Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬৮

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬৮

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬৮
সুরভী আক্তার

শুভ্র তার বিচলিত স্ত্রীর দিকে তাকায় । কেঁদে ফেলেছে মেয়েটা । টকটকে লাল হয়ে উঠেছে ফর্সা মুখখানি । যুবক লক্ষ্য করে দেখে,,, ক’দিনেই কেমন শুকনো দেখাচ্ছে মেহের কে । অবিষন্ন ছাপ চেহারায় ।
শুভ্র হাত বাড়িয়ে ওকে নিজের বাহুডোরে টেনে নিলো । একহাতে কাঁধ জড়িয়ে অন্যহাত বাম গালে রেখে ধীরস্থির কন্ঠে উচ্চারণ করলো…..
” এতো হাইপার হচ্ছিস কেনো পাগল ? সায়ান ঠিক আছে….
” কিন্তু কোথায় আছে ?
” জানি না ! খোঁজ নিয়েছি সব জায়গায় । জানা মতে কোথাও নেই । ফোন ফেলে গেছে । লোকেশন ও ট্রাক করার উপায় নেই ।
ছেলেটার বিষন্ন উত্তর । শান্তনা দিচ্ছে । মেহের ফুঁপিয়ে উঠলো । দুহাতে স্বামীকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করলো । ক্রন্দনরত স্বরে আওড়ালো…..

” তুমি ভাইয়া কে খুঁজে বের করো প্লিজ ।
আব্বু জানে সবটা । কিন্তু আম্মু এখনো জানে না কিছু । ভাইয়ার এমন অবস্থার কথা জানলে আমার আম্মু মরে যাবে । প্লিজ ভাইয়া,,, তুমি আমার ভাইয়াকে খুঁজে বের করো । ও শেষ হয়ে যাবে । তুমি কেনো টুকটুকিকে ওর হতে দিলে না ? কেনো আগলে রাখলে না ওকে ? তুমি তো জানো, ভাইয়া ওকে খুব ভালোবাসে , তাহলে আমার ভাইয়া কেনো কষ্ট পাচ্ছে এখন ?
শুভ্র ওর মাথায় হাত বোলায় ‌। আওড়ায়….
” আমি কি জানতাম এমনটা হবে কখনো । জানলে হতে দিতাম না । এখন আমার হাতে কি আছে বল ? সায়ান কে আমি হাজার বার বলেছি,, যেনো ও অপেক্ষা না করে । টুকটুকি কেও বলে নি কিছু । ধৈর্য ধরেছে । সব ধৈর্যের ফল যে মিষ্টি হয় না ।
” আমি জানি না, বুঝি না এসব কিছু, তুমি শুধু আমার ভাইয়াকে খুঁজে বের করো । ও যদি খারাপ কিছু….
” না মেহের,,, চুপ । সায়ান এমন কিছু করবে না । ও যথেষ্ট বুঝদার । খারাপ কিছু করবে না ও,, আমি জানি । এসব মাথায় আনবি না একদম ।
মেহের চুপ হয়ে গেলো । ফিকড়ে উঠলো । শুভ্র ওকে আলগোছে সরায় । মুখোমুখি বসিয়ে ভেজা চোখ মুখ মুছিয়ে দেয় । কপালে উষ্ণ পরশ বুলিয়ে বলে মোলায়েম কন্ঠে…..

” কাঁদতে হবে না । আমি আঙ্কেল কে সবটা বলেছি । উনিও দেখছেন, নিজের মতো করে খোঁজ করছেন । সামলাচ্ছেন সবটা । আন্টি জানবে না এসব । ওনাকে বলেছি আমরা ট্যুরে গেছি । ফোন করলে ম্যানেজ করবি এটা বলেই । ওকে ?
মেহের উপর নিচ মাথা দোলালো । শুভ্র হাসলো এক পশলা । ফের অতিব আবেশে শীতল চুমু আঁকলো রমনীর মসৃন ললাটের মধ্যমা বরাবর ।

রাতে একসাথে খেতে বসেছেন সবাই । নিস্তব্ধ পুরো ড্রইং রুম । আজকাল সোরগোল হয় না । হাসাহাসি হয় না । পুরো বাড়ি মাতিয়ে ছুটে বেড়ায় না কেউ । পকর পকর করে মাথার পোকা নাড়ানোর জন্য কেউ নেই বাড়িতে । কথায় কথায় আদ্র আর শুভ্রর সাথে ঝগড়া বাঁধানোরও কেউ নেই । খাবার টেবিলের নির্ধারিত চেয়ার টা ফাঁকা থাকছে কদিন ধরে । শাহিনা কাবির তাকান না সেদিকে । তাকালেই বুক ফেটে কান্না আসে তার । মায়ের মন তো ,, ভরে যায় আঁখি কোটর ।
চুপচাপ খাচ্ছেন সকলে । মেঘা কোনো রকমে একটু আধটু খেয়ে উঠে দাঁড়ালো ।
প্লেটে খাবার দেখে খিটখিটে মেজাজে ধমকালেন শাহিনা কাবির……

