Home প্রিয় প্রণয়িনী ২ প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৬

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৬

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৬
জান্নাত নুসরাত

পাঁচ বছর পর…..
বড় সড় অডিটোরিয়াম জুড়ে পাখির ঝাকের মতো মানুষ বসে। পরণের কাপড় বিভিন্ন ধরণের তাদের৷ সবাই এলিট পর্যায়ের লোক। আকাশটা আজ পরিস্কার। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘ হাতছানি দিচ্ছে কখনো সখনো। যদিও নীল আকাশের বুকে সূর্যটা খাড়াভাবে আলো ছড়াচ্ছে, তবুও সিলেটের আবহাওয়ার ওপর ভরসা করা মুশকিল। প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে শীতকালেও মেঘ ঝড়ে পড়ে বৃষ্টি হয়ে ধরণীর বুকে। প্রকৃতির মনোরম দৃশ্যটির বুক চিড়ে সামনের বিশাল স্টেজের উপর থেকে আকস্মিক গলা চিঁড়ে বেরিয়ে আসলো হোস্টের আনন্দদায়ক চিৎকার,”হ্যালো! শুভ সন্ধ্যা আপনাদের সবাইকে।

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, কর্পোরেট লিডারস, উদ্যোক্তা এবং প্রিয় উপস্থিত সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আমার সালাম। স্বাগতম জানাচ্ছি Bangladesh Business Excellence Awards। আমি আরমান শিকদার আজকের এই সম্মানজনক আয়োজনের উপস্থাপক। কেমন আছেন আপনারা? আশা করি আমার মতোই ভালো আছেন! ভালো না থাকলেও কোনো বিষয় না, আজকের দিনটা এমন একটি দিন, মন খারাপি দূর করে মুখে ফুটিয়ে দিবে একটুখানি হাসির ছোঁয়া। তো আপনারা কী উত্তেজিত এ বছরের বিজনেস বেস্ট টাইকুন এওয়ার্ড কে জিতে নিয়েছেন তা দেখার জন্য? আমি তো ভীষণ উত্তেজিত..! ধারণা করুন তো কে কে এই সর্বসেরা এওয়ার্ডটা পেতে চলেছেন? আচ্ছা, বাদ দিন, এত টেনশন নিতে হবে না, কারণ আপনাদের মধ্যে আরমান শিকদার উপস্থিত আছেন, এবং তিনিই জানিয়ে দিবেন এবারের এওয়ার্ডটাকে হাতছানি দিয়ে নিয়ে যেতে চলেছেন কে..! তার আগে একটু মস্তি, মজা হয়ে যাক। যদি কোনো প্রকার এঞ্জয়মেন্ট না থাকে তাহলে সেটা কোনো উৎসবই মনে হয় না।
আরমান থামল একটু। বলল,”তবে…তার আগে আমরা ধন্যবাদ জানাব যারা তাদের আইডিয়া, পরিশ্রম এবং সাহস দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আয়োজনটি সম্ভব হয়েছে Bangladesh Business Excellence Awards এর উদ্যোগে, এবং সহযোগিতায় রয়েছে Media Partner…তাদের প্রতি আমরা জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আরমান একবার সবার দিকে তাকিয়ে হাসল,“এখন আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আমাদের সম্মানিত প্রধান অতিথি, মোহাম্মদ এম এস ওয়াহিদ সাহেবকে মঞ্চে এসে তার মূল্যবান বক্তব্য রাখার জন্য, আমরা করতালির মাধ্যমে উনাকে স্বাগত জানাই।
এম এস ওয়াহিদ বক্তব্য দিলেন মঞ্চে দাঁড়িয়ে। এত বছর তিনি কীভাবে এই ব্যবসার পেছনে খেটেছেন, কত কষ্ট পার করে এই পর্যায়ে এসেছেন, তা বলতে লাগলেন। উনার বক্তব্য শেষ হতেই আবারো করতালিতে মুখর হলো পুরো দর্শক সারী।
“অপেক্ষা আর না করিয়ে এবার আমরা প্রবেশ করছি আজকের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত পর্বে Award Presentation Segment।
করতালি বেযে উঠল আবারো। পেছনের স্ক্রিনে ভেসে উঠল চারজনের মুখ। সেখানে দুটো মুখ নতুন আর দুটো মুখ গত পাঁচ বছরে প্রতিবার দেখা গিয়েছিল। এবং তাদের মধ্যে একজনই পেয়েছেন এওয়ার্ডটা। এবারের এওয়ার্ডটা কে নিয়ে যান তা বলা মুশকিল বটেই। দর্শক সারীতে বসা কিছু মানুষ জানার জন্য উৎসুক কে নিয়ে যাচ্ছেন এবারের এওয়ার্ডটা। কিন্তু কিছু মানুষের মুখে বিরক্তির ছাপ। হয়তো তারা জানে কে নিতে চলেছেন এই এওয়ার্ড।
আরমান বলতে শুরু করল,“মনোনয়ন পেয়েছেন..

১. সৈয়দা নুসরাত নাছির
২.সারাদ মালহোত্রা
৩.আসাদ আহমেদ খান
৪.আয়দান চৌধুরী। এবং..
নাটকীয় ভঙ্গিতে থেমে গেল সে। সময় নিল কিছুক্ষণের জন্য। অতঃপর অডিটোরিয়ামের পুরো নীরবতা ভেঙে ভেসে এলো আরমানে পরিস্কার স্বর,“This year Best Business Award… goes to… Syeda Nusrat Nasir!”
আরমানের কথা শেষ হতেই দু-হাতে তালি বাযে উঠল দর্শক সারীতে। উল্লাসে ফেটে পড়লেন কিছু সংখ্যাক মানুষ। কিন্তু যার নাম ধরে ডাকা হলো তাকে মঞ্চের আশপাশে কোথাও দেখা গেল না। আরমান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল,”গত পাঁচ বছরে উনাকে একবারো এই অনু্‌ষ্ঠানে দেখা যায়নি, এবারো দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে সৈয়দ চয়েসের সিও সৈয়দা নুসরাত নাছির অনুপস্থিত।
“দেখতে দেখতে আমরা চলে এসেছি আজকের অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে। আজকের এই মঞ্চে উপস্থিত আছেন দেশের সেরা ব্যবসায়ী এবং ইনোভেটরর
এটা সত্যিই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
রিমোট চেপে টিভি বন্ধ করে দিল একটা হাত। ঠোঁট কামড়ে বন্ধ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল অনেক সময়।

আমি নুসরাত নাছির। যে এলিট পর্যায়ের এক ধণেঢ্য পরিবারের জন্ম গ্রহণ করেছি। আমি কখনো দেখেনি পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা, খাবারের অভাব, কষ্ট কী তা! শুধু দেখেছি খুশি, উচ্ছাস, আর ভালোবাসা। কলি থেকে ফুল ফোটার পর যেমন ফুল ঝড়ে পড়ে যায়, আমি ও তেমন ঝড়ে পড়েছি একসময়। দাদার কথা রাখতে গিয়ে আমার জীবন শেষ হয়ে অতল সমূদ্রের গভীরে ডুবে গিয়েছে। আমি বুঝিনি আমার জীবনটা কীভাবে শেষ হচ্ছে! আমি ধ্বংস হচ্ছি কীভাবে! শুধু ভেবেছি নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সমাজের সামনে একজন ডিভোর্সী নারী কখনো মাথা উচিয়ে দাঁড়াতে পারেনি, আমি দাঁড়িয়েছি। কিন্তু নিয়তি.. এই নিয়তিএ নিষ্ঠুরতার সাথে আমি টিকে থাকতে পারিনি, লড়াই করে যেতে পারিনি, আমি পিছিয়ে গেছি আমার বাসনা থেকে। আমি নুসরাত নাছির, যে কখনো বাবার ব্যবসায় হাত দিতে চায়নি, সারাজীবন হাসি মজা করে কাটিয়ে দিতে চেয়েছি, সে আজ একজন সিও হিসেবে পুরো একটা ব্যবসা সামলাচ্ছে। পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা আমাকে দাবিয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তা হতে দেইনি। আবারো উঠে দাঁড়িয়েছি, নিজেকে ঝড়া ওই ফুল হতে দেইনি মানুষ যাকে পায়ে পিষিয়ে চলে যায়, আমি হয়ে উঠেছি সৈয়দ নাছির সাহেবের দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা নুসরাত নাছির। আমি কখনো হারতে শিখেনি। বাস্তবতা যতই কঠিন হোক না কেন, নুসরাতরা কখনো হারে না।”জীবনের নিষ্ঠুরতা পায়ে মাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছি নতুন ভবিষ্যতের দিকে। জীবনকে স্মরণীয় করতে, নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে, আমি এই ব্যবসার দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি। অতীত এখন শুকনো গোলাপের মতো নিষ্প্রাণ! শৈশব, কৈশোর ভুলে গিয়ে যুবতী হয়েছি আমি। যেখানে কোনো অনুভূতিরা আর বেঁচে নেই। ঊনিশ বছর বয়সে আমি নিজের নামের পাশে তালাকপ্রাপ্ত বা ডিভোর্সী নারীর ট্যাগ লাগিয়েছি। আমি নুসরাত নাছির জীবনের সকল ঝড় ঝাপ্টা সামলে এখনো বটবৃক্ষের ন্যায় এক জায়গায় টিকে আছি। জীবনের নিষ্ঠুরতায় অনেক কষ্ট পেয়েছি, তবুও নিজের ভেতর তা লুকিয়ে রেখেছি, কখনো মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলিনি। অনেক সময় সেই মনে পাওয়া কষ্টগুলো বাক্সবন্দী করে সমূদ্রের গভীরে ছুঁড়ে ফেলেছি, কোনো বিষ্ঠার ন্যায়। যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের উত্তর দিয়েছি, কখনো নিজের চেহারায় সেই কষ্টের ছাপ উঠতে দেইনি।

