ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১৪
লাইরা আয়নাত
ব্রেকফাস্ট শেষ করে আয়াজ সোজা রুমে এসে ঢোকে। ইনায়াতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই ডিরেক্ট প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় সে, “সত্যি করে বলো তো, তুমি কি আমাকে বেবি দিবে? আমার সাথে বেড শেয়ার করবে?”
ইনায়াত একদম কোল্ড টোনে জবাব দেয়, “আমি আপনার জাস্ট কোনো ইউজের জিনিস হবো না।”
আয়াজ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ইনায়াতের দিকে তাকায়। তার গলাটা বেশ হার্শ শোনায়, “হোয়াট ডু ইউ মিন? তুমি আমাকে বেবি দিলে তবেই তুমি অফিশিয়ালি আমার মিসেস হবে।”
ইনায়াত সরাসরি আয়াজের চোখের দিকে তাকায়। ঠোঁটের কোণে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে তুলে বলে,
“ওহ, রিয়েলি? আমি আপনার মিসেস হবো, আর সারাজীবন আপনার করা এই ইনসাল্ট আর রাবিশ কথাগুলো গিলে যাব? লিসেন, আমার কথা একদম ক্লিয়ার, এই রয়্যাল ফ্যামিলির সাথে থাকার কোনো ইন্টারেস্ট আমার নেই।”
কথাগুলো শুনে আয়াজের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। দাঁতে দাঁত চেপে সে বলে, “তুমি যদি আমাকে বেবি না দাও, দেন আই প্রমিজ, আজই আমি প্রিন্সেস অরুকে বিয়ের জন্য ফ্যামিলিতে অ্যানাউন্স করব। আর আমাদের বিয়ের পরপরই তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিব। থিংক অ্যাবাউট ইট!”
থ্রেটটা শুনে ভয় পাওয়ার বদলে ইনায়াতের চোখেমুখে এক এক্সাইটমেন্ট ফুটে ওঠে। সে বেশ ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে বলে, “অফকোর্স, গো অ্যাহেড! এতে আমি বরং খুশিই হবো।”
ইনায়াতের এমন রিঅ্যাকশন আয়াজকে হতবাক করে দেয়। সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আবার জিজ্ঞেস করে, “আর ইউ সিরিয়াস? আমি অরুকে বিয়ে করলে সত্যি তোমার কিছু যায় আসে না?”
“নো, নট অ্যাট অল! আমার কিচ্ছু যায় আসে না!” ইনায়াতের স্পট জবাব।
ওর নির্লিপ্ততা আয়াজের ইগোতে মারাত্মক আঘাত করে। সে রাগে কটমট করে বলে, “তোমার আসলে সেই স্ট্যাটাস বা যোগ্যতাই নেই! আমার পাশে অরুর মতো মানুষই ডিজার্ভ করে। আই অ্যাম গোয়িং, আজই সবাইকে জানাবো আমি।”
ইনায়াতও একটুও না দমে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ, প্লিজ যান। আর ফাইনালি আমাকে মুক্তি দিন।”
আয়াজ আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না, আক্রোশে সজোরে দরজা টেনে রুম থেকে বেরিয়ে যায় সে।
ঘড়ির কাঁটা সবেমাত্র সন্ধ্যা সাতটা ছুঁয়েছে। বাইরে আকাশটা গাঢ় নীল থেকে কালচে বেগুনিতে রূপ নিচ্ছে। আ্যাশ ক্যাসেলের লম্বা ফ্রেঞ্চ উইন্ডোর কাচে শেষ বিকেলের ম্লান আলো এসে ধাক্কা খাচ্ছে। অথচ ভেতরে সম্পূর্ণ আলাদা এক পৃথিবী। একটা ফ্যামলি পার্টি চলছে আশ্য ক্যাসেলে।
আয়াজ আর অরুর বিয়ের অ্যানাউন্সমেন্ট সেলিব্রেট করতেই এই গ্র্যান্ড ফ্যামিলি পার্টির আয়োজন। ভাবছেন তো এই অ্যারেঞ্জমেন্ট কীভাবে ম্যানেজ হলো? তবে এর পেছনের আসল রিজনটা আয়াজের রাগ। এক অন্ধ, জ্বলন্ত, লাগামছাড়া রাগ। সকালে সে দাউদাউ আগুনের মতো নিচে নেমে এসেছিল। সবার সামনে দাঁড়িয়ে সে ডিক্লেয়ার করে, অরুকেই সে নিজের অফিশিয়াল মিসেস বানাতে চায়। ইনায়াতের সাথে তার কোনোভাবেই ম্যাচ করে না, কারণ তাদের ক্লাস টোটালি ডিফারেন্ট।
ইনায়াত যদি থাকতে চায়, তবে তাকে কনকিউবাইন হয়েই থাকতে হবে, নয়তো ডিভোর্স।
তার কথাটা শুনে বাড়ির মানুষজনের চোখে এক গোপন স্বস্তি চিকচিক করে ওঠে। তারা তো আগে থেকেই চাইত অরুই এই বাড়ির মিসেস হয়ে আসুক, ব্লাডলাইন আর স্ট্যাটাসের সাথে যার সবকিছু পারফেক্টলি ব্লেন্ড করে। ইনায়াতকে সবার সামনে ডেকে আনা হয়। অনেকটা পাবলিক ট্রায়ালের মতো সব চোখ গিয়ে স্থির হয় তার মুখে। সবাই ভেবেছিল ইনায়াত হয়তো প্যানিক করবে, কেঁদে ফেলবে, অন্তত একটু কাঁপবে।
কিন্তু ইনায়াত বিন্দুমাত্র হেজিটেট করে না। একদম কুল গলায়, প্রায় অ্যামিউজড টোনে সে জানিয়ে দেয়, ডিভোর্সই তার চাওয়া। এই রয়্যাল ফ্যামিলিতে একজন সাধারণ কমনার হয়ে বাকি লাইফ কাটানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তার নেই। সে নিজের মতো করে, নিজের টার্মসে বাঁচতে চায়।
ব্যাস, আর কী লাগে। ইনায়াতের বাবাকে ফোনে জানানো হয়। একবাক্যে তিনিও এগ্রি করে যান। কারণ ইনায়াত এর বিষয়ে তার কিছু যায় আসে না। ফাইনাল ডিসিশন খুব ইজি ল্যাঙ্গুয়েজে জানিয়ে দেওয়া হয়। অরু আর আয়াজের বিয়ের পরপরই ইনায়াতের সাথে ডিভোর্স পেপার সাইন হবে। অরুকে বিয়ে করার রিওয়ার্ড হিসেবে আয়াজকে কিং ডিক্লেয়ার করা হবে। আর এই প্রাউড অ্যানাউন্সমেন্টটা করবেন স্বয়ং আয়াজের বাবা।
পার্টি এখন ফুল সুইংয়ে চলছে। স্ট্রিং কোয়ার্টেটের সফট মিউজিক ভাসছে হলের এক কোণ থেকে অন্য কোণে। ওয়েটাররা হোয়াইট গ্লাভস পরে হাতে সিলভার ট্রে নিয়ে নিঃশব্দে সার্ভ করছে।
আয়াজ রাগের মাথায় ডিসিশন নিলেও সেটাই এখন তার রিয়েলিটি হতে যাচ্ছে। ভেতরে ভেতরে সে কোনোভাবেই ইনায়াতকে নিজের থেকে আলাদা করতে চায় না।তার বুকের বাঁ পাশে একটা চিনচিনে পেইন সারাক্ষণ ইকো করছে। অথচ কিং হওয়ার অ্যামবিশনটাও তার রক্তে। ছোটবেলা থেকে এই ড্রিমই তাকে ড্রাইভ করেছে। থ্রোন আর অবসেশন, এই দুটোর ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ে সে আজ ভেতরে ভেতরে পুরো হয়ে যাচ্ছে কি করবে ঠিক বুঝতে পারছে না।
তাই বাইরে থেকে নিজেকে এক্সট্রিমলি কুল আর এক্সাইটেড শো করছে সে। গ্লাসে স্লো সিপ নিচ্ছে, ঠোঁটে এক ধরনের অ্যারোগ্যান্ট স্মাইল রেখেছে। এই মোমেন্টটাই সে লাইফটাইম ধরে চেয়েছে। মনে মনে আয়াহ ডেসপারেটলি চাইছে, ইনায়াত নিজের ভুল বুঝতে পেরে জেলাস হয়ে যেন তার কাছে ফিরে আসে। যদিও সে জানে এটা নেক্সট টু ইম্পসিবল। ইনায়াত সেই টাইপের মেয়েই নয়। তবু তার ইগো ডিমান্ড করছে অন্তত একবারের জন্য হলেও ইনায়াত জেলাস ফিল করুক। অন্তত একবার চোখ তুলে তাকাক। বুঝুক সে কী হারাচ্ছে। সে আয়াজ কে হারাচ্ছে।
এই অ্যারেঞ্জমেন্টে পুরো ম্যানশন হ্যাপি হলেও দুটো মুখে ডিসস্যাটিসফ্যাকশন খুব ক্লিয়ার। এভা আর ফেইথ। এভা আয়াজকে মনে মনে পছন্দ করলেও লাইফ পার্টনার হিসেবে কখনো ইমাজিন করে না। তার কাছে এটা জাস্ট একটা টিনএজ ক্রাশ, যা সময়ের সাথে ফেড হয়ে গেছে। সে বরং ইনায়াতের ওপর রেগে আছে। কপাল কুঁচকে মনে মনে গজগজ করছে। তার মতে, ইনায়াত যদি একটা বেবি নিত, তাহলে আজকের এই ড্রামাই হতো না। সবকিছুর রুট ওই একটাই, ইনায়াতের ইগো।
আর ফেইথ তো মনে মনে ইনায়াতকে লিটারেলি অভিশাপ দিচ্ছে। এত বড় একটা স্টুপিডিটি করার জন্য গালি দিচ্ছে। শ্যাম্পেনের গ্লাসটা সে এত শক্ত করে ধরে আছে যে আঙুলের গাঁট সাদা হয়ে গেছে। এই দুজনই এখন ইনায়াতকে মন থেকে বেশ পছন্দ করে। ইনায়াত এত সাইলেন্টলি নিজের স্পেস ক্রিয়েট করে নিয়েছে যে, এই টক্সিক বাড়ির ভেতরেও তার একটা নিজস্ব জোন তৈরি হয়ে গিয়েছে।
ইনায়াতও আজ পার্টিতে প্রেজেন্ট। কারণ সে অ্যাবসেন্ট থাকলে ফ্যামিলির মানুষজন ভাববে সে হয়তো হার্টব্রোকেন, কোনো অন্ধকার ঘরে বসে কাঁদছে। এই স্যাটিসফ্যাকশনটা সে কাউকে দিতে রাজি নয়। তাই আজ তার আউটফিট একটা এলিগ্যান্ট ব্ল্যাক ব্লেজার আর ফ্লোয়িং ম্যাক্সি স্কার্ট সেট। ব্লেজারের শার্প কাট তার কাঁধটাকে টানটান দেখাচ্ছে, কোমর লাগছে আরো স্লিম। স্কার্টটা হাঁটার ছন্দে সফট ওয়েভের মতো দুলছে। পায়ে স্টাইলিশ ব্ল্যাক পয়েন্টেড টো স্লিংব্যাক ফ্ল্যাটস। তার
বাটারফ্লাই কাট করা মিডিয়াম লেন্থের সিল্কি চুলগুলো খোলা। কাঁধের ওপর সফট কার্লস করা।তার মুখে ডিউয়ি মেকআপ, ঠোঁটে ম্যাট ন্যুড লিপস্টিক, চোখে আইলাইনারের শার্প উইং। কানে ছোট্ট ডায়মন্ড স্টাড, গলায় একটা সরু সিলভার চেইন। এই মিনিমালিস্টিক লুকেই সে গোটা হলরুমের ক্রাউড থেকে টোটালি ডিফারেন্ট।সব মিলিয়ে তার মাঝে ফুটে উঠেছে ফ্ললেস বিউটি আর অ্যারিস্টোক্র্যাট টেস্টের এক পারফেক্ট ব্লেন্ড। আজকের ইনায়াতকে দেখে মনে হচ্ছে ফেয়ারিটেলের কোনো ক্যারেক্টার।
তবে এই স্টোরিতে কোনো প্রিন্স চার্মিংয়ের ওয়েট সে করছে না। কারণ ইনায়াত নিজেই নিজের কিংডম, নিজেই নিজের ওয়ারজোন।
অন্যদিকে অরু খুব ভালো করেই জানে আয়াজ অলরেডি ম্যারিড। এই ট্রুথটা বুকের ভেতর ছোট্ট একটা কাঁটার মতো বিঁধলেও সে এই বিয়েতে হ্যাপিলি রাজি হয়েছে। লাভ, পাওয়ার আর স্ট্যাটাস, এই তিনের মাঝে সে কখনো ভালোবাসাকে প্রায়োরিটি দেয়নি। আজ সে পরেছে একটা গর্জিয়াস ব্ল্যাক গাউন, কোমরে স্লিক বেল্ট, পেছনে লম্বা ট্রেইল ফ্লোরে গড়িয়ে চলছে। গলায় হেভি ডায়মন্ড নেকলেস, কানে ম্যাচিং ড্রপ ইয়াররিং, চুল হাই বানে সেট করা, এক ফোঁটাও মেসড আপ নয়। তার পুরো বডি ল্যাঙ্গুয়েজে এক ধরনের উইনিং কনফিডেন্স। মনে হচ্ছে ব্যাটল সে জিতেই গেছে, এখন শুধু ক্রাউনিং সেরিমনি বাকি।
