আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৪
সুরভী আক্তার
মাঝে আরো একটা দিন কেটেছে ।
ইদানিং ঘরে বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে শাফাহ্ । মেঘার তো খেয়ালই নেই কোনো দিকে । সারাটা দিন ঝিমিয়ে বসে থাকে । ঘরবন্দি করে নিয়েছে নিজেকে । আগ বাড়িয়ে প্রয়োজন ব্যাতীত শাফাহ্’র সাথেও কথা বলে না । যবে শাফাহ্ কথা বলে , তবেই উত্তর করে কেবল । সকাল থেকে আদ্রের পিছু পিছু ঘ্যান ঘ্যান করে ঘুরে বেরিয়েছে চঞ্চলা রমনী । বাইরে যাওয়া হয় না , আলাদা করে ঘুরতেও যাওয়া হয় না কতদিন । শুভ্র অফিসের কাজে ব্যাস্ত । শাফাহ্ ওকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলো গতকাল রাতে । বোনের আবদার রাখতে সময় বের করতে চেয়েছিলো শুভ্র । কিন্তু সকাল সকাল ফেঁসে গেছে আরেক কাজে ।
অফিসে আটকে পড়েছে । ফোন করে বলেছে , আদ্র নিয়ে যাবে ঘুরতে । কিন্তু আদ্রের পাত্তা নেই । কোনো খেয়ালই নেই । শাফাহ্ সকাল থেকে ঘুরঘুর করে বারবার মনে করাচ্ছে ওকে । বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার কথা । কিন্তু আদ্র কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাচ্ছে না । একবারও মুখ ফুটে বলে নি , ঘুরতে নিয়ে যাবে কি না । বেচারি শাফাহ্ কেবলই হয়রান ।
এখন দুপুর । হাড়কাঁপানো শীতে সদ্য শাওয়ার নিয়ে চুল মুছতে মুছতে নিচে নামলো রমনী । মুখ ভোঁতা করে ঠোঁট উল্টে রেখেছে । থুতনি কাঁপছে ঠকঠক করে । আদ্র ড্রইং রুমের সোফায় বসে । একলা একলা ফোন ঘাটছিলো । খুব মনযোগ ফোনেই । শাফাহ্ ওকে দেখেই চিকচিক করে উঠলো । ঝিম ধরা ভাবমূর্তি ছেড়ে এক লাফে তেড়ে গেলো । একই প্রশ্ন করলো পূণরায়….
” ভাইয়া , ঘুরতে নিয়ে যাবে কখন ? দুপুর হয়ে গেলো ! খেয়ে দেয়ে বেরোবে ? নাকি বিকেলে ?
আদ্র ফোন থেকে দৃষ্টি সরালো । রাশভারী গলায় বললো….
” কোথায় যাবি ?
” যেখানে খুশি !
” না গেলে হয় না ? মুড নেই বাইরে যাওয়ার !
” নাআআ , যাবো ।
” জেদ করবি না টুকটুকি ,, আমার ভালো লাগছে না । যা এখান থেকে…
” নাআআ , ঘুরতে যাবো আমি । ভাইয়া বলেছে তুমি নিয়ে যাবে । বসেই তো আছো ,, ফোনে কি রাজ কার্য করছো শুনি ? মুড নেই কেনো ? আমি যখন বলেছি আজ বাইরে যাবো ,, তখন আমি যাবোই…
শাফাহ্ জেদ ধরে স্বভাব সুলভ । আদ্র রাগলো এবার । একেই মেজাজ চড়ে আছে । রেগে মেগে কিছু বলার আগেই শাহিনা কাবিরের কন্ঠ শোনা গেলো…..
” কি হয়েছে ? কোথায় যাবি ?
” দেখো না আম্মু , ভাইয়া বলেছে আদ্র ভাইয়া আমাদের ঘুরতে নিয়ে যাবে । কিন্তু দেখো , এইই আদ্র ভাইয়ার বাচ্চাাাা পাল্টি খাচ্ছে এখন ।
আদ্র মাঝখানে জবান খোলে….
” একদম ওর কথা শুনবে না মনি । মাথায় তুলবে না এই মেয়েকে । যখন যা চায় তাই পেয়ে পেয়ে মাথায় উঠে গেছে ও । পড়াশোনায় ডাব্বা । সেমিস্টারে কোনো রকমে পাশ করেছে । পড়াশোনায় মনযোগ নেই , আর ঘুরতে যাবি তুই ? যে বইগুলো দিয়েছিলাম , ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সেসব পড় গিয়ে । আর একবার যদি ঘুরতে যাবো ঘুরতে যাবো বলে ডিস্টার্ব করিস , তাহলে মার খাবি বলে রাখলাম । যা এখান থেকে….
