এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫০
Chadny islam
ঘড়ির কাটা টুংটাং আওয়াজ তুলে গভীর রাতের সূচনা আরম্ভ করছে! রুমের মাঝে বড় দেয়াল ঘড়িটা বেজেই চলেছে কিছু সময় নিয়ে! ইরা চুপ করে বসে আছে পড়ার টেবিলে, মূলত পড়াশোনা টা ইমপোর্টেন্স নয়! ইমপোর্টেন্স হচ্ছে রাত জেগে স্বামীর এর অপেক্ষা! ইতিমধ্যে দশ থেকে বারো কাফ কফি খেয়ে ফেলেছে, শুধু মাএ ঘুম না আসার জন্য! এত কষ্ট করে রাত জেগে থাকার পর যদি দেখা না হয়, সিকদার সাহেব এর সাথে!
ইরার বড্ড রাগ হচ্ছে এত রাত অব্দি কেউ কি বাড়ির বাইরে থাকে, কি এত কাজ বাইরে! নাকি বাইরে আরেক টা সংসার আছে! আমি শুনে ছিলাম, বেশি বড় লোকরা নাকি ঘরে একটা এবং বাইরে আরেক টা করে বউ রাখে সংসার সাজাই ! তাহলে কি সিকদার সাহেব এর বাইরে আরো একটা সংসার আছে! ইরা এইসব নিয়ে ভাবতে থাকে কিছু সময় নিয়ে!
সময় যখন একটা পনেরো ঠিক তখনি বড় বড় পায়ের শব্দ ভেসে আসছে রুমের এই দিকে! ঠিক তখন ইরার ভাবনার ছেদ ঘটে! এই বড় বড় পায়ের শব্দের মালিক টিকে সে খুব ভালো করে চেনে!
রুমের আলো ছলছল করছে, ইরা চেয়ারে বসে আছে, মূলত তাকে দেখলে মনে হবে, সে এই মূহুর্তে পড়াশোনা করছে! আদিল এক পলক নজর ঘুড়িয়ে নিলো, এরপর রুমের দরজা লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো!
ইরা টেবিল থেকে ওঠে চলে আসলো ঠিক আদিল এর সামনে, আদিল এর কেমন মন খারাপ দেখতে!
ইরা আদিল এর সামনে দাড়াতেই, আদিল বলে উঠলো!
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
____কি ব্যাপর ম্যাডাম আপনি এখনো ঘুমান নি যে??
ইরা বুঝতে পারলো না, আদিল এর কি অল্প অল্প মন খারাপ নাকি! তাকে দেখে তো একদম স্বাভাবিক লাগছে! তাহলে কি আদিল সব ঠিক করে ফেলেছে! ইরার এবার ভিষণ রাগ হলো, আদিল এর প্রশ্নের ছোট উত্তর দিয়ে বললো!!
____এমনি পড়াশোনা করছিলাম! এখন ঘুমাবো!
ইরা কথা শেষ করে আদিল এর সামনে থেকে সরে দূরে চলে যেতে চাইলে। আদিল ইরার কোমর টেনে শক্ত হাতে বলে উঠলো!!!
___স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এত অতলা হয়ে আছেন বললেই হয়। এত লজ্জা কিসের এর আগেও তো আমরা….!!!
আদিল এর পুরোপুরি কথা শেষ করার আগেই, ইরা আদিল এর মুখে আঙুল চেপে দরে বলে উঠলো!!
____চুপ করুন অসভ্য লোক! মুখে কিছু আটকাই না তাই না!!
আদিল শক্ত হাতে ইরার কোমর টেনে, মুখ ডুবালো গাড়ে, তারপর ফিসফিস করে বললো!!
____ঘরের বউ হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে লজ্জা লাগে না বুঝি!
ইরা শুকনো ডোক গিলল,ভয়ে নেতিয়ে গিয়ে আমতা আমতা করে বললো!!
____মা…মানে কি বলছেন এসব??
আদিল ইরার গাড় থেকে মুখ তুলে, ইরার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো!!
____আবদুল মামুন ও কিন্তু নারী পাচার কারী দের সঙ্গী ছিলো!
ইরা চট করে বলে উঠলো!!
____অসম্ভব! ওনি কখনোই এমন বাজে কাজ করবেন না!
ইরার এমন উওরে আদিল এর মনে হলো, নিজের স্বামীর থেকে পর পুরুষ এর প্রতি টানটা একটু বেশি মনে হচ্ছে! আদিল দাঁতে দাঁত পিসে বললো!!
____কনফিডেন্স ভালো বাট ওফার কনফিডেন্স মুটেও ভালো নয়!
ইরা আদিল থেকে নিজেকে সরানোর চেষ্টা করতে করতে বললো!!
___আপনি ফাঁসিয়ে দিয়েছেন তাই না??
আদিল নিঃশব্দে হাসলো, এবং বললো!!
____মনের কথা এত তাড়াতাড়ি পরে ফেলতে পারো, এর জন্য তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি!
ইরা মূহুর্তেই আদিল এর শার্ট এর কলার টেনে দরে, শক্ত গলাই বলে উঠলো!!
____কেন করলেন এমন??
ইরার এমন আচরণে আদিল এর রাগ পা থেকে মাথা পর্যন্ত চলে গিয়েছে!আদিল রাগে রিরিরি করে বললো!!
___ভালোবাসা ফিলিং মায়া টান সব আমার জন্যই বরাদ্দ থাক, যদি অন্য কারোর জন্য তোমার চোখে এক বিন্দু পরিমান মায়া দেখি! তাহলে তোমার কি হাল করবো, আই সুয়াগ আমি নিজে ও জানি না!
ইরার এবার বড্ড রাগ হলো নিজের প্রতি, তার জন্য কিনা একজন Honest পুলিশ বিপদে পরে গেল! ছি ভাবতেই খারাপ লাগছে! কি হবে এবার,
আদিল সে তো বড্ড রেগে আছে, তবে আবদুল মামুন এর খোঁজ নিবে কিভাবে! তার একদম ঠিক হয় নি, রিজ লুমান এর নাম্বার টা মামুন কে দেয়া! তারা আইনের লোক একটা এভিডেন্স পেলে পুরো ১৪ গুষ্টির ডিটেইলস ক্যালেক্ট করতে পারে।এখন কি হবে..?
ইরা বেশ সময় নিয়ে ভাবতে লাগলো, তার পাশে যে তার স্বামী স্বয়ং আদিল দাড়িয়ে সেদিকে তার হুশ নেই! তার ভাবনার ছেদ ঘটলো হঠাৎ আদিল এর আক্রমণে! শক্ত হাতে কোলে তুলে নিয়েছে ইরা কে! ইরা কোলে ওঠার বিষয় টা বুঝতে পেরে ছটপট করতে লাগলো, এবং ছাড়তে বললো আদিল কে! কিন্তু আদিল ইরার কোনো কথা কে পাওাই দিচ্ছে না। আদিল যে বড্ড রেগে আছে,যদি এখন সত্যি সত্যি কিছু………
এসব ভাবতেই ইরা আরও ছটপট করতে শুরু করলো, এবং বলে উঠলো!!
___আমাকে ছাড়ুন নয়তো আমি চেঁচাবো!
আদিল শব্দ করে হেসে বললো!!
____ওকে একটু জোড়ে চেঁচিও, তাহলে পাশের রুমের সবাই ভাববে…
ইরা এবার কপাল কুঁচকে ফেললো, তার ভিষণ রাগ হচ্ছে! আদিল ইরা কে বিছানার উপর ফেলে দিলো! তারপর নিজে উঠে গেলো বিছানার উপর, আদিল যে বড্ড রেগে আছে, তার বউ এর অন্য পুরুষ এর জন্য কেন এত মায়া, আজ রাগ ভালোবাসা দুটোই বিলীন করে দিবে তার ছোট্ট বউ টাকে!