অরুও অসম্ভব গর্জিয়াস, নো ডাউট। ইনায়াত দূর থেকে তাকে দেখে মনে মনে টেনের মধ্যে এইট রেটিং দিয়ে দেয়।
হলের এক কোণায়, ক্রিম কালার সিল্ক কার্টেনের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে ইনায়াত এক্সট্রিমলি বোরিং একটা ভাইব নিয়ে কেক খাচ্ছে। কেকের প্রতিটা বাইট মুখে তোলার সময় তার চোখ চারপাশ স্ক্যান করছে। ঠোঁটে হালকা বিরক্তি ঝুলে আছে এই গোটা ইভেন্টটাই একটা চিপ ড্রামা তার কাছে। তাকে জাস্ট ফরমালিটি মেইনটেইন করতে দর্শক হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে এখানে।
ওদিকে রেজ ফ্যামিলি, মানে অরুর সাইডের সবাই একে একে এন্টার করছে। এল্ডাররা ফরমাল স্মাইল এক্সচেঞ্জ করছেন, ইয়াং জেনারেশন ফিসফিস করছে নিজেদের ভেতর। পুরো রয়্যাল ফ্যামিলি এখন তাদের অ্যাটেন্ড করতে সুপার বিজি। হাসি, হাগস, শ্যাম্পেন টোস্ট, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, সব মিলিয়ে এক পারফেক্ট ফেক সিনারি এখন ক্রিয়েট হয়েছে।
ইনায়াত অলরেডি নাভিদকে এ টু জেড সব সব বলে দিয়েছে। বিয়ের রাত থেকে শুরু করে এই মোমেন্ট পর্যন্ত প্রতিটা ডিটেইল। নাভিদ তো আজই তাকে নিতে আসতে চেয়েছিল। ফোনের ওপার থেকে তার ভয়েসে ছিল সাপ্রেসড অ্যাঙ্গার, “তুই জাস্ট সিগন্যাল দে, আমি এখনই আসছি।” কিন্তু ইনায়াত তাকে স্ট্রিক্টলি প্রোহিবিট করেছে। কারণ আগামীকাল সে নিজেই এই হেলহোল থেকে চিরতরে চলে যাবে। নিজের টার্মসে, কারো সিমপ্যাথি বা সাপোর্ট ছাড়া।
এমআই সিক্স টিচার অফিসারস ডিপার্টমেন্ট থেকে তাকে একটা স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে। থ্রি উইকস মিশন। টার্গেট, টিনেজারদের ড্রাগস আর বুলিং ইস্যু। কভার আইডেন্টিটি হলো স্কুল টিচার। আন্ডারকাভারে থেকে এদের রাইট ট্র্যাকে ফেরানোই তার জব। আর দরকার পড়লে যাদের পানিশ করা প্রয়োজন, তাদের নিজের স্টাইলে হ্যান্ডেল করা। আগামীকাল থেকেই সে একটা স্কুলে জয়েন করবে। ঠোঁটে সফট স্মাইল, হাতে চক, চোখে শার্প অবজারভেশন। এই কভারটা তার প্রোফাইলের জন্য একদম পারফেক্ট।
তাই এই মুহূর্তে তার ডিভোর্সটা জরুরি। মিশন চলাকালীন এই ফ্যামিলি টক্সিসিটি সে একদমই টলারেট করতে রাজি নয়। নো ফোন কলস, নো টেক্সটস, নো সারপ্রাইজ ভিজিটস। আজ রাতের এই পার্টি তার কাছে জাস্ট একটা ফর্মালিটি, একটা লাস্ট অবস্টাকল, যেটা ক্রস করলেই সে টোটালি ফ্রি।
আয়াজ অরুর ঠিক পাশেই বসে আছে, ভেলভেট অ্যাপহোলস্টারির বার্গান্ডি চেয়ারে। ঠোঁটে স্মাইল, হাতে শ্যাম্পেন গ্লাস। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে দুনিয়ার সবচেয়ে হ্যাপিয়েস্ট পারসন সে। অরু কিছু বলছে, সে শুনছে, মাঝে মাঝে হাসছে। অথচ তার চোখ বারবার ক্রাউডের ভেতর ইনায়াতকে ট্র্যাক করছে। এক ধরনের ম্যাগনেটিক পুলে সে আটকে আছে, যা সে নিজেই কন্ট্রোল করতে পারছে না। কখনো শ্যান্ডেলিয়ারের নিচে, কখনো ফ্লোরাল আর্চের পাশে, কখনো গ্লাস উইন্ডোর কাছে দাঁড়ানো ব্ল্যাক ব্লেজার পরা মেয়েটার দিকে তার চোখ চলে যাচ্ছে অটোমেটিক্যালি।
অন্যদিন হলে অন্তত একবার হলেও তাদের আই কন্ট্যাক্ট হতো। কিন্তু আজ ইনায়াত তাকে পুরোদমে ইগনোর করছে। এত স্মুথলি, এত কোল্ডলি যে আয়াজের বুকের ভেতর কেউ মনে হয় আইস প্যাক চেপে ধরছে। একবারের জন্যও ইনায়াত আয়াজের দিকে তাকায়নি।ইনায়াতের কাছে তো আয়াজ নামের কারো এক্সিস্টেন্স এই হলরুমে নেই। আয়াজের মনে হচ্ছে তার আর ইনায়াতের মধ্যে গত কয়েকটা দিনের প্রতিটা টাচ, প্রতিটা আর্গুমেন্ট, প্রতিটা সাইলেন্ট নাইট একটা ইউজলেস পেপারের মতো ক্রাশ করে ট্র্যাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ঠিক সেই মোমেন্টে অরু ফিসফিস করে সে বলে ওঠে, “আমি জানতাম, ওর মতো লো ক্লাসের সাথে তোমার স্ট্যান্ডার্ড যায় না। আজ হোক বা কাল, তুমি যে ওকে ডাম্প করবে সেটা আমার জানা ছিল। তবে এত ফাস্ট সব হবে এক্সপেক্ট করিনি। আমাকে চুজ করাটা তোমার লাইফের বেস্ট ডিসিশন।”
ওদিকে ইনায়াতের পাশে এসে দাঁড়ায় এভা আর ফেইথ। দুজনের চোখেই কৌতুক আর তাচ্ছিল্যের মিশেল। ইনায়াতের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কিছুটা খোঁচা দেওয়ার সুরেই বলে,
“নাও, এবার শান্তি তো? দেখলে তো, তোমার হাসবেন্ডকে শেষমেশ অন্য কেউ নিয়েই নিল!”
