Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৩

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৩

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৩
সাইদা মুন

বাগান ঘুরে বাড়িতে ঢুকতেই তিতলি বেগমের মুখোমুখি পড়ল মেহরীন। তাকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার দেখে নিলেন। পা জোড়া কাদায় মাখামাখি। তাকে সে অবস্থায় দেখেই তিতলি বেগমের কপাল কুঁচকে উঠল। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটে উঠল। চিন্তিত কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন,
—খালি পায়ে বাগানে গিয়েছিলি?
মেহরীন নিরীহ মুখে মাথা নেড়ে সম্মতি দিতেই তাঁর চোখদুটো আরও গম্ভীর হয়ে উঠল। যেন সে বেশ খারাপ কিছু করে ফেলেছে। শাসনের স্বরে বলে উঠলেন,

—এভাবে বুঝি কেউ বাগানে যায়? যদি পায়ে কিছু ফুটতো? তখন ব্যথা কে পেত শুনি? জুতো পরে যাসনি কেন? আর ঘুম থেকে উঠেই বাইরে ছুটলি কেন? খাওয়া-দাওয়া কে করবে শুনি? দেখে তো মনে হচ্ছে ফ্রেশ হতেও যাসনি…
নানান বকাযকা শুরু করলেন তিনি। এক কথা থেকে অন্য কথায় চললেন। তবে এতে মেহরীনের হেলদুল নেই। বরং কথাগুলো শুনতে ভালোই লাগছে। বুকের ভেতরটা এক চেনা অনুভূতিতে ভরে উঠল। এমন শাসন বহুদিন পর শুনছে সে। এই সুর, এই উদ্বেগ, এই রাগ মেশানো চিন্তিত কন্ঠ, সবকিছুই তাকে মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিয়ে গেল শৈশবের উঠোনে। দাদিও তো এমন করেই বকতেন। খালি পায়ে বাইরে থেকে খেলেদুলে বাড়ি ফিরতেই পা দেখে বুঝে ফেলতেন তিনি। তারপর সে তার কত রাগ, কত বকুনি শুনতে হতো।
আজ তিতলি বেগমের কণ্ঠে সেই হারিয়ে যাওয়া আপন সুর শুনে মেহরীনের মনটা নরম হয়ে এলো। তাকে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিতলি বেগম আবারও ধমকের সুরে বললেন,

—এখনো দাঁড়িয়ে আছিস? সকালের খাবার দুপুরে খাবি নাকি? যা, গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়। সঙ্গে তাহিয়াকেও ডেকে নিয়ে আয়। বেলা কত হলো, এখনো মেয়েদুটো সকালের নাস্তাও করেনি। আমি খাবার দিচ্ছি।
বলেই তিনি রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন। যেতে যেতেও আপনমনে বকবক করছেনন,
—আমার হয়েছে যত জ্বালা। ছেলেমেয়েদের টেনশনেই দিন কাটে..
মেহরীন কার্পেটে পা মুছে নিঃশব্দে তাঁর পিছু নিল। ঠিক যেন ছোট্ট কোনো বাচ্চা মেয়ে মায়ের পেছন পেছন ঘুরছে। রান্নাঘরে গিয়ে তিতলি বেগম কেতলিতে পানি নিলেন। অতঃপর চুলোয় বসিয়ে আগুন ধরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এদিকে মেহরীন তার পিছু পিছু যেদিকে যাচ্ছে সেদিকেই যাচ্ছে। চুলোর সামনে থামতেই এবার কোনো কথা না বলে পেছন থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। দুহাতে টাইট করে তাঁর পেট জড়িয়ে মাথাটা রাখল পিঠের ওপর। তারপর গভীর করে কয়েকটা শ্বাস নিল। কত শান্তিময়, এই ঘ্রাণ! মমতার, আশ্রয়ের, মায়ের ঘ্রান।
শুনেছিল, মায়ের শরীরের গন্ধ নাকি খালার মাঝেও পাওয়া যায়। তাই তো সময় পেলেই তিতলি বেগমের গায়ের সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করে তার। তিতলি বেগমের শরীরের ঘ্রাণেই সে যেন নিজের মাকে অনুভব করতে চাইলো। সেভাবে থেকেই মৃদু স্বরে বলল,

