Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন শেষ পর্ব 

আনহেলদি অবসেশন শেষ পর্ব 

আনহেলদি অবসেশন শেষ পর্ব 
কায়নাত খান কবিতা

__ডোন্ট টাচ হার..হেই ইউ্য..আই সেইড ডোন্ট..!”
দুবাই এয়ারপোর্ট থেকে কিংশুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি অরিনকে ও সাথে নিয়ে যায়। একজন রিচ এবং পাওয়ারফুল মানুষকে যেভাবে ওয়ারেন্ট এবং পাক্কা এ্যালিগেশন ছাড়া গ্রেফতার করা যায় না, ঠিক তেমন ভাবে তাদের বিরুদ্ধে সহজে কেউ এ্যালিগেশন আনে ও না। এমন অনেক সময় দেখা গেছে রিচ পার্সনদের জন্য সাত খু:ন মাফ হয়ে যায়। কিন্তু একজন হতদরিদ্র মানুষের জন্য পকেট মারির এ্যালিগেশন আনলে ও মাসের পর মাস জেলে থাকতে হয়।

কিংশুক ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় রিচ পার্সন হলে ও তাকে গ্রেফতার করা হয় সাধারণ মানুষের মতোই। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের বড় বড় সদস্যদের ও দেখা যায়। অত্যাধিক নিরাপত্তার কারণে মিডিয়াতে বিষয়টি তেমন ভাবে প্রকাশ পায় না।
কিংশুককে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তার চোখ শুধু অসহায়ের মতো অরিনকে দেখতে থাকে। অরিন কিছু বলছিল না। কিংশুককের দিকে শুধু তাকিয়ে ছিলো। তার চাহুনি ছিলো আবেগহীন। সে পুলিশের সাথে যেতে থাকে। কিংশুক কত ডাকলো, কত আহাজারি, কত চিৎকার। কিন্তু অরিন যেন কিছু শুনলো না। শুধু কিংশুকের মুখ পানে তাকিয়ে ছিলো।

‘পূর্বে’
__এখানে তো কেউ নেই কিং।”
__আমি তো আছি। আর কাকে চায় আপনার বেবিগার্ল।”
___মানুষ কোথায়?”
__প্রাইভেট আইল্যান্ডে মানুষ কেন থাকবে জান?”
__প্রাইভেট মানে?”
__আপনি না বললেন বিকিনি পড়ে বিচে ঘুরতে চান।”
__তাই জন্য আইল্যান্ডে কিনে ফেললেন কিং?”
__ইয়াপ।”
সামনের দিকে তাকিয়ে খুব জোড়ে একটা নিঃশ্বাস ছাড়ে অরিন। শুধু মাত্র বিকিনি পরে ঘুরবে বলে তার সাই’কো স্বামী পুরো আইল্যান্ড কিনে ফেললো। চুপচাপ তাকিয়ে চারদিকে চোখ বুলাতে থাকে অরিন। পরক্ষণেই তার কী মনে হলো, শরীরে থাকা টিশার্ট খুলে সামনের দিকে যেতে থাকে।
অরিনকে এতোটা আর্কষণীয় অবস্থায় দেখে হাল্কা এডামস অ্যাপেল উঠানামা করতে থাকে কিংশুকের।
পানির একদম মাঝে গিয়ে অরিন কিংশুকের পানে তাকিয়ে বলে, __Darling Can I Be Your Favourite… I’ll YOUR Girl.. Let You Taste It..i know what you want..just take it…!”
চোখ থাকা সানগ্লাসটি খুলে টিশার্টের বোতাম গুলো খুলতে খুলতে কিংশুক অরিনের কাছে যেতে থাকে। পানির মাঝ বরাবর একদম অরিনের কাছে দাড়িয়ে তার ধনুকের ন্যায় কোমরটি একটানে কাছে টেনে কিংশুক বলে, __I’ll taste you every night..every day..every hour’s..Every mints..Every second bby girl.
কিংশুকের গলায় হাত দিয়ে অরিন বলে,