ইনায়াত হাতের ছোট্ট কেকের প্লেটটা একটু নামিয়ে অত্যন্ত শান্ত, নির্বিকার দৃষ্টিতে ওদের দুজনের দিকে তাকায়। তার চোখে কোনো অস্থিরতা নেই, ঠোঁটে কোনো কম্পন নেই। গলায় কোনো আক্ষেপ নেই, বরং স্ট্যাবিলিটি নিয়ে সে বলে,
“দেখো, আমি এমন কারও সাথে থাকতে চাই না, যার পাশে দাঁড়ালে নিজের ক্লাস বা স্ট্যাটাস নিয়ে আমাকে ইনসিকিউরিটিতে ভুগতে হয়। আয়াজের জন্য অরুই বেস্ট। আমি তো আর ওর মতো নই। শি ইজ বিউটিফুল, ফুল অফ এলিগেন্স জাস্ট লাইক আ প্রিন্সেস! আর একজন প্রিন্সের পাশে তো একজন প্রিন্সেসকেই মানায়, তাই না? আমি সেখানে কেন যাব? আশা করি বুঝতে পারছ আমি কী মিন করছি।”
কথাগুলো বলার সময় তার গলার স্বর এতটাই ক্যাজুয়াল লাগে, যে মনে হচ্ছে সে আবহাওয়ার গল্প করছে।
এভা আর ফেইথ একে অপরের দিকে তাকায়। দুজনের মুখেই হঠাৎ যেন এক ধরনের অস্বস্তির ছায়া পড়ে। হতাশ মেশানো হাসির সাথে তারা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“বুঝতে পারছি। উইশ করি, তুমিও খুব জলদি তোমার মতো কাউকে পেয়ে যাবে।”
ইনায়াত কার্টেসি দেখিয়ে একটা হাসি দিয়ে মাথা নাড়ে। তার মুখে কোনো প্রটেস্ট নেই, কোনো এক্সপ্লানেশন নেই। এভা আর ফেইথ সামনে এগিয়ে যেতেই সে আবারও আপন মনে নিজের স্পেসে দাঁড়িয়ে কেক খেতে শুরু করে। কাঁটাচামচ দিয়ে আলতো করে কেকের ছোট্ট টুকরোটা মুখে তোলে,।
ঠিক তখনই ইনায়াতের পেছনে এসে দাঁড়ায় ফেলিক্স রেজ। অরুর বড় ভাই, এবং ইংল্যান্ডের বর্তমান ডিফেন্স সেক্রেটারি। তেত্রিশ বছর বয়সী এই হ্যান্ডসাম পুরুষ নিজের যোগ্যতা আর ফ্যামিলি পাওয়ারের জোরে এই বয়সেই ক্ষমতার চূড়ায় বসে আছে। গাঢ় নেভি ব্লু স্যুটে তাকে লাগছে কোনো ম্যাগাজিনের কভার থেকে নেমে আসা ক্যারেক্টার। চুলগুলো নিখুঁতভাবে ব্যাকব্রাশ করা, চোয়ালের রেখা ধারালো।
এটা যেহেতু একটা হাই-এন্ড এলিট ফ্যামিলি পার্টি এবং উপস্থিত প্রায় সবাই বেশ পাওয়ারফুল ফিগার, তাই এখানে আলাদা করে বডিগার্ডদের আনাগোনা নেই, সবাই বেশ রিল্যাক্সড ভাইবেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফেলিক্স বেশ কিছুক্ষণ ধরেই দূর থেকে ইনায়াতকে নোটিশ করছে। ভিড়ের মাঝে মেয়েটাকে অদ্ভুতভাবে আলাদা লাগে তার কাছে, ঠিক মনে হয় একগুচ্ছ গোলাপের ভিড়ে একটা সাদা বুনোফুল। ইনায়াতের কথাগুলোও তার কানে আসে। প্রতিটা শব্দ। এবং প্রতিটা শব্দই তাকে আরও বেশি কিউরিয়াস করে তোলে।
সোজা এসে ইনায়াতের সামনে দাঁড়ায় সে। স্বয়ং ডিফেন্স সেক্রেটারিকে নিজের এত কাছে দেখে ইনায়াত কিছুটা আনকমফোর্টেবল হয়ে দু’কদম পিছিয়ে যায়। হাতের প্লেটটা সামান্য কেঁপে ওঠে, যদিও সে দ্রুত নিজেকে সামলে নেয়।
ফেলিক্স তার স্বভাবসুলভ চার্মিং হাসি দিয়ে বলে,
“হ্যালো! আই অ্যাম ফেলিক্স রেজ। তোমার হাসবেন্ড. আই মিন, যার সাথে আমার বোনের বিয়ে হচ্ছে, তার বড় ভাই। তোমার নাম ইনায়াত, রাইট?”
কথাটা বলার সময় ‘হাসবেন্ড’ শব্দটাতে সে ইচ্ছে করেই একটু থামে, যাতে ইনায়াতের রিঅ্যাকশন পরখ করতে পারে। কিন্তু ইনায়াতের মুখে কোনো এক্সপ্রেশন চেঞ্জ হয় না।
ইনায়াত ভদ্রতার খাতিরে ঠোঁটে আলতো হাসি এনে ফেলিক্সের দিকে তাকায়। তার চোখজোড়া আবার আইসি ব্লু, তীব্র, শীতল এবং অসম্ভব অ্যাট্রাকটিভ। মনে হয় বরফে ঢাকা কোনো হ্রদের পানি, যার গভীরে কী লুকিয়ে আছে কেউ জানে না। শান্ত গলায় ইনায়াত শুধু বলে,”জি।”
মাত্র একটা শব্দ। তবু সেই শব্দের ভেতর এমন এক ডিসটেন্স রয়েছে, যেটা যে কেউ ফিল করতে পারে। বলেই সে ফেলিক্সের পাশ কাটিয়ে অন্য দিকে চলে যেতে চায়। কিন্তু ফেলিক্স তাকে থামিয়ে দিয়ে হঠাৎ বলে ওঠে,
“হেই ইনায়াত! ইউ লুক লাইক আ প্রিন্সেস ফ্রম আ ফেয়ারিটেল।”
এমন অপ্রত্যাশিত কমপ্লিমেন্টে ইনায়াত থমকে দাঁড়ায়। ঘাড় ঘুরিয়ে সোজা ফেলিক্সের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আপনি একজন মিনিস্টার। আর একজন মিনিস্টারের মুখে নিশ্চয়ই এ ধরনের কথাবার্তা মানায় না। মিস্টার রেজ, নিজেকে কন্ট্রোল করতে শিখুন।”
ফেলিক্স এই কথায় বিন্দুমাত্র দমে যায় না। বরং তার ঠোঁটের কোণে হাসিটা আরেকটু ডার্ক হয়। হাতের ক্রিস্টাল গ্লাসের ড্রিংকসে আলতো চুমুক দিয়ে ইনায়াতের যাওয়ার পথ আটকে দাঁড়িয়ে ক্যাজুয়াল টোনে বলে,
“মিসেস ওহ, সরি, এখন থেকে তো মিস। ওয়েল মিস, তুমি কিন্তু আমাকে ভুল বুঝছ। আমি যার-তার সাথে গায়ে পড়ে কথা বলি না। তোমাকে আমার কাছে অন্যদের চেয়ে ডিফারেন্ট লেগেছে, তাই কমপ্লিমেন্ট দিলাম। তাছাড়া, তুমি তো এমআই-সিক্সের টিচার্স ডিপার্টমেন্টে নতুন জয়েন করেছ, তাই না? সেই সূত্রেই মূলত কথা বলতে আসা।”