—তোমাকে জড়িয়ে ধরলে কেমন মা মা ফিল আসে।
তিতলি বেগমের হাত থেমে গেল। পরক্ষণেই তিনি মেহরীনকে পেছন থেকে সামনে এনে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিলেন। কপালে আলতো চুমু এঁকে স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন,
—আমি তো তোর মা-ই।
এই কয়েকটি শব্দ যেন মেহরীনের হৃদয়ের গভীরে নরম বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ল। সে আরও শক্ত করে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। এভাবেই বেশ অনেক্ষন ধরেই জড়িয়ে ধরে আছে মেয়েটা। ছাড়ছেই না, তিতলি বেগমও সরালেন না। বুঝলেন, এই মুহূর্তে মেয়েটা একটু আদর পেতে চাচ্ছে। মুঁচকি হেসে এক হাতে মেহরীনকে আগলে রেখেই তিনি অন্য হাতে সংসারের কাজ করতে লাগলেন। কেতলিতে চা-পাতা দিলেন, তরকারি গরম করলেন, পরোটা ভেজে হটপটে রাখলেন, পাশেই আবার দুধ-চিনি মিশালেন চায়ের জন্য।
দৃশ্যটা যেন শৈশবের নিছক এক সকাল। ছোট বাচ্চাটা ঘুম থেকে উঠেই মায়ের বুক ছাড়া কিচ্ছু বুঝছে না। মায়ের ও কাজ থাকায় বাধ্য হয়ে বাচ্চাকে বুকে জড়িয়েই কাজে লেগে পড়েছে। আপাতত মেহরীন যেন সেই ছোট্ট বাচ্চাটা। তাঁকে জড়িয়ে রেখেই এদিক সেদিক ছুটছেন নিজের কাজ করছেন তিতলি বেগম। বিরক্ত হচ্ছেন না বরং ভালোই লাগছে তার। শেষমেশ পরোটা হতেই তিনি তাড়া দিয়ে বললেন,

—হয়েছে তো এবার। যা মা, ফ্রেশ হয়ে আয়। আগে খেয়ে নে।
মেহরীন ধীরে মাথা তুলল। চোখেমুখে প্রশান্তির ছাপ। বাধ্য মেয়ের মতো ছোট্ট করে বলল,
—আচ্ছা।
তারপর ঘরের দিকে রওনা দিল। হেলেদুলে গুনগুন করতে করতে এগোচ্ছে সে। মনটা আজ তার ভীষণ রকমের হালকা হয়ে আছে। ফুরফুরে লাগছে তার। চারপাশটা যেন আরও আপন আপন লাগছে। এই বাড়িতে এখন আর আগের মতো সংকোচবোধ কাজ করে না। এখন এই বাড়ির প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি জিনিসই নিজের বলে মনে হয়। লাগবেই বা না কেন? এ তো তার স্বামীর বাড়ি। তার খালার বাড়ি।
অবশেষে, তার নিজেরও বাড়ি। কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
দোতলায় উঠতেই ছোট চাচি সালমা বেগমকে দেখা গেল। এক বালতি ধোয়া কাপড় নিয়ে ছাদের দিকে উঠছেন। ভারে হাঁপিয়ে উঠছেন, মাঝেমধ্যে থামছেন। তা দেখতেই মেহরীন সেদিকে এগিয়ে গেল।
সালমা বেগম একটি জিড়িয়ে আবার বালতি টানতে হাত বাড়ানোর আগেই অন্য দুহাত বালতিটা তুলে নিয়ে হাঁটা ধরল উপরের দিকে। সালমা বেগম বিস্ময়ে তাকালেন। মেহরীনকে দেখে পরক্ষণেই চিন্তিত হয়ে উঠলেন। যে ভার তিনি নিজেই সামলাতে কষ্ট হচ্ছে, সেই ভারী বোঝা মেহরীন একা তুলছে।
তাঁর কণ্ঠে উদ্বেগ ঝরে পড়ল,

—আরে এই মেয়ে.. সাবধানে! একা পারবে না।
তবে মেহরীন কোনো কথাই কানে তুলল না। নিজের মতো করেই একটানা সিঁড়ি পেরিয়ে ছাদে উঠে বালতিটা নামিয়ে রাখল। ভারী বোঝা নামানোর পর বড় বড় নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে কোমড়ে হাত রেখে দাঁড়াল। এভাবেই কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মুখভর্তি ক্লান্তি, কপালে ঘামের চিকচিক, হাপাচ্ছে মেয়েটা। এমনিতেই শ্বাসকষ্ট তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী, এই ধরনের ভারী কাজ তার জন্য একটু বেশিই পরিশ্রমের লাগে।
পেছন পেছন উঠে এসে সালমা বেগম প্রায় ধমকের সুরেই বললেন,
—এই মেয়ে, তোমাকে কে বলেছে এটা একা টেনে আনতে?
মেহরীন ক্লান্ত কন্ঠেই বলল,
—আপনি একা পারছিলেন না, তাই একটু এগিয়ে দিলাম।
সালমা বেগম কপট রাগ দেখিয়ে বললেন,