__তাহলে আমাকে শপিং এ নিয়ে চলুন!”
অরিনের গালে স্লাইড করতে করতে কিংশুক বলে
__এখনই?”
___নাহ! কয়েকদিনপর। দুবাইতে।”
__ওকে জানা।”
ভালোবাসা হলো বড়োই অদ্ভুত জিনিস। কয়েক মাস আগে ও অরিন কিংশুককে জমের মতো ভয় পেতো। তার ধারে কাছে ও আসতে চাইতো না। কিন্তু আজ? আজ সারাক্ষণ তার চারপাশে আঠার মতো লেগে থাকে সে। কিংশুক বরাবরই চেয়েছিল অরিন তাকে ভালোবাসুক। মন থেকে আগলে রাখুক।আজ একদম সেটাই হলো।
দেখতে দেখতে প্রায় পনেরোটি দিন মধুচন্দ্রিমায় থাকে কিং এবং তার বেবি গার্ল। তাদের ভালো বাসার স্মৃতি সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে।
দেশ আসার সময় অরিন বায়না ধরে সে দুবাই যাবে। শপিং করতে। বউয়ের মন খুশি করতে কিংশুক ও আর না করে না। বরং প্রাইভেট জেট নিয়ে বেরিয়ে পরে।
সারাটি সময় অরিন কিংশুকের কোলে বসে গল্প এবং খুনসুটি করতে করতে আসে। তাদের দু-জনকে দেখলে কেউ বলবে না বয়সের এতো ব্যবধান রয়েছে। বরং দু-জন বেস্ট ফ্রেন্ড তারা। এতোটা ক্লোজ অরিন কিংশুকের সাথে হবে। এটা সে কল্পনা ও করতে পারেনি। দুনিয়া বোধ হয় কিংশুকের থেকে সুখি মানুষটি আর একটি ও নেই।
দুবাই গিয়ে নেমে কিছু ক্ষণ হাঁটতেই এক ঝাঁক পুলিশ সদস্য এসে হাজির হয়। তারা অনেক কিছুই বলছিলো, কিন্তু কিংশুকের কান অব্দি কিছু যাচ্ছিল না। হঠাৎ করে তার হাতে হাত কড়া পড়ানো হয়। তারপর তাকে নিয়ে যেতে থাকে পুলিশ সদস্যরা। এর মাঝে কিংশুক কয়েকবার অরিনের পানে তাকে। কেমন অস্বাভাবিক ভাবে তাকে শান্ত দেখালো। যেন তার আশেপাশে কী হচ্ছে সে কিছুই জানে না।

‘বর্তমান’
দু’বাই এয়ারপোর্টের কোলাহল যেন হঠাৎ করেই থেমে যায়।
দুইজন অফিসার কিংকে নিয়ে ঢুকে একটা ছোট, জানালাবিহীন রুমে। দরজাটা বন্ধ হতেই বাইরের সব শব্দ মরে গেল। রুমটার নাম Holding Room কিন্তু তার কাছে এটা যেন একটা অদ্ভুত শূন্যতা।
ভেতরে শুধু একটা ধাতব টেবিল, দুটো চেয়ার। মাথার ওপর সাদা আলোটা এমনভাবে জ্বলছে, যেন ইচ্ছে করেই চোখে লাগে। দেয়ালের কোণে ছোট একটা ক্যামেরা নিরবে সবকিছু দেখতে থাকে সে।
__Sit here. —একজন অফিসার ঠান্ডা গলায় বললে,
কিং গিয়ে চেয়ারে বসে। হাত দুটো টেবিলের ওপর রাখে,
__why did you kill your wife?”

প্রশ্নটি শুনেই রেগে যায় কিংশুক। সে কেন তার বউকে খু:ন করবে? একজন জীবন্ত মানুষ যে তার সাথে একটু আগে ও ছিলো। কোনো কথার উত্তর না দিয়ে সামনে থাকা ছোটো টেবিলটি ছুঁড়ে মারে কিংশুক। তারপর নিজেই নিজের সাথে বিরবির করে কিছু একটা বলতে থাকে। অফিসার দুটো কিছু একটা ইশারা করে বেরিয়ে পরে রুম থেকে। তারা যেতেই কিংশুকের সামনে এসে দাড়ায় অরিন।
তাকে দেখা মাত্র খুব জোড়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কিংশুক।গালে, মুখে অজস্র চুমু খায় সে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
___তুমি কোথায় চলে গেছিলে জান?”
অরিন কিছু না বলে শুধু চুপচাপ তার সামনে দাড়িয়ে থাকে। কিংশুক আস্তে আস্তে লক্ষ্য করে অরিনের শরীরে পচন ধরছে। তার শরীর থেকে বাজে স্মেইল আসছে।
কিংশুক কিছু বলবে তার আগেই অরিন বলে,