কথাটা শুনে ইনায়াতের ভ্রু সামান্য কুঁচকে যায়। একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে। ফেলিক্সের উদ্যোগেই এই টিচার্স ডিপার্টমেন্ট তৈরি হয়েছে, তাই ইনায়াতের জয়েনিং সম্পর্কে তার কাছে ইনফরমেশন থাকাটা খুব নরমাল। তবু এই মুহূর্তে এই ইনফরমেশনটা এভাবে রিভিল হওয়াটা সে চায় না। ইনায়াত তার শীতল চোখ জোড়া ফেলিক্সের আইসি ব্লু চোখে আটকে স্থির গলায় বলে,
“আমি রিকোয়েস্ট করব, আপনি এই ম্যাটারটা আপাতত হাইড রাখবেন। এখানকার কেউই আমার এই জব সম্পর্কে কিছু জানে না।”
ফেলিক্স মুচকি হেসে মাথা সামান্য কাত করে বলে,
“ওকে, ওকে! রিল্যাক্স, টেনশন নিও না। আমি প্রফেশনাল আর পার্সোনাল বিষয় সবসময় সেপারেট রাখি। বাই দ্য ওয়ে, চলো কোথাও বসে একটু শান্তিতে কথা বলা যাক?”
তার কণ্ঠে এমন এক ইজি চার্ম আছে, যেটা সাধারণ মেয়েদের গলিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ইনায়াত সাধারণ মেয়ে নয়। সে বিন্দুমাত্র টাইম ওয়েস্ট না করে একদম স্ট্রেটকাট জবাব দেয়,
“সরি স্যার, আমি এসব লাইক করি না। প্রফেশনাল কোনো ব্যাপার থাকলে ডিউটি আওয়ারে কথা হবে। ওকে? বাই।”
কথাটা ছুঁড়ে দিয়েই সে ফেলিক্সকে ক্রস করে গটগট করে হেঁটে চলে যায়। তার পায়ের শব্দে থাকে এক নিখুঁত সেলফ-রেসপেক্ট, যেটা পেছনে কাউকে ওয়েট করায় না।
ইনায়াতের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে ফেলিক্স চোখ বুজে জোরে একটা শ্বাস নেয়। হাতের গ্লাসটা একটু শক্ত করে ধরে। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক চিলতে মুগ্ধতার হাসি। এই মেয়েটা অর্ডিনারি নয়, এটা সে বুঝে গেছে। যে মেয়ে ডিফেন্স সেক্রেটারির মুখের ওপর এভাবে ডিরেক্ট ‘না’ বলে চলে যেতে পারে, সে নিঃসন্দেহে স্পেশাল। ইনায়াতকে তার বেশ মনে ধরেছে।
ওদিকে ইনায়াত পার্টি থেকে সোজা নিজের রুমে চলে আসে। দরজা লক করে এক মুহূর্ত দরজায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে সে। বুকের ভেতর জমে থাকা প্রেশারটা রিলিজ করার জন্য একটা লম্বা নিঃশ্বাস নেয়। তাকে এখন নিজের লাগেজ প্যাক করে নিতে হবে। এই বাড়ি, এই মানুষগুলো, এই আইডেন্টিটি সবকিছু থেকে আজ রাতেই তাকে সেপারেট হয়ে যেতে হবে।
আর এই পুরো সময়টায় দূরে একটা পিলারের আড়ালে দাঁড়িয়ে এই সিনগুলো দেখে আয়াজ। হাতের গ্লাসটা সে এমনভাবে ধরে রাখে, যে তাতে একটু চাপ পড়লেই কাচটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। রাগে তার কপালের রগ দপদপ করে ফুলে ওঠেছে। চোয়াল শক্ত, চোখ লাল। ইনায়াত কেন ফেলিক্সের সাথে কথা বলল? কেনই বা তার মুখে এক চিলতে হলেও স্মাইল ছিল? প্রতিটা প্রশ্ন তার ভেতরে গিয়ে বিঁধে ছুরির ফলার মতো। আয়াজের ভেতরটা রাগে আর জেদে রি-রি করে জ্বলছে।
মাত্র তিন দিন পরই অরুর সাথে তার এনগেজমেন্ট। সবকিছু পারফেক্ট, ফুল্লি প্ল্যানড। অথচ এখন, এই মুহূর্তে ইনায়াতকে অন্য কারও সাথে দেখে তার বুকে একটা চিনচিনে, আনডিফাইনেবল পেইন হয়। সেই পেইন এতটাই অদ্ভুত, এতটাই আনফ্যামিলিয়ার যে সে নিজেই বুঝতে পারে না এর নাম কী। সে বুঝতে পারে না, নিজের নেওয়া এই স্টুপিড ডিসিশনে কেন তার এত কষ্ট হয় আজ! আয়াজের এখন মনে হচ্ছে কেউ তার লাইফের সবচেয়ে ভ্যালুয়েবল আর ফেভারিট কোনো জিনিস জোর করে স্ন্যাচ করে নেয়, আর সেই ‘কেউ’টা হয়তো ফেলিক্স রেজ।
আয়াজ আর এক মুহূর্তও এই পার্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। হাতের গ্লাসটা পাশের টেবিলে নামিয়ে রাখে প্রায় ছুঁড়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে। বুকের ভেতর জমে থাকা সাফোক্যাটিং ফিলিং নিয়ে সে সবাইকে ফর্মাল ফেয়ারওয়েল জানিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়।
রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই আয়াজের পা জোড়া অদৃশ্য কোনো শিকলে আটকে যায় ফ্লোরের সাথে। চোখের সামনে যে দৃশ্যটা ভেসে ওঠে, সেটা দেখে তার বুকের ভেতর কেমন একটা চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়। ইনায়াত মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে আছে, সামনে খোলা পড়ে আছে একটা বড় লাগেজ। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে, একটা একটা করে নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখছে সে। পরনে তার ধবধবে সাদা ওভারসাইজড নাইট শার্ট আর ম্যাচিং ট্রাউজার। শার্টটা এত বড় যে কাঁধ থেকে একপাশে নেমে এসেছে, উন্মুক্ত করে দিয়েছে তার শুভ্র কণ্ঠনালীর কিছুটা অংশ। ইনায়াতকে এভাবে লাগেজ গোছাতে দেখে তার বুকের ভেতর হঠাৎ একটা শূন্যতার দমকা হাওয়া বয়ে যায়। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে ইনায়াতের ঠিক সামনে এসে দাঁড়ায়। লাগেজটার দিকে অস্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রেস্টলেস গলায় জিজ্ঞেস করে,
“কোথায় যাচ্ছ এই লাগেজ নিয়ে? হোয়াট ইজ গোয়িং অন?”
