এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১১

1752

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১১
Fabiha bushra nimu

দুই বছর পরে এসে,আপনার এমন অভিমান মানায় না ইফাদ।দুই বছর আগে,আপনার এই’ অভিমান কোথায় ছিল।আজকে আপনি অভিমান দেখাতে আসছেন।আজকে আমি একটা ছেলের সাথে কথা আলাদা করে কথা বলেছি।তাই আপনি রাগ করে,আমার সাথে কথা বলছেন না।আর আপনি দুইটা বছর আমার কোনো খোঁজ-খবর রাখেন নাই।আমি’ও অন্য ছেলের সাথে চলে-ও যেতে পারতাম।আমার কি’ কোনো দরকার ছিল আপনার সংসারে পড়ে থাকার।আমি কি’ মানুষ নই।

আমার কি’ ইচ্ছে করে না মন খুলে কারো সাথে দু’টো কথা বলি।একদিনে আপনার অভিমানের পাল্লা এতটা ভারি হয়ে গেছে।তাহলে দু’বছরে আমার অভিমানের পাল্লা কতটা তীব্র হয়েছে।আমি যদি তীব্র অভিমান নিয়ে আপনার সাথে হেসে কথা বলতে পারি।আপনি কেনো আমার ছোট ভুলটা মাফ করছেন না।আমাকে এতটা সস্তা ভাববেন না ইফাদ।আপনি আপনার অহংকার নিয়ে থাকুন।তানহা আর আপনার সাথে আগে কথা বলতে যাবে না।বলেই উঠে চলে গেলো তানহা।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

তানহা চলে যেতে-ই ইফাদ সামনে’র দিকে ঘুরলো।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে,উঠে বসলো।এতদিন যে,কথা গুলো শোনার ভয়ে,পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ইফাদ।তানহা আজ সেই কথা গুলো বলে দিল।তানহা তো’ ভুল কিছু বলে নি’।একদিনে আমার অভিমানের মাত্রা এতটা তীব্র হয়েছে।দুই বছরে তানহা’র অভিমানে’র পাল্লা হাজার গুন বেশি হবে।তবে আমি মেয়েটা’কে বেশি অবহেলা করে ফেলছি।

তানহা’র খুব বেশি কষ্ট হলে,বাসার ছোট্ট ছাদটিতে এসে বসে থাকে।ইফাদে’র আচরণ খুব বেশি কষ্ট দিয়েছে তানহা’কে।ছাদের কোণায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে তানহা।চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।শীতে শরীর অবশ হয়ে আসছে।রাগের কাছে এই শীত তানহা’র কাছে,তুচ্ছ মনে হচ্ছে।আজ সে,কিছুতেই রুমে যাবে না।

আমার যাওয়া’র জায়গা নেই বলে,সবাই আমাকে পেয়েছেটা কি’।আমি কালকে-ই চলে যাব।থাকবো না এখানে।কার জন্য থাকবো।যার আশা করে এতগুলো প্রহর অপেক্ষা করেছি।সেই ইফাদ-ই আমাকে ভালোবাসে না।চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছে করছে তানহা’র।

–মা’ গো’ তুমি কেনো চলে গেলে।আজ যদি তোমরা থাকতে আমার জীবনটা অন্য রকম সুন্দর হতো।এই অল্প বয়সে আমি বড্ড ক্লান্ত।আমাকে নিয়ে যাও না আম্মু তোমাদের কাছে।এই নিষ্ঠুর পৃথিবীকে আমি আর নিতে পারছি না।
হঠাৎ করে কেউ পরম যত্নে তানহা’র শরীরের চাদর মুড়িয়ে দিল।ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেয়ে তানহা কিছুটা কেঁপে উঠলো।ঘাড় কাত ইফাদ’কে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।ইফাদ তানহা’র পাশে বসে বলল।

–রাগ হয়েছে মহারানী।
তানহা ইফাদে’র কথার কোনো উওর দিল না।দুই পা দুলাতে লাগলো’।
–এতরাতে ছাদের কোণায় এসে বসে আছো।ভয় লাগছে না।নিচে পড়ে-ও যেতে পারো।
এবার-ও তানহা’র থেকে কোনো উওর আসলো না।ইফাদ-ও তানহা’র সাথে পা’ দুলিয়ে যাচ্ছে।পিনপিনে নিরবতা কাজ করছে দু’জনের মধ্যে।ইফাদ কি বলবে ভেবে না পেয়ে বলল।

–আচ্ছা তোমার কি’ রং পছন্দ।
–এই দেখো কান ধরছি।আর এমন করবো না স্যরি।
–আমি মনে হয় ছোট বাচ্চা।উনি কান ধরবে আমি সব ভুলে গিয়ে,ওনার সাথে বেহায়ার মতো কথা বলবো।নিজেকে ভাবেটা কি’।যাই হয়ে যাক না কেনো তানহা।মুখ দিয়ে একটা কথা-ও বের করবি না।
ইফাদ কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের হাত তানহা’র হাতের ওপরে রাখলো।ইহাদের ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেয়ে তানহা’র পুরো শরীর তড়িৎ গতিতে কেঁপে উঠলো।

–“বউজান”।স্যরি ভুল হয়ে গেছে।আমাকে মাফ করে দাও।আমাকে একটা সুযোগ দিবে।তোমার মনের মতো হয়ে ওঠার।
ইফাদের মুখে বউজান কথাটা শুনে তানহা’র কলিজায় শীতল হাওয়া বইয়ে গেলো।কি’ আদুরে কণ্ঠে “বউজান” বলে ডাকলো ইফাদ।

অন্য সময় হলে,ইফাদে’র ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়তো তানহা।পৃথিবীর সকল অভিমান এসে তানহা’র মনে ধরা দিল।ইফাদে’র কথার উত্তর করছে না।এত সহজে ইফাদের কাছে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করবো না।আমি যতটা কষ্ট পেয়েছি।আংশিক হলে-ও ইফাদকে অনুভব করতে হবে।ইফাদে’র হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে চলে গেলো’।ইফাদ অসহায় দৃষ্টিতে তানহার যাওয়া’র দিকে তাকিয়ে আছে।

তানহার রুমে এসে লাইট অফ করে শুইয়ে পড়ল।কি করে তানহার রাগ ভাঙাবে তা’ ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে আসলো ইফাদ।শুইয়ে শুইয়ে ভাবছে।মেয়ে মানুষের কি রাগ বাবা।ভাঙাবো কিভাবে।কালকে চৈতালির থেকে সাহায্য নিতে হবে।দু’টো বন্ধ করে নিল ইফাদ।একটু পরে রাজ্যের ঘুম এসে ধরা দিল ইফাদের চোখে।
তানহা শুইয়ে শুইয়ে নিরবে কান্না করে যাচ্ছে।

–না চাইতে-ও পেয়ে গেছেন তো’।তাই মূল দিতে পারছেন না।যেদিন হারিয়ে ফেলবেন।কান্না করে-ও আর ফিরে পাবেন না।এত অবহেলা তানহা নামের বোকা মেয়েটি সহ্য করবে।আমার মতো করে কেউ যদি আপনাকে ভালোবেসে,আপনার সংসার করে।আল্লাহ কসম ইফাদ সারাজীবনের জন্য আপনার জীবন থেকে চলে যাব।

পরের দিন সকাল বেলা তানহা রান্না করছে।তানহা’র চোখ-মুখ একদম ফুলে আছে।চুপচাপ আপন মনে রান্না করছে।আজকাল বড্ড বেশি কষ্ট হয় তানহা’র।ইফাদ দূরে ছিল।তখন-ই ভালো ছিল।কাছে এসে কষ্টটা একটু বেশি বাড়িয়ে তুলেছে।
–ভাবি ভাত পুড়ে যাচ্ছে।

চৈতালির কথা তানহার হুস আসে।তানহা’র আজকে কাজ করতে একদমই ইচ্ছে করছে না।রুটি বানানোর মতো ধৈর্য নেই।তাই ভাত বসিয়ে দিয়েছে।আল্লাহর রহমতে একটা শশুর বাড়ি পেয়েছি।কখনো কোনো বিষয় নিয়ে রাগারাগি করে না।ভুল করলে বুঝিয়ে বলে।সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তানহা।

–ভাবি তোমার কি হয়েছে মন খারাপ।কান্না করেছো নাকি।চোখ-মুখ কেমন ফোলা ফোলা লাগছে।
–রাতে ঘুমোতে পারি নাই।সেজন্য এমন হচ্ছে,একটু ঘুমিয়ে নিলে ঠিক হয়ে যাবে।
–ভাবি তোমার কি শরীর খারাপ।আম্মুকে আজকে রান্না করতে বলি’।
–না চৈতালি আমি করে নিতে পারবো।তোমার পরীক্ষা আছে।তুমি গিয়ে পড়াশোনা করো।

সবাই খেয়ে যে,যার কাজে চলে গেলো।দুপুরের রান্না করতে অনেক দেরি।এই সুযোগে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যায়।নিজের কাজ শেষ করে রুমের দিকে গেলো তানহা।বিছানা ঠিক করে শুইয়ে পড়ল।
চৈতালির পরীক্ষা শেষ।রাস্তা দিয়ে ফ্রেন্ডদের সাথে যাচ্ছিলো।আবিরকে দেখে থেমে যায়।

–কি’ রে’ দাঁড়িয়ে পড়লি কেনো।
–স্যারের সাথে আমার একটা কথা আছে।তোরা সামনের দিকে এগোতে থাক।আমি কয়টা কথা বলেই চলে আসছি।
–বেশি দেরি করিস না।আমরা কিন্তু তোকে রেখে-ই চলে যাব।
চৈতালি আবিরের কাছে গেলো’।

–স্যার কেমন আছেন।
–আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
–কলেজের মধ্যে আপনার সাথে কথা বলতে পারি না।তাই কথা বলতে আসলাম।
–কলেজে এত স্যার থাকতে আমার সাথে তোমার এত কিসের কথা।
–আপনি এমন ভাবে কথা বলছেন কেনো আমার সাথে।
–তাহলে কিভাবে কথা বলবো তোমার সাথে।কালকে তোমার একজন গার্ডিয়ান সহ আমার সাথে দেখা করবে।এখন তুমি এখন আসতে পারো।

চৈতালির আর সাহস হলো না স্যারের মুখের ওপরে কথা বলার।দ্রুত স্থান ত্যাগ করলো।
–আবির কে’ রে’ মেয়েটা”!
–আমাদের কলেজের স্টুডেন্ট।এক বছর ধরে খুব বেশি জ্বালাচ্ছে।পশ্রয় দিলে পেয়ে বসতো।তুই বল ওর সাথে আমার যায়।বাচ্চা মেয়ে একটা তাছাড়া আমি তো’…কিছু একটা বলতে গিয়ে-ও থেমে গেলো আবির’।
কপালে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখ মেলে তাকালো তানহা।ইফাদ তানহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।নিজের পাশে ইফাদকে দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো তানহার।ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো তানহা।

–তোমার কি’ শরীর খারাপ তানহা’।বলল ইফাদ।
তানহা ইফাদে’র কথার উত্তর না দিয়ে,নীরব দৃষ্টিতে ইফাদের দিকে তাকালো।দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাতে-ই চোখ কপালে উঠে গেলো’।বিকাল চারটা বেজে গেছে।আমি এত ঘুমাইলাম কেমন করে।তড়িঘড়ি করে উঠে বাহিরে আসলো।রান্না ঘরের দিকে যেতে লাগলে ইফাদ বলল।

