Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪২

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪২

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪২
সুহাসিনী

হঠাৎ করে একটা শব্দে প্রেম তড়িঘড়ি করে ওয়াশরুম থেকে কোমরে টাওয়াল পেচিয়ে বেরিয়ে এলো।রুমে এসে বিছানায় রাহিকে দেখলো স্বাভাবিক ভাবেই চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। শব্দের উৎস খুঁজতে প্রেম আশে পাশে চোখ বুলালো,না তেমন কিছু নেই। প্রেম আবার ওয়াশরুমে ঢুকতে নিবে অমন সময় তার চোখ পড়লো ফ্লোরে খণ্ড বিখণ্ড হয়ে পড়ে থাকা তার iphone 17 pro ম্যাক্স এর দিকে। কিন্তু সে তো তার মোবাইল বেড সাইডে রেখে গিয়েছিল, তাহলে এভাবে ফ্লোরে পড়ে আছে কেন।

কেউ ছুড়ে না ফেললে তো ফোনটা এভাবে ভাঙার কথা না আবার নিচেও পড়ে থাকার কথা না। ফোনের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক রাগের সাথে খুব শক্তভাবে দেয়ালে ছুঁড়ে মারা হয়েছে। রাহি তো ঘুমাচ্ছে তাহলে এই কাজ কে করবে। প্রেম সন্দিহান দৃষ্টিতে রাহীর দিকে সূক্ষ্ম নজরে তাকালো। সে বুঝলো রাহী ঘুমের অভিনয় করছে। রাগে রাহিকে এক হেচকা টানে শোয়া থেকে বসিয়ে দিল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“হোয়াট দ্যা হেল স্টুপিড গার্ল??”
রাহি কোনো কথা বলল না,বড় বড় চোখ করে শুধু প্রেমের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই মনের মধ্যে কি চলছে।
ওকে নিশ্চুপ দেখে প্রেমের রাগের পরিমাণ বাড়লো। শক্ত কন্ঠে বলল,

“কি হলো, মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না কেন?? কে করেছে এসব??”
“বাইরে থেকে জিন উড়ে এসে আপনার ফোনটা ভেঙে দিয়েছে?”
“হোয়াট ননসেন্স”
“ঘরে যেহেতু আমি একাই ছিলাম,তাহলে ফোনটা নিশ্চয়ই আমি ভেঙেছি। কোন জিন এসে ভাঙ্গেনি, মাথামোটা লোক”
“তুমি কি ত্যাড়া বাকা কথা ছাড়া কোন কথা বলতে পারো না, আস্ত একটা ড্রামা কুইন।”
রাহি এবার দুঃখী দুঃখী মুখ বানিয়ে বলল,
“আপনি তো শুধু আমার ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলাটাই দেখলেন, আমার মনের মাঝে যে আপনাকে ইচ্ছামত পেটানোর শখ সেটা তো দেখলেন না এমপি সাহেব।”
প্রথমে রাহির কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে প্রেমের রাগ কিছুটা দমে এসেছিল।কিন্তু রাহির শেষের কথা শুনে কপালে ভাঁজ পড়লো তার। অবাকের স্বরে বলল,

“আমাকে মারবে তুমি?তোমার মতো লিলিফুট মারবে এই প্রেমকে? যেই মেয়ের নাক চাপলে এখনো সর্দি বের হবে সে নাকি পেটাবে আমাকে,হাউ ফানি।”
বলেই ঠোঁট বাকাল।
রাহি নাকের পাটা ফুলিয়ে প্রেমের নাক বরাবর ঘুষি বসালো।
“আমার নাক টিপলে সর্দি বের হবে তাই না,এখন আমার ঘুষি কেমন লাগছে মিস্টার প্রেম?এখন আমার সর্দি বের করে আপনাকে খাইয়ে দেই?”
প্রেম আহাম্মকের মতো তাকিয়ে আছে নাক ধরে। এখনো তাকে তার এই বাচ্চা বউ এর হাতে মার খেতে হচ্ছে,কি সোনায় বাঁধানো কপাল তার। রাহির শেষ কথা শুনে নাক ছিটকালো প্রেম।

“ওই সুপ্তি নাকি মূর্তি,তার সাথে আপনার কিসের এতো মাখামাখি? যখনি বাড়িতে আসেন তখনি বেহায়ার মতো ওই ছেমরি আপনাকে কল করে।ওই মাতারি জানে না আপনার ঘরে বউ আছে!”
“মুখের ভাষা ঠিক কর শালী,একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বউ এর মুখের ভাষা এতো খারাপ কি করে হয়।”
“আপনি যে আমাকে শালী বললেন,আপনি আমাকে বিয়ে করেছেন নাকি আমার বোনকে বিয়ে করেছেন?”
“তোর বোন থাকলে তোর মতো আস্ত একটা এটম বোমকে কখনই নিজের ঘাড়ে ঝুলাতাম না।”
“আমি এটম বোম হলে আপনি এতোদিন উড়ে যেতেন।”
“হ্যাঁ, শুধু উড়ে যাওয়ায় বাকি আছে। তাছাড়া সব ধরনের মার খাওয়া শেষ আমার।”
“এমপি সাহেব,আমাকে রাগালে ভালো হবে না কিন্তু।আমার সব রাগ গিয়ে আপনার মেইন পয়েন্টে পড়বে, তখন মজা বুঝবেন।”

“তোর বিশ্বাস নাই শালী, যখন তখন যেখানে সেখানে মেরে দিতে পারছ।আল্লাহ যে এই কোন গজব আমার ঘাড়ে ফালাইলো।”
“গজব এখনও পড়ে নাই,কিন্তু এখন পড়বে।”
রাহি প্রেমকে মারার জন্য এগিয়ে আসতে গেলে প্রেম রাহিকে নিজের সাথে জাপটে ধরে গলা নামিয়ে বললো,
“সাহস কি বেশি হয়ে গেছে ম্যাডামের! সুযোগ দেই বলে ভাববেন না যা খুশি করবেন।আমি ধরলে কিন্তু পালাবার পথ পাবেন না ম্যাডাম।”
রাহি স্থির হয়ে গেলো।প্রেম আর দেরি না করে উঠে ওয়াশরুমে কাপড় চোপড় পরার জন্য পা বাড়ালো। যাওয়ার আগে নিজের ভাঙ্গা ফোনটার দিকে তাকিয়ে লম্বা একটা নিশ্বাস নিল। যেই প্রেম ওয়াশরুমে ঢুকতে যাবে অমনি রাহি মিনমিনে গলায় বলল,
“আচ্ছা এমপি সাহেব,আমি যদি অনেক বড় একটা ভুল করি তাহলে আমাকে কি শাস্তি দেবেন?”
প্রেম স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো,
“আমার কাছে তোমার প্রাপ্য শাস্তি একটাই বেগম জান, সেটা হলো আনলিমিটেড বাসর। সো,বড় কোনো ভুল করার আগে নিজেকে বাসরের জন্য রেডি করে রেখো।”
প্রেম চলে গেলো।রাহি চোখ বড় বড় করে শুধু তাকিয়ে রইল। সাঈদকে বিয়ের জন্য রাজি হওয়ার খবর শুনে কি প্রেম সত্যি তাকে বাসর এর মতো শাস্তি দিবে?এটা কি আদৌও প্রেমের কাছে আশা করা যায়?

“আসতে পারি”
এমন বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় কোনো পুরুষের থমথমে গলা পেয়ে কিছুটা অবাক হয়ে দরজার দিকে তাকালেন বৃদ্ধ বয়সী রফিক সাহেব। সাঈদ বৃষ্টিতে টইটুম্বুর ভিজে দাঁড়িয়ে আছে মধ্যবিত্ত রফিক সাহেবের ঘরের দরজায়। রফিক সাহেবের বাড়িটা হাফ বিল্ডিং। বাড়ির চারপাশে টিনের বাউন্ডারি করা। উনার বাড়ির বাইরেটা দেখলেই বুঝা যায় উনি কতটা রুচিশীল মানুষ। সাঈদকে দেখে রফিক সাহেব অপরিচিত জেনেও ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন। সাঈদ ভেতরে এসে সালাম দিলে রফিক সাহেব সালামের জবাব দিয়ে গম্ভীর স্বরে বললেন,
“আপনে কেডা ? আপনারে তো ঠিক চিনবার পারলাম না ,এই গেরামে তো আগে কোনসময় দেহিনাই! আর এই সৈন্ধা রাইতে আমার বাড়িতে কি করেন?”

“আসলে আমি খুব বিপদে পড়ে এখানে এসেছি চাচা।আমি রাঙামাটি যাচ্ছিলাম ,কিন্তু দেখুন আমার কি দুর্ভাগ্য এই মাঝরাস্তায় এমন একটা গ্রামে আমার গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেলো।এখানে কোনো ম্যাকানিক ও পাওয়া যাচ্ছে না। ম্যাকানিক আনতে গেলে এখন সদরে যেতে হবে,আমার ড্রাইভার গেছে সদরে।তবে আকাশের যেই অবস্থা দেখা যাচ্ছে মনে হচ্ছে আবার বৃষ্টি নামবে, আর এই রাতের বেলা আমি রাস্তায় একা কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবো বৃষ্টিতে তাই কাছে এই বাড়িটা দেখে একটু আশ্রয় নিতে আসলাম। তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে আমার এলার্জী আছে,গায়ে পড়লেই হাড় কাঁপানো জ্বর আসে।এখন যদি আপনি আমাকে একটু আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করতেন খুব ভালো হতো।”
সাঈদের কথা শুনে রফিক সাহেব কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেলেন।কীভাবে একজন অপরিচিত লোককে তিনি বিশ্বাস করবেন। তিনি এই বাড়িতে থাকেন উনার এক মেয়ে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে।

পাশের বাড়িতে তার বড় ছেলে বউ বাচ্চা নিয়ে থাকেন। তিনি ভাবছেন,একজন লোক এতটা বিপদে পড়ে উনার কাছে সাহায্যের জন্য এসেছেন উনি ফিরিয়ে দিবেন কি করে।এর আগে যেই উনার কাছে কোনো বিষয় সাহায্য চেয়েছে উনি কখনই ফিরিয়ে দেয়নি। উনার ভাবার মাঝেই সাঈদ অনবরত হাঁচি দিতে লাগলো।চোখমুখ লাল হয়ে গেছে ওর। রফিক সাহেবের খুব মায়া হলো সাঈদকে দেখে।তিনি ভাবলেন একটা রাতেরই তো ব্যাপার,কিছু হবে না।উনি অনুমতি দিলেন সাঈদকে থাকার জন্য। সাঈদকে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে গামছা দিলেন এবং উনার একটা পাজামা পড়তে দিলেন। সাঈদ আশে পাশে চোখ বুলিয়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত জিনিস খুঁজছে,কিন্তু সে ব্যর্থ। রফিক সাহেব চলে যেতেই সাঈদ চেঞ্জ করে নিলো।এর পর রফিক সাহেবের একটা ফতুয়া পরে নিলো। সাঈদ এর জিম করা গায়ে হেংলাপাতলা রফিক সাহেবের ফতুয়াটা খাপে খাপ বসে গেছে। পাজামাটা কিছুটা খাটো হয়েছে যদিও কিন্তু সে মানিয়ে নিয়েছে।

রাত হয়েছে বেশ। বৃষ্টিও শুরু হয়েছে অনেকক্ষণ যাবৎ,এখানে এখন নেটওয়ার্কও পাওয়া যাচ্ছে না । সাঈদ খুবই বিরক্ত।এক দিকে উপকারও হয়েছে আবার আরেকদিকে বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর ও চলে এসেছে। রফিক সাহেব খাওয়ার জন্য ডেকে গেছেন। সাঈদ কোনোরকমে খাবার খেতে গেলো। ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে বৃষ্টি।পরণে হালকা মিষ্টি রঙের জামা,মাথা বড় উড়না দিয়ে আবৃত। রফিক সাহেব সাঈদকে খেতে বসতে বললে সে আড় চোখে একবার বৃষ্টির দিকে তাকালো, বৃষ্টিও তাকিয়ে ছিল ওর দিকে,দুজনের চোখাচোখি হওয়াতে দুজনেই চোখ নামিয়ে নিলো। টেবিলে আছেন রফিক সাহেব,সাঈদ আর বৃষ্টি। উনার মা আগে খেয়ে ঘুমের ঔষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েছেন।খেতে খেতে রফিক সাহেব সাঈদের উদ্দেশ্যে গ্রাম নিয়ে অনেক কথায় বলছেন। সাঈদও যতটুকু জানে ততটুকু ভদ্রতার সহিত উত্তর করছে। আর মাঝে মাঝে বৃষ্টির দিকে আড়চোঁখে তাকাচ্ছে।যতবার তাকাচ্ছে ততবার দুজনের চোখাচোখি হচ্ছে।
তাদের খাওয়ার মাঝেই দরজায় কারো ধাক্কার শব্দ পাওয়া গেলো।এতো রাতে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে কে এলো।রফিক সাহেব গেলেন দরজা খুলতে। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে রফিক সাহেবের বড় ছেলের ঘরের নাতি সায়ন।বয়স সাত কি আট হবে।সায়নকে এভাবে দেখে রফিক সাহেব কিছুটা চমকে গেলেন।তিনি আন্দাজ করতে পারলেন কি হয়েছে।ছেলেটা হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪১

“দাদা আম্মার খুব কষ্ট হইতাছে, আব্বা বাড়িত নাই, কামে গেছিল কিন্তু বৃষ্টির লাইগা ফিরতে পারে নাই, এহন কি হইবো দাদা।আম্মা তুমারে নিয়া যাইতে কইছে।”
রফিক সাহেবের বড় ছেলের বউ দ্বিতীয় বারের মতো অন্তঃসত্ত্বা।ছেলে বাড়িতে নাই আর এইরকম দিনে এতো বড় বিপদ হলো।উনি কোনোকিছু চিন্তা না করে বলল,
“তুই তোর আম্মার বারাত যা,আমি দাই রে ডাইক্কা নিয়া তগর বাড়িত যাইতাছি।”
রফিক সাহেব বৃষ্টিকে সাবধানে থাকতে বলে হন্তদন্ত পায়ে বেরিয়ে গেলেন।একজন অপরিচিত, অবিবাহিত তাগড়া পুরুষ যে তার বাড়িতে অবস্থান করছে বর্তমানে এই কথা তিনি মালুম ভুলে বসলেন।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪৩