Home এই অবেলায় এই অবেলায় পর্ব ১২

এই অবেলায় পর্ব ১২

এই অবেলায় পর্ব ১২
সুমনা সাথী

সন্ধ্যার আবহে তালুকদার বাড়ির বসার ঘর এখন এক আনন্দমুখর কর্মব্যস্ততার কেন্দ্রবিন্দু। চারদিকে তত্ত্বে সাজানো ডালি রঙিন কাগজ আর গহনার বাক্সের ভিড়। আধুনিক নিয়ম মেনে কলরবের হবু স্ত্রীর সব সাজগোজের সরঞ্জাম এখনই গুছিয়ে রাখা হচ্ছে। যাতে ভোরের আলো ফুটতেই সেগুলো কনের বাড়িতে পৌঁছে যায়। কলরব একপাশে বসে থাকলেও তার দৃষ্টি বারবার আটকে যাচ্ছে লাল শাড়িটার ওপর। এই শাড়িটাই জড়িয়ে প্রিয় মানুষটা কাল তার জীবনে পূর্ণতা হয়ে আসবে। ভাবতেই বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে তার। সময় যেন আর কাটতেই চাইছে না।
হঠাৎ নিযানা তীক্ষ্ণ স্বরে আর্তনাদ করে উঠলো। মুহূর্তেই সবার নজর গেল সেদিকে। নিযানা যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠে মেঝেতে বসে পড়েছে। এক হাতে শক্ত করে নিজের বাঁ পা চেপে ধরেছে সে। পাশে থাকা কায়েফ বিদ্যুৎবেগে উঠে গিয়ে নিযানার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। নিযানার চোখমুখ যন্ত্রণায় নীল হয়ে উঠেছে। কায়েফ উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞেস করল,

‘কী হয়েছে নিযানা? পা মচকালো নাকি কিছু ফুটেছে?’
আসলে তত্ত্বর সাজ সরঞ্জাম ছড়ানো ছিল মেঝেতে। নিযানা ঘরে ঢোকার সময় অসাবধানতাবশত একটি সুঁচালো ব্রোচের ওপর পা দিয়ে ফেলেছে। কায়েফ আলতো করে নিযানার হাত সরিয়ে দিতেই দেখল, ব্রোচটি তখনো পায়ের তালুর একপাশে বিঁধে আছে। রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ছে ফর্সা পায়ে। নিযানার চোখের কোণে পানি চিকচিক করে উঠল। মেয়ের এই দশা দেখে মানতাসা দ্রুত এগিয়ে এলেন। উদ্বেগের চেয়েও তার কণ্ঠে শাসন পাওয়া গেল। তিনি ধমক দিয়ে বললেন,
‘তোমাকে কতবার বলেছি একটু দেখেশুনে হাঁটতে? এত মানুষের ভিড়। চারিদিকে এত জিনিসপত্র। কী এমন তাড়া ছিল তোমার যে পায়ের নিচে কী আছে তা-ও খেয়াল করলে না?’
মানতাসার বকুনিতে নিযানা আর কথা বলতে পারল না। শুধু দাঁতে ঠোঁট চেপে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলো। নিজের বিঁধে যাওয়া পায়ের দিকে তাকিয়ে তার বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে। শরীরটা আতঙ্কে হিম হয়ে আসছে। এটা বের করতে গেলে নিশ্চয়ই মতো ব্যথা লাগবে! পরিস্থিতি সামাল দিতে কায়েফ শান্ত স্বরে বলল,
‘ফুপি, এখন অন্তত ওকে বকাঝকা করো না। ও তো আর ইচ্ছে করে এটা করেনি। এখন দরকার হলো সাবধানে এটা বের করা।’

