ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৯ (২)
মেহজাবিন নাদিয়া
বিয়ে বাড়ির ঝলমলে রোশনাই তখন চারপাশের পরিবেশকে এক কৃত্রিম, উৎসবমুখর চাদরে ঢেকে রেখেছে। শেখ ভিলার বিশাল লনজুড়ে সুগন্ধী ফুলের মালা, বর্ণিল আলো আর ডেকোরেশন। আমন্ত্রিত অতিথিদের কোলাহল, সুস্বাদু খাবারের সুবাস আর মৃদু আবহ সঙ্গীত-সবকিছু মিলিয়ে বাইরে থেকে মনে হচ্ছিল এটি একটি নিখুঁত, সুখী পরিবারের মিলনমেলা।
কিন্তু এই আলোকময় উৎসবের আড়ালে, এক বিশাল ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে বসে ছিল জেবা। ওকে লাল বেনারসি শাড়িতে সাজানো হয়েছে। মাথায় জড়োয়ার ওড়না, আর সারা গায়ে ভারী সোনার গয়নাগাটি। এই রূপ যেকোনো মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই অপরূপা কনের চোখের মণি দুটো সম্পূর্ণ নিষ্প্রাণ, যেন এক জ্যান্ত লাশের ওপর রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। গাঢ় মেকআপ আর কনসিলারের নিচে নিখুঁতভাবে লুকিয়ে ফেলা হয়েছে গতকাল নিজের হাতে নিজের গালে মারা সেই কালশিটে দাগগুলো। ঠোঁটের কোণের কাটার দাগটায় লিপস্টিকের প্রলেপ দেওয়া, কিন্তু ভেতরের ক্ষতটা আজ আরও শতগুণ তীব্র হয়ে ওর পুরো অস্তিত্বকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।
জেবা তার ডান হাতের আঙুলের দিকে তাকাল। সেখানে জ্বলজ্বল করছে সাদমানের দেওয়া হীরের আংটিটা। জেবা মনে মনে ভাবল, ‘মানুষ যাকে ভালোবাসে, তাকে কেন পায় না? আর যাকে কখনো সেই চোখে দেখেনি, সমাজ কেন তার গলাতেই এই সোনার শিকল পরিয়ে দেয়? বাবা… শুধু তোমার মুখের ওই একটুখানি হাসির জন্য, তোমার এই একমাত্র মেয়ে আজ নিজের আত্মাকে জীবন্ত কবর দিতে যাচ্ছে।’
ঠিক তখনই ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল আরা। আরার মুখে চওড়া হাসি। সে এসে জেবার কাঁধে হাত রেখে উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,
“বাহ্ জেবা! তোকে একদম পরীর মতো লাগছে রে। ভাইয়া সত্যিই খুব ভাগ্যবান। নিচে কাজী সাহেব চলে এসেছেন। অরি আর সারিম ভাইয়াও এসে গেছেন ওনাদের বাবার সাথে। মামা তো আরিশান আঙ্কেলকে পেয়ে একদম খুশিতে ফেটে পড়ছেন। চল, নিচে চল।”
‘আরিশান আঙ্কেল’-নামটা শোনামাত্রই জেবার বুকের ভেতরের একটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি যেন কেঁপে উঠল। ওনার আসার কথা ছিল তা সে জানতো। কিন্তু জেবা কীভাবে ওনার ওই তীক্ষ্ণ চাউনির সামনে দাঁড়াবে? ওনার ওই গম্ভীর, পিতৃত্বের চাউনি কীভাবে সহ্য করবে, যখন ও নিজে এক নিষিদ্ধ কামনাময় অনুভূতির অপরাধবোধে প্রতিনিয়ত পুড়ছে?