” উঠছিস কেনো ? বাকি খাবার টুকু কে খাবে ?
মেঘা মিনমিন করে…..
” পেট ভরে গেছে মনি । আর খাবো না !
” খাবি না তো আগে বলতে পারিস নি ? নষ্ট করলি কেনো খাবার টুকু ?
থতমত খায় মেঘা । আশপাশে চোরা চোখ বুলিয়ে চিবুক নামিয়ে নত করে । আজকাল শাহিনা কাবির বড্ড খিটখিটে আচরন করেন ।
তৌসিফ কাবির লক্ষ্য করে স্ত্রীকে সংযত করলেন….
” এতে ধমকানোর কি আছে ? ও খাবে না, তো জোর করছো কেনো ?
” খাবে না তো খেতে বসলো কেনো ? অন্ন ধ্বংস করা স্বভাব হয়ে গেছে ওর । খেতে বসলেই নাটক । প্রত্যেক বার খাবার নষ্ট করবে ।
রুবিনা কাবির চোখ কুঁচকে বললেন…..
” আপা,‌ এভাবে বলছো কেনো ? মেঘা ,, তুই যা এখান থেকে । জোর করে খেতে হবে না ।
মেঘা বিনয়ে পা এগোতেই শাহিনা কাবির মুখ ফসকে বেফাঁস বলে উঠলেন এ বেলায়…..
” কাল থেকে যদি না খাস , তাহলে বলে রাখবি আগে থেকেই । বেকার বেকার আলাদা করে বাড়তি খাবার রাঁধবো না তোর জন্য । আমাদের চাল ডাল বেশি হয় নি । যে এভাবে প্রত্যেক বেলা নষ্ট করবি তুই । ভাতের দুটো দানার ও মূল্য আছে যথেষ্ট ।
এবার ধমকালেন তৌসিফ কাবির…..
” শাহিনা,,, বাড়াবাড়ি বলে ফেলছো এবার । তিলকে তাল করছো কেনো এভাবে ?
” তাল করলাম কই ? যা সত্যিই তাই তো বলছি ! এমন কোনো দিন গেছে, যেদিন ও খাবার নষ্ট করেনি ? অন্ন ধ্বংস করতেই পারে শুধু ।
রৌদ্র দমে ছিলো এতক্ষণ । হাত মুঠিয়ে সংযত করেছে নিজেকে । এবার আর পারলো না । নিজের খাবারের প্লেট টা আছাড় মেরে সামনের দিকে ঠেলে দিলো । কাঁচের গ্লাসের সাথে ঠোকা খেয়ে ঝংকার উঠলো দুটোতে । তড়াক করে উঠে দাঁড়ালো রৌদ্র । রাগান্বিত স্বর উঁচালো…..

” এনাফ মনি,,,
যা মুখে আসছে, তাই বলে ফেলছো তুমি । ইভারা খাবে না, যত খুশি খাবার নষ্ট করবে, অন্ন ধ্বংস করবে, যা খুশি তাই করবে ও, কেউ ওকে কিচ্ছু বলতে পারবে না । এভাবে অপমান তো একেবারেই নয় । আমি ওর উপর চড়া জবান সহ্য করবো না বলে রাখলাম ।
মুহুর্তেই নিস্তব্ধ পরিস্থিতি গমগমে হয়ে উঠলো রৌদ্রের হুংকারে । রুবিনা কাবির ছেলেকে দমাতে যাবেন, তার আগেই শাহিনা কাবির মুখ খুললেন….
” ওওও , এখন তুই তোর বউয়ের জন্য আমার উপর চোটপাট করবি রৌদ্র ?
” হ্যাঁ করবো , কারন বউটা আমার ! বুঝেছো ? আমি ব্যাতীত কেউ ওর সাথে উঁচু জবানে কথা বলবে না । কেউ না ! খাবারের খোঁটা দিচ্ছো তুমি আমার ওয়াইফ কে ?
” খোঁটা দিচ্ছি না , শিখিয়ে দিচ্ছি । কম দিন তো হয় নি ও এ বাড়িতে এসেছে । দেখে আসছি আমরা ওকে । তুই কতদিন দেখেছিস ? যে এভাবে ওর ফড়ে তর্ক করছিস আমার সাথে ! আমি তোর বড় , গুরুজন আমি !
” আর ও আমার প্রিয়জন । তোমাকে যেমন সম্মান করি, তেমন ওকে ভালোবাসি আমি । সরি, বাট আমার স্ত্রীকে অপমান করছো তুমি । এটা কিন্তু আমি সহ্য করবো না,, মনি ।
কিছুক্ষণ থম মেরে রইলেন সবাই । স্তব্ধ হলো মুহুর্ত টুকু । মেঘা সিঁড়ির কাছে থমকেছে । ছলছল চোখে অপলক তাকিয়ে দেখছে রৌদ্রকে ।
রৌদ্র চেয়ার সরিয়ে সরে আসলো….

