প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৫ (২)
জান্নাত নুসরাত
১৬-০৯-২০২৫
নাছির মঞ্জিলে যখন পা রাখল সবাই নাছির সাহেব, ইরহামকে নিয়ে তখন জানা গেল ও বাড়ির সবাই পাড়ি জমিয়েছে নিজেদের ঠিকানায়। নাছির সাহেব তপ্ত শ্বাস ফেললেন। ইসরাতের দিকে তাকালেন প্রশ্নাত্মক চোখে তখন সে বলল,”আমি জানতাম আজ যাবে ওরা।
নাছির সাহেব জিজ্ঞেস করলেন,”তোমাকে বলে গিয়েছে?
ইসরাত চেপে গেল কথা। মাথা দুলিয়ে জানাল তাকে জায়িন জানিয়ে গেছে আজ যাবে। এমন ভান করল যেন কিছুই হয়নি তাদের ভেতর।
০৭-১০-২০২৫
সবার দিন কাল চলছে আগের মতো। শুধু ইসরাতের জীবন আটকে আছে কোথাও একটা। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা নিয়ম করে একবার মন ভার হয় তার। সেই মন ভার হওয়ার কারণ সে জানে তবুও মানতে চায় না। সেদিন হসপিটাল থেকে ফিরে আসার পর থেকে নুসরাত আশ্চর্য রকম ঠান্ডা হয়ে গেছে। সে যেন আলাদা এক নুসরাত। যে হাসে কম, কথা বলে কম! কপালে চার পাঁচটা গাঢ় দাগ তাকে সবসময়। নাছির সাহেবের অবর্তমানে নিজেই যোগ দিয়েছে শো-রুমে অস্থায়ী সিও হিসেবে। ডিসেম্বরের পনেরো তারিখ অফিসিয়ালি তাকে বরণ করে নেওয়া হবে সিও হিসেবে। আজকাল অফিস যায় নিয়ম করে। খাবারের রুটিন ও তার হয় নিয়ম করে। অফিসে যাওয়ার দু-দিনের ভেতর সৈয়দ চয়েসের শো-রুম থেকে সব পুরুষ এমপ্লয়িকে সে অন্যজায়গা ট্রান্সফার করেছে। এখন ম্যানেজার হিসেবে জয়েন দিয়েছে রুবা নামক একটা মেয়ে। নুসরাত মেয়েটার কথা ইচ্ছে হলে কখনো কখনো বলে। নিজে যে ধরণের ব্রেসলেট হাতে পরে সেরকম একটা ব্রেসলেট উপহার স্বরুপ রুবাকে ও দিয়েছে। রুবার কাজে খুশি হয়ে।
কারোর জীবনই আটকে নেই। ইরহাম সৌরভি ভালো আছে। সৌরভি এখন নিয়ম করে সাইকোলজিস্ট এর কাছে যায়। ইরহামের সাথে ঝগড়া হয় না তার। ইরহামের খেয়াল রাখে সে। নিয়ম করে ওষুধ খায় নিজে, ইরহামকে ও খাওয়ায়। তারা এখনো নাছির মঞ্জিলে। ইরহাম নিজের বাড়িতে যায় না, ওই বাড়িতে যেতে তার ইচ্ছে হয় না। বৌমা ছেলেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু সে যেতে চায়নি, পড়ে রয়েছে আগের মতো এখানে।
প্রতিদিনের দিনলিপি লিখে রাখে আজকাল ইসরাত৷ অবসর সময় কাটানোর পদ্ধতি এইটা। অনেক পূর্ব থেকে লিখতে বসেছে এই দিনলিপি। কলম চালিয়ে আজকের তারিখ বসিয়ে দিল সে। অতঃপর লিখল
০২-১২-২০২৫
বৃহস্পতিবার..
আজ নুসরাতের ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করার নব্বই দিন। হয়তো ডিভোর্স হয়ে গেছে তাদের। এতক্ষণে পৌঁছে গিয়েছে ডিভোর্স পেপারটা কোর্টে। হয়তো কোর্ট থেকেও তাদের ডিভোর্স পাকাপাকি হয়ে গিয়েছে। আগামীকাল হয়তো নোটিশটা চলে আসবে।
০৩-১২-২০২৫
শুক্রবার…
আজ সকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে একজন লোক এসেছিল। কেন এসেছিল তা জানিনা! চাচ্চুর বন্ধু ভদ্রলোক। মেঝ চাচ্চুর সাথে আন্তরিকতা ছিল না কথায়। তুই তোকারি করে দু-জনেই কথা বলছিলেন। এর আগেও এই লোক এ বাড়িতে এসেছেন। ভদ্রলোক চাচ্চুর বন্ধু যে তা বৌমা একবার বলেছিলেন৷ আর তিনি কর্পোরেশনে কাজ করেন। তারা কিছু আলোচনা করছিল। আমাকে দেখেনি, আমি নিজেও দূরে থাকায় শুনিনি পুরো কথাটা। যখন এগিয়ে গেলাম ততক্ষণে কথা প্রায় শেষ। শুধু এইটুকু শুনেছি,’ওরা যে পেপারে সিগনেচার করেছিল ওটা কীসের পেপার ছিল?
চাচ্চু বললেন,”উপরের টাইটেল ঠিক ছিল ভেতরের টাইটেলে আমি লিখেছিলাম আমি এই মর্মে সাক্ষর করেতেছি যে আগামী পাঁচ বছরের পূর্বে তোমাকে আমি ছাড়ছি না। আমার সকল সম্পত্তি তোমার নামে আমি লিখে দিচ্ছি। এসব লিখে দিয়েছি।
“পেপারটা ওরা পড়েছিল?
“ না, পড়েনি..! রাগে, ক্ষোভে অন্ধ হয়ে সাইন করেছে দু-জন।
‘“তুই পেপারটা কোথা থেকে পেয়েছিস?
“কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করে বের করেছি।
“ আমি তোকে বলেছিলাম পেপার একটা নিয়ে যা, পরে সিগনেচার করলে পেপার ফেলে দিস, তুই শুনলি না কেন আমার এই কথা?
“আমি এই বিষয় নিয়ে গুগল করেছিলাম, বলেছে লিখিতভাবে সাক্ষর দিলেও ব্যাপারটা সম্ভব হয়। তাই আমি ওই রিস্ক নেইনি। নিজে নিজে বানিয়ে নিয়েছি। ব্যাপারটা সেনসেটিভ ছিল, হেলাফেলা করা যায় না।
“যেহেতু পেপার জমা দেসনি তুই, এমনকি কোনো কথাই ওই বিষয় নিয়ে উল্লেখ ছিল না, তাহলে ব্যাপারটা তো হলোই না, আর কখনো সম্ভব হবে না৷ আচ্ছা, ওসব বাদ দে, সিগনেচার ওয়ালা কাগজটা কোথায়?
“সিলেট সুরমা নদীতে ফেলে দিয়ে এসেছি।
ইসরাত দিনলিপি লিখা শেষে মুখে হাত চাপল। অবাক, বিস্ময়ে চোখের আকার প্রকট থেকে প্রকট হলো। উত্তেজনায় গলা দিয়ে বেরিয়ে গেল কিছু আওয়াজ। নিজের উত্তেজনা দমাতে ধপাস করে শুয়ে পড়ল বিছানায়। আশ্চর্য তার শরীর কাঁপছে কেন? খুশিতে! হ্যাঁ খুশিতে! ইসরাত চোখ বন্ধ করে নিল। গাল বেয়ে ঝড়ে গেল এক ফোটা অশ্রু।
ফ্রান্স, প্যারিস
7th arrondissement…
তুষারপাত হচ্ছে বাহিরে। থাইগ্লাস লাগানো রুমটার জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে তা। রুমের এক কোণায় চুপচাপ বসে আছে আরশ, নিষ্পলক তার দৃষ্টি। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় এই মুহুর্তে তার রুমে কেউ নেই। হাতের মধ্যে থাকা ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে সে। হাত দিয়ে এমনভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছে ছবিটা যেন, ছবির মেয়েটা তার সামনে। হাতের পাসপোর্ট সাইজ ছবির দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে নিজের মতো একটা দুনিয়া তৈরি করে নিল সে। সৈয়দ বাড়ির দো-তলার যে রুমটায় থাকত ওইরুমে সে বসে। হ্যালুসেনেশন করল মাহাদি সোফার উপর বসা তার সামনে, মুখটা গম্ভীর। হাতে মোবাইল নিয়ে টাইপিং শুরু করছে সে। তার নিজের মতো জগত করতে শুরু করল আস্তেধীরে। সামনের দৃশ্যপট পালটে গেল। দৃশ্যপটে সে, নুসরাত, আর মাহাদি আছে।
আরশ ছোটখাটো মেসেজ পাঠিয়েছে নুসরাতকে বহুক্ষণ পূর্বে। বার্তাটুকু এমন,’Toke cepe dhore french kiss korle kuno somossa hobe nusrat?
মেসেজটা লিখা শেষে মোবাইলটা ফেলে রাখল হাত হতে অনেক দূরে। এক সেকেন্ড, দু-সেকেন্ড, তিন-সেকেন্ড কাটল৷ স্পর্শ করল মিনিটের কাটায়, তবুও মেসেজের রিপ্লাই আসলো না। আরশ অধৈর্য হয়ে হাতে আবার মোবাইল তুলে নিল৷ সরু নজরে দেখল অনেকক্ষণ যাবত। দেখাচ্ছে মেসেজটা গিয়েছে, অনলাইনে মেয়েটা আছে, তারপরও তার মেসেজের রিপ্লাই কেন দিচ্ছে না? কপালে ভাঁজ পড়ল! তাকে কী ইগনোর করছে? আরশ হেলালকে ইগনোর করছে,কত্ত বড় কলিজা ওই মেয়ের। মোবাইল চোখের সামনে তুলে তাকিয়ে রইল আরো দুটো-মিনিট। ধৈর্যে আর কুলাল না, ঢিল মেরে মোবাইলটা ফেলে দেওয়ার জন্য শূন্যে তুলতেই মাহাদি পেছন থেকে ভাবাবেগ শূণ্য কন্ঠে বলে ওঠল,”গত এক মাসে মোট আটটা মোবাইল ডিসমিস, এটা নয় নাম্বার। ভেবে চিনতে কাজ করো আরশ ভাইইই..!
মাহাদির দুষ্টুমি মাখা হাসি দেখে মোবাইল আর নিচে ফেলা হলো না আরশের, অবেহেলা নিয়ে ফেলে রাখল মোবাইলটা বিছানার উপর। মেসেজটা এমন ঝুলে রইল। চোখের পলকে বারো ঘন্টা পার হলো। আরশ রাগল ভীষণ! ভীষণ! মেসেজের রিপ্লাই না আসায়। বারো ঘন্টা পার হয়ে তেরো ঘন্টায় সময়টা গড়াতেউ মেসেজের রিপ্লাই আসলো,”ji kuno somossa nei, apni kiss kortei paren, kintu….বাকিটুকু লিখল না।
আরশ একবার ভাবল সিন করবে না, কিন্তু জানার আগ্রহে ঝটপট জিজ্ঞেস করে বসল। কিছুক্ষণ পূর্বে রাগের প্রকোপে মনে মনে দীর্ঘ মনোভাব তৈরি করেছিল নুসরাত মেসেজ দিলে আগামী চব্বিশ ঘন্টার আগে দেখবে না, কিন্তু এক সেকেন্ডের ভেতরই সিন করে বসল সে, উত্তর ও লিখা হয়ে গেল এর মধ্যে,”kintu ki??
“Apni kivabe janlen french kiss kivabe korte hou? Age theke oviggo naki ei beyapare? Kauke korechilen naki??
আরশ উত্তর লিখল,”korlei ba ki?? Ebar bol kiss kora zabe?
নুসরাত বাংলা শব্দে লিখল,”আয় শালা করেই দেখ না, ঠোঁট সিলাই করে দিব। আমাকে তো চিনিস না, আমি হলাম জল্লাদ মহিলা।
আরশ বুঝতেই পারল না কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে লিখল,”ki likhechis, bujhini..!
“Likhechi 2million dile frenc kiss korte dibo.raji thakle agreement e amra zete pari??
“Tui takar jonno kiss korbi?
নুসরাত অহংকার নিয়ে লিখেছে,”ami tk’r jonno nijer couddo gustike bikri kore dite pari, he he..! Apni amare cinen nai arosh vai..!
এই কথাটা তার পছন্দ হলো না। তাই গালে হাত ঠেকিয়ে চেঞ্জ করল, নিজে নিজে বসিয়ে দিল,”ji arosh vai, apni jekuno somoy, jekuno jaygay, apnar icche holei amake kiss korte parben, tk dite hobe na..!
এরপর শ্বাস ফেলল সে। রঙ বেরঙের প্রজাপতি উড়াউড়ি করল তার স্বপ্নের জগতে। পা ছড়িয়ে বসে থেকে হাসল পাগলের মতো। হাতের মুঠোয় তখনো নুসরাতের ছোট বেলার ছবিটা। চুলগুলো উড়ছে উত্তাল হাওয়ার, হাত দিয়ে সেগুলো মুখের উপর থেকে সরানোর চেষ্টা করল, সরে গেল ও চুলগুলো, আরশ তা দেখে হাসল। ছবির ভেতরের হাসি হাসি মুখটা দেখে নিজেও হাসল।
ঘর বন্দী হয়ে বসে আছে আরশ। খাবার দাবার ঠিক মতো করেনা৷ কারণে অকারণে হাসে। লিপি বেগম এটা নিয়ে চিন্তিত ভীষণ। ছোট ছেলের এই অবস্থা মেনে নিতে পারছেন না কোনোভাবেই। জায়িনের সাথে আলোচনায় বসলেন তাই এই বিষয় নিয়ে রাতের খাবারের সময়। বললেন,” আরশের মানুসিক অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে, রাগ বাড়ছে। কারণ লাগে না তার, এমনি হাসে। আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। তোর বাবাকে দেখলে রাগ করে। সেদিন রেগে গিয়ে তোর বাবাকে গ্লাস ছুঁড়ে মেরেছে। অতিরিক্ত কথা বলে। সোফায় বসে কথা বলে একা একা।আমি জিজ্ঞেস করলাম কে ওখানে, কী উত্তর দিয়েছে জানিস?
জায়িন গায়ের অ্যাপ্রোন খুলে রাখতে রাখতে গম্ভীর মুখে শুধাল,”কী?