জেবা কোনোমতে নিজের চোখের জল আটকে ওড়নাটা টেনে মাথাটা আরও নিছু করে নিল। ও ধীর পায়ে আরার হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগল। প্রতিটি সিঁড়ি যেন ওকে এক অন্ধকার, অন্তহীন গহ্বরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
নিচের বিশাল হলরুমে তখন উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। সোফায় বসে আছেন এ দেশের ক্ষমতাধর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিশান মৃধা। ওনার পরনে একটি ধবধবে সাদা কটন পাঞ্জাবি ও পাজামা। ওনার কালো-সাদা দাড়ি, চশমার আড়ালে থাকা বাঘের মতো তীক্ষ্ণ চোখ আর আজন্মলালিত গাম্ভীর্য পুরো হলের পরিবেশকে এক অন্য স্তরের গরিমা এনে দিয়েছে। ওনার ঠিক পাশেই বসে আছেন সোলেমান শেখ। দুই বন্ধুর মুখে চওড়া হাসি। অনেকদিন পর সোলেমান শেখের মুখে এমন তৃপ্তির হাসি দেখা যাচ্ছে।
ওনার একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে অরি আর সারিম। অরির পরনে আছে একটি ফর্মাল শার্ট আর তার ওপর চমৎকার একটি কোট। ওর চোখ দুটো লালচে, বোঝাই যাচ্ছে গত রাতের ধকল এবং এক অজানা মানসিক যন্ত্রণায় ও ভেতর-ভেতরের শেষ হয়ে যাচ্ছে। সারিমের পরনে একটি গ্রে কালারের শার্ট আর প্যান্ট। ওর স্বভাবসুলভ সেই দুষ্টুমি বা বাঁকা হাসির লেশমাত্র আজ মুখে নেই। ওর চোয়াল শক্ত, চোখ দুটো টকটকে লাল এবং অবয়বে এক ভয়ঙ্কর জেদ খেলা করছে।
সাদমান এককোণে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে ওর ফর্মাল ব্লেজার-স্যুট। মুখে কোনো উচ্ছ্বাস নেই; একজন হার্ট সার্জন যেভাবে ওটিতে যাওয়ার আগে নিজেকে সম্পূর্ণ আবেগহীন করে ফেলে, সাদমানকে ঠিক তেমনই দেখাচ্ছিল। গতকাল ডক্টর আয়ুশের চেম্বারে জেবার ডায়েরির পাতা আর ওর ‘প্যাশনেট অবসেসিভ লাভ ডিসঅর্ডার’-এর সত্যটা জানার পর, সাদমানের ভেতরের প্রেমিক পুরুষটি এক রাতেই মরে ভূত হয়ে গেছে। এখন ও শুধু একজন বড় ভাই, যে তার বোনের এই ধ্বংসাত্মক নরকযন্ত্রণার প্রবণতা থেকে তাকে চিরতরে মুক্ত করতে চায়। তার জন্য যদি পুরো দুনিয়া উল্টে দিতে হয়, সাদমান তাতেও প্রস্তুত।
জেবাকে এনে হলরুমের মাঝখানের একটি সুসজ্জিত সোফায় বসানো হলো। কাজী সাহেব ওনার খাতা খুলে কলম ঠিক করলেন। সোলেমান শেখ এগিয়ে এসে জেবার মাথায় হাত রাখলেন,
“মা আমার… আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। তোকে যোগ্য মানুষের হাতে তুলে দিতে পারছি, এর চেয়ে বড় শান্তি একজন বাবার জন্য আর কী হতে পারে?”
জেবা মাথা নিছু করে রইল। ও এক পলক আরিশান মৃধার দিকে তাকাল। আরিশান মৃধা অত্যন্ত স্নেহভরে জেবার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। সেই হাসিতে ছিল শুধু এক পরম নির্ভরতা এবং বন্ধুর মেয়ের জন্য শুভকামনা। কিন্তু সেই পবিত্র দৃষ্টি দেখে জেবার বুকটা যেন চুরমার হয়ে গেল। ও মনে মনে চিৎকার করে বলতে চাইল, ‘আঙ্কেল, ওভাবে তাকাবেন না! ও চোখে পিতৃত্বের আলো ছড়াবেন না। আমি যে এক মহাপাপী, আমি মনে মনে আপনার ওই চওড়া কাঁধের আশ্রয় চেয়েছি!’
কাজী সাহেব গলা ঝেঁকে বললেন,
“তাহলে সোলেমান সাহেব, অনুমতি দিলে আমরা শুভ কাজটা শুরু করি? বর সাদমান শাহারিয়ার চৌধুরী এবং কনে জেবা সুলতানা শেখ…”
কাজী সাহেব বাক্যটি শেষ করার আগেই, হলরুমের মাঝখানে বজ্রপাতের মতো একটা শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো
“থামুন!”