আদিল ইরার ঠোঁটে ঠোট মিলিয়ে উষ্ণ চুমু খেতে লাগলো! আদিল কখনো কপালে তো কখনো ঠোঁটে গাড়ে চুমু দিতে দিতে একে অপরের সাথে মিশে একা কার হয়ে যাচ্ছে! ইরা বেশ ছটপট করছে, আদিল কে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে! আদিল কে এমন পাগলামি করে ভালোবাসতে দেখে বড্ড অস্থির লাগলো ইরার! সবকিছু কেমন বেসামাল টালমাটাল হয়ে যাচ্ছে! আদিল এর এমন ভাবে ঠোঁটের স্পর্শ তাকে একদম ঠিক থাকতে দিচ্ছে না! এত বেশি জ্বালালে ইরা কিভাবে নিজেকে সামলাবে, আদিল এর শার্ট শক্ত করে দরে আছে ইরা! আদিল এবার ইরার ঠোঁট ছেড়ে মুখ ডুবালো গাড়ে, গাড় থেকে গলায় অজস্র চুমু একে দিলো! ছোট ছোট চুমু এবং অজস্র কামুড় বসিয়ে দিচ্ছে শরীরের প্রতিটি বাঝে বাঝে! ইরাকে বেসামাল উন্মাদ করে কানের শক্ত কামুড় বসিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো!!
অন্য পুরুষ এর প্রতি মায়া এবং টান কমাতে না পারলে, প্রতি রাতে আপনাকে এই রকম অত্যাচারের স্বীকার হতে হবে ম্যাডাম !!
সকাল আটটার কাঁটায়,
গত কালের উল্টা পাল্টা নিউজ এর জন্য, আশরাফ সিকদার সহ পরিবারে বেশ অনেকেই রাতে ঠিক মতোন ঘুমাতে পারে নি! আজকে আশরাফ সিকদার বেশ সকালেই উঠেছেন ঘুম থেকে, ডায়াবেটিস এর পাশা পাশি বুকেও প্রচন্ড ব্যাথা করে আজ কাল! তাছাড়া হার্ট এর সমস্যা তো আছেই! তিনি সকাল সকাল বাড়ির সামনে খোলা মাঠে বেশ কিছু সময় নিয়ে হাটাহাটি করেছেন! বাডি ফিরে আপাতত একটা গ্লাস লেবু পানি খাবেন বেশ ক্লান্ত তিনি ! যেই ভাবা সেই কাজ বাসায় গিয়ে সর্বপ্রথমে এক গ্লাস লেবু পানি খেয়ে নিলেন!
অহনা সিকদার প্রতিদিন এর মতোন কিচেনে গিয়ে হেলদি সুপ রেডি করছেন! অবশ্য বলা যায়, এই খাবার টা তার নিয়ম করে প্রতিদিন বানাতে হয়! ডায়বেটিস এর সমস্যার কারনে আশরাফ সিকদার কে প্রায় বেশি দিন রাতে রুটি খাওয়ানো হয়!
আশরাফ সিকদার সোফায় বসে আছেন, আদিস সিকদার সকাল সকাল বাজারে চলে গিয়ে ছিলেন! নিজের মনের মতোন বাজার করতে! এবং পাশাপাশি কিছু সমালোচনার স্বীকার হয়ে ছিলেন! অবশ্য সেই গুলা এড়িয়ে ভালো কিছু মূহুর্তের সাক্ষী হয়ে ছিলেন! আদিস সিকদার আশরাফ সিকদার এর পাশে বসে গলা ছেড়ে বললো!!
____ভাইজান কালকে যারা উল্টা পাল্টা নিউজ দিয়ে ছিলো, এখন তারা পুলিশ ক্যাসটোরিতে! অতিদ্রুত তাদের কে আইেনী ভাবে বিচার করা হবে!
আশরাফ সিকদার কিছুটা কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করলেন!!
___মানে??
“”আসলে ভাইজান কালকে যে বড় বড় খবরের কাগজ এবং সোশাল মিডিয়াতে যেসব নারী পাচার এর সংবাদ প্রকাশ করা হলো যেসব নারী পাচার পুলিশ এর লোকে রাই করছে! অন্য দেশের মানুষ এর সাথে হাত মিলিয়ে!
আশরাফ সিকদার কথাটি শুনে শান্তির নিঃশ্বাস ফেললো! যাক অবশেষে সব টা তো প্রকাশ হলো! মানুষ এর আন্দাজ সম্পূর্ণ ভাবে ভুল প্রমাণ হলো! আশরাফ সিকদার চোখ গুরিয়ে দেখলেন এদিক সেদিক, এই মূহুর্তে তার রাগী বউ টাকে একটি বার অনন্ত চোখের দেখা প্রয়োজন! কালকে একটু সুযোগ পেয়েই কত গুলা কথা শুনিয়ে দিলো! কই সেই হওছারী বউ টা! আজকে সামনে পেলে খরব করে দিবে! স্বামীর প্রতি বিশ্বাস তোমার নাই বা থাকতে পারে, তবে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপর বিশ্বাস রাখাটা তোমার দায়িত্ব! আশরাফ সিকদার বুক ফুলিয়ে ঘনঘন নিঃশ্বাস নিলেন! আহা কি শান্তি আকাশে বাতাশে!
ঈশান রাতে আদিব এর সাথে ঘুমিয়ে ছিলো, জুথী ঘুমিয়ে ছিলো কলির সাথে! আজকাল ইরার পাশা পাশি কলির সাথে ও বেশ বন্ধত্ব হয়েছে জুথীর! জুথী মেয়ে টা এমনি মিষ্টি, সবার সাথে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যেতে পারে! জুথীর এই দিক টাই ঈশান এর বড্ড বেশি প্রিয়! ঈশান আশরাফ সিকদার পাশাপাশি বসেছে! ঈশান বরাবরি তাই করে সোফায় বেশ জায়গা খালি থাকলেও সে গিয়ে বসে আশরাফ সিকদার এর পাশের চেয়ার বা সোফায়!
আশরাফ সিকদার কিছু সারবেন্ট ডেকে বললেন!!
____সবার জন্য হালকা নাস্তা দিয়ে যেতে!
আশরাফ সিকদার বাড়ির সবাই কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!
____আমি চাই আদিব এর বিয়ে টা সপ্তাহ খানেক এর মধ্যে হোক! তারপর আমরা কলির…..
আশরাফ সিকদার বাকি কথা টা শেষ করলেন না, করার কথাও নয়, কলি যে খুব ছোট তাকে এখনি বিয়ে দিয়ে দিবে ভাবতেও ভিষণ কষ্ট হয় আশরাফ সিকদার এর! কিন্তু তার একমাত্র ছোট ভাই যেহেতু চাইছে মেয়ে কে বিয়ে দিবে! সেইখানে ঘুর আপওি জানানো টা বড্ড বেশি ছেলে মানুষি!আশরাফ সিকদার একবার কলির দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলেন! এবার ঈশান কে উদ্দেশ্য করে বললো!!
___ইয়াংম্যান আদিব এর বিয়ে উপলক্ষে তোমার আর বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন নেই! তুমি আমাদের সাথে বরং আমাদের বাড়িতেই থাকবে।
ইশান কি বলবে বুঝতে পারছে না বার বার জুথীর দিকে দেখছে, আদিল শুধু বন্ধু হলে একটা কথা ছিলো এখন তো এদের সাথে পরম আত্মীয়তার বন্ধনে আবব্ধ! এই খানে এত দিন থাকলে লোকের চোখে দৃষ্টি কটুর দেখাবে না! ঈশান শুকনো ডোক গিলল,দীর্ঘ শ্বাস টেনে বললো!!
___ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব আংকেল!
আদিব এগিয়ে বসলো আশরাফ সিকদার এর পাশে কামাল সাহেব এর নাম্বার টা বের করে যেই আশরাফ সিকদার কে দিবেন। তার আগেই আশরাফ সিকদার বললেন!!
____কত দিনের সম্পর্ক মাই বয়??
কিসের সম্পর্কের কথা বলছেন আশরাফ সিকদার, আদিব ফোন টা পকেটে রেখে কিছুটা ভাবনায় তলিয়ে গেলো। কিসের সম্পর্কের কথা বলছে? আদিব কে এমন চুপ করে থাকতে দেখে আশরাফ সিকদার বললেন!!
____রিলেশনের বয়স কত তোমাদের???
আশরাফ সিকদার এর এমন নাজেহাল প্রশ্ন করতে দেখে, প্রায় সবাই অনেক টাই অবাক হয়। ছেলের রিলেশন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, একি বাবা নাকি বন্ধু ! আপাতত এই মূহুর্তে বাপ ছেলে দুইটাই বড় বড় চোখের দৃষ্টির স্বীকার! আদিব শুকনো ডোক গিলে বললো!!
_____আসলে ড্যাড মনে হয় সপ্তাহ খানেক!
আদিব এর এমন যুক্তি ছাড়া রিলেশনের কথা শুনে সবাই ফিক করে হেসে ফেললো! রিলেশন তাও কিনা মাএ সাত দিন, সবাই কে এমন ভাবে হাসতে দেখে আদিব এর বড্ড রাগ হলো! এই মূহুর্তে তাদের হাসি কে ঠিক কতটা বিরক্ত লাগছে বলে বোঝানোর মতোন নয়!