ইনায়াত হাতের কাজ থামায়। ধীরে ধীরে মাথা তুলে আইসি কোল্ড দৃষ্টিতে আয়াজের দিকে তাকায় ফ্ল্যাট, এক্সপ্রেশনলেস টোনে সে শুধু বলে, “অন্য রুমে শিফট হচ্ছি।”
কথাটা একটা ধারালো ছুরির মতো এসে বিঁধে আয়াজের বুকে। এক মুহূর্তের জন্য তার দম আটকে আসে সাডেন শকে সে বুঝতেই পারে না কী রিয়্যাক্ট করবে। গলা থেকে স্বর বেরোতে চাইছিল না, তাও সে আরও ডেসপারেট হয়ে বলে ওঠে,
“নো, প্লিজ! এই রুমেই থাকো। অন্য রুমে যাওয়ার কী দরকার?”
একটা আকুতি ঝরে পড়ছে আয়াজের বলা প্রতিটা শব্দ থেকে। কিন্তু ইনায়াতের কাছে এই আকুতি একটা সস্তা তামাশা মাত্র। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে একটা মকিং স্মাইল। সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা নেই, আছে শুধু তীব্র ব্যঙ্গ। চরম নির্লিপ্ত গলায় সে জবাব দেয়,
“অ্যাকচুয়ালি, এই রুমে থাকার কোনো লিগ্যাল রাইট আমার আর নেই। আমাকে আলাদা একটা রুম অ্যালোট করা হয়েছে, আই হ্যাভ টু মুভ দেয়ার।”
বলেই সে লাগেজের হাতলটা ধরে টেনে নিয়ে সামনে এগোতে চায়। কিন্তু আয়াজ তো তাকে যেতে দেবে না। সে হাত বাড়িয়ে ইনায়াতের পথ ব্লক করে দাঁড়ায়। তার চওড়া বুক, প্রশস্ত কাঁধ পুরো দরজার ভিউটা ঢেকে দেয়। নিচু কিন্তু কঠিন কণ্ঠে ও বলে,
“তুমি এখানেই স্টে করছ, রাইট নাও কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। আফটার ম্যারেজ যেও।”
কথাটা শোনামাত্র ইনায়াতের রাগের পারদ ছাদ ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। এই লোকটা কতটা হিপোক্রেট হতে পারে! একদিকে অরুর সাথে বিয়ের অ্যারেঞ্জমেন্ট, আবার অন্যদিকে তাকে এই রুমে আটকে রাখার ইচ্ছে! তবু নিজের কাঁপতে থাকা ঠোঁট দুটোকে কামড়ে ধরে, ভেতরের ঝড়টাকে কোনোমতে চাপা দিয়ে এক্সট্রিম অ্যানয়েন্স নিয়ে সে বলে,
“আপনার সাথে কথা বলে আমার ভ্যালুয়েবল টাইম ওয়েস্ট করার মতো মুড আমার নেই। আই অ্যাম নোবডি টু ইউ। আমাদের মাঝে এখন সব চ্যাপ্টার ক্লোজড, সব কানেকশন কাট অফ। সো, এক রুমে শেয়ার করার কোনো কোয়েশ্চেনই আসে না।”
প্রতিটা শব্দ পাথরের মতো এসে পডে আয়াজের বুকে। কথাগুলো শোনার পর তার বুকের ভেতরটা এক নিমিষে ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যায়। সে নিজেও বুঝতে পারছে না কেন এত পেইন হচ্ছে তার, কেন প্রতিটা নিঃশ্বাসে কাঁটা বিঁধছে। নিজের এই হেল্পলেসনেস, এই ভালনারেবিলিটি তার কাছে অপরিচিত। নিজের এই দুর্বলতাকে ঢাকতে সে রাগে দাঁত চেপে হিসহিস করে আয়াজ বলে ওঠে,
“রাইট! আমার সাথে কথা বলতে গেলেই তো তোমার মুড অফ হয়ে যায়, টাইম ওয়েস্ট হয়! আর ওই মিনিস্টারের সাথে যখন স্মাইলিং ফেস নিয়ে কথা বলো, তখন তো পুরো মুড অন থাকে, তাই না?”
ইনায়াত একটা ডিপ ব্রেথ নেয়। বুকটা ভারী হয়ে আছে তার অসহ্য বিরক্তিতে। চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছেড়ে তাচ্ছিল্যের সাথে বলে,
“হ্যাঁ, থাকে। তাতে আপনার কী প্রবলেম? আপনি আপনার ওয়াইফের কাছে যান না! এখানে কেন এসেছেন এই চিপ ড্রামা করতে?”
আয়াজের ভেতরের বাঁধটা এবার ভেঙে পড়ে। আউট অফ ফ্রাস্ট্রেশনে সে দুজনের মাঝখানে থাকা লাগেজটা এক ধাক্কায় সাইডে সরিয়ে দেয়। ধাতব শব্দ করে লাগেজটা গিয়ে আঘাত করে দেয়ালে। সেই শব্দে ইনায়াত চমকে ওঠার আগেই আয়াজ এক ঝটকায় তাকে নিজের গায়ের সাথে টেনে জড়িয়ে ধরে নেয়। দুই হাতে ইনায়াতের সরু বাহু শক্ত করে চেপে ধরে। এতটাই কাছে টেনে নেয় যে ইনায়াত তার বুকের প্রতিটা হিটবিট গুনতে পারছে। আয়াজের গরম নিঃশ্বাস এসে পড়ে ইনায়াতের কপালে। রাগে দাঁত কিড়মিড় করে সে বলে ওঠে,
“ইউ আর মাই ওয়াইফ! অরু এখনো আমার ওয়াইফ হয়নি, গট ইট? তুমি কেন ওই মিনিস্টারের সাথে কথা বলবে? সে যে তোমার ওপর ইন্টারেস্টেড, সেটা কি তোমার ওই স্টুপিড ব্রেইনে ক্যাচ করে না?”