শব্দটা সোলেমান শেখ বা কাজী সাহেবের কাছ থেকে আসেনি। ওটা এসেছে সারিমের কণ্ঠ থেকে। সারিম হুট করেই হলরুমের মাঝখানে এসে দাঁড়াল। ওঁর গলার তীব্র আওয়াজে পুরো ড্রয়িংরুমে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। আমন্ত্রিত অতিথিরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
আরিশান মৃধা ভ্রু কুঁচকে ছেলের দিকে তাকালেন। ওনার গম্ভীর কণ্ঠস্বরে কিছুটা বিরক্তি ফুটে উঠল,
“সারিম? এটা কী ধরনের অভদ্রতা? বসো এখানে।”
সারিম ওর বাবার কথার কোনো উত্তর দিল না, একচুলও নড়ল না। সে নিজের পকেট থেকে ওয়াকিটকির মতো একটা ডিভাইস বের করে কিছু একটা বলতেই, সাথে সাথে শেখ ভিলার সমস্ত প্রবেশদ্বার শশব্দে বন্ধ হয়ে গেল। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সারিমের স্পেশাল ফোর্স এবং ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডোরা এক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো হলরুমের চারপাশ ঘিরে ফেলল। প্রত্যেকের হাতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র।
বিয়েবাড়ির অতিথিরা ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন। সোলেমান শেখ আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন, ওনার মুখ ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেল,
“সারিম বাবা? এগুলো কী হচ্ছে? আরিশান, তোর ছেলে এসব কী করছে?”
আরিশান মৃধা চরম ক্ষোভে সোফা থেকে উঠতে চাইলেন,
“সারিম! তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? মিনিস্টারের প্রটোকল ফোর্সের অপব্যবহার করছ তুমি? ইমিডিয়েটলি এসব বন্ধ করো!”
কিন্তু আরিশান মৃধা সোফা থেকে ওনার শরীরটা পুরোপুরি সোজা করার আগেই, সারিম ওনার পেছনে এসে দাঁড়াল। চোখের পলকে, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই, সারিমের হাতের দুটো ধাতব বস্তু ‘ক্লিক’ শব্দে আরিশান মৃধার দুই হাতের কবজিতে আটকে গেল।
সবাই স্তব্ধ হয়ে দেখল, সারিম এ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বয়ং তার নিজের জন্মদাতা পিতাকে ওনার বসার চেয়ারের দুই পাশের হাতলের সাথে শক্ত করে হ্যান্ডকাফ দিয়ে বেঁধে ফেলেছে!
“সারিম!!!” আরিশান মৃধা গর্জে উঠলেন। ওনার ফর্সা মুখটা রাগে ও অপমানে টকটকে লাল হয়ে গেল। ওনার হাতের রগগুলো ফুলে উঠল, “তোমার এত বড় সাহস! তুমি নিজের বাবাকে হ্যান্ডকাফ পরাচ্ছো? আর ইউ আউট অব ইয়োর মাইন্ড?”
পুরো বিয়েবাড়িতে হইচই পড়ে গেল। সোলেমান শেখ তেড়ে এলেন সারিমের দিকে, “সারিম, ছাড়ো ওকে! আমার মেয়ের বিয়ে! এখানে এই তামাশা আমি বরদাস্ত করব না!”
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, এই পুরো ঘটনার মাঝে বর সাজে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। ওর মুখে কোনো বিস্ময় নেই, কোনো ভয় নেই। ও অত্যন্ত শান্ত পায়ে এগিয়ে এসে সোলেমান শেখের সামনে দাঁড়াল এবং ওনার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল।
“মামা, আপনি শান্ত হোন। যেখানে আছেন, সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন। আজকে এখানে কোনো তামাশা হচ্ছে না, আজকে এখানে একটা জীবনের সবচেয়ে বড় অস্ত্রোপচার হতে যাচ্ছে,” সাদমানের কণ্ঠ ছিল বরফের মতো ঠান্ডা।
সোলেমান শেখ ওনার ভাগ্নের এই রূপ দেখে আকাশ থেকে পড়লেন, “সাদমান? তুইও এদের সাথে আছিস? তুই তো জেবাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলি!”