মানতাসা দমে গেলেন। কায়েফকে তিনি মনে মনে বেশ পছন্দ করেন। ছেলেটা শুধু দেখতেই ভদ্র নয়, পড়াশোনাতেও অত্যন্ত মেধাবী। তার স্বভাবে বিন্দুমাত্র উচ্ছৃঙ্খলতা নেই। নিযানা তখনো যন্ত্রণার চেয়ে আতঙ্কে বেশি অস্থির হয়ে ছটফট করছে। কায়েফ আলতো করে হাসল। নিযানার পায়ের ক্ষতের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে চেয়ে রইল সে। কায়েফকে এভাবে হাসতে দেখে নিযানা ভ্রু কুঁচকে অভিমানের সুরে বলল,
‘তুমি হাসছ? দিস ইজ নট ফেয়ার কায়েফ! আমি ব্যথায় মরে যাচ্ছি আর তোমার হাসি পাচ্ছে? এটা এভাবেই থাক। আমি বের করতে দেব না।’
মানতাসা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বোঝানোর চেষ্টা করলেন,
‘এসব কী বলছো বেবি? এভাবে একটা সুঁচালো জিনিস পায়ে বিঁধে থাকলে তুমি হাঁটবে কী করে? তাছাড়া এটা তো খুব বেশি গভীরে ঢোকেনি।’
কাব্য এগিয়ে এসে নিযানার ঠিক সামনে বসল। ভরসা দিয়ে বলল,
‘কই নিযু, পা-টা দেখি তো। আমি পরীক্ষা করে দেখছি। যদি মনে হয় বেশি গভীরে বিঁধেছে তবে কথা দিচ্ছি আমি বের করব না।’
কাব্যের আশ্বাসে নিযানা সাহস পেল। ভয়ে ভয়ে পা থেকে হাত সরিয়ে নিতেই কাব্য ওর পা পরীক্ষা করতে শুরু করল। কিন্তু ওর আসল উদ্দেশ্য ছিলো চট করে সুচটা বের করা। তবে ওকে কিছু করতে হলোনা। কলরব পাশে বসেই সবটা খেয়াল করছিল। হুট করে উঠে এসে এক ঝটকায় ব্রোচটা ধরে টান দিল। নিমেষে ঘর কাঁপিয়ে নিযানা আর্তনাদ করে উঠল,

‘আউচ!’
পরক্ষণেই কলরব ব্রোচটা উঁচিয়ে ধরে বিজয়ীর হাসি হেসে বলল,
‘বুম! এই তো হয়ে গেছে।’
কলরবের হাসি দেখে নিযানার কান্না আর রাগে একাকার হয়ে গেল। চোখের কোণে জমে থাকা পানির কণাটা টপ করে গড়িয়ে পড়ল ওর গাল বেয়ে। সে গটগট করে গিয়ে সোফায় বসে পড়ল। কলরব তখন ওর পাশে বসে মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বলল,
‘কাঁদে না বেইবি! তোর জন্য এমন এক রাজপুত্তুর বর খুঁজে আনব যে তোকে একদম মাথায় করে রাখবে। আমরা তো আছিই, চিন্তা কী? যেখানে সেখানে কি তোর বিয়ে দিচ্ছি নাকি?’
ঘরের সবাই আবার হাসিতে ফেটে পড়ল। নিযানা মুখ ঘুরিয়ে নিলেও ওর ঠোঁটের কোণে একটা ম্লান হাসি ফুটে উঠল। ঠিক সেই মুহূর্তে ছোট্ট ইহান ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে সোজা কলরবের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ওর গম্ভীর ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান করতে এসেছে। সে খুব সিরিয়াস মুখে প্রশ্ন ছুড়ল,
‘আচ্ছা চাচ্চু, তুমি বলো তো আমি বড় নাকি ইভান বড়?’
কলরব তো আকাশ থেকে পড়ল। আমতা-আমতা করে কিছু বলার আগেই ইভান পাশ থেকে বেশ গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল,

