Home প্রিয় প্রণয়িনী ২ প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৭

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৭

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৭
জান্নাত নুসরাত

খাবার টেবিলে টুংটাং শব্দ হচ্ছে। টেবিলে বসে সকালের নাস্তা করছে সবাই। নাছির সাহেব মুখে খাবারের লোকমা তুলে বললেন,”আহানটা দিন দিন উচ্ছনে যাচ্ছে, শোহেব বলল গতকাল। কিছু বলতে গেলেই নাকি ষাঁড়ের মতো ঘোৎ করে উঠে। ইসরাত তুমি একটু কথা বলোতো ওর সাথে, সমস্যাটা কী ওর একটু জেনে নিও!
ইসরাত মোবাইল থেকে চোখ তুলে তাকাল বাবার দিকে। স্বর নমনীয় রেখেই বলল,”জ্বি কথা বলব!
ইরহামের দিকে এবার তাকালেন নাছির সাহেব,”তুমি কী এমন বসে বসে খাবে নাকি অফিসে ও যাবে?
ইরহাম এমনভাবে তাকাল যেন বুঝেনি তাকে কথাটুকু বলা হয়েছে। জিজ্ঞেস করল,”হুঁ, আমাকে বলছেন?

“জ্বি আপনাকে বলতেছি মাহারাজ..!
মুখে খাবার ভরে টিস্যু দিয়ে হাত মুখ মুছে নিল ইরহাম। বলল,”শিগগির যাব।
“সেই শিগগির সময়টা কখন?
“ সামনের বছর থেকে পাক্কা।
হেলেদুলে চলে গেল রুমে। নাছির সাহেব তার যাওয়ার পথে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন৷ নুসরাতের দিকে এবার তাকালেন। জিজ্ঞেস করলেন,”বিয়ে করবে কবে তুমি?
বাবার কথায় মসৃণ কপালে ভাঁজ ফেলে তাকাল নুসরাত। ঠান্ডা অবয়বে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলে ওঠল,”করব।
“কবে? গত দু-বছর ধরেই তো বলছ করবে, আমি জানতে চাচ্চি সেটা কবে হবে?
নির্লিপ্ত স্বরে বলল,“ ইসরাতের বিয়ে দিন।
‘’ইসরাতের বিয়ে হয়ে গেছে।
ইসরাত ঠোঁট টিপে তাকাল। তাকে এখানে টানতে দেখে বলল,”আমাকে এখানে টানা হচ্ছে কেন,আশ্চর্য!
ইসরাতের কথা থামাল না নুসরাত। বোনের কথা শুনতে শুনতে উঠে দাঁড়াল। ঠোঁট আলগোছে মুছে নিয়ে বলে ওঠল,”একবার বিয়ে করে শখ মিটে গিয়েছে, আর করার ইচ্ছে নেই।

সিলেট মর্ডান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আহান। উষ্কখুষ্ক চুল। আজ সকাল সকাল ক্লাস হওয়ায় এই শীতের মধ্যেই তৈরি হয়ে যেতে হচ্ছে। হাত বাড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করল,কিন্তু কোনো গাড়ি থামল না। সবাই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শা শা করে চলে গেল। শেষ পর্যন্ত শাহপরাণ থেকে বাস নিয়ে ভার্সিটিতে যেতে হলো তাকে। ভাড়া মিটিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল সে। কাঁধের ব্যাগে একটা কলম আর স্টিকিনোট হবে হয়তো। চুপচাপ হেঁটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর গেটের সামনে এসে দাঁড়াতেই ধাক্কা লাগল কারোর সাথে। চোখ মুখে বিতৃষ্ণা ফুটে ওঠছে তার। একে ঘুম হয়নি ঠিকমতো, তার মধ্যে এই আপদ! কোথা থেকে আসছে এই আপদ! খ্যাঁকিয়ে উঠল,”অ্যাইইইই, চোখে দেখো না তুমি?

আহানের চিৎকারে মেয়েটা ভয়ে জবুথবু হয়ে দাঁড়াল। একটু পেছনে সরে গিয়ে মিনমিনিয়ে বলল,”দু দু দু..
আহান আবারো চ্যাঁচিয়ে উঠল,”দু দু কী, হ্যাঁ? ধাক্কা দিয়েছ কেন?
মেয়েটা আরোকটু গুটিয়ে গেল। তা খেয়াল করল না আহান। নিজের কন্ঠে এমনকি চেহারায় একইরকম রুঢ়ভাব এনে বলল,”চোখে যদি দেখো না তাহলে রাস্তা বের হয়েছ কেন? ঘরে ভাই নেই? এভাবে ছেড়ে রেখেছে কেন তোমাকে?
“আ আপনার কী ঘরে মা বোন নেই, আপনার মতো ষাঁড় ছেলেকে এভাবে ছেড়ে রেখেছে কেন?
“হাঁটতে পারো না আবার মুখে মুখে তর্ক করো?
“ আপ’আপনি ভালো মুখে কথা বলতে পারেন না, তাহলে কথা বলেন কেন?
“বাহ্ মুখে এখন খই ফুটতেছে, এতক্ষণ তো মিউ মিউ করছিলে৷ এক থাপ্পড় মেরে তোমার গাল ফাটিয়ে ফেলব বেয়াদব মেয়ে।
আহানের কথায় যেন ছ্যাত করে উঠল মেয়েটা। চোখ মুখ কালো করে বলল,”জন্মের সময় আপনার মুখে কেউ মধু দেয়নি?

“তুমি তো বলে দেওয়ার জন্য ছিলে না, এজন্য কেউ দেয়নি।
মেয়েটা আরো কিছু বলতে চাইছিল, আহান চোখ দিয়ে মেয়েটাকে শাসিয়ে চলে গেল। যেতে যেতে একবার ভালো করে পরখ করল মেয়েটাকে। ছিমছাম কামিজ পরণে, চুলগুলো খোপা করে রাখা। ঠোঁটে কিছু একটা দিয়েছে, যার জন্য ঠোঁট জ্বল জ্বল করতেছে। এইটুকু দেখে চোখ সরিয়ে নিল সে। বিড়বিড় করল,”বিরক্তিকর!
পেছনে দাঁড়ানো আমিরা যা স্পষ্ট শুনতে পেল।

সপ্তাহখানেক পরের ঘটনা। দিনটা শনিবার। সকাল থেকেই বাড়িতে বসে ইসরাত। পেপারে আঁকাআঁকি করছে কিছু একটা। এখনো পূর্ণ চিত্র অঙ্কন করেনি, কিন্তু যতটুকু এঁকেছে ততটুকু দেখে ধারণা করা যায় গ্রাউনের ছবি অঙ্কন করছে সে।
ঘড়ির কাটা এগারোটা পঁয়ত্রিশ এর ঘরে। টিকটিক করে চলছে সেটা। নীরব ড্রয়িং রুম ফাটিয়ে কর্কশ আওয়াজে চ্যাঁচিয়ে উঠল হাতের কাছের ফোনটা। ইসরাত একবার চোখ তুলে তাকাল। আননোন নাম্বার থেকে কল এসেছে। কল ধরার প্রয়োজন বোধ করল না। সাউন্ড চেপে বন্ধ করে দিল কলটোনটা। মনোযোগ দিল হাতের কাজে। অপাশের ব্যক্তি দমে না গিয়ে আবারো কল দিলেন, কেটে দিল আবারো ইসরাত। পরপর আরো দুটো কল আসলো একই নাম্বার থেকে। বিরক্ত হয়ে কল ওঠাতেই অপাশ হতে রাশভারী স্বর ভেসে এলো,”মৃন্ময় তুষার স্পিকিং, মিসেস জায়িনের সাথে কথা বলতেছি?

