আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৭
সুরভী আক্তার
মেঘা তাকালো আড়চোখে । রৌদ্র গিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসে মেঘার পাশে । আদর মাখানো আবদারি সুরে বলে….
” ক্ষিদে পেয়েছে জান ,, একটু খাইয়ে দে ।
থেমে বলে….
” হাত কেটে গেছে । একলা খাবো কি করে ? কাল আসার আগে আম্মু খাইয়ে দিয়েছে । আজ সারাদিন খাইনি এখনো । ভুলভাল গিলেছি । পেট খারাপ । খালি আছে । না খেলে বমি আসবে । খাইয়ে দে ।
মেঘা আড়চোখে সারার বাবার দিকে তাকায় । অস্বস্তি লাগে তার সামনে । রেহানা শিকদার বসতে বসতে বলেন…
” সারাদিনে খোঁজ মেলে না । এখন আসতে গেলি কেনো ? তোর বাপকে বলিনি এখনো ।
” বললেও ভয় পাই আমি ! আর এসেছি আমার বউয়ের কাছে । তুমি কথা বলছো কেনো ,, চুপচাপ বসে খাও ।
” বাড়িটা আমার, ভুলে যাস না । বউকে নিয়ে আমার বাড়িতেই বসে আছিস । বউয়ের কথা রাত হলেই মনে পড়ে !
” তবুও তো পড়ে । কিন্তু কি বলতো , ব্যাড লাক ! তোমার মেয়ের জামাই তোমার মেয়েকে দিনেও মনে করে না ,, আর রাতেও মনে করে না । উফফফ খালামনি,, কি জামাই জুটেছে তোমার মেয়ের কপালে ।
কি রে নাগিন , কি অবস্থা ? ভালো তো ? বাপের বাড়িতে পড়ে আছিস । মদনা জামাই খোঁজ নেয় না কতদিন ?
রৌদ্রের ভ্যাঙানো স্বর ইভার দিকে । ইভা ফোঁস করে ওঠে ।
” দেখো রৌদ্র ভাইয়া ,, আমার হাসবেন্ড সরকারি চাকরি করে ! অনেক ব্যস্ত থাকে । তোমার মতো লাফাঙা,নেশাখোর নয় । বাজে কথা বলবে না ওনাকে নিয়ে ।
রৌদ্র হাত মুঠিয়ে কিড়মিড় করে উত্তর করলো….
” নাগিনের ঘরের নাগিন ,,, তোর ঐ ঊনসত্তর বছরের বুইড়া ব্যাটা কে নিয়ে বাজে কথা বলার রুচি নেই আমার । আর নেশাখোর কারে বলিস ,, আমার নেশা শুধু আমার ইভারার উপর । ওর নেশায় নেশাগ্রস্ত আমি । বুঝলি ?
” ঊনসত্তর নয় ,, ঊনচল্লিশ ।
” ঐ একই হলো । ইউ নো , আ’ম টুয়েন্টি এইট । আমার সুইটহার্ট জিতে গেছে । তাই না সুইটহার্ট ?
মেঘা দাঁত পিষে খাবার গেলে কোনো রকমে । রি রি গাঁ জ্বলে ওঠে ওদের দুজনের কথাবার্তায় ।
সারার বাবা গলা ঝাড়েন । ইভার প্রসঙ্গ ঘাঁটা যাবে না বেশি । রৌদ্র চড়ে গেলে সামলানো মুশকিল । বিয়ে থেকে পালিয়েছিলো ঐ মেয়ে , ভোলেনি রৌদ্র । তিনি বলেন…
” বাবা , উপরে দাও তুমি । আমাদের খাওয়া শেষ । একা খাবে এখানে ? সারা তোমার খাবার উপরে নিয়ে যাবে । তুমি যাও ।
” সারা কেনো ? আমার বউ আছে কি জন্য ? যাচ্ছি উপরে । খালা মনি , আমার বউকে দিয়ে খাবার পাঠাও আমার জন্য । আর হ্যাঁ ,, করলা আছে বাড়িতে ? পারলে একগ্লাস ঝাল ঝাল করলার জুস দিও । আমার ফেভারিট ডিস চেখে দেখার ক্রেভিং হচ্ছে ।
এই বলে ঠোঁট বাঁকিয়ে প্রস্থান করলো রৌদ্র ।
ও যেতেই রাগে হিসহিস করে ইভা । সামনে বড় মুখ করলেও আরালে আবডালে রৌদ্রের সাথে মেঘা কে সহ্য হচ্ছে না । গা জ্বলে যাচ্ছে হিংসায় । পাঁচ বছর আগে বিরাট ভুল করেছিলো বিয়ে থেকে পালিয়ে । যার খেসারত দিয়ে যাচ্ছে এখনো ।
এ বাড়ির সবাই দিয়ে যাচ্ছে । ইভা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে যাকে , সে কমপক্ষে ওর থেকে পনেরো বছরের বড় । সাধারণ একটা সরকারি চাকরি করে । ফেসবুকে পরিচয় দুজনার । তাও বিয়ের পাঁচ দিন আগে পরিচয় হয়েছিলো । ইভা বড্ড অর্থগৃধ্নু স্বভাবের । ভুজুং ভাজুং বুঝে রৌদ্র কে ছেড়ে আগপিছ না ভেবেই পালিয়েছিলো তাই । আর ওকে পালাতে সাহায্য করেছে সারা । এটা রৌদ্র আর সারা ব্যাতীত কেউ জানে না আজ অবধি । পালানোর পর নিজের একটা দুর্বিষহ জীবন উপহার পেয়েছে ঐ মেয়ে । যে জীবন নিয়ে আফসোস এখন ।
শিকদার বাড়িতেই থাকে ও । ওর হাসবেন্ড খোঁজ নেয় না সেভাবে । এর মধ্যেই জাবিরের জন্ম । তাই , গত বছর দুয়েক থেকে ডিভোর্স টা আটকে আছে । ডিভোর্স হবে ওদের ।
রৌদ্র তখনো সুদর্শন ছিলো । আর এখন দশগুণ সুদর্শন । মাত্রাতিরিক্ত সৌন্দর্য বেড়েছে যুবকের । লোভ লাগে তা দেখে । কয়লা খুঁজতে গিয়ে সোনা হারিয়েছে এই লোলুপ স্বভাবের জন্য । এ বাড়ির সবাই বিভ্রান্ত ইভার উপর ।
মেঘার খাওয়া শেষ । রেহানা শিকদার রৌদ্রের জন্যে খাবার বাড়ছেন প্লেটে । সারা আর মেঘা উঠে দাঁড়াতেই রাগে খ্যাট খ্যাট করে উঠলো ইভা….
” ঢং দেখলে বাঁচি না । স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নেই । ডিভোর্স হবে দুদিন পর । আর এখন চলছে এই নোংরামি । তাও আবার অন্যের বাড়িতে এসে । কি দরকার ছিলো এ বাড়িতে এসে এসব নোংরামি করার ?
রেহানা শিকদার রেগে ধমকালেন মেয়েকে….
” ইভা ,, কি হচ্ছে টা কি ? মুখের ভাষা ঠিক কর !
” আমি ঠিক করেই বলছি আম্মু । ও তো চলে যাবে কদিন পর । ডিভোর্স দেবে । তাই রৌদ্র ভাইয়ার বাবা ওকে এখানে দূরে সরিয়ে রেখে গেছেন । কিন্তু কি লাভ হলো ? ডিভোর্সের আগ অবধি সেইতো ফষ্টিনষ্টি করেই চলেছে । আর এসবের জন্য আমাদের বাড়িটাই খুঁজে পেলো ? যত্তসব নোংরা মেয়ে…..
মেঘা নাক ফুলিয়ে তাকায় । সারা চড়া গলায় বলে….