“নুসরাত নাকি ওখানে বসে আছে। তুই তো বাসায় থাকিস না৷ না হলে দেখতি, সারাদিন মুখ দিয়ে নুসরাতের নাম এমন ভাবে ঝপবে, মনে হবে তসবি পড়ছে। ডানে গেল নুসরাত, বামে গেলে নুসরাত, সোজা গেলে নুসরাত, উল্টো গেলেও নুসরাত। এমনকি ওয়াশরুমে গেলেও বলে, নুসরাত বাহিরে দাঁড়া আমি আসছি, ভেতরে আসবি না।খাবার খেতে খেতে সাধবে, এই নে খাবার খা। এদিকে যাবি না, ওদিকে যাবি না, চুপচাপ বস! এসব..! এরপর রাগ যদি দেখতিস! তোর বাবাকে দেখলে হঠাৎ রেগে যায়। জিনিস পত্র ছুঁড়ে মারে। ইচ্ছে মতো হ্যালুসেনেশন করতে না পারলে রুমের জিনিস পত্র ভাঙতে থাকে। কোনোদিন যদি সামনে নুসরাত আসতে দেরি হয় তাহলে ও রাগ করে জিনিস ছোঁড়াছুঁড়ি করে। রাগ দিনদিন তরতর করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তোর বাবাকে দেখলে অনেক সময় বলে সব উনার জন্য হয়েছে। উনি নাকি জোর করেছেন ওকে তালাক দেওয়ার জন্য৷ আমি বারবার না করেছি ছোট মানুষদের ছেলে মানুষিতে সায় না দেওয়ার জন্য, সবাই দিল, এখন দেখলি কী হলো? এখন কী করব?
জায়িন বসে নিজের পায়ের জুতো খুলে রাখল রেকে। শ্বাস ফেলল ঠোঁট বাঁকিয়ে। বলল,”আরশের মানুসিক অবস্থা ভালো না যখন তাহলে আমি বলব ওকে অ্যাসাইলেমে পাঠিয়ে দাও। ওখানে ট্রিটমেন্ট ভালো পেলে এমনি সুস্থ হয়ে যাবে। হ্যালুসেনেশন বা রাগ এসব করবে না।
লিপি বেগম আতকে উঠলেন,”তাই বলে পাগলা গারদে পাঠিয়ে দিব?
“পাগলা গারদে কোথায়, শুধু বলছি অ্যাসাইলেমে পাঠাতে, রাগ আর হ্যালুসেনেশন করা কমে গেলে নিয়ে আসব আবার।
লিপি বেগম প্রথমে না করলে পরে মেনে নিলেন।
পরেরদিন সকাল বেলা নাস্তা করার যখন আরশ নামল তখন লিপি বেগম বোঝালেন কথাগুলো। বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে গেল সে। যতটুকু বোঝাতে বেগ পোহাতে হবে ভেবেছিলেন তার এক অংশ ক্ষয় করতে হলো না। শুধু আরশ নির্লিপ্ত স্বরে জানতে চাইল,”এখনই চলে যাব?
হেলাল সাহেব গম্ভীর মুখে বললেন,”হ্যাঁ, তোমাকে জায়িন নিয়ে যাবে।
আরশকে সকাল এগারোটার সময় বাসা থেকে নিয়ে বের হওয়ার কথা জায়িনের। সে যাওয়ার জন্য পরল ক্যালভিন ক্লাইনের ck লিখা অভার সাইজড হুডি, আর ডেনিম প্যান্ট। সুঠাম দেহের ভাঁজ গুলো ঢেকে গেল হুডির নিচে। শীত বাহিরে বেশ পড়ায় স্নিকার্স পায়ে লাগিয়েছে! মাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিল সে। অশ্রুসিক্ত চোখে আরশকে বিদায় জানালেন লিপি বেগম। কাঁদলেন ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে। দু-হাতে আজলায় অভাল আকৃতির মুখটা ভরে নিয়ে চুমু খেলেন। চেয়ে রইলেন অধিক সময় নিয়ে উজ্জ্বল শ্যাম রঙের রাজপুত্রের ন্যায় চেহারার দিকে। মিষ্টি মুখটার দিকে তাকালে কেউই বলতে পারবে না অসুস্থ ছেলেটা। কী ভদ্র সভ্য হয়ে চুল সেট করে যাচ্ছে। মোবাইল,ওয়ালেট, সব বাসায় রেখে যেতে হচ্ছে তাকে। ছেলের দিকে অপলক তাকিয়ে রইলেন, না চাইতেও বিদায় জানাতে হলো ছেলেকে লিপি বেগমের। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সফট ড্রিংকস ফ্রিজ থেকে বের করে চুমুক বসাল আরশ। বাবার সাথে যেতে যেতে কোলাকুলি করল।যেন বেড়াতে যাচ্ছে সে। পেট ভরে খেয়ে দেয়ে আবারো মাকে বিদায় জানাল,”তাড়াতাড়ি ফিরব মাম্মা, আমাকে ছাড়া ভালো থেকো ততদিন, আসছি..!
ছেলের দিকে তাকিয়ে না চাইতেও কেঁদে ফেললেন ভদ্রমহিলা। হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালেন। থাইগ্লাসের অপাড় থেকে দুটো অশ্রুসিক্ত চোখ দিয়ে দেখলেন পার্ক করা গাড়ি বের করে নিচ্ছে জায়িন। আরশ লাফিয়ে গাড়িতে চড়ে বসে জানালা দিয়ে মাথা বের করে আবার বিদায় জানাল হাত নাড়িয়ে মাকে।
গাড়ি চলছে তার মতো। আরশ দীর্ঘ সময় চুপ ছিল। এবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল ভাইয়ের দিকে। হাসল দাঁত বের করে, বিপরীতে জায়িন ও হাসল।
“ইসরাতের সাথে ঝগড়া হয়েছে তোমার?
“না..!
উত্তর ভেসে এলো জায়িনের কাছ থেকে। আরশ হেসে ফেলল ভাইয়ের কথায়। বলল,”ভালো, ঝগড়া না হলে। কিন্তু আমি শুনেছি তোমরা ঝগড়া করেছ?
গলা নিচে নামাল জায়িন। ভীষণ ভেতরের খবর বলছে যেন,”আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইসরাত বলেছে তার স্বামীকে জুতা পিটা করবে, সেটা জানো তুমি?
আরশের কথায় জায়িন গম্ভীর কন্ঠে বলল,”খুব বেশি কথা বলছিস আজ তুই। চুপ করে বস!
আরশ শুনল চুপ করে বসে গেল ভাইয়ের কথায়। হঠাৎ নুসরাতের মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। দাঁত কেলিয়ে ডাকত আরশ ভাই বলে তখনকার একটা কথা মনে হতেই হেসে ফেলল। জায়িন তাকাল তার দিকে, জিজ্ঞেস করল,”হাসছিস কেন?
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার তাড়া দেখা গেল না তার ভেতর। দু-হাত মাথার নিচে দিয়ে রাখল। ঘুমহীন রাত কাটানোতে রক্তিম হয়ে আছে দুটো চোখ। এলোমেলো হওয়া চুলে হাত বুলিয়ে গুণগুণিয়ে গেয়ে উঠল, “আলতো ছোঁয়ায় চোখের চাওয়ায়…
পাওয়া না পাওয়ার কি যে নেশা..
সেই স্মৃতিটাই আজও হাতরাই
হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা…
জায়িন তাকাল আরশের দিকে হুইলে হাত রেখে৷ প্রশ্ন আবারো করল,”তখন হাসছিলি কেন? বললি না যে?
আরশ গুণগুণ করছে তখনো।৷ গলার আওয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে পা দিয়ে গাড়ির ম্যাটে পরপর কয়েকবার আঘাত করল। মৃদু স্বরে বলল,”আমাদের তালাক হয়নি..!
জায়িন আরশের দিকে তাকাল ঘাড় বাঁকিয়ে। মুখটা গম্ভীর্যে মোড়া। বলল,”হয়েছে।
“না হয়নি.!
আরশের জেদি স্বর।
জায়িন বলল,” কীভাবে হলো না? তুই সাইন করেছিস ডিভোর্স পেপারে?
“করিনি, ওইটা জোর জবরদস্তি করে করা হয়েছিল। আর আমি তো নুসরাতকে বলিনি, আমি তোকে তালাক দিচ্ছি। তাহলে তালাক ও হলো না!
জায়িন গেল না আরশের সাথে তর্কে। কথা কর্ণপাত না করেই বসে রইল নিশ্চুপ। শুধু বলল,”কথা কম বলো, এখন স্টপ যাও আরশ।
আরশ যেন শুনল কথাটা, চুপ হয়ে গেল সেকেন্ডের ভেতর। বসে রইল গা এলিয়ে গাড়িতে। চোখ দুটো বন্ধ করে রইল খিঁচে।
গাড়ি যখন অ্যাসাইলেমের ভেতর প্রবেশ করল তখন আরশ চোখ খুলে তাকাল। বিল্ডিং এর গেটের সামনে সাদা কালো অক্ষরের মিশেলে বড় বড় করে লিখা EMERGENCY! গাড়ি থামল ইমারজেন্সি এর ভেতরের পার্কিং এড়িয়ায়। গাড়ির পুরোপুরি থামার আগেই আরশের ভেতরে হুড়োহুড়ি বেঁধে গেল। লাফিয়ে নেমে গেল সামনের লনে।
জায়িন গাড়ি পার্ক করে আসতেই আরশ জিজ্ঞেস করল,”আমার মানিব্যাগ আনতে দাওনি কেন?
জায়িন কথার উত্তর না দিয়ে হেঁটে গেল সামনে। ইমারজেন্সির ব্যবস্থাপক রবার্ট হেনরি এসে ওয়েলকাম জানালেন জায়িন আর আরশকে।
বিশাল জায়গা জুড়ে অ্যাসাইলামটা হওয়ায় অনেকটা পথ অতিক্রম করে রেজিস্ট্রার রুমে যেতে হলো জায়িনকে৷ ইমার্জেন্সি অ্যাসাইলেমের চারিদিকে বড় বড় গাছপালা, যেগুলো দেখতে দানব আকৃতির। গেটের সামনে, বিল্ডিং এর আশপাশ জোড়ে কড়া নিরাপত্তা ও পাহাড়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে কোনো রোগী পালিয়ে না যেতে পারে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ ডাক্তাররা ইমারজেন্সিতে কাজ করছেন বর্তমানে।
বাচ্চারা যেমন নতুন জায়গায় গেলে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখে তেমনি করে আরশ সেসব দেখল। অতঃপর জায়িনের পিছু পিছু বাচ্চাদের মতো হেলেদুলে হেঁটে গেল..! তার অবস্থা দেখে মনে হলো না সে এখানে মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে এসেছে৷ মনে হলো কোনো পিকনিকে এসেছে। রাস্তায় যার সাথে দেখা হলো হাত নাড়িয়ে হায় হ্যালো করল। জায়িন ভর্তির ফর্মালিটিজ পূরণ করল। রেজিস্ট্রারে আরশের নাম তুলে দিয়ে ঘন্টাখানিক পর ব্যবস্থাপকের রুম থেকে বের হলো। অ্যাসাইলেমের ব্যবস্থাপক রবার্ট হেনরি জানালেন আরশের রুম ২য় তলায়। আজ থেকে আগামী ছয় মাস এখানেই সে থাকবে।
রুমটা মাঝারি আকৃতির। ক্ষণে ক্ষণে বাতাস বইছে, এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে আসবাবপত্রকে। একটা থাইগ্লাস আছে মাঝারি আকৃতির, একটা বেড, একটা কফি মেকার, একটা ওয়াশরুম, একটা টেবিল, চেয়ার, আর বই পড়ার সেল্ফ । যেখানে ম্যাগাজিন, কমিক বুক, পড়ার বই সহ নানা ধরণের বই রাখা। রুমের সাথে লম্বা একটা বেলকনি আছে সেখানে, কয়েকটা প্ল্যান্ট রাখা। ঘরের রঙ থেকে শুরু করে আসবাবপত্র সাদা।
অ্যাসাইলেমে আরো ব্যবস্থা আছে। যেমন খাবার রুম প্রতিটা তলায় একটা করে। সবার কাপড় একই ধরণের।কড়া কিছু নির্দেশবলি আছে। যেমন খাবার সময়ে খাবার খেতে হবে। অ্যাসাইলেমের নির্দিষ্ট কাপড় ছাড়া সবাই আর কোনো কাপড় পরতে পারবে না। নিজের কাছে কোনো ল্যাপটপ, মোবাইল, এয়ারপড, কম্পিউটার, গ্যামিং ডিভাইস, এমনকি কোনো ধরণের কলিং ডিভাইস রাখা চলবে না।
জায়িন আরশকে সব বুঝিয়ে দিয়ে যেতে যেতে জানাল সে সামনের সপ্তাহে আসবে এখানে ভিজিটে। ছয়মাস তাকে এখানে রেখে ট্রেনিং দেওয়া হবে কীভাবে রাগ কমানো যায়!। জায়িন বলল,”আমি সামনের সপ্তাহে আসব।
আরশের উত্তর তখন এমন ছিল,”আসার প্রয়োজন নেই।
“আমি তবুও আসব।
“আসলে আমি তোমার সাথে দেখা করব না।
“দেখা না করলে না করবি, তবুও আমি আসব।
জায়িন দরজার দিকে অগ্রসর হলো। হঠাৎ কী মনে হতে তার পা থেমে গেল,”সপ্তাহে পারলে একবার করে আম্মুকে কল করে নিস। তোকে নিয়ে অনেক চিন্তিত থাকবে সে।
কথা শেষ করে জায়িন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিল। যাওয়ার আগে ভাইয়ের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার ভালোভাবে পরখ করে নিল। আরশ ও তখন তাকাল তার দিকে। অতঃপর দু-জনে দু-দিকে হাত মেলে এসে জড়িয়ে ধরল দু-জনকে। একইসাথে বলে ওঠল,”আই উইল মিস ইউ..!
আজ স্বাভাবিক ভাবে দিন কেটেছে আরশের। এখনো পর্যন্ত চ্যাঁচায়নি সে, এমনকি হ্যালুসেনেশন করেনি। নুসরাত আজ আসেনি তার সামনে এখনো পর্যন্ত। বেইমানি করেছে মেয়েটা। প্রতিদিন আসবে বলে ছিল, কিন্তু আজ কেন আসলো না! সবসময় মেয়েটা বেইমানি করে তার সাথে। তাই নুসরাতের অপেক্ষা না করেই ঘুম দিল সে। আজ পরিচয় ক্লাস থাকলেও সে ক্লাস করতে গেল না। আগামীকাল যাবে বলে ভিজিটরকে পাঠিয়ে দিল। কেউই টেনে হিঁচড়ে এসে নিতে পারল না, সিঙ্গেল বেডটা আঁকড়ে ধরে পড়ে রইল ওভাবেই।
২য় দিন সকাল ভালোয় ভালোয় কাটল। সন্ধ্যার পর সময় কাটানোর জন্য ২য় তলার বড় খাবার রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখল সে। এরপর ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে অনেকক্ষণ হাঁটাচলা করল। তারপর জিম রুম দেখল। একটু জিমের জিনিস গুলো নেড়েচেড়ে দেখল হাতে নিয়ে, তারপর অডিটোরিয়াম এর দিকে গেল। সেখানে বসে একটা মুভি দেখল। মুভি দেখে ভীষণ মেজাজ খারাপ হলো তার। ওখানে বসে বসেই রেগে মেগে চোখ বন্ধ করল। নিজে নিজের জগত তৈরি করতে চাইল, ঠোঁট কামড়ে অনেকক্ষণ বসে থেকে ভালো কিছু চাইল তৈরি করতে নিজের সামনে, কিন্তু আজ তা আর হয়ে উঠল না। মাথাঝাড়া দিল সে। সম্ভব হবে না হ্যালুসেনেশন করা তাই নিজ রুমেই ফিরে আসলো। রুমে ফিরে আরশের মেজাজ আরো খারাপ হলো। পাগল ছাগলের রুম একটা। যেখানে সাদা ছাড়া কিছুই নেই। রুমটার দিকে তাকিয়ে তার মাথা ভীষণ খারাপ হলো! ভীষণ! এই রুমটা ইন্টোরিয়র করেছে যে, তাকে মাথায় তুলে আছাড় দিতে মন চাইল তার। মেজাজ হারিয়ে সেল্ফের সকল বই ফেলে দিল, অস্থির হয়ে, এলোমেলো চোখ ফেলল চারিদিকে। বুকটা ফাঁকা লাগছে আবারো। বুকে হাত বুলিয়ে নিল কয়েকবার। মেজাজ চাড়া দিয়ে উঠল। এই মুহুর্তে কাউকে ধরে উদোম কেলানি দিতে পারলে যেন তার ভালো লাগত। বারান্দায় বের হয়ে হাঁটল,, পায়চারি করল, মাথার চুল ধরে টানল। অত্যাধিক ক্ষোভে কিছু হাতের কাছে না পেয়ে প্ল্যান্ট গুলো তুলে ফেলে দিতে চাইল বারান্দা দিয়ে, তখনই তার সাথে লআগোয়া বারান্দা থেকে মধ্যবয়সী এক লোকের গলা ভেসে এল,”কবে এসেছ এখানে?