” আমিও খাবো না আর । নাও অন্ন ধ্বংস করলাম । কাল থেকে যদি না খাই, তাহলে বলে রাখবো । আমার খাবার টুকু বাদ দিয়ে রান্না করো । আর যদি নষ্ট করেই ফেলি, তাহলে কত টাকার খাবার নষ্ট করেছি বলে দিও । টাকা দিয়ে দেবো আমি ।
শুভ্র এবার মুখ খুললো নীরবতা ভেঙে…..
” রুডি,, টাকার গরম দেখাচ্ছিস তুই আমাদের ?
” দেখাচ্ছি ভাইয়া । কারন তোমার মা টাকার হিসেব দেখাচ্ছে আমার স্ত্রীকে ।
মেঘা রৌদ্রের হাত টেনে ধরে । চাপা স্বরে ফিসফিসিয়ে বলে পরিস্থিতি সামলাতে…..
” চুপ করুন না । বেশি বেশি বলে ফেলছেন আপনি ।
রৌদ্র শুনলো না ।
শাহিনা কাবির আবার বললেন…..
” এতো দিন কোথায় ছিলো তোর এই টাকার গরম ? বউয়ের প্রতি এই ভালোবাসা ? এই কদিনে পাগল হয়ে গেলি । এই মেয়েটার জন্য এভাবে কথা বলছিস আমাদের সাথে ?
” এই মেয়েটা নয় মনি,, ও স্ত্রী আমার ।
” স্ত্রী পাঁচ বছর আগেও ছিলো । তখন মনে ছিলো না ?
আরে তোর জন্যই তো হয়েছে এসব । আজ অবধি আমাদের বাড়িতে যা যা হচ্ছে, সব তোর জন্যই । আমার মেয়েটার এই অবস্থার জন্য তুইই দায়ি । না তুই সেদিন এই মেয়েকে আমাদের বাড়িতে এনে ফেলতি, আর না আজ এমন কিছু হতো । ইয়াশের সাথে জড়াতাম না আমরা । আমার মেয়েটাকে এভাবে নিয়ে পালাতো না ঐ ছেলে । সব তোর জন্য হয়েছে ।
উঠে দাঁড়ালেন তোফায়েল কাবির ।

” ব্যস ভাবি ,,, অনেক কিছু বলে ফেলেছো তুমি ! মেয়ের শোকে পাগল হয়ে গেছো ? যা নয় তাই বলছো ইদানিং । ভেবে বলছো এসব ? তোমার মেয়ে ঠিক আছে , শোনো নি তখন ? তাও কেনো দোষারোপ করছো আমার ছেলে বউ মাকে ? যা হওয়ার ছিলো, তা হয়েছে । আটকাতে পারে কার সাধ্যি ?
শাহিনা কাবির চেয়ার চেপে ধরে কেঁদে উঠলেন ।
এলোমেলো তার মস্তিষ্ক । আসলেই যা নয় তাই বলে ফেলছেন । তিনি তো এমন নন । মেয়ের শোকে পাগল হয়ে গেছেন বটে । ভুল বলেন নি তোফায়েল কাবির ।
রৌদ্র দাঁড়ালো না এক মুহুর্ত । কিছু বলতে চেয়েছিলো । মাঝপথে তোফায়েল কাবিরের কন্ঠ শুনে দমে গেলো । মেঘার হাত খপ করে খামচে ধরে দড়দড়িয়ে উপরে উঠলো সে ।
ঘরে গিয়ে ল্যাগেজ প্যাক করা শুরু করে দিয়েছে উন্মাদের ন্যায় । আলমারি থেকে সব কাপড় চোপড় নামিয়ে একে একে ব্যাগে পুরছে । চোয়াল শক্ত নিরেট । রক্তিম ক্রোধ ঠিকড়ে বেরোচ্ছে চোখে মুখে । মেঘা দেখে যাচ্ছে ওর কান্ড । পিছু নিয়ে বললো….