সাদমান কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু এক পলক জেবার দিকে তাকাল, যে ভয়ে এবং আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে।
সারিম আরিশান মৃধার চেয়ারের ঠিক পাশে গিয়ে দাঁড়াল। ও হ্যান্ডকাফের চাবিটা পকেটে রেখে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ চোখে জেবার দিকে তাকাল। ওঁর চোখ দুটো যেন জেবার মেকআপ করা মুখের ভেতরের সব সত্য এক নিমেষে পড়ে ফেলল।
“জেবা সুলতানা শেখ! আমি তোমাকে একটা সোজা প্রশ্ন করব, আর তুমি সেটার সোজা উত্তর দিবে। কোনো লুকোছাপা না, কোনো সামাজিক ভণ্ডামি না।”
জেবা কাঁপতে কাঁপতে ওড়নাটা চেপে ধরল, “সারিম… সারিম ভাইয়া, প্লিজ…”
সারিম ওর দিকে এক পা এগিয়ে গিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল,
“জেবা, তুমি কি আমার বাবা আরিশান মৃধাকে ভালোবাসো? হ্যাঁ নাকি না? তুমি কি ওনার ওই গম্ভীর ব্যক্তিত্বের সঙ্গী হয়ে ওনার ছায়ায় নিজের বাকি জীবনটা কাটাতে চাও? সত্যিটা বলবে!”
এই একটা প্রশ্নে পুরো হলরুমের বাতাস যেন জমে বরফ হয়ে গেল।
আরিশান মৃধা ওনার ছেলের এই প্রশ্ন শুনে এতটাই স্তম্ভিত হলেন যে ওনার ক্ষোভ এক মুহূর্তে এক গভীর বিস্ময়ে রূপ নিল। ওনার মনে হলো ওনার কান দুটো কোনো ভুল শুনছে। ওনি অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে ওনার নিজের ছেলের দিকে তাকালেন,
“সারিম… তুমি এসব কী আবোলতাবোল বকছ? জেবা আমার মেয়ের মতো! ও আমার বন্ধুর মেয়ে! তোমার মগজ কি আসলেই পচে গেছে?”
সোলেমান শেখও আর সহ্য করতে পারলেন না। ওনার ধমনীতে রক্ত চড়ে গেল। ওনি চিৎকার করে জেবার দিকে তেড়ে যেতে চাইলেন,
“কীসের ভালোবাসা? কোন কুলাঙ্গার এই নোংরা কথা রটিয়েছে? আমার মেয়ে এই বুড়ো মানুষের প্রেমে পড়বে? জেবা, বল ওনাদের যে এগুলো মিথ্যা! বল!”
জেবা কোনো কথা বলতে পারল না। ও শুধু দুই হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। ও মার্বেল মেঝের দিকে তাকিয়ে মনে মনে আল্লাহর কাছে শুধু নিজের মৃত্যু কামনা করছিল। ও কীভাবে এই সবার সামনে নিজের সেই নিষিদ্ধ অনুভূতির কথা স্বীকার করবে? ও মুখ খুললেই যে ওনার বাবার সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে! ও মুখ খুললেই যে আরিশান আঙ্কেল tenderly ওকে এক ঘৃণ্য পাপী মনে করবে!
জেবাকে নীরব দেখে সারিম প্রচণ্ড রেগে টেবিলের ওপর একটা সজোরে থাপ্পড় মারল, “কথা বলো জেবা! মুখ খোলো!”
ঠিক একই সময়ে সাদমানও ওর শান্ত ভাব বজায় রাখতে পারল না। ও জেবার সামনে গিয়ে ওর কাঁধ দুটো শক্ত করে ঝাঁকুনি দিয়ে ধমকে উঠল,
“জেবা! অনেক হয়েছে নিজের ওপর এই নোংরা অত্যাচার! ডক্টর আয়ুশের ফাইলের প্রতিটি সত্য এখানে প্রকাশ পাবে। মুখ খোল, নয়তো আজ এখানে রক্তের নদী বয়ে যাবে! তুই কি আরিশান মৃধাকে ভালোবাসিস?”
