কালকুঠুরি পর্ব ৫৮
sumona khatun mollika
সেন্স ফেরার পরে সামির আর একটা বারো কাঁদেনি। জেলখানার ওপরের ছোট্ট ভেন্টিলেটর দিয়ে আলো আসছে হালকা হালকা। সামির মেঝেতে দ এর মতো করে বসে আছে । আঘাতপ্রাপ্ত ক্ষতে ব্যাথা করছে কি না সেদিকেও খেয়াল নেই। ভেতরে পরে থাকা একটা ইটের লাল টুকরা তুলে সে মেঝেতে আঁকাআকি করছে। ঘষে ঘষে খুব সুন্দর করে সামহার ছবি এঁকেছে।
নিজেই বিবেচনা করে দেখছে,, সামহার উপস্থিতি ঠিক কতটা দুর্বল করেছিল তাকে! তার পরিপক্ব হাত দুর্বল হয়েছিল শত্রু পক্ষের সামনে। যেই মেজিস্ট্রেট হোক, কিভাবে সে একজন বিচারপতি? নির্দয়, পাষান! সেটাও ঠিক বলা যায় না। খারাপতো সামির সিকান্দার -ই। সে-ই তার বাচ্চাকে অপহরণ করেছিল। খারাপের সাথে খারপই হবে। স্বাভাবিক ।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
বাহিরে নাজিয়া দাড়িয়ে । হাবিলদার হাবিবুর রহমান গেটের লক খুলতেই সিভান দৌড়ে সামিরের কাছে গিয়ে তার আঘাত দেখে চেচিয়ে ওঠে,,
” কোন শুয়োরের বাচ্চা আমার কাকারে এমনে মারছে! তরা পুলিশ না ঘুষের বালিশ? তগো যে ট্যাকা ভরা হয় তাতে ভরেনা? আমার কাকার মাথায় আঘাত লাগছে আর তরা অরে এমনে বাইন্দা রাখছোছ! ”
নাজিয়া দৌড়ে গিয়ে গিয়ে সামিরের ক্ষতস্হানে রুমাল চেপে পরিষ্কার করে দিযে বলল,,
” বাড়ি চলুন বেয়াই সাব ”
সামির ঝাড়ি মেরে হাতটা ছাড়িয়ে ঝড়ের বেগে থানা থেকে বেরিয়ে গেল। পড়নের লাল শার্টটাও কড়কড়ে হয়ে আছে শুকিয়ে যাওয়া রক্তে। নাজিয়া দাড়িয়ে রইল। সিভান দৌড়ালো সঙ্গে সঙ্গে। সিভানকে সাথে করেই সামির বিদ্যুৎ গতিতে গাড়ি ছোটালো মহাসড়কের উদ্দেশ্যে। সিভান সাহস করে বলতে পারছেনা গাড়ি আস্তে চালাতে।
চোখে মুখে ভয়াবহ নিস্তব্ধতা। ঠিক মাহাদের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে গগন ফাটিয়ে চিৎকার করতে লাগলো,,
” সামহা, আব্বু তোমাকে নিতে এসেছি তুমি কি যাবেনা? সামহাাা কোথায় তুমি দেখ আব্বু এসেছি তোমাকে নিতে ”
ব্লিডিংয়ের সবাই জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখছে সামির কিভাবে চিৎকার করছে। তিন তলার ফ্ল্যাটে আলো জ্বলে ওঠে৷ গুনে গুনে অল্প কিছু সময় পর সেখান থেকে নেমে আসে মাহবুব উদ্দিন ।
সামির চোখ মুখ কুটিয়ে বলে,,
” আপনি? ”
মাহবুব উদ্দিন কোনো জবাব দেয় না। ততখনে রকি আর কাশেম ও চলে এসেছে। সামির বাহাতের পিঠে ঘাম মুছে সোজা হয়ে দাড়ায়। শুষ্ক করে ঢোক গিলে মাহবুব উদ্দিন এর দিকে তাকিয়ে থাকে।
মাহবুব উদ্দিন বলে,,
” ফেরত যান সামির সিকান্দার । ”
” মাহবুব,,, আমি,, আমি কোনো অপরাধ করতে আসিনি। আমি সামহাকে নিতে এসেছি। সামহা কে। ও তো ওই তিন তলাতেই থাকে তাইনা? ওর আঘাত লেগেছে, কোথায় ও? ঠিক তো আছে তাইনা? আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। ”
” আমার মেয়ে আমি আপনাকে কেন দেব সামির সিকান্দার? ”
সামিরের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে গুড়িয়ে পড়ে। বুকের বাপাশটা হিম হয়ে যায় । শেষ মেষ মাহবুব উদ্দিন এর মেয়ে! কিন্তু মাহবুব উদ্দিন এর মেয়ে কি করে হবে সামহা নিজ মুখে বলেছিল ওর বাবা নেই।
” মিথ্যা বলছেন কেন? আমার সাথে মষ্করা করছেন? সমহার বাবা নেই। মানে… ”
” মানেটা এতটাও কঠিন নয় সামির সিকান্দার, ওর বাবা নেই বলেছে। মরে গেছে তা তো বলেনি। ও আমাদের ওপর রেগে বাড়ি ছেড়েছিল। ছোট বাচ্চা যা মনে চেয়েছে করেছে। কাশেম হালদার, উনাকে বাড়ি নিয়ে যান। আশা করব আর উনাকে ধরতে যেতে হবেনা আমাকে ”
“এই চোপ,, সরে দারা। কোনো বাঙ্গির নাতি আমার গায়ে হাত দিলে আমি সবকটারে জিন্দা চাবায় খাইয়ে ফালামু ”
কাশেম বা রকি কেও আর সামিরকে বাধা দিলোনা। সামির কিছুসময় দম নিয়ে নিজেকে শান্ত করলো। পুরোনো ধাঁচে পাগলের মতো হেসে বলল,,
” কি বাল! এসব আজাইরা নাটক! হতেই পারেনা। সামহা কিছুতেই আপনার মেয়ে হতেই পারেনা। তাছাড়া ও যারি মেয়ে হোক আমি অতসব নিয়ম মানিনা। আমার বাচ্চা ফেরত দিন ”
” দেখুন সামির সিকান্দার , নিজেকে একটু দেখুন ! ওই বাচ্চাটা আপনার নয়। মাত্র ২ মাসের ব্যাবধানে আপনি ওকে নিজের বাচ্চা দাবি করতে পারেন না। ”
সামির বোধহয় কোনো কথা খুঁজে পেলোনা। স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে চারপাশে তাকাতাকি করতে লাগলো। তর্কে জড়ালোনা। মাহবুব উদ্দিন এর উদ্দেশ্যে বলল,,
“ঠিকাছে। আপনার বাচ্চা আমি চাইবোনা। তবে,,
” তবে?”
“আমাকে একটাবার ওর সাথে একটু দেখা করতে দেবেন? ”
” ওর মা এলাউ করবেনা। এমনিতেই আপনার জন্য ওর আঘাত লেগেছে ”
আঘাত লেগেছে কথা টা সামিরের কানে শুলের মতো করে বিধলো। উত্তেজিত না হয়ে আবারো দেখা করতে চাইলো সামহার সাথে । মাহবুব উদ্দিন মানা করলনা। করলেও সে শুনবে না। সামির দৌড়ের ওপর ভেতরে চলে গেল । সিভানও পেছন পেছন দোড়ালো।
দড়জা খুলে দিল সেতু। সামির ধীর পায়ে ভেতরের ঘরটাতে গেল। লাল সবুজ পর্দা ঘেরা দড়জা। এই রঙটা অন্যদের বিরক্ত লাগলেও সামিরের ভিষণ প্রিয়। সামহারও তাই। সামহার জোরেই মাহা পর্দাগুলো লাগিয়েছিল । পর্দা সরাতেই দৃশ্যমান হয় একটা মেয়ে মাথায় কাপড় তোলা। নিশ্চয়ই মেজিস্ট্রেট ফারনাজই হবে। বেডের ওপরে ছোট্ট পুতুল ঘুমিয়ে ।। মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছে। তাই ব্যান্ডেজ করা। সামির তাকে দেখে একটু ঢোক গিলে তাকালো। সামহার অবস্হার জন্য নিজেকে দায়ী ভেবে বুকটা ফেটে যাচ্ছে । তার উপস্থিতি টের পেয়ে, সামনের মেয়ে টা উঠে দাড়ালো। ঘোমটা টা নামিয়ে ঢাকলো চেহারা। কোনো চিহ্ন রইলোনা সে মাহা।
সামির দুই পা এগোতেই আচমকা সামহার মা, তার দিকে ৯ এমএম এর রিভলবার তাক করে ধরল। রুষ্ট কণ্ঠে বললো,,
” এগোবেন না সামির সিকান্দার , আপনি আমার বাচ্চার ক্ষতি করেছেন। ”
কণ্ঠটা শুনে সামিরের কানে কেমন তাক লেগে গেল। বহুল পরিচিত সেই কণ্ঠ যেই কণ্ঠের রিনঝিনে কণ্ঠস্বর বড্ড মনযোগ দিয়ে শুনতো সামির সিকান্দার ।
” দিবা?”
” কে দিবা? বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। চলে যান এখান থেকে, অর আই উইল শুট ইউ!”
” তোমার চেহারা দেখাও ”
” আপনি নন মাহরাম ”
ততখনে মাহবুব উদ্দিন ও চলে এসেছে। কাশেম, রনি, সিভান তিনজন দড়জার সামনে দাড়িয়ে । মাহবুব উদ্দিন তাকে শান্ত হতে বলে বলল,,
” শ্যুট কইরেননা। উনি জাস্ট সামহাকে দেখে চলে যাবেন। ”
” না যাবোনা। উনাকে চেহারা দেখাতে বলুন। ”
” আপনি আমাকে বলেননি আপনি আমার বউ দেখতে চান। বাবু দেখতে চান বাবু ওখানে,, ”
সিভান কোনোকিছু তোয়াক্কা না হুট করে গিয়ে মেয়েটার ওড়না ধরে টান মারে। তবে আশাহত হতে হয়। ।। সেই জায়গায় আসলেই মাহবুব উদ্দিন এর বউ ছিল। লামু। সামির তাকে চিনতে পারেনি।
সিভানের ওপর রাগ দেখায় লামু। তার হয়ে সামির ক্ষমা চেয়ে বলে,,
” একটা কারণে দেখতে চেয়েছি। উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। ”
লমু কিছুই বলে না। সামির সোজা সামহার কাছে গিয়ে তার নাম ধরে ডাকে। সামহা সাড়া দেয় না। সামির তাকে কিছুক্ষণ মন ভরে দেখে। কপালে গাঢ় একটা চুমু একে দিয়ে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে চলে যায় । যাওয়ার আগে আবারো সেই কণ্ঠে ডাক আসে,,
“আপনার সাথে এখনো অনেক হিসেব বাকি সামির সিকান্দার ! এতো মাত্র শুরু ”
সামির আর ঘুরে তাকায় না। তবে এবার কথা টা মাহাই বলেছে। প্রায় দুই মাস পরে সিকান্দার বাড়িতে ফিরেছে সামির। নুসরাত, রাহা সকলেই তাকে এই অবস্হায় দেখে চিন্তিত হয়ে যায় । সামির শুধু বলে,,
“আমি কাল থেকে আবার ভার্সিটি যাবো। সকালে যেন ব্রেকফাস্ট রেডি থাকে। ”
সিভানের থেকে পুরোটা শুনে রাহার অনেক খারাপ লাগে। তবে রাহা তখনো সব কিছু জানতো না। নুসরাত সবই জানতো। দরকারে মাহাকে অনেকবার সাহায্য ও করেছে। তবে সামির সামহার জন্য এতটা হাহাকার করেছে জেনে তারও ভিষণ কারাপ লাগে।
আঘাতের জোড়ে সামহার জ্বর এসেছে। জ্বরের ঘোরে সে শুধু বারবার বলে চলেছে,,,
” আব্বু কই আব্বু? ও সেতু আব্বু কই? আব্বুরতো ব্যাথা লেগেছিল । বলোনা আব্বু কই? আব্বুকে ওষুধ দিয়েছ? ”
সেতু সামহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,,
“দিয়েছি। তুই ঘুমা সামহা। কিছু খাবি? ”
“ওহহো আব্বু না খেয়ে আছে। আব্বুকে ডাকো। আমাকে ছাড়া তো আব্বু খায় না। আব্বুর তো ক্ষুধা লাগবে না?? আব্বু কোথায়? ”
মাহা চোখ পাকিযে বলে,,
” আব্বু চলে গেছে। আবার পরে আসবে। ”
“না এখনি ডাকো। আব্বুউউ? ”
” চুপ করো ভুমি! ”
” ভুমি বোলোনা সামহা বলো। আব্বুও সামহা বলে। না বেবি বলে। ও, মা ও বলে ”
মাহা কিছুই বলতে পারেনা। সেতু তাকে কোনোমতে ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে শান্ত করে৷
শহরের সকল স্কুল কলেজের স্টুডেন্ট রা আওয়াজ তুলেছে। তারা আর কোটা চায়না। কোটা সংস্কার করা এখান সকলের দাবি । নিউজ চ্যানেল সকল মিডিয়া মোটামুটি চুপচাপ৷ বিষয়ে টা সরকার বিরোধী হওয়ায় তারা কেও এসকল বিষয়ে পোস্ট বা নিউজ রিপোর্ট করছেনা।
তবে আধুনিক যুগ খবর ছড়ায় আগুনের মতো। ঢাকা থেকে শুরু করে সকল পাবলিক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা জবান তুলেছে কোটা বৈষম্যর বিরুদ্ধে । অনেকের মতামত, ছাত্রদের সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছে বিপক্ষ দলের রাজনীতি বিদেরা। ঢাকায় নাকি মারামারিও হয়েছে একচেটিয়া। রাজশাহী তে যখন তখন আগুন লাগবে লাগবে ভাব। ভার্সিটিতে ছাত্র জনতা দলে দলে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে৷
সবার মত যখনি ঝামেলা লাগুক তারা আর পিছপা হবেনা। তাদেরকে রাজাকার সম্বোধন করায় তারা আরো বিক্ষোভে ফেটে পরে। অধিকাংশদের মত,,
সবাইতো আর মুক্তিযোদ্ধার নাতি নাতিন নয় তবেকি শুধু তারাই দেশের নাগরিক? একটা রাষ্ট্রের সবচে বড় শক্তি রাষ্ট্রের জনগণ। রাজাকার বলতে সেইসকল ব্যাক্তিদের নির্দেশ করা হয় যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের সাথে গাদ্দারি করেছিল। দেশের সন্তান হয়েও দেশকে বিক্রি করে দিতে সহায়তা করেছিল।
রাজশাহীতে গন্ডগোল লাগার পরে, ৩ জন ছাত্র কে খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাদের নামের মিসিং আইডি এখনো জ্বলজ্বল করে । তবে তারা আর কখনো ফিরবে না। তার গ্যারেন্টি সাফিন সিকান্দার । বড্ড চতুরতার সাথে ছেলে তিনটে কে সরিয়ে দিয়েছে সাফিন৷ সঙ্গে দুটো মেয়ে ছিল তাদের ঠাই হয়েছে কালকুঠুরি তে। ২১৬ নাম্বার ঘরে। যেই ঘরে সামিরের মা নৃশংস ভাবে খুন হয়েছিল । জনগণের মন জয় করতে সাফিন সিকান্দার ভাষণ দিয়েছে সে অবশ্যই ছাত্রদের পক্ষে থাকবে। তাদেরকে রাজাকার সম্বোধন করা অবশ্যই একটি ভুল কাজ।
সাফিন বাইরে থেকে এসে সোজা সামিরের ঘরে চলে যায়৷ সামির সেই আগের মতো করে নীল একটা কুচামুচা লুঙ্গি পড়ে খালি গায়ে উপুড় হয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছে ৷ নাজিয়া ঘুমের মধ্যে কানের পেছনে কাটা জায়গায় মলম লাগিয়ে দিয়েছিল। মদের বোতল পরে আছে পাশে। বোঝাই যায় সামির ঢকঢক করে মদ গিলে মাতাল হয়ে ঘুমিয়েছে।
সাফিন তার পাশে বসে ধাক্কা মেরে বলে,,
” অ্যাই ওঠ,,, এই শালা ওঠ ”
” কোন বাঙ্গির বাচ্চা জ্বালাচ্ছিস বে, সর যাহ! ”
সাফিন তার পিঠের ওপরে কিল বসিয়ে বলল,,
” তোর বাপের পয়দা করা শালা ”
” উমমমহ! কি জ্বালা বাল! কও কি হইছে?”
” ওঠ না বে হারামি ”
সামির প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে উঠে বসে। মাথা ঝাড়ি দিয়ে তাকিয়ে শুধালো,,
” কি বলো? আমার এখন কোনো কামএ মুড নাই। কোটি টাকা দিলেও করমু না। ”
” কিছুই কাম নাই। কতদিন তরে দেখি না। দেখতে আসলাম কোন দেশি গিলে এত পরিমাণের টাল্লি খাইছিস? ”
” কি বললে বুঝিনি? ”
” যখন জানতি ওই ছুড়ি কার্তিকের নাতিন না,, তো ফেরত আসিসনি কেন? ”
” টাল্লি আমি খাই নাই তুমি খাইছো। ”
” কেন? ”
” আমি আসলেই জানতাম না হেয় যে…”
” যাই হোক। বাদ দে। ভার্সিটিতে গেলে ছেলেপেলের সাথে একটু ভেবে চিন্তে কথা বলিস। ওরা এমনিতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আছে ”
সামির চোখের পলক ফেলে জবাব দেয় । সাফিন চলে গেলে সিয়েরা আর সিভান চলে আসে৷ সিভান টেবিলে চড়ে বসে। সিয়েরা সামিরের সামনে বসে জিজ্ঞেস করে,,
” এ কাকা, তুমি আমাকে কেন ভালোবাসোনা? ”
” কে বলেছে বাসিনা? ”
” ভাইয়ু বলেছে তুমি ওই মে টাকে অনেক ভালোবেসেছ, আমাকে কেন বাসোনা? ”
” ভাতিজি, ভাগ্নি সবাই মেয়ের মতো হয় কিন্তু মেয়ে কেও হয়না। ওই ছুড়িটা আমার মেয়ে ছিল। ”
” আমি কে? ”
” হবি কোনো বাঙ্গি ক্ষেতের মূলা ”
সিয়েরা সামিরের জবাবে সন্তুষ্ট হয়না। গাল ফুলিয়ে চলে যায়৷ সিভান বলে,,
” এ কাকা, আমার না হেবি জ্বলছে! ”
” কেন? ”
” তুমি ওই ছুড়ি কে এতই ভালোবাসলে যেন…. ”
” যেন ও আমারই মেয়ে । তুইকি খেয়াল করেছিস সিভু? সামহা একদম আমার মতো দেখতে। একদম নব্বই শতাংশ মিলে যায় ”
” ছুড়ি তো ফর্সা দেখলাম। ”
সামির আর কিছুই বলে না। মাহবুব উদ্দিন ও ফর্সা। ফারনাজ নামের মেয়ে টাও ফর্সা৷ সিভান পরিস্থিতি বুঝে কথা ঘুরিয়ে নিলো। সামির ও আর সে কথা তুললো না।
মাহবুব উদ্দিন আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল ঠিক করছিল। হাতের ঘড়িটা খুলে টেবিলে রাখলো। আবারো আয়নায় চোখ দিতে নজর পরল লামু তার দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন একটু অদ্ভুত লাগলো। সহসা জিজ্ঞেস করল,,
“ওভাবে কি দেখছো? ”
“আপনিতো দারুণ মিথ্যা কথা বলতে পারেন ”
“কিসের মিথ্যা ? ”
“কি সুন্দর পাওয়ার দিয়ে বললেন, সামহা আপনার মেয়ে , বোঝাই গেলনা মিথ্যে কথা ”
“কোথায় মিথ্যে ? সামহা তো আমার মেয়ের মতোই৷ ”
“সেটা মানলাম তবে,, বউ দাবি করছিলেন কিভাবে? ”
“সেটাও মিথ্যে কথা না। ”
“কিভাবে? ”
“ওখানে কে ছিল? ”
“আমি ”
“তো আমার বউ কে? ”
“আমি ”
“তো আমি বউ কাকে বলেছিলাম? ”
“আমাকেএ….. ওহ ”
লামু হুট করে চুপ করে বসে রইল। কথা তো ঠিকি। মিথ্যে বলতেতো খুব একটা সমস্যা হয়নি। আর ওটাকে মিথ্যা বলেওনা হয়তো। মাহবুব উদ্দিন, লামুর কাছে এগিয়ে গেল। হুট করে লামুর ঘাড়ে মাথা রেখে বলল,,,
” ক্লান্ত লাগছে। অনেক চাপ গেছে আজ। এদিকের ঝামেলা , ওদিকের মারামারি কাটাকাটি মিছিল মিটিং আর ভালো লাগতেছেনা। ”
“চাকরি ছেড়ে দিন ”
” চাকরি ছেড়ে দিলে বউ থাকবে? ”
” আপনার চাকরি থাক বা না থাক। আপনার বউ সবসময় আপনার সাথেই থাকবে,, ”
“শোনো,, ”
” বলুন? ”
“পরের বাচ্চাকে নিজের বলে এখন আমার লোভ হচ্ছে ”
লামু ভরকে যায় । আবার লোভ হচ্ছে মানে টা কি? মাহবুব ঠিক কি বোঝাতে চায়!
“ওভাবে কি দেখছ? ”
“কিসের লোভ বলুন তো আগে? ”
” আরেএ ইয়ে মানে… দেখলেনা সামহা কি করে সামির সিকান্দার কে আব্বু বলে ডাকছিল”
“হুমম, আমার খুব খারাপ লাগছিল ভাইজানের জন্য৷ কিন্তু সেটার সাথে লোভের কি কানেকশন? ”
” আমার ওই ডাকটার ওপরে লোভ হচ্ছে মানে আমাকে আব্বু বলে ডাকবে এমন একজন চাই আমারো। ”
“এহেম আব… ম.. মানে? ”
“খাঁটি বাংলায় বললে, আমার একটা বাচ্চা চাই ”
লামু লজ্জায় লাল হয়ে গেল , কিসব বকছে লোকটা মