Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৩

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৩

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৩
ফাতেমা তুজ জোহরা

আমির ও রুশভিয়ানের পিছু পিছু এই পথেই ছুটে আসছিল। ভাইয়কে হা*রা*নো*র ভ*য়ে তখন তার বুকের ভেতর অস্থিরতা এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলো, যেন একমুহূর্ত ও থামার ক্ষমতা নেই। হাইওয়ের নিস্তব্ধ রাতের বুকে চিঁ*ড়ে সে যখন সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ খা*দের দিক থেকে ধোঁ*য়া উঠতে দেখে তার মন কেঁপে উঠলো আচানাক । দূর থেকে শুধু কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী, আর তার সঙ্গে অস্বাভাবিক এক পো*ড়া গ*ন্ধ ভেসে আসছিলো। কি হয়েছে সামনে আমির কিছুই বুঝতে পারছে না। আমির একবুক সাহস নিয়ে গাড়ি থামিয়ে নিচে নেমে গেল। প্রথমে তার মনে একটু সংকোচ বোধ করে । কিন্তু তার মনে হচ্ছিল হয়তো কোন দূ*র্ঘ*ট*না ঘটেছে, কোন মানুষ বি*প*দে পড়ে আছে। কিন্তু খা*দের নিচে নেমে , ধোঁ*য়া*র ভেতর দিয়ে সামনে এগিয়ে গেল, তখনই তার চোখের সামনে এক ভ*য়ং*ক*র সত্য ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটা কোন সাধারন গাড়ি না এটা হলো তার ভাই রুশভিয়ানের গাড়ি।

এক মুহূর্তেই আমিরের বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে গেল। তার পা দুটো কেঁ*পে উঠলো, ঠিক সে সময় তার দৃষ্টি পড়লো খা*দের পাড়ে একটা লকেটের উপরে। সে কাঁপা হাতে সেটি তুলে নিল। একবার দেখেই চিনে ফেলল এটা রুশভিয়ানের লকেট। ভাইয়ের গলায় যেটা সবসময় দেখা যেত। সেই চেনা চিহ্নটা যখন তার আঙুলের ফাঁকে ধরা পড়লো। তখন আমিরের মাথাটা ঘুরে উঠলো। শরীরে সর্বশক্তি যেন একলহমায় ফুরিয়ে গেল। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল তার। চোখের সামনে সবকিছু ঘোলাটে হতে লাগলো তার
বুকের ভেতর জমে থাকা ভ*য় এক নিমেষেই বি*স্ফো*রি*ত হলো আর সে নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠল সে। সেই কান্না শুধু কান্না নয়, তা ছিলো ভেঙে পড়া এক ভাইয়ের করুন আ*র্ত*না*দ, এক অসহায় ভাইয়ের হৃদয় বি*দা*র*ক কান্না।
” ভাই…. ভাই “…
তার গলায় এমন তী*ব্র আ*র্তি উঠলো যে চারদিকে নিস্তব্ধতা কেঁপে উঠলো। খাদের নিচে, আগুন, ধোঁ*য়া*র ভেতর দিয়ে আমিরের কান্না যেন পাহাড়ের বুকে আ*ঘা*ত করছিলো। সে বারবার রুশভিয়ানের নাম ধরে ডাকছিলো। কিন্তু কোন উত্তর আসছিলো না। শুধু পো*ড়া ধাতুর গন্ধ, ধোঁ*য়া*র কালো আস্তরন, আর তার বুক ফা*টা আ*হ*জা*রি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। আমিরের সেই আ*র্ত*না*দে রাতের আকাশটাও ভারি হয়ে উঠলো। তার ভা*ঙা কন্ঠের প্রতিধ্বনি নিঃশব্দ হাইওয়েটাকে আর ও শূন্য আরও ভারি হয়ে হয়ে গেল

যে অদৃশ্য ছায়াটা নীরবে সবকিছুর পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলো, সে ছায়ার নাম হলো তারা বেগম। রুশভিয়ানের জীবনের প্রতিটি দূ*র্ভো*গ , প্রতিটি ফাঁ*দ, প্রতিটি অ*স্থি*র*তা*র পেছনে যে নারী নিঃশব্দে বি*ষ ঢেলে ছিলো সে আর কেউ না রুশভিয়ানের সৎ মা তারা বেগম। নিজের মুখে কখনো সরাসরি কিছু না বললে ও ভেতরে ভেতরে সে বহুআগেই রুশভিয়ানের বিরুদ্ধে যু*দ্ধ ঘোষনা করেছে। মির্জা মহলের দেয়াল গুলো যে অন্ধকার ষ*ড়*য*ন্ত্রে*র সাক্ষী আছে,তা কেউ জানত না। আর আজ সেই ষ*ড়*য*ন্ত্রে*র ফল দেখে তারা বেগমের মুখে আজকে বিজয়ের হাসি।নিষ্ঠুর,ঠান্ডা, হিসবি শ*ত্রু*র হাসি। নিজের ঘরের ভেতরে বসে সে নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে ঠোঁট বেঁকে গেল তার। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে নিরবতা ভেঙে হো হো করে হেঁসে উঠলো। এই হাসিতে আনন্দের চেয়ে অনেক বেশি ছিল স্বস্তি,জেদ,আর পুরনো হিং*সা*র তৃপ্তি । মির্জা মহলের বিশাল দেয়ালের ভেতর তার হাসির শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো। যেন আজকে তার বহুদিনের পুষে রাখা প্রতি*শোধ পূর্ন হলো। তারা হাসি থামিয়ে বিরবির করে বলল,” শে*ষ হইছে, শে*ষ হইছে ওই রুশার ছেলে, আজকে আমার মনটা শান্ত হইলো আল্লাহ । তারার চোখে বিজয়ের নেশা, ঠোঁটে তী*র্য*ক হাসি তার, আর বুকের মধ্যে ভ*য়ং*ক*র সন্তুষ্টি ।

সে ভাবতে পারেনি এত সহজেই সময় সময় এসে যাবে। যে ছেলেটা এতদিন তার চোখের কাঁ*টা হয়েছিলো, যে ছেলেটা তার পরিকল্পনা পথে বারবার বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো, আজকে সেই রুশভিয়ান নে*ই। এই ভাবনাটা তারা বেগম কে আরো শান্তি দিচ্ছে । তার চিরশ*ত্রু রুশার ছেলে রুশভিয়ান কে সরিয়ে দিতে পেরেছে আর বাকি দুজন আরিয়ান, আর আমির। তারা বেগম বিরবির করে বলল,” ওরাও ম*র*বে,কাউরে বাঁ*চ*তে দিবো না আমি ” কথাটুকু বলে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। জানালার পাশে গিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকালো,। মির্জা মহলের বিশাল প্রাঙ্গন, নিঃস্তব্ধ বারান্দা আর দূরের আলো ঝলমলে প্রাচীর, সবকিছু তার কাছে বিজয়ের মঞ্চ মনে হচ্ছিল। তার চোখে একটুও অনু*শো*চনা ছিল না, ছিল না কোন সহানুভূতি। ছিল শুধু একটা অনুভব প্রতি*শোধ। তারা বেগম ঘর থেকে বের হতেই তার গা*লে জোড়ালো থা*প্প*ড় পড়লো। থা*প্প*ড়ে*র তোড়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো তারা। আগুন্তক তাকে টে*নে*হিঁ*চ*ড়ে তুলে আরেকটা থা*প্প*ড় গা*ল বরাবর বসিয়ে দেয়।
তারা এবার নিজেকে সামলে নিয়ে সামনে তাকাতেই চোখ মুখ ফ্যা*কা*শে হয়ে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সায়েরা বেগম, চোখ মুখে অত্যন্ত লা*ল টকটকে হয়ে আছে, তার সাথে কপালে র*ক্ত বের হচ্ছে তার। তারা বেগম উদ্বীগ্ন হয়ে উঠলো কাঁ*টা দাগ দেখে সে সায়েরা কপালে একহাত দিয়ে স্পর্শ করে বলল,” কি হইছে আপা তোর কপালে, কি কইরা কা*ট*লো?

