এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫১
Chadny islam
বাইরে বেশ কিছুটা অন্ধকার পরেছে, প্রায় সন্ধ্যা সাত টার ঘড়ির কাটায়! আদিল রাজনীতির একটি বিশেষ কাজে ঢাকা গিয়েছে! সাথে আশে পাশের কিছু চেয়ারম্যান মেম্বার তো আছেই! সেই সাথে বড় বড় রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাএ সংগঠন লোকে রাও আছে বেশ! অতিরিক্ত ব্যাস্ততায় আশরাফ সিকদার এর পাঠানো লোকেশন বা ম্যাসেজ কোনো টাই চোখে পরে নি আদিল এর !
নতুন এমপি সেই সুবাদে কাজের প্রেসার বেশ কিছুটা হাই! আজকাল দেশের কার্যকর সামলে তারপর ভাবতে হয় বাইরের কার্যলয় নিয়ে! তাছাড়া এক্সটা প্রেন দেয়ার জন্য তো সিকদার কোম্পানি আছেই! জীবন মানেই পেরা! দ্যাত একদম বোরিং এই লাইফ টা!
আদিল চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে সুয়ে আছে! তার যে বড্ড মাথা ব্যাথা করছে!
আদিল গা এলিয়ে দিতেই কিছু টা ঘুম এসে উদয় হলো চোখে, মিনিট পাঁচেক পর অল্প ঘুমের রেশ ভেসে আসতেই আদিল মুচকি হেসে উঠলো!
____ইরার সাথে সেই প্রথম দিনের দেখা হওয়ার স্মৃতি স্পষ্ট পুরা টাই ভেসে আসছে! ঠিক যতটা ঘৃণা নিয়ে তাকে বিয়ে করেছিলো বিয়ের আগে! এখনো ওই নারীর চোখে ঠিক তত টাই ঘৃণা দেখতে পাওয়া যায়!
ভাবতেই আদিল দীর্ঘ শ্বাস ফেলে, গত কালের কথা দূত মনে পড়ে! কালকে রাতে প্রচন্ড রাগের ক্রোধে বউ এর সাথে এমন বাজে আচরণ করাটা মুটেও ঠিক হয় নি! ইরা এমনি তেই বেশ ছোট!
“”তোমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসি,
তুমি তা শত জনমে ও বুঝবে না””
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সিকদার মহলের প্রতিটি লোক দাড়িয়ে, তারা রিমঝিম দের বাসা থেকে বাড়িতে আসার পর কেউ কারোর রুমে য়ায় নি! বরং দাড়িয়ে আছে কলি কে দেখছে!
বিয়ের কথা শোনার পর থেকে সেই যে কেঁদেই চলেছে মেয়েটি! আগে কান্নার প্রবণতা ছিলো বেশ কম আর এখন সেই কান্নার শব্দ প্রতিটি কোণায় কোণায় গিয়ে আছরে পরছে! আশরাফ সিকদার সহ বাড়ির প্রতিটি লোক তাকে বোঝাতে ব্যার্থ! সে এই মূহুর্তে বিয়ে করবে না, কিন্তু আদিস সিকদার সে তো নাছোড় বান্দা মেয়ের বিয়ে দিবেন নি দিবেন! কলি কান্না করতে করতে বললো!
____আমি এখনি বিয়ে করবো না, আমি পড়াশোনা করবো! প্লিজ বড় আব্বু আম্মু, আমার আব্বু কে একটু বোঝাও! তোমরা বললে আব্বু ঠিক শুনবে!
কলি কাদছে তো কাঁদছে সেই সাথে মাইমুনা সিকদার তো অনর্বরত কেঁদেই চলেছে! তার স্বামী কে এই মূহুর্তে কি বলা ঠিক হবে তিনি জানেন না!ওনার স্বামী এক কথার মানুষ! এই মূহুর্তে কলির বিয়ে না করার ঘুর আপওি টাকেও, তিনি অন্য কিছু ভেবে বসবেন! তখন এই মেয়ের কোনো উপায় থাকবে না! আদিস সিকদার শক্ত হয়ে বসে আছেন সোফায়! এই মূহুর্তে তিনি রাগে ফুলে উঠছেন!