পরপর কতগুলো কথা শুনিয়ে দিলো আদ্র । রমনী চোখ ছলছল করে চায় । ঠোঁট মুখ ফুলিয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে তাকায় । হাতের টাওয়েল টা খামচে ধরে নাক টানে । অমনি ধ্যানে ফেরে আদ্র । রাগি চাহনি ঢেকে স্বাভাবিক হয়ে তাকায় ।
টুকটুকি ঝট করে উঠে দাঁড়ালো । বিনা বাক্যে এলোমেলো পায়ে ছুটলো উপরের দিকে । কারোর চড়া ধমক খাওয়ার অভ্যাস নেই রমনীর । সে বড্ড কোমল ।
আদ্র ওকে ওভাবে ছুটে যেতে দেখে ভিড়মি খেয়ে পিছু ডাকলো….
” টুকটুকির বাচ্চাাাাা ,, কোথায় যাচ্ছিস ? এই শোন…
আচ্ছা ঘুরতে নিয়ে যাবো, আয় । কোথায় ঘুরতে যাবি বল ? এইই টুকটুকি…
মেয়েটা আর শুনলো না । ধুপধাপ পা ফেলে উঠে গেলো । আদ্র হাঁফ ছেড়ে শাহিনা কাবিরের দিকে তাকিয়ে বলে….
” দেখেছো মনি , ওকে কি এমন বললাম আমি ?
যাও তো , শুনে এসো গিয়ে । রেডি হতে বলো , লাঞ্চের পর বেরোবো ওদের নিয়ে । মেঘ আর মেহের কেও রেডি হতে বলবে….
শাহিনা কাবির শেষের সম্বোধন টা ধরে কড়া গলায় বললেন….
” মেহেরের নাম ধরে ডাকছিস কেনো ? ও তোর ভাবি হয় । ভুলে যাস ?
” ওওও মনি ,, আর বলবো না । যাও , ওদের রেডি হতে বলো । তোমার অভিমানী মেয়েকে এবার ম্যাচিউরিটি শেখাও একটু । বাচ্চাদের মতো ছোট বড় সব কথায় গাল ফোলানো অভ্যাস হয়ে গেছে ওর ।
শাহিনা কাবির আর কোনো প্রত্যুত্তর না করে উপরে উঠে গেলেন ।
লাঞ্চ শেষ হতে না হতেই শাফাহ্ পুরো তৈরি ।
যেমন অভিমান করেছিলো , তেমন অভিমান ঘুচতেও সময় লাগে নি এক বিন্দু ।
মেঘা প্রথমে যাবে না বলেছিলো । পরে আদ্রের কথা রাখতে তৈরি হয়ে নিয়েছে । মেহের ও যাচ্ছে । কোথায় যাবে এখনো ঠিক করা হয় নি ।
সেই তখনই বেরিয়ে গেছে ওরা ।
রৌদ্র ছিলো না বাড়িতে । আজকাল ওর অভ্যাস হয়েছে , রোজ সন্ধ্যায় এক বার করে বাড়িতে ফেরে সে । তপ্ত রমনীকে সময় করে এক ঝলক না দেখলেই মন উতলা লাগে । ছটফট করে অন্তর ।
রোজকার মতো সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছে আজও । বাড়ি কেমন নিস্তব্ধ আজ । ড্রইং রুম ফাঁকা , অন্য দিন রমনীদের হুটোপাটি পড়ে । রুবিনা কাবির, শাহিনা কাবির টিভির পর্দা খুলে বসেন । তবে আজ কেউ নেই ড্রইং রুমে । রৌদ্র সেভাবে গুরুত্ব দিলো না । গুনগুন করতে করতে উপর পানে মুখ তুলে পা চড়ালো সিঁড়িতে ।
সিঁড়ির মাথায় তোফায়েল কাবিরের সাথে সাক্ষাৎ । নিচে নামছিলেন তিনি । চা প্রয়োজন এ সময় । পিছু পিছু রুবিনা কাবির আছেন । রৌদ্র দুজনকে দেখেও না দেখার ভান করলো । সেভাবেই গুনগুন করতে করতে করিডোর পেরিয়ে নিজের ঘরে ঢুকলো । খানিক বাদ চেঞ্জ করে বেরোলো । উঁকি দিলো রমনীর দোরে । ঘর ফাঁকা । কোথাও কেউ নেই । সন্ধ্যারাত বাড়ছে । এসময় ওদের ছাদে থাকার কথা নয় । দ্বিতীয় বার সিরাতের ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো, সিরাত এই ভরা সন্ধ্যায় ঘুমোচ্ছে রামিশাকে নিয়ে ।
এখানেও না পেয়ে কপাল গুটিয়ে আসে রৌদ্রের । সোজাসুজি নিচে নামতে নামতে ভনীতা হীন উঁচু স্বরে হুংকার ছাড়ে….
” মম , ইভারা কোথায় !
তোফায়েল কাবির কে চা দিয়ে পাশেই বসে ছিলেন রুবিনা কাবির । শাহিনা কাবির বাড়িতে নেই । নরমাল চেকাপের জন্য তৌসিফ কাবিরের পাথে হসপিটালে গেছেন একটু । বাড়ি পুরোপুরি ফাঁকা বলা চলে ।
ছেলের এমন হুটহাট প্রশ্নে এক পলক স্বামীর দিকে তাকালেন ভদ্রমহিলা । নিজেও উত্তর করলেন ভনীতা হীন…
” বাইরে ঘুরতে গেছে ।
” কোথায় ?
” জানি না !
” কার সাথে ?
” আদ্রের সাথে !
ব্যস , চোয়াল খিচে আসলো রৌদ্রের । মুঠিয়ে আসলো দুহাত । দপ করে ক্ষিপ্ততা ঠিকড়ে উঠতে বিলম্ব হলো না । কিড়মিড় করে রাগ উঠলো ।
ঐ ইডিয়ট ওকে এড়িয়ে চলে , আর এখন আদ্রের সাথে ঘুরতে গেছে ? ভাবতেই তড়তড় করে রাগ বাড়লো । হিসহিস করে উঠলো নিজের মাঝেই । আজ আসুক ঐ ইডিয়ট , ওকে শায়েস্তা করেই ছাড়বে । যত চায় রাগারাগী করবে না , ততই রাগ বাড়ায় ঐ মেয়ে । এতো দিন ওর উপেক্ষা পেয়েও নিজেকে সামলে রেখেছিলো , আজ আর সামলাবে না বলে পন করলো ।
সেখানেই সটান দাঁড়িয়ে থাকার মাঝে সদরের কাছ থেকে পুরুষালি বিচলিত স্বর ভেসে আসে….
দড়দড় করে বাড়িতে ঢোকে বাড়ির ছেলে মেয়েরা । আদ্র ভেতরে ঢুকে রুবিনা কাবির কে দেখেই বিচলিত হয়ে বলে…
” আম্মু ,, বরফ নিয়ে এসো তাড়াতাড়ি !
দাঁড়িয়ে চকিতে তাকান রুবিনা কাবির । সাথে তোফায়েল কাবির । আদ্র মেঘার বাম হাতটা ধরে রেখেছে । হন্তদন্ত সে । মেঘার হাত টেনে এনেই সোফায় বসালো নিজ তাগিদে । হাতখানা আকড়ে রেখেই আবার বললো….
” কি হলো আম্মু , দাঁড়িয়ে আছো কেনো ? বরফ নিয়ে এসো ফাস্ট…
” কি হয়েছে ?
” গাড়ির ডোর লক করতে গিয়ে ডোরের ফাঁকে হাত ঢুকে গেছিলো মেঘের । ভীষণ বাজে ভাবে লেগেছে । দেখো , এটুকু সময়েই জখম হয়ে লাল হয়ে গেছে । তাড়াতাড়ি বরফ নিয়ে এসো !
রুবিনা কাবির ছুটলেন বরফ আনতে । রৌদ্র এক মুহুর্ত হতবাক হলেও পরক্ষনে ভড়কায় । রাগান্বিত শক্ত মুখশ্রী মিলিয়ে যায় রমনীর হাতের দিকে দৃষ্টি পড়তেই ।
তালু সহ হাতের পিঠ পুরো মোটা দাগে লালচে হয়ে উঠেছে । লাল আভা ঘুচে কালচে হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে । রমনীর হাতখানা কাপছে তিরতির করে । রৌদ্র ছলকে ওর মুখের দিকে তাকায় । মুখ কুঁচকে জমাট বেঁধে রেখেছে । চোখ নিভু । ব্যাথা স্পষ্ট চোখে মুখে । শ্বাস পড়ছে বেগতিক ।
তেড়ে যায় রৌদ্র । এই যে একটু আগেই পন করলো মেঘার উপর রাগারাগী করবে । সেই পন গুঁড়িয়ে গেলো নিমিষেই । হুড়মুড়িয়ে মেঘার মুখোমুখি মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসলো সে । আদ্রের থেকে ছাড়িয়ে একবিংশীর জখম হাতখানা নিজের কবলে নিলো । হাতখানা ভয়ার্ত চোখে উল্টে পাল্টে দেখতেই অত্যাধিক বিচলিত হয়ে পড়লো বেপরোয়া যুবক….