‘আরে, চাচ্চু কিচ্ছু জানে না!’
কলরব এবার নিজের ইগোতে চোট পেল। সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ইভান তাকে পাত্তা না দিয়ে সরাসরি কায়েফের দিকে ঘুরে গেল।
‘কায়েফ চাচ্চু, তুমিই বলো। আমি বড় নাকি ইহান।’
কায়েফ মৃদু হেসে বলল, ‘দেখো, সহজ হিসাব। যে এই পৃথিবীতে আগে এসেছে সেই বড়। ঠিক যেমন তোমার আব্বু আমার আগে পৃথিবীতে এসেছে বলে সে আমার বড় ভাই। এখন তোমরা দুজন যখন এসেছিলে তখন ডক্টর আঙ্কেল নিশ্চয়ই কাউকে আগে বের করে এনেছেন, তাই না?’
ইহানের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কলরবের কোলে চড়ে বসল সে। ওর গোলগাল মুখটাতে এখন রাজ্যের গুরুত্ব। সে বেশ জোর দিয়ে বলল,
‘মোটেও না! তুমি আর পাপ্পা তো একসাথে আম্মুর পেটের ভেতর ছিলে না। আমি আর ইভান তো একদম একসাথে ছিলাম। এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কেস। এবার খুব ভালো করে ভেবে বলো তো আমাদের মধ্যে কে বড়?’
ইভান পাশ থেকে মুখ ভার করে বলল, ‘চাচ্চু, তুমিই বলো না! আমি কি ওর বড় না? ও কিছুতেই মানতে চাইছে না যে আমি ওর আগে এসেছি।’
কলরব ইহানের চুলে বিলি কেটে দিয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল,
‘কিরে বাপ, তুই আবার এই পুরনো কাসুন্দি নিয়ে পড়লি কেন? ইভান যে তোর থেকে ঠিক চার মিনিটের বড় এটা তো তুই নিজেও জানিস।’

ইহান দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে মাথা নেড়ে অত্যন্ত বিজ্ঞের মতো বলল,
‘তুমি জানো চাচ্চু, স্কুলে আমাদের রোহিতা ম্যাম বলেছিলেন, বড়দের উচিত সবসময় ছোটদের সাহায্য করা আর তাদের সুযোগ করে দেওয়া। এটা কি ভুল কথা?’
কায়েফ সোফায় বসে ওদের তর্ক উপভোগ করছিল। সে সায় দিয়ে বলল,
‘একদম না! ম্যাম তো খুব চমৎকার কথা বলেছেন।’
ইহান তৎক্ষণাৎ বলল, ‘তাহলে আমি কেন বড় হব না? আমিই তো ইভানকে সাহায্য করেছি। ওকে সুযোগ করে দিয়েছি আগে পৃথিবীতে আসার জন্য! তাহলে পরোপকারী হিসেবে আমিই তো ওর বড় হলাম, তাই না?’
ইহানের এমন অকাট্য আর অদ্ভুত যুক্তি শুনে উপস্থিত সবাই মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ঘরে পিনপতন নীরবতা। পরক্ষণেই হাসির রোল উঠল পুরো বসার ঘরে। কলরব তো হোহো করে হেসে ইহানকে জড়িয়ে ধরল,
‘সাব্বাশ আমার বাপ! কী দারুণ যুক্তি দিয়েছিস! তোর এই বুদ্ধির জোরে আজ থেকে তোকেই আমি বড় ঘোষণা করলাম।’

ইহান একগাল বিজয়ী হাসি হাসল। তবে ইভান মোটেও খুশি হতে পারল না। সে বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে কলরব আর ইহানের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল,
‘তোমরা দুইজনেই আস্ত বোকা!’
ইভান গটগট করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই ইহান পেছন থেকে একটা ভেঙচি কাটল। কলরবও ভাতিজার এই অকালপক্ক বুদ্ধিতে দারুণ আমোদ পেয়েছে; সে ইভানের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে টিপ্পনী কেটে বলল,
‘যা যা, জ্ঞানী বাপের অতি জ্ঞানী ছেলে!’
ছেলের আর ভাইয়ের এমন জোট দেখে কাব্য একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে এগিয়ে এসে ইহান আর কলরব দুজনের মাথায় আলতো করে দুটো গাট্টা মেরে কপট রাগে বলল,
‘গাধা দুটো! বুঝলাম না, ছেলেটা আমার হয়ে আর আমার বউয়ের পেটে জন্ম নিয়েও স্বভাবটা হুবহু তোর মতো পেল কী করে কলরব? আজ থেকে তোকে ওয়ার্নিং দিলাম। তুই আমার ছেলের ধারেকাছেও আসবি না।’
কলরব তাতে দমল না বরং শব্দ করে হাসল। বিয়ের বাড়ির ব্যস্ততা আবার সবাইকে গ্রাস করল। প্রত্যেকে যার যার কাজে মন দিল। এমন সময় ইহান কলরবকে ইশারায় মাথা নিচু করতে বলল। কলরব একটু অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকাল। তারপর কৌতূহল সামলাতে না পেরে কানটা ইহানের মুখের কাছে এগিয়ে নিল। ইহান চোরের মতো চারপাশ দেখে নিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,