সাদমানের এই রুদ্ররূপ আর কথাগুলো শোনামাত্রই জেবার ভেতরের সমস্ত বাঁধ এক নিমেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ও আর পারল না নিজের ভেতরের সেই এক বছরের নরকযন্ত্রণা চেপে রাখতে। ও মাথা তুলে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। ওঁর চোখ দিয়ে মেকআপ ধুয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।
“হ্যাঁ!!! হ্যাঁ, আমি ভালোবাসি ওনাকে!” জেবা পুরো হলরুম কাঁপিয়ে আর্তনাদ করে উঠল, “আমি ভালোবেসে ফেলেছি আরিশান আঙ্কেলকে! আমি ওনার ওই সুরক্ষাকারী পিতার রূপ, ওনার ওই গম্ভীর ব্যক্তিত্বের অতল গহ্বরে ডুবে গেছি। আমি শুধু চেয়েছিলাম ওনার জীবনের বাকি বছরগুলো ওনার সেবার অধিকার পেতে, ওনার ছায়ায় থেকে মরতে! হ্যাঁ, আমি ওনাকে ভালোবাসি!”
জেবার এই বুকচেরা স্বীকারোক্তি শেষ হতেই পুরো বিয়েবাড়িতে এক শ্মশানের নীরবতা নেমে এল।
সোলেমান শেখ যেন আকাশ থেকে পড়লেন। ওনার চারপাশের সবকিছু ঘুরতে লাগল। ওনি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ওনার আঠারো বছরের কচি মেয়ে, ওনার চোখের মণি, ওনারই পঞ্চান্ন বছর বয়সী বন্ধু আরিশান মৃধার প্রেমে পড়েছে? ওনি কাঁপতে কাঁপতে নিজের বুকে হাত দিয়ে জেবার দিকে তেড়ে আসতে চাইলেন,
“তুই… তুই একটা কলঙ্ক! তুই আমার মুখে চুনকালি দিলি! আমি তোকে আজ মেরেই ফেলব…”
কিন্তু সোলেমান শেখ জেবার গায়ে হাত তোলার আগেই, সাদমান ইশারা করল। সাথে সাথে ওখানকার দু-তিনজন জোয়ান কমান্ডো সোলেমান শেখকে শক্ত করে ধরে পাশের একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। ওনার হাত দুটো চেপে ধরে রাখা হলো যাতে ওনি নড়তে না পারেন।
“মামা! শান্ত হোন। আপনি আপনার মেয়ের ভেতরের জ্যান্ত কবরটা কোনোদিন দেখতে পাননি। টাকার পাহাড়ে ওকে একা ফেলে রেখেছিলেন, ও কার সুরক্ষার খোঁজে ওই পঞ্চান্ন বছরের মানুষের ব্যক্তিত্বে আশ্রয় নিয়েছে, তা বোঝার ক্ষমতা আপনার কোনোদিন ছিল না!” সাদমান ওনার মামার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত কঠিন গলায় বলল।
আরিশান মৃধা জেবার মুখের এই স্বীকারোক্তি শুনে ওনার জীবনের সমস্ত নীতি, আদর্শ আর গাম্ভীর্যের ভিত নড়ে যেতে দেখলেন। ওনার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। ওনি বাকরুদ্ধ হয়ে জেবার দিকে তাকিয়ে রইলেন। ওনার ভেতরের পিতৃত্বের অবয়বটা এক মুহূর্তে এক চরম অস্বস্তি আর লজ্জার চাদরে ঢেকে গেল। ওনি তীব্র ক্ষোভে ওনার দুই হাত হ্যান্ডকাফ থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে সারিমের দিকে তাকালেন।
“সারিম! তুমি এই নোংরামি বন্ধ করো! ও একটা বাচ্চা মেয়ে, ও মানসিক বিকারগ্রস্ত! ও কী বলছে ও নিজেই জানে না। তুমি ইমিডিয়েটলি চাবি দিয়ে এটা খোল, না হলে আমি আজ তোমাকে ত্যাজ্যপুত্র করব!” আরিশান মৃধা ওনার বজ্রকণ্ঠে গর্জে উঠলেন।
কিন্তু সারিম ওর বাবার এই অগ্নিমূর্তিতে বিন্দুমাত্র ভয় পেল না। ও বাঁকা হেসে কাজী সাহেবের দিকে তাকাল,
“কাজী সাহেব, পরিবর্তন করুন। বরের নামের জায়গায় লিখুন—আরিশান মৃধা। আজ এই বিয়েই হবে!”