সবাই কে আজব লাগছে, রিলেশন কি সপ্তাহ খানেক এর হতে পারে না, রিলেশন বলতেই কি বোঝানো হয় লং টাইম বছর ! না এমন টা হতেই পারে না! ভালোবাসা হতে বা চিনতে জানতে ২৪ ঘন্টায় যথেষ্ট সেখানে কিনা ১৬৮ ঘন্টা ওভার হয়ে গেছে! এই দীর্ঘ সময় টুকু কেও বেশ লম্বা মনে হচ্ছে আদিব এর! আর এই দিকে সবাই ৭ দিন কথা শুনে মজা নিচ্ছে! আদিব কপাল কুঁচকে তাকালো সবার দিকে! এবার বিরক্তি টেনে বললো!!
____আমি হসপিটালে চলে গেলাম, ইমারজেন্সি কাজ আছে!
আশরাফ সিকদার ছেলের রাগের কারন টা চট করে বুঝে ফেললেন! সে আর কোনো রকম ইয়রাকি না,করে বরং বললেন!!
____আজকে তোমার যাওয়ার প্রয়োজন নেই! নতুন ডক্টর এপোয়েন্ট করেছি আমি! আপাতত তোমার বিয়ের এই কইদিন তারাই থাকবে ফুল ডিউটিতে! তাই তুমি রিল্যাক্সে থাকতে পারো!
আদিব বাবার দিকে তাকিয়ে প্রাণ উজ্জ্বল এক হাসি দিলো,কিছু মিনিট আগেও বাবার কথা টিকে বিরক্ত লাগতো! আর এখন ভালেবাসা বেড়ে যাচ্ছে! আদিব সব অভিমান ভুলে বাবার পাশে গিয়ে চুপটি করে বসলো! আজকে বিকেলে সবাই রিমঝিম দের বাড়িতে যাবে!
সবাই মিলে খাবার টেবিলে গিয়ে বসে খাবার খেতে শুরু করলো, এবং সাথে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা তো আছেই!
আদিল বেশ ফর্মাল ড্রেস পরে চলে এসেছে নিচে! হয়তো কোথাও যাবে সেজন্যই মূলত এত সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠা! তবে আজকে কিছুটা অদ্ভুত লাগছে আদিল কে, কখনো এমন টা হয়নি যে ইরার আগে আদিল ঘুম থেকে ওঠেছে! হয়ত আজকেই প্রথম এমনটা হয়েছে! আদিল সোজা চলে যাচ্ছে বাড়ির বাইরে, দরজার সামনে পা পরতেই অহনা সিকদার এর কঠুর থমকে চোখ পড়লো সবার আদিল এর দিকে!
____কোথাই যাচ্ছো এত সকাল সকাল??
আদিব বেশ শান্ত গলাই উওর করলো!
____ইমপোর্টেন্স মিটিং আছে আপাতত সেখানেই যাচ্ছি!
“”নাস্তা করে যাও, ___টাইম নেই
“”ইরা কোথায়?? ___রুমেই আছে৷
কথা শেষ করার আগেই আদিল দূত বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে! বাড়ির প্রতিটি লোক জানে, আদিল ঠিক যতখন বাড়িতে থাকবে কেউ যেনো তাদের কে ডিস্টার্ব না করে! আদিল দিন এর বেশির ভাগ সময় থাকে বাড়ির বাইরে! নিজেদের পারসোনাল মোমেন্ট কাটানোর জন্য তাদের কে যেনো বিরক্ত করা না হয়! অহনা সিকদার এর নিদেশ!
ইরা চুপ করে দাড়িয়ে আছে বেলকনির এক পাশে, রাতের উল্টা পাল্টা ভালোবাসায় ভিষণ কষ্ট হয়েছে তার এখনো বেশ ব্যাথা শরীরের প্রতিটি বাঝে বাঝে! আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠতে অনেক টাই লেট হয়ে ছিলো! এবং মন টাও বেশ খারাপ, ইরার সকালের খাবার টা রুমের ভেতরে দেয়া হয়েছিলো! হয়তো অহনা সিকদার সারবেন্ট ডেকে পাঠিয়ে দিয়ে ছিলেন! জুথী নিজের খাবার টা শেষ করে চলে এসেছে ইরার রুমে পাশেই কলি!
