আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ১৭+১৮+১৯
ফারজানা মনি
আরিফ এক পা এক পা করে মিমের দিকে এগোচ্ছে। মিম ও এক পা এক পা করে পেছনের দিকে পিছচ্ছে।
মিম কিছুটা ভীতু চোখে আরিফের দিকে তাকালো। কাঁপা কন্ঠে বলল : আরিফ ভাইয়া… কি হলো কেন এনেছেন বলবেন তো…
আরিফ স্থির চোখে মীমের ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । বলল : মিম … তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার অসম্মান হবে এমন কিছু আমি করবো না। আমি তোমার সাথে কয়েকটা কথা বলতে চাই, বলেই চলে যাব।
মীম: এমন কি বলবেন যার জন্য এত রাতে বৃষ্টির মধ্যে ছাদে নিয়ে আসতে হলো। আমাকে যেতে দিন। কেউ দেখলে সমস্যা হবে।
আরিফ মোহনীয় দৃষ্টিতে মিমের বৃষ্টি ভেজা মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । তার চোখ দুটো কিছু বলছে, যা আরিফ মুখ ফুটে বলতে পারছ না ।
হঠাৎ আরিফ মিমের দুগালে দুহাত রেখে, কন্ঠে মাদকতা মিশিয়ে বলল :মিম ….. আমার জীবনে তুমি সেই ব্যক্তি, যাকে দেখলে মুহূর্তেই আমার হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়। যাকে এক মুহূর্ত দেখার তৃষ্ণা আমার হৃদয়কে ব্যাকুল করে। যার জন্য নানান অজুহাতে এই খান বাড়িতে আমি বারংবার ছুটে আসি।
মিম …তুমি সত্যিই জানোনা … তুমি হাসলে তোমার ওই চোখ দুটো হাসে। তোমার ওই সমুদ্রের মতো গভীর চোখের চাহনি দেখে আমার হৃদয় ঘায়েল হয় প্রতিক্ষনে প্রতি মুহূর্তে। আমার চোখে তুমি এক ভয়ঙ্কর সুন্দরী। যার মোহে আমি সারা জীবন কাটিয়ে দিতে পারি।
আমার হৃদয়ের রানী…. তুমি কি আমার হবে?? থাকবে সারা জীবন আমার সাথে ??দুজন হাতে হাতে রেখে পথ চলব একসাথে. কথা দিচ্ছি, কোন অভিযোগ করার সুযোগ দিব না । ভালোবাসি… ভীষণ ভালোবাসি… খুব. খুব. খুব. ভালোবাসি…
মিম নিশ্চুপ। সে অবাক। কিন্তু তার চোখ দুটো শান্ত। মিম শান্তু দৃষ্টিতে আরিফের মুখপানে তাকিয়ে আছে। কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে সব তার মস্তিষ্কের উপর দিয়ে যাচ্ছে। মিম কিছুই বলছে না। এটা দেখে আরিফ তার দু কাঁধে হাত রেখে ঝাকুনি দিয়ে বলল: মিম.. তুমি কি শুনতে পাচ্ছ আমার কথা? তুমি কি উপলব্ধি করছো এই হৃদয়ের ব্যাকুলতা?
মিমের মনে হয় কিছুটা হুশ ফিরল। বলল: ভাইয়া… কি বলছেন এসব? আমার খুব ভয় করছে। আমাকে যেতে দিন প্লিজ।
বলেই মিম গেটের দিকে পা বাড়ালো। পেছন থেকে আরিফ তার এক হাত ধরে বলল: চলে যাচ্ছ যাও.. পালাচ্ছো পালাও.. কিন্তু যত দূরেই পালাও , তুমি কিন্তু আমারই। আমি যতটা শান্ত তোমাকে ছাড়া আমি ততটাই ভয়ঙ্কর।
আরিফ হাত টা ছাড়তেই মিম দৌড়ে ছুটে পালালো রুমের দিকে। ঠাস করে রুমের দরজা বন্ধ করে, মিম দরজায় কাধ ঠেকিয়ে হাঁটু ভেঙ্গে নিচে বসে পড়ল। তার হাত-পা থরথর করে কাঁপছে। কি হচ্ছে এসব?
মিম কিছুটা আরিফকে পছন্দ করলেও, সে কখনো এমন কিছু আশা করেনি মোটেও। মিমের কিশোরী হৃদয় আরিফের মহো মায়ায় আটকে গেছে। কিন্তু তা সে কি করে স্বীকার করবে আরিফের কাছে। ভাবতেই তার লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। তাছাড়া ফ্যামিলি কি মানবে? ভাইয়েরা কি কখনো মানবে?
ভাবতে ভাবতেই মিম ফ্লোরে শুয়ে পরলো। আরিফকে নিয়ে এখন লজ্জা সাথে সাথে মিমের ভয় ও কাজ করছে। আজ আরিফের কয়েকটা কথা শুনে মনে হয়েছে, আরিফ মীমকে ঠান্ডা স্বরে হুমকি দিয়েছে।
কি করবে সে, ভাবতেই তার মাথা ঘুরে যাচ্ছে। ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত মস্তিষ্ক নিয়ে মিম ফ্লোরেই ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল।
ফজরের আজান পরছে চারদিকে। তানভীর বন্যার মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকছে, বন্যা.. বন্যা ফুল… ওঠো… ফজরের আযান দিচ্ছে। বন্যা ঘুমো ঘুমো চোখে তাকালো দেখলো , সামনে তানভীর তার মুখের দিকে ঝুঁকে আছে।
আ-আ-আআআ.. বলেই চিৎকার দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো। শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখলো, একটা টি শার্ট পরা। এই টি-শার্ট টি কার ? সে নিজেও জানে না।
ভয়ার্ত কন্ঠে বলল: আপনি এখানে কি করেন ? আমার বাড়িতে এত রাতে কিভাবে ঢুকলেন । আমাকে চেঞ্জ করিয়েছে কে ?
বেচারা তানভীর হতভম্ব মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। একি হলো? তার বউ একি বলছে? তানভীর নিজেকে কিছুটা শান্ত করে বলল :বন্যা ফুল.. তুমি কি ভুলে গেছো গতকাল আমাদের বিয়ে হয়েছে ?তুমি এখন আমাদের বাড়িতে..
বন্যা স্তব্ধ হয়ে গেল। ঠিকই তো সে তো এখন খান বাড়িতে। তানভীর তার স্বামী। বন্যা আস্তে আস্তে বলল: ইয়ে .. মানে.. আসলে… আপনি যেভাবে মুখের উপরে ঝুকে ছিলেন আমি তো ভয় পেয়েছিলাম। আর হঠাৎ করে ঘুম ভাঙ্গায় সব গুলিয়ে ফেলেছিলাম।
তানভীর হাসলো। ঠিক আছে .. নো প্রবলেম … এখন গোসলে যাও। চারদিকে আজান পরছে এসে ফজরের নামাজ আদায় কর। আমি মসজিদে যাচ্ছি।
বন্যা বলল: ঠিক আছে। মনে মনে আউড়াচ্ছে, ভিলেনের বাচ্চা ভিলেন 😡😡 আমার সারা শরীর ব্যথায় টনটন করছে। সব দোষ এই ভিলেনের। ভাবতে ভাবতে বন্যা গোসলের ঢুকলো।
সকাল আটটা বাজে। খান বাড়ির ডাইনিং টেবিলে সবাই সকালের নাস্তা করছে। আজকের নাস্তা টা বন্যা নিজেই তৈরি করেছে। আবির, আলী আহমেদ খান, মোজাম্মেল খান, ইকবাল খান সবাই তৈরি হয়ে নেমেছে অফিসে যাওয়ার জন্য। তানভীর ছুটি নিয়েছে ১ সপ্তাহের জন্য।
হঠাৎ মেঘের শরীরটা খারাপ লাগায়, মেঘ তাড়াহুড়ো করে রুমে চলে যায়। যা আবির স্পষ্টভাবে খেয়াল করল। সেও তাড়াহুড়া করে নাস্তা সেরে রুমের দিকে যাচ্ছে। আলী আহমেদ খান বলল: কিরে আবির অফিসে যাবি না? উপরে যাচ্ছিস যে..
