাইফ আমার যেকোনো ভাবে কেটে যেতোই।কিন্তু এখন আমার তুমি আছো,তোমার জন্য হলেও বাবার কাছে দ্বিতীয়বার অনুরোধ করবো না,ছোট হবো না।তুমি জানো,বাবা কত স্ট্রং?আমি জানি তুমি অসুস্থ আমার ইচ্ছে হয় তোমার পাশে থাকি,মাথায় হাত বুলিয়ে দিই,তোমার টেক কেয়ার করি কিন্তু একমাস দূইমাস তিনমাস পর?যখন আমি নি:স্ব হয়ে যাবো তখন হাত পাতা লাগবে আমার।তাই নিজের পথ নিজে খুঁজছি।অনেকগুলো সিভি জমা দিয়েছি,একটা না একটা হয়ে যাবে,নিজের পরিচয়ে বাঁচবো,তোমাকে আমার রাণী করে রাখবো,দেখো।’
হৃদয়ে জমাটবাঁধা ব্যথার বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁর চোখ ভিজেনি যতটুকু ভিজেছে রায়ানের কাতর স্বরে।মাথা নত করে নিজের অপারগতা স্বীকার করে নিলো এশা।রায়ান হাসলেন,উনার হাসি দেখে দূ:খ হলো তাঁর।রায়ান তাঁর গালে হাত রেখে আদুরে স্বরে বললেন, ‘কাঁদো কেন?’

‘ভুল বুঝেছি আপনাকে।’
‘আর আমি যে প্রতিদিন যন্ত্রণা দিয়েছি?’
‘আমার আপনাকে বুঝা উচিত ছিলো।’
‘পাগলী মেয়ে!তোমার হাসি-হাসি মুখে ব্যথার রেখা ফুটবে আমি একটুও চাইনি।তাই বিষয়টা গোপন রেখেছি।কিন্তু এখন দেখলাম তুমি আমাকে তোমায় ছুঁতেও দিচ্ছো না।’
এশা উত্তর দিলো না।রায়ানের বাহুতে মাথা লাগিয়ে চুপটি করে বসে রইলো অনেকক্ষণ।নীরবে তাদের মাঝে কতো কথার আলাপ হলো,কতো অভিযোগের দাবি উঠলো,কতো মন খারাপের গল্প হলো সেটা জানবে শুধু দূই হৃদয়।বুকের মাঝে আটকে থাকা ছোট্ট সাইজের যন্ত্রটায় জমা হবে সব কথোপকথন।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৭

মাদ্রাসায় মহিলাদের মধ্যে দায়িত্ব-কর্তব্যে প্রধান হিসেবে আছেন হালিমা।আরহামের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ খুব কম হয়েছে উনার।তাও কালে ভাদ্রে,একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের জন্য।অথচ আজকের সাক্ষাৎ যেনো বড্ড দীর্ঘ।আরহাম টেবিলে পড়ে থাকা চিঠিটার দিকে তাকিয়ে বিদ্বেষী কন্ঠে বললেন, ‘আপনাকে বলা হয়েছে উনাকে বুঝাতে।আপনি কোনো রেসপন্স করেননি।বলা হয়েছে উনার ভাইকে টিসি দিয়ে দিতে।তাও নো রেসপন্স।বলা হয়েছিলো সাপ্তাহিক ক্লাস থেকে উনাকে বাদ দিয়ে দিতে এত নিষেধাজ্ঞার পরেও উনি দিব্যি আসা যাওয়া করছেন কীভাবে এটার কি উত্তর দিবেন?’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here