” ইভারা ,, হাতে কি হয়েছে ? ব্যাথা পেয়েছিস ? ডোর লক করতে গিয়ে ব্যাথা পাস কি করে ?
তোফায়েল কাবির ঝট করে চান বিচলিত ছেলের দিকে । মেঘা ভরা চোখে চায় । তীব্র ব্যাথায় চিনচিন করছে হাতের দুপাশ । গাড়ি থেকে শাফাহ্ আগে নেমেছিলো । মেঘা নামা মাত্রই ভালোভাবে না দেখেই সজোরে ঠাস দরজা লাগাতে গেছিলো শাফাহ্ । মেঘার হাত ফেসে গেছে সেখানেই । অগত্যা ছমছমে ব্যাথায় কুকিয়ে উঠেছিলো মেয়েটা । দাঁত মুখ খিচে তীব্র চিৎকার রুখে নিয়েছিলো গলায় ।
এখন ব্যাথা বাড়ছে । আর ধরে রাখা যাচ্ছে না । কালসিটে হয়ে উঠছে ধবধবে ফর্সা হাতখানা । হাঁসফাঁস বাড়ছে রমনীর । ব্যাথায় কান্না পাচ্ছে । রৌদ্রের দিকে তাকানো মাত্রই কান্না পেলো আরো । ব্যাথাতুর শ্বাস জোড়ালো হলো । আহ্লাদী হয়ে ওষ্ঠ উল্টে আসলো একবিংশীর ।
শাফাহ্ জড়োসড়ো হয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে । আরো গুটিসুটি হয়ে ভুল স্বীকার করে রৌদ্রের প্রশ্নের উত্তর করলো মিনমিনে গলায়….
” মেঘা আমার জন্য ব্যাথা পেয়েছে ভাইয়া ,, আমি ডোর লক করতে গেছিলাম । মেঘা কে দেখতে পাইনি ।
অমনি চড়া ধমকের মুখে পড়লো মেয়েটা…..
” গবেট , দেখে কাজ করতে পারিস না । আমার ইভারার যদি কিছু হয়ে যেতো ?
জান , খুব লেগেছে তাই না ? মম , কোথায় হারালে ? তাড়াতাড়ি আইস নিয়ে এসো….
রৌদ্র কেমন ছটফট করে । বলে বেফাঁস । উতলা হয়ে রমনীর হাতে ফুঁ দেয় মুখ গোল করে । ঝাড়ি খেয়ে পিছিয়ে যায় শাফাহ্ । মেঘা কান্না চেপে ছলছল চোখে দেখছে ওর উদ্বিগ্নতা । বাকিরাও ।
রুবিনা কাবির বরফ নিয়ে আসলেন । আদ্রের হাতে তুলে দিলেন । রৌদ্র ওর থেকে আইস কিউব কেড়ে নেয় এক প্রকার । রমনীর হাত ধরে রেখেই আলগোছে বরফ ছোঁয়ায় জখম স্থানে । ঠান্ডা পেতেই চিনচিন করে ওঠে ব্যাথা । মস্তিষ্কে গিয়ে আঘাত হানে । চোখ বুজে মৃদু স্বরে আহ্ সূচক আর্তনাদ করে রমনী । রৌদ্র কাতর হয়ে আসে । ধীরে বলে….
” ডোন্ট ওয়ারি ,, ব্যাথা কমে যাবে । মম , বাড়িতে যা অয়েনমেন্ট আছে নিয়ে এসো ।
আদ্র খেয়ালি হয়ে আপন ভাইয়ের খেয়াল ক্ষোয়ানো কর্মকাণ্ড দেখছে অপলক । এই বেপরোয়া ছেলেটা এতোটা বিচলিত হলো কবে থেকে ? কারোর প্রতি খেয়ালি হলোই বা কবে ? হুটহাট হাসি দেখা মেলে আদ্রের ঠোঁটে ।
রুবিনা কাবির ফাস্ট এইড এনে রাখলেন সোফার উপর । মেঘা চোখ খোলে । কবেই ব্যাথা সামলাতে না পেরে চোখ থেকে জল গড়িয়েছে । জোর শব্দে কাঁদতেও পারছে না । ফুঁপিয়ে নাক টানলো মেয়েটা । বাঁকা চোখে পরখ করলো , এখানে তোফায়েল কাবির ও উপস্থিত । সটান দাঁড়িয়ে থেকে নীরবে এসব পরখ করছেন তিনি ।
মেঘা ঢোক গেলে রুদ্ধ গলা ভেজায় ।
পিটপিট করে চোখ তোলে । রৌদ্র মলম হাতে তুলে নিতেই জায়গা ফাঁক করে আদ্র উঠে দাঁড়ায় । মেঘা কাঁপা গলায় বলে সহসা..
