এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১২

1117

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১২
Fabiha bushra nimu

সকালের মিষ্টি রোদের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে চৈতালি আর তানহা।গল্প করতে করতে কখন যে,কলেজে’র কাছে পৌঁছে গেছে।সেদিকে খেয়াল নেই চৈতালি’র।চৈতালি’র কলেজটা তানহার চাচার বাসা থেকে আরো পনেরো মিনিট দূরে।তানহা’র চাচার বাসার সামনের রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন কলেজে যেতে হয় চৈতালি’কে।

–ভাবি চলে এসেছি।ঐ দিকে কোথায় যাচ্ছো।আমার কিন্তু খুব ভয় লাগছে।
–তুমি কি’ কোনো অন্যায় করেছো।চোরের মতো ভয় পাচ্ছো।
–স্যারকে বিরক্ত করেছি।
–তোমাকে এসব শিখিয়েছি আমরা।কলেজে এসব করতে আসো।
–তোমাকে তো আগেই সবটা বলেছি।এখন বকছো কেনো’?

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

তানহা কোনো কথা বলল না।চুপচাপ সামনের দিকে এগোতে লাগলো।আবিরে’র খোঁজ করতেই জানা গেলো আবির ক্লাসে আছে।দশ মিনিট পরেই আবিরের ক্লাস শেষ হবে।এখন দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।চৈতালি তার সব ফ্রেন্ডদের সাথে তানহা পরিচয় করিয়ে দিল।আবির’কে বের হতে দেখে চৈতালি সবার থেকে বিদায় নিল।চৈতালি প্রকার দৌড়ে আবিরের সামনে দাঁড়ালো।

–স্যার আমার গার্ডিয়ান নিয়ে এসেছি।
–আমার রুমে নিয়ে এসো।তারপরে কথা বলছি।তানহা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।পেছনে থেকে আবির’কে খেয়াল করেনি।চৈতালি আবিরের কাছে এসে,তানহা’কে বলল।
–ভাবি চলো স্যার তার রুমে যেতে বলেছে তোমাকে।দু’জন মিলে আবিরের রুমে গেলো।অনুমতি নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।আবির আর তানহা দু’জন দু’জনকে দেখে কিছু মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো।

–তানহা তুই।চৈতালি তোর কে’ হয়।
–স্যার আপনি ভাবিকে কিভাবে চিনেন।
–তানহা তোমার ভাবি।
–হ্যাঁ কিন্তু আপনি ভাবিকে কি করে চিনেন।
–তুমি একটু বাহিরে যাও।তোমার ভাবির সাথে কিছু কথা আছে।
–চৈতালি কোথাও যাবে না।এখানে আমরা চৈতালি’কে নিয়েই কথা বলতে আসছি।যা’ কথা বলার চৈতালি’র সামনে-ই বলতে হবে।

–আমি চৈতালি’কে নিয়েই কথা বলবো।কিন্তু কথাগুলো ওর সামনে বলাটা ঠিক হবে না।চৈতালি তুমি আমার কথা শুনতে পাওনি।এখনো কেনো দাঁড়িয়ে আছো।চৈতালি মাথা নিচু করে চলে গেলো।তানহার বেশ বিরক্ত লাগছে।চৈতালির কলেজের টিচার তার আবির ভাই।জানলে কখনোই আসতো না তানহা।আবির উঠে তানহার দিকে এগোতে লাগলো।
–সেই তুই নিজেই আমার কাছে আসলি।দেখ আমি কিন্তু তোর কাছে যাই নাই।তুই নিজে পায়ে হেঁটে আমার কাছে এসেছিস।