স্পষ্ট ফরাসী উচ্চারণ কানে ভেসে এতেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল আরশ। হাতের প্ল্যান্টটা তখনো ফেলে দেওয়ার ধান্দায় সে। কপালে দুটো ভাঁজ ফেলে তিরিক্ষি মেজাজে জানতে চাইল,”না জানলে হয় না?
যে লোকটা প্রশ্ন করেছে সে এখানকার একজন ডাক্তার, রোগীদের কাপড় পরে ঘুরছেন ভদ্রলোক। নাম চার্লী। চার্লীর সহযোগী ডাক্তার এটম জিজ্ঞেস করলেন,“ না বলো শুনি কেন এলে?
আরশ প্ল্যান্টটা পড়ে ফেলে দিবে ভেবে এগিয়ে গেল বারান্দার শেষ মাথায়। জিভ দিয়ে গাল ঠেলে বলল,”ঘরের মানুষের আমি কেন হ্যালুসেনেশন করছি তা নিয়ে সমস্যা, আমি হাসছি কেন বেশি তা নিয়ে সমস্যা, তাই পাগল বলে এখানে এনে ভরে রেখে গিয়েছে?
চার্লী জিজ্ঞেস করলেন,
“কে ভরে রেখে গিয়েছে?
“আমার বউয়ের ভাসুর!
আরশের কথা শুনে সবাই মজা পেল যেন। বয়স্ক লোক একজন। ইমারজেন্সির রোগী হয়েছেন দু-মাস পূর্বে। প্রশ্ন করলেন,”বিয়ে করে ফেলেছ এই বয়সে? বয়স কত তোমার?
আরশ নিজের দিকে আঙুল তুলে জিজ্ঞেস করল,“ আমার?
সবাই মাথা দোলাতেই বলল,” ছাব্বিশ হয়েছে তিন মাস আগে।
চার্লী ভ্রু কু্ঁচকে জিজ্ঞেস করল,”বিয়ে কবে করেছ তুমি?
“তেরো বছর আগে।
পরপর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,“কে বিয়ে দিয়েছে তোমার?
“আজমল আলী বিয়ে দিয়েছে!
“ আজমল আলী কে?
“আমার দাদা।
“ তোমার বউ তোমার পূর্ব পরিচিত ছিল?
“আমার কজিন ছিল..! (কাজিনকে ফরাসিতে কজিন বলে)
সবাই মাথা দোলাল বুঝেছে এমন ভাবে। একে একে সবাই দলবদ্ধ হয়ে চেয়ার টেনে বসলেন আরশের মুখোমুখি। সবাই একই সাথে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,”আছে নাকি গেছে?
“মাঝখানে।
“ মানে?
“তালাক দিয়ে দিয়েছি সিগনেচার করে, মন থেকে দেয়নি। মুখ দিয়ে না দিলে তালাক আবার কীসের তালাক! তালাক হয়নি এখনো, মাঝখানে আটকে।
আরশের কথায় হাসল সবাই। এটম বলল,”বিস্তারিত কাহিনি বলো তো!
আরশ হেয়ালি করল,”বিস্তারিত জানতেই হবে? না জানলে হয় না?