“হোয়াট?!!!” আরিশান মৃধা আর সোলেমান শেখ দুজনেই একসাথে চিৎকার করে উঠলেন।
“সারিম, তুমি কি উন্মাদ হয়ে গেছো? তুমি তোমার বাবার সাথে এই বাচ্চার বিয়ে দিবে? নিজের মাকে এতো সহজে ভুলে যাচ্ছ, সমাজ কি ভাববে তা একবারও ভেবে দেখেছ?” আরিশান মৃধা রাগে কাঁপছিলেন।
সারিম ওনার দিকে ফিরে তীব্র গলায় বলল,
“সমাজ? সমাজ ধুয়ে কি আমি জল খাব, বাবা? মাকে আমি এক সেকেন্ডের জন্যও ভুলিনি, বাবা! মাকে ভুলিনি বলেই তো আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সমাজ একটা আঠারো বছরের মেয়েকে প্রতিদিন ভেতরে ভেতরে মরে যেতে বাধ্য করে, সেই সমাজকে আমি পরোয়া করি না। আরিশান মৃধা কখনো লসে ব্যবসা করে না, এটা তোমারই শেখানো বুলি। জেবা যদি সাদমানকে বিয়ে করত, তবে ওদের জীবন ধ্বংস হতো—সাদমানের, জেবার এবং পরোক্ষভাবে তোমারও। কারণ জেবা কোনোদিন সাদমানকে মনে নিতে পারত না। তার চেয়ে ভালো, তুমি ওকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করো। তোমার জীবনের একাকীত্বও দূর হবে, আর জেবাও এক নতুন জীবন পাবে।”
আরিশান মৃধা ওনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অরির দিকে তাকালেন। অরি এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। আরিশান মৃধা অত্যন্ত কাতর গলায় বললেন, “অদ্রিজা… তুমি এই অন্যায় কীভাবে মেনে নিচ্ছো?”
অরি আরিশান মৃধার দিকে তাকাল। ওর বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছিল। অরি ওর বাবাকে কতটা ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে, তা ও নিজেই জানে। কিন্তু গত রাতে রুমে বাবার সেই মানসিক বিভ্রান্তি দেখার পর ও বুঝে গেছে, ওর বাবারও একজন জীবনসঙ্গীর কতটা প্রয়োজন। অরি নিজের চোখের জল মুছে বাবার দিকে সোজা তাকিয়ে বলল, “বাবা… আমি আর ওনি যা করছি, তা তোমার এবং জেবার ভালোর জন্যই করছি। বাবা, প্লিজ তুমি রাজি হয়ে যাও।”
অরির মুখ থেকে এই কথা শোনার পর আরিশান মৃধা যেন সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। ওনার নিজের সন্তান ওনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ওনাকে এই অসম বয়সের, এই সামাজিক নিয়মের বাইরের একটা বিয়েতে বাধ্য করছে! ওনি বিস্ময়ে, অপমানে আর তীব্র যন্ত্রণায় নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে নিলেন।
কাজী সাহেব কাঁপাকাঁপা হাতে খাতা ঠিক করলেন। সারিমের এই রূপ আর চারপাশের কমান্ডোদের অস্ত্র দেখে ওনার কলম কাঁপছিল। ওনি অত্যন্ত মৃদু স্বরে আরিশান মৃধার দিকে তাকিয়ে বললেন, “মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়… আপনি কি বিশ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া, সোলেমান শেখের কন্যা জেবা সুলতানাকে নিজের বিবাহিতা স্ত্রী হিসেবে… কবুল করিবেন?”
“কখনো না!!!” আরিশান মৃধা ওনার চোখ মেলে সিংহের মতো গর্জে উঠলেন,
“আমি এই বিয়ে মানব না! কবুল আমি বলব না! সারিম, তুমি আমার লাশ নিয়ে যেতে পারো এখান থেকে, কিন্তু আরিশান মৃধা নিজের নীতি কোনোদিন ভাঙবে না!”