—দুজনে ধরেই তো আনতে পারতাম! একা এনে এখন হাপাচ্ছো তো? যদি শ্বাসকষ্ট বাড়ে?
মেহরীন আলতো হেসে উঠল, তার জন্য উনি চিন্তা করছেন? বিষয়টা ভালো লাগলো তার। হেসেই বলল,
—ও সমস্যা নেই আমার। এসবের অভ্যাস আছে।
বলেই কাপড় তুলে ধরিতে মেলে দিতে শুরু করল। সালমা বেগমও পাশ থেকে কাজে হাত লাগালেন। কিন্তু তাঁর মনটা কেমন যেন নরম হয়ে এলো কথাটা শুনে, অভ্যাস আছে বলতে?
কাজের ফাঁকে কৌতূহলী কণ্ঠে এবার জিজ্ঞেস করেই বসলেন,
—অভ্যাস মানে? তোমার চাচি কি তোমাকে দিয়ে অনেক কাজ করাতো?
মেহরীন ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি টেনে বলল,
—দাদি থাকতে তেমন কাজ করতে হতো না। ওই একটু পানি আনা, কাপড় ধোয়া, কাপড় শুকাতে দেওয়া, এসব টুকিটাকি আমি করতাম। দাদি তো বুড়ো মানুষ, তাঁর আর কতোই বা শক্তি ছিল? এসব পারতো না তাই জোর করে আমিই করতাম। আবার ক্ষেতের সবজি প্রতিদিন মাথায় করে বাজারে দিয়ে আসতাম। তাই এসব ভারী জিনিস অনায়াসেই তুলতে পারি, তেমন সমস্যা হয়না।
সালমা বেগম বিস্মিত হয়ে উঠলেন। মেয়ে মানুষ এসব কাজও করে বুঝি? প্রশ্ন করলেন,

—কেন, তুমি কেন? তোমার চাচার ছেলে-মেয়ে ছিল না? তারা কিছু করত না?
মেহরীন এবার তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল,
—উনার ছেলে আছে, মেয়েও আছে। তাদের কষ্ট হবে বলে নিজের বাসনটাও ধুতে দিত না। তাদের দিয়ে আবার এসবও করাবে?
কথাটা শুনে সালমা বেগমের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। মেয়েটার জন্য হঠাৎ ভীষণ মায়া হতে লাগল। এত অল্প বয়স থেকেই জীবন তাকে কত কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এসেছে। একপ্রকার জীবনযুদ্ধ করে এসেছে সে। ধীরে, কিছুটা ইতস্তত করেই জিজ্ঞেস করলেন,
—আর তোমার দাদি মারা যাওয়ার পর?
প্রশ্নটা শুনে মেহরীনের চোখের দৃষ্টিতে হঠাৎ যেন ছায়া নেমে এলো। হাতে থাকা কাপড়টা মেলে দিয়ে কিছুক্ষণ নিঃশব্দে রইল। তারপর ভারী গলায় বলল,

—দাদি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আমার জীবনের সব সুখও চলে গেল। দাদি মরার পরদিন থেকেই শুরু হয় হিসাব-নিকাশ। এতদিন তাদের টাকায় খেয়েছি, পড়েছি, সেসবের উসুল নিতে শুরু করল। সারা বাড়ির কাজ, গরুর দেখাশোনা, বাজারে সবজি পৌঁছে দেওয়া, সবই আমার দায়িত্ব হয়ে গেল।
দীর্ঘ এক নিশ্বাস ফেলে আবার বলল,
—তবে এতে আমার কোনো কষ্ট নেই। তাদের ওপর অভিযোগও নেই। দিনশেষে বাঁচার জন্য একমুঠো ভাত তো দিত। তাদের জন্যই তো আজ আমি বেঁচে আছি।
বলেই গাল ভরে হাসলো মেয়েটা। তবে এই হাসির ভেতর লুকিয়ে থাকা অসীম বেদনা সালমা বেগমকে নাড়িয়ে তুলল। তাঁর চোখমুখে অন্ধকার নেমে আসলো। নিজের মেয়েদের মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠলো। বিয়ের বয়স হয়ে গেছে তাদের, অথচ এখনও অব্দি তাদের কষ্ট হবে বলে নিজের হাতে কাপড়টা পর্যন্ত ধুতে দেন না। আর এই মেয়েটা? খেলার বয়সে গোটা সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিল। মা বাবা না থাকলে বুঝি সন্তানের এই হাল-ই হয়?
এগিয়ে গেলেন মেহরীনের কাছে। মাথায় স্নেহভরা হাত রেখে আশ্বাস দিগে বললেন,