” রাইনো মুখো, কি করছেন আপনি এসব ?
” প্যাকিং করছি , চলে যাবো আমরা এখান থেকে ।
মেঘা হেসে ফেললো বেপরোয়া ছেলের রাগ দেখে । বললো….
” কোথায় যাবো শুনি ?
” যেখানে তোমায় কেউ বকবে না সেখানে !
” এখানে কেউ বকে না আমায় ।
” দেখলাম ভালো করেই ‌।
” মনি রেগে আছে,, রৌদ্র । মনি এমন নয় , আপনি জানেন ভালো করে । এসব পাগমালো থামান তো ।
রৌদ্রের হাত থেকে কাপড় গুলো টেনে নিলো মেঘা । ল্যাগেজ থেকে গোছানো কাপড় গুলো বের করতে গেলে বাঁধা দিলো রৌদ্র….
” ছাড়ো এসব । আমরা থাকবো না এখানে ।
” কিন্তু আমি থাকবো ।
রেগে তাকালো রৌদ্র । বিপরীতে রমনী ওষ্ঠ উল্টায় । হুট করে তন্বী এগিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে লোকটাকে জড়িয়ে ধরে । সুঠাম দেহি তাগড়া যুবক কে রমনী তার ছোট ছোট দুহাতে ঠিকমতো জড়িয়ে নিতে হিমশিম খায় কিছুটা । হাল ছাড়ে না তবুও । বুকের কাছে মুখ গুজে নাক ঘষে বলে মিষ্টি স্বরে….

” রৌদ্র,, আমি থাকতে চাই সবার সাথে । আপনি এমন পাগলামো করেন কেনো হ্যাঁ ? মনির সাথে খারাপ ব্যবহার করলেন । উনি বুঝি কষ্ট পাননি ?
” তোমার সাথে খিটখিটে ব্যবহার করলো যে । আমার বুঝি কষ্ট হয় নি ?
” উনি গুরুজন । কিন্তু আপনি কাজটা মোটেও ঠিক করেন নি ‌। ক্ষমা চেয়ে আসুন গিয়ে ।
রৌদ্র মুখ ফিরিয়ে নিলো । জড়িয়ে ধরতে গিয়েও ধরলো না । মেঘা স্বস্তি না পেয়ে বললো নড়েচড়ে….
” জড়িয়ে ধরুন আমায় ।
রৌদ্র বিমুখ । মেঘা আবার বলে…..
” কি হলো ধরুন ।
এ বেলায় বিলম্ব না করে শক্ত করে জাপটে ধরলো রৌদ্র । দুহাতে খুব কঠিন আর নিবিড় ভাবে মিশিয়ে নিলো একবিংশীকে । শক্ত আলিঙ্গনে মেঘা হাঁসফাঁস করে ওঠে । নিজের হাতের বাঁধন আলগা করে মাথা তোলার চেষ্টা করে বলে…..

” মেরে ফেলবেন ?
” উঁহু , লুকিয়ে ফেলবো বুকের মাঝে । যাতে কেউ চোখ রাঙিয়ে তাকাতে না পারে তোমার দিকে । উঁচু জবানে তোমাকে হেনস্থা করা তো অনেক দূর ।
মেঘা স্মিথ হাসলো ।
খাওয়া দাওয়ার পালা চুকিয়ে টেবিলের সবকিছু গুছিয়ে রাখছিলেন শাহিনা কাবির । দুই কর্তা বসে আছেন ।
রৌদ্র নিচে নামলো এমতসময় ।
সোজা টেবিলের দিকে এগোলো । চোখ তুলে তাকালেন শাহিনা কাবির । রৌদ্র গলা নামিয়ে তাৎক্ষণিক বলে সবাইকে অবাক করে দিয়ে…
” সরি মনি !
অবাক লোচনে চাইলেন শাহিনা কাবির । রৌদ্র গিয়ে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো তাকে….
” ভুল হয়ে গেছে । রেগে গিয়ে খারাপ আচরণ করে ফেলেছি তখন । তার জন্য সরি মনি…..
পেছনে মেঘা জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । শাহিনা কাবির ওকেও দেখলেন রৌদ্রের পাশাপাশি ।
খানিক চোখ সরু করে ভারী গলায় কাছে ডাকলেন । মেঘা বাধ্যের ন্যায় এগিয়ে যায় । সামনাসামনি দাঁড়াতেই ভদ্রমহিলা আলতো করে একবিংশীর কোমল গাল ছুঁইয়ে দিয়ে বললেন…..
” ভুলভাল বকেছি তখন, মন খারাপ হয়েছে ?
অগত্যা মাথা ঝাঁকায় মেঘা । হাসেন ভদ্রমহিলা । মেঘা আহ্লাদী হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরতে গেলে টেনে ধরলো রৌদ্র । শাহিনা কাবির সহ একবিংশী চকিতে তাকালো তার দিকে । ভ্রু নাচালো রমনী । রৌদ্র ঠোঁট চেপে বললো নির্লজ্জের ন্যায়…..