” আপু । খবরদার । মেঘা কে নিয়ে একটা খারাপ কথাও মেনে নেবো না আমি । মেঘা রৌদ্র ভাইয়ার বউ হওয়ার আগে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড । আর আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়েই এ বাড়িতে এসেছে ও ।
” এই করে করে তো মাথায় তুলেছিস ওকে । সেই ছোটবেলা থেকে সহ্য করছি এই মেয়েকে । চাল চুলো নেই । জোর পূর্বক ঘটে যাওয়া একটা বিয়েকে খুঁটি করে পাঁচ বছর আরাম আয়েশে কাটিয়েছে । এখন চলে যাওয়ার আগে আবার আমাদের ঘাড়ে এসে জুড়ে বসেছে ।
” ইভা ,, মুখ সামলে কথা বলো । মেঘা কোনো দিন কোনো অংশে তোমার থেকে কম ছিলো না আমাদের কাছে । ভুলে যেও না এটা । চাল চুলো নেই কার শুনি ? তুমি যে বাড়িতে দাঁড়িয়ে আছো , সে বাড়িটা দিনে শতবার কেনার ক্ষমতা রাখে মেঘা । সেটা কাবির পরিবারের বউ হিসেবেই হোক , বা ইয়াশের অধিকারে থেকেই হোক ।
তাই মুখ খোলার আগে ভেবেচিন্তে মুখ খুলবে । মেঘার এই বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী তুমি । তোমার বিভ্রান্তিকর কর্মকান্ডের কথা ভুলে যেও না ।
সারার বাবার দাম্ভিক কন্ঠ । ইভা তেঁতে ওঠে….
” আব্বু ,, এই মেয়েটার জন্য তুমি আমাকে কথা শোনাচ্ছো ?
” শোনাচ্ছি । যেচে পড়ে কথা শুনতে আসছো কেনো তুমি ?
রেহানা শিকদার উঠে দাঁড়ান ।
” মেঘা ,, রৌদ্রের খাবার নিয়ে ঘরে যা তুই । কারোর কথায় কান দিতে হবে না তোকে ।
ট্রেতে খাবার সাজিয়ে দিলেন তিনি । মেঘা মাথা নামিয়ে রেখেছে । চোখ ছলছল অপমান বোধে ।
সারা আগ বাড়িয়ে বললো ……
” আমাকে দাও আম্মু । আমি পৌঁছে দিচ্ছি । মেঘা দুহাতে ধরতে পারবে না ।
ওর কথা শেষ হতেই মেঘা বড় বড় ধাপে প্রস্থান করলো ।
ঘরে রৌদ্র,, সোফায় বসে হাতের ব্যান্ডেজ খুলছে । বড্ড বিড়ম্বনায় ফেলছে এটা । হাতটা অচল হয়ে আছে পুরো । কিঞ্চিত ব্যাথায় মুখ কুঁচকানো ওর । তীক্ষ্ণাকারে জড়ো হয়েছে অক্ষি লতা ।
মেঘা ঘরে ঢোকে । খট করে দরজার শব্দে চোখ তুলে চায় রৌদ্র । ব্যাথা ঠেলে হাসে এক ফালি । ওষ্ঠ প্রসারিত করে উৎসুক হয়ে বলে….
” অপেক্ষা করছিলাম সানি,, আমার খাবার কোথায় ?
মেঘা নাক ফুলিয়ে কাঁদো হয়ে তাকালো ।
এই লোকের প্রতি রাগ অভিমান ঘুঁচে গেছিলো । সকাল থেকে না করে হলেও হাজারের অধিক মেসেজ এসেছে মেঘার ফোনে । সবখানে এক বাক্য । কতবার যে ক্ষমা চেয়েছে হিসেব নেই । পুরো ঘর জুড়ে এখানে ওখানে শতাধিক চিরকুট খুঁজে পেয়েছে মেঘা । যেখানেই চোখ হাত পড়েছে , সেখান থেকেই একটা করে চিরকুট পেয়েছে । সব গুলোতে লেখা… Sorry Sweetheart । লেখা খারাপ ,, বাম হাতে লিখেছিলো বোধহয় ।
ক্ষণে ক্ষণে বার্তা পেয়ে হেসেছে মেঘা । ভুলতে বসেছিলো সব । কিন্তু এখন ইভার শোনানো চড়া চড়া কথা গুলোতে মেজাজ বিগড়ে গেছে । লোকটার উপর চরম রাগ উঠলো । পেছনে সারা এসে হাজির । মেঘা মাথা নামিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকলো । রৌদ্র হা বনে তাকিয়ে থেকে বলে ওঠে…
” ওর কি হলো ?