সায়েরা ঝট করে তারাকে দূরে ঠেলা দিয়ে ঝাঁ*ঝা*লো স্বরে বলল,” তোর নোং**রা হাত দিয়ে আমাকে স্পর্শ করবি না তুই তারা, আর কোন মুখে আপা বলছিস ল*জ্জা লাগে না তোর ” কিয়তক্ষন থেমে বলল,” ও হো আমি তো ভুলেই গেছি তোর মতো মেয়েদের ল*জ্জা থাকলে তো হবে, তোরা শুধু পারিস অন্যেদের ঘর ভাঙতে।
তারা বড় বোনের মুখে এমন কথা শুনে চোখ পানি এলে ঠোঁটে হাসি ধরে বলল,” এগুলো বলার লেইগা তুমি এইহানে আইছো আপা?
সায়েরা ঠোঁটে বি*দ্রু*পের হাসি সে এগিয়ে গিয়ে আরেকটা চ*ড় মা*র*লো তারার গালে অতঃপর ঝাঁ*ঝালো স্বরে বলল,” রুশভিয়ানকে কেন মা*র*তে লোক পাঠালি সিলেটে বল আমায়, কেন এই *নোং*রা খেলাটা খেললি কেন তার সাথে বল আমায় তারা” কথাটুকু বলেই তারার কাঁধ ঝাঁকাতে লাগলো সায়েরা। তারা আর চুপ করে থাকলো না সায়েরা হাত দুটো নিচে নামিয়ে শান্ত স্বরে বলল,” আমার জীবন টা ওর বাপ ওদের লেইগা শে*ষ কইরা দিছে, হের লেইগা ওরে মা*ই*রা ফেললাম” বলেই বাঁকা হাসলো তারা।

সায়েরা দমে গেল না, সে শক্ত কন্ঠে বলল,” এই পা*পে*র শা*স্তি তুই পাবি একদিন, নিজের চোখে পট্রি পড়ে নিজেকে খুব জ্ঞানবান ভাবছিস। আজকে যাকে মা*রা*র জন্য লোক পাঠালি তার জন্য একদিন মাটি কা*ম*ড়ে হাউমাউ করে কাঁদবি তুই এই আমি বলে গেলাম আজ। আর ভাবিস না রুশভিয়ান ম*র*বে, সে এত সহজে ম*র*বে না অন্তত সত্যিটা তোকে বলার জন্য আল্লাহ ওকে ফিরিয়ে আনবে? কথাটুকু বলেই চলে গেল সায়েরা। আর পিছনে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তারা, সে বুঝতে পারলো না কি সত্যি আছে এমন সেটা জানলে কাঁদবে। তারা কিয়তক্ষন পর চিন্তাটা মাথা থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়ে গেল একটা ফটো ফ্রেমের সামনে যেখানে একটা নবজাতক শিশু ছবি, বাচ্চাটা একটা সুন্দর দোলানায় শুয়ে আছে পাশেই নানা ধরনের খেলনা, বাচ্চা দুই আঙুল মুখে পুরে আছে, আরেক হাত দিয়ে পা আকড়ে ধরে আছে ।

তারা বাচ্চাটার ছবিটা হাতবুলাতে গিয়ে চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো, পরক্ষণেই মুখ দিয়ে অস্ফুটে স্বরে আ*র্ত*না*দ বেরিয়ে এলো তার। সে ভালো করে হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো হাত কেটে র*ক্ত বের হচ্ছে তার। তারা মুখে ব্যা*থা*তু*র হাসি ফুটলো, সে বিরবির করে বলল,” মা তোরে রক্ষা করবার পারেনি হের লেইগা মা রে ব্যা*থা দিলা আব্বু ” কথাটুকু বলতে গিয়ে তারার কন্ঠ রোধ হয়ে এলো মাটিতে বসে ডুকরে কেঁদে উঠলো সে। কান্নার মাঝে আল্লাহ বলে চেঁ*চি*য়ে উঠে বলল,” কেন করলা আল্লাহ আমার লগে এইরকম, ক্যান আমার বাচ্চাটাকে ওরা মা*ই*রা ফালাইয়া দিলো আল্লাহ।
সায়েরা বেগম যায়নি এখনো সে দরজার আড়াল থেকে ভঙ্গুর তারাকে দেখলো কিন্তু এগিয়ে এলো না, তার চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগলো। সায়েরা চোখের পানি মুছে বিরবির করে বলল,” এই কান্না কিছুই না তারা, তুই আজকে যতবড় পা*প করলি এর জন্য হয়তো তোকে সারাজীবন অশ্রু বির্সজন দিতে হবে … সায়েরা শেষ বারের মতো বোনের দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে গেল এক্ষুনি সিলেটে রওনা হবে সে। সায়েরার ছেলে বাইরে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে মির্জা মহলের সামনে।

অন্ধকার ভোরের বুক চিঁ*ড়ে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে এসে থামল, তখনও আকাশ পুরোপুরি আলো ভরে উঠেনি। হাসপাতালের সাদা আলোয় চারপাশটা কেমন নিষ্প্রাণ শীতল আর অস্বাভাবিক ব্যাস্ততায় মোড়া। দরজা খুলতেই কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স দ্রুত এগিয়ে এলো। স্ট্রেচারে নি*থ*র পড়ে থাকা রুশভিয়ানকে দেখে মুহুর্তের জন্য সবার মুখের স্বাভাবিকতা বদলে গেল। রুশভিয়ানের শরীরজুড়ে দু*র্ঘ*ট*না*র চিহৃ। কপালের একপাশে গভীর ক্ষ*ত, শুকিয়ে যাওয়া র*ক্ত চুলের আগায় লেগে আছে। ঠোঁটের কোনে জমে আছে শুকনো র*ক্ত, কানের মধ্যে দিয়ে এখনো উষ্ণ র*ক্ত বের হচ্ছে রুশভিয়ানের, ডান হাতের অনেকখানি চা*ম*ড়া ঝ*ল*সে গিয়েছে, পেটের পো*ড়া জায়গাটা ও শার্ট ছিঁ*ড়ে দৃশ্যমান হয়ে আছে। শ্বাস চলছে কিন্তু স্বাভাবিক না ,বুকটা ধীরে ধীরে উঠানামা করছে,আবার নামছে। চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আছে তার।
যে চোখের দৃষ্টিতে মানুষ থমকে যেত, সেই চোখ আজ সম্পূর্ণ নিশ্চল হয়ে আছে। মুখের চোয়ালে নেই সেই আগের মতো ক*ঠো*র*তা। যেন সমস্ত রা*গ,অহং*কা*র, হঠাৎ করে শরীর থেকে বি*চ্ছিন্ন হয়ে দূরে কোথাও পড়ে গিয়েছে। একজন নার্স দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করলেন,একজন চিকিৎসক র**ক্তচাপ পরীক্ষা করছে, অন্যজন পালস, শ্বাস প্রশ্বাসের মাত্রা পর্যবেক্ষন করতে লাগলেন। একজন ডাক্তার নার্সের উদ্দেশ্য বলল,” পেশেন্টের পালস দুর্বল,। দ্রুত নিউ*রো সা*র্জারি টিমকে খবর দিন। কথাটা শোনামাত্র নার্স এগিয়ে গেল হাসপাতালের দিকে। রুশভিয়ান কে স্ট্রেচারে করে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো।

প্রায় একঘন্টা ধরে হাসপাতালের করিডোরে বসে আছে আমির। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, আমিরের চোখ মুখ ফুলে আছে বেজায়। আমির একবার নিচ দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার ওটির বন্ধ দরজার দিকে তাকাচ্ছে । তার চোখে একটাই প্রশ্ন ভাই বাঁ*চবে তো। তার পাশের চেয়ারে বসে আছে সায়েরা বেগম। কি আশ্চর্য রকমের নিশ্চুপ। মুখটা শক্ত করে রেখেছেন, চোখে কোন কান্না নেই,ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে রাখা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোন নারী মূর্তি সে। কিন্তু বুকের ভেতরটা, সেখানে যেন প্রতিটি অদৃশ্য মুহূর্ত কোন ভার জমে যাচ্ছে ।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ অপারেশনের থিয়েটারের দরজা খুলে একজন ডাক্তার বেরিয়ে এলো। সায়েরা এক মুহূর্ত দেরি করলো না সে তৎক্ষনাৎ এগিয়ে গিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠস্বরের বলল,” কেমন আছে এখন? আমির ও উঠে এসে দাঁড়াল। কিন্তু মুখ দিয়ে তার কোন আওয়াজ বের হলো না শুধু চোখ দিয়ে পানি পরছে। ডাক্তার লম্বা শ্বাস টেনে সায়েরা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল,’ পেশেন্ট এই মুহূর্তে জী*বি*ত হয়ে আছেন! আমরা প্রাথমিকভাবে তার অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছি। তবে মাথায় গুরুতর আ*ঘা*ত পেয়েছে।
সায়েরা বেগম আর আমির চমকে উঠলো ডাক্তারের কথা শুনে।সায়েরা বলল,” মানে!
ডাক্তার ধীরে ধীরে বললেন, ” তিনি এখন অবচেতন অবস্থা আছে? সহজ ভাষায় বললে তিনি এখন কো*মা*য় চলে গেছেন।

শব্দটা শুনে আমির যেন এক মুহুর্তের জন্য নিজের শ্বাস নিতে ভুলে গেল।সে পিছনে টলে পড়তে নিলেই সায়েরা তার হাত শক্ত করে আকড়ে ধরলো ।
সায়েরা বলল,” কো*মা*য়!
ডাক্তার মাথা নাড়িয়ে বলল, ” হ্যাঁ! তার মস্তিষ্কে আ*ঘা*তের প্রভাব রয়েছে। আপাতত তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি!
সায়েরা কাঁপা গলায় বলল,” কখন ফিরবে?
ডাক্তার এবার গম্ভীর স্বরে বলল,” এটা নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। কতদিন লাগতে পারে। তবে হ্যাঁ কয়েকদিন… কয়েক সপ্তাহ…. কারও ক্ষেত্রে তার চেয়ে ও বেশি সময় লাগে। আবার কখন জ্ঞান ফিরবে সেটা নির্ভর করে মস্তিষ্কের আ*ঘা*ত কতটা গুরুতর এবং চিকিৎসায় শরীর কিভাবে সাড়া দিচ্ছে তার উপর। আমরা তাকে বাঁ*চিয়ে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে আগমী দিন গুলো ওনার জন্য খুব কঠিন হতে পারে, আপনারা প্রার্থনা করুন ওনার জন্য” ডাক্তার কথাটা বলে চলে গেল তার কেবিনে। আর আমির মুখে হাত দিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল। সায়েরা আমিরের একহাত শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বলল,” কিছু হবে না ওর, কিছু হবে। এতদিন যখন বি*প*দ ছুঁতে পারেনি তখন আজও পারবে না। তার জন্য যে একজন অপেক্ষা করছে তাকে ফিরতেই হবে।

কিছুক্ষণ পর সায়েরা বেগম কাঁচের দেয়ালের ওপাশ দিয়ে রুশভিয়ানকে দেখছে আইসিইউর রুমে। রুশভিয়ান সাদা চাদরের উপরে নি*স্ত*ব্ধ হয়ে পড়ে আছে। মুখে অক্সিজেনের ব্যবস্থা, বুকেও শরীরে বিভিন্ন স্থানে লাগানো আছে মনিটরিংয়ের তার। পাশে থাকা মনিটরে নিয়মিত উঠানামা করছে হৃৎস্পন্দনের রেখা। প্রতিটি বিপ বিপ শব্দ যেন তার বেঁচে থাকার স্পষ্ট প্রমান। কপালের ক্ষ*ত পরিষ্কার করে ব্যা*ন্ডে*জ করানো হয়েছে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালের উপরে পড়ে আছে। মুখটা অস্বাভাবিক ভাবে ফ্যা*কাশে হয়ে আছে। না*কে*র ভেতর নল লাগানো আছে। রুশভিয়ান কে দেখে মনে হচ্ছে যেন ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু এটা কি ঘুম, না এটা ঘুম না। এটা হচ্ছে এমন এক গভীর অন্ধকার, যার দরজা খুলে রুশভিয়ান প্রবশ করেছে, অথচ কখনো বেরিয়ে আসবে কি না জানা নেই।

সায়েরা চোখে এবার হালকা একটু পানি জমলো রুশভিয়ান কে দেখে, তারপর আস্তে আস্তে বলল,” তোকে উঠতে হবে রুশান, তুই এত সহজে হার মানবি না। তোকে আবারও ওই রত্নকুঞ্জে বেপরোয়া ভাবে দেখতে চায়, তোর সাথে প্রতিটি মুহূর্ত আমি ঝগড়া করতে চাই রুশান। তুই ফিরে আয়, তোর আম্মু ক*ষ্ট পাচ্ছে আর তুই আসবি না,আয় আব্বু আমার ” সায়েরা বেগমের এতক্ষণে ভেঙে পড়লেন। দুইহাত মুখে দিয়ে কান্না করে উঠলো, যেন কেউ তার কান্না দেখতে না পায়। অথচ আমির সায়েরা বেগম কে কান্না করতে দেখে বিস্ময়কর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। সে বুঝতে পারলো না যে মেয়েটা উঠতে বসতে ঝগড়া করতো তার ভাইয়ের সাথে আজকে কিনা তার ভাইয়ের জন্য এমন ভাবে কান্না করছে। আমির আর এগিয়ে গেল না, সে গিয়ে স্টিলের বেঞ্চে বসে চিন্তা ভাবনা করতে লাগলো।

এই অনু তাড়াতাড়ি করে হাসপাতালে আয় তোর পেশেন্টের জ্ঞান ফিরেছে। জ্ঞান ফিরে কেমন উ*ন্মা*দে*র মতো করছে তাড়াতাড়ি আয় তো, তোর ব্যা*টারি টাকে আনতে ভুলবি না, না যদি আনিস তাহলে লা*থি দিমু… এতটুকু বলেই মাহবুব ফোনটা রেখে দিয়ে আবার কেবিনের দিকে ছুটলো, সেখান থেকে চেঁ*চা*নো*র আওয়াজ স্পষ্ট ভাবে শোনা যাচ্ছে।

অনু ফোনটা রেখে পিছনে ঘুরতেই তাকে ছোট ছোট দুটে হাত পা দুটো আকড়ে ধরে বলল,” আম্মু চলো হাসপাতাল? ওখানে মাহবুব থাকবে আমি তার কোলে চড়ে আইসক্রিম খাবো। অনু কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,'” তুমিও কোথাও যাবেনা আরিয়া? ওখানে গিয়ে আবার দুষ্টমি শুরু করবে তুমি তাইতো?

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২২

আরিয়ার তার নাক টা উঁচু করে গাল ফুলালো সে। অনু মেয়ের এমন গাল ফুলালো দেখে অনু ফিক করে হেঁসে বলল,” ওকে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে যাও আম্মু।
আরিয়া মাথা নাড়িয়ে চলে গেল ঘরে। অনু মেয়ের যাওয়ার দিকে একবার তাকিয়ে হাসপাতালের জন্য রেডি হতে লাগলো।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here