–আমি এখানে ব্যক্তিগত কথা বলতে আসি নাই।আপনি নিশ্চয়ই আমাকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করার জন্য ডাকেন নাই।
–ব্যক্তিগত প্রশ্নের জন্যই ডেকেছি।তোর আদরের ননদ এক বছর ধরে ছ্যাচরার মতো আমার পেছনে ঘুর ঘুর করছে।আজকাল ওর বিরক্ত করা বেশি হয়ে গিয়েছে।আমি নিতে পারছিলাম না।তাই ওর গার্ডিয়ান ডেকেছি।আগে যদি যানতাম চৈতালির ভাইয়ের সাথে তোর বিয়ে হয়েছে।তাহলে এতদিনে তোদের বাসার জামাই হয়ে যেতাম রে তানহা।
–আমার ননদ আজকের পর থেকে আপনাকে বিরক্ত করবে না।আশা করি আমি আপনাকে বোঝাতে পেরেছি।আর কিছু বলার থাকলে বলুন।আমাকে বাসায় যেতে হবে।

–আচ্ছা তোর কালো জামাইয়ে’র এত ধোলা বোন কেমনে হলো’ রে’।না মানে,তোর জামাই কালো।তোর শাশুড়ী কালো।চৈতালি এত ফর্সা হলো কি করে।আজকাল তো’ ফর্সা হবার জন্য অনেক ক্রিম বের হয়েছে।রাতে নাইট ক্রিম দিয়ে দিয়ে।নিজের চামরা সাদা করেছে।

–আপনি একজন শিক্ষক।ভাবতে-ও আমার রুচিতে বাঁধছে।ফর্সা হলেই যদি সুন্দর হতো।তাহলে আপেলের চেয়ে মূলোর দাম বেশি হতো’।আমার জামাই মোটে-ও কালো না।আমার জামাই আমার স্বপ্নের পুরুষ।আমার শ্যাম পুরুষ।পৃথিবীর সবথেকে সেরা মানুষটি হলো আমার জামাই।চৈতালির কথা বলছেন।আমার শশুর অনেক সুন্দর ছিলেন।আমার শশুরের গায়ের রং ফর্সা ছিল।আমার শাশুড়ীর গায়ের রং শ্যামলা।ইফাদ তার মায়ের গায়ের রং পেয়েছে।

চৈতালি তার বাবার গায়ের রং পেয়েছে।আপনি একজন শিক্ষক এই ছোট কথা গুলো আপনার দক্ষ মাথাটা বুঝে নিয়েছে।আমি এসব কথা বলতে আসি নাই।আপনি আমাকে কার গায়ের রং কেমন এসব জানার জন্য ডেকে নিয়ে আসেন নাই।আপনার মতো নিকৃষ্ট মানুষের সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাধে।আশা করছি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না।ভালো থাকবেন আসছি।

–কালো জামাইয়ের জন্য আমাকে ছেড়ে দিলি।তোর ননদ আমার পেছনে ঘুরে।আমি এমন একটা ছেলে।খুব কম মানুষই আমাকে অপছন্দ করবে।
–আবির ভাইয়া বেশি বাড়াবাড়ি করবে না।তোমার সব রকম বাড়াবাড়ি একদম সহ্য করবো না।তোমার থেকে সুন্দর আমার জামাই।তোমাকে আর আমার জামাইকে দাঁড় করিয়ে দিলে।সবাই আমার জামাইকেই পছন্দ করবে।আমার জামাই কোন দিকে কম আছে।লম্বা,মাথা ভরা ঘন কালো কেশ,মায়াবী চেহারা।দেখলে হাজার বার প্রেম পড়তে ইচ্ছে করবে।

ছেলে মানুষ যত সুন্দরই হোক না কেনো।ছেলে মানুষ লম্বা না হলে,সে ছেলের কোনো দাম নেই।হিসেব করে দেখতে গেলে তুমি আমার জামাইয়ের থেকে অনেকটাই খাটো।কোথায় আমার জামাই।কোথায় তুমি।কাক হয়ে ময়ূরের সাথে তুলনা করছো।আমার জামাই আমার কাছে সেরা ছিল,আছে,আর সারাজীবন থাকবে।তোমার মতো দশটা আবির আসলে-ও আমার মনে বিষ ভরতে পারবে না।আমার ভালোবাসাকে এতটা ঠুনকো ভেবো না।একটা কথা মনে রেখো ভাইয়া।
“ফুলের সৌরভ আর মানুষের গৌরব চিরদিন থাকে না ।