পুরো বিয়েবাড়ির পরিবেশ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল। সোলেমান শেখ চেয়ার থেকে ওঠার জন্য ছটফট করতে লাগলেন, কিন্তু কমান্ডোদের গ্রিপ এতটাই শক্ত ছিল যে ওনি নড়তে পারলেন না।
ঠিক তখনই, সেখানে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের হৃদপিণ্ডের গতি এক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ করে দিয়ে, একটি ধাতব মেকানিজমের সুপরিচিত, শীতল শব্দ পুরো হলরুমে প্রতিধ্বনিত হলো।
সারিমের ডান হাতের শক্ত গ্রিপে মুহূর্তে সূর্যালোকে চকচক করে উঠল একটা লোডেড ‘কোল্ট রিভলভার’। ওঁর হাতটি কাঁপছে না, ওঁর চোখ দুটো যেন টকটকে লাল রক্তে ভেসে যাচ্ছে। কপাল দিয়ে অনবরত ঝরছে ঘাম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই রিভলভারের মারণ নলটি ও ওনার বাবার দিকে তাক করেনি; ওটা অত্যন্ত শক্তভাবে চেপে ধরে আছে নিজেরই ডান কানের ঠিক ওপরে, নিজের মাথায়!
“সারিম!!!” আরিশান মৃধা ওনার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলেন। ওনার সেই আজন্মলালিত গাম্ভীর্য, ওনার অহংকার, ওনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা—সবকিছু এক নিমেষে ধুলোয় মিশে গেল যখন ওনি দেখলেন ওনার একমাত্র ছেলে নিজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছে। ওনি ওনার হ্যান্ডকাফ পরা হাত দুটো দিয়ে চেয়ারের হাতল শক্ত করে চেপে ধরে ওনার গম্ভীর কণ্ঠস্বরকে যথাসম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করে বললেন,
“সারিম! মাথা খারাপ করো না। নামাও ওটা! ওটা একটা লোডেড গান। নামাও বলছি!”
কিন্তু আরিশান মৃধার ভেতরের সেই চাপা উদ্বেগ, ওনার পিতৃত্বের তীব্র ভয় ওনার হাত দুটোর মৃদু কম্পনেই স্পষ্ট প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছিল। ওনি কোনোদিন কোনো পরিস্থিতিতে এভাবে ভেঙে পড়েননি, কিন্তু আজ ওনার নিজের ছেলের জীবন ওনার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলছে।
“আমি একচুলও নড়ব না বাবা! আর এই বন্দুকও আমার মাথা থেকে নামবে না!” সারিম গর্জে উঠল, ওঁর গলার আওয়াজ পুরো রুমের প্রতিটি দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হলো। ওঁর আঙুলটা রিভলভারের ট্রিগারে শক্ত হয়ে বসে আছে।
“আজ তোমাকে তোমার এই ভুয়ো নীতি আর আদর্শের শেষ সিদ্ধান্ত দিতেই হবে। হয় তুমি এই মুহূর্তে জেবাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে ওকে ‘কবুল’ বলবে, না হলে এই তোমার একমাত্র ছেলের মাথার মগজ এই দেওয়ালে ছিটকে পড়তে দেখবে! চয়েস ইজ ইয়োরস, মিস্টার আরিশান মৃধা! আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না!”
জেবা এই দৃশ্য দেখে আর নিজের জায়গায় স্থির থাকতে পারল না। ও ওখান থেকে দৌড়ে এসে সারিমের পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। ওঁর লাল বেনারসির আঁচল মাটিতে লুটিয়ে পড়ল, জড়োয়ার গয়নাগুলো ঝনঝন করে উঠল। ও ডুকরে কেঁদে উঠে সারিমের পা জড়িয়ে ধরে বলল,
“সারিম ভাইয়া, দোহাই লাগে আপনার! দোহাই আল্লাহর, এমন আত্মঘাতী কাণ্ড করবেন না! আমার মতো একটা পাপী মেয়ের জন্য নিজের মাথায় বন্দুক ধরবেন না! আমি… আমি চলে যাব এখান থেকে। আমি এই শহর ছেড়ে, এই দেশ ছেড়ে চিরতরে চলে যাব। আমি আর কোনোদিন আরিশান আঙ্কেলের সামনে আসব না, ওনাকে নিজের এই মুখ দেখাব না। প্লিজ, আপনার পায়ে পড়ি, বন্দুকটা নামান! আঙ্কেলকে বাধ্য করবেন না!”
