Home উন্মাদনা উন্মাদনা পর্ব ১২

উন্মাদনা পর্ব ১২

উন্মাদনা পর্ব ১২
কায়নাত খান কবিতা

__বাপ ছাড়া বাচ্চা হইলে জাও** উপাধি পাইবো। বাসায় যাইয়া গিলিস।”
মেডিসিনটা শক্ত করে ধরে অভীর রুম থেকে বেরিয়ে পরে আনন্দী। দ্রুত পায়ে রুম থেকে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে এক মেয়ে লোকের সাথে ধাক্কা খায় সে। সামনা-সামনি তাকাতেই সামনে থাকা মেয়েটি কপাল কুঁচকে তাকায় আনন্দীর দিকে। পা থেকে মাথা অব্দি পরখ করতে থাকে তার। আনন্দীর ভীষণ আনইজি ফিল হয়।একটি মেয়ে মানুষ তাকে এমন ভাবে দেখছে যেন গিলে খাবে। তার মুখের ভঙ্গিমা বলে দিচ্ছে আনন্দীকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে সে। মেয়েটি এক হাত দেয়ালে রেখে আনন্দীর উদ্দেশ্যে বলে,

___তুই কোন খেতের মুলা ছেমড়ি? চাঁদের এহানে কাম কী তোর?
আনন্দী কোনো কথার দিলো না। মূলত দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। কারণ সামনে থাকা মেয়েটির গায়ের বিশ্রি গন্ধ এবং অদ্ভুত সাজসজ্জা দেখে যে কেউ বলে দেবে সে ভালো মেয়ে লোক নয়।
অবশ্য অভীর কাছে কোনো ভালো পরিবারের মেয়ে আসবে না। হয়তো কোনো বা’জারি মেয়ে মানুষই এটা।
উত্তর না পেয়ে বিলকিস হাতে তুড়ি বাজিয়ে বলে,
__কিলো ছেমড়ি! কস না ক্যান?”
বিলকিসের কথার উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে সাইট কাটিয়ে চলে যায় আনন্দী। এসব বা’জারি মেয়ে লোকের সাথে দাড়িয়ে থাকতে ও তার গা ঘিনঘিন করে ওঠে।
আনন্দীকে তাড়াতাড়ি করে যেতে দেখে, হাতের বিশাল বড় টিফিন বক্সটি শক্ত করে ধরে অভীর রুমের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে বিলকিস। আজ বিলকিস তার হাতের স্পেশাল বিরিয়ানি বানিয়ে তার চাঁদের জন্য এনেছে। কোথাও একটা শুনেছিলো সে, পুরুষের মনের যাত্রা তার পেট থেকে শুরু হয়। ভালো রান্না করে মন জয় করে তবেই তাকে নিজের করে পেতে হয়। সে জন্য বিলকিস প্রায় প্রতি শুক্রবারে অভীর জন্য রান্না করে নিয়ে আসে। তার ঘর-দোয়ার পরিষ্কার করে দেয়। কাপড়চোপড় ধুয়ে দেয়। জুতো মুছে দেয়। পুরো এক সপ্তাহের জন্য অভীর সমস্ত কিছু সে করে দিয়ে যায়। কিন্তু তারপর ও অভী তাকে কখনো কাছে ডাকেনি। সুযোগ পেয়ে ও বিছানায় নিতে চায় নি।

অভীই একমাত্র পুরুষ যার কাছে বিলকিসের মতো সস্তার মেয়েটি ও নিরাপদ।
মনে হাজার খানেক চিন্তা নিয়ে দরজা না নক করেই অভীর কক্ষে ঢুকে পরে বিলকিস। তার অশান্ত মন আরো বেশি অশান্ত হয় অভীর এলোমেলো খাটটি দেখে। অভীর কোমরে শুধু মুন্ডু প্যাচানো। শরীরে কোথাও কাপড়ের লেস মাত্র নেই। বুকটা হঠাৎ করেই ভারি হয়ে ওঠে তার। তাহলে কী তার চাঁদ তারই অগোচরে অন্য কারো আাকাশে উদয় হলো?
খুব জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে বিলকিস। চারপাশে নজর বুলিয়ে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক তখনই অভীর রাশভারি কন্ঠস্বর ভেসে আসে__ কী-রে বাইজী! তুই এহানে?”
এক পাশ হয়ে বিলকিসের দিকে তাকিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে অভী। দরজা খোলার আওয়াজে বেশ অনেকক্ষণ আগেই অভী টের পেয়েছিলো কেউ এসেছে তার কক্ষে। তবে ক্লান্ত থাকায় একটু সময় নিয়েই পিছনে ফেরে সে। এবং পিছনে ফিরতেই বিলকিসকে চোখে পড়ে তার। একটা বিশাল টিফিন বক্স নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে।