” ভাইয়া ,, তুমি মলম লাগিয়ে দাও !
আদ্র থামলো । রৌদ্র সেভাবে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে দমন রেখে মোলায়েম কন্ঠে বলল….
” আমি লাগিয়ে দিচ্ছি ।
” হাত ছাড়ুন আমার । ভাইয়া মলম লাগিয়ে দেবে…
” ইভারা ,, রাগাবি না আমায় ! বললাম তো আমি লাগিয়ে দিচ্ছি । ও তোকে ছোঁবে কেনো ?
” আপনি আমায় ছোঁবেন কেনো ? হাত ছাড়ুন , ব্যাথা নেই আমার ।
রৌদ্রের ক্ষুব্ধ স্বরের বিপরীতে মেঘার তেজি স্বর । নিজের হাত টেনে ছাড়িয়ে নিলো সে । কটমট করলো রৌদ্র । রেগে ছিলো , সেই রাগটা ঝালাই হতে সময় লাগলো না । ফের বিগড়ে গেলো শান্ত বিচলিত মুখাবয়ব ।
মলম খানা হাতের মুঠোয় পিষ্ট করলো সে । মেঘা ওর সামনে থেকে সরে বসে । উঠে দাঁড়াতেই আদ্র বলে….
” মেঘ ,,, বস , রুডি মলম লাগিয়ে দেবে । অয়েনমেন্ট দিয়ে ব্যান্ডেজ করতে হবে । ঠান্ডার মৌসুম , ব্যাথা বাড়বে নয়তো ।
” প্রয়োজন নেই ভাইয়া , ব্যাথা করছে না আর ।
মেঘা সরে আসতে চায় । দু কদম বাড়াতেই কনুইতে হেঁচকা টান পড়ে । মাড়ি খিচে রেগে মেগে চিবিয়ে বলে রৌদ্র….
” ইডিয়ট,, বলছি না আমি মলম লাগিয়ে দিচ্ছি । ও তোকে ছুলে ভালো লাগবে ,, আর আমি ছুঁয়ে দিলে ঝলসে যাবি তুই ?
” বাজে কথা বলবেন না ,, হাত ছাড়ুন !
” ইভারা ,,, এবার কিন্তু সত্যি সত্যিই মার খাবি তুই আমার হাতে । জেদ করবি না আমার উপর । অনেক সহ্য করেছি তোর এই জেদ । সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিস তুই….
আর বরদাস্ত করবো না আমি ।
” সে তো আপনিও আমার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন । অসহ্য হয়ে উঠছেন আপনি । মা বাবা আছে এখানে , আমার হাত ছাড়ুন….
মেঘার কথা শেষ হলো কেবল ।
সময় পার হলো না এক মুহুর্ত । সপাটে একটা দাপুটে চড় পড়লো বাম গালে । নরম ত্বক ছলকে উঠলো । মেয়েটা ছিটকে পড়তে নিলো টাল হারিয়ে । তবে পড়লো না । ওকে টেনে ধরলো রৌদ্র । পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেতে দিলো না ঠিকি । কিন্তু দ্বিতীয় আঘাতে আবারো ব্যাথা দিলো । ফের একটা শক্ত চড় বসালো রমনীর ডান গালে । পরপর দুটো থাপ্পরে মেয়েটার কান মাথা ঝমঝমিয়ে ওঠে । চড়কে ওঠে মস্তিষ্ক । চক্কর দিয়ে ওঠে দূর্বল মাথাটা । হাটু গুঁড়িয়ে লুটিয়ে পড়তে চায় রমনীর পাতলা দেহ খানা । তবে পড়ে না । বরং দু ফোঁটা অশ্রু বিন্দু চোখ ছাপিয়ে গলে পড়ে মেঝেতে । জ্ঞান ক্ষোয়াতে বসে একবিংশী ।
মুহুর্তেই যেনো চমকে উঠলো উপস্থিত সবাই । ঝটকা মেরে বড় বড় চোখে চাইলো । তৎক্ষণাৎ ভড়কে উচ্চারণ করলেন রুবিনা কাবির….
” রৌদ্র , কি করছিস ?
রৌদ্রের কানে পৌঁছালো না । বিভৎস রেগে আছে সে । চোখ মুখ রাগে তামাটে । আসলেই সহ্য সীমা অতিক্রম হয়েছে তার । রেগে ছিলো , এখন আরো রাগ বাড়লো অসময়ে এই মেয়ের জেদে । ও ছুলে খারাপ লাগে ? এড়িয়ে চলে কেনো ওকে ?