আশরাফ সিকদার কলি কে মানানোর জন্য বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললেন!!
____এখনি তো বিয়ে হচ্ছে না আম্মু , শুধু এনগেজমেন্ট করে রাখা হবে!
কলি আশরাফ সিকদার এর কথাই, আবারও শক্ত করে কেঁদে উঠলো! এদের কে বুঝাবে, বিয়ে টা আমি করতে চাই না! আমি যে ওই মানুষ টাকে বড্ড ভালোবাসি! আমি কখনো কারো প্রেমে পরেনি, প্রেমে পরার অনূভুতি সত্যি আমার জানা ছিলো না! আমি সিকদার বাড়ির মেয়ে বলে, ভয়ে কেউ ফ্রেন্ডশিপ করতে চাইতো না আর রিলেশন সেটা তো হাস্যকর!
আমি ঠিক জানি না কিভাবে আপনার প্রেমে পরলাম আপনাকে ভালোবাসলাম! কেন দাড়িয়ে আছেন দরজার এক পাশে চুপ করে! বলেন না আমাকে ভালোবাসেন প্লিজ আমাকে নিয়ে চলুন আপনার সাথে! আমি আপনার বউ হতে চাই!আপনার সাথে সংসার করতে চাই! ছোট একটা সংসার সাজাতে চাই আপনার সাথে! আমি আর কারোর হতে চাই না! আমি শুধু আপনার হয়ে থাকতে চাই! কলি ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো এবং বলে উঠলো!!
___আমি বিয়ে করবো না প্লিজ বুঝার চেষ্টা করো!
আদিস সিকদার এত খন চুপ করে থাকলেও এখন যেনো রাগে ফেটে পরলেন, আদিস সিকদার রাগী গম্ভীর গলাই বললেন !!
____আমি চেয়ে ছিলাম, আগে এনগেজমেন্ট টা করে রাখবো এবং আদিব এর বিয়ে সম্পূর্ণ হওয়ার পর! কিন্তু এখন আমি আমার ডিসিশন পাল্টে ফেলতে বাধ্য হলাম! কালকেই তোমাকে দেখতে আসবে এবং সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে বিয়ের কাজ টাও সম্পূর্ণ করা হবে! এইটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন!
কলি সহ পুরো সিকদার বাড়ির সকলের বুঝতে বাকি রইলো না! আদিস সিকদার রাগের ত্বপে এই কথা গুলো বলছেন! তবে এই কথাটা যেনো শুধু রাগ পর্যন্ত গড়ায়, জিদে যেনো পরিনত না হয়!
কলি আর এক সেকেন্ড ও দাড়ালো না ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো, সেই সাথে পুরো সিকদার বাড়ি, রিফাত এর চোখের কোনে হাজার ও অশ্রু ফোঁটা টলমল করছে!যেকোনো সময় তা বৃষ্টি বর্ষণ হয়ে নেমে পরবে ! কলি হাতের ডগা দিয়ে হাত মুছতে মুছতে এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেলো! রিফাত ঠায় হয়ে দাড়িয়ে আছে দরজার এক পাশে!
কলির যাওয়ার প্রাণে তাকিয়ে থাকেন পুরো সিকদার মহলের সবাই! কলি যে বড্ড ছোট, তার উপর সবার মতামত চাপিয়ে দেয়া বড্ড বোকামি! আশরাফ সিকদার আদিস সিকদার কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!
___কিছু খন বাধে তুমি আমার রুমে আসো, আর হ্যা অবশ্যই একা আসবে!
কথা শেষ করে আশরাফ সিকদার নিজের রুমে চলে গেলেন,এক এক করে সবাই! শুধু দাড়িয়ে আছে রিফাত শূন্য ড্রয়িংরুমে দরজার এক কার্ণিশ গেষে! সে জানতো এমন টাই হওয়ার কথা ছিলো, তাদের শেষ পরিণতি! না পাওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে পারি দিয়ে হবে সারাটি জীবন, বয়ে বেড়াতে হবে এক অপূণতার গল্প বা কাহিনি নিয়ে! পারি দিতে হবে সারাটি জীবন!