মানুষ তোফানকে ভয় পায় কারণ তাদের ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় নয়,আমি তোফানকে ভয় পাই না, কারণ আমি নিজেই একজন তোফান। যেদিকে যাই সব লন্ডভন্ড করে দেই।
মেয়েরা ফুল পছন্দ করে, কিন্তু আমি করি না। আমি জানি, ফুল পছন্দ করে নিরিহ, নির্বোধ মেয়েরা। ফুলকে মানুষ পায়ে মাড়িয়ে পিষে চলে যায়, কিন্তু কাটা মানুষের হাতে ফুটে যায়, মানুষের কষ্টের কারণ হয়, তাই কাটাই আমার পছন্দের।
আমি নুসরাত নাছির, যে হুঁশ জ্ঞান হওয়ার পর কখনো নিজেকে কাঁদতে দেয়নি, যারা কাঁদে তারা মানুষের চোখে সহানুভূতির পাত্রী, আমি কারোর চোখে সহানুভূতির পাত্রী হতে চাই না, কেউ আমার কান্না দেখুক আমি তা পছন্দ করি না। আমি জীবনে একবার কান্না করেছিলাম জ্ঞান হওয়ার পর, নিজের করা বোকামির জন্য আমি আজ ও আত্মগ্লানিতে ভোগি। কেন আমি সেদিন কান্না করতে গিয়েছিলাম? এমন কাজ করা আমার মতো একজনের জন্য শোভা পায় না।
যাই হোক, অতীত এখন আমার কাছে শুধুই অতীত, অতীত ভেবে কখনো কান্না করা বা দুঃখ প্রকাশ করা আমার সাথে যায় না, এটা শুধু বোকারা করে! আমি নুসরাত নাছির, আমাকে কখনো দুঃখ, কষ্ট, সহানুভূতি ছুঁতে পারে না, পারবেও না। আমি এমনই, একজন পাথর! যেখানে মাথা ঠুকে মরে গেলেও কোনো উত্তর ভেসে আসবে না। কোনো সহানুভূতির একটা শব্দ বের হবে না।
চুপচাপ হেঁটে এসে নুসরাত দাঁড়াল জানালার সামনে। চোখ দুটো অন্ধকারে জ্বল জ্বল করছে। বাড়ির পেছনের বনের দিকে তাকিয়ে রইল নির্জীব নিস্তব্ধ। কারোর নড়াচড়া টের পাওয়া যাচ্ছে না। চোখ বন্ধ করতেই জীবনের ধূর্দূষ, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মনে পড়ল তার। ঠোঁট বাঁকাল তাচ্ছিল্য নিয়ে। চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থেকেই নিজেকে বলল,”ভুলে যাও নুসরাত, ভুলে যাও! অতীত মনে করে কাঁদে বোকারা, তুমি বোকা নও। যা ফেলে এসেছ তার দিকে ফিরে তাকানো তোমার সাথে যায় না।

আকাশের সূর্যটা খাড়াভাবে রোদ ছড়াচ্ছে৷ মেঘ গুলো হাতছানি দিচ্ছে চারিপাশে৷ নীল আকাশের গায়ে সাদা ছোঁপ ছোঁপ মেঘের প্রলেপ দেওয়া। বাতাসের সাথে ঝাপ্টা দিয়ে কলকলিয়ে গান গাচ্ছে পাখি। তাদের সুরের সাথে মিলিয়ে ভেতরের ঘর থেকে ভেসে আসছে ইরহামের গানের সুর। গিটারের ঝনঝন শব্দ সাথে চিৎকার দিচ্ছে।
আজকাল নিয়ম করে প্রতিদিন গান গায় ইরহাম। সে রকস্টার হবে! শোহেব সাহেব পাশের বাড়ি থেকে ইরহামের এমন পাগলপানা দেখতে দেখতে একদিন বিরক্ত হয়ে এ বাড়িতে আসলেন। এসে ছেলেকে দেখে তিনি হার্ট অ্যাটাক করে ফেললেন ছোটখাটো নিজ মনেই। কাঁধ সমান চুল, লম্বা লম্বা গোফ দাড়ি। তার ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে দুটো পুরু ঠোঁট। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলেন তিনি। কোনো ভন্ড পীর মনে হচ্ছে তাকে দেখে। জিজ্ঞেস করলেন যখন,” এই অবস্থা কেন তোমার? কী করেছ তুমি নিজের? পীর হচ্ছো নাকি?
উত্তর ছিল তার এমন,”পীর হতে যাব কেন, আমি রকস্টার হবো।
রাগে ফেটে পড়লেন উত্তর শোনে ভদ্রলোক।