মেঘা টাল সামলে নিভু নিভু চোখে তাকায় । গাল বেয়ে অঝোরে পানি ঝড়ে । রৌদ্র ওর বাহু চেপে রেখেছে । কেউ কিছু বলার আগেই দুই বাহুই খামচে ধরলো । নিজের দিকে হিচড়ে টেনে নিলো রমনীর কোমলাঙ্গ । হিসহিসিয়ে উঠলো….
” ইডিয়ট ,, ছাড়বো না তোকে আমি । যদি ছাড়ার কথা দ্বিতীয় বার বলিস তো জানে মেরে ফেলবো । আমিই ছোঁবো তোকে । আর কেউ নয় ।
আদ্র ধ্যানে ফিরে গলা উঁচায় এবার…
তপ্ত স্বরে বলে দাঁত চেপে..
” রুডি ,,, মারলি কেন ওকে তুই !
রৌদ্র মেঘার এক হাত ছাড়ে । পাশ ফিরে আদ্রের দিকে তাকিয়ে আঙ্গুল তুলে গমগমে স্বরে কন্ঠ চিপে বলে…..
” শাট আপ ,, আমাদের মাঝে আসবি না তুই । খবরদার না । তোর কোনো অধিকার নেই আমাদের মাঝে আসার । আর না আমার ইভারা কে ছোঁয়ার অধিকার আছে তোর ।
” তোমার ও কোনো অধিকার নেই মেঘা কে মারার ? কোন হিম্মতে আমাদের সামনে আবার ওর গায়ে তুলেছো তুমি ?
তোফায়েল কাবিরের শক্ত কন্ঠ ।
রৌদ্র কিছু বলার আগেই হাত ফসকে রমনী লুটিয়ে পড়ে । শরীর ভেঙ্গে মেঝেতে বসে পড়ে মেয়েটা । মাথা এখনো ঝিমঝিম করছে । বিভৎস জ্বলছে গাল দুটো ।
রৌদ্র ধক্ করে ওঠে । নিজেও হাঁটু ভেঙ্গে বসে রমনীর সামনে । লক্ষ্য করে এতক্ষনে , তার ইভারা ঠিক নেই । চোখ নেভানো । ভেজা চোখ মুখ । দুই গাল রক্তিম । পাঁচ পাঁচ করে দশ আঙুলের ছাপ ফুটে উঠেছে ফর্সা ত্বকে । মেয়েটা চোখ খুলতে পারছে না । রৌদ্র ছ্যাঁত করে ওঠে ওর এরূপ হাল দেখে । রাগের ঘোর কাটে তার । মুহুর্তেই দুহাতে আগলে নেয় রমনীকে….
আলতো করে গালে হাত উঠিয়ে ধড়ফড় করে বলে….
” ইভারা ,, আর ইউ ওকে ?
” মেঘ ঠিক আছিস তুই ?
আদ্র ওকে ধরতে গেলে রৌদ্র বাড়ানো হাত ছিটকে সরিয়ে দেয় ।
” বলেছি না ছুঁবি না ওকে ।
ওকে ছোঁয়ার জন্য আমি আছি । ভুলেও স্পর্ধা দেখাস না ।
মেঘার ফিকড়ে ওঠার শব্দ শোনা যায় । ঠোঁট কামড়ে কেঁদে ওঠে রমনী । হাতের ব্যাথার সাথে সাথে দু গালের জ্বলন । ডুকরে কাঁদে মেয়েটা । নিজেকে সামলে উঠে বসে । রৌদ্রের হাত সরিয়ে দেয় নিজের থেকে ! আদ্রের দিকে ফিরে ফিকড়ে ফিকড়ে নালিশ করে….
” আমি তোমার ভাইকে ঘৃণা করি ভাইয়া…
ভীষণ ঘৃণা করি । আমি ক্ষমা করবো না ওনাকে ।
উঠে দাঁড়ায় কোনো রকমে ।
পেছাতে পেছাতে চোখ মোছে হাতের উল্টো পিঠে । আবারো বলে ক্রন্দনরত কন্ঠে….