ঘড়ির কাটা নয়টার ঘুরে, বাইরে বেশ ঠান্ডা ইরা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে! বিকেলের কলির বিষয় টা নিয়ে এখনো আপসেট! কলির কি নিজের কোনো পারসোনাল প্রবলেম আছে, নাকি শুধুই বিয়ে করতে চাই না! কলির সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলা জুরুরি! ইরা গায়ে চাদর জড়িয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে, ইরা রুমের দরজা পেরুতেই দেখা হয় আদিল এর সাথে! ইরা দেখেও বিষয় টা ইগনোর করার চেষ্টা করে আবার ও পা বাড়ালো কলির রুমের দিকে! ইরা আরেক পা ফ্লোরে দেয়ার আগেই আদিল শক্ত হাতে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা শুরু করলো রুমের দিকে! আদিল সিকদার কে ইগনোর করার সাহস কোথায় পাই এই মেয়ে! আদিল দাঁতে দাঁত খিসে বলে উঠলো!!
____কালকে রাতে আপনার শিক্ষা হয়নি ম্যাডাম, আজকে আবার চাই নাকি!
ইরা এত খন কোলে বসে ছটপট করলেও, আদিল এর বলা এই বেহায়া মার্কা কথা একদম পছন্দ হলো না ইরার! ছি কি বাজে, আজকে যদি আবারও রাতে…
ইরা ভাবতেই আসতাগফিরুল্লাহ পরে নিলো! কালকে রাতে অতিরিক্ত ভালোবাসার ফলে শরীরে অল্প জ্বরের রেশ দেখা যাচ্ছে, আজকে আর না! ইরা চুপ করে বসে রইলো আদিল এর কোলে! ইরা এদিক সেদিক তাকাতেই চোখে পরলো সেই অদ্ভুত ট্যাটো টা, ইরা অল্প হাত ছোয়ালো আদিল এর গাড়ে আর গম্ভীর মুখে বললো!!
____আপনি কেন গাড়ে ব্যাড বয় লিখে ট্যাটো করেছেন! আমার একদম ভালো লাগে না! লোকে তো আপনাকে খারাপ ভাববে!
ইরার এমন আদুরে গলার কথা শুনে আদিল ফিক করে হেসে ফেললো, সে তো এমনিই খারাপ তাকে আবার কে খারাপ বলবে! ভালো লাগলো স্বামীর জন্য অনন্ত এত টুকু চিন্তা করে! আদিল মুচকি হেসে ইরা কে বললো!!
____তুমি চাইলে একটা চুমু খেতে পারো! আমি কিছু মনে করবো না!
ইরা টপ করে চাইলো আদিল এর দিকে, সে কখন বললো চুমু খেতে চাই! এই মানুষ কি কানে বেশি শুনে নাকি পাগল হয়ে গেলো! ইরা গম্ভীর মুখে বললো
_____আমি কখন বললাম আমি আপনাকে চুমু খেতে চাই??
“”এই যে এখনি তো বললা, আমি চুমু খেতে চাই?
“”তার আগে তো আমি জিজ্ঞেস করেছি আপনাকে??
“””জিজ্ঞেস করতে হবে কেনো, চুমু খেয়ে নিলেই তো হয়!
আদিল কেমন পাচিয়ে নিলো নিজের কথার মাঝে!
আদিল এর এমন মুচকি মুচকি হাসির কারন টা যে কি হবে কে জানে, ইরা কপাল কুঁচকে বললো!!
____চলেন আপনাকে পাবনা দিয়ে আসি! আই নো আপনি পাগল হয়ে গেছেন!!
পাবনা যাওয়ার কথা শুনে, আদিল এর কপালে শক্ত একটা বাঝ পরলো! বেশ কিছু সময় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে খুব সিরিয়াস গলায় বললো!!
___চলো হানিমুনে যাবো!
ইরার এবার যেনো মাথা গুরছে, তাকে বলা হলো পাবনা যাওয়ার কথা আর সে কিনা বলছে হানিমুনে যাওয়ার কথা! ইরা গাল ফুলিয়ে বললো!!
___কোথায়?
আদিল বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!
___কোথায় আাবার পাবনা!
ইরা মাথা হাত দিয়ে, আদিল এর বাহু ডুরে অঙ্গান হওয়ার নাটক করে সুয়ে পরলো!তা দেখে আদিল ফিক করে হেসে ফেললো! আদিল কে এমন ভাবে হাসতে দেখে ইরার অদ্ভুত লাগলো আদিল কে, কি সুন্দর তার হাসি, চোখ গুলো টানা টানা এই লোক সব সময় মুখ টাকে কেনো ঘুমড়া করে রাখে একটু হাসলে কি হয়! সে কি জানে না হাসলে তাকে ঠিক কতটা সুন্দর লাগে! এত মায়া কেন এই মুখে এই মানুষ টার সৌন্দর্যে কাছে সবকিছু তামাটে ফিকে লাগে! তার সৌন্দর্যের কাছে আমি নামক মেয়ে টাও বার বার হারিয়ে যেতে চাই! ইরা শক্ত করে আদিল কে জড়িয়ে দরলো! একদম তাকে ছাড়তে ইচ্ছে করছে না! অনেক ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে! আচ্ছা এই পাপী মানুষ টাকে ভালোবাসার শাস্তি কি হবে!
“”ভালোবাসার শাস্তি যদি মৃত্যু হয় তবে..!
“আমি তা হাসি মুখে মঞ্জুর করে নিলাম!
ইরাকে এক মনে কিছু একটা ভাবতে দেখে আদিল ইরাকে বিছানার এক পাশে বসিয়ে দিয়ে বললো!!
___টিকিট কাটবো নাকি??
ইরা মুখ বাঁকিয়ে বললো!!
____আপনি নিয়ে যাবেন হানিমুনে! হাস্যকর!
আদিল পকেট হতে নিজের ফোন টা বিছানার এক পাশে রাখতে রাখতে বললো!!
____কেন নিয়ে যেতে পারি না বুঝি?
হুম “একটু ভেবে বলি!!
হুম, ভাবেন ম্যাডাম! সময় মাএ দুই সেকেন্ড!!
ছাদে অপেক্ষা করছি তোমার জন্য!শেষ বারের জন্য হলেও একবার দেখতে চাই তোমাকে!
ছাঁদের এক পাশে কনকনে শীতের মধ্যে ঠায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিফাত! বাড়িতে যেতে একদম ইচ্ছে করছিলো না তার মাঝে আবার আশরাফ সিকদার বললেন থেকে যাওয়ার জন্য!তাই থেকে গেলাম!
কলি রুমের দরজা আটকে হাঁটু ভেঙে বসে ঝরঝর করে কাঁদছে, তার কান্না কারন তার মন খারাপ এর কারন শুধু মাএই তার পাষান্ড বাবা! সে কি একবার চাইলে ভেবে দেখতে পারতো না! তার জিদ এর ফলে যে তার মেয়ে কে সারাজীবন কষ্ট পেতে হবে, সে খেয়াল কি তার আছে! বাবারা নাকি মেয়েদের বড্ড আপন হয় তাহলে আমার বাবা নিষ্ঠুর কেনো! আমি মরে যাবো আব্বু তবুও অন্য কাউকে বিয়ে করবো না! আমার জীবনে সুখের প্রয়োজন নেই, শুধু ভালো থাকা নামক রিফাত কে চাই!
কেনো বুঝলেন না আপনি রিফাত, আমার এই অবুঝ ভালোবাসা! আমাকে কি আপনি আপন করে নিতেন পারতেন না, কেন স্বার্থপর হলেন! আমি অপূর্ণতা চাই না, আমি শুধু আপনাকে চাই! কলি মনে মনে কথা গুলো শেষ করে টুকরে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো!
অন্য দিকে রিফাত কোনো রেসপন্স পাচ্ছে না বিধায় আবার ম্যাসেজ পাঠালো,
“”আমি ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি..!
“তুমি আগুন হয়ে আমার জীবনে এসো”
বার বার ম্যাসেজ আসায় কলি এবার ফ্লোর থেকে ওঠে ফোনের কাছে গেলো! রিমঝিম দের বাসায় থেকে আসার পর কলি রুমের দরজা আটকে ছিল! এর মাঝে প্রায় বাড়ির সবাই এসেছিলো তাকে ডাকতে, কিন্তু কলি বড্ড অভিমান করে রুমের দরজা তো দূর থাক কারোর প্রশ্নের উওর করে নি!
কলি ফোন টা হাতে নিতেই দেখে রিফাত ম্যাসেজ পাঠিয়েছে! এই অসময়ে কেনো, কলি পরবর্তী ম্যাসেজ টা দেখলো, সেই সাথে সময় টাও দেখে নিলো! প্রায় দশ টার কাটায় এত রাতে এই কনকনে শীতের মধ্যে নিশ্চয় কেউ জেগে থাকবে না তাই না!তাই কলি তাড়াতাড়ি করে মোটা দেখে একটা জ্যাকেট পরে নিলো, সেই সাথে হাতে তুলে নিলো সুতির স্ফর্ট তুলতুলে চাদর!
তারপর আস্তে ধীরে রুমের দরজা আটকে খুবি সাবধানে ছোট ছোট পা ফেলে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে, অন্যদিকে রিফাত এত খনে ঠান্ডায় জমে গিয়ে কাঁপা-কাঁপি করছে! কলি দূত আদিল এর রুম পেরিয়ে উঠে যায় ছাদে! এত রাতে তাদের কে এক সাথে দেখলে, হাজার টা সমস্যা চলে আসবে! সেই সাথে বিপদ তো আছেই! বাইরে যেমন অন্ধকার ঠিক তেমনি কনকনে ঠান্ডা! কলি ফোনের ফ্লাস ওন করে এগিয়ে গেলো সামনে দিকে ছাদের এক পাশে রিফাত এর দিকে!
আচ্ছা আপনি কি সত্যি আমাকে ভালোবাসেন?
আদিল সাওয়ার শেষ করে হাটু ভেঙে বসে আছে ইরার সামনে, ইরা ছোট ছোট হাত দিয়ে ভেজা চুল গুলোকে মুছে দিচ্ছে! আজকে আদিল ইরার একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এত পাগলামো করছে কেন, ওনাকে দেখতেও বেশ ফুরফুরে লাগছে! আদিল টাওয়াল পেচিয়ে বসে আছে এই ঠান্ডার মধ্যে , শীত লাগে না এই মানুষ এর, এত রাতে সাওয়ার কেন নিতে হবে! ইরা হাত দ্বারা আদিল এর মাথা মুছে দিতে দিতে বললো!!
____আজকে আপনার কি অনেক মন ভালো! না মানে আপনাকে তো আগে দেখিনি এমন ভাবে মিশে যেতে! সবকিছু ঠিক আছে??
আদিল বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____হুম অনেক টাই ভালো, সেই উপলক্ষে তোমাকে হানিমুনে নিয়ে যাচ্ছি!
ইরার কৌতূহল হলো, কি এমন জিনিস হতে পারে এমন কঠোর মানুষ এর মন ভালো করতে, ইরা একটু মিনমিন করে বললো!!
_____আমি শুনতে চাই প্লিজ আমাকে বলেন!
আদিল ওঠে দাড়িয়ে, ইরার কপাল বরাবর শব্দ করে একটা চুমু খেয়ে বললো!!
____জানলে ঠিক যতটা কাছে আসছেন, ঠিক ততটাই দূরে চলে যাবেন!
ইরা কপাল কুঁচকালো, যদি এমন টাই হয় তাহলে আমি কখনোই যাবো না! আপনার সাথে হানিমুন টানিমুনে!
তোমাকে নিয়ে যাওয়ার রেসপন্সবিলিটি শুধুই আমার! মিসেস ইরা আদিল সিকদার!
হু”বললেই হলো আমি যাবো না, আপনার সাথে!
আমি জোড় করে নিয়ে যাবো!
আমি চিৎকার করবো, লোকজন জড়ো করবো
আই নো! তুমি এসব কিছুই করবে না! বিকস ইউ লাভ মি!
মোটেও আমি আপনাকে ভালোবাসি না!
ওকে তাহলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো! রাইট নাও!
পরে বলবো! এখন আমি ঘুমাবো!
নাটক করা বন্ধ করে! কাছে আসো আদর করি
আমি যাবো আপনার কাছে! নো ওয়ে!!!
তাহলে আমি আসি তোমার কাছে!
ইরা কপাল কুঁচকে বললো!!
____আমি তো ক্লোসআপ দিয়ে ব্রাশ করিনি! তাহলে আপনি আমার কাছে আসতেছেন কেন!
আদিল ইরার এমন কথা শুনে ফিক করে হেসে ফেললো না চাইতেও! বউ এর কাছে আসার জন্য ক্লোজআপ লাগে না রে পাগলি! আদিল হাসতে হাসতে কুপকাত! অবাই কোনো রকম বললো!
___বড্ড হাসিয়েওছো এই জন্য আজ তোমার ছুটি! তবে কালকে যদি এমন টা করো ডাবল পানিশমেন্ট পেতে হবে তোমাকে! আনড্রাসট্যান্ট!
ইরা আদিল এর মুখে ছুটির কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠলো! আর ভাবলো প্রতিদিন এমন ভাবে আদিল কে খুশি করে রাখবে!
ইরার ভাবনার মাঝে আদিল ইরার ঠোঁটে শব্দ করে চুমু খেয়ে উঠলো! ইরা বুঝতেই পারলো না ঠিক কি হলো! আদিল কে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললে!!
___এইটা কি হলো আপনি যে বললেন ছুটি???
আদিল কপালে আরেক টা চুমু খেয়ে বললো!!
____না আজ ছুটি দেয়া যাবে না, বড্ড আদর করতে ইচ্ছে করছে!
ইরা বড্ড অভিমান নিয়ে বললো!!!
___না এইটা ঠিক না! কথা দিয়ে কথা রাখতে হয় আর না রাখলে পরের জীবনে কুকুর হয়ে জন্ম নেই! এখন আপনি কি কুকুর হতে চাইছেন??
আদিল শক্ত হাতে ইরাকে গুড়িয়ে নিচের কাছে টেনে বললো!!
____মনে পরছে না ঠিক কখন কথা দিয়ে ছিলাম আপনাকে! আপাতত আদর করি যখন মনে পরবে তখন না হয় ছেড়ে দিবো আপনাকে ম্যাডম !
না একদম না দূরে থাকেন! আমি ঘুমাবো!!!
একদম না এখন আমি ৯/৬ করবো! তারপর যদি আমার মনে ভরে তাহলে তুমি ঘুমাবে! আর যদি মন না ভরে তবে সারা রাত চলতে থাকবে ৯/৬!
আদিল কথা শেষ করে মুখ গুজে দিলো ইরার ঠোঁটে, একের পর এক চুমু দিতে লাগলো, আদিল কে এমন বেসামাল টালমাটাল অবস্থা দেখে ইরা ফেরালো না আদিল কে! মূহুর্তেই দুইজন একে অপরের সাথে সম্পূর্ণ ভাবে বিলীন হতে শুরু করলো!
আপনি এত রাতে এখানে কেনো?
রিফাত একপলক কলির দিকে তাকিয়ে চোখ গুরিয়ে নিলো! কলি কি করে এত স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে তার সাথে! রিফাত গলার স্বর শান্ত করে বললো!!
____আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো! কাল থেকে তো আর দেখতে পারবো না! আপনি তো অন্য কারোর হয়ে যাবেন!
কলি রিফাত এর দিকে তাকিয়ে শান্ত ভাবে পুরো কথাটা শুনলো, সে যেভাবে বললো, অন্য কারোর হয়ে যাওয়ার কথা, আচ্ছা চাইলেই কি খুব সহজে অন্য কারোর হয়ে যায়!
“শরীরে মালিকানা অন্য কেউ পেয়ে গেলেও
মনের মালিকানার মালিক তো আপনি থাকবেন”
কলি নিঃশব্দে হাসলো, কি ভয়ংকর সেই হাসি ভিষণ অদ্ভুত লাগলো রিফাত এর! সত্যি মেয়েরা হাজার কষ্ট লুকিয়ে হাসতে জানে! তবে কি খুব প্রয়োজন এই মিথ্যা হাসি টা তাকে দেখানোর! তার এই নিষ্ঠুরতম হাসি বুক চিঁড়েচিড়ে প্রবাহিত হচ্ছে ছোট মনে এই মেয়ে কি বুঝতে পারছে না!
দুইজনি বেশ কিছু সময় নিরবতা পালন করলো, একে অপকের দিকে কঠুর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে! কি সেই চাহনি হৃদয় ভেঙে চুরমার করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে! কলি কিছু সময় পর বললো!!
____আপনি অবশ্যই থাকবেন আমার বিয়েতে, অনন্ত ততখন থাকবেন যতখন পর্যন্ত আমি কবুল বলে অন্য কারোর হয়ে যাচ্ছি!
রিফাত অসহায় কন্ঠে বললো
___কোন অপরাধের শাস্তি দিচ্ছো আমাকে!
কলি অল্প হেসে বললো!!!
___যদি বলি আমাকে ভালো না বাসার শাস্তি!
“””ভালোবেসেই বা কি হতো! দিন শেষে আমাকে একা রেখে তুমি তো অন্য কারোরি হয়ে যেতে!
“””কেন ভালোবাসলেন না আমাকে?
কে বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি না, বড্ড ভালোবাসি তোমাকে! আমার অপ্রকাশিত ভালোবাসা সন্ধান তুমি কোনো দিন ও খুজে পাবে না! তোমাকে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচতে হবে সারাটি জীবন!রিফাত চোখের কোণের অল্প পানি মুছে নিয়ে মনে মনে বললো!
“””আমি কখনোই তোমাকে অন্য পুরুষের পাশে সহ্য করতে পারবো না..!
“””বরং তোমার থেকে খুব গোপনে সরে আসবো তবুও তোমাকে বুঝতে দিবো না..!
রিফাত চোখ সরিয়ে নিলো কলির দিক থেকে, এই গুটগুটে অন্ধকার এর মাঝেও চোখ গুলো কেমন জ্বলজ্বল করছে, কেন এই চোখের এত চাওয়া পাওয়া কেন দৃষ্টিতে এত পাওয়ার আকাঙ্খা! সব ভুলে গিয়ে নতুন করে বাচতে শিখো!
রিফাত কে একমনে কিছু একটা ভাবতে দেখে কলি বললো!!
___কি ভাবছেন এত? আমাকে কি শাড়ি পরে বউ সাজলে সুন্দর লাগবে এইটা ভাবছেন!
মূহুর্তে রিফাত এর বুক টা ছটফটিয়ে উঠলো, কলি কেন তাকে বার বার কথার আঘাত করছে! তুমি যতটা ব্যাকুলতা নিয়ে আমাকে ভালোবেসেছো, আমি ও ঠিক তেমনি! তুমি মেয়ে তাই স্পষ্টবাধী ডিরেক্ট বলে দিতে পেরেছো, তবে আমি পুরুষ চাইলে ও সব কিছু প্রকাশ করতে পারি না! রিফাত বাঁকা হেসে এক রাশ অভিমান নিয়ে ভাঙা ভাঙা গয়াই গাইলো!!
এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫০
____লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা রক্ত আলতা পায়ে!
___আমার চোখে জল মিশাইয়া নিলা না বিধায়””!
__তুমি ফিরাও চাইলা না একবার চইলা গেলা হায়””!