“রকস্টাররা এমন থাকে?
“থাকে না কে বলেছে?
প্রশ্নের বিপরীতে প্রশ্ন শোনে ভদ্রলোক গ্যাৎ করে উঠলেন। কিছুক্ষণ ছেলের আগাগোড়া জহুরে চোখে দেখে নিয়ে শুধালেন,”অফিসে জয়েন করছ কবে?
ইরহাম তার দিকে তাকিয়ে প্রতিত্তোর করল,”জয়েন করব।
হাসতে চাইলেন ভদ্রলোক, কিন্তু তার মনক্ষূণ করে দিয়ে জিজ্ঞেস করল ইরহাম,”কোন পদে?
‘“ভালো পদেই দেওয়া হবে।
ইরহাম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে হাতের গিটারে আবারো টুং টাং শব্দ করে। তার উপর নিচে বিট হয়ে মনোরম এক সুর ভাজে, তারপর বন্ধ হয়, সে জানতে চায় বাবার কাছে,”কোন পদে বললে ভালো হয়!
“জেনারেল ম্যানাজার পদে।
গালে হাত ঠেকায় সে। ভাবনাতীত কন্ঠে শুধায়,”নুসরাতের নিচের পদে?
মাথা দোলালেন ভদ্রলোক। ইরহাম সোজা কোনো মারপ্যাঁচ ছাড়া কন্ঠেই বলে ওঠে,” নুসরাতের নিচের পদে আমি কাজ করব না।
ছেলেকে পরপর প্রশ্ন করেন ভদ্রলোক‘“কেন?
তার উত্তর ছিল এমন“যেহেতু আমি নুসরাতের তুলনায় গণে গণে সতেরো দিনে বড় তাই আমাকে বড় পদে দিতে হবে।

শোহেব সাহেব দাঁতে দাঁত চাপলেন। কটমট করে ওঠে বললেন,”হারামজাদা…
আঙুল তুলে দু-দিকে নাড়াল ইরহাম। বলল,”আব্বু হারামজাদা বলবেন না, প্রেস্টিজে লেগে গেলে আর কোম্পানির ছায়াও মারাব না।
ভদ্রলোক নমনীয়তা আনলেন নাটকীয় ভঙ্গিতে,”মাহারাজ, আপনি কোন পদে বসতে চান দয়া করে বললে আমরা উপকৃত হতাম?
ইরহাম মাথার নিচে হাত দিয়ে বসল। ভাব ভঙ্গিমা এমন সিংহাসনে বসেছে সে, আর তার সাধারণ এক মন্ত্রী শোহেব সাহেব। বাবার দিকে চোখ দিল না। বুঝল ভদ্রলোক লাল দুটো চোখ দিয়ে তাকে গিলে খাচ্ছেন। গলা খাঁকারি দিল, গম্ভীর্যের সহিত হাত নাড়িয়ে বলল,”বোর্ড অফ ডিরেক্টর পদে দিলে তবেই আমি যাব।
কথা শেষ হলো না ধড়াম করে পশ্চাৎদেশে লাথি বসালেন ভদ্রলোক। রুঢ় কন্ঠে বললেন,”বালের ব জানো তুমি, যে ডিরেক্টর পদে বসবে?
ইরহাম বিগলিত হাসল। লাথি খেয়ে তার হাসি বেড়েছে যেন আরেকটু। বলল,’”এইজন্যেই তো বসছি না।
নাজমিন বেগম ঠান্ডা বাড়িতে ইরহামের প্রতিদিনকার এই তান্ডবে বিরক্ত। দেখতে একে সন্ত্রাসের মতো দেখায় তার উপর এই অবস্থা। আবারো গিটারে টুংটাং বাজাতেই নুসরাতের গলা শোনা গেল,”ইরহাম স্টপ থিজ ফাকিং ননসেন্স সিট।

দো-তলার ড্রয়িং রুম থেকে ইরহামের গলার স্বর ভেসে এলো,”যদি না করি?
“আই উইল কিল ইউ..!
ইরহাম নিজের জায়গায় অটল থেকে বলল,” আই ডেয়ার ইউ, দেখি আমাকে মার তো।
ইরহামের কথা শেষ হলো না ধুপধাপ রুম থেকে বের হওয়ার শব্দ পাওয়া গেল কারোর। সেলিনের কার্ডিগান জড়ানো তার গায়ে। হাঁটুর কাছে সামান্য ফাটা অভারসাইজড জিন্স। চোখ উপরের দিকে তোলার আগে ইরহাম বিড়বিড় করল,”কীরে নুসরাত..!
কথা শেষ হওয়ার আগেই একশো বিরাশি ওয়াটের একটা থাপ্পড় পড়ল তার গালে। চিৎকার করার সমটুকু পেল না, চোখ বন্ধ করতেই কানের কাছে ভোঁ ভোঁ করে উঠল। এরপর আর কিছু বোঝার সক্ষমতা রইল না, সবকিছু অন্ধকার হয়ে আসলো তার চোখের সামনে।
যখন জ্ঞান ফিরল তখন চোখ খুলে সৌরভির ড্যাব ড্যাব চাহনি লক্ষ করল নিজের দিকে সে। ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে মেয়েটা। ইরহাম উঠে বসতে নিল, কোথায় একটা টান পড়তেই কান ঝাঁঝিয়ে উঠল। মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসল অতর্কিত শব্দ। সৌরভি পাশ ঘেঁষে বসে দাড়ি গোফে আবৃত মুখটায় হাত বোলাল। মাথা এলিয়ে দিল আলসী ভঙ্গিতে ইরহাম সৌরভির হাতে।

“কবে বন্ধ করবে এই নাটক?
ইরহাম নির্লিপ্ত স্বরে বলল,” কীসের নাটক?
“মুখের গোফ দাড়ি বেড়েছে তোমার, ইরহাম! কবে কাটবে?
“কাটব.!
“ এই যে প্রতিদিন গিটার নিয়ে বাজখাই গলায় গান গাও লাভ কী?
“লাভ আছে, কয়েকদিনের ভেতর আমি রকস্টার হয়ে যাবো
“ এমন করছ কেন তুমি, ইরহাম?
ইরহাম সৌরভির গালে ঠোঁট ছোঁয়াল। কোমর চেপে ধরল শক্ত করে। শিরদাঁড়া বেয়ে বয়ে গেল শিরশিরে বাতাস। নড়েচড়ে হাত সরাতে চাইল, ইরহাম চোখ পাঁকাল,”নড়বে না, চুপচাপ বসে থাকো।
সৌরভি চুপ্টি করে বসে রইল। ইরহাম নিজের গালে হাত বুলিয়ে আর্তনাদ করল,”আহ্, কী ব্যথা..!
সৌরভি নিরুদ্বেগ কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,“থাপ্পড় খেয়েছেন?

মাথা দোলাল নির্লজ্জের মতো সে, হাসল একটু। অতঃপর গোফ দাড়ির আড়ালে থাকা অধর ছোঁয়াল আবারো মেয়েলি গালে। দাড়ির খোচা লাগতেই সৌরভি কঁকিয়ে উঠল। গালে হাত বুলিয়ে বলল,”ব্যথা পাচ্ছি, ইরহাম!
ইরহাম ছেড়ে দিল তাকে৷ হাতের গিটারটা বগলদাবা করে নুসরাতের লক করা দরজার সামনে দাঁড়াল। ব্যঙ্গ করে বাজখাঁই গলা ছেড়ে গাইল,”কচু বনে হেগে গেল কালো কুকুরে…
চ্যাঁচানো স্বর এলো ভেতর থেকে,” শাট আপ ইরহাম..!
মানা শুনল না, আবারো একই সুরে টেনে টেনে গাইল সে। অপাশে রেগে ফেটে পড়া নুসরাতের মুখ ভেবে ভীষণ খুশি হলো। গলগল হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে গিটার বাজাল ঝনঝন করে। আবারো গাওয়ার জন্য মুখ খুলতেই ধড়াম করে দরজা খুলে গেল। হাতে শিকারের বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নুসরাত। বন্দুক তার দিকে তাক করে রাখা, ট্রিগার চেপে ধরে রেখেছে। অন্তরআত্মা কেঁপে উঠল সেকেন্ডের ভেতর বেচারার। চোখ মুখ লাল করে গণল,”এক, দুই তিন..!
অতঃপর এক দৌড়ে হাওয়ার সাথে মিলিয়ে গেল বাড়ির অভ্যন্তরে।