ইসরাত সেকেন্ড দুয়েকের জন্য থমকাল। সচরাচর তাকে মিসেস জায়িন বলে ডাকে না মানুষ। মাত্র বিশ দিনের সংসার হয়েছিল তাদের। এখন যে বিয়ে প্রায় মাঝসাগরে খেয়া হারানো ঢিঙ্গি নৌকা, তাল হারিয়ে যাবে যাবে ভাব, সেই লোকের নাম নিয়ে তাকে কেন ডাকা হচ্ছে! যে সম্পর্কের কোনো অস্তিত্ব নেই, সেই সম্পর্ক দিয়ে যেন মানুষ তাকে চিনে। লোকটা দূরে পাড়ি জমিয়েছে, কিন্তু তার নামের ট্যাগ থেকে গিয়েছে ইসরাতের সাথে।
কিছুদিন আগের কথা! ইসরাত গিয়েছিল শিশু সংস্থাতে কিছু ডোনেশন দেওয়ার জন্য। তখন এক ভদ্রমহিলার সাথে তার দেখা হলো। ভদ্রমহিলা দেখা মাত্রই শুধালেন,”জায়িনের বউ না?
ইসরাত ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাল। না বোঝার ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,”জ্বি?
“বলছি জায়িনের বউ না তুমি?
উপর নিচ মাথা দোলাতেই ভদ্রমহিলা এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন। অতঃপর জায়িন সম্পর্কে শুরু করলেন বকবক। একসময় জিজ্ঞেস করলেন,”আরশ এখন কেমন আছে?
ইসরাত কিছুটা অবাক কন্ঠে জানোট চাইল,”আরশ ভাই?
“ওমা তুমি জানো না, ও তো অ্যাসাইলামে ছিল, মাথায় নাকি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ইসরাত অবাক হলো। মহিলার কথার চাপে পড়ে হাফসাফ করল। অতঃপর কোনোভাবে ওখান থেকে পালিয়ে বাঁচল। কানের কাছে হ্যালো হ্যালো শোনে হকচকিয়ে উঠল সে। এতক্ষণ ভাবনার অতলে হারিয়ে গিয়েছিল তা উপলব্ধি করতেই নিজেকে চটাস করে একটা থাপ্পড় বসাতে মন চাইল। মনোভাব মনে স্থির করল এই মুহুর্তের জন্য। আজকাল একটু বেশিই এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করে। কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলেই অন্য আরেকটা বিষয় এসে ঢোকে যায় সেখানে। এই যে এখন, একটা কথা ভাবতে গিয়ে অন্য খেয়ালে ডুবে গিয়েছে।
“জ্বি বলুন..!
“সিলেট থানায় আসুন, সৈয়দ আহানের নামে অপহরণ মামলা করা হয়েছে।
নুসরাত ড্রাইভিং সিটে বসে সিট বেল্ট লাগিয়ে নিল৷ নিরুদ্বেগ মুখোভঙ্গি তার। ইসরাত চিন্তিত কন্ঠে বলল,”ও কী মেয়ে অপহরণ করেছে?
“এমন কোনো কাজ করলে মেরে পুঁতে রেখে আসব ওকে।
ইসরাত মুখ কিছুটা বাঁকাল। বলল,” আশ্চর্য, এসব কোনধরণের কথা।
নুসরাত নির্বিকার গলায় বলল,”ও যা ইচ্ছে করবে, আর কেউ কিছু বলবে না, এটা মনে করল কীভাবে! কিছু বলি না বলে কী ও সবার বাপ হয়ে গেছে। ওর হাড় গুঁড়ো করব আজ আমি।

নুসরাতের কথায় কান দিল না সে। গাড়ি এসে থানায় প্রবেশ করতেই দেখা হলো একদল লোকের সাথে। মুখে গোফ দাড়িতে ভরপুর। চোখ মুখ ভীষণ হিংস্র। ইসরাত বাহিরে পা ফেলতেই তাদের চোখ যেন বাজপাখির মতো এসে পড়ল তার উপর। পেছনে দিকে উল্ফ কাট করা চুল বাঁধা একটা লোক তার দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তা উপলব্ধি করতে পারল সেকেন্ডের ভেতর। মেয়েলি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রখত হয়, তা আবারো প্রমাণ হলো। তাই নিজের উপর থেকে এমন দৃষ্টি সরাতে ওড়না টানল আরেকটু মাথায়।
নুসরাত গাড়ি পার্ক করে রেখে আসলো একপাশে। এসেই সরাসরি লোকগুলোর দিকে তাকাল। এতক্ষণ যারা ইসরাতকে গিলছিল তাদের উদ্দেশ্যে করে জানতে চাইল,”এদিকে চোখ কেন?
সরাসরি প্রশ্নে একটু ভরকাল লোকগুলো। অতঃপর তাদের পাল নিয়ে এগিয়ে আসলো। ইসরাত নুসরাতের হাত চেপে ধরল। চোখ রাস্তার দিকে স্থির করতেই পায়ের দিকে নজর পড়ল। কালো রঙের নাইকের একজোড়া স্লিপার তার পায়ে। তা ও দু-ইঞ্চি লম্বা। বেখেয়ালিতে পায়ে স্লিপার পরেই বেরিয়ে এসেছে। চোখ তুলে তাকাতেই দেখল সবাই এসে দাঁড়িয়েছে তাদের সামনে। পালের গোদা, চুল বাঁধা লোকটা মুখোমুখি দাঁড়াল নুসরাতের। উঁচু লম্বা, অত্যাধিক মোটা মাংসপেশি, পালোয়ানের মতো দেখতে লোকটা জিজ্ঞেস করল খ্যাক করে,”ওই ছেলেটার বোন?
নুসরাত গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,”কোন ছেলেটা? নাম কী?

