এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪১
সুহাসিনী
আয়েশা রুমে একা বসে আছে। রাহি যে তখন নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়েছে আর খোলার নাম নেই। তাই আয়েশা বসে বসে ফোন স্ক্রল করছে। তখনই শান্তর নাম্বার স্ক্রিনে ভেসে উঠলো। আয়েশা কল রিসিভ করল না প্রথমবার,বাজতে বাজতে কেটে গেল। দ্বিতীয়বার আবার কল দিল শান্ত, এবার কল ধরলো।আয়েশা কল রিসিভ করতেই শান্তর গলা ভেসে এলো,
” ও সোনা মিস ইউ, ও মিস ইউ
তোকে কাছে চাই
মনে তোর বায়না
তুই আয় না
তোকে কাছে চাই ”
আয়েশা নিজের অজান্তেই মুচকি হাসলো। মুহূর্তেই আবার নিজের মধ্যে বিরক্ত এনে বললো,
“শান্ত ভাই, দিলা তো কানটার বারোটা বাজিয়ে। এই বাজ পাখির গলায় তোমাকে গান গাইতে কে বলে।তোমার গানের গলা শুনে তো বাজ পাখিও ভয় পাবে।”
শেষ,সব শেষ।এই মেয়ে তার মুডের চৌদ্দটা বাজিয়ে দিয়েছে।তার না হয় গানের গলাটা সামান্য খারাপ তাই বলে এভাবে অপমান করবে।না এটা সে কিছুতেই মানতে পারছে না।তাই মনে মনে পণ করে নিল,এই অপমানে প্রতিশোধ সে তুলবেই বিয়ের পর।বিয়ের পর বাজ পাখির গলায় গান গেয়ে গেয়েই এই মেয়ের মাথা নষ্ট করে ফেলবে সে। নিজের গানের গলার এতো বড় অপমানের প্রতিশোধ এভাবেই নিবে ঠিক করলো। আফসোসের স্বরে বলল শান্ত,
“তুমি আমার অরিজিৎ সিং এর কন্ঠের মতো এত সুমধুর কণ্ঠকে বাজপাখির কণ্ঠ বলতে পারলে রাজকুমারী!এতো বড় অন্যায় ধর্মে সইবে না।”
“তুমি গানের অপমান করা বন্ধ করো শান্ত ভাই। আর কল করেছো কেনো এখন?তোমার তো এখন ভাইয়ার সাথে থাকার কথা।”
“তোমার ভাই তো আমাকে ডিভোর্স দিয়ে এই মাত্র তার বউ এর কাছে চলে গেলো পিরিত করতে।এখন আমারও তো বউ দরকার তাই তোমাকে মনে পড়লো।”
“তুমি কি কখনো স্বাভাবিক কথা বলতে পারো না?”
“তুমি চাইলে আমি সব পারি রাজকুমারী, স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা থেকে বাচ্চা পয়দা করা, এ টু জেড সব পারি।”
আয়েশা বিরক্ত সুরে বলল,
“যত্তোসব।”
কল কেটে দিলো।কল কেটে যেতেই শান্ত ঠোঁট কামড়ে হাসলো।
কল কেটে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে হেলান দিলো আয়েশা।লজ্জায় গাল দুটো কেমন লাল হয়ে গেছে।মুহূর্তেই নিজেকে স্বাভাবিক করে মনে মনে ভাবলো,
“আমি কেনো লজ্জা পাচ্ছি আজব।”
আকাশের অবস্থা তেমন একটা ভালো না। যেকোনো সময় বৃষ্টি নামবে।এই বিকেলে বৃষ্টি নামলে মনে হয় না সন্ধ্যার আগে থামবে। সাঈদ এর গন্তব্যে পৌঁছাতে এখনো প্রায় দেড় ঘণ্টা খানেক তো লাগবেই।
গাড়ি রাঙামাটি পৌঁছানোর আগেই বৃষ্টির কবলে পড়তে হলো সাঈদকে।এই ভরা বৃষ্টির মাঝেও গাড়ি তার আপন গতিতে এগিয়ে চলেছে।কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ মাঝ রাস্তায় গাড়ি থেমে গেলো। সাঈদ ড্রাইভারকে গাড়ি থামানোর কারণ জিজ্ঞেস করলে ড্রাইভার জানালো গাড়ি খারাপ হয়ে গেছে, স্টার্ট নিচ্ছে না।মহা মুশকিলে পড়ে প্রচণ্ড বিরক্ত সে।কিন্তু তবুও মন যেনো খারাপ হচ্ছে না আজ। রাহির সাথে সব ঠিক হয়েছে এটা ভেবেই খুশি লাগছে তার।
রাহিকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে হঠাৎ রাস্তার পাশে চোখ পড়লো সাঈদের।মনে হলো সে রাহিকে দেখতে পেলো। এই সময় এই জায়গায় রাহির আসা অসম্ভব। তবুও সিউর হওয়ার জন্য গ্লাস নামলো। হ্যাঁ মেয়েটা তো রাহিই মনে হচ্ছে। আপন মনে বৃষ্টিতে ভিজ্চ্ছে।সাথে ছোটো মাঝারি কিছু বাচ্চাও আছে। সবাই অনেক আনন্দের সহিত বৃষ্টি বিলাস করছে। সাঈদ নিজের কৌতূহল দমাতে না পেরে এই বৃষ্টির মধ্যেই এগিয়ে গেলো মেয়েটার দিকে।
মেয়েটার আশে পাশে কোনো হুশ নেই।সে আপন মনে বৃষ্টি উপভোগ করতে ব্যস্ত।মনে হচ্ছে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা তার কত আপন।মেয়েটা হালকা সুরেলা কণ্ঠে গায়ছে,
কী আনন্দ,কী আনন্দ,কী,আনন্দ
দিবারাত্রি নাচে মুক্তি, নাচে বন্ধ-
সে তরঙ্গে ছুটি রঙ্গে পাছে পাছে
তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ, তাতা থৈথৈ-
মম চিত্তে নিতি নৃত্যে, কে যে নাচে
তাতা থৈথৈ,তাতা থৈথৈ,তাতা থৈথৈ-
মম চিত্তে নিতি নৃত্যে, কে যে নাচে
তাতা থৈথৈ,তাতা থৈথৈ,তাতা থৈথৈ-
মেয়েটার গানের কণ্ঠ শুনে সাঈদ কিছুটা থমকে গেলো। এতো মিষ্টি কণ্ঠ।তবে রাহির সাথে কণ্ঠেরও কিছুটা মিল আছে মনে হচ্ছে।মেয়েটার নিজের গান আর হালকা নাচের মধ্যেই হঠাৎ চোখ পড়ে কাছেই দাড়িয়ে থাকা কোর্ট পেন্ট পড়ে থাকা লম্বা চওড়া, সুঠাম দেহী, শ্যামলা বর্ণের গোছালো সাঈদের দিকে। মেয়েটাও যেনো কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়।
সাঈদের অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা দেখে মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে মনে মনে ভাবে,
“এতো সুন্দর সাহেব মার্কা ছেলে আমার দিকে এভাবে ভেবলার মতো তাকিয়ে আছে কেনো?”
মুখে বলে,
“কে আপনি?কি চায় এখানে?”
“এই তুমি এখানে কি করছো বেবি গার্ল।”
“ওই মিয়া আপনি আমাকে এসব আজব নামে ডাকছেন কেনো?আমার গ্রামে আমি থাকবো না তো কি আপনার দাদী থাকবে?”
“আজকেই তো তোমার সাথে আমার এঙ্গেজমেন্ট ঠিক হলো রাহি,তাহলে এখন এমন ভাব করছো যেনো আমাকে চিনোই না।”
“কে রাহি? আমার নাম বৃষ্টি।”
“হুবহু একই চেহারা, দুজন দুই প্রান্তের মানুষের এতো মিল কি করে থাকতে পারে।তুমি মিথ্যে বলছ, তুমিই রাহি।”
তখন পেছন থেকে একজন বৃদ্ধলোক বৃষ্টি বলে ডাকলে সাঈদের সামনে দাঁড়ানো মেয়েটা আসছি বলে চলে যাওয়ায় সময় সাঈদকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“দেখে তো শিক্ষিত সুস্থ মানুষই মনে হচ্ছে।তাহলে পাগলের মতো কথা বলছেন কেনো?শহরে গিয়ে ভালো দেখে একটা পাগলের ডাক্তার দেখিয়ে নিয়েন শহুরে সাহেব।”
সাঈদ শুধু তাজ্জব বনে দেখেই গেলো মেয়েটাকে।কিছু বলতে পারলো না। মেয়েটা চলে গেছে এতক্ষণে। সন্ধ্যাও ঘনিয়ে এসেছে আবার বৃষ্টিও কমে এসেছে। ড্রাইভার গেছে মেকানিক খুঁজতে।
সাঈদ তার অ্যাসিস্ট্যান্ট কে কল করে রাহীর খবর জানতে চাইলো,তার অ্যাসিস্ট্যান্ট জানালো রাহি আজকে বাসা থেকে বের হয়নি।
সাঈদ হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে। সে আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে বৃষ্টি নামের মেয়েটা যেদিকে গেছে সেদিকে পা বাড়ালো।
প্রেমের সব কাজ শেষ করে বাড়িতে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। রুমের সামনে এসে দরজা বন্ধ দেখে ভ্রু কুঁচকে গেল তার। দরজায় কয়েকবার কড়া নাড়লো। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সারা শব্দ এলোনা। তাই নিজের কাছে থাকা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল প্রেম।
রুমের সব লাইট অফ এমনকি ডিম লাইটও অফ করা। প্রেম রুমে এসে লাইট জ্বালালো। চোখে আলো পড়তেই ঘুমন্ত রাহির বিরক্তিতে কপালে ভাঁজ পড়লো।কিন্তু ঘুম কাতুরে মেয়ের ঘুম ভাঙলো না। এই অসময়ে রাহিকে ঘুমাতে দেখে প্রেম রাহির কাছে গিয়ে কপালে হাত রাখলো।সব ঠিক আছে।প্রেম নিজের ওয়ালেট, ফোন, ঘড়ি সবকিছু বিছানার পাশে টেবিলে রেখে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।
এমপির অবাধ্য বউ বোনাস পর্ব
প্রেমের ফোনের রিংটোনে রাহির ঘুম ছুটে গেলো। ঘুমঘুম চোখে দেখলো প্রেমের ফোন বাজছে, আর ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসছে।রাহি বুঝলো প্রেম এসে শাওয়ার নিতে গেছে।ফোন বেজে বেজে কেটে গেলো।মুহূর্তেই আবারও রিং হতে লাগলো।রাহি এগিয়ে গিয়ে ফোন হাতে নিলো।ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই রাহির চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেলো।