জেবার এই কান্না আর আর্তনাদ পুরো বিয়েবাড়ির বাতাসকে ভারী করে তুলল। অরি ওখান থেকে চিৎকার করে কেঁদে উঠে সারিমের দিকে এগিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু সারিম বাঁ হাত দিয়ে ইশারা করে ওকে থামিয়ে দিল, “চন্দ্রিমা , এক পাও এগোবে না!”
সাদমান এতক্ষণ শান্ত থাকলেও, ওঁর কপালেও এবার ঘামের ফোঁটা দেখা দিল। ও ওর পকেট থেকে হাত বের করে সারিমের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় গলায় বলল, “সারিম, কাম ডাউন। আঙ্কেল কবুল বলছেন।”
আরিশান মৃধা ওনার জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। ওনি এক পলক তাকালেন নিচে রক্তাক্ত চোখে কেঁদে চলা জেবার দিকে, যার অবদমিত ভালোবাসার আকুলতা আজ ওনার ছেলেকে আত্মহত্যার মুখে দাঁড় করিয়েছ। আর এক পলক তাকালেন ওনার নিজের কলিজার টুকরো সারিমের দিকে, যার চোখে এই মুহূর্তে শুধু মৃত্যু আর উন্মাদ জেদ খেলা করছে।
নীতি? আদর্শ? সমাজ? বন্ধু?
এই সবকিছু কি ওনার একমাত্র ছেলের লাশের চেয়ে বড় হতে পারে? একজন পিতা কি ওনার নিজের চোখের সামনে ওনার সন্তানের মাথা উড়ে যেতে দেখতে পারেন? ওনার সমস্ত অহংকার, ওনার পঞ্চান্ন বছরের কঠোর ব্যক্তিত্ব আজ ওনার নিজের ছেলের এই চরম ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতজানু হতে বাধ্য হলো।
আরিশান মৃধার চোখ দিয়ে ওনার জীবনে প্রথমবার এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে ওনার কাঁচা-পাকা দাড়ির ওপর পড়ল। ওনি একটি দীর্ঘ, বুকচেরা শ্বাস নিলেন। ওনার গলার সেই বজ্রকণ্ঠ আজ এক অদ্ভুত একাকীত্ব আর পরাজয়ের গ্লানিতে ভেঙে এল।
ওনি কাজী সাহেবের দিকে না তাকিয়েই, চোখ বন্ধ করে অত্যন্ত ধীর কিন্তু স্পষ্ট গলায় বললেন
“কবুল… কবুল… কবুল।”
এই তিনটি শব্দ হলরুমে উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে সারিম ওর মাথা থেকে রিভলভারটি নামিয়ে নিল। ও এক দীর্ঘ অবরুদ্ধ শ্বাস ছাড়ল, ওঁর পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে। কাজী সাহেব কাঁপতে কাঁপতে খাতায় সই নিলেন।এরপর জেবার দিকে তা এগিয়ে দিলেন, জেবা চোখ দুটো বন্ধ করে একটা লম্বা নিশ্বাস ছাড়ল, এরপর তিনবার কবুল বলে খাতায় সই করে দিল।
সোলেমান শেখ চেয়ারে বসেই ওনার দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ শক্ত করে চেপে ধরে রইলেন। ওনার আজন্মের বন্ধু আরিশান মৃধা আজ ওনার মেয়ের স্বামী, ওনার জামাতা! এই সামাজিক জটিলতা, এই অসম বয়সের অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ে ওনারা কীভাবে এই সমাজের সামনে নিয়ে দাঁড়াবেন, তা ওনার জানা ছিল না।
কমান্ডোরা আরিশান মৃধার হাতের হ্যান্ডকাফটি খুলে দিল।
ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৯
মুক্ত হতেই আরিশান মৃধা সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। ওনার ধবধবে সাদা পাঞ্জাবিতে আজ এক নতুন সম্পর্কের অমোচনীয় দাগ লেগে গেছে। ওনি ওনার ছেলের দিকে একবারও তাকালেন না, ওনি সোলেমান শেখের দিকেও তাকালেন না।
ওনি অত্যন্ত ধীর কিন্তু ভারী পায়ে নিচে বসে থাকা জেবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। জেবা তখনো মেঝেতে বসে কাঁপছিল, তার চোখের জল আর মেকআপ মিলেমিশে একাকার।
