আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪২
কায়নাত খান কবিতা
আপনাকে নয় জান। আপনার পুরো পরিবারকে। আপনি তো আমার Soul mate. How can I kil”l you jaan?”
—আপনি কী মানুষ?”
— আপনার জন্য অমানুষে ও পরিনত হতে পারি জান।”
—সেটা আপনি অনেক আগে থেকেই কিং।”
হঠাৎ করেই উচ্চ, গা ছমছমে এক হাসি ভেসে আসে।কিংশুক জোরে জোরে হেসে উঠে। কিংশুকের সেই হাসিটুকু দেখেই অরিনের সারা শরীরে শীতল কাঁপন বয়ে যায়।ভয়ে কাঁপতে থাকা অরিনের দিকে তাকিয়ে কিংশুক মুখটা ঝুঁকিয়ে আনে।এতটাই কাছে, যে দু’জনের নিঃশ্বাস একে অপরের সঙ্গে আষ্ঠে পৃষ্ঠে মিশে যেতে থাকে।
___বউ ছাড়া অনেক দিন রয়েছি জান। Let’s do some activists. ”
__activists?”
__ love activists.”
কিংশুকের মাদকাময় কণ্ঠস্বর শুনে ঢোক গিলে অরিন। তার চোখের ভাষা বলে দিচ্ছে-আজ কিছু একটা অঘটন ঘটতে চলেছে।
—কী করতে চাইছেন আপনি?”
– আগামী দু-ঘন্টা এখানে কেউ আসবে না জান, একটু সমস্যা হবে। কিন্তু এডজাস্ট করো।”
–মা..!”
অরিনের কথাগুলো ঠোঁটেই থামিয়ে দিয়ে কিংশুক যেন উন্মত্ত ভালোবাসায় তাকে ঢেকে দেয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান যেন আজই। অরিন মুক্ত হতে চায়, ছুটে পালাতে চায়।কিন্তু সেই শক্ত বাহুবন্ধন তার সব চেষ্টা নিঃশব্দে থামিয়ে দেয়। অরিন প্রাণপণে চেঁচিয়ে ওঠে, কিন্তু শব্দগুলো বাতাসেই হারিয়ে যায়। কেউ আসে না তাকে সাহায্য করতে।
বিশ দিন আগে-
বাথটবে যখন জীবন মৃত্যুর সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল অরিন, ঠিক তখনই কিংশুক এসে তাকে নিয়ে হসপিটালে চলে যায়। যেটার সুযোগ খুব ভালো ভাবে নেয় অরিনের মা।
অরিনের মা যখন হাসপাতালে হাজির হন, তার সঙ্গে ছিলেন উচ্চ আদালতের কিছু লোকজন। উদ্দেশ্য একটাই-নিজের মেয়েকে নিয়ে যাওয়া।
কিংশুক ও অরিনের বিয়ের একমাত্র কাগজটি তখন ছিল কিংশুকের কাছেই। সেটাই ছিল তাদের সম্পর্কের একমাত্র প্রমাণ।
আর সেই প্রমাণই কিংশুকের বিশ্বস্ত একজন লোকের থেকে ১২ কোটিতে কিনে ফেলে আয়রিন বেগম। ১২ কোটির কাছে বিক্রি হয়ে যায় বিশ্বস্ততা। যেখানে কিং নিজেই বিশ্বের দ্বিতীয় রিচ পার্সন। সেখানে ১২ কোটি তো হাতের ময়লা তার নিকটে।
আয়রিন বেগম সব লোক এবং মিডিয়া এনে জড়ো করেন। নিজের মেয়েকে নিয়ে যাবেন বলে কিংশুককে জানিয়ে দেন। কিন্তু আয়রিন বেগমকে ৬০০ ডিগ্রির ঝাটকা দিয়ে কিংশুক নিয়ে যেতে বলে অরিন।
কারণ অরিনের শারীরিক অবস্থা তখন ভীষণ নাজুক ছিল। সে যদি কিংশুকের সঙ্গে থাকত, কবে সুস্থ হতো তা বলা কঠিন। কিংশুকের রাগের পারদ সামান্য কারণেই চড়ত।
সেই আগুনের ভেতর অরিনের সুস্থতা কতটা সম্ভব ছিল প্রশ্ন থেকেই যায়।তাই সেদিন অদ্ভুতভাবে শান্ত ছিল কিংশুক।সিগার টানতে টানতে ঠান্ডা গলায় বলেছিল মেয়েকে নিয়ে যেতে।সেদিনের সেই দৃশ্যটাই ছিল অরিনের মায়ের সাময়িক বিজয়।
কিন্তু গল্প সেখানেই শেষ হয়নি।খুব দ্রুতই কিংশুক পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জেনে যায়। তাদের বিয়ের সমস্ত কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। আর সে টেরই পায়নি, ঘুণাক্ষরেও না।
এই বিশ্বাসঘাতকতা কিংশুককে উত্তেজিত করেনি।বরং আরও ঠান্ডা করেছে।সে ধীরে, স্থির মাথায় নিজের মতো করে গেম সেট করতে শুরু করে। কারণ অরিন এবং তার বিয়ের কোনো মেমোরিস নেই। এই ক্ষেত্রে অরিন সুস্থ হলে আবার ও তাকে নিজের করে নিবে বলে দূর থেকে অরিনের ওপর কড়া নজর রাখে কিংশুক। অরিনের রুম থেকে শুরু করে ওয়াশরুম এবং অরিন বেলকনি বা জানালা ঘরের কোনো আনাচে-কানাচে থেকে বাইরে তাকালে তার চোখ কত দূরে যাবে, সেই অব্দি ক্যামেরা সেট করে রাখে কিংশুক। যেন অরিন যেটা দেখে, সে ও সেটা দেখতে পায়। এভাবেই নিজের অজান্তে কিংশুকের বন্দীনি হয়ে থাকে অরিন।