সবাই চাপ দিল বলার জন্য। আরশ রুম থেকে চেয়ার টেনে এনে বসল বারান্দায়। বলল,”বুড়ো আজমল আমার বউয়ের সাথে আমার বিয়ে দিয়েছে। আমরা রাজী ছিলাম না কেউই তারপরও বিয়ে দিয়েছিল। লাইক ফোর্স ম্যারেজ। এরপর ফ্রান্স চলে আসলাম আমরা। আসার পর আর বউকে আমি দেখিনি, তেরো বছর পর বুড়ো আজমলের বউ অসুস্থ, লাস্ট মিনিটে শ্বাস নিচ্ছেন ওই সময় মাম্মার জন্য দেশে গেলাম, যাওয়ার পর বউয়ের সাথে প্রথম দিন দেখা হলো আমার, বলল বিবাহিত আমাকে৷ তো শেষ, এরপর থেকে আমাদের নিয়ম করে দেখা হলো। আমার বউ যে, সে ছোটবেলায় খুব বেশি কথা বলত না, এখন এত কথা বলে শুনলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে।। জোর করে আমাদের বিয়ে দিল বুড়োটা, আবার দেশে নিয়ে গিয়ে জোর করে ডিভোর্স করিয়ে দিল আজমলের ছেলে। দু-বার দেশে গিয়েছি, দু-বারই আমার সাথে একেকটা নাটক হয়েছে।
বয়স্ক লোকটার প্রশ্নাতীত আওয়াজ ভেসে এলো আরশে কানে ,”তোমার বউ দেখতে কেমন? অনেক সুন্দরী কী সে?
আরশ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেল। নিশ্চুপ বসে রইল রেলিঙ ধরে। একপলক তাকাল সম্মুখে, সবাই তার কথা শোনার অপেক্ষায় বসে আছে। নুসরাতের কথা বলতে গিয়ে মুখ চোখে অন্যধরণের দ্যুতি খেলে গেল, আনমনেই বলে ওঠল“সুন্দরের সংজ্ঞা দিতে গেলে সৌন্দর্য ফিকে পড়ে যাবে তার কাছে, শুধু বলব আমি আমার এক জীবনে তার মতো সুন্দরী নারী দুটো দেখিনি।
“অনেক বেশি ফর্সা কী সে?
প্রশ্ন করে বয়স্ক লোকটা চেয়ে রইল উত্তর পাওয়ার আশায়৷ আরশ সহজ কন্ঠে উত্তর দিল,“ ফর্সা হলেই মানুষ সুন্দর হয় না৷
ঢিলেঢালা ড্রপ সোল্ডার গায়ে থাকায় বাতাসের জন্য উড়ছে, সাথে ট্রাউজার। নুসরাতের কথা গল্প করতে করতে কখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে বুঝতে পারল না সে । ভিজিটর প্রতিটা রুম ভিজিটিং করে এক ঘন্টা পরপর। যখন আরশের রুমে প্রবেশ করল লোকটা, তখন তার শুভ্র বর্ণের চেহারাটায় অবাকতার ছায়া খেলে গেল। আট থেকে দশজন মানুষ তার গল্প শুনছে হা করে। আর সে! একটা মেয়ের কথা বলতে বলতে হাসছে। একের পর এক গল্প বলছে। মেয়েটা হাসে কীভাবে! কথা বলে কীভাবে! মুখের আকার, ধরণ, কাঠামো, কয়টা তিল মুখে আছে, চোখের পাতা ফেলে কীভাবে, এ টু জেড মুখস্থ গড়গড়িয়ে বলছে ছেলেটা।
প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫৫
অত্যাধিক রাগের জন্য যে ছেলেকে ভর্তি করা হয়েছে ইমারেজেন্সিতে সেই ছেলেকে ভিজিটরের নিকট মনে হলো, শুধু অতিরিক্ত রাগ নয়, এই ছেলে আস্তো পাগল হয়ে গেছে। মস্তিষ্কে কিছু একটা ফাঁপা পড়েছে, মাথাটা সম্পূর্ণ গেছে মেয়েটাকে ছেড়ে আসার দুঃখে। হ্যালুসেনেশন করছে সময়ে অসময়ে বসে বসে। গল্প করতে করতে দু-থেকে তিনবার পাশে তাকিয়ে কথা বলে ফেলেছে।

এটা কি করলে আপু এবার কি হবে আদেও কি হ্যাপি এন্ডিং 🤔 হবে আর আরশকে এটা কোথায় পাঠিয়ে দিলে, হ্যাপি এন্ডিং দিতে হবে কিন্তু আপু 🥹🥹🥹👌👌🥰🥰🫰😫😫😅😅🥺😔😔
নেক্সট পার্ট আপু
Ami eta bujte parchi na je zayin na israt ke onk valobasto…..tar first and last valobasha israt….. Ekhn natok kn Akhter korteche?
Next part tatari diyo
Apuuu porer part taratari denn,,,fvrt ekta upponash eita,,,nusrat er cerecter ta besi josss,, apu plz taratari den porer part🫶🌷
Porer part ta pawa jabe na
Next part ta Kobe asbe
Next part taratari daw apuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuuu🙂💔
Apu taratari next part ta den…plzzzzzzzz
Apu please porer part ta taratari deo 🥲 noito amio arosh er moto pagol hoye jabo 🤧
Porer part ta taratari daoo
Porer part ta taratari daoo…..onk late hoye gese
Eta ki Holo golpotai golpo ta happy ending Dile valo hoy 🙂🔪
Apu taratari porer part daw kotodin wait koraba🙂😭❤️🩹
এত দেরি করে পার্ট দেন কেন……??? আমরা তো অপেক্ষা করতে করতে শেষ হয়ে যাচ্ছি…!!😩
Apu kobe diben poroborti porbo..mara jacchi koste😭 it
Aacha apu tumi ki golpo debena bole thik korecho
Apuu next part deoo pleasee🥹