” তেমন কিছু না, ভাইয়া ! এই যে তোমার খাবার !
সারা চেপে গেলো সবটা । টেবিলের উপর খাবারের ট্রে রাখলো । কথা ঘুরিয়ে বললো….
” দেশে ফিরে খোঁজ খবর নেওয়া ছেড়েই দিয়েছো ভাইয়া । আগে তো কল করতে মাঝে মাঝে । কিন্তু এখন আর করোই না ।
” তোর খোঁজ নিয়ে আমি কি করবো ?
” তাও ঠিক , তুমি তো আবার আমার খোঁজ নিতে না । বড্ড স্বার্থপর তুমি । নিজের আপন জিনিসটা বোঝো শুধু ।
” নিজের টাই বুঝতে চাই শুধু ।
” বোঝো , বেশি করে বোঝো । তবে ভাইয়া একটা কথা বলার ছিলো তোমায় । সুযোগ পাচ্ছিলাম না ।
” বল !
” ভাইয়া আসলে ,, ইয়াশ….
” চুপ !
” ভাইয়া শোনো আগে !
” চুপ থাক । শুনতে চাই না ।
” না শুনলে জানবে কি করে তুমি ? আর কত জেদ ধরে রাখবে বলোতো ? ও আসছে….
” তাতে আমার কি ?
” মেঘা কে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসছে !
” আমার ইভারা কে নেওয়ার জন্য আমি এসেছি । আমি ব্যাতীত আর কে ওকে নিতে আসবে , তাকে দেখে নেবো আমি । আমার ইভারা শুধু আমার । যে ওকে আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে , তাকে আস্ত রাখবো না আমি । সে যেই হোক না কেনো ! এসেই দেখুক একবার । যে পথে আসবে , সে পথে ওকে ফেরানোর দায়িত্ব আমার ।
” পারবে ?
রৌদ্র তাকালো । ঠোঁট বাঁকিয়ে তিরষ্কার করে হাসলো । চোখ নামিয়ে বললো…
” পারবো কি–না , তা তোর জানা আছে ভালো করে । চিন্তা করছিস কেন বলতো ? আরে ইয়ার ,, আ’ম রুডভিক কাবির রৌদ্র । ডোন্ট ওয়ারি সিস,,, যা ঘুমা গিয়ে ।
সারা হাসলো এক পশলা । বেরিয়ে আসলো ঘর থেকে ।
ছোপ ছোপ রক্ত মাখা ব্যান্ডেজ টা ডাস্টবিনে ফেলে রৌদ্র । হাতের অবস্থা আসলেই ছিন্নভিন্ন । জখম স্থান পুরে আসছে । টান ধরেছে ব্যাথার পাশাপাশি ।
মেঘা দেখলে আঁতকে উঠবে । সেভাবে দেখার মতো অবস্থায় নেই এমন দশা । ঢাকতে হবে এই ক্ষত । কিন্তু ব্যান্ডেজ করা যাবে না ।
মেঘা ওয়াশ রুম থেকে বেরোয় । রৌদ্র হাত পেছনে লুকিয়ে ফিরে চায় ওর দিকে । ফের বলে…
” খাইয়ে দে না জান ,, খিদে পেয়েছে তো ।
মুখ মুছলো মেঘা । ভাব খানা এখনো অভিমানী । রৌদ্র কাতর স্বরে বলে….