“সৈয়দ আহান নাওফিল?
নুসরাত হাত বাঁধল বুকে আড়াআড়ি। শীতকাল হওয়ায় দক্ষিণা বাতাসে চুল উড়ছে। নাক গাল শীতে জমে গিয়ে লাল হয়েছে, ঠোঁট শুষ্ক! পরণে সাধারণ অফ হোয়াইট ও নীলের মধ্যে শার্ট, যা ইন করে রাখা, সাথে কালো রঙের ফরমাল প্যান্ট। চুলগুলো বেঁধে সচরাচর এর মতো বান করে রাখা। পায়ে কালো রঙের লুই ভিটন এর হিল। নুসরাত এগিয়ে গেল কিছুটা লোকটার দিকে। শ্লেষ মিশ্রিত স্বরে বলল,”হ্যাঁ, আহান নাওফিল এর বোন।
লোকটা চটা কন্ঠে বলল,”ওই ছেলে কী করেছে জানো তুমি?
“ছেলে বলবেন না, হি হ্যাজ আ নেইম, ওর নাম ধরে ডাকলেই উপকৃত হই।
লোকটা থু করে একদলা থুথু ফেলল পাশে। নুসরাত চুটকি বাজাল বুড়ো আঙুল আর মধ্যমা দিয়ে লোকটার সামনে। নিজের দিকে অ্যাটেনশন টেনে নিয়ে বলে ওঠল,”তাছাড়া ওর দিকে তাকাচ্ছেন কেন?
“কার দিকে?

লোকটা ঘটাং করে জিজ্ঞেস করল। নুসরাত দূর্বেদ্য হাসল। চোখ দিয়ে ইসরাতের দিকে ইশারা করে বলল,”ওর দিকে তাকিয়ে লাভ নাই, শি ইজ অলরেডি বুকড ফর সামওয়ান।
শেষ টুকু একটু টেনে টেনে বলল। লোকটা গলা খাঁকারি দিল। সন্ত্রাসের মতো চেহারাটা নুসরাতের দিকে স্থির করল। বিরক্তি মিশ্রিত স্বরে, সম্পূর্ণ সিলেবাসের বাহিরে কথা বলল,”মেয়ে মানুষ এত উগ্র হওয়া ঠিক না, মুখ থুবড়ে পড়বে।
“সেটা আমাকে বুঝে নিতে দিলেই ভালো হয়। আর তুমি তুমি করে বলবেন না, অপরিচিত মানুষ আমাকে তুমি করে বলছে তা আমার মোটেও পছন্দ না। নেক্সট টাইম আপনি করে বলবেন। চল…
একহাতে ইসরাতের হাত আকড়ে ধরল নুসরাত। বাতাসের ঝাপটায় ইসরাতের গায়ের হাঁটু সমান ল্যাভেন্ডার কালার কামিজটা উড়ছে, এর মধ্যে পেছন থেকে লোকটার স্বর ভেসে এলো আবার,”আপনি তো ডিভোর্সী, এই আচরণের জন্য কী ডিভোর্স হয়েছে আপনার?

নুসরাত দাঁড়াল। ইসরাত ইশারায় না করল তর্ক না করতে, নুসরাত শুনল না। সে কোনোদিন শোনেছে যে আজ শুনবে এই কথা। চোখের সামনে তোলা গ্লাসটা নামিয়ে রেখে দিল কিছু মুহুর্তের জন্য। সেকেন্ড দুয়েক সময় নিল নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য! উত্তরটা দেওয়া প্রয়োজন। কোনো তাড়াহুড়ো করল না, অতঃপর ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাল। স্বর উচুতে তুলে রাশভারী গলায় আওড়াল,”এখানে আমি এসেছি সাধারণ একটা কাজে। আমার পার্সোনাল লাইফ এখানে টেনে আনবেন না। প্রফেশনাল হোন! প্রফেশনাল এবং পার্সোনাল লাইফের ভেতর আগে তফাৎটুকু বুঝবেন, তারপর এসে এমন বেহুদা মার্কা কথা বলবেন।
নুসরাত থামল। তারপর হাসল কটাক্ষ করে। তাচ্ছিল্য করল চোখ দিয়ে৷ খোঁচা মারল সূক্ষ্ম কন্ঠে,”চাঁদাবাজি করে আর কতদিন। সামনেই তো নির্বাচন! কী হয়, কে জানে!

লোকটাকে স্তম্ভিত দাঁড় করিয়ে রেখে খটখট শব্দ তুলে চলে গেল সামনে। হাতের মধ্যে মুষ্ঠিবদ্ধ করে রাখা ইসরাতের শুভ্ররঙা মেয়েলি হাত। বাতাসে ইসরাতের মাথার ওড়নাটা পেছনে পড়ে যেতেই হাত খোপা করা চুলগুলো উঁকি দিল। তা পুরোরুপে বের হওয়ার পূর্বেই আবারো মাথায় টেনে নিল ওড়নাখানা সে।
সাধারণ থমথমে একটা ভাব বিরাজ করছে পুলিশ স্টেশনের ভেতর। দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা হলো মৃন্ময়ের সাথে। চোখাচোখি হলো। মৃন্ময় চেয়ার দেখিয়ে বলল দু-জনের উদ্দেশ্যে,”সিট!
ইসরাত চেয়ার টেনে বসল। নুসরাত চেয়ার টেনে বসতে নিবে থেমে গেল। এগিয়ে গেল লোহার শিকের। মাথা ঝুঁকিয়ে বসে থাকতে দেখল আহানকে। ডাকল,”আহান..!
আহান চোখ তুলে তাকাল। ঝিলিক দিয়ে উঠল মণিতে কিছু একটা। পুরুষালি মুখটা গম্ভীর রেখে এগিয়ে আসলো,”জ্বি!
নুসরাত লোহার শিকের বাহিরে দাঁড়িয়েই আহানের মুখটা পরখ করে নিল। জিজ্ঞেস করল,”ব্যথা পেয়েছিস? মেরেছে?
না ভঙ্গিতে মাথা দোলাতেই নুসরাত ছেড়ে দিল আহানের মুখটা। জিজ্ঞেস করল,”জোর করে বিয়ে করেছিস?

“না!
“ তাহলে মেয়ে অস্বীকার করল কেন তার অমতে বিয়ে করেছিস?
আহান শ্রাগ করল। জড়তা নিয়ে চেয়ে রইল নুসরাতের দিকে। তৃষ্ণাত চোখে বোনের দিকে অপলক চেয়ে থেকে বলে ওঠল,”ভাইদের ভয় পায়।
নুসরাত যেন এতে তেতে উঠল। গরম তেলে কেউ পানি ঢেলে দিয়েছে এমন করে মুখ কুঁচকাল, ছ্যাত করে ওঠে বলল,”ভয় পায় যখন তখন প্রেম করার প্রয়োজন কী ছিল?
আহান উত্তর দিল না। উত্তেজনায় তার গলায় জান এসে ঠেকেছে। নুসরাত যে এমন করে উদয় হবে ইসরাতের সাথে তা তার ভাবনাই ছিল না। ভাবনার বাহিরে গিয়ে এইটুকু হওয়ায় নিজের স্বাভাবিক অবস্থা খুইয়েছে। নুসরাত কথা শেষে গিয়ে বসল মৃন্ময়ের সম্মুখে। চোখে পড়ল দূরে কাচুমাচু হয়ে ডেকে বসা মেয়েটাকে। শাড়ির সাথে মিলিয়ে মাথায় লাল কালার ওড়না জড়ানো। বউ বউ লাগছে দেখতে। বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে তা বোঝাই যাচ্ছে। নজর লেগে যাবে ভেবে চোখ সরিয়ে আনলো তড়িৎ মেয়েটা।
ইসরাত শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল মৃন্ময়কে,”অপহরণ মামলা কে করেছে?
উল্ফ কাট করা মোটাপেশি সংযুক্ত লোকটা বসতে বসতে বলল,”আমি করেছি।

নুসরাত জিজ্ঞেস করল,”কারণ?
“আমার বোনকে বিয়ের আসর থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছে জোরজবরদস্তি করে।
নুসরাত বিরক্ত হলো। মুখে তেতো কিছু জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এমনভাবে মুখভঙ্গি করল। তাকাল বিতৃষ্ণা নিয়ে মেয়েটার পানে। আগের নুসরাত হলে সে আহানকে সাব্বাসি দিত এখানে বসে, কিন্তু এখন তা করলে চলবে না। তাই জিজ্ঞেস করল,“নাম কী?
নুসরাতের গলার আওয়াজ শোনে বোঝা গেল না সে প্রশ্ন করেছে নাকি ধমকাচ্ছে। চুলে উল্ফ কাট করা লোকটা বোনকে ধমকাতে দেখে নুসরাতকে ধমকে উঠল,”আমার বোনকে ধমকাচ্ছেন কেন? আপনার ভাই এমনিতেই জোর জবরদস্তি করে বিয়ে করেছে, তাতে আমার বোন ভয় পেয়েছে, এখন বোন এসে নবাবী দেখাচ্ছেন!
প্রথমে কথা কানে তুলছে না সে এমন ভাব করল। অতঃপর উত্তর দিতে চাইল শেষটুকুর, কিন্তু কথা খরচ হবে ভেবে আর পরোয়া করল না। যেহেতু নবাবী করছে সেহেতু ছোট খাটো কীটের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের নবাবী ভাব খোয়াতে চাইল না সে। মেয়েটাকে আগের ন্যায় জিজ্ঞেস করল,”এইইই মেয়ে, নাম কী তোমার? কিছু জিজ্ঞেস করছি..!

মেয়েটা কেঁপে উঠে উত্তর দিল,”আমিরা!
নুসরাত মাথা দোলাল। মৃন্ময়ের দিকে তাকাল। বলল,”আমি মেয়েকে প্রশ্ন করছি, যদি জোরজবরদস্তি করে বিয়ে করে তাহলে আইনী ভাবে আহানকে যা শাস্তি দেওয়া হবে সে মাথা পেতে নিবে, আর যদি বিয়েটা দু-জনের মর্জিতে হয় তাহলে চুপচাপ ওকে কোনো বাকবিতন্ডিতা ছাড়া ছেড়ে দিতে হবে।
মৃন্ময় হাসল ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়ে। উল্ফ কাট করা লোকটার দিকে তাকাল। লোকটার পেছনে চ্যালাপেলা হাত বেঁধে দাঁড়ানো, একদম রেডি হয়ে, যেন পালের গোদা লোকটা কিছু বললেই তারা ঝাপিয়ে পড়বে। রায় নিতে জিজ্ঞেস করল মৃন্ময়,”আপনি রাজী তো মিস্টার রাজ?
পালোয়ানের মতো দেখতে লোকটা মাথা দোলাল। নিজের কথায় অটল থেকে বলল,”হ্যাঁ রাজী, আর এটা ও ভালো করে জানি, এই ছেলে জোর করে বিয়ে করেছে আমার বোনকে।
নুসরাত চেয়ার টেনে একদম সরাসরি বসল আমিরার। চোখ মুখ অত্যাধিক গম্ভীর। ইসরাত বলল,”না ধমকে কথা বল!

কথাটুকুর প্রতিত্তোর আসল অত্যন্ত তাড়াতাড়ি, বিপরীত পাশের মানুষটার কাছ থেকে,”আমি জানি কীভাবে কথা বলতে হয়।
আমিরাকে প্রশ্ন করার পূর্বে ভ্রু যুগল উঠে গেল উপরে। মসৃণ কপালটুকু মসৃণ রইল না আর। জিজ্ঞেস করল,”হ্যাঁ, আমিরা বলো আহান তোমাকে গান পয়েন্টে বিয়ে করেছে?
আমিরা কাচুমাচু কন্ঠে বলল,“না!
নুসরাত কুঁচকানো ভ্রু আরো কুঁচকে গেল,”হেই এমন মৃর্গী রোগীর ন্যায় কাঁপছো কেন? তোমাকে কেউ হিট করছে না।
তবুও আমিরার কাঁপাকাঁপি বন্ধ হলো না। লোহার শিকের আড়াল থেকে একজোড়া চোখ যে তার পানে তাকিয়ে আছে তা টের পেল সে। ঠান্ডা সেই দৃষ্টির তোপে পড়ে শিরদাঁড়া বেয়ে বয়ে গেল শীতল স্রোত। নুসরাত ঘাটাল না। মুরগীর মতো সেটে যেতে দেখল তাকে। জিজ্ঞেস করল,“আহান কী বলেছে তোমার বাপ ভাই কাউকে খুন করবে?
আমিরা ভয়ার্ত স্বরে বলল,“না..!
“কোনো প্রকার হুমকি দেয়নি তো বাসা থেকে তুলে আনার সময়?
“না!

নুসরাত তাকাল মৃন্ময়ের দিকে। বলল,”নোট করুন, অপহরণ মামলা তাহলে জালিয়াতি প্রমাণ হলো তো?
শেষটুকু প্রশ্ন করে ছেড়ে দিল সে। মৃন্ময় মাথা দোলাল। বলল,”নোটেড!
রাজ বোনের দিকে চোখ সরু করে তাকিয়ে রইল। তীক্ষ্ণ স্বরে জিজ্ঞেস করল,”তোকে তোলে এনেছে বলে মিথ্যে বললি কেন?
আমিরার হাতের তালু ঘেমে নেয়ে একাকার হলো। এই শীতের মধ্যে কপালে ঘামের উৎপত্তি দেখা দিল। ঠোঁট টিপে বসে রইল। উত্তর দিল না ভাইয়ের প্রশ্নের।
নুসরাত নিজের প্রশ্ন জারী রাখল। আগের মতোই জিজ্ঞেস করল,“তুমি নিজ ইচ্ছায় এসেছ আহানের সাথে?
“হ্যাঁ!
“নিজ ইচ্ছায় আসলে আমার ভাই কেন হাজতের ভেতর, তোমার ও তো একই সাথে সেখানে থাকা উচিত ছিল, তাই না?
আমিরা থেমে গেল। বোকার মতো চেয়ে রইল নুসরাতের দিকে গোল গোল চোখে। স্বগোতক্তি দিল মিনমিন করে,”হ্যাঁ..!
“তাহলে তুমি বাহিরে কী করছ?
কথার টোন উপরে উঠল গম্ভীর্যে মোড়া মেয়েটার। ভয়ার্ত প্রকৃতির আমিরা তাতে গুটিয়ে গেল আরো। চোখ মুখ অন্ধকার করে কেঁদে দিল। মুখে হাত চাপল কান্না আটকানোর জন্য, হলো না। নুসরাত তার কান্নার পরোয়া করল না। জেরা করল,”আহান তোমায় টেনে বাসা থেকে নিয়ে এসেছে? বা অজ্ঞান করে?