–আম্মু রান্না করেছে।এত হাইপার হবার কিছু নেই।ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও।
তানহার রান্না ঘরে গিয়ে দেখলো সত্যি তার শাশুড়ী রান্না করেছে।এতটা খারাপ লাগছিল।কখন বেলা গড়িয়ে গেলো।চৈতালি বাসার মধ্যে প্রবেশ করতে করতে বলল।

–ভাইয়া তুমি চাকরি খুজছিলে না।আমাদের তানভীর ভাইয়া আছে না।নতুন এনজিও খুলেছে।লোক নিচ্ছে।আমাকে আসার সময় বলল তোমাকে বলতে।প্রথমে আট হাজার টাকা দিবে।প্রতি বছরে তোমার টাকা বাড়বে।ওভার টাইম তো আছেই।চাইলে তুৃমি করতে পারো।
–আচ্ছা আমি তানভীরের সাথে কথা বলে নিব।

–ভাবি তুমি একটু আমার রুমে আসবে।তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
–তুমি তোমার রুমে যাও।আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।বলেই তানহা ফ্রেশ হতে চলে গেলো।ফ্রেশ হয়ে চৈতালির রুমে গেলো।
–ভাবি কালকে আমার সাথে আমার কলেজে যাবে একটু।স্যার আমার ওপরে রেগে গেছে।গার্ডিয়ান নিয়ে যেতে বলছে।ভাইয়া বা’ আম্মু গেলে আমাকে মেরেই ফেলবে।প্লিজ তুমি কালকে আমার সাথে যাবে।তুমি যা’ বলবে আমি তাই করবো।তোমার সব ককথা শুনবো।তোমার সাথে বাসার কাজে সাহায্য করবো।ঘর ঝাড়ু দিয়ে দিব।থালাবাসন ধুইয়ে দিব।
চৈতালিরকথা শুনে তানহা হেসে দিল।

–তুমি তোমার ভাইয়ার থেকে অনুমতি নিয়ে আসো আগে।তোমার ভাইয়ার অনুমতি ছাড়া আমি যেতে পারবো না।
–আমার গিয়েছো জানলে ভাইয়া কিছু বলবে না।
–এখন বুঝবে না বোন।আগে বিয়ে হোক সংসার হোক।তখন বুঝতে পারবে।তোমার ভাইয়ার অনুমতি না পেলে আমি যেতে পারবো না।

–কি ঝামেলায় পড়লাম।এখন ভাইয়াকে পটাবো কি’ করে’।
তানহা উঠে চলে গেলো’।রান্না ঘরে এসে খাবার বেড়ে খেতে শুরু করলো।রোকেয়া বেগম রুম থেকে বেড়িয়ে এসে বলল।
–তানহা মা’ তোমার কি শরীর খারাপ।কি’ হয়েছে মা’ আমাকে বলো।
–কিছু হয় নি’ আম্মা কি’ করে যে,এত ঘুমাইলাম।আপনার রান্না করতে অনেক কষ্ট হয়েছে তাই না আম্মা।হাঁটুর ব্যাথা নিয়ে এত কষ্ট করে রান্না করতে গেলেন কেনো’।আমাকে ডেকে দিলেই তো’ পারতেন।

–এতটা বিবেকহীন হয়ে যাই নাই মা’।সব সময় কাজ তুমি করো।তুমি তো’ মানুষ।রোবট না,তোমার-ও শরীর আছে।তোমার শরীর খারাপ হতেই পারে।তাই বলে অসুস্থ শরীরে তোমাকে কাজ করাবো এতটা খারাপ শাশুড়ী আমি না’।
–ভাইয়া তোমার সাথে আমার একটা কথা আছে।
–একটা কথা বলেই চলে যাবি।একটা’র বেশি দু’টো বললে তোর খবর আছে।
–সব সময় এমন করো কেনো।কালকে ভাবিকে আমাদের কলেজে নিয়ে যাব।

–তোর কলেজে তানহা গিয়ে কি করবে।
–আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই নিয়ে যাব।
–তানহা আমার বউ নাকি তোর বউ।
–তোমার বউ।
–তাহলে তুই ইচ্ছে মতো কেনো আমার বউকে নিয়ে যাবি।
–কারন তোমার বউ আমার ভাবি তাই নিয়ে যাব।
–আমি তানহাকে যেতে দিব না।

–ভাইয়া তুমি যা’ বলবে আমি তাই শুনবো।তোমার জামা-কাপড় ধুইয়ে দিব।তোমার পা’ টিপে দিব।তোমার মাথা টিপে দিব।তোমার গলা টিপে দিব।তুমি যা’ বলবে আমি তাই করবো।
–তুই আমার গলাটা টিপে দিস।তোর আর কিছু করা লাগবে না।তোর হাবভাব ভালো লাগছে না।কাহিনি কি’ আমাকে সত্যি কথা বল।

–আমার ফ্রেন্ডরা ভাবিকে দেখতে চেয়েছে।
–আমি’ও যাব।
–এই না’।
ইফাদ ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
–কেনো আমি গেলে তোর মান-সন্মন নষ্ট হয়ে যাবে।
–তুমি এতগুলো মেয়েদের মাঝে গিয়ে কি করবে।
–তোর ভাবি এতগুলো ছেলেদের মাঝে গিয়ে কি করবে।

–ভাইয়া ভাবি আমার ফ্রেন্ডদের কাছে থাকবে।আর ওরা সবাই মেয়ে।আমি ভাবির নামে অনেক প্রসংশা করেছি ওদের কাছে।তাই সবাই দেখতে চেয়েছে।
–তোর ভাবি সুন্দর সেজন্য তুই সবার সামনে নিয়ে যেতে পারবি।আমি কালো দেখেতে ভালো না।তোর সন্মানে আঘাত লাগবে।সেজন্য এমন করছিস।আচ্ছা আমি যাব না।তোর ভাবিকে-ই নিসে যাস।কিন্তু সাবধানে যাবি।আর তাড়াতাড়ি চলে আসবি।কোনো সমস্যা হলে,আমাকে ফোন দিবি।বলেই ইফাদ চলে গেলো।

তানহা খেয়ে গোসল করে আসলো।আয়নার সামনে বসে মাথায় চিরুনি করছিল।তখন-ই চৈতালি বলল।
–এই সন্ধ্যার দিকে গোসল দিলে,তোমার শীত লাগছে না।
–শীত লাগলে-ও কিছু করার নেই।সারাদিন ঘুমিয়েছি।দুপুরের আর বিকালের নামাজ পড়তে পারি নাই।সন্ধ্যার আজান দিলে সব নামাজ তুলে নিতে হবে।

–ভাইয়া অনুমতি দিয়েছে।সকালে কিন্তু আমার সাথে যাবে।
–সত্যি বলছো।
–তোমার সাথে মিথ্যা কথা বলতে পারি।

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১০

–আচ্ছা নিজের রুমে যাও।সকালে আমি তৈরি থাকবো।চৈতালি চলে যেতেই তানহা মনে মনে ঠিক করে নিল।কালকে চৈতালি’র স্যারকে কিছু কথা বলবে।প্রয়োজনে তার স্যারকে শক্ত হতে বলবে।চৈতালি আমার নিজের বোনের মতো।আমি তার জীবন নষ্ট হতে দিতে পারি না।যে,তাকে ভালোবাসে না।চৈতালি কেনো তার পেছনে পড়ে থাকবে।বিষয়টা খুব বাজে দেখায়।ভাবতে-ই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল তানহা।

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১২