‘চাচ্চু, আমি যেহেতু বড় তাহলে আমি কি ইভানের আগে বিয়ে করতে পারব?’
কথাটা শুনে কলরব যেন আসমান থেকে পড়ল! ইহানের মুখে বিয়ের কথা শুনে তার চোখ জোড়া চড়কগাছ হয়ে গেল। তবে সে-ও তো কলরব তালুকদার। সে-ও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সামলে নিয়ে ইহানের পিঠ চাপড়ে বলল,
‘অবশ্যই পারবি! তোর বিয়ে আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দেব। তবে খবরদার এই কথা আর কাউকে বলিস না, ঠিক আছে? তোর বাপ যদি একবার এই পরিকল্পনার কথা শোনে তবে আমাকে আর তোকে; দুইজনকেই ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বের করে দেবে!’
ইহান বেশ আশ্বস্ত হয়ে মাথা নাড়ল। চাচ্চুর সাথে এই গোপন চুক্তিতে সে এখন বেশ খুশি। এই গোপন চুক্তি কেবল তাদের দুজনের মধ্যেই থাকবে।

বিয়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। একটু পরেই বরযাত্রীর রওনা দেবে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে। ঘরের ভেতর তখন সাজগোজের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। নবনী বেশ যত্নে দিয়াকে তৈরি করে দিচ্ছে। ছোট্ট দিয়া বিছানার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে টকটকে লাল রঙের একটা ফ্রক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পোশাকটি নবনীকে নির্বাচন করে দিতে হয়নি; দিয়া নিজেই বায়না ধরে এটি পছন্দ করেছে। কারণ আজ নবনীও পরেছে ঠিক একই রঙের একটি রক্তিম শাড়ি। নবনী মৃদু হাসিমুখে দিয়ার কচি মুখে বেবি ক্রিম মাখিয়ে দিল এবং চুলে দুটো ছোট্ট রঙিন ক্লিপ আটকে দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরে তড়িৎ গতিতে প্রবেশ করল দিব্য। তার পরনে কালো ফর্মাল প্যান্ট, মেরুন রঙের শার্টের ওপর চড়ানো কুচকুচে কালো কোট। দিব্য ঘরে ঢুকেই জিজ্ঞেস করল,
‘তোমরা কি তৈরি?’
নবনী শান্ত দৃষ্টিতে দিব্যর দিকে তাকাল। বাবার কণ্ঠস্বর শুনে দিয়া উচ্ছ্বসিত গলায় বলে উঠল,
‘পাপ্পা, দিয়া রেডি! তুমি বলবে নাহ?’
দিব্যর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। নবনী ঠিক বুঝে উঠতে পারল না বাবা-মেয়ের এই সংকেতপূর্ণ কথোপকথনের গূঢ় রহস্য। দিব্য এগিয়ে গিয়ে দিয়ার সামনে দাঁড়াল। অত্যন্ত আদরের সাথে মেয়ের গালে একটি চুমু এঁকে দিল। মুগ্ধ স্বরে বলল,

‘ওয়াও! আমার মাম্মাকে তো আজ ভীষণ সুন্দর লাগছে। একদম দিব্য তালুকদারের প্রিন্সেস, তাই না?’
দিয়া খিলখিল করে হেসে উঠল। এটা তাদের নিয়মিত এক রীতি; প্রতিবারই নতুন কোনো পোশাক বা চুলের ক্লিপ পরলে দিয়া আগে তার পাপ্পাকে দেখায়। আর দিব্য যখন তাকে ‘প্রিন্সেস’ বলে সম্বোধন করে তখন দিয়ার খুশি যেন বাঁধ মানে না। নবনীর ঠোঁটেও তখন স্নিগ্ধ একটা হাসি ফুটলো। দিয়া বাবার দিকে তাকিয়ে আবদার করলো,
‘দেখো পাপ্পা, মাম্মা আর দিয়া একদম সেম সেম সেজেছে। এবার মাম্মাকেও কিছু বলো না!’
দিব্যর দৃষ্টি তখন স্থির হলো নবনীর ওপর। লজ্জায় আর আড়ষ্টতায় নবনী দৃষ্টি নামিয়ে নিয়েছে। তার এই মৌনতা যেন সৌন্দর্যের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রক্তিম অর্গাঞ্জা শাড়ির স্বচ্ছ ভাঁজে ফুটে ওঠা সূক্ষ্ম কারুকাজ আর দু’হাত ভরে পরা লাল ভেলভেট চুরি। খোলা চুলে আর লাল পাথরের গয়নায় নবনীকে আজ এতটাই মোহনীয় লাগছে যে, দিব্যর মতো যেকোনো মানুষের পক্ষেও বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা দায়।দৃষ্টিটাকে আটকে রাখার মতো এক ‘বিপজ্জনক’ সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। দিব্য সযত্নে নিজের মুগ্ধতা আড়াল করে দিয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,