ইনায়াত এবার আর সাইলেন্ট থাকে না। তার ভেতরে এতদিনের জমে থাকা অপমান, কষ্ট, রাগ সব একসাথে বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে। সে তার সমস্ত স্ট্রেন্থ একসাথে করে আয়াজের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। তারপর উল্টো এক ঝটকায় খামচে ধরে আয়াজের শার্টের কলার। ইনায়াত পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে নিজেকে কিছুটা উঁচু করে, ডিরেক্ট আয়াজেরয় চোখে চোখ রেখে দাঁত চেপে বলে,
“আমি যার সাথে ইচ্ছে কথা বলব, দ্যাটস নান অফ ইওর বিজনেস! আপনি কে আমার লাইফে ইন্টারফেয়ার করার? মিনিস্টার যদি আমাকে পছন্দ করে, লেট হিম ডু দ্যাট! দরকার হলে আমিও তাকে পছন্দ করব। এতে আপনার কী আসে যায়?”
“আমার আসে যায়! হেল লট অফ থিংস আসে যায়!” আয়াজ লাউড ভয়েসে চিৎকার করে ওঠে। তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। কপালের রগগুলো ফুলে উঠেছে। তার কণ্ঠে নেমে আসে এখন আকুতি,
“ডোন্ট পুশ মি ইনায়াত। এখনো টাইম আছে, আমার হয়ে যাও। বি দ্য মাদার অফ মাই চাইল্ড। আমি তোমাকে এই সোসাইটিতে রেসপেক্টের সাথে রাখব। আই ওন্ট ম্যারি অরু, ট্রাস্ট মি! কিন্তু তুমি যদি এখন আমাকে হারিয়ে ফেলো, ইউ উইল রিগ্রেট ইট বিগ টাইম।”
ইনায়াতের চোখে এক মুহূর্তের জন্য বিদ্যুৎ চমকে যায়। বি দ্য মাদার অফ মাই চাইল্ড! এত বড় অপমান! এত বড় হিপোক্রেসি! এই লোকটা তাকে শুধু একটা বেবি প্রোডিউসিং মেশিন হিসেবে দেখছে! সে আয়াজের কলারটা আরও ফোর্সের সাথে নিজের দিকে টেনে ধরে। ইনটেন্স হেট্রেড নিয়ে, প্রতিটা শব্দে বিষ ঢেলে বলে,
“আপনার মতো একটা থার্ড ক্লাস মেন্টালিটির মানুষকে হারিয়ে আমি নিজেকে ব্লেসড ফিল করব, জিরো রিগ্রেটস। আমি আপনার মতো মানুষের সাথে থাকতে চাই না, যারা মানুষের পার্সোনালিটি নয়, বরং তার ক্লাস জাজ করে। আর লিসেন, নেক্সট টাইম আমাকে টাচ করার সাহস করবেন না। এতদিন সাইলেন্ট ছিলাম কারণ আপনার একটা লিগ্যাল রাইট ছিল। বাট নাও, আমি এই বুলশিট বিহেভিয়ার একদমই টলারেট করব না।”
ইনায়াতের এই রেবেলিয়াস অ্যাটিটিউড, এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো চোখের দৃষ্টি আয়াজের ভেতরের টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি আর জেদকে দ্বিগুণ ট্রিগার করে দেয়। তার ইগো এই অপমান হজম করতে পারছে না। সে আরও ভায়োলেন্টলি ইনায়াতের সরু কোমর দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরে। এতটাই শক্ত যে ইনায়াতের মনে হলো তার পাঁজরগুলো বুঝি ভেঙে যাবে। নিজের চেস্টের সাথে তাকে চেপে ধরে আয়াজ বলে ওঠে,
“আই উইল টাচ ইউ! হোয়াট উইল ইউ ডু? তুমি এখনো আমার লিগ্যাল ওয়াইফ। আমার যখন যেখানে ইচ্ছে আমি তোমাকে টাচ করব!”
ইনায়াত আয়াজকে দুই হাতে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরানোর ডেসপারেট ট্রাই করে। কিন্তু ওয়েল বিল্ট আয়াজের ফিজিক্যাল স্ট্রেন্থের সাথে তার পক্ষে পারা সম্ভব না। যত পুশ করছে, ততই আয়াজ আরও কাছে টেনে নিচ্ছে তাকে। অন্য কোনো অপশন না পেয়ে, ইনায়াত তার ডান হাতটা টাইট করে মুঠি পাকায়। নিজের সমস্ত স্ট্রেন্থ সেই মুঠিতে এনে সজোরে এক পাঞ্চ মারে আয়াজের সুন্দর মুখটায়। দড়াম! শব্দটায় পুরো রুমে প্রতিধ্বনিত হয়।
জোরালো সেই পাঞ্চটা সরাসরি আঘাত করেছে আয়াজের ঠোঁটে।তার ফর্সা ঠোঁটের কোণ ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে চিবুক বেয়ে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আয়াজ ইনায়াতকে ছেড়ে দেয় না। উল্টো তাকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে নিজের বুকের সাথে। তার চোখে এখন একটা পাগলামি, একটা ডিভাইন অবসেশন। ঠোঁটের রক্ত মুছে নেওয়ার পরোয়াও সে করে না। দাঁত চেপে বলে ওঠে,
“আই ওন্ট লেট ইউ গো, ইনায়াত। নেভার। আমি তোমাকে ডিভোর্স দেব না। তুমি ওই মিনিস্টারের সাথে থাকতে চাও, তাই না? হাউ ডেয়ার ইউ?”
ইনায়াত তার বুকের ওপর শক্ত করে চাপা পড়ে আছে। আয়াজের হার্টবিটের পাগলপারা ছন্দ সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। সেই হার্টবিট তাকেও কেমন কাঁপিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সে নিজেকে কম্পোজ করে। আয়াজের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে একদম কোল্ড টোনে বলে,
“আমি আপনার মতো চিপ মেন্টালিটির নই যে কেউ অ্যাপ্রোচ করলেই তার সাথে চলে যাব। লিভ মি, আমার চোকিং ফিল হচ্ছে।”
কিন্তু আয়াজ মনে হচ্ছে এখন আর এই পৃথিবীতে নেই। সে এক অন্য জগতে চলে গেছে। সে কিছুই কেয়ার করে না। সে এক সাইকোপ্যাথের মতো ফোর্স করে ইনায়াতকে নিজের বুকের ভেতর আরও টাইটলি এনফোল্ড করে নেয়। ইনায়াতের ভেজা চুলের সফট পারফিউম তার নাকে এসে লাগে। সেই পারফিউম তাকে আরও পাগল করে তোলে।
আয়াজের হার্টবিট এখন ক্রেজির মতো রেস করছে। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর মতো শব্দ হচ্ছে। একটা ইনটেন্স ফিয়ার তাকে গ্রাস করে নেয় ধীরে ধীরে, ইনায়াত যদি সত্যিই দূরে চলে যায়, সে কি সারভাইভ করতে পারবে? এই মেয়েটাকে ছাড়া তার অস্তিত্ব কি অর্থহীন হয়ে যাবে না? তার মনে হতে থাকে তার শ্বাস আটকে আসছে। গলা চিপে আসছে অদৃশ্য কোনো ফাঁসিতে।
সে অরুকে বিয়ে করতে চায় না। চায় না, একদম চায় না! জাস্ট এই মোমেন্টে যদি ইনায়াত একবার, শুধু একবার বলে যে ‘আমি আপনাকে বেবি দেব’, তবে রাইট অ্যাওয়ে সব অ্যারেঞ্জমেন্ট ক্যানসেল করে দেবে আয়াজ!