সৈয়দ বাড়িতে হুলোস্থূল কান্ড ঘটছে। চারিদিকে রমরমে ভাব। সৌরভি আজ রান্না করে পাঠিয়েছে। আহান এতদিন হোস্টেলে ছিল বাড়ি ফিরেছে বলে। বাড়ির মা চাচিরা তার ফিরে আসার খুশিতে উচ্ছাস এতক্ষণ করলেও আহানকে দেখে তাদের মুখের অবস্থা রক্তশূণ্য হয়ে আছে। আহানের নিজের ভেতরি নেই কোনো উচ্ছাস। কোনো এক কারণে মুখটা ভয়ানক রকম গম্ভীর হয়ে আছে। পাঁচ বছর আগ থেকেই তার এই ভাবগতি। আজ একটু বেশিই চেহারার আদল গম্ভীর। খাড়া নাকটার উপর আঘাতের চিহ্ন। সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে। ফিনফিনে শরীরের সাদা শার্টটা জায়গায় জায়গায় ফাটা। হাতের একপাশ ছিঁড়ে গিয়ে ঝুলছে কোনোরকমে। সাধারণ সেন্ডু গেঞ্জি পেঁচিয়ে থাকায় হাতের বাহু থেকে রক্ত বের হচ্ছে তা স্পষ্ট লক্ষ্যমান। চুলের ভেতর জ্বালা করছে। হয়তো মাথা ও ফেটে গেছে সংঘর্ষে। ক্যাম্পাসে আবারো ঝগড়া হয়েছে।। দু-বছর ক্যাম্পাস থেকে যতবার বাড়ি ফিরেছে সে, ততবারই নাক মুখ, মাথা সব ফাটানো ছিল তার। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আগের ছেলে মানুষি কমে গেলেও ঝগড়ার একটা ব্যামো এসে গেছে। যেচে পড়ে মানুষের ঝগড়ার ভেতর ঢোকে যায় সে। যখন জিজ্ঞেস করা হয়,”এখানে তোমার ঠ্যাং ঢোকানোর কী অধিক প্রয়োজন ছিল?

সন্ত্রাসের মতো তাকাবে সবার দিকে। বলবে কাঠখোট্টা গলায়,”দরকার ছিল বলেই ঠ্যাং ঢুকিয়েছি।
কী দরকার ছিল তা বলে না, মেয়ে ঝড়িত সকল ধরণের ঝগড়ায় পাওয়া যায় তাকে। এর জন্য মার পড়ে এই বয়সে এসেও। সোহেদ কোনোকালে বাচ্চাদের মারধর করেন না, কিন্তু শোহেবের হাতে সে মার খাচ্ছে। আজ যদি এসে শোনেন আবারো ক্যাম্পাসে মেয়ে একটার পক্ষ ধরে হাতাপাই করে এসেছে তাহলে নির্ঘাত মার পড়বে। কিন্তু এ বিষয়ে ভাবশূণ্য সে। মরল কী বাঁচল তার কিছু যায় আসে না। ঝর্ণা বেগম চড় থাপ্পড় মেরেছিলেন অনেকবার, এমনকি নাজমিন বেগমও। তবুও সে অটল তার জায়গা। অনড় ওই পদক্ষেপ থেকে কেউ নড়াতে পারছে না। সেদিন মারের সময়ে শোহেব সাহেব খ্যাপাটে গলায় জিজ্ঞেস করলেন,”মেয়েদের পক্ষ নিয়ে কেন তোমার এত ঝগড়া, হু? ওরা তোমার কী লাগে?
দরজা বন্ধ ছিল। ওপাশে আহান নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে চাচার সামনে। কেমন করে তাকিয়ে থাকতে থাকতে উত্তর দিয়েছিল,”বোন লাগে, বোন!
শোহেব চ্যাতলেন যেন। প্যান্টের বেল্টের বারি পড়ল আবারো আহানের পিঠে। বাহিরে দাঁড়ানো রুহিনী চোখ কুঁচকালেন। হৃদয় কাঁপল ছেলের কষ্টে।