‘খারাপ লাগছে না। পুরো…দিব্য তালুকদারের কুইন লাগছে, তাই না মাম্মা?’
নবনীর হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে চট করে মুখ তুলে দিব্যর দিকে তাকাল। দিব্য ততক্ষণে তার মনোযোগ দিয়ার দিকে সরিয়ে নিয়েছে। দিয়া বাবার এই কথায় দারুণ উৎসাহিত হয়ে প্রফুল্ল গলায় বলে উঠল,
‘ইয়েস পাপ্পা! আর তোমাকে ও একদম কিং লাগছে। চলো এবার আমরা যাই।’
দিব্যর ঠোঁটে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটল। সে দিয়াকে কোল তুলে নিয়ে বলল,
‘ওকে, চলো।’
যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই দিয়া মনে করিয়ে দিল,
‘পাপ্পা, আমার জুতো?’
নবনী তড়িঘড়ি করে বলল, ‘আমি নিয়ে আসছি।’

কুহু আর নিযানা একই রকম দেখতে মেরুন লেহেঙ্গা পরেছে। ভারী কাজের লেহেঙ্গা সামলাতে নিযানা বেশ হিমশিম খাচ্ছে। সামলাতে না পেরে কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলল,
‘কুহু, তোকে বলেছিলাম এত ভারী লেহেঙ্গা আমি সামলাতে পারব না।’
কুহু আর নিযানা দুজনেই আজ একই রকম মেরুন রঙের লেহেঙ্গা পরেছে। জমকালো নকশা আর ভারী কাজের। তারা ধীরপায়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসছিল। ওদিকে কায়েফ গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দূর থেকেই নিযানাকে লক্ষ্য করছিলো। নিযানাকে দেখে তার মনে হলো আজ মেয়েটাকে যেন একটু বেশিই মায়াবী লাগছে। অবশ্য কায়েফের মনের আয়নায় নিযানা কি কখনো অসুন্দর ছিল?
‘তোকে একারে দেখার লুকিয়ে কি মজা,
সে তো আমি ছাড়া কেউ জানেনা…!’
হঠাৎ কলরবের কণ্ঠস্বর কানে আসতেই কায়েফ চমকে প্রায় লাফিয়ে উঠলো। কলরব হাসতে হাসতে বলল,
‘অনেক তো দেখলি। এবার কিছু একটা করেও ফেল!’
কলরব হো হো করে হেসে উঠল। নিজের ধরা পড়ে যাওয়া অস্বস্তি লুকাতে কায়েফ চোখ রাঙিয়ে বলল,
‘চুপ কর তুই!’

কলরব থামার পাত্র নয়। সে কায়েফের কাঁধে হাত বলল,
‘কেন চুপ করবো? এখন তো তোর রাস্তা একদম পরিষ্কার। আমি বিয়ে করে নিচ্ছি। মানে তোর বড় ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এরপর তো তোর পালা। ভাব তো আমি তোর জন্য কত বড় ত্যাগ স্বীকার করছি!’
কায়েফ ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল, ‘এসেছে আমার চারদিনের বড় ভাই! তোর মতো বিয়ে নিয়ে উত্তেজনা দেখানোর সাহস বা ইচ্ছা কোনোটিই আমার নেই। তাছাড়া ভাই, বললেই কি আর সব হয়ে যায়? সবকিছুর একটা সময় আর পরিবেশ লাগে। আর সবচেয়ে বড় কথা। বিষয়টা যতটা সহজ মনে করছিস, ঠিক ততটা সহজ নয়। এর মধ্যে অনেক ঝামেলা আছে। পারিবারিক জটিলতা আছে। তুই বুঝবি না।’

কলরব ভ্রু কুঁচকে তাকাল। কায়েফের হৃদয়ে নিযানার জন্য যে অনুরাগ তা কোনো আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া নয়; বরং তা অনেকটা নিভৃত চারুকলার মতো। যা বছরের পর বছর ধরে সে অত্যন্ত সংগোপনে লালন করে আসছে। একসময় কলরবের সাথে পাল্লা দিয়ে উশৃঙ্খল জীবন কাটানো কায়েফ যে আজ এতটা মার্জিত আর সফল, তার নেপথ্যের কারিগরও ছিল এই নিযানা। মেয়েটার মেধা আর ব্যক্তিত্বের প্রতি এক অদ্ভুত মুগ্ধতা থেকেই কায়েফ একদিন নিজেকে বদলানোর শপথ নিয়েছিল। সাধারণ এক ছাত্র থেকে ক্লাসের শীর্ষে পৌঁছানো কিংবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিদেশে যাওয়া। সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল নিযানাকে পাওয়ার এক মৌন আকাঙ্ক্ষা। সে চেয়েছিল নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে যেখানে দাঁড়ালে নিযানার পরিবারের কেউ তাকে অস্বীকার করতে না পারে। এখন কায়েফ সফল। নিযানার চোখে সে কেবল একজন বড় ভাই বা আত্মীয় নয় বরং এক অনুপ্রেরণার নাম। নিযানা তার জীবনের ছোট-বড় সব সঙ্কটে কায়েফের কাছেই সমাধান খোঁজে।

তাদের কথোপকথন যদিও অধিকাংশ সময় পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে। তবু সেই আলাপচারিতার ভেতরেই এক গভীর আস্থার সেতু তৈরি হয়েছে। কায়েফ মনে মনে বিশ্বাস করে আবেগের চেয়েও বন্ধুত্ব অনেক বেশি টেকসই। যদি কাউকে আজীবনের জন্য পাশে পেতে চাও, তবে তার প্রেমিক হওয়ার চেয়ে বন্ধু হওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ প্রেম ঠুনকো বিষয়েও বিচ্ছেদে গিয়ে ঠেকে কিন্তু অটুট বন্ধুত্ব কখনো পথ হারায় না। গাড়িতে হেলান দিয়ে থাকা কায়েফকে ভাবনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনল কলরবের এক জোরালো ধাক্কা। কলরব ওর মনের গহীন খবরটুকু ভালো করে জানে। একটু ফিসফিস করে দুষ্টুমির ছলে বলল,
‘কী রে, কোন অতল সাগরে ডুবে আছিস? এতগুলো বছর তো কেটে গেল। নিযানা কি তোর চেয়ে ভালো আর কাউকে পাবে নাকি? আর ওর চোখে তো তুই একদম ‘নিখুঁত’ কেউ। সাহস করে একবার বলেই ফেল না। দেখবি নাচতে নাচতে রাজি হয়ে যাবে! আমার ভাইকে না করবে কার সাহস আছে।’

কায়েফ একটা ম্লান হাসল। এটা এতটাও সহজ নয়। নিযানা যখন ওর দিকে ওই আস্থার দৃষ্টিতে তাকায়, তখন কায়েফের মনে হয় এই বিশ্বাসটুকু ভেঙে ফেলার চেয়ে বরং চিরকাল তার ‘ভরসার মানুষ’ হয়ে থাকাটাই শ্রেয়। নিযানারা ঠিক তখনই ওদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। কলরব ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কিছুটা অস্থির গলায় বলল,
‘তোদের দুটোকে বরং রেখে যাই! বিয়েটা আমার নাকি তোদের? এত সময় লাগে? সব গাড়ি বেরিয়ে কনের বাড়ি পৌঁছে গেল। খালি বরের গাড়িটাই বাকি পড়ে আছে।’
কুহু লেহেঙ্গা সামলাতে সামলাতে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
‘একটু তো লজ্জা করো ভাইয়া! তোমার হবু বউ তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না। এত উতলা হচ্ছ কেন?’
কলরব হুট করে কুহুর মাথায় ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিল। শাসানোর সুরে বলল,
‘তোর মুখটা কি একদম বন্ধ রাখতে পারিস না? দিনদিন বেশ বেয়াদব হচ্ছিস কিন্তু। বড় ভাইয়ের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে?’