“না!
ভরা মজলিশে বসে নির্লজ্জের মতো শুধাল,“বিয়ে না করলে ধর্ষণ করবে বলে হুমকি দিয়েছে?
ইসরাত নুসরাতকে খোঁচাল মুখ বন্ধ করার জন্য, নুসরাত করল না। আবারো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য কড়া কন্ঠে তাড়া দিল,”কী হলো, উত্তর দাও!
আমিরার মুখটা দেখার মতো পাংশুটে বর্ণ ধারণ করল। বিড়বিড় করে বলল,”না!
রাজ নুসরাতকে থামানোর জন্য গলা খাঁকারি দিল। একটা শব্দ বলার জন্য মুখ খুলতে নিবে তাকে থামিয়ে দেওয়া হলো,”এক মিনিট মিস্টার রাজ, আমাকে কথা শেষ করতে দিন। কথার মধ্যে কথা বলবেন না। দু-জন যখন কথা বলে তখন তৃতীয় ব্যক্তির চুপ থাকা উচিত, এটা পারিবারিক শিক্ষার আওতায় পড়ে। হু, তো যা বলছিলাম! আহানের হাত ধরে তুমি নিজ পায়ে বেরিয়ে এসেছিল নিজের বিয়ে থেকে?
আমিরা মাথা দোলাল। মাথা দোলানো শেষ হওয়ার আগেই নুসরাতের ধমকানোর স্বর ভেসে এলো,”এইইই মেয়ে, মুখে কথা বলো..!

হকচকানো নয়নে তাকিয়ে জ্বি জ্বি. করে উঠল আমিরা। নুসরাত জিজ্ঞেস করল,”বিয়েটা তোমার মত নিয়ে হয়েছে?
“জ্বি!
মুখটা কঠিন করল। স্বর কাঠখোট্টা তার। চোখ দুটো দিয়ে গিলে খাবে যেন মেয়েটাকে,“ স্পষ্ট করে কথা বলো! এমন ম্যানম্যান করছ কেন?
আমিরা তবুও মিনমিন করল। নুসরাত মৃন্ময়ের দিকে তাকাল,”অফিসার নোট করুন এটা। কোনো জোরজবরদস্তি করা হয়নি।
মৃন্ময় দূর্বেদ্য হাসল। উঠে হাজতের তালা খুলল। রাজ নির্জীব চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়াল। পুলিশের এমন হাসিতে লজ্জার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে৷আমিরাক্ব উদ্দেশ্য করে বলল,”চল, বাসায় যাব।
আমিরা উঠে দাঁড়ানোর আগেই নুসরাত তাকে ধমকে বসিয়ে দিল। রাজের মুখোমুখি দাঁড়াল,”আমাদের বাড়ির বউ আমাদের বাড়িই যাবে।
রাজ হাসল কটাক্ষ করে। গ্রীবা বাঁকিয়ে ঝুঁকে আসলো নুসরাতের দিকে। বলল,”এই বিয়ে হয়নি। অসম্পূর্ণ! মেয়ের অভিভাবক যে বিয়েতে উপস্থিত ছিল না, সেই বিয়ে কীভাবে কার্যকর হবে?
রাজের মতো কন্ঠ খাদে নামাল নুসরাত। দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে বলল,”তাহলে বিয়েটা ইসলামী শরিয়ত মতে আবার কার্যকর করে দিচ্ছি।
পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফ্যামেলি গ্রুপে কল দিল সে। অপাশে কিছুক্ষণ পর জয়েন হলো সবাই। কাউকে কোনো কথার সুযোগ না দিয়ে নুসরাত বলল,”কোনো প্রশ্ন না, একটা লোকশন সেন্ড করছি সেখানে তাড়াতাড়ি আসো।

কথা শেষে মুখের উপর ফোন কেটে দিল সে। আধঘন্টা পরে দেখা মিলল একে একে সৈয়দ বাড়ির সবার। সৈয়দ বাড়ির সবার চোখ মুখে অবাকতার রেশ। ইসরাত কাহিনি একে একে বর্ণনা করল সবার কাছে। আহান বিয়ে করে নিয়েছে শোনে রুহিনী বেগম আর সুফি খাতুন মরা কান্না জুড়ে দিলেন। নুসরাত ভ্রুক্ষেপ করল না সেদিকে। ইরহাম ততক্ষণে গিয়েছে ইমামকে নিয়ে আসার জন্য। ইমামকে টেনেটুনে নিয়ে আসলো ইরহাম। ভদ্রলোক হতবিহ্বল! মুখ চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ধাক্কা সামলাতে পারেননি। ইমামকে হতবাক রেখেই অই অবস্থায় সাক্ষী ও দু-জনের পূর্ণ সম্মতি আবারো বিয়ে সম্পন্ন করা হলো। বিয়ে শেষে অত্যন্ত দুঃখের সহিত শোহেদ সাহেব বিড়বিড় করলেন,”আমি আমার পছন্দে বিয়ে দিতে চাইছিলাম আহানকে।
রুহিনী বেগম ঘোৎ করে উঠলেন। বললেন,”আমি তো মেয়ে দেখে এসেছি সেদিন গিয়ে। আংটি ও পরিয়েও এসেছি।এখন আমি কীভাবে ওদের মুখ দেখাব?
শোহেব সাহেব বললেন,”প্রথমে যেভাবে গিয়ে দেখিয়েছিলে, এখন ঠিক সেভাবেই গিয়ে মুখ দেখিয়ে এসো।
কথা শেষে দু-জন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আহান তখনো গম্ভীর মুখে বসে। নবস্ত্রীর হাত তার মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরা। ওদিকে যে মেয়েটা হাফসাফ করছে তার দিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই ছেলেটার।

নুসরাত বিয়ে শেষে বেরিয়ে গেল সবার আগে। ইরহামের সাথে ইসরাত ফিরবে বাড়িতে। তার একটু অফিসে কাজ আছে। গাড়িতে উঠে বসতেই কল আসলো রুবার। এয়ারপড কানে লাগিয়ে বলে ওঠল,”হ্যালো..!
“জ্বি ম্যাম, রুবা বলছি..!
“হ্যাঁ বলো!
“ আপনি একটু কষ্ট করে এসে আমাকে ইউনিমার্ট থেকে পিক-আপ করবেন, গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।
নুসরাত ওকে বলে ফোন কেটে দিল। ধীরে ধীরে অগ্রসর হলো গাড়ি নিয়ে ইউনিমার্ট এর দিকে। আকাশ মেঘলা হচ্ছে। ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে গ্লাসে। তোফান আসবে। বিদ্যুৎ খুব করে চমকাচ্ছে।
ইউনিমার্ট এর সামনে গাড়ি পার্ক করে নেমে দাঁড়াল নুসরাত। কানে ফোন লাগিয়ে কল লাগাল। রিং বেজে কেটে গেল। পরপর আরো দু-বার কল দিয়ে নিজেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সে। মোবাইল পাওয়ার বাটনে চেপে বন্ধ করার পূর্বে চোখের সামনে ভাসল আজকের তাজা খবর। ধ্যান দিল না সে ততটা। দিনের আলো তখন মেঘের প্রকোপে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে। ঘড়ির কাটায় বাজছে বারোটা। নুসরাত রাস্তা পার হওয়ার জন্য এক পা আগাতেই আশেপাশে কিছু অদ্ভুত একটা অস্থিরতা টের পেল। ভ্রু কুঁচকে মলের ভেতরে তাকাতেই তার কুঁচকানো ভ্রু আরো কুঁচকে গেল। মানুষজন প্রান হাতে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছে। কারো কারো মুখ আতঙ্কে নীল হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ বা প্রিয়জনকে বারবার ফোন করার চেষ্টা করছে। মানুষের চিৎকার, আর বাচ্চাদের কান্নায় চারপাশ ঝাঁঝিয়ে উঠছে। এতক্ষণ যা গাড়ি চলছিল তা এখন নেই বললেই চলে। রাস্তা খালি। দূর থেকে পুলিশের গাড়ি আসার সাইরেন শোনা যাচ্ছে। সামনে তাকাতেই রাস্তার পাশের ইলেকট্রনিক্স দোকানের বড় টিভি স্ক্রিনে ব্রেকিং নিউজ ভেসে উঠল,“ব্রেকিং নিউজ!একদল সশস্ত্র টেরোরিস্ট ইউনিমার্ট নামক একটি শপিং মলে হামলা চালিয়েছে!

বাকিটুকু আর শোনা হলো না মলের ভেতর থেকে ভেসে এলো গুলি চালানোর পরপর একাধিক শব্দ। চারপাশের মানুষ বাঁচার আশায় চিৎকার করে দৌড়াতে শুরু করল। কেউ কেউ দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ল। মানুষ সেসব দেখল না, দেখার প্রয়োজন বোধ করল, না জান বাঁচানোর আশায় একজন আরেকজনকে মাটিতে পিষে চলে গেল। গ্লাস দ্বারা আবৃত ইউনিমার্টের ভেতর তখন ধামধাম শব্দ। মেঝেতে নিজে পিষে যাচ্ছে কিন্তু নিজের বাচ্চাকে বুকের সাথে চেপে ধরেছে বাঁচানোর জন্য। নুসরাত হতভম্ব হয়ে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল। কানে ভেসে আসছে মানুষের আত্মচিৎকার৷ বাঁচার আশায় প্রাণভিক্ষা চাচ্ছে তারা। এক মুহুর্তের জন্য বাচ্চাদের কান্না থামল। সবকিছু ঠান্ডা হলো। রাস্তার অপাশে দাঁড়ানো পুলিশ হাতে মাইক নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। গ্যারগ্যার করে মাইকের শব্দ ভেসে এলো,“সবাই এই এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে! টেরোরিস্টরা মানুষ মারতে পিছু পা হচ্ছে না। যারা এই এলাকার আছেন তারা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। আবারো বলছি এই এলাকা থেকে সরে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

নুসরাত শুনল তবুও পা বাড়াল সিঁড়ির দিকে। কানে ভেসে আসছে গাড়ির শব্দ। হয়তো র‍্যাব আর্মির গাড়ি এসে একের পর এক থামছে। গটগট বুটের শব্দ করে নেমে আসছে তারা।
নুসরাত দাঁড়াল না। তৎপর হয়ে ভেতরে ঢোকার আগেই ইন্সপেক্টর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেন,”মিস, এদিকে চলে আসুন, ভেতরে বিপদ হতে পারে। চলে আসুন, মিস..!কো-অপারেট করে পুলিশকে সাহায্য করুন।
নুসরাত শুনল না সেই কথা। সে কোনোদিন শুনেছিল কারোর কথা। এই এক জীবন তো তার চলে গেল অবাধ্যতা করে। পেছন থেকে অফিসারদের গলার স্বর আসছে। ব্যারিকেড এর অপাশে দাঁড়ানো পুলিশেরা বারবার বলছে ভেতরে না যেতে। ফোর্স এসে তখন দাঁড়িয়েছে। নুসরাতকে বারংবার না করা সত্ত্বেও পা আগাল সম্মুখে সে। শরীরের উপর লেজার রশ্মির দেখা মিলছে তার। উপর থেকে ভেসে এলো কালো পোশাকে আবৃত একটা লোকের আওয়াজ,”কোনো ধরণের চালাকি করার চেষ্টা করবেন না ইন্সপেক্টর, নাহলে এই মেয়েকে শুট করতে এক সেকেন্ড লাগবে না। আত্মসমর্পণ করুন, না হয় একজন বেঁচে ফিরতে পারবে না।

গাড়ি এসে থামল পরপর আরো কয়েকটা। পুরো রাস্তাটা সাংবাদিক আর পুলিশের গাড়িতে ভরে উঠল। মৃন্ময় পেছন থেকে নুসরাতকে হুশিয়ার করল,”মিস নুসরাত, নড়বেন না। নাহলে ওরা গুলি চালাবে।
নুসরাত পিছু ঘুরে তাকাল। গায়ে তার লাল সবুজ অনেকগুলো লেজার রশ্মির দেখা মিলছে। নুসরাত উল্লাসে ফেটে উঠল,”তাই নাকি? তা চালাক না গুলি, আমি তো একজীবন ধরে মরার আশায়-ই বেঁচে আছি। দেখি আজ কী হয়!
সে যেন খুশিতে লাফিয়ে উঠল। তার উল্লাস দেখে কে। পুলিশ ফোর্সের বারবার বলা আত্মসমর্পণ করার কথা কানে তুলল না। হেলেদুলে হেঁটে গেল ভেতরের দিকে৷ আজ সে দেখবে কী হয়! মৃত্যু তাকে কতটুকু সাদরে গ্রহণ করে দেখবে! ঠোঁট দুটো উত্তেজনায় কাঁপছে। টেরোরিস্টরা নুসরাতের এমন ঔধ্যতা মানল না, তারা মানবে ও না। কারণ তারা সেই সৈয়দ পরিবার না যার ছায়াতলে সে বড় হয়েছে। কালো পোশাকধারী লোকগুলো হিংস্র, বর্বর! বাজপাখির ন্যায় চোকের দৃষ্টি। অপরপাশ থেকে পজেটিভ ইশারা পেতেই গুলি চালাল তারা। ভ্রুক্ষেপহীন নুসরাত ধুপধাপ শব্দ তুলে ভেতরে এগিয়ে আসছে। অতঃপর কিছু সেকেন্ড অতিবাহিত হতেই কোথা থেকে ছুটে আসলো একটা বুলেট। নাছির উদ্দিনের ছোট মেয়েটার গা চিঁড়ে সাঁ করে বেরিয়ে গেল M24 Sniper ওয়েপেন এর একটা গুলি।

নুসরাত হেসে ফেলল। শিরদাঁড়া উচিয়ে চলা মেয়েটা এক মুহুর্তের জন্য ঝুঁকে পড়ল, মাথা বাঁকিয়ে। ঘাড়ত্যাড়ামি করে আবারো উঠে দাঁড়াল। সম্ভব হলো না, শরীর মানেনি একটু পূর্বের ধাক্কাটা, দপ করে বসে পড়ল আবারো। রক্ত টপটপ করে পড়ছে গা থেকে। চোখ দুটো শূণ্য। হাসছে সে, নুসরাত নাছির খুব করে হাসছে! পৃথিবী তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করছে তা যেন স্পষ্ট আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কেউ। নুসরাত নাছির হারে না কে বলেছে, নুসরাত দেখল সে হেরে গেছে। এই তো সে হেরে গেছে। তার শরীরে রক্ত ঝড়ে পড়ছে রাস্তার বুকে, তা একসময় গড়িয়ে যাবে নর্দমায়। নাছির সাহেবের রক্ত নর্দমায় গড়াগড়ি খাবে। সৈয়দ বংশের রক্ত মানুষ পায়ে পিষে চলে যাবে। কুকুর, গরু তাতে মূত্র ত্যাগ করবে। নুসরাতের বুক কেঁপে উঠল। আত্মগরিমাপূর্ণ রক্ত টগবগিয়ে উঠল অন্তরকোণে।
মৃন্ময় চেয়ে রইল ব্যারিকেড এর অপাশ হতে, অহংকারের আবেশে ভরপুর নুসরাত নাছিরের দিকে। হাসছে মেয়েটা, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিতে নিতে তার ঠোঁটের কিনারায় ফুটে উঠছে ক্ষীন হাসির রেখা। যেন এই পৃথিবীতে নুসরাত নাছিরের মতো কেউই সুখী না!

টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। আকাশ কাঁপিয়ে মেঘ গর্জন করছে। সেই মেঘের আওয়াজে ধরণী কাঁপল। কাঁপল নুসরাতের হৃদ গহ্বর। গলা শুকিয়ে এসেছে! পিপাসা পেয়েছে, পানির আশায় আশপাশে চাইল! নাহ, পানি নেই কোথাও! কুঁজো হয়ে বসে পড়ল। বিড়বিড় করল,”পানি, পান-নিহ—” চোখের সামনে ভাসছে তার এক জীবনী, অতীত বর্তমান সব! জন্ম থেকে এই পর্যন্ত যা যা মনে আছে তা পুনরায় টেলিকাস্ট হলো সবকিছু। মায়ের কথা মনে হলো! হয়তো খাবার নিয়ে তার জন্য টেবিলে বসে আছেন। তিনি কী কাঁদবেন নুসরাত মরে গেলে? এই পৃথিবীতে নুসরাতদের কেউ ভালোবাসে না! তারা হয় অবেহেলার পাত্রী! পৃথিবীর বুকে তাদের অস্তিত্বটা যেন বেমানান৷ নুসরাতদের কেউ ভালোবাসে না কেন! এই প্রশ্নে হাসি খেলে যায় নুসরাতের মুখে। ইসরাত কী করছে? সে কী কাঁদবে নুসরাত মরে গেছে শোনে? হয়তো অনেক কাঁদবে! মা কী নিয়ম করে তার ঝাড়ি মিস করবে? আর ইরহাম? সে কী ব্যবসা সামলে নিবে দু-হাতে? আহান..! আহান কী আমিরাকে নিয়ে একটা সুখী সংসার করতে পারবে? নুসরাতের মনে প্রশ্ন উদয় হয়, কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর পেতে নুসরাতকে বেঁচে থাকতে হবে। সে আর বাঁচবে কতক্ষণ? হয়তো একঘন্টা, বা তার কম সময়। রক্ত ফিনকি দিয়ে বের হচ্ছে শরীর থেকে। পরণের শার্ট্টা তাজা গরম রক্তে ভরে গেছে। কাঁধ থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছে। হঠাৎ নুসরাতের মনে হলো নাছির সাহেবের কথা, তাকে কখনো বলা হয়নি, ‘আব্বা, আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি!’ সে তো এই জীবনে কাউকে এ কথা বলতে পারেনি! মনের কথা কখনো মুখে আনতে পারেনি! বাবা কী করছেন! টিভি দেখছেন হয়তো! তিনি কী জানেন নুসরাত এখানে জীবন মরণে জড়িয়ে আছে। তার ভেতর থেকে আজ এই উপলব্ধি আসছে, বাঁচবে না সে আর! এই তো আর কিছুক্ষণ এরপরই মৃত্যুর ফেরেশতা আসবেন তাকে নিতে। মৃত্যুকে আজ হাতছানি দিয়ে যেতে দিবে না সে। পাঁচ বছর থেকে নুসরাত অপেক্ষামান ছিল এই মৃত্যুর! আজ যখন এসেছে নুসরাত তা আলিঙ্গন করবেই।

পুলিশ ফোর্স পা বাড়িয়েছে ভেতরে। কয়েকজন মানুষ মরলে তাদের কিছু এসে যাবে না। উপরিমহল থেকে আদেশ মানুষ মরুক, তবুও যেন টেরোরিস্ট এর দল বেঁচে না ফিরে। কয়েক সেকেন্ড পরপর গুলির সব হচ্ছে। স্নাইপার দিয়ে লাগাতার শোট করা হচ্ছে। মায়েদের হৃদয় বিদারক চিৎকার, আর বাচ্চাদের কান্না মিশে যাচ্ছে বাতাসে। ধোঁয়া উড়ছে! কোথাও আগুন লেগেছে ধারণা করা যায়। নুসরাত শেষ মুহুর্তে এসেও ত্যাড়ামি করল। খোঁড়ানো পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মুখে আগানোর চেষ্টা করল, হলো না মুখ দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসলো। গরম রক্তে ভরে গেল চারপাশ। আর সামনে আগানোর শক্তি রইল না। ধড়াম করে উলটে পড়ল মেঝেতে। মাথার একপাশ ছেঁচে গেছে গেল তাতে। দূর্বেদ্য হাসল সে। পেছন থেকে মৃন্ময়ের চিৎকার ভেসে আসছে, ঝাপসা শুনল সে,”মিস নুসরাত, সরে আসুন, স রে আ সস ন—

কী বলছে লোকটা নুসরাত বুঝে পায় না, বোঝার চেষ্টা করে না। ঘুম এসে তাকে জড়িয়ে ধরছে৷ চোখ নিভু নিভু। তার সম্মুখে হাসিমুখ নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আরশ। নুসরাত প্রাণখোলা হাসল। উপরের লম্বা বিল্ডিংটা দোলে উঠছে সেদিকে তার চোখ নেই। কান বাঁধানো একটা শব্দ হলো ধড়াম করে। নুসরাত নিজের জায়গা থেকে ছিটকে গিয়ে পড়ল রাস্তার অন্যপাশে। ধোঁয়ায় ভরে গেল চারপাশ। নীল আকাশটা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। দূরের মিনার থেকে ভেসে আসছে জোহরের আজানের শব্দ। কানে কানে কেউ এসে কিছু একটা বলছে। নুসরাত তবুও সেদিকে কান দিল না, হা করে তাকিয়ে থাকল শূন্যে। লম্বা করে শ্বাস টানল৷ একবার, দু-বার! কিন্তু অক্সিজেনের ঘাটতি কেন যেন কমল না! শ্বাসপ্রশ্বাস বেড়ে গেল। ছটফট করে উঠল তার শরীর। সে বড় লাগামহীন, অবাধ্য এই ছোট্ট জীবনে কারোর কাছে মাথা ঝোঁকায়নি, মেয়েলি আত্মগরিমা কিছুটা কমিয়ে যদি একটু ঝুঁকে যেত, তাহলে আজ তার একটা সংসার হতো। নুসরাতের সংসার করার ভীষণ শখ। একটা বাচ্চার ভীষণ শখ, কিন্তু সেই সংসার তো আর হবে না। হৃদয়ে কথা ভেতরে চেপে রাখলে শেষ সময়ে তো এইভাবে হারতে হবে, কে বলে নুসরাতরা মুখ থুবড়ে পড়ে না, এই তো নাছির উদ্দিনের কন্যাটা জীবনের কাছে ভীষণ করে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

আরশ এসে পাশে বসেছে নুসরাত উপলব্ধি করতে পারল৷ নাকে কুস্তুরীর সুভাসটা এসে লাগছে আজ কড়াভাবে। আজ ছ্যাত করে উঠল না আর সে। বলল না,’আরশ ভাই, দূরে যান, কুস্তুরীর গন্ধ আমার সহ্য হয় না।’ সে আজ নাক টেনে শুষে নেয় শেষবারের মতো সেই গন্ধ। হাঁটু গেড়ে সামনে বসা মানবটার উরুতে খুব করে চাইল মাথা রাখতে কিন্তু তা কী আর সম্ভব? সম্ভব হলো না। আরশ বড় নিষ্ঠুরতা করল, নুসরাত যেমন তার হৃদয়ে ঠাঁই দেয়নি কখনো, দূর ছাই করেছে, ঠিক তেমনি আজ আরশও তার কাঁধে ভর দেওয়ার সুযোগ দিল না। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হওয়া বন্ধ হয়েছে বহু পূর্বে, রক্ত বের হতে হতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যথায় গলা কাটা মুরগীর ন্যায় ছটফট করছে। চেহারার লাবণ্যতা মরে গিয়ে নীলাভ রঙ ধারণ করেছে মেয়েটার৷ তবুও মেয়েলি অহংঃ মিটেনি! মুখের কোণে কোণে সৈয়দ বংশের রক্ত বলে যে বড়াই তা কোথাও অস্তমিত হয়নি, যেন শেষ সময়ে এসেও রক্তের বড়াই বুক ফুলিয়ে দিল মেয়েটার৷ ভীষণ ইচ্ছে হলো মাকে ধন্যবাদ দিতে তাকে তার গর্ভে জায়গা দেওয়ার জন্য, বাবাকে ধন্যবাদ দিতে তার ঔরসজাত সন্তান হওয়ায়, কিন্তু তা আর কখনো সম্ভব না।

নুসরাত গলায় কিছু একটা দলা পাঁকাল। কান্না! হ্যাঁ কান্নাই তো! বাঁচার আশা করে না নুসরাত, বাঁচার আশায় কান্না করা বোকামি, বোকা মেয়েরা কাঁদে। নুসরাত নাছির বহু পূর্বে মরে গেছে, গত পাঁচবছর ধরে সে ধুঁকে ধুঁকে মরছে!
গহীন ভাবনার অতল থেকে বেরিয়ে নুসরাত তাকায় সুদর্শন লোকটার দিকে। আরশ ঝুঁকে আসছে তার দিকে। দু-হাতের আজলায় তুলে নিয়েছে তার মুখ। নুসরাত তাকিয়ে রইল তার দিকে। তার বহু জীবনের ইচ্ছে ওই লোকের মুখে ভালোবাসার কথা শোনার! কিন্তু সেই ইচ্ছেটাও পূরণ হলো না। নুসরাত শেষ সময়ে এসে বুঝতেই চাইল না সামনে দাঁড়ানো লোকটা আরশ নয়। তার ভাবনামাত্র!

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৬

সে আকাঙ্ক্ষিত চেহারা নিয়ে তাকিয়ে রইল। ঠোঁটের কোল ঘেঁষে বিষাদের হাসি। শরীর ধীরে ধীরে নিস্পন্দন হচ্ছে৷ হৃৎপিন্ডের চলাচল ধীর থেকে ধীর হচ্ছে। শরীরের মাংসপেশি গুলো জমাট বাঁধছে। উত্তাল সমূদ্রের ন্যায় আকস্মিক গা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে তার। এক সেকেন্ড, দু সেকেন্ড, তিন সেকেন্ড কাটে, অতঃপর সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে উঠে। চোখের তারা ঘোর অমাবস্যা এসে দখল করে নেয়। পরিশেষে পশ্চিম আকাশের বুকে সূর্য যেমন হারিয়ে যায় তেমন করে সৈয়দ বংশের বুক থেকে নুসরাত নাছির ও হারিয়ে গেল কোনো এক অজানা গন্তব্যে। হয়তো না ফিরার দেশে….

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৮

13 COMMENTS

  1. আপু এটা কি হলো, হ্যাপি এন্ডিং দিতে হবে কিন্তু 🥺🥺🥺😭😭😭❤️❤️❤️🥹😞😞

  2. আপু পরের পর্ব দেন তারাতাড়ি প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ 🥹

  3. Apu eta ki korlen??😭 amr bissash hocche nh je nusrat ar nei 😭🕊 arokom na korle o parten😭🕊💔

  4. আপু নেক্সট পার্ট প্লিজ একটু তাড়াতাড়ি দিবেন

  5. Koto dine dilen uff opekka kore kore more jaccilam Allah kane ar kokhon dibe btw taratari porer part ta diyen apu plz

  6. নুসরাতের যেনো কিছু না হয় নুসরাতের যেমন সংসার করার ইচ্ছে আমাদের ও তেমন নুসরাত আরশের সংসার দেখার ইচ্ছে প্লিজ নুসরাত কে ঠিক করে দিন

Comments are closed.