” সরি বলেছি তো , আর কতবার বলবো ? ক্ষমা কর না এবারের মতো । এরপর মারা তো দূর , রাগি চোখেও তাকাবো না কখনো । সরি সুইটহার্ট…আ’ম রিয়েলি সরি ।
একটু খানি কথা বল । আচ্ছা ,, আমি না রাইনো মুখো । তুই রাইনো মুখো বলেই ডাক আমায় । তবুও কথা বল ।
বলতে বলতে এগোয় রৌদ্র ।
মেঘার এই বাড়াবাড়ি করা , ওকে উপেক্ষা করার কারন রৌদ্রের অজানা নয় । বরং অক্ষরে অক্ষরে জানা । মেঘা আয়নার দিকে ফিরে আছে । রৌদ্র ওর পেছনে দাঁড়িয়ে ওকে টেনে ফেরায় নিজের দিকে । কাছাকাছি দাঁড়ায় অনেকটা দূরত্ব ঘুচিয়ে ।
কথা বলার সুযোগ না দিয়ে রমনীর গলা হতে পাতলা ওরনাটা খুলে নিয়ে ঝুঁকে আসে মুখ বরাবর । ধক্ করে চায় একবিংশী । রৌদ্রের এমন অকস্মাৎ কারসাজি বুঝতে না পেরে ফ্যালফ্যাল করে তাকায় । রৌদ্র ওর খুলে নিয়ে নিজের ডান হাতে পেঁচায় । ঢেকে ফেলে দগ্ধ ক্ষত ।
এতেই রক্ষা পায় রমনী । রৌদ্র ওর বোকা বোকা মুখপানে তাকিয়ে নিঃশব্দে হাসে…
বলে হাস্কি টোনে …
” ওও বউ ,, একটা জিনিস দেই ?
” কি ?
মেঘা পাল্টা প্রশ্নে সহসা জানতে চায় । ভয়ার্ত রমনীর মুখাবয়ব । হেসে ফেলে রৌদ্র । ঠোঁট কামড়ে বলে ফিসফিস করে…
” একটা চুমু ! জাস্ট একটা ।
” রাইনো মুখো , মজা করবেন না । সরুন ।
” মজা করছি না সুইটহার্ট । আ’ম সিরিয়াস । চোখ বন্ধ করো…
” দেখুন , ভালো হচ্ছে না কিন্তু । আমি রেগে আছি আপনার উপর ।
” রাগ ভাঙাতেই তো চাইছি ।
” এমন অসভ্যতা করলে আরো বেশি রেগে যাবো ।
” এটাকেই সভ্যতা বলে ।
রৌদ্র ঝুঁকে পরে আরো বেশি । পেছাতে গিয়ে রমনীর কোমর আটকায় মিররের বর্ধিতাংশে । সিটিয়ে যায় মেয়েটা । রৌদ্রের উষ্ণ ধোয়াটে শ্বাস একটু আধটু আঁছড়ে পড়ছে মুখের উপর ।
মেয়েটা চিবুক নামিয়ে নেয় একপাশে । শুল্ক ঢোক গেলে । রৌদ্র এবার হাসে শব্দ করে । বাম হাতে পকেট থেকে কিছু একটা বের করে । নত হয়ে রমনীর সিঁথিতে ঠোঁট ছোঁয়ায় আলগা করে । নাক ছুঁইয়ে চোখ বুজে শ্বাস টানে । বলে সেভাবেই….
” তাকাও ,, কিছু একটা আছে তোমার জন্য ।
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৬
একবিংশী বিলম্ব করে না । মাথা তোলে এক ঝটকায় । রৌদ্র সরেছে ততক্ষণে । তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুলির সাহায্যে কিছু একটা ধরে বাড়িয়ে দেয় রমনীর মুখের সামনে । বাল্বের আলোয় চিকচিক করে জ্বলে ওঠে জিনিস খানা । সাথে একবিংশীর হরিণী দু’চোখ । বিষ্ময়ে মুখ ফাঁক হয়ে তার । চোখের ঘোরে অবিশ্বাস ।
অবিশ্বাস ধরেই মিনমিনে গলায় অস্ফুটে উচ্চারণ করে….
” রৌদ্র ,,, এটা আমার ?
