Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬২

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬২

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬২
সাইদা মুন

সকাল তখন ঠিক নয়টা পঁয়তাল্লিশ। আচমকাই ঘুম ভেঙে ধড়মড়িয়ে উঠে বসল মেহরীন। আধোঘুম ভরা চোখে দেয়ালঘড়ির দিকে তাকাতেই মুখজুড়ে দুশ্চিন্তার ছাপ নেমে এলো। এত বেলা! পাশ ফিরে দেখল, তাহিয়া এখনো নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। গতরাতে দেরি করে শোয়ার ফলেই দুজনেরই এই দেরি। মাঝে দু-একবার ডাকা হয়েছিল বটে, তবে কলেজ বন্ধ থাকায় খুব একটা জোর দিয়ে ডাকেনি কেউ। এত সকালে উঠেও তাদের বিশেষ কোনো কাজ ছিল না।

তবে মেহরীনের তো কাজ ছিল। তড়িঘড়ি করে গায়ে ওড়না জড়িয়ে খাট থেকে নেমে পড়ল সে। হন্তদন্ত হয়ে দরজা খুলে দ্রুত পা বাড়াল তালহার ঘরের দিকে। তালহা কি অফিসে চলে গেল? তাকে না বলেই? অবশ্য বলবেই বা কীভাবে, সে তো তখনও ঘুমে ডুবে ছিল। এইসব ভাবতে ভাবতেই আধভেজানো দরজা ঠেলে প্রায় হুড়মুড় করেই ঢুকে পড়ল ঘরে।
ঢুকেই চোখে পড়ল তালহাকে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আচ্ছে। পরিপাটি অফিসিয়াল পোশাকে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে। হাতঘড়ি পরতে পরতেই আয়নার ভেতর মেহরীনের প্রতিচ্ছবি ভাসতেই কপাল কুঁচকে পেছন ফিরল। তার এই অস্থির ছুটে আসা দেখে প্রথমে খানিকটা উদ্বিগ্ন হলেও, পরমুহূর্তেই সেই দৃষ্টি অন্য রূপ নিল।
ঘড়ি হাতে ছেড়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এলো সে। মেহরীনও সমান তালে সামনে এসে দাঁড়াল। মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকে একবার দেখে নিয়ে উৎকণ্ঠিত গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

—এখনো যাননি অফিসে?
কিন্তু তালহা কোনো উত্তর দিল না। বরং নিবিষ্ট দৃষ্টিতে দেখতে লাগল তাকে। ঘুম ভাঙা মুখে এখনো অলসতার ছাপ লেগে আছে, ঘুমো ঘুমো চোখজোড়া ফুলে ফুলে আছে। ফর্সা মুখখানা তৈলাক্ত হয়ে আছে, জানালা বেদ করে আসা আলোয় মুখশ্রীতে অন্যরকম এক আভা ছড়াচ্ছে। ফুলে থাকা ঠোঁটদুটো স্বাভাবিকের তুলনায় আরও বেশি গোলাপি লাগপছে, যেন টাটকা পাপড়ি। খুলে যাওয়া বেনি থেকে এলোমেলো কিছু চুল গাল ছুঁয়ে সামনে এসে পড়েছে। আর ওড়নাটা? কোনোরকমে বুকের ওপর জড়ানো, একপাশ প্রায় কাঁধ থেকে নেমে যাচ্ছে। সে জানত ঘুম থেকে উঠলে মেয়েদের সুন্দর লাগে, তবে এত সুন্দর তা জানা ছিল না। তালহা ধীর ভঙ্গিতে সামনে এসে দাঁড়াল। চোখের পলক যেন পরতেই চাচ্ছে না তার।
ঝুলে পড়া ওড়নার অংশটুকু তুলে ঠিক করে রাখল কাঁধে। স্নিগ্ধ স্পর্শে গালের পাশে ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে কানের পেছনে গুঁজে দিল। মেহরীন তখনও প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এরপর তালহা এক হাতের মুঠোয় তার গাল তুলে নিল। বৃদ্ধাঙ্গুলির মোলায়েম পরশে নরম গালটা ঘঁষতে লাগল। ধীরে ধীরে মাথাটা নামিয়ে আনল তার দিকে। মেহরীন নিঃশ্বাস বন্ধ করে বোঝার চেষ্টা করছে, সে কী করতে চলেছে? দুজনের মুখ যখন প্রায় ছুঁইছুঁই, ঠিক তখনই থেমে গেল তালহা।

