এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১৩

1865

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১৩
Fabiha bushra nimu

সারাদিন পেড়িয়ে বিকাল গড়িয়ে আসছে।ফুটপাতের রাস্তা ধরে হাঁটছে ইফাদ আর চৈতালি।চৈতালি’র মুখ বাংলার পাঁচের মতো হয়ে আছে।রাগী দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকাচ্ছে বারবার।ইফাদের মুখ গম্ভীর্য ভাব বিদ্যমান।দু’জন বাসার কাছে চলে এসেছে।চৈতালি রেগে বলল।

–ভাইয়া’র বাচ্চা তুমি এতটা খারাপ আগে জানলে..
চৈতালির কথা শুনে ইফাদ পেছনে ঘুরে দেখতে লাগলো।চারিদিকে ঘুরে চৈতালির দিকে তাকালো।
–এভাবে কি খুঁজছো।
–আমার বাচ্চাকে।
–এ্যাঁ”!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

–তুই তো’ আমার বাচ্চাকে ডাক দিলি।কোথায় আমার বাচ্চা।এখন আমাকে আমার বাচ্চা দে’।
–তুমি সেই খারাপ ভাইয়া আমি ভাবিকে সব বলে দিব।
ইফাদ রাগী দৃষ্টিতে চৈতালির দিকে তাকালো।চৈতালি দৌড়ে বাসার মধ্যে চলে গেলো।ইফাদ-ও চৈতালির পেছনে গেলো।চৈতালি বাসায় এসে নিজের রুমে প্রবেশ করলো।তারপরে নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে দিল।ইফাদ আসলে,চৈতালি’কে তাজাই খেয়ে ফেলবে।

তানহা দুপুরের নামাজ পড়ে,ইফাদ আর চৈতালির জন্য অপেক্ষা করছিল।কখন যে,ঘুমিয়ে গিয়েছে।সে,নিজেও জানে না।ইফাদ রুমে প্রবেশ করে,কিছুক্ষণ ঘুমন্ত তানহার দিকে তাকিয়ে থাকলো।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো’।
ইফাদ খেতে বসেছে।রোকেয়া বেগম আর ইফাদে’র কথার আওয়াজে তানহা’র ঘুম ভেঙে গেলো।তাড়াতাড়ি করে উঠে বসলো।ঘুমের রেশ এখনো কাটে নাই।ইফাদের গলার আওয়াজ শুনে বুকের ভেতরে ধুকপুকানির আওয়াজ বাড়তে শুরু করেছে।আবার-ও সেই ভয় এসে মনে হানা দিয়েছে।একটু শান্তিতে ঘুমিয়ে ছিল।ইফাদের গলার আওয়াজ সব শান্তি নিমিষেই উধাও করে দিল।

তানহা উঠতে যাবে।তখনই ইফাদ রুমে প্রবেশ করে।অসহায় দৃষ্টিতে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।ইফাদ ফোনটা নিয়ে বেড়িয়ে গেলো।তানহা উঠে ইফাদের পিছু পিছু গেলো।তানহা’কে নিজের পেছনে দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো ইফাদের।ইফাদ আবার নিজের রুমে আসলো।তানহা-ও ইফাদের পেছনে আসলো।তানহাকে উসখুস করতে দেখে ইফাদ বলল।

–সমস্যা কি’ এভাবে পিছু পিছু ঘুরছো কেনো?
–বিশ্বাস করুন আমি জানতাম না আবির ভাই চৈতালির কলেজের শিক্ষক।জানলে কখনোই যেতাম না।আবির ভাই যে,চুড়িটা আপনাকে দিয়েছে।সেটা আমার চুড়ি না।

তানহার কথা শুনে ইফাদের গম্ভীর্য মুখটা আরো গম্ভীর হয়ে গেলো।ইফাদ একদম স্তব্ধ হয়ে গেলো।ইফাদের নীরবতা তানহাকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।মনের মধ্যে ঝড় বইয়ে যাচ্ছে।ইফাদ কি’ তানহার মনের অবস্থা দেখতে পাচ্ছে না।তাহলে কেনো নীরব রয়েছে।ইফাদের থেকে কোনো উওর না পেয়ে।তানহা দু-চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।দু’জনে-ই সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আছে।দু’জনেই নীরব।তানহা মাথা নিচু করে আছে।অনবরত চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।এক হাত দিয়ে চোখের পানি মুছছে বারবার।

তানহার অবস্থা দেখে ইফাদ শব্দ করে হেসে ফেললো।ইফাদের হাসি দেখে তানহা চোখ তুলে ইফাদের দিকে তাকালো।কি’ সুন্দর সেই হাসি।ইফাদের ভুবন ভুলানো হাসি দেখে,নিমিষেই তানহার সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেলো।পলকহীনভাবে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।হাসলে মানুষটাকে কত সুন্দর দেখায়।তানহার মনে হচ্ছে,সময়টা যদি থেমে যেত।ইফাদের হাসি মুখটা দেখে হাজার বছর কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে তানহার।ইফাদ নিজের হাসি কিছুতেই থামাতে পারছে না।ইফাদের হাসি দেখে তানহা-ও হেসে ফেললো।তানহার হাসি দেখে ইফাদ হাসি থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে তানহার দিকে তাকালো।

–তুমি হাসছো কেনো?
–আপনি হাসছেন তাই!
–আমি তো’ একটা কারনে হাসছি।তুমি কারন ছাড়াই হাসছো।
–আমার সামনে কেউ হাসলে,আমার খালি হাসি পায়।
–তুমি না কান্না করছিলে,এখন হাসলে কেনো?নাও আবার কান্না শুরু করো।তুমি আবার ছেলেদের সাথে কথা বলেছো।এটা তোমার শাস্তি।

তানহা অসহায় দৃষ্টিতে ইফাদের দিকে তাকালো।ইফাদের কথা শুনে তানহার মনটা আবার খারাপ হয়ে গেলো।তানহাকে অবাক করে দিয়ে।ইফাদ তানহার দুই গাল স্পর্শ করে যত্ন সহকারে দু-চোখের পানি মুছে দিল।
–তুমি কান্না করছো কেনো?তুমি কি কোনো অন্যায় করেছো পাগলি।আমি তোমাকে কিছু বলেছি।তোমার দু-চোখ কান্না মানায় না।সব সময় হাসবে দেখো তো’ তোমাকে হাসলে কত সুন্দর দেখায়।

–আপনি আমাকে আবার ভুল বুঝেছেন তাই না আমি জানি।
–তানহা তুমি একটা পবিত্র ফুল।আমি এই পবিত্র ফুলটাকে কিভাবে ভুল বুঝবো বলতো।আমি জানি আমার বউজান কেমন।তুমি আমাকে এতটাই খারাপ মনে করো।আমি কি এতটাই খারাপ তানহা।যে,চোখের দেখা দেখে,সত্যি মিথ্যা যাচাই না করে।তোমাকে ভুল বুঝবো।

তুমি আমার বাগানে ফোঁটা জ্যান্ত গোলাপ ফুল।আমি এই ফুলটাকে কিভাবে কষ্ট দিতে পারি।আমি তো’ তোমার সাথে এমনি এমন করছিলাম।তুমি রাগ করে ছিলে,আমার সাথে কথা বলছিলে না।আমার অনেক খারাপ লাগছিল।আমি ইচ্ছে করে এমন করছি।এমন না করলে তুমি আমার সাথে কথা বলতে।এমন করলাম দেখেই তুমি আমার সাথে কথা বললে।
তানহা হতভম্ব হয়ে ইফাদের দিকে তাকালো।

–আপনার মতো বাজে লোক দু’টো দেখি নাই।আমাকে বোকা বানানো।আজকে রাতে আপনার ভাত বন্ধ।
–লক্ষি সোনা বউ আমার এমন করে না।তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে।
–আমার কোনো সারপ্রাইজ লাগবে না।ভয়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল।আর উনি মজা নিয়ছে।আপনি একদম আমার সাথে বলেন না।বের হন আমার রুম থেকে।

–এতক্ষণ ভেজা বিড়ালের মতো হয়েছিলে।সত্যি কথা বলে দিলাম।এখন আমার রুম থেকে আমাকেই তাড়িয়ে দিচ্ছো।এই জন্যই বলে,সত্যি কথার ভাত নাই।
তানহা ঝাড়ু হাতে নিলো।তেড়ে ইফাদের দিকে আসতে লাগলো।ইফাদ দৌড়ে বাহিরে চলে গেলো।তানহা রেগে দরজা লাগিয়ে দিল।
ইফাদ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।

–কি’ মেয়ে রে’ বাবা নিমিষেই রুপ বদলে ফেললো।এই চৈতালি দরজা খোল।
–আগে আমাকে দশ হাজার টাকা দিবে।তারপরে তোমার জিনিস ফেরত পাবে।
–তুই ছোট মানুষ এত টাকা নিয়ে কি করবি বোঝা আমাকে।
–তুমি ভাই নিরামিষ মানুষ।এসব জিনিস পত্র কিভাবে তোমার বউকে দিবে।এসব বরং আমার কাছেই থাক।আমি ব্যবহার করবো।

–আমার কিন্তু খুব রাগ হচ্ছে চৈতালি।সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
–আগে টাকা দিবে।
–তোর এত সাহস তুই আমার মুখের ওপরে কথা বলিস।
–মার খেলে খাব।তবু্ও টাকা নিব।
–আমার কাছে এত টাকা নাই।তুই পঞ্চাশ টাকা নে’ বোন।আমার জিনিস আমাকে দিয়ে দে’।
–সারাদিন আমাকে খাটিয়েছো।আমাকে মাত্র পঞ্চাশ টাকা দিবে।তোমার জিনিস তোমাকে দিতে চেয়ে ছিলাম।কিন্তু এখন দিব না।

–লাগবে না তোর জিনিস।আমি বাসার বাহিরে চলে গেলাম।ইফাদ রেগে পারার মোরে চলে গেলো।চৈতালি দরজা খুলে দেখলো ইফাদ চলে গেছে।হতাশ হয়ে আবার নিজের রুমে চলে গেলো।
ঘড়ির কাটায় রাত নয়টা ছুঁই ছুঁই।তানহা রান্না ঘরে তরকারি গরম করছে।চৈতালি মেঝেতে পাটি বিছিয়ে।খাবার প্লেট গুলো নিয়ে এসে বসলো।রোকেয়া বেগম নিজের ঘরে আছেন।দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো।চৈতালি উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল।

–তোর ভাবি কই।
–রান্না ঘরে তরকারি গরম করছে।
ইফাদ কোনো কথা না বলে রান্না ঘরের দিকে গেলো।
–তুমি একা একা রান্না করছো।আমি তোমাকে সাহায্য করি।
তানহা রেগে ইফাদের শরীরে ঠান্ডা পানি ছুরে মারলো।

–আল্লার কসম তানহা শীত লাগে না।এভাবে কেউ ঠান্ডা পানি ছুরে মারে।
–আমি আলগা দরদ দেখাতে আসতে বলছিলাম।রেগে তরকারি নিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে গেলো।ইফাদ হতাশ হয়ে রুমে নিয়ে শার্ট চেঞ্জ করে আসলো।সবাই খেয়ে রুমে চলে গিয়েছে।ইফাদ চৈতালির রুমে আসলো।
–ভাইয়া তুমি সেই খারাপ।আমি মনে করে ছিলাম।ভাবির জন্মদিনে ভাবিকে উপহার দিব।তুমি আমার থেকে সবকিছু জেনে,নিজেই কিনে ফেললে।

–টাকা আমার বউ আমার কিনেছি বেশ করেছি।এই ধর তিন হাজার টাকা।
–আমি দশ হাজার টাকা চেয়ে ছিলাম।
–পারলে আম্মুর কাছে থেকে চেয়ে নে’।আমার কাছে আর টাকা নেই।এখন আমার জিনিস আমাকে ফেরত দে’।
–এখন দিয়ে দিচ্ছি।তুমি কিন্তু আম্মুকে বলে সাত হাজার টাকা নিয়ে দিবে।আমার আংটিটা সত্যি খুব পছন্দ হয়েছে ভাইয়া।
–আচ্ছা আমি আম্মুকে বলবো।

চৈতালি অনেক গুলো ব্যাগ এনে ইফাদের হাতে ধরিয়ে দিল।ইফাদ সেগুলো নিয়ে নিজের রুমে আসলো।তানহা কাত হয়ে শুইয়ে ছিল।ইফাদ গিয়ে তানহার পাশে বসে ডাকলো।
–তানহা উঠো না।
–আপনি সরে যান।আমার সাথে কথা বলবেন না।
–আচ্ছা বলবো না।একবার উঠে বসো।
–আমি আপনার কথা শুনতে বাধ্য নই।

ইফাদ তার ঠান্ডা হাত তানহার গালে চেপে ধরলো।তানহা তড়িঘড়ি করে ইফাদের দিকে তাকালো।
–সমস্যা কি’ প্রতিশোধ নিচ্ছেন।
–তুমি আগে উঠো,তারপরে বলছি।
তানহা কোনো কথা বলছে না।চুপ করে শুইয়ে আছে।ইফাদ তানহার হাত ধরে তুলে বসালো।সব গুলো ব্যাগ হাতে দিয়ে বলল।
–তোমার জন্য “বউজান”।

তানহা অবাক হয়ে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।এতকিছু তার জন্য নিয়ে এসেছে।ইফাদের মাথা কি’ খারাপ হয়ে গিয়েছে।
–এভাবে তাকিয়ে দেখছো কি’।সবকিছু খুলে দেখো তোমার পছন্দ পছন্দ হয়েছে কি না’।
তানহা সবকিছু খুলে দেখতে লাগলো,কালো রংয়ের একটা বোরকা,কালো রংয়ের শাড়ি,কালো রংয়ের চুড়ি,কিন্তু চুড়িগুলো কাঁচের না।কালো রংয়ের থ্রি-পিস,কালো রংয়ের জুতা।কালো রংয়ের একটা চাদর।সাজার গহনা মোটামুটি সবগুলোই প্রায় কালো।একজোড়া নুপুর-ও আছে।

তানহা অবাক দৃষ্টিতে ইফাদের দিকে তাকিয়ে আছে।আবার অনেক খুশিও লাগছে তানহার।ইফাদ তার জন্য এতকিছু নিয়ে এসেছে।ভাবতেই তানহার চোখ দু’টো চিকচিক করে উঠলো।খুশি হয়ে বলল।
–সবকিছু আমার’।
–না আমার আরো একটা বউ আছে তার জন্য।
–আপনি কি করে জানলেন আমার কালো রং পছন্দ।
–জামাই হই আমি তোমার।আমি জানবো না।তাহলে কে জানবে শুনি।

–আল্লাহ এগুলো সব আমার খুব খুশি লাগছে।তানহা খুশি সবকিছু নেড়েচেড়ে দেখছে।তানহার হাসিমাখা মুখটা দেখে,ইফাদে’র মনে প্রশান্তি বাতাস বইয়ে গেলো।মুগ্ধ দৃষ্টিতে তানহার দিকে তাকিয়ে আছে।তানহাকে দেখে মনে হচ্ছে,পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষটা তানহা।দুইটা বছর তানহার কোনো খোঁজ খবর রাখে নাই ইফাদ।অল্প কয়টা জিনিস পেয়েই মেয়েটা কতটা খুশি।তানহা হাতে চুড়ি গুলো পড়তে পড়তে বলল।

–আমার কিন্তু কাঁচের চুড়ি চাই।আপনি আমাকে#এক_মুঠো_কাঁচের_চুরি কিনে দিবেন।
–কাঁচের চুড়ি পড়া লাগবে না।
–না আমি পড়বো।
–জীবনে প্রথম কিছু চাইলাম।কিনে,দিবেন না।
–না’।তোমাকে সোনার চুড়ি বানিয়ে দিব।

–আমার আর কিছু লাগবে না।আপনি পুরো দোকান আমার জন্য নিয়ে আসছেন মনে হচ্ছে।
–এগুলো কিছু না তানহা।তুমি এখনো আমার থেকে অনেক কিছু পাবে।ইনশাআল্লাহ আমি তোমার সবকিছু পূর্ণ করার চেষ্টা করবো।
–আমার তো’ আপনাকে লাগবে।আপনি আপনাকে দিয়ে দিন।আমার আর কিছু লাগবে না।
–এভাবে বলো না।আমার শরম করে।
–আমি এগুলো একটু পড়ে দেখি।
–তোমার জিনিস তুমি পড়বে,আমাকে বলার কি আছে।
–আপনি একটু বাহিরে যাবেন।
–আমি থাকলে সমস্যা কোথায়।
–এখন শরম করবে না।

–রাগ দেখাচ্ছো কেনো?আমি বলেছি যাব না।একটা কথা বলতেই পারি না।সাপের মতো ফোস করে ওঠে।বলতে বলতে ইফাদ চলে গেলো।
তানহা কালো রংয়ের শাড়িটা পড়ে নিল।কালো রংয়ের শাড়িটা তানহার ফর্সা শরীরে একটু বেশি চকচক করছে।তানহার সুন্দর্য দিগুন বাড়িয়ে তুলেছে।তানহা ঠোঁটে হালকা করে লিপস্টিক দিয়ে নিল।সে,তো’ আর বাহিরে যাচ্ছে না।তার স্বামীর জন্যই সাজছে।তানহা দরজা খুলে দিয়ে ইফাদ’কে বলল।

–আমাকে কেমন লাগছে।
–সর্বনাশ করে ফেলছো।
ইফাদের এমন কথায় তানহা ভরকে গেল।
–কি করেছি আমি’।
–বউ তুমি এভাবে বাহিরে যাবে না।আল্লাহ আমার বউ এত সুন্দর।কাক যদি ঠোঁটে করে নিয়ে চলে যায়।তাহলে আমার কি’ হবে।তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে তানহা।

–সত্যি সুন্দর লাগছে।
–হ্যাঁ সত্যি অনেক সুন্দর লাগছে।একদম পরীর মতো।
–একটু বেশি বলে ফেলছেন।
আমার সাথে আসো।ইফাদ তানহাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে।তানহার পায়ে নুপুর পড়িয়ে দিলো’।
–মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে। আমার বউজান’কে!
তানহা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললো।

–তানহা তুমি অনুমতি দিলে,আমরা কয়টা ছবি তুলতে পারি।
–আপনি আমাকে ফেসবুক আইডি খুলে দিবেন।
–তুমি ফেসবুকের কথা কিভাবে জানলে।তোমার ফেসবুক ব্যবহার করা লাগবে না।
–কেনো আমি ফেসবুক খুললে,আপনার সব কার্যক্রম ধরে ফেলবো।ভয় পাচ্ছেন।
–তুমি আমার ফোন নিয়ে সবকিছু দেখতে পারো।কিছু নেই আমার ফোনে।আমি মেয়েদের সব সময় ঘৃণা করি।
–আমাকে’ও।
ইফাদ মাথা নিচু করে ফেললো।

–আচ্ছা আমি তোমাকে আইডি খুলে দিচ্ছি।তোমার ফোন নিয়ে এসো।
তানহা ফোন নিয়ে আসতে গেলো।ইফাদ ফ্লোরে বসে পড়লো।নিজের বিছানা তৈরি করে ফেললো।তানহা ফোন নিয়ে এসে ইফাদের পাশে বসলো।ইফাদ তানহার হাত থেকে ফোন নিয়ে ফেসবুক আইডি খুলে দিল।
–রিলেশনশিপের জায়গায় সিঙ্গেল দিবেন।
ইফাদ ভ্রু কুঁচকে তানহার দিকে তাকালো।

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১২

–তুমি সিঙ্গেল?
–পিওর সিঙ্গেল।আমাকে দেখে কি মনে হয় আপনার।
ইফাদ রাগী দৃষ্টিতে তানহার দিকে তাকিয়ে আছে।

এক মুঠো কাঁচের চুরি পর্ব ১৪