আবির: তোমরা সবাই চলে যাও আব্বু। আমি একটু পর আসছি।
বলেই আবির রুমের দিকে গেল। রুমে ঢুকে দেখে কেউ নেই । কিন্তু ওয়াস রুম থেকে পানি পড়ার শব্দ আসছে।
আবির সামনে এগিয়ে যেতেই দেখলো, ওয়াশ রুমের দরজাটা খোলাই আছে। মনে হচ্ছে মেঘ বমি করছে। আবি র ছুটে ভেতরে গেল। গিয়ে মেঘকে ধরলো। তার মাথায় পানি দিয়ে তারপর তাকে রুমে নিয়ে শুয়ে দিল।
আবির চিন্তিত। এই কয়েকটা দিনে মেঘের মুখটা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। চেহারায় কয়েকটা ব্রণও উঠেছে।
আবির মেঘের দুর্বল চেহারার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ মেঘ চোখ খুলে বলল: আহিয়ার আব্বু… আপনি কেন এত চিন্তা করছেন ? আমার কিছুই হয়নি। আম্মু বলেছে এ সময় মেয়েদের একটু এরকম হয়। আবীর চুপ হয়ে আছে। তার মুখে কোন কথা নেই। মেঘকে সে এই অবস্থায় দেখতে পারছে না। কিন্তু তার কিছুই করার নেই কারণ এই রোগের কোন ওষুধ তার জানা নেই।
মেঘ হঠাৎ ফিক করে হেসে দিল। আবির ভ্রুদয় কুঁচকে তাকিয়ে আছে। বলল : হাসছো কেন??
মেঘ; আচ্ছা আহিয়ার আব্বু… আমার একটু অসুস্থতা শুনে তুমি যে এতটা বেকুল হও ,যদি আহিয়া হওয়ার সময় আমি মারা যাই।
আবির চমকে উঠে দাঁড়ালো। মেঘ আবিরের রক্ত চক্ষু দেখে ভয়ে ভয়ে বলল : না ,..মানে.. এমনি বলেছি।
আবির : নেক্সটাইম , এমনিও বলবি না।
আবির মেঘের কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল: তোমার কি এখন একটু ভালো লাকছে? আমি কি অফিসে যাবো নাকি আজকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকব??
মেঘ : আপনি যান ,আমি ঠিক আছি।
আবির মেঘের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিসে রওনা হলো। আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।
বন্যা: ননদিনী…. রুমে আসবো?
মেঘ: মজা নিচ্ছিস?? আমার রুমে আসার জন্য তোর কি পারমিশনের প্রয়োজন আছে?
বন্যা হাসলো। ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল: এটা তো আর তোর একলা রুম না। এটা আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাসুরের রুম ও বটে। এ পর্যায়ে মেঘও হাসলো।
বন্যা: তোর শরীর এখন কেমন?
মেঘ: ভালো.. আগে তোর খবর বল..
বন্যা: আমার আবার কি খবর??
মেঘ: এই যে আমার ভাই .. তোর ঠিকমতো খেয়াল, আদর – যত্ন রাখছে কিনা।।
বন্যা,: তোর যেই ভাই … দেখলেই মনে হয় সারাদিন মাথায় করে এক বস্তা রাগ নিয়ে হাটে।
মেঘ: কেন বেবি? ভাইয়া কি তোমায় ভালোবাসে না??
বন্যা: হুম,, খুব ভালোবাসে।
মেঘ আর বন্যা কথা বলছে । তার মাঝে ই তো পাশের রুম থেকে তানভীর বন্যা কে যাচ্ছে। বন্যা রুমের দিকে গেলো। বলল কি হয়েছে এভাবে ডাকছেন কেন? মনে হচ্ছে বাড়িতে ডাকাত পড়েছে।
বন্যার কথা শুনে তানভীর একটু হাসলো। পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল: বন্যা ফুল ..তুমি কোথায় গিয়েছিলে।
বন্যা কিছুটা লাজুক হয়ে মাথাটাকে নেতিয়ে রেখেছে। তানভীর তার কানে একটা চুমু দিয়ে বলল । তাড়াতাড়ি রেডি হও। আমরা আজকে বিকেল পাঁচটায় বান্দরবান যাচ্ছি
বন্যা তার বড় বড় চোখ দুটিকে গোল গোল করে তাকিয়ে আছে। তানভীরের অভিব্যক্তি বুঝার সাধ্য তার নেই।
বন্যা: হঠাৎ বান্দরবন কেন? কয়েকদিন পরে গেলেওতো চলতো।
তানভীর: কেন ?কোন সমস্যা?