” আমি এখানে আর থাকবো না বাবা । একদিন ও থাকবো না । চলে যাবো আমি । তোমাদের ছেলেকে আমি ক্ষমা করবো না । কোনো দিন না…
রমনী ধড়ফড়িয়ে এলোমেলো পায়ে ছুটে যায় । টলতে টলতে হুবড়ি খায় কয়েকবার ।
রৌদ্র থমকেছে । রাগ উঠলে বেঘোরে তলায় সে । কি করলো এটা ? পরপর দুটো থাপ্পর মারলো ইভারা কে ? হুঁশ ফিরে পায় বেপরোয়া যুবক । ঘাড় ডলে ।
উঠে দাঁড়ায় কোনো রকমে । অস্ফুটে বিড়বিড়িয়ে মেয়েটার নাম উচ্চারণ করে পিছু পিছু ছুটে যায় ।
চোয়াল শক্ত তোফায়েল কাবিরের ।
রাগে গজগজ করলেন এসব দেখে । রুবিনা কাবির কে একপলক দেখলেন । আর পারা যাচ্ছে না । আর কটা দিন , এই দিন গুলো স্বাভাবিক যাবে না আর । তপ্ত স্বরে হুংকার ছাড়লেন তিনি…
” অনেক হয়েছে । আর না ,,
আদ্র , মেঘাকে বাকি দিন গুলোর জন্য এ বাড়ি থেকে সরানোর ব্যবস্থা করো । তোমার ঐ বেপরোয়া ভাইয়ের থেকে আগলে রাখো ওকে । দূরে সরিয়ে রাখো । আর হ্যাঁ , যদি ভুলেও তুমি এবার আমার কথার হেরফের করেছো , তাহলে ভালো হবে না বলে রাখলাম ।
মেঘা ঘরের দরজা ঠাস করে চাপিয়ে দিলো । দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো । ধীরে ধীরে একপাশ হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লো মেঝেতে । হাতের ব্যাথার জায়গাটা চেপে ধরলো অন্যহাতে । লাগুক ব্যাথা । আরো বেশি লাগুক । আজ ও ব্যাথায় কাঁদবে । শব্দ করে ডুকরে কাঁদবে । আর সামলাবে না নিজেকে ।
রৌদ্র ছুটে এসেছে । চাপানো দরজা ঠেলে খুললো সে । রমনী ফোঁপানি শুনে দরজার পাশে দেয়ালের দিকে তাকায় । হাঁটু জড়িয়ে মুখ নামিয়ে ফিকড়ে ফিকড়ে কাঁদছে মেয়েটা । হেঁচকি উঠে গেছে । রৌদ্র ওর সামনে বসে ,, রমনীর কান্নারত ভেজা মুখ খানা আগলে ধরে বাধা দেওয়ার আগে । ধরে আসা কন্ঠে বলে গালে হাত রেখে….
” ইভারা….এই ইডিয়ট , ব্যাথা পেয়েছিস ? ইভারা , লুক এ্যাট মি…
রমনীর কান্নার বেগ বাড়ে । ছটফটিয়ে ওঠে বেপরোয়া যুবক । এক হাতের আজলে রমনীর মুখখানা আগলে
নিয়ে চিবুক উঁচিয়ে ধরে ,, অন্যহাতে কানের লতিত চেপে ধরে অপরাধী স্বরে বলে….
” লেগেছে খুব ? আ’ম সরি সানি ! এই দেখ কানে ধরছি , আর মারবো না কখনো । ডোন্ট ক্রাই প্লিজ । এভাবে কেনো রাগাস আমায় ? ইউ নো , তোকে কারোর সাথে সহ্য হয় না আমার ! তাহলে কেনো আমার সহ্যের সীমা অতিক্রম করিস তুই ? তোর অবাধ্যতায় তোকে ব্যাথা দিতে গিয়ে হাজার গুণ বেশি ব্যাথা পায় এই বেপরোয়া হৃদয় । পুড়ে ছাই হয় । তা কি বুঝিস না তুই ?
মেঘা নিশ্চুপ । কেবলই কান্নার শব্দ গলা চিরে বেরোচ্ছে । রৌদ্র
” এইই ইভারা…
কানে ধরলাম তো । সরি জান ,, আর মারবো না । কেঁদো না প্লিজ । সত্যিই বলছি , আর কক্ষনো মারবো না । ফুলের স্পর্শেও আঘাত করবো না কখনো । শুধু ভালোবাসবো । প্লিজ চুপ করে যাও এবারের মতো । তুই তুকারিও করবো না আর । তুমি বলবো সবসময় । প্লিজ কান্না থামাও ,,,
মেঘা তেতে ওঠে আলগা শান্তনায় । লোকটাকে ঠেলে ফেলে….