অভীর কথার তৎক্ষনাৎ কোনো উত্তর না দিয়ে টিফিন বক্সটি টেবিলের একপাশে রেখে মাথার ঘোমটাটি খুলে বিলকিস সুধায়, __মাইয়াডা কেডা ছিলো রে চাঁদ?”
বিলকিসের কথা শুনে অভী ফোন বন্ধ করে বলে, __আমার জাত শত্রু।”
__তোর শরীরে কোনো কাপড় নাই ক্যান?”
অভী উঠে মুন্ডু ঠিক করতে করতে বলে, __আকাম করছি অনেক ক্ষণ ধইরা। তাই কাপড় নাই।”
অভী খুব জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকে। তার হাসি দেখে বিলকিস বলে, __মজা করিস না চাঁদ।”
__তুই কী আমার বেইয়ায় লাগোস। মজা করুম। যা সর।”
বিলকিসকে সাইট কাটিয়ে অভী ওয়াশরুম ঢুকে পরে। এতো কিছুর পর একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার তার। শরীরের শান্তি তো পেয়ে গেছে সে। এখন একটু মনের শান্তি ও দরকার। অভী ওয়াশরুমে গিয়ে ঝর্না ছেড়ে দিয়ে খুব জোড়ে জোড়ে গলা ফাটিয়ে গান গাইতে থাকে। যার স্পষ্ট ধ্বনি বাইরে অব্দি শোনা যাচ্ছিল। অভী প্রায় সময়ই গোসলে গেলে গলা ছেড়ে গান গায়। তবে এই প্রায় সময়টি শুধু মাত্র তার মন যখন ভালো থাকে, তখনই আসে। অভীর এই স্বভাবটির সম্পর্কে বিলকিস ও অবগত। তার জানা রয়েছে অভীর এউ স্বভাবের কথা। কিন্তু বিলকিসের মনে অন্য এক আশঙ্কা ভর করতে থাকে। তার মন একটা কু ডাক ডাকতেই থাকে।

অভী যতক্ষণ ওয়াশরুমে থাকে, ততক্ষণে বিলকিস পুরো ঘর-দোয়ার সুন্দর মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলে। অভীর বিছানা থেকে শুরু করে কাপড়চোপড়, জুতো, ড্রেসিং টেবিলে তার ব্যবহার করার জিনিস সামগ্রী, সব কয়টা জিনিস সে গুছিয়ে রাখে। তারপর ময়লা কাপড় গুলো একত্র করে রাখে। অভী বের হলে ধুয়ে দেবে।
বিলকিসের কাজের ব্যাঘাত ঘটে নোবেলের হুট করে ঘরে প্রবেশ করার ফলে। ভ্রু কুঁচকে বিলকিস নোবেলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, __ঘাটের মরা! এহানে কিতা কাজ তোর?”
নোবেল কোনো কথার উত্তর আওড়ালো না! বরং বিলকিসের পানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। নোবেলের এমন তাকিয়ে থাকা দেখে বিলকিস পূনরায় সুধায়, __কীরে! কালার বংশধর। কান কী কু’ত্তারে খাওয়ায়সোস?”
নোবেল মাথা নেড়ে বলে, __নাহ! তা না! তোরে অনেক সুন্দর লাগতাছে বিলকিস।”

_থ্যাঙ্কস! বাইর হ।”
__শুধু থ্যাঙ্কস?”
__না! বিয়া করমু তোরে চল মদনা।”
__আমি তো রাজী।”
__এ্যাঁ?”
নোবেল এবং বিলকিসের কথোপকথনের মাঝেই ওয়াশরুম থেকে মাথা মুছতে মুছতে বের হয় অভী। পরনে শুধু মুন্ডু এবং হাতা কাটা সেন্টো গেঞ্জি। সমস্ত শরীর পানিতে ভিজে একাকার। বিলকিস শুকনো ঢোক গিলে বলে,___কাড়াক নাজারা!”
মাঝ থেকে নোবেল বলে ওঠে, __ভাই। লোক দিয়ে পাঠাইছি ছেমড়ি রে।”
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে অভী বলে, __সোয়াবের কাম করছোস।”
অভীর ব্যাঙ্গ করা দেখে বিলকিস ফিক করে হেঁসে ওঠে। অভী কথায় কথায় এমন কথা বলে, যেটা শুনে সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তিটির কথায় বন্ধ হয়ে যায়।
চুল গুলো সেট করে অভী নিজের গলার দিকে তাকায়। সম্পূর্ণ গলায় একটি চিহ্ন ও নেই। কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থাকে সে নিজের গলার দিকে। এতো মেহনত করলো অথচ ফল পাবে না? তার তো একটা সম্মান রয়েছে না-কি।
নোবলের দিকে তাকিয়ে অভী বলে,__বান্দী কী বাড়িতে চইলা গেছে?”
নোবলে উত্তর দেয়,__না ভাই! এখনো আপনার এলাকায় পার হতে পারে নাই সিউর।”
অভী কিছু একটা চিন্তা করে বিছানা থেকে ফোন নিয়ে কান কাটা রমজানকে কল দেয়। বেশ কিছু ক্ষণ রিংটোন বাজার পর অবশেষে অপর পাশ থেকে ফোন রিসিভ হয়। ফোন রিসিভ হতেই অভী বলে,__ওই আছোস?”

ফোনের অপর পাশ থেকে রমজান বলে,__এই তো ভাই, পুরাণ দীঘির সামনের নির্জন রাস্তাটায়।”
__ওইহানেই ছাড়া। আমি আইতাছি।”
ফোন কেটে গায়ে শার্ট জড়াতে জড়াতে অভী বেরিয়ে পরে। পিছনে যে বিলকিস দাড়ানো। সে দিকে কোনো খেয়ালই নেই তার। অভীর চলে যাওয়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে বিলকিস। সে যে একটা মানুষ। তার ও যে মন রয়েছে এটা হয়তো অভী মাঝে মাঝে ভুলেই যায়।এক বুক ভর্তি আফসোস নিয়ে বিলকিস অভীর রুম গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পরে। তারপর আর কী? এভাবেই চলে যেতে হবে তাকে। অভী কখন ফিরবে, সেটা কেবলমাত্র সেই ভালো জানে।

বাইক নিয়ে পুরান দিঘির রাস্তার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরে অভী। তার বাড়ি থেকে মোটামুটি মিনিট দশকের মতো লাগে পুরান দিঘির রাস্তায় পৌঁছাতে। বাইকে তো এর থেকে কম সময় লাগে। দেখতে দেখতে অভী কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরান দিঘির রাস্তায় পৌঁছে যায়। বাইক থেকে নেমে সোজা জীপের কাছে চলে যায়। আনন্দী বেশ জড়োসড়ো হয়ে গুটিয়ে জীপের এক কোনে বসে ছিলো। অভীকে দেখা মাত্র চোখ মুখ শক্ত করে তার দিকে তাকায় আনন্দী।
অভী ইশারা করতেই তার লোকের নেমে পরে জীপ থেকে। এবং সে আনন্দীর পাশের সিট টায় বসে পরে। আনন্দী তখন ও কপাল কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন ভয়, ভীতি এসবের কোনো কিছুর ছিটে ছোটা ও নেই আনন্দীর মাঝে।

উন্মাদনা পর্ব ১১

অভী বসতেই আনন্দী কিছুটা সরে বসতে চায়। হালকা শরীর নাড়িয়ে একটু দূরত্ব বাড়িয়ে দেওয়ার আগেই অভী আনন্দীর কোমর জাপ্টে ধরে নিজের একদম কাছে নিয়ে চলে আসে,
__কামড় দে বা’ন্দী “

উন্মাদনা পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here