ইনায়াতের এখন রাগে ব্লাড বয়েল করছে। মন চাইছে আয়াজকে পিটিয়ে শেষ করে দিতে এই অসহ্য পজেসিভনেসের জন্য। এদিকে আয়াজ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ইনায়াতকে আরও ইনটিমেটলি ফিল করছে। তার বুকের নরম উষ্ণতা, কোমরের সরু বাঁক, ভেজা চুলের গন্ধ, সব মিলিয়ে আয়াজ এক নেশায় আচ্ছন্ন। ইনায়াত একটু সরতেই সে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। কপাল ঠেকায় ইনায়াতের কপালে। নিজের নাকটা ঘষে দেয় ইনায়াতের নাকের ডগায়। ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে এক নেশাতুর কণ্ঠে,
“আমি বিয়েটা করব না ইনায়াত জাস্ট সে দ্যাট ইউ ওয়ান্ট টু স্টে উইথ মি। আমি সব ডেস্ট্রয় করে দেব অরুর সাথে।”
কথাটা বলেই সে পুরোপুরি ডিলিরিয়াস অবস্থায় চলে যায়। ইনায়াতের চাঁপা ফুলের মতো নরম মুখটাকে দুই হাতের আঁজলায় তুলে নেয়। তারপর তার ভালোবাসায় পাগল হওয়া ঠোঁট দুটো দিয়ে চুমু খেতে থাকে ইনায়াতের কপালে, চোখের পাতায়, নাকের ডগায়। প্রতিটা চুমুতে তার সমস্ত আকুতি, সমস্ত পাগলামি ঢেলে দিচ্ছে সে।
এক ডেসপারেট ক্রেভিং নিয়ে ওর ঠোঁট জোড়া ক্লেইম করতে চায় ইনায়াতের রসালো পেলব ঠোঁট দুটোকে। নিজের ঠোঁট থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তের দাগ লেগে যায় ইনায়াতের ফর্সা গালে, একটা রক্তিম চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে সে তার ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে। বিড়বিড় করে বলতে থাকে সে নেশাতুর কণ্ঠে,
“ইউ আর মাই ওয়াইফ অনলি মাইন অনলি মাইন ইনায়াত।”।”
তবে হ্যাঁ এই টাইট এমব্রেস, এই ডেসপারেট কিস, এই বুকভরা আকুতি কিংবা ইনায়াতের উষ্ণ স্পর্শ, এসবের পুরোটাই আসলে আয়াজের ইনটেন্স মেন্টাল ইনস্ট্যাবিলিটি থেকে ট্রিগার হওয়া একটা হ্যালুসিনেশন। একটা মিষ্টি বিষাক্ত স্বপ্ন। যা শুধু তার ভাঙাচোরা মনের গহীনে ঘটেছে, বাস্তবে নয়।
রিয়েলিটি কমপ্লিটলি ডিফারেন্ট। ইনায়াত যখন তাকে ওই সলিড পাঞ্চটা মারে তখনি সে আয়াজ কে সরিয়ে চলে যসশ নিজের রুমে।
ইনায়াতের ফেলে যাওয়া সেই এম্পটি স্পেসটার দিকে তাকিয়ে আয়াজ এখনো একটা প্রাণহীন স্ট্যাচুর মতো ফ্রিজ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখ দুটো ফাঁকা, শূন্য। ঠোঁটে এখনো রক্তের তাজা স্রোত। মুখে হাত ছুঁইয়ে রক্তের দিকে তাকায় সে। তারপর সেই হাতের রক্তের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত একটা হাসি হাসে। তার এই হ্যালুসিনেট করার পুরোনো সাইকোলজিক্যাল প্রবলেমটা আবার রিল্যাপস করেছে। মন এত ভেঙে গেলে মস্তিষ্কও হয়তো নিজেই নিজেকে প্রতারিত করতে শুরু করে।
তার সাবকনশাস মাইন্ড তীব্রভাবে চাইছে এখনই, এই মুহূর্তে ছুটে গিয়ে ইনায়াতকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতে। তার কোমল কাঁধে মাথা রেখে কান্না ভেজা গলায় বলতে, ‘তুমি আমার বউ, আমি আর কাউকে বিয়ে করব না। প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না ইনায়াত, আই নিড ইউ লাইক আই নিড অক্সিজেন।’
কিন্তু তার ভেতরে থাকা ম্যাসিভ ইগো! যে ইগো ছোটবেলা থেকে তার সাথে বড় হয়েছে, যাকে সে আগলে রেখেছে নিজের ঢালের মতো। নিজের প্রাইড আর অ্যারোগেন্সের কাছে সে আবারও সারেন্ডার করে নেয়। মনের এই কোমল, কাঁপতে থাকা ভালনারেবিলিটিকে রুথলেসলি ক্রাশ করে দেয় সে নিজের পায়ের নিচে।
তার মাথায় এবার এক ডার্ক জেদ চেপে বসে। তার চোখ দুটো লাল হয়ে ওঠে এক বিকৃত নিষ্ঠুরতায়। সে মেন্টালি ডিসাইড করে, সে এই বিয়েটা করবেই।
ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১৩
অরুকেই বিয়ে করবে, পুরো দুনিয়াকে দেখিয়ে দেবে যে ইনায়াত নামের মেয়েটার তার লাইফে কোনো ভ্যালু নেই। কিন্তু সাথে সাথে এটাও ঠিক করে, ইনায়াতকে সে কিছুতেই ডিভোর্স পেপার সাইন করতে দেবে না। কখনোই না। বরং তাকে নিজের লাইফে এক প্রকার কনকিউবাইন বা মিস্ট্রেস হিসেবে ক্যাপটিভ করে রাখবে! একটা সোনার খাঁচায় বন্দি পাখির মতো, যাকে সে যখন ইচ্ছে দেখবে, যখন ইচ্ছে ছুঁয়ে দেবে, কিন্তু কখনো মুক্তি দেবে না।
আয়াজের ঠোঁটে ফুটে ওঠে এক বিকৃত হাসি। রক্তমাখা সেই হাসিতে ভালোবাসা নেই, আছে শুধু পজেসিভনেসের বিষ।