” জড়িয়ে ধরতে হবে না । হাসবেন্ড ব্যতীত অন্য কাউকে জড়িয়ে ধরতে নেই সুইটহার্ট । বাকিদের কথা জানি না । তবে আমার হিংসে হয় । আই ফিল জ্বেলাস । রুমে চলো । সব মিটমাট হয়ে গেছে । তাই না মনি ? মন খারাপ করে আছো এখনো ?
শাহিনা কাবির কথার টাল সামলে দুদিকে মাথা নাড়ালেন । আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না রৌদ্র । মেঘাকে বাহু বন্দি করে টেনে উপরে ছুটলো । দুটো চক্ষু আড়াল হতেই ফিক করে হাসলেন শাহিনা কাবির । দুই কর্তা সবটা নীরবে অবলোকন করে হাসলেন নিঃশব্দে ।

মাঝে দিন কয়েক কেটেছে । পড়েছে মার্চ মাস ।
সময় কাটতেই চায় না শাফাহ্’র নিকট । ইয়াশ হাসপাতালে যাওয়া শুরু করেছে দিন দুয়েক হলো । আগের দিন গুলোতে লোকটা একটু হলেও সাথে থাকতো ।
এখন আর থাকে না । পুরো বাড়িতে একলা একা ঘর বন্দি হয়ে থাকতে হয় শাফাহ্ কে ।
গোটা সকাল ঠিকমতো স্বস্তিতে থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই মেয়েটা গুটিয়ে যায় । ইয়াশ ফিরতে ফিরতে সেই সন্ধা গড়ায় । বাড়িতে জ্বলজ্বলে সাদা আলো নেই কোথাও । দিনের বেলায় কাঁচ ভেদে সূর্যরশ্মির আলোয় আলোকিত থাকে পুরো অ্যাপার্টমেন্ট । তবে রাত হতেই দৃশ্য ভিন্ন । অন্ধকারাচ্ছন্ন, ভয়ংকর আর গুমোট ।
এক ঘর আর বসার ঘর ব্যাতিত শাফাহ্’র যাওয়ার জায়গা নেই কোথাও । দুটো ঘরের মধ্যে একটা ঘর তালাবদ্ধ থাকে সবসময় । রাতে ইয়াশ ঘুমোয় সে ঘরে । শাফাহ্ আজ পর্যন্ত ও ঘরের দরজা ব্যাতীত আর কিছুই দেখে নি । মেইন ডোর ও বন্ধ । পাসওয়ার্ড ব্যতীত আনলক করা যায় না । ছাদের সিঁড়ি আউটডোরে । অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের দরজা পেরিয়ে সিঁড়ি ঘরে যেতে হয় ।

সেদিকে ইনডোর এবং আউটডোর আলাদা করা বিশাল কাঁচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে । সে দরজাটাও লক থাকতো সবসময় । ইয়াশ লক খুলে দিয়েছে দুদিন হলো । তাও শাফাহ্’র কথায় । মেয়েটা একলা একা পুরো বাড়ি টুকটুক করে ঘুরে বেড়ায় । অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিটা কোণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে চেনা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে ।
লিভিং রুমের বাইরে ,, আউটডোরে ছাদের সিঁড়ির পাশে ইনফিনিটি সুইমিং পুল । লাউঞ্জ এরিয়া । এ জায়গাটা পুরো স্বপ্নের মতো । ইয়াশের পছন্দের । বাড়িতে থাকা সকালের পুরোটা সময় এখানেই কাটায় সে । তার একান্ত ব্যাক্তিগত এরিয়া । শাফাহ্ কে এ্যালাউ করে নি প্রথমে । পরে কিছু একটা ভেবে আনলক করে দিয়েছে । তারপর থেকেই ঘুম থেকে ওঠার পর সকালের বেশিরভাগ সময় টাই এখানে কাটায় শাফাহ্ ।
আজকেও আছে । সেই বিয়ের শাড়িটা পড়েছে আজ আবার । এ কদিন ইয়াশের অধিকাংশ টিশার্ট আর ট্রাউজার দখল করে নিয়েছে সে । আজকাল আধিপত্য বিস্তার করে সব কিছুতে । তাছাড়া কি আর করবে ? ঐ লোক তো ওকে কিছুই কিনে দেয় নি ।

বাড়িতে একটাও আয়না নেই । নিজের স্বচ্ছ চেহারা খানাও দেখা হয় নি বহুদিন । শাড়ি পড়েছে, কেমন লাগছে কে জানে । পুলের ধারে বসে পানিতে ভেসে ওঠা নিজের প্রতিবিম্ব টা দেখেছে শাফাহ্ । এতে কি হয় নাকি ? অধীর হয়ে সময় গুনছে ইয়াশের ফিরে আসার ।
আলো ঝিমিয়ে বিকেল গড়িয়েছে অনেক আগে ‌। আঁধার নামছে । শাফাহ্’র মনেও । দূরু দূরু অস্থিরতা শুরু হচ্ছে বুকে । চমকিত আলোর অভাব এ বাড়িতে । এটা এখনো মানিয়ে নিতে পারে নি রমনী । ভয় লাগে অমন ম্লান আলোয় । সন্ধ্যা হতেই পুরো অ্যাপার্টমেন্ট তলিয়ে যায় মন্দালোকে ।
পুলের ধারে নৈঃশব্দ্যে পানিতে পা ডুবিয়ে বসে ছিলো মেয়েটা । এতক্ষণে ইয়াশের আসার কথা । বারবার স্লাইডিং ডোরের দিকে তাকাচ্ছে । এই বুঝি আসলো । কিন্তু না ‌। আসার কোনো লক্ষণ নেই সে লোকের ।
এদিকে আঁধারে ঘণীভূত হচ্ছে চারপাশ । শাফাহ্ সেখানে বসে থাকলো না আর । উঠে দাঁড়িয়ে লিভিং রুমে আসলো অন্ধকার হাতড়ে । সুইচ বোর্ড খুঁজে হলদে লাইট অন করলো । পিছু ফিরে এক কদম এগোতেই সামনে কালো অবয়ব দেখে আঁতকে উঠলো নমনীয় তন্বীর অন্তঃস্থল । হলদেটে অস্পষ্ট আলোয় আচমকা সামনাসামনি সুঠাম এক মানবীয় ছায়া মূর্তি অনুরূপ কিছু একটা দেখে নিমিষেই দুকান চেপে ধরে চোখ মুখ খিচে চেঁচিয়ে উঠলো বাড়ি কাঁপিয়ে……

” আআআআআআআ……..
সেকেন্ডের মাথায় তপ্ত ধমক…….
” শাট আপ,,, স্টুপিড ।
ছ্যাত করে উঠলো শাফাহ্ । চোখ মেলে তড়াক করে চাইলো । ফোনের ফ্লাশ তাক ওর দিকেই । ইয়াশ ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে । ধূসর আলোয় ঝাপসা চোখে কাঙ্ক্ষিত যুবককে দেখা মাত্রই ছলকে উঠলো রমনী । শিথিল হয়ে আসলো ভয়ে জর্জরিত তটস্থ বক্ষস্থল ।
ভয়ের তোপে তখনো তিরতিরিয়ে কম্পিত হচ্ছে ললিতাঙ্গ । ভয় কাটাতে আকস্মিক ওষ্ঠ উল্টে ঝট করে ইয়াশ কে জড়িয়ে ধরলো সে । ফুঁপিয়ে উঠলো ।
এদিকে অপ্রত্যাশিত আলিঙ্গনে যুবকের সম্পুর্ন শরীর দুলে ওঠে কেমন । প্রথম আলিঙ্গনে কাঁপলো সটান যুবক । নিরেট মুখাবয়ব কিঞ্চিত বদলে যায় তার । বদল আসে গলাতেও । সে ঢোক গেলে । মেয়েটার ফোঁপানি শুনে চড়া গলা নামিয়ে বলে আশ্বস্ত করে……..
” টুকটুকি,, ভয় পেয়েছো ?
মেয়েটার ফোঁপানি শোনা যায় পূণরায় । বুকের মাঝে লুকিয়ে মাথা ঝাঁকায় হ্যাঁ বোধক । ইয়াশ ওকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো । বললো গলা ভিজিয়ে…..
” আমি এটা । আমি ব্যাতীত বাড়িতে কেউ ঢুকতে পারবে না কখনো । ভয় পাওয়ার কিছু নেই,, ছাড়ো ।
মেয়েটা ছাড়লো না । হেঁচকি তুলে জিদ্দি খেয়ে বললো…..
” আপনাকে কতবার বলেছি,, বাড়িতে লাইট লাগিয়ে দিন । আপনি শোনেন আমার কথা ? কম আলোতে ভয় লাগে আমার । আঁধারে থাকতে পারি না । চোখে অন্ধকার দেখি । এভাবে টর্চার করবেন আমায় ? আর কোনো পথ নেই ? এভাবে নিঃসঙ্গ করে অন্ধকারে তলিয়ে মারতে চান ?
ইয়াশ ওকে ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলো…..

” চুপপপ,,
তোমাকে কিভাবে মারবো, টর্চার করবো, সেটা তোমার কাছে জেনে নেবো আমি ? দূরে সরো আমার থেকে । যথেষ্ট আলো আছে বাড়িতে ।
” না নেই । আপনার মতো গুমোট রাক্ষসের কাছে এটা যথেষ্ট হলেও আমার কাছে নয় । আমি অভ্যস্ত নই এসবে ।
” তাহলে অভ্যস্ত হয়ে যাও । মানিয়ে নাও নিজেকে । তোমার জন্য কিচ্ছু পরিবর্তন করতে পারবো না আমি ।
শাফাহ্ হেঁচকি তোলে । চোখ মুখ ভিজে জবজবে । নাক ফুলে উঠলো কান্নার দরুন । সে ওষ্ঠ উল্টে হেঁচকা টানে ইয়াশের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নেয় । ফ্লাশের আলোয় প্রস্থান করে গটগটিয়ে ঘরে যায় ।
দাঁত পিষে ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে রয় ইয়াশ । ক্ষোভে শ্বাস ফেলে ফোঁস করে ।
ঘরে গিয়ে শাড়ি পাল্টে নিকার্স আর টি শার্ট পড়ে নিয়েছে শাফাহ্ । কাঁধের কাছে একটা গুটলি পাকিয়ে টিশার্ট টা বেঁধে আঁটকেছে ।
কিছুক্ষণের মধ্যে পাশের ঘর থেকে ফ্রেশ হয়ে এই ঘরে ঢুকলো ইয়াশ । উদ্দেশ্য নিজের ফোন নেওয়া । শাফাহ্’র কাছে ফোন । পাসওয়ার্ড জানে না বলেই ইয়াশ নিশ্চিন্ত এখনো । সোফার উপর এলোমেলো শাড়িটা । চঞ্চলা রমনী ইয়াশ কে দেখে গিজগিজ করে উঠলো । মুখ বাঁকিয়ে ভেংচি কাটলো । শাড়িটা জড়ো করে কোলের কাছে জটলা পাকিয়ে দম্ভ ভরে এগোলো বিছানার দিকে । ইয়াশকে পাশ কাটাতে গেলে তপ্ত যুবক আকস্মিক মেয়েটাকে টেনে আটকে দেয় । হাত ধরেনি । স্পর্শ ও করেনি । টেনে ধরেছে স্কন্ধের নিকট পাকানো টি শার্টের গিট্টু টা । শাফাহ্ বাঁধা পেয়ে বিরক্তি নিয়ে কটমট করে চাইলো । ঝাইঝাই করে উঠলো…..

” কি হয়েছে ?
” ফোন দাও !
মুখ ভেংচায় রমনী । শাড়িটা ছুড়ে মারে খাটে । ইয়াশের দিকে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে বলে খিটখিট করে…..
” ফোন খেয়ে ফেলছি না আপনার !
ইয়াশ নির্বিকার ভঙ্গিতে নিজের ফোন হাতে তুলে নিলো । অবিলম্বে কদম বাড়িয়ে গিয়ে বসলো সোফায় । ফোনের স্ক্রিনে মনযোগ দিলো । শাফাহ্ হিসহিসিয়ে ওঠে । শাড়িটা গোছাতে শুরু করে ঝাড়া মেরে ।
ক্ষণকাল বাদ চোরা চোখে রমনীর দিকে তাকালো ইয়াশ । কেমন বাচ্চা বাচ্চা দেখাচ্ছে অনুচ্চ মেয়েটাকে । রাগে গাল, নাকের পাটা ফুলিয়ে নিয়েছে । ওর টিশার্টে বেশ ভালোই দেখায় মেয়েটাকে । ঢিলেঢালা টিশার্ট সামলাতে বুদ্ধি করে কাঁধের কাছে গিট্টু পাকায় । হাসি পায় সেটা দেখলে ।
চোখ সংযত করে আলগোছে ঠোঁট ঠেলে মৃদু হাসলো ইয়াশ । পরক্ষণে চোয়াল শক্ত করে গমগমে স্বরে বলল….
” শাড়ি পড়েছিলে কেনো ?
” ইচ্ছে হয়েছে তাই , আপনাকে কেনো বলবো ?
ইয়াশ চুপ হয়ে গেলো ।
বারো হাতের বিশাল শাড়িটা একদিক থেকে গোছাতে গেলে অন্যদিকে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে । ঠিকমতো গোছাতে পারছে না মেয়েটা । বিরক্তি চোখে মুখে ।
তা দেখেও না দেখার ভান ধরে বললো ইয়াশ…..