__আমি তো আরো দু-মাস আগেই মা-রা গেছি কিং।”
__মা..মা-রা গেছো মানে? বে..বেবিগার্ল।”
__আপনি তো নিজের হাতেই আমাকে গ’লা টিপে মেরেছিলেন কিং।”
কিংশুকের সামনে থাকা অরিন নামক মেয়েটি আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে। তার অস্তিত্ব গায়েব হতে থাকে ধীরে ধীরে।
__বেবিগার্ল তুমি এভাবে হাওয়াতে মিলিয়ে যাচ্ছো কেন?”
অরিন কিছু না বলে শুধু হাসতে থাকে। তার হাসির সাউন্ড কিংশুকের মাথায় প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। খুব জোড়ে জোড়ে চিৎকার করতে থাকে সে।

কয়েক মুহুর্তের মধ্যে অফিসার গুলোর সাথে নার্স এবং ডাক্তার গন ও ভিতরে আসে। তারপর কিংশুককে ধরে ইনজেক’শন পুশ করা হয়। কিংশুকের শরীর যখন ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে আসছিল তার মনে পরে সেই দিনের কথা। যেদিন অরিন রাজের সাথে কথা বলেছিলো। সেদিন সে অরিনকে বাড়িতে এনে শরীরের সমস্ত কা’পড় খুলে চেক করতে থাকে, সে তার অগোচরে কিছু করেছিল কি-না। এরপর যখন অরিন তাকে চ’ড় মা’রে। সে তার গলা টিপে ধরে। এবং অরিন সেখানেই দম বন্ধ হয়ে মা-রা যায়। অরিনের এই অকাল মৃত্যুটি কিংশুক মেনে নিতে পারে না। তাই সে অরিনের পঁচা, দূর গন্ধ যুক্ত লাশ নিয়েই থাকে। এবং মনে মনে এমন অনেক ঘটনা পরিকল্পনা করে যেগুলো বাস্তবে ঘটেনি। সবই ছিলো কিংশুকের শ্রেফ মাত্র কল্পনা। কিংশুক খুব করে চাইতো অরিন তার অতীত জানুক। তাকে আগ্রহ করুক। লাভ রুমে ২৫৭৮ টি ছবি গুলো দেখুক। কিন্তু!! অরিন এসব কিছুই দেখে বা করে যেতে পারেনি। সব থেকে কষ্টের বিষয় হলো অরিন কখনো কিংশুককে ভালোই বাসতে পারেনি।
কিংশুকের অতীত ছিলো ভয়ংকর। কিন্তু এর সাথে অরিনের কোনো লেনাদেনা ছিলো না। তবু ও সে কিংশুকের সন্দেহের স্বীকার হয়ে মৃত্যু বরণ করলো।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫৭

২০১৯ সালে লন্ডনে প্রথম দেখায় যেই মেয়েটির মুখের ট্যাটু নিজের বাহুতে কিং এঁকেছিল। সেই মেয়েটিকেই সে নিজের হাতে খু:ন করলো।
আসলে সন্দেহ হচ্ছে একটা রোগ। মানুষিক রোগ। আপনি কখনোই এই রোগ থেকে মুক্তি পাবেন না। যতদিন না আপনার মন পরিষ্কার হচ্ছে। আর এই সন্দেহের জেরে কত মানুষ তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে বলার বাহিরে। তাই যাকে ভালো বাসেন। তাকে বিশ্বাস করতে শিখুন। কিং এবং রোজ। কখনোই এক ছিলো না। এক হলো ও না।
এরপর?
এরপর আর কী?
কিংশুক পাগল হয়ে যায়!!!

সমাপ্ত

1 COMMENT

Comments are closed.