দুপুর ঘরিয়ে বিকেল,
সবাই দুপুরের খাবার শেষ করে, কিছু সময় রেস্ট নিয়ে এবার রেডি হচ্ছে রিমঝিম এর বাসার উদ্দেশ্য! রিমঝিম এর বাবা কে গত কাল রাতেই ফোন দিয়ে জানানো হয়ে ছিলো তাদের বাড়িতে যাবার কথা! মূলত নাম্বার টা কলি দিয়ে ছিলো! রিমঝিম এর বাবা প্রথমে গুর আপওি জানালেও আশরাফ সিকদার বেশ বুঝিয়ে সুজিয়ে রাজি করিছেন! এখন সবাই এক সাথে বেরিয়ে যাবেন! আদিব ঈশান কলি জুথী ইরা আশরাফ সিকদার এবং আদিস সিকদার! সবাই রেডি সেটি হয়ে বেরিয়ে পরলো একসাথে! নিচে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে রিফাত! আশরাফ সিকদার আগে থেকেই বলে রেখে ছিলেন রিফাত কে তাদের সঙ্গে করে মেয়ে দেখতে যাবে! তাছাড়া রিফাত আর আদিব এর সম্পর্ক টাও বেশ ভালো বন্ধুর মতোন!
আশরাফ সিকদার আদিল এর নাম্বারে ম্যাসেজ লিখে পাঠিয়েছেন সেই সাথে রিমঝিম দের বাসার লোকশন টাও! আশা করা যায় আদিল আসবে না! এমন কি ইরা ও চাই না আদিল আসুক!
প্রায় ঘন্টা খানেক পর,
সবাই পৌছে যায় রিমঝিম দের বাসায়, রিমঝিম এর বাবা কামাল সাহেব আগে থেকেই দাড়িয়ে ছিলেন অতিথি দের জন্য! আশরাফ সিকদার কে তিনি আগে থেকে চেনেন! একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে না চিনলে হয় তার বাড়ি থেকে বিয়ের সম্মন্ধ আশা টাও ভ্যাগের ব্যাপার। প্রতিটি বাবা রাই চাই তার মেয়েটা সুখী থাকুক! কামাল সাহেব ও তার ব্যাতিক্রম নয়!
আশরাফ সিকদার সহ পরিবারে প্রতিটি লোক হালকা কাজের সিল্কের পাঞ্জাবি পরেছেন! জুথী ইরা এবং কলি সবাই চুড়িদার পরে এসেছে! কামাল সাহেব সবার সাথে হাত মিলিয়ে বুকে বুক মিলিয়ে পরম যত্নের সাথে সহমত প্রকাশ করলেন! তারা সবাই এক এক করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেন!
কামাল সাহেব এর বাড়িটা এক তলা বিশিষ্ট, যেখানে রিমঝিম কামাল সাহেব ওনার ওয়াইফ এবং তার ছেলে লিয়ন থাকেন! সবাই সোফায় বসতে বসতে চা নাস্তা এসে দিয়ে গেলেন বাড়ির একজন মধ্যবয়ষ্ক কাজের লোক!
আশরাফ সিকদার এবার বললেন মেয়ে কে এই খানে নিয়ে আসতে তারা দেখবে! কলি এতখনে উপরে রিমঝিম এর কাছে ছিলো। আশরাফ সিকদার বলার সাথে সাথে কলি রিমঝিম কে নিচে নিয়ে আসে! এই মূহুর্তে রিমঝিম মেরুন রঙের একটা শাড়ি পরে এসেছে, মাথায় বেশ লম্বা করে ঘোমটা টেনে রেখেছে! সবাই কে দেখার সাথে সাথে লম্বা সালাম দিলো রিমঝিম! কলি রিমঝিম কে দরে নিয়ে বসিয়ে দিলো আদিব এর ঠিক পাশে!
কলির এমন কাজ দেখে আদিব ঠোঁট কামড়ে রাগ সংবরন করলেন! এই মেয়ে টা কেন যে এত বা..ল পাকনা আল্লাহ ভালো জানে! কি হতো তার এত কিউট নেস বউ টাকে তার সামনে রাখলে! পাশাপাশি রেখে যে চলে গেলি বউ টাকে এবার দেখব কিভাবে! এখন বার বার তাকালে সবাই তো আমাকে লুচ্ছা ভাববে তাই না! কলির বাচ্চা আগে তো বাসায় যায়। তারপর তোর খবর করে দিবো আমি!
আদিস সিকদার বেশ কিছু প্রশ্ন করলেন রিমঝিম কে গিরে! রিমঝিম বেশ লজ্জা আর ভয়ে ভয়ে সব গুলা প্রশ্নের উওর করলো!
আশরাফ সিকদার আর বেশি কথা বাড়ালেন না, বরং বললেন!
____আলহামদুলিল্লাহ মেয়ে আমাদের ভিষণ পছন্দ হয়েছে! আমরা পাকা কথা আজকেই শেষ করতে চাই!
সাথে সাথে দুই পরিবার এর সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে শুকরিয়া আদায় করলেন!কামাল সাহেব এর চোখে মুখে বিষ্ময়, কে জানে সে ঠিক কতটা খুশি হয়েছে! বাবা দের কাছে মেয়েরা সব সময় তো বড্ড বেশি প্রিয় হয়। কামাল সাহেব এর পরিবারের কাছে ও আদিব কে বেশ ভালো লেগেছে! তাই তারা আর অসম্মতি করলেন না! বরং আশরাফ সিকদার এর সাথে সম্মতি জানালেন!
রিফাত সেই কখন থেকে বার বার দেখছে কলি কে, কিন্তু কলি এখন আর আগের মতোন বার বার তাকাই না রিফাত এর দিকে, আগে সব ভালোবাসা প্রকাশ করতো, আর এখন শুধু লুকিয়ে রাখে ভালোবাসা নাকি গোপনেই সুন্দর,
কামাল সাহেব এর এক মাএ ছেলে সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ার, আগামী মাসে ইউএসএ চলে যাবেন! বিবাহ উপযুক্ত ছেলে কামাল সাহেব মনে প্রাণে চেয়ে ছিলেন তার ছেলে টিকে বিয়ে করাতে কিন্তু তেমন কোনো মেয়ে পছন্দ হয় নি বলে বিয়ে টা করাতে পারেনি! তবে রিমঝিম এর ভাইয়া লিয়ন সেই প্রথম থেকে কলি কে দেখেই চলেছে! এই কঠিন বিষয় টি বেশ লখ্য করলেন কামাল সাহেব এবং রিফাত! রিফাত এর বার বার রাগ হলেও কোনো উপায় পেয়ে খামছে দরে বসে আছে সোফায়।
রিমঝিম কে আংটি পরিয়ে শুভ কাজের সূচনা আরম্ভ করলেন দুই পরিবার, আজ বাদে তিন দিন পর ঘড়ওয়া ভাবে খুবি ছোট করে বিয়ের অনুষ্ঠান করা হবে!
রিমঝিম এর বিয়ের বিষয়ে সব কিছু কমপ্লিট করে এমন কি পাকা কথাও, এবার কামাল সাহেব খুব সম্মানের সাথে আবদার করে বললেন!
____আমার ছেলে লিয়ন এর জন্য একটা মেয়ে খুজতেছি কিন্তু তেমন ভালো কোনো মেয়ে পাচ্ছি না!
আপনা….
আদিস সিকদার যথেষ্ট বুদ্ধিমওার সাথে কামাল সাহেব এর কথাটি দরে ফেললেন! সে চাইছে না এই মূহুর্তে কাউকে ছোট করে কথা বলতে! যেহেতু তারা এখন পরম আত্মীয়তার বন্ধনে আবব্ধ! আদিস সিকদার খুব স্বাভাবিক ভাবে বললেন!!
এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৯
____আমার মেয়ে কলির বিয়ে আমি ঠিক করে রেখেছি! ইনশাআল্লাহ আদিব এর বিয়ের কাজ টা সম্পূর্ণ হলে, আমার মেয়ে কলির বিয়ে টাও হয়ে যাবে! আপনারা যেহেতু আমাদের পরম আত্মীয় হতে চলেছেন! তাই লুকিয়ে রাখাটা আমাদের জন্য ঠিক হবে না!