” খাবার এনেছি । ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে । খেয়ে নাও গিয়ে ।
” খাবো না আমি ।
তপ্ত স্বর ।
ইয়াশ গা ছাড়া ভঙ্গিতে কাঁধ উঁচালো । যেনো কিচ্ছুটি এসে যায় না তার । দৃষ্টি ফোনের স্ক্রিনে । শাফাহ্ নরম হয়ে আসলো । বললো প্রসঙ্গ টেনে…..
” পাশের ঘর লক রাখেন কেনো সবসময় ? কি আছে ঐ ঘরে ?
ফোন ঘাঁটার মাঝে আকস্মিক শাফাহ্’র প্রশ্নে বিব্রত হলো ইয়াশ । চোখ তুলে চাইলো । মেয়েটা শাড়ি ভাঁজের চেষ্টা করছে আপন মনে । চুপ এখন । হয়তো উত্তরের প্রতিক্ষায় । তপ্ত যুবক চোখ নামিয়ে ফের নিজের ফোনের স্ক্রিনে মনযোগ দিলো । বললো দায়সারা ভাবে….

” ও ঘরে তোমার কাজ নেই ! জানতে হবে না । এতো কিউরিসিটি দেখাতে হবে না তোমায় ।
” ওমা, দেখাবো না কেনো ? আচ্ছা আগে বলুন তো, এটা কার বাড়ি ?
” আমার ।
” আমি কে ?
” একটা টকেটিভ স্টুপিড তুমি ।
হাত থমকায় রমনীর । সহসা বদলে যায় শান্ত মুখাবয়ব । দমানো রাগ চড়ে যায় আবার । শাড়িটা ফেলে অহমিকায় কদম বাড়িয়ে তেড়ে যায় যুবকের পানে । খানিক রাগি ভাব টেনে বলে খিটখিটে স্বরে….
” এহহহ্,, আমি মোটেও স্টুপিড নই । টকেটিভ বলেছেন মেনে নিয়েছি । কিন্তু স্টুপিড বলবেন না আমায় ।
” তো কি বলবো ?
” বলুন আমি আপনার কি হই ?
” কি হও ?
” বউ হই !
” ওওও !
ইয়াশের নিস্পৃহ জবাব । দৃষ্টি নোয়ানো ফোনের পানে । শাফাহ্ উপেক্ষিত হয়ে কোমরে দুহাত ঠেসে ফোঁস করে উঠলো । চোখ মুখ কুঁচকে কর্তৃত্ব দেখিয়ে বললো ভারী গলায়….

” বউ হই আমি আপনার । এ বাড়িটা যতটা আপনার, ততটাই আমার ও । আমার বাড়িতে কোথায় কি আছে না আছে, আমি জানবো না ? গোটা বাড়ি দেখা হয়ে গেছে অলরেডি । ঐ ঘরে যেতে পারিনি এখনো । ও ঘরে এক্ষুনি যাবো আমি । চাবি দিন ।
” ওটা আমার পার্সোনাল রুম । কেউ অ্যালাউ নয় সেখানে ।
শাফাহ্ চোখ সরু করে । খুঁটিয়ে অবলোকন করে ইয়াশ কে । একহাত কোমরে ঠেসে অন্যহাতে মাথা চুলকায় । বলে বোকা বোকা স্বরে….
” ছেলেদের ও আবার পার্সোনাল রুম হয় নাকি ? বাব্বাহ্ ,, কি আছে ঐ ঘরে ? আপনার হাফপ্যান্ট ? না কি যেনো বলে ওটাকে ,, সেটাতো ক্লজেটেও রাখতে পারেন । বউ হই আমি আপনার । বোকা পুরুষ,, আমার সামনে এতো লজ্জা পেলে চলবে ?
রমনীর এমন বাক্য দ্বয় কর্নপাত হওয়া মাত্রই তড়াক করে চাইলো ইয়াশ । দৃষ্টি বৃহৎ, কিংকর্তব্য বিমূঢ় আহম্মকের ছাপ মুখাবয়বে । শাফাহ্’র মিটমিটে মুখখানা দেখে চোয়াল খিচে ধমকে উঠলো নিজেকে ধাতস্থ করে…..

” শাট আপ স্টুপিড । মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ…..
” ওমা ,,, কি এমন বললাম আমি ?
” শাট আপ । ইউ ডাম্ব ।
” মোটেও না ।
” মোটেও হ্যাঁ । চুপ করে থাকো একদম ।
” পারিনা চুপ করে থাকতে । আমি ঐ রুমে যাবো ।
ইয়াশ চোয়াল খিচলো । ঘা বসালো….

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬৭

” আর একবার কথা বললে রুম থেকে বেরিয়ে যাবো আমি । একলা থেকো তখন ।
মুহুর্তেই কাঁচুমাচু হয়ে যায় শাফাহ্ । কুলুপ এঁটে নেয় মুখে । নিজের অবস্থানে গিয়ে দাঁড়ায় ঝটপট । শাড়িটা হাতে তুলে গোছানোর চেষ্টা করে ।
ওর এমন আকস্মিক বদল দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে পৈশাচিক হাসলো ইয়াশ । দুদিকে মাথা নাড়িয়ে শ্বাস ফেললো ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here