এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬৪
Chadny islam
“এবার আপনার পালা সিকদার সাহেব!
“তবে তাই হোক ধ্বংসবতী, তোমার হাতেই আমার মৃত্যু মঞ্জুর হোক!!!
ইরা অসহায় কন্ঠে বললো!!
“কেন ভালোবাসলেন না আমাকে???
আদিল হাসল মৃদু, কে বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি না, জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও বলবো ভালোবাসি তোমায়, এজীবন শেষ হয়ে যাক, তবুও আমাদের ভালোনাসা শেষ না হোক!
আদিল এর কোনো উওর নেই, তাই দেখে ইরা তাকালো আদিল এর দিকে, আদিল ঠিক ইরার পাশেই বসে আছে, একে অপরের চোখে চোখ পরতেই বুকের ভেতরে অজস্র ব্যাথা লুকিয়ে রাখতে পারলো না ইরা, ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো!! আদিল ইরার দিকে তাকিয়ে এক হাত বাড়িয়ে চোখের পানি টুকু মুছে দিয়ে বললো!!
____আমাকে ক্ষমা করো!
ইরা চোখের পানি টুকু মুছে অসহায় কন্ঠে বলে উঠলো!!
____আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারলাম না সিকদার সাহেব!!
আদিল মৃদুস্বরে হাসলো, কারন তার যে পাপ অনেক বেশি, এই পাপ কে ক্ষমা করে কেউ সংসার করবে না,সুখী হতে পারবে না, তোমার চোখে আমার প্রতি ঘৃণা আমাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে! কেন হলো এমন সব নিয়মের বাইরে গিয়েও কি ভালোবাসা যেত না!
ইরা দীর্ঘ শ্বাস টেনে অসহায় কন্ঠে বললো!!
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
___আপনি নামক মানুষ টা আমার বুকে গেধে আছেন, যা বের করা মানে আমার মৃত্যু নিশ্চিত!!
” মানুষ ভালোবাসা ছাড়াও বেঁচে থাকতে পারে, তুমি ও পারবে!!
“মানুষ বুঝি নিশ্বাস ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে? আমার নিশ্বাস আটকে গেছে, পৃথিবী এলোমেলো হয়ে গেছে, আপনি ছাড়া আমি নিঃস্ব ঠিক যেমন চাঁদ ছাড়া সূর্য!
আমার সব থেকে মূল্যবান জিনিস টা আমি পৃথিবীর বুকে রেখে যাচ্ছি! তুমি তাকে আগলে রেখো, বাবা ছাড়া সন্তান কে তুমি এতিম করে রেখো না! তাকে বলো তোমার বাবা সব থেকে খারাপ বাবা ছিলো!তাই আল্লাহর কাছে চলে গেছে!
ইরা দমকে যায়,নিশ্বাস আটকে আসে, আদিল কি করে জানলো, সে বাবা হতে চলেছে! ইরা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো!!
____আ…আপনি কি করে জানলেন!
আদিল বুকের ব্যাথা লুকিয়ে, অভিমান করে বললো,
___থাক না সেসব!!
“আমাকে ক্ষমা করে দিবেন,আমি আপনার শেষ অনুরোধ টাও রাখতে পারলাম না!
“ক্ষমা তো তাকেই করা উচিত যে নিজের অজান্তে ভুল করছে! আর যে জেনে শুনে ভুল করেছে, তাকে ক্ষমা করবো কোন যুক্তিতে???
ইরা ভরকে যায় আদিল এর চোখে মুখে রাগের তোপ দেখে, আগে কখনোই আদিল কে এমন ভাবে রাগতে দেখেনি ইরা, ইরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদিল আরও বেশি রেগে গেলো, ইরা কি সব বলছে, ওর মাথা ঠিক আছে, আদিল ইরার দুই গালে হাত চেপে নিষ্পাপ ভঙ্গিতে বললো!!
____কি করেছো আমার সন্তান এর সাথে বলো???
আমি তোমাকে ছারবো না, কখনোই ক্ষমা করবো না তোমাকে , আমার প্রতিশোধ আমার সন্তান এর উপরে নিলা! আল্লাহ এর আগে আমার মরন হলো না কেনো??
ইরা শব্দ করে হেসে ফেললো, আর দাঁতে দাঁত পিসে চোয়াল শক্ত করে বললো!!
___এত স্বার্থপর মানুষ হয় কিভাবে?? আপনার সন্তান আপনার কাছে পুরো পৃথিবী হলে, আর পাঁচশো টা নারী কি ছিলো তাদের পরিবারের কাছে, বলেন কি ছিলো? বিষ ছিলো নাকি বোঝা???
আদিল নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করতে পারছে না, ইরার গাড় দরে টেনে নিয়ে আসলো ঠিক মুখের সামনে, দাঁতে দাঁত পিসে বললো!!
___বেইমানি করলি কেনো আমার সাথে??? কেন করলি??? আমি তো বাঁচতে চাইনি,আমি বাচতে চাই ও না! আমি শুধু আমার সন্তান কে চাই??
কেমন মা তুই নিজের সন্তান কে মেরে ফেললি, তার আগে কেন আমাকে মারলি না, এই বোঝা আমি কি ভাবে সইবো!
“ছাড়ুন আমাকে, আপনার মতোন পাপীর সাথে চলতে চলতে আমি ও পাপী হয়ে গিয়েছি!
আদিল মাথার চুল গুলোকে টানতে শুরু করলো, পাগল এর মতোন এলো-মেলো হয়ে গেছে তার স্বপ্ন গুলো,ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো তার আশা ভরসা ভালোবাসা!!
___মেরে ফেল আমাকে, আমি আর সহ্য করতে পারছি না!
ইরা চুপ করে একপাশে বসে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো , আজ তার পৃথিবী শূন্য এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে!তার ভালোবাসার মানুষ, ভালো রাখার মানুষ টাও হারিয়ে যাচ্ছে! এই পৃথিবীতে বেচে থাকার জন্য একটা কারন এর দরকার হয়, কিন্তু আমার তো বেচে থাকার কোনো দরকার নেই। মৃত্যুই শ্রেয়,এক দিকে প্রতিশোধ অন্যদিকে ভালোবাসা!
তার কি করা উচিত স্বামী নামক পশু কে ছেড়ে দেয়া উচিত,না একদম না” সবার যা শাস্তি হয়েছে! ওনার ও তাই হোক, ইরা অভিমানী গলায় বললো!!!
____আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারলাম না!!
আদিল মৃদুস্বরে হাসলো, এবং ইরা কে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে দরলো,এরপর কপালে একটা শব্দ করে চুমু খেয়ে বললো!!
__ তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকেই একটা ভালো লাগা কাজ করছিলো, তোমার সাহস দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে ছিলাম, পুরো কলেজ ক্যাম্পাস যখন আমার ভয়ে ভরকে থাকতো, তুমি সবার সামনে আমাকে একটা থাপ্পড় মেরেছিলে, যা দেখে সবাই বেশ অবাক হয়ে ছিলো এমন কি আমি নিজেও, তুমি সেদিন বলেছিলে, যেই ইস্টুপিট গ্যাড়ে কেউ ট্যাটু করে তাও আবার ব্যাড বয় লিখে !তখন আমার ভেতরে একটা প্রতিশোধ এর নেশা জাগে, তোমাকে কিভাবে সারা জীবন ভরে শাস্তি দেয়া যায় ভয় দেখিয়ে রাখা যায়, তার মাঝে আবার তোমাকে দেখতে ভালো লাগাটাও কাজ ছিলো বেশ, বেড়ে গিয়ে ছিলো তেমার প্রতি ভালোবাসা ভালো লাগা,যখন শুনেছিলাম তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে, আমার বুক টা কেমন যেনো ধপাস ধপাস করছিলো, তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় হয়েছিলো! যখন দেখলাম ঈশান তোমার ভাই তখন আমার জন্য অনেক টাই সুবিধা হয়েছিলো, যাই হোক সব শেষে তোমাকে নিজের করে নিয়ে ছিলাম! এখন ও আছো আমার হয়ে, তবে আমার মৃত্যুর পর কি হবে আমি সত্যিই জানি না! আজ ও, তুমি আমাকে মৃত্যু টাই দাও, শেষ বারের মতোন তোমার সাহস দেখে আমি মৃত্যু কে হাসি মুখে বরন করে নেয়!
আদিল এর কথায় ইরা টুকরে কেধে উঠলো,
____আমার মৃত্যুর পর তুমি নিজের ইচ্ছে মতোন সব কিছুই করতে পারবে, তুমি চাইলে এমপির আসনে ও বসতে পারো, আমার ড্যাড সব কিছু ঠিক করে দিবে!
আদিল একটু চুপ করে, এরপর দীর্ঘ শ্বাস টেনে বলে!!
__রোশান সত্যিই তোমাকে অনেক ভালোবাসতো, তুমি চাইলে ওর সাথে??
ইরা আদিল এর ঠোঁট আঙুল চেপে দরে বললো কথা শেষ করার আগেই!!
____আপনি ব্যাতিত আর অন্য পুরুষ কে চাই না এই জীবনে!
আদিল শক্ত করে জড়িয়ে দরলো, আর বললো,
____তোমার হাতেই আমার মৃত্যু মঞ্জুর হোক ধ্বংস বতী!!! আমি আর সহ্য করতে পারছি না!তোমার চোখে ঘৃণা আমকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে!!
ইরা পাশে রাখা ছুরি টা কে হাতে তুলে নিলো, এরপর আদিল এর বুকের ভেতরে ডুকিয়ে দিলো, মূহুর্তে আদিল আউচ শব্দ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো,ইরার হাত কাপছে ইরা তাড়াতাড়ি আবার ছুরি টাকে বের করে ফেললো,বের করার সাথে সাথে আদিল এর মুখ বুক দিয়ে রক্তের লাল বন্যা বয়ে যেতে শুরু করলো, ইরা ভয়ে শেতিয়ে উঠলো, আদিল কে শক্ত করে জড়িয়ে দরে চিৎকার দিয়ে উঠলো,
____আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারলাম না!
আদিল এক হাত দিয়ে বুক চেপে দরলো,এরপর ইরার কপালে পূর্বের ন্যায় আরেক একটা আলতো চুমু দিয়ে বললো!!
____আমি ভালোবাসি, আমার ধ্বংসবতী কে!!
ইরা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো, চিৎকার করে আদিল কে ডাকতে শুরু করলো, আদিল এর ভারী দেহ টা ইরার গাড় থেকে ধপাস করে মাটিতে মরে গেলো! সুদাম দেহের মানুষ টা মূহুর্তেই সতেজ হয়ে পরে রইলো মাটিতে, ছোট প্রান পাখিটা নিমিষেই হাওয়ায় সাথে মিলিয়ে গেলো!
ইরা হাউমাউ করে কাঁদতে কাদতে আদিল শার্ট খামচে দরলো! কাঁদতে কাদতে বললো!!
____আমি বড্ড একা হয়ে গেলাম,আপনি ছাড়া আমার পৃথিবী শূন্য হয়ে গেলো, আমি কি করে বেচে থাকবো আপনাকে ছাড়া, কেন এলেন পাপী হয়ে আমার জীবনে! আপনার সব পাপ তো শেষ ধুয়ে মুছে শেষ হয়ে গেলো, পরে রইলাম আমি, আমাকে কেউ আর ভালোবাসবে না জাহান্নামি বলে ডাকবে না! কেউ শক্ত হাতে জোর করে বুকে টেনে নিবে না! গিফট এর লোভ দেখিয়ে রাগ ভাঙ্গাতে আসবে না! কেউ আমাকে আর বলবে না এক কাপ কফি বানাতে পনেরো মিনিট লাগে, কেউ আমাকে দিন শেষে বুকে টেনে নিবে না!
আমি আপনাকে বড্ড ভালোবাসি সিকদার সাহেব!! আমাদের একটা সাজানো সংসার হলো না!সুখে থাকা হলো না!
ইরা আদিল এর বুকে মাথা রেখে চুপ করে সুয়ে পরলো,ইরা উঠছে বার বার, আবার সুয়েও পরছে বার বার তার মনে হচ্ছে হয়তো আদিল কিছু খন বাধে তাকে ডাকবে,
এই ভাবে কেটে যায় কিছু সময়, ইরা বার বার বুকে হাত দিচ্ছে, মনে হচ্ছে তার নিঃশ্বাস আটকে গেছে! তার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে, বেচে থাকার আশার আলো নিভে যাচ্ছে চিরতরে,তার বিধায় এর সময় হয়ে গেছে! এই নিষ্ঠুরতম পৃথিবীর মায়া ছেড়ে তাকেও চলে যেতে হবে!
ইরা পেটে এক বার হাত বুলায়, এরপর চিৎকার করে উঠে,হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে নিজের অনাগত সন্তান কে উদ্দেশ্য করে বলে!!
___সরি বাবা, আমি তোমাকে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আনতে পারলাম না, তোমার বাবা মা তারা যে বড্ড পাপী ছিলো, তোমার মা তার নিজের হাতে তোমার বাবা কে খুন করেছে, তুমি যখন জন্মের পর এই সত্যি টা জানবে তখন তুমি ও তোমার মাকে ঘৃনা করবে, মেনে নিতে পারবে না!তোমার এই অভাগী মা টাকে ক্ষমা করো!
ইরা কান্না থামায় উঠে বসে আদিল এর সামনে, এর পর আদিল এর বুকে মাথা রেখে বলে,,
___একদম ক্ষমা করবেন না আমাকে, আমি যে অনেক খারাপ একজন মেয়ে,একজন বউ একটি সন্তান এর মা হিসাবে আমি ব্যার্থ,আমি এমনি এক জনম দুখীনি মা যে তার গর্ভে সন্তান আসার মূহুর্ত টাও কারোর সাথে শেয়ার করতে পারিনি! স্বামী হিসেবে আপনার ভুল গুলোকে ক্ষমা করতে পারে নি! আপনার সন্তান কে আমি এই পৃথিবীতে আনতে পারেনি !! একদম ক্ষমা করবেন না আমাকে!!
আদিল এর ঠিক ডান পাশ থেকে উঠে গিয়ে ইরা বাম পাশে বসে, এরপর আদিল কে যে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ছিলো, ওই ছুরি টাই হাতে তুলে নিলো! ছুরি টা রক্তে লাল হয়ে গেছে, সেই সাথে আদিল এর সাদা শার্ট রক্ত ভিজে লাল রং হয়ে গেছে!
ইরা আদিল এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো, এর পর আদিল এর কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো!!
এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬৩
____অনেক ভালোবাসি আপনাকে, আপনাকে ছাড়া আমার বেচে থাকা অসম্ভব! আপনি আমার পৃথিবী ছিলেন যেখানে,সেখানে আমার পৃথিবী আজ শূন্য! সেখানে আমার বেচে থাকা টাও মুল্যহীন!!!
ইরা ছুরি টা হাতে নিয়ে শক্ত করে নিজের পেটের ভিতরে ঢুকিয়ে দিলো, মূহুর্তেই গলা থেকে তাজা শক্ত গড়গড় করে বেরিয়ে আসে,, ধপাস করে পরে গেলো আদিল এর শক্ত পুরুষালী বুকের মধ্যে খানি! ইরা শক্ত করে চেপে দরলো আদিল এর শার্ট মূহুর্তেই শরীরের সব ভার পরলো আদিল এর বুকের উপর! সাথে সাথে নিশ্বাস আটকে দেহ ছেড়ে প্রান টা বেরিয়ে গেলো দূরে আকাশে! শুনশান বদ্ধ গড়ে পরে রইলো কতগুলা মৃত দেহ!