‘’বর্তমান’’
শপিং মলের ট্রায়াল রুমে প্রায় দু-ঘন্টা ধরে চলে কিংশুকের লাভ রোমান্স। তার ভালোবাসা এতোটাই তীব্র যন্ত্রণা দায়ক হয়ে ওঠে যে, অরিন না পারতেই নিজের জ্ঞান হারিয়ে বসে। এক পর্যায়ে কিংশুক থেমে অরিনকে নিজের কোলে শক্ত করে ধরে রাখে। জ্ঞান হীন অরিনের মুখেটা নিজের অতি নিকটে নিয়ে আসে।আস্তে আস্তে অরিনের কানে গিয়ে বলে কিং।
–প্রতি নিঃশ্বাসে নাম তোমার.. লেখা আমার মনের ভেতরে। পুরে দুনিয়া জ্বালিয়ে দেবো..করবো ছারখার তোমায় না পেলে।”
—শরীরে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে আস্তে আস্তে করে চোখ মেলতে থাকে অরিন। চোখ মেলতে ও যেন দম বের হয়ে যায় তার। কোনো রকম চোখ খুলে তাকায় চারপাশে। নিজেকে আবিষ্কার করে খান ম্যানশন নিজের কক্ষে।দু-হাতে ভর দিয়ে উঠে বসে অরিন।শ্বাস ফেলতে ও টনক নড়ে ওঠে তার।শরীরের শেষ শক্তি টুকু সঞ্চয় করে উঠে দাড়ায় অরিন। আস্তে আস্তে রেস্টরুমের দিকে চলে যায়।
একটা লম্বা সাওয়ার নিয়ে রেস্টরুম থেকে বেরিয়ে এসে সোজা আয়নার সামনে তাকায় সে। তাকাতেই চোখ চলে যায় কন্ঠদেশে।তাজা দাগের চিহ্ন স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। চোখ বন্ধ করে ট্রায়াল রুমে কিং এর love activists এর স্মৃতি চারণ করে অরিন। সেটা তে love কম pain বেশি। কিংশুকের ভালোবাসায় এতো pain কেন হয়? নরমাল ভালোবাসা কী তার ডিকশিনারিতে নেই? এতো নিষ্ঠুর কেন কিং?
যেখানে দিনের পর দিন মানুষের স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বাড়ে। সেখানে স্বামী নামক কিংশুক শুধুই তার ভয়-ভীতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। তার ছায়া ও অরিনের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।ভয়ানক আতঙ্ক। একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজের প্রতিবিম্বের পানে তাকিয়ে অরিন বলে, ‘ আপনার এই অদৃশ্য খাঁচা থেকে আমি একদিন ঠিক বের হবো কিং।’
‘ পারবে নাহ’ ঠোঁটের কোনে হাসি টেনে এনে বিশাল স্ক্রিনে অরিনের কথা গুলো শুনে বলে ওঠে কিংশুক। অরিন তো এটা ও জানে না তার রুম থেকে শুরু করে দৃষ্টি যতদূর অব্দি চলে যায়, ততদূর অব্দি কিংশুক সিসি লাগিয়ে রেখেছেন। অরিনের দৃষ্টিতে পড়া মাটিকে ও হিংসা করে কিং। সেখানে তার থেকে মুক্তি?
–দিন শেষের রক্তিম অবসান হলে ও অবসান হয় না অরিনের আন্তর্লীন আর্তনাদ। মন শক্ত হলে ও যে শরীর শক্ত হবে এটার কোনো মানে নেই। মন শক্ত করে রাখলে ও শরীরের ব্যাথা গুলো শক্ত হয়ে ঝড়ে পড়ে না তার। কিংশুকের এই love activists এর ব্যাথা ঠিক কতদিন নিজের শরীরে নিয়ে বেড়াবে অরিন তার সঠিক ধারণা করতে পারছে না সে।
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪১
কিন্তু বেশ কিছু দিন যে ভুগতে হবে এটা মোটামুটি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার তার কাছে। মনে মনে কিংশুককে জাহান্নামে পাঠাচ্ছে সে। যতবার নড়তে যাচ্ছে, ততবার তার শরীর আনসার্পোটিভ মুড করে ফেলছে।
বেশ বিরক্ত নিয়েই দিন পার করে অরিন। কিন্তু তার এই বিরক্তিকর দৃশ্য গুলো নিজের ভিলাতে বসে বড় স্ক্রিনে খুব উপভোগ করে কিং।
‘ নরম-সরম আদরেই নেতিয়ে পড়েছে মেয়েটা। দূর্বল বউ।’

next part gula kobe asbe?