—যাকগে মা, যা চলে গেছে তা নিয়ে আর ভাবিস না। বর্তমান নিয়েই ভাব। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তোর ভবিষ্যৎ যেন অনেক সুন্দর হয়। অনেক সুখী হবি।
মেহরীন প্রশস্ত এক হাসি দিল। সেই হাসিতে কৃতজ্ঞতা ছিল, স্বস্তি ছিল। মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল সে। তারপর দুজনে টুকটাক গল্প করতে করতেই কাপড় মেলে কাজ শেষ করল। এইটুকু সময়েই ভালো একটা বন্ধন তৈরি হয়ে গেছে দুজনের মাঝে। মেহরীনের ভীষণ ভালো লাগছিল এই সময়টা। সালমা বেগমকে সে যতটা কঠোর ভেবেছিল, বাস্তবে তিনি ততটা নন।
কিছু মানুষকে দূর থেকে কঠিন মনে হয়, কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায় কঠোরতার আবরণের আড়ালেও কত কোমলতা জমে থাকে।

ঘরে ফিরতেই মেহরীন দেখল, তাহিয়া এখনো ঘুমের রাজ্যে বিভোর। ফ্যান পুরো গতিতে ঘুরছে, আর সে নিশ্চিন্তে ব্ল্যাংকেট মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। মেহরীনের সহ্য হলো না। সারা রাত প্রেম করবে আর দিনে এত আরামের ঘুম দিবে তা তো হবে না। ধীরে ধীরে বিছানার কাছে এগিয়ে গেল।
তারপর পায়ের দিক থেকে ব্ল্যাংকেটটা এক টানে সরিয়ে আনল।
হঠাৎ শরীরের উপর থেকে ব্ল্যাংকেট এভাবে সরে যেতেই তাহিয়া হকচকিয়ে উঠে বসল। চোখেমুখে ভয়, যেন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে! কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো চারপাশে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা চালাল কি হয়েছে। তারপর সামনে ব্ল্যাংকেট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মেহরীনকে দেখতেই সব পরিষ্কার হয়ে গেল চোখে। বিছানায় বসেই এক চিৎকার দিল,

—মেহরীনের বাচ্চায়ায়ায়ায়া!
কিন্তু ততক্ষণে মেহরীন এক দৌড়ে বাথরুমে ঢুকে পড়েছে। তাকে আর পায় কে। ভেতর থেকেই চিৎকার করে বলল,
—আম্মু ডাকতে বলেছে! আমার কোনো দোষ নেই!
খাবার টেবিলে বসে আছে মেহরীন আর তাহিয়া।
পরোটার টুকরো মুখে পুরে গল্পে মশগুল দুজন। পাশে তিতলি বেগম আর বাড়ির অন্য গিন্নিরা বসে আছেন। সবার হাতেই ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। সকালের গৃহস্থালি আলাপে জমে উঠেছে পরিবেশ।
এই গল্পগুজবের মাঝেই হঠাৎ উপরতলা থেকে তুমুল চিৎকার ভেসে এলো।
—আম্মু! ফুফু!
এই ডেকে ডেকে হুলুস্থুল পায়ে নামছে। সবাই চমকে উপরের দিকে তাকাতেই দেখা গেল মেহেদি আর রাফা প্রায় দৌড়ে নিচে নামছে। মুখভর্তি উত্তেজনা, চোখেমুখে অস্থিরতা। তিতলি বেগমদের বুক ধক করে উঠল। কেউ আঘাত পেল না তো?
চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠলেন,

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬২

—কি হয়েছে? আস্তে আস্তে নাম!
কিন্তু কারও কথা শোনার সময় যেন নেই ওদের। কে আগে নিচে পৌঁছাবে সেই প্রতিযোগিতায় একে অন্যকে ধাক্কাধাক্কি করতে করতে নামতেই ব্যস্ত। শেষমেশ নিচে নেমে হাঁপাতে হাঁপাতে প্রায় একসঙ্গে বলে উঠল,
—গেটের সামনে ইয়াব্বড় লাইন লেগেছে…

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৪