” ডোন্ট টাচ মি রাইনো মুখো । ঐ হাতে স্পর্শ করবেন না আমায় । যে হাত আমাকে আঘাত করতে দ্বিধা করে না , সে হাতের স্পর্শ চাই না আমি । আমি আপনাকে ঘৃণা করি শুধু । ঘৃণা করি আপনার স্পর্শ । দূরে যান আমার থেকে । আই হেইট ইউ রুডভিক কাবির রৌদ্র ।
রৌদ্র নীরবে শ্বাস ফেলে । অসহ্য যন্ত্রণা হয় ভেতরে । চিরে যায় বুক । মেঘার চোখের পানি সহ্য হয় না তার । আরো বেশি সহ্য হয় না , কারন এই পানি তার আঘাতে ঝরেছে । নিজের উপর চরম ক্ষুব্ধতায় মাড়ি খিচে আসে তার । মেঘা হাঁটুতে মাথা নামিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয় । কাঁদে ফিকড়ে ফিকড়ে । হেঁচকি ওঠে ক্ষণে ক্ষণে । রৌদ্র ওর হাতের দিকে তাকালো । জমে কালসিটে হয়ে গেছে রমনীর হাত । এখানেই ব্যাথা পেয়েছে সে । অথচ রৌদ্র ওর ব্যাথা না কমিয়ে উল্টো আরো বেশি বাড়িয়ে দিলো । কতটা ব্যাথা পেয়েছে কে জানে ? জানা প্রয়োজন ।
রৌদ্র উঠে দাঁড়ায় । ডান হাতে ও মেঘা কে থাপ্পর মেরেছে । এই হাতের শাস্তি পাওনা আছে । দু কপাটের দরজার মাঝ বরাবর নিজের হাত রাখলো সে । অতঃপর বিভ্রান্তের ন্যায় পাগল হয়ে কপাট দ্বয় একটার সাথে ঠেসে ধরলো আরেকটা । মাঝে চাপা পড়ে পৃষ্ঠ্য হলো যুবকের হাতের তালু । দাঁতে দাঁত চেপে ধরে রৌদ্র । মেঘার দিকে দৃষ্টি রেখেই শক্তি খাটিয়ে দরজা ঠেলে ধরে আরো বেশি । অধীক চাপের এক পর্যায়ে চামড়া কেটে ফিনকি বেয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে । তবুও ব্যাথা অনুভব হয় না রৌদ্রের । এর থেকেও বুকের ব্যাথা টা আরো বেশি ।
দরজার মধ্য থেকে হাত সরায় সে । তাকায় হাতের দিকে । পরক্ষনে মেঘার দিকে । রমনীর উপেক্ষা দেখে করুন স্বরে বলে….
” ইভারা ,, তোকে এই হাতে মেরেছি আমি ? অক্ষত রাখবো না এই হাত । দ্বিতীয় বার যেনো এই হাতের সাহস না হয় তোর শরীরে উদ্যত হওয়ার ।
বলেই এলোপাথাড়ি পাঞ্চ করতে লাগলো দেয়ালে ।
গুমোট শব্দে আকস্মিক চমকায় রমনী । কান্না থামিয়ে ঝট করে তাকায় । ঝাপসা চোখের সামনে রৌদ্রের এমন পাগলাটে উদ্ভট কর্মকাণ্ড দেখে আঁতকে ওঠে । আরো বেশি আঁতকে ওঠে রক্ত দেখে । কলজে ছ্যাঁত করে ওঠে । এক পলকেই দৃষ্টি সরিয়ে চোখে মুখ খিচে নেয় রমনী । পুরো শরীর থরথর করে কেঁপে গুলিয়ে আসে । এই লাল তরল সহ্য করতে পারে না সে । রক্তে মারাত্মক ফোবিয়া আছে । রৌদ্রের হাত রক্তে রঞ্জিত । মেঝেতে টুপটাপ বেহিসেবি কতশত রক্তের ফোঁটা । এক পলকে এটুকু দেখা মাত্রই মাথা চিরে যায় একবিংশীর । চারদিকে আঁধার নামে ।
দু’হাতে কান চেপে ধরে চেঁচায়….
” ভাইয়াআআ….
চেঁচানো সম্বোধনে থামে রৌদ্র । ফের টাটিয়ে ওঠে । দম ফেলে । রমনীর উপর রাগ না চড়িয়ে বিড়বিড় করে…..
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৩
” আবার ভাইয়া ?
রাগ বাড়ে পূণরায় । সংযত করতে দাঁতে দাঁত চেপে ফের সজোরে একটা পাঞ্চ করে শক্ত দেয়ালে । হাত থেতলে গলগলিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে । আঙ্গুলের গোড়ার হাড় ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় বোধহয় ।
চোখ থেকে যেনো রক্ত ঝরবে । রাগে রাগান্বিত অবস্থায় কিড়মিড় করে । আর ফিরে চায় না রমনীর পানে । হিসহিসিয়ে বেরিয়ে যায় রুম থেকে । রমনী টের পায় না তার প্রস্থান ।
কান চেপে রেখেই বিড়বিড় করে ভয়ে ভয়ে…
” রৌদ্র ,, রৌদ্র আ…আমি ব্লাড ভয় পাই । প…প্লিজ রক্ত ঝরাবেন না । এসব দূরে সরান আমার থেকে । নয়তো মরে যাবো আমি ।