বন্যা: না মানে.. মেঘের শরীরটা ভালো নেই। এই সময় বাড়ি থেকে বের হওয়া কেমন দেখায় যেন।
তানভীর: সমস্যা নেই । ভাইয়াই বলেছে যেতে।
বন্যা: আবির ভাই যেতে বলেছে??
তানভীর: হুম… আমাদের জন্য সাত দিনের হানিমুন পেকেজ ভাইয়াই ঠিক করেছে। এটা আমায় ভাইয়া গিফট করেছে । বলেই পকেট থেকে দুইটা সাত দিনের হানিমুন পেকেজের বান্দরবানের টিকেট মেলে দেখানো।
বন্যা মৃদু হাসলো। বলল: আমিই মনে হয় পৃথিবীতে প্রথম নতুন বউ । যে ভাসুরের হাত থেকে হানিমুনের টিকেট পেয়েছি।
বিকেল তিনটা বাজে। মিম সোফার রুমে বসে টিভি দেখছে। তখনই বাইকের শব্দ পেয়ে ঘাড় গুড়িয়ে বাইরের দিকে তাকালো । তাকিয়ে দেখল , আবির এসেছে। আবির ভাইয়াকে দেখে সাথে সাথেই টিভিটা অফ করে দিয়ে নিজের রুমের দিকে ছুটলো। আবির ভাইয়া দেখলেই নিশ্চয়ই এখন ধমক দেবে। বলবে, দুপুর বেলা টিভির রুমে কি করছিস?
মালিহা খান, হালিমা খান, আকলিমা খান, মেঘ ও আদি সবাই যার যার রুমে রেস্ট নিচ্ছে। নিচে কাউকে না দেখে আবির সরাসরি নিজের রুমের দিকে গেলো। যাওয়ার সময় তানভীরের রুমটার দিকে চোখ পরলো , দরজাটা ভিড়ানো। তানভীরের সাথে একটু দেখা করা প্রয়োজন। কিন্তু এখন তো সরাসরি আর তানভীর রুমে ঢোকা যাবে না। এখন তানভীর ছাড়া ওই রুমে বন্যাও থাকে। তাই আবি র নিজের রুমের দিকে গেলো।
আবির রুমের দরজাটা মৃদু ধাক্কা দিল । সামনে তাকিয়ে দেখলো বিছানায় তার মেঘ শুয়ে শুয়ে উপন্যাসের বই পড়ছে। কিন্তু একি!!মেঘ বই পড়ছে আর কাঁদছে কেন??
আবির ছুটে গেল মেঘের দিকে। কি হয়েছে তোর মেঘ?
মেঘ আবিরের শব্দ পেয়ে চোখ তুলে তাকালো। আবির মেঘের রক্ত লাল চোখের দিকে তাকিয়ে উতলা কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল: কি হয়েছে তোর ?কে কি বলেছে? বল আমায়.. কিরে.. কথা বলছিস না কেন?
মেঘ আবিরকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেদে দিল।
আবির তো মেঘের কান্না দেখেই স্তব্ধ হয়ে গেছে। কি হয়েছে তার মেঘের?কেন সে এভাবে কাঁদছে?
আবির বারবার মেঘকে জিজ্ঞাসা করছে ।কি হয়েছে তোর?? বলবি তো.. অসুস্থ লাগছে? ডক্টর ডাকবো? কিরে মেঘ কথা বল..
মেঘ কাঁপা কাঁপা আঙ্গুলে উপন্যাসের বইয়ের দিকে দেখিয়ে দিল।
আবির বইটাকে হাতে নিয়ে উল্টোপাল্টা করে দেখে বলল: বই এ কি হয়েছে ? কোথাও তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না।
মেঘ কাঁপা কাঁপা আধো আধো কণ্ঠে বলল : গল্পের নামটা শুনে ভালো লেগেছিল তাই পড়তেছিলাম । কিন্তু গল্পের নায়ক জয় আমীর মারা গেছে😭😭আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আবির ভাই😭😭
আবির শান্ত দৃষ্টিতে মেঘের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। বলল: তোর মতো বোকা মেয়ে আমি আমার জীবনে একটাও দেখিনি । গল্প পড়ে কেউ এভাবে কাঁদে? তুই তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিস..