“তোমার বোন বাড়িতে আছে, বাহিরে বোন পাতাচ্ছ কেন? এত দরদ উতলাচ্ছে কেন? বোন নেই তোমার বাড়িতে? বাহিরের ঝগড়ায় ঝেচে পড়ে ঠ্যাং ঢোকাচ্ছ কেন?
আহানে নিরুদ্বেগ কন্ঠেস্বর। ভ্রু উপরে তুলে তীর্যক হাসল। ভেসে এলো তার উত্তর,”ইউ নো দ্যাট না চাচ্চু, বোন গুলো বোন নেই ,ওগুলো কলের পুতুল হয়ে গেছে। তার জন্য দায়ী কারা জানেন?
শোহেব সাহেব থমকালেন। দ্বিধা নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,”কারা দায়ী?
আহান তাচ্ছিল্যের স্বর ভাসল পুরো রুমে,”আপনারা। আমআর কৈশোর নষ্ট করে দেওয়ার জন্য কারা দায়ী জানেন, আপনারা দায়ী! আমার বোনদের জীবন নষ্ট করার জন্য কারা দায়ী জানেন, আপনারা৷ সব দোষ আপনাদের।
এরপর আর আহান দাঁড়াল না। বেরিয়ে গেল দরজা খুলে রুম থেকে। মায়ের ছলছল চোখের দিকে ও ফিরে তাকাল না। শোহেব সাহেব দাঁড়িয়ে রইলেন হাতে বেল্ট নিয়ে, টু শব্দটি করলেন না। আহানের বাক্যের বিরুদ্ধে কিছুই বললেন না। সেদিনের পর আর বাড়ি আসেনি সে, দু-মাসে এ বাড়িতে পা পড়েছে। গোলুমুলু শরীরটা আগের মতো নেই আর।
শক্তপোক্ত হয়ে গেছে৷ সোফায় পা ছড়িয়ে বসে শূণ্য নেত্রে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকল কিছু সময় । কী মনে করে উঠে দাঁড়াল। খাবার না খেয়েই বেরিয়ে এলো বাহিরে। পেছন থেকে ডাক ভেসে এলো, তবুও সে শুনল না। মাটির দিকে চোখ স্থির করে হেঁটে চলে গেল সামনে। ভাবলেশহীন তার দৃষ্টি। আকস্মিক ঝড়ের গতিতে পাশ কাটিয়ে তার থেকে একটু খাটো একটা মেয়ে দৌড়ে চলে গেল। আহান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল, ডাকল না, মেয়েটা ও তাকাল না। কেমন অপরিচিত মতো তার ব্যবহার! চেনা পরিচিত মুখটার একাংশ দেখতে পেল শুধু পেছন থেকে ঝাপসা।

শীত পড়েছে এবার পুরোদমেই। বছর ঘোরার আগে যেহেতু শীত এসেছে সেহেতু মোটামুটি বেশ পড়বে শীত ধারণা করা যায়৷ গাছ হতে পাতা নিচে পড়ে পড়ে খালি হয়ে গেছে গাছ। বসন্ত আসবে যখন তখন গাছে পাতার সমারোহ দেখা যাবে৷ বাতাসে শীতের মিষ্টি একটা গন্ধ, চারিদিকে হাওয়ার উত্তাল সুর। এই বছর শীতে প্রকৃতি অবাক করে দিয়ে আকস্মিক ঝেপে বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টিতে ভিজল ইরহাম আর সৌরভি৷ শীতে কাঁপতে কাঁপতে ইরহামের বুকে আশ্রয় নিতেই তাকে ঠেলে সরিয়ে দিল ছেলেটা। ইরহামকে এখন আর ছেলে বলা চলে না। আগের তুলনায় স্বাস্থ্যবান হয়েছে। শভ্র মুখটা পুরুষালি অহংঃ আছে। পেটানো, খাঁজ কাটা পুরুষালি শরীর। উচ্চতায় ছাড়িয়ে গিয়েছে বাড়ির সবাইকে। ছয় ফুট এক ইঞ্চিতে গিয়ে ঠেকেছে সে। পাঁচ বছর আগে যে নুসরাত তার কপালে এসে পড়ত সেই নুসরাত এখন তার বাহুতে এসে পড়ে৷ এটাই তার কাছে বিগ একচিভমেন্ট। আগের মতো সব থাকলে হয়তো খ্যাপানো যেত খ্যাপাটাকে কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। কেমন নিষ্পৃহ এই বাড়িতে তার অস্তিত্ব।

আকাশে পেজাতুলোর ন্যায় মেঘ খেলা করছে। ঘড়ির কাটায় ঠিক নয়টা বেজে পঁচিশ মিনিট।৷ সৈয়দ চয়েসের শো-রুমে এসে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে স্টাফেরা। ট্রান্সপারেন্ট গ্লাস দ্বারা আবৃত শো-রুমে যে যার জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজে লেগে পড়েছে। স্টাফদের বুকের ধড়ফড়ানিও বাড়ছে। চোখ দুটো ভয়ার্ত সবার। গত দু-মাসে আটজন স্টাফকে ছাটাই করছেন এখানকার সিও। প্রতিদিন একজন না একজনকেই ছাটাই করেন তিনি। কখন না জানি রুপার নাম এসে যায় সেই লিস্টে তা ভেবেই হৃৎপিন্ডটা লাফায়। ম্যামের সামনে কথা বলতেই তো তার জান বেরিয়ে যায়। একজন মানুষের চোখগুলো এত উদাস হয় কী করে! মানুষদের দিকে ঠান্ডা নজরে কীভাবে সে তাকায়! ভুলবশত রুপা ভাবনার অতলে ডুবে গিয়ে সেভাবে তাকানোর চেষ্টা করতেই মুখের সামনে ভেসে উঠল সেই উদাস চোখের নিষ্প্রাণ মুখটা আবারো। তার দিকেই তাকিয়ে আছে নিষ্পলক। ভড়কে গিয়ে সোজা হওয়ার আগেই উঁচু, লম্বা, মহিলাটার গম্ভীর, নাক উঁচু স্বরটা কানের কাছে এসে বারি খেল,”ইউ আর ফায়ার..! রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দাও এই মেয়েকে। আগামীকাল থেকে যাতে আর না দেখি তোমাকে।
কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই রেজিগনেশন লেটার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো। অতঃপর তার সকল পাওনা মিটিয়ে দিয়ে বের করে দেওয়া হলো শো-রুমের বাহিরে।