বলেই তানহা রুম থেকে বেড়িয়ে আসলো।আবির রেগে নিজের হাত দেওয়ালে বারি মারলো।
–আবিরকে অপমান করার সাহস খুব কম মেয়ের আছে তানহা।আজ তুই আমাকে এভাবে অপমান করে ঠিক করলি না।
তানহা আবিরের রুম থেকে বেড়িয়ে সোজা হাঁটতে শুরু করেছে।আর একটু মুহূর্ত এই কলেজে থাকবে না তানহা।

আবিরের সাথে কথা বলার সময় তানহার বার বার ইফাদের কথা মনে পড়ছিল।ইফাদ যদি জানতে পারে।সে,আবার আবিরের সাথে কথা বলছে।কি করবে আল্লাহ জানে।ভয়ে চুপসে যাচ্ছে তানহা।শীতের দিন তবু-ও মৃদু মৃদু ঘাম জামা হয়েছে তানহার কপালে।চৈতালি উতলা হয়ে বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিল।ভেতরে কি হচ্ছে তা’ জানার জন্য।তানহাকে এভাবে বের হয়ে যেতে দেখে চৈতালির মনের ভয় আরো দিগুণ বেড়ে গেলো।চৈতালি দৌড়ে তানহার কাছে আসলো।

–ভাবি ভেতরে কি’ হয়েছে।তুমি এভাবে আমাকে না নিয়ে চলে যাচ্ছিলে কেনো?তুমি স্যারকে কিভাবে চিনো।
–বাসায় চলো তোমাকে সবকিছু খুলে বলবো।এখন কথা বলতে ভালো লাগছে না।
–ভাবি আমার খুব চিন্তা হচ্ছে,সংক্ষেপে একটু বলো।

–তুমি আর আবির ভাইয়ের পেছনে ঘুরবে না।এমন বেয়াদব ছেলে তুমি ডিজার্ভ করো না।আবির ভাইয়ের থেকে ভালো ছেলে তুমি ডিজার্ভ করো।যে,ছেলে মেয়েদের সন্মান দিতে জানে না।এসব ছেলের আশা না করাই ভালো।আমি থাকতে তোমার জীবন নষ্ট হতে দিব না চৈতালি।রাজকুমার এনে দিব তোমাকে।তুমি আর আবির ভাইয়ের পেছনে ঘুরবে না।

–কিন্তু কেনো ভাবি।আমি আবির স্যারকে অনেক ভালোবাসি।আমার পক্ষে স্যার ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নেওয়া সম্ভব না।
–প্রথম ভালোলাগা তো’ তাই তোমার এমন মনে হচ্ছে।ভালোলাগা,ভালোবাসা,মায়া,কোনো টাই সারাজীবন থাকে না চৈতালি।একটা সময় সময়ে সাথে সব উবে যায়।শূন্য স্থান কখনো শূন্য থাকে না চৈতালি।ধুলাবালি দিয়ে হলে-ও তা’ পূর্ণ হয়ে যায়।তোমার শূন্য স্থান একদিন সঠিক মানুষ এসে পূর্ণ করে দিবে দেখো।তুমি অনেক ভালো মেয়ে চৈতালি।তুমি ভালো কিছু ডিজার্ভ করো।

–আমার ভালো কিছু চাই না ভাবি।আমার আবির স্যারকে লাগবে।স্যার তোমার পরিচিত প্লিজ স্যারকে তুমি বোঝাও।
–আমরা বাসায় গিয়ে কথা বলবো।বাহিরে দাঁড়িয়ে কথা বলা আমি পছন্দ করি না।
চৈতালি আর তানহা দু’জন হাঁটতে শুরু করলো।দু’জনের মাঝে পিনপিনে নীরবতা কাজ করছে।কেউ কোনো কথা বলছে না।একজনের মন খারাপ।আরেকজনের মনে ভয়।তানহা হঠাৎ করেই পেছনে তাকালো।আবির তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।তানহা আবিরকে দেখে চৈতালি’র হাত শক্ত করে ধরে জোরে হাঁটা শুরু করলো।

দু’জন মিলে কত প্ল্যান করে আসছিল।আজকে অনেক ঘুরবে।হাঁটবে সাজার জিনিস কিনবে।কিন্তু আবির নামক ব্যক্তিটি সবকিছু নিমিষেই সব আশা মাটি করে দিল।কিছু দূর যেতেই তানহা ইফাদকে দেখতে পেলো।ইফাদের সাথে একটা ছেলে আছে।দোকানে কি যেনো দেখিয়ে দিচ্ছে।ইফাদ এখনো তানহাদের দেখে নাই।তানহার ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে।

–চৈতালি তুমি জানো।আমাকে কে মেরেছিল।কে?আমাকে সংসার ছেড়ে চলে আসার কথা বলছিল।
–কে ভাবি’?
–আমি তোমাকে বলবো।আমার একটা শর্ত আছে।আমার কথা শোনার পরে একদম উত্তেজিত হবে না।আবির ভাই যদি পেছনে থেকে ডাকে।মনের ভুলেও পেছনে তাকাবে না।তানহার কথা শুনে চৈতালি পেছনে তাকালো।আবিরকে দেখে মুখে হাসির রেখা ফুঠে উঠলো।

–আমি তোমাকে পেছনে ঘুরতে নিষেধ করছি চৈতালি।
–কিন্তু কেনো তাকাবো না ভাবি।স্যার কিছু বলবে আসছে হয়তো।
–তুমি শুনবে না।কে’? আমাকে মেরেছিল।
–কিন্তু ভাবি স্যার।
–তোমার স্যারই আমাকে ভরা রাস্তার মধ্যে মেরেছিল।তোমার স্যারই আমাকে বলেছিল।আমি যেনো তোমার ভাইয়াকে ডিভোর্স দিয়ে তার কাছে চলে যাই।

তানহার কথা শুনে চৈতালি দাঁড়িয়ে পড়লো।অদ্ভুত ভাবে বুকের মাঝখানে চিনচিন ব্যথা অনুভব করলো চৈতালি।চোখে পানি এসে,ছলছল করে উঠলো।খারাপ মনটা নিমিষেই আরো খারাপ হয়ে গেলো।
–কি বলছো ভাবি এসব।তারমানে স্যারের মনের রাণী তুমি।
–রাস্তার বিপরীত পাশে তাকাও চৈতালি।দেখতে পাচ্ছো তোমার ভাইয়াকে।আবির ভাইয়ের জন্য আমাদের মধ্যে এখনো মনমালিন্য চলছে।তুমি কি চাও তোমার ভাইয়ের আর আমার সম্পর্কটা আরো খারাপ হয়ে যাক।
চৈতালি দুপাশে মাথা নাড়িয়ে বোঝালো সে,চায় না।

–তাহলে আমার হাত ধরে হাঁটা শুরু করো।তোমার ভাইয়াকে অতিক্রম করে আমরা একটা গাড়ি ডেকে নিব।
আবির এক প্রকার দৌড়ে চৈতালি আর তানহার পথ আঁটকে দাঁড়ালো।
–তানহা এই চুড়িটা তোর।আমার রুমে পড়েছিল।
তানহা বিরক্ত মাখা মুখ নিয়ে বলল।না এটা আমার চুড়ি না।

–চৈতালি রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে ছেলে মানুষের সাথে তোদের এত কিসের কথা রে।বলল ইফাদ।
পেছনে ইফাদকে দেখে তানহার আত্মা বেড়িয়ে আসার উপক্রম হয়ে গেছে।থরথর করে পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করলো।তানহা এতটা ভয় পাচ্ছে কেনো?সে জানে না।কিন্তু এই মানুষটা’কে তানহা খুব বেশি ভয় পায়।
–ভাইয়া এটা আবির স্যার আমাদের কলেজের শিক্ষক।একটু দরকারি কথা বলছিলাম।
–উনি তোর কলেজের শিক্ষক ভালো কথা।কলেজের মধ্যে কথা বলবি।রাস্তায় এভাবে স্যারের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে কেনো।

–আরে ইফাদ ভাই রাগ করছো কেনো?তোমার বউয়ের চুড়ি আমার রুমে পড়ে গিয়েছিল।চুড়িটা-ই দিতে এসেছি।
তানহার বুকের ভেতরে ধক করে উঠলো।ইফাদ একবারো তানহার দিকে তাকালো না।তানহার অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।ইফাদ আবিরকে আড়চোখে একবার দেখে নিল।
–চৈতালি তোদের কাছে টাকা নেই।হেঁটে যাচ্ছিস কেনো?
–আসলে ভাইয়া আমি আর ভাবি ঠিক করে ছিলাম আজকে একটু ঘুরবো,হাঁটবো।

ইফাদ রক্ত চক্ষু নিয়ে চৈতালি’র দিকে তাকালো।চৈতালি ভয়ে মাথা নিচু করে ফেললো।আবির ইফাদের হাতে চুড়িটা দিয়ে চলে গেলো।ইফাদ চৈতালিকে আলাদা ভাবে ডেকে নিয়ে দূরে সরে গেলো।তানহা অসহায় দৃষ্টিতে দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছে।ইফাদ কেনো তার সাথে কথা বলছে না।আবার রাগ করলো ইফাদ।ভাবতে-ই বুক চিরে কান্না আসছে তানহার।
একটু পরে চৈতালি আসলো।চৈতালির চোখেমুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

–ভাইয়া তোমাকে চলে যেতে বলেছে।আমি তোমাকে গাড়িতে তুলে দিচ্ছি।গাড়ি আলা তোমাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিবে।এই নাও টাকা ভাইয়া দিয়েছে।
–তুমি যাবে না চৈতালি।
–ভাইয়া তানভীর ভাইয়ে’র সাথে কাজে আসছে।ভাইয়ার সাথে যেতে বলেছে আমাকে।
–আমাকে চলে যেতে বলছে কেনো?আমি’ও থাকবো তোমাদের সাথে।

–কিন্তু ভাইয়া তোমাকে চলে যেতে বলেছে।তুমি কথা বাড়িও না ভাবি।বাসায় চলে যাও।চৈতালি একটা গাড়ি দাঁড়া করালো।বাসার ঠিকানা দিয়ে সুন্দর ভাবে তানহাকে নামিয়ে দিতে বলল।তানহা একবার ইফাদের দিকে তাকিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।তানহা চলে যেতেই চৈতালি দৌড়ে ভাইয়ের কাছে চলে গেলো।
–ভাইয়া ভাবি চলে গিয়েছে।

–তুই এখন আমার সাথে চল।তোর খবর আছে।আমি যা’ বলবো।তাই না শুনলে কঠিন শাস্তি পাবি তুই।
চৈতালি মাথা নিচু করে ফেললো।ইফাদ হাঁটছে ইফাদের পেছনে পেছনে চৈতালি হাঁটছে।ভেতরে ভয় কাজ করছে।একদিকে তানহার চিন্তা আরেক একদিকে তার ভাইয়ের চিন্তা।নিজেকে পাগল মনে হচ্ছে চৈতালির।

তানহা বাসায় এসে চুপচাপ হয়ে বসে আছে।অশান্ত মনটাকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছে না তানহা।ইফাদ চাইলেই পারতো।তানহার মনটাকে শান্ত রাখতে।কিন্তু ইফাদ তানহার সাথে কথাই বলল না।আচ্ছা ইফাদ কি আমাকে বাসা থেকে বের করে দিবে।ওনাকে না দেখে আমি কিভাবে থাকবো।সব বাজে চিন্তা এসে তানহা’র মনে হানা দিয়েছে।

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১১

তানহা’র কাছে কোনো জাদু থাকলে নিমিষেই সব দুশ্চিন্তা দূর করে দিত।অপেক্ষার প্রহর গুলো এতটা দীর্ঘ হয়।সহজে কাটতেই চায় না।চাকত পাখির মতো ইফাদ আর চৈতালির জন্য অপেক্ষা করছে তানহা।কিন্তু তাদের আসার নামে কোনো খোঁজ নেই।

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১৩