গল্পের নায়ক মারা যাওয়ায় তুই এভাবে কাঁদতেছিস। আর যদি আমি মারা যাই, তাহলে কি করবি?
সাথে সাথেই মেঘ হুংকার দিয়ে আবিরের মুখ চেপে ধরল। বলল: কি বলছেন এসব.. আর কখনো এসব বলবেন না.. বলেই মেঘ আবিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
আবির মৃদু হাসলো। আবির ও মেঘ কে জড়িয়ে ধরল। কিছুক্ষণ সময় দুজনেই চুপচাপ থেকে হঠাৎ মেঘ বলল: ছাড়েন আমায়.. আপনার জন্য খাবার কি উপরে নিয়ে আসব নাকি নিচে যাবেন।
আবির: কোনটাই না.. আমি অফিস থেকে লাঞ্চ করে এসেছি।
মেঘ: আজ এত তাড়াতাড়ি ফিরলেন যে? সকালে তোমায় অসুস্থ দেখে গেলাম । তাই মনটা ভালো লাগছিল না। আরো আগেই চলে আসতাম । কিন্তু ক্লায়েন্ট মিটিং টা একটু লেট করে শুরু হয়েছিল। তোমার এখন কেমন লাগছে?
মেঘ: হুম ভালো । যান, ফ্রেশ হয়ে আসেন।
আবির: তানভীর কি রুমে আছে? ওরা ট্রিপে যেতে রেডি তো? তুমি কিছু জানো?
মেঘ : বেবি একটু আগে এসেছিল। বলেছে সব রেডি আছে।
আবির: বেবিকে এইবার ভাবি বলা শিখো। ও তোমার বড় ভাইয়ের বউ হয় এখন।
মেঘ: বলতে তো চাই। কিন্তু মনে থাকে না।
আবির আরেক দফা হাসলো। আবিরের হাসি দেখে মেঘ ও হাসলো। আবির মেঘের কপালে চুমু দিয়ে ফ্রেশ হতে গেল।
মিম বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দুপুরের কড়া রোদের দিকে তাকিয়ে আছে। সে আজকাল একা একাই হাসে। এই যে এখন সকালের কিছু স্মৃতি মনে করে একা একাই হাসছে।
সকালে মাহমুদা খান তার ফ্যামিলি নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে গেছে। যাওয়ার সময় আরিফ মীমের সামনা-সামনি পড়তেই, সবার অগোচরে মীমকে চোখ মেরে ফিসফিসিয়ে বলল :”মামাতো বোন আমার, আবার দেখা হবে”
মিম হতবিহল চোখে আরিফের যাওয়ার পানে তাকিয়ে ছিল। আজকাল আরিফকে দেখলে মুখে কোন কথাই আসে না তার। সম্পর্কটা প্রথমের মতো থাকলে হয়তো এখন মিম কয়েকটা কটু কথা শুনিয়ে দিত।
আরিফ যাওয়ার পরে মিম অনেকক্ষণ দরজা বন্ধ করে নিজের রুমের ফ্লোরে বসে ছিল। বাড়িতে তার নিজের লোকেরা সবাই আছে । তাও আজ কেন জানি বুকের ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মনে হচ্ছে, কি যেন নেই.. কেউ যেন নেই..
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ১৪+১৫+১৬
এখন মিম ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দুপুরের রোদের দিকে তাকিয়ে ভাবছে; যদি সে এখন দেখতো, আরিফ খান বাড়ি গেট দিয়ে ডুকছে! এসে তাকে বলছে; মিম.. তোমার জন্য মনটা ছটফট করছিল। তাই চলে এসেছি।
মীম হাসলো। আর মনে মনে বলল: কি বোকা বোকা চিন্তা-ভাবনা হয়েছে তোর মিম।
তানভীর: বন্যা.. এই বন্যা.. তোমার কি এখনো দুপুরে রেস্ট নেওয়া হয়নি।বেলা চারটা বাজে। পাঁচটায় ট্রেন। আমাদের রেডি হতে হবে তো।
বন্যা: আরেকটু ঘুমাতে দেন প্লিজ। রাতে ঘুম হয়নি কাল।