কুহু মাথায় হাত দিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কলরবের দিকে তাকাল। অপমানে ওর চোখ মুখ লাল হয়ে উঠল। সে তড়িঘড়ি করে কায়েফের দিকে ফিরে নালিশের সুরে বলল,
‘ভাইয়া, দেখো না ও কী করছে!’
কায়েফ কাষ্ঠহাসি হেসে কলরবের দিকে চোখ রাঙাল। বোনকে শান্ত করতে বলল,
‘সত্যিই তো কলরব, তুই এত অস্থির হচ্ছিস কেন? যা গাড়িতে গিয়ে বস। আমার বোনের গায়ে একদম হাত দিবি না বলে দিচ্ছি।’
কলরব গজগজ করতে করতে গাড়ির দরজার দিকে পা বাড়াল। যেতে যেতে পেছন ফিরে আলগা তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
‘তোর বোনকে তুইই রাখ। এমনিতে ও তো রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া আপদ!’
কায়েফ হাসলো। কুহুর মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করে বলল,
‘ওর কথা বাদ দে তো। পাগলটা আজ বিয়ের আনন্দে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছে। চল, এবার গাড়িতে ওঠ। আসলেই বেশ দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
নিযানা একপাশে দাঁড়িয়ে ওদের এই ভাই-বোনের খুনসুটি দেখছিল। কায়েফের এই শান্ত আর দায়িত্বশীল রূপটা ওর মনে এক অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি করে।

বিয়ের বাড়ির উৎসবমুখর রঙ যে এত দ্রুত ফিকে হয়ে আসবে তা কারও কল্পনাতেও ছিল না। গেট ধরা নিয়ে একচোট খুনসুটি, হাসাহাসি আর বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের টানাপোড়েন শেষে কলরবকে যখন বরের আসনে বসানো হলো তখন চারদিকে কেবল খুশির কলতান। কিন্তু সেই আনন্দের পর্দার আড়ালে তখন জমাট বাঁধছে ঘোর অমাবস্যা। গোপনে এক কোণায় দাঁড়িয়ে আরশাদ তালুকদারের কানে ইরার বাবা যে সংবাদটি পৌঁছে দিলেন, তা যেকোনো বজ্রপাতের চেয়েও ভয়াবহ। ইরা নেই। সকালবেলা পার্লারে যাওয়ার নাম করে বের হয়ে সে আর ফিরে আসেনি। সাথের কাজিনকে গোলাপ ফুল আনার বাহানায় সরিয়ে দিয়ে সে সুকৌশলে নিরুদ্দেশ হয়েছে। যাওয়ার আগে রেখে গেছে এক বিধ্বংসী বার্তা ‘সে এই বিয়ে করতে পারবে না।’ আরশাদ তালুকদারের কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ পড়ল। ক্ষোভ আর অপমানে তার ভেতরটা রি রি করে উঠল। বরযাত্রী এভাবে খালি হাতে ফেরত যাওয়া মানে তালুকদার পরিবারের দীর্ঘদিনের অর্জিত আভিজাত্য এক নিমেষে ধূলিসাৎ হওয়া। নিজের মান-সম্মান রক্ষায় তিনি মরিয়া হয়ে উঠলেন। অথচ উৎসবের আলোকচ্ছটায় ঘেরা স্টেজে বসে কলরব তখনো এক বুক রঙিন স্বপ্ন বুনছে। সে জানে না, তার সেই কাঙ্ক্ষিত রাজকন্যা তাকে মাঝপথেই একলা ফেলে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে। তার সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো বাস্তব হওয়ার আগেই যেন মরুভূমির মরীচিকায় মিলিয়ে গেল। এদিকে বিয়ে বাড়ির মূল কোলাহল থেকে দূরে গাড়ির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিল নিযানা, মৌনিতা আর ইভান। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে করতেও নিযানা লেহেঙ্গাটা সামলে ইভানের ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছিল। ইভান তার ছোট ক্যামেরায় সবার ছবি তুলছে। ঠিক তখনই হন্তদন্ত হয়ে সেখানে এসে হাজির হলো কুহু। তার এলোমেলো শ্বাস আর ফ্যাকাশে মুখ বলে দিচ্ছিল বড় কোনো অঘটন ঘটে গেছে। খানিকটা দম নিয়ে কুহু অস্থির গলায় বলল,

‘তোরা এখানে আর আমি হন্যে হয়ে তোদের খুঁজছি! নিযানা, এক মুহূর্ত দেরি করিস না। এখনই ভেতরে চল। বড় ফুপি তোকে ডেকেছেন। খুব জরুরি দরকার।’
নিযানা অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকাল। তার বুকের ভেতরটা অজানা এক শঙ্কায় কেঁপে উঠল। মানতাসা তাকে এমন অসময়ে কেন ডাকছেন তা বুঝতে না পারলেও কুহুর চোখমুখের আতঙ্ক তাকে ভাবালো। মৌনিতা বলল,
‘কি হয়েছে? বউ কি পাল্লার থেকে চলে এসেছে?’
‘নাহ, ইরা আপু বিয়ে থেকে পালিয়েছে৷’
মৌনিতার কৌতূহল মেশানো হাসিমাখা মুখটা এক নিমেষেই পাথরের মতো জমে গেল। কুহুর কথাগুলো যেন তপ্ত সীসার মতো কানে বাজল সবার। মৌনিতা অবিশ্বাসের সুরে বলল,
‘কী বলছো এসব কুহু? ইরা পালিয়েছে মানে?’
নিযানা প্রথমটায় ধাক্কা খেলেও পরক্ষণেই স্বভাবজাত ভঙ্গিতে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। তার চোখেমুখে বিস্ময় থাকলেও কণ্ঠস্বরে ঝরল তীব্র শ্লেষ। সে অবজ্ঞার সুরে বলল,
‘বাহ! মেয়েটার সাহস আছে বলতে হয়। আসলে ইরা বুঝে গেছে কলরবের মতো একটা উন্মাদের সাথে ঘর করা মানে নিজের জীবনটাকে নরক বানানো। বুদ্ধিমতী মেয়ে তো তাই সময় থাকতে কেটে পড়েছে। তবে তোর ওই গুণধর ভাইয়ের জন্য আমার মায়া হচ্ছে রে কুহু। বিয়ের জন্য ছেলেটা কতই না লাফাচ্ছিল! শেষমেশ কপালে ছাদনাতলা নয়, বরং চুনকালি জুটল।’

কুহু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নিচু স্বরে বলল, ‘হাসি তামাশা রাখ নিযানা। আমার পুরো কথাটা তো আগে শোন। আব্বু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তালুকদার বাড়ির এই অপমান তিনি মেনে নেবেন না। বরযাত্রী এভাবে খালি হাতে ফিরে যাবে না। তিনি জেদ ধরেছেন আজকেই ভাইয়ার বিয়ে দেবেন এবং কার সাথে বিয়ে হবে সেটাও তিনি ঠিক করে ফেলেছেন।’
নিযানা এবার বেশ কৌতূহলী হয়ে উঠল। সে কিছুটা মজা পাওয়ার ভঙ্গিতেই ভ্রু নাচিয়ে বলল,
‘এত তাড়াতাড়ি নতুন পাত্রীও খুঁজে পাওয়া গেল? তা কে সেই মহীয়সী অভাগী? কার কপালটা পুড়তে চলেছে শুনি?’
বলেই সে শব্দ করে হাসতে লাগল। নিযানার সেই হাসিতে কোনো সংকেত ছিল না যে তার সামনে কী ভয়াবহ সত্য অপেক্ষা করছে। কুহুর আফসোস হলো ওর জন্য। হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারলো না। বিরস মুখে বলল,
‘তোর, নিযানা।’

এই অবেলায় পর্ব ১১

নিযানার ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা হাসিটা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। সে ঠিকমতো শুনতে পেয়েছে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেল। বিড়বিড় করে শুধু একটা শব্দই মুখ দিয়ে বেরোলো তার,
‘কী?’
মৌনিতা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কুহু বলল, ‘হ্যাঁ, আব্বু তোর সাথে ভাইয়ার বিয়ে ঠিক করেছে। ফুপি ও মত দিয়েছে। তোকে ডাকছে চল।’
মৌনিতা অবিশ্বাসের স্বরে বলল, ‘এ্যাঁ?’
‘হ্যাঁ!’

এই অবেলায় পর্ব ১৩