নুসরাত পায়ের আওয়াজ তুলে হেঁটে গেল সিঁড়ির দিকে। সৈয়দ চয়েসের চতুর্থ তলা করা হয়েছে, যেখানে সে বসে। উপরে বসেই নিচের সবকিছুর উপর নজর রাখে সে৷ নিজের শীতল রুমটায় প্রবেশ করে ঘুরে তাকাল রুবার দিকে সে। জিজ্ঞেস করল,”সিসি ক্যামেরা ঠিক করে দিয়ে গেছে?
রুবা কথা বলল না ভয়ে। শুধু মাথা দোলাল দু-পাশে। নুসরাত আঙুল তুলে চুটকি বাজিয়ে দেখাল রুমের বাহিরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য র।চুপচাপ কোনো প্রশ্ন ছাড়া ট্রান্সপারেন্ট রুমটার বাহিরে বেরিয়ে গেল রুবা। দাড়াল সোজা, টানটান হয়ে। রুমটা সাউন্ডপ্রুফ এখনো না হওয়ায় ভেতরের কথা বাহিরে আসছে। আড়চোখে তাকিয়ে দেখল কল দিচ্ছেন কাউকে ল্যান্ডলাইন থেকে। স্বরটা গম্ভীর অত্যাধিক মাত্রার। হায় হ্যালো বললেন না, সোজা বললেন ম্যাম,”সিসিক্যামেরা ঠিক করে দেওয়ার কথা ছিল এসে গতকাল, টুয়েন্টি ফোর হাওয়ার পার হয়ে গেল এখনো ঠিক করা হলো না কেন? আমি কোনো এক্সকিউজ শুনতে চাই না।

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৫ (২)

অপাশের লোকের মুখ শুকিয়ে গিয়েছে হয়তো ম্যামের কথা শোনে। আমতা আমতা করে কিছু বলতে নিবে তার মুখের উপর ফোন কেটে দেওয়া হলো। শব্দ করে হাতের মোবাইলটা রেখে দেওয়া হলো টেবিলের উপর। অতঃপর দু-হাতে মাথা চেপে অভাবেই বসে রইল কিছু সময়।

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৭

38 COMMENTS

  1. আপু পরের পর্ব দিয়েন তারাতাড়ি প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ 🫠🙂

  2. প্লিজ আপু পরের পর্ব দেন🙂

  3. প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ 🙇‍♀️🙍‍♀️

  4. ভাইইই !!! আরশ , জায়ান , ইসরাত কই ??? 😭😭😭 আর নুসরাত,ইরহাম,আহানের এমন অবস্থা কেন 😭😭😭? ? ?

  5. Apu nusrat AR Mokha hasi fotao 😭😭 okea aye vabe Valo lage na . Or life aye abaro happiest niya asho

  6. Apu please Taratari next part daw 😭😭😭😭😭🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻

  7. Next part please daw apu please please please please please please please please please please please please please please please 🥺🥺🥺🥺

  8. আপু পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি 🤨😌💖💖🌹🌹👏👌❤️🥰

  9. প্লিজ আপু পরের পর্ব টা একটু তাড়াতাড়ি দাও 🙂🙂🙂

  10. Apu next part ta aktu taratari den plzzzz plz ar aktu happy ending diben plzzzz plz

  11. Nusrat ke evabe ekdom valo lagse na. Tin bador vodro hole moja hobe ki kore 😫
    Next part taratari den please 🥺

  12. আপু পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি 🤨😌💖💖💖💖💖💖🌹👏

  13. দুই সপ্তাহ হয়ে গেল দিচ্ছেন না কেন আপনারা কি ভেন্দা বাজাচ্ছেন জলদি দিন আমাদের আর একঘণ্টার মধ্যেই চাই

  14. Apu porer part daw please.Nusrat ke ager moto koro . please please please 🥺🥺😭😭😭😫

Comments are closed.