কয়েক মুহূর্ত অপলক তাকিয়ে রইল তার চোখে। তারপর হঠাৎই নরম, গভীর এক স্পর্শ এঁকে দিল কপালে। একবার। দু’বার। বারবার। অধরযুগল ছুঁয়ে যেতে লাগল তার কপালে, আর আঙুলের আদুরে পরশ ভরিয়ে তুলল তার গাল। হঠাৎ পাওয়া এই সোহাগী স্পর্শে মেহরীনের চোখ আপনাতেই বুজে এলো। আবেশে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল সে। এক হাতে খামচে ধরল তালহার বাহু, অন্য হাতে জামার কোণা মুঠোবন্দী করে রাখল।
কিছুক্ষণ আগের উদ্বেগ যেন মিলিয়ে গেল। চারপাশে যেন মাতাল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। তালহা ধীরে ধীরে কপাল থেকে সরে আসতেই মেহরীন চোখ খুলল। তবে দুজনের মাঝের দূরত্ব তখনও ঘুচেনি। তালহা তখনও মুগ্ধ, ঘোরলাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।
অবশেষে নিচু কণ্ঠে বলল,
—ঘুম থেকে উঠেই আমার সামনে আসবে না।
মুহূর্তের আবেশে হঠাৎ এমন কথা শুনে মেহরীনের মুখভরা হাসি খানিকটা থমকাল। বিস্মিত, কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করল,

—কেন?
তালহা কানের কাছে মুখ নিয়ে মৃদুস্বরে বলল,
—ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় তোমার এই ঘুমজড়ানো, আদুরে রূপ আমাকে ভীষণভাবে ঘায়েল করে। একবার চোখে ধরা দিলে, সারাদিন মনজুড়ে এই প্রতিচ্ছবিই ঘুরে বেড়ায়। কাজে মন বসাতে চাই, তবে এই অবাধ্য চিত্ত বারবার ডুবে যেতে চায় তোমার ভাবনায়।
কথাগুলো শুনতে শুনতে মেহরীন ধীরে ধীরে লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। চোখ নামিয়ে আনল নিচের দিকে। নিজেকে নিয়ে এমন অকপট প্রশংসা, তা কি সহজে সহ্য করা যায়? লজ্জা তো লাগবেই, তাই লজ্জা পেল সে। ভীষণ পেল। তবে সেই লজ্জার মাঝেও অনুভব করছে এক অদ্ভুত আনন্দ। মেহরীনকে এভাবে গুটিয়ে যেতে দেখে তালহার ঠোঁটে ফুটে উঠল প্রশান্ত এক হাসি।
সে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে আবার ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়াল। তবে দৃষ্টি? সেটা তখনও আয়নার ভেতর বন্দি মেহরীনের ওপরই স্থির।
—তাই বলছি আমার মাথা খারাপ করবে না একদম।
থামলেও ঠোঁটের কোণে ঝুলে রইল এক মুগ্ধ, তৃপ্ত মুঁচকি হাসি। তালহার কথা শুনতেই মেহরীন এবার মাথা তুলল। বিছানায় গিয়ে দুপা ঝুলিয়ে বসল। এই প্রসঙ্গ বাদ দিতে প্রশ্ন করল,
—এখনই বের হবেন বুঝি?
কথাটা বলতে বলতেই দেয়ালঘড়ির দিকে চোখ পড়ল মেহরীনের। সময় দেখে নিজেই যেন উত্তর পেয়ে গেল। তাড়াহুড়ো করে বলে উঠল,

—সময় তো হয়েই গেছে, খেয়েছেন?
তালহা তখন চুলে চিরুনি চালাতে চালাতে ড্রয়ার থেকে কিছু প্রয়োজনীয় ফাইল বের করছিল। কাজের ফাঁকেই মৃদু স্বরে উত্তর দিল,
—জ্বি ম্যাডাম, আমার খাওয়া হয়ে গেছে। এবার আপনি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিন। আমি এক্ষুনি বের হবো।
উত্তর শুনেই মেহরীন দৃঢ় গলায় বলল,
—এখন না, আপনাকে বিদায় দিয়েই যাব।
বলতে বলতেই ড্রেসিং টেবিলের ওপর পড়ে থাকা তালহার ক্রেডিট কার্ডটি হাতে তুলে তার দিকে বাড়িয়ে দিল।
—এটা তো রেখে যাচ্ছেন।
কার্ডটা দেখে তালহা নিজের প্রতিই বিরক্ত হলো। কপাল কুঁচকে বলল,
—দেখলে তো, ইম্পর্ট্যান্ট জিনিসটাই ফেলে যেতাম।
এরপর বিছানার ওপর রাখা নিজের মানিব্যাগের দিকে ইশারা করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
—একটু কষ্ট করে কার্ডটা মানিব্যাগে রাখবে, জান?

শেষের সম্মোধন করা “জান” শব্দে যেন মেহরীনের চারপাশ মুহূর্তে থমকাল। চোখের পলক কেঁপে উঠল। কি ডাকল তালহা তাকে? কয়েকবার মনে মনে আওড়াল ডাকটা। তাতেই গালজুড়ে উষ্ণ লালিমা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। বুকের ভেতর টিপটিপ শব্দ শুরু হলো। ধমকা হাওয়া এসে আছড়ে পড়ছে যেব একের পর এক। কি অপূর্ব শোনাল তালহার কণ্ঠে এই ডাকটা। তার যে ভীষণ পছন্দ হয়েছে নতুন উপাধি। ঠোঁট কামড়ে লাজুক হাসি চেপে সে এগিয়ে গেল। খুশিমনে মানিব্যাগটা হাতে নিয়েই ঝাটকা খেল আরেকদফা।
বিস্মিত চোখে তাকিয়ে আছে। মানিব্যাগের বাম পাশের ছোট্ট ছবির জায়গাজুড়ে শোভা পাচ্ছে,
তারই এক হাসিমাখা ছবি। বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে পেছন ফিরে প্রশ্ন ছুড়ল,
—এটা কবে রেখেছেন?
তালহা নির্বিকার স্বরে বলল,
—কয়েকদিন আগেই।
—আমাকে দেখালেনও না যে!
তালহা আড়চোখে তাকিয়ে বলল,

—সব কি দেখাতে হয়? কিছু জিনিস আড়ালেই বেশি সুন্দর।
কথাটা শুনে মেহরীন চোখ ছোট ছোট করে তাকাল। কার্ডটা মানিব্যাগে রাখতে রাখতে ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
—তাই বলে একবার বলবেনও না? মেয়েদের কত স্বপ্ন থাকে জামাইর ওয়ালেটে নিজের ছবি থাকবে। আমারও তো ছিল। সেই স্বপ্ন যে কবেই পূরণ হয়ে গেছে, সেটা জানার অধিকার কি আমার নেই?
তালহা মুচকি হেসে বলল,
—সব কথা বলতে হয় না।
মেহরীন সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানাল,
—কেন? কেন? কে বলেছে?
এরই মধ্যে তালহার ফাইল গুছানো শেষ। সে এগিয়ে এসে মানিব্যাগটা হাতে নিয়ে পকেটে রাখতে রাখতে ধীর গলায় বলল,

—তুমি যে কাল রাতে চুপিচুপি আমার ঘরে এসে আমার মোবাইল চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলে, সে কথা কি আমি একবারও বলেছি?
মুহূর্তে মেহরীনের উৎসুক দৃষ্টি বড় হয়ে গেল। চোর ধরা পড়লে যেমন হয়, ঠিক তেমনই অবস্থা এখন তার।
তোতলানো স্বরে বলল,
—এই আ…আপনি দেখলেন কীভাবে? আ…পনি না ঘুমোচ্ছিলেন?
তালহা এগিয়ে এসে তার নাক টিপে বলল,
—তোমাকে দেখতে হয় বুঝি? তোমার উপস্থিতি তো না দেখেও টের পাই।
উত্তর শুনে মেহরীন পুরোপুরি হতভম্ব। এভাবে ধরা পড়ল সে। মাথা নিচু হয়ে এলো। ওড়নার কোণা দুহাতে মুচড়ে চলেছে অস্বস্তিতে। ধরা পড়ে যাওয়া ক্রিমিনাকের মতোই দাঁড়িয়ে রইল সে। কী বলবে, বুঝে উঠতে পারছে না। জবাব কি দিবে, যদি জিজ্ঞেস করে মোবাইল নিয়ে কি করেছে তখন কি বলবে?
তার এই অসহায়অবস্থা দেখে তালহার হাসি চেপে রাখা দায় হলো। তবে হাসল না, সে যে লজ্জা পাবে। নিজেকে সামলে গলা খাঁকারি দিয়ে একটু খোঁচা মেরেই বলল,

—সমস্যা নেই। মোবাইল তো আপনারই। আপনি যেভাবে খুশি নেবেন, সে চোরের মতোই নেন, কিংবা ডাকাতের মতো, আমি কিছু মনে করিনি।
তালহার কথায় যে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছে, তা বুঝতে মোটেও কষ্ট হলো না মেহরীনের। সে কি তবে তার মজা উড়াচ্ছে? না, তা হতে দেওয়া যায় না। তার চেয়ে বড় কথা তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া যাবে না, নয়তো তাহিয়া ধরা পড়বে। তালহা যেভাবেই হোক তার মুখ থেকে সত্য বের করে নিবেই। এই ভেবে মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াল সে। চোখেমুখে গাম্ভীর্যের ভাব এনে দৃপ্ত কণ্ঠে বলল,
—আমার জামাইর মোবাইল, আমি যেভাবে খুশি সেভাবেই নেব। এতে আপনার এনি প্রবলেম?
তালহা সঙ্গে সঙ্গে মাথা এদিক-সেদিক নাড়িয়ে ভীষণ নিরীহ সুরে বলল,
—না না, আমি তো আগেই বলেছি আমার কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমি তো জানি, চোরের মায়ের বড় গলা।
মেহরীন কটমট করে তাকাল। চোখেমুখে মিথ্যে রাগের ঝড়,
—আপনি অপমান করছেন? যান! আর আসবই না আপনার রুমে।
বলে অভিমানী ভঙ্গিতে দু’পা এগোতেই তালহা ঝট করে তার হাত ধরে ফেলল। মেহরীন হাত ছাড়ানোর ভান করে বলল,

—ছাড়ুন!
কিন্তু তালহা ছাড়ল না। বরংচ এক টানে তাকে নিজের কাছে এনে এক হাতে কোমর পেচিয়ে ধরল। তারপর সেই অবস্থাতেই তাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরোতে বেরোতে গুনগুনিয়ে উঠল,
“ও বউ কেন আমার কাছে আসো না,
ও বউ তুমি আমায় কি ভালোবাসো না..?”
মুহূর্তেই মেহরীনের সমস্ত মিছে রাগ গলে জল। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। এভাবেই হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি আর টুকটাক কথাবার্তার মধ্য দিয়ে দুজনে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল। নিচে এখন কেউ নেই। যে যার রুমে। তালহার চাচারাও অফিসে চলে গেছে। তাই নিশ্চিন্তেই দুজন নিজেদের মতো করে নামছে। কিন্তু শেষ ধাপ পেরোতেই সামনে এসে দাঁড়াল ফারাহ।

হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। সম্ভবত রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে উপরে যাওয়ার পথেই ছিল। তবে তাদের একসঙ্গে দেখে সে থমকে গেল। এক পলকের জন্য তার চোখ আটকে গেল তালহার হাতের অবস্থানে, মেহরীনের কোমরে। মুহূর্তেই তার আঙুলের চাপ গরম কাপের গায়ে আরও শক্ত হয়ে উঠল।
তালহা আস্তে করে হাত সরিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে নিল। বোনের সামনে এমন পরিস্থিতি বুঝে একটু কাশল। মেহরীনও বুঝে কিছুটা দূরত্ব বজায় করল। তারপর দ্রুত পায়ে সেখান থেকে চলে গেল। তাদের পাশ কাটিয়ে যেতে দেখেই ফারাহ ভারী পায়ে, ধপধপ শব্দ তুলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল। গরম কাপে আঙুল চেপে ধরায় হাত যে জ্বলছে সে খেয়াল নেই। শক্ত করে দাঁত খিচে রেখেছে।
এদিকে তালহা মাকে বলে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল। মেহরীনও সঙ্গ দিল গেট পর্যন্ত। যদিও তালহা বারবার বলছিল, রুমে চলে যেতে, ফ্রেশ হতে। কিন্তু মেহরীনের এখন বাগানে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে জেগেছে। সকালের ঠান্ডা আবহাওয়া, ভেজা মাটির গন্ধ, এসবের মাঝে একটু ঘুরে বেড়ানোর সখ জাগল। তাই তো এই অব্দি এল।
গাড়িতে ওঠার আগে তালহা ফিরে বলল,

—বেশিক্ষণ নিচে থেকো না।
মেহরীন বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে উত্তর দিল,
—ওকে, সাহেব। আপনিও সাবধানে যাবেন।
তালহা মুঁচকি হেসে গাড়িতে উঠতে উঠতেই বাতাসে ছুঁড়ে দিল এক ফ্লাইং কিস। মেহরীন সঙ্গে সঙ্গে তা মুঠোয় ধরে পাশের দিকে ছুঁড়ে ফেলল। তালহা সিটে বসতে গিয়েও থেমে গেল এই কান্ডে। কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
—এটা কেমন বিহেভিয়ার?
মেহরীন মুখ ভেংচে দুষ্টুমি ভরা গলায় বলল,
—এসব শুকনো চুমু টুমু আমি নেই না।
যদিও কথাটা নিছক মজার ছলেই বলেছিল সে। কিন্তু তালহা যেন সেটা একটু অন্যভাবেই নিল। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল, বলল,

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬১

—ওহ তাই নাকি? তাহলে অপেক্ষা করুন, রাতে না হয় আপনাকে ভেজা কিছুই দেব।
কথার শেষে এক চোখ টিপে গাড়িতে বসে পড়ল সে। পরক্ষণেই ইঞ্জিন স্টার্ট। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গাড়ি গেট পেরিয়ে গন্তব্যের পথে মিলিয়ে গেল। আর মেহরীন? সে তালহার শেষ কথার গভীরতা পুরোপুরি না বুঝেই নিজ মনে বাগানের পথে হাঁটতে লাগল। শীতসকালের হালকা ঠান্ডা, সিক্ত মাটির গন্ধ, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির, সব মিলিয়ে চারপাশে এক কোমল প্রশান্তি। ভোর গড়িয়ে গেলেও সকালের সেই স্নিগ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। আর সেই স্নিগ্ধতার মাঝেই, আপনমনে, লাজুক হাসি ঠোঁটে নিয়ে হেঁটে চলল মেহরীন, ভাবছে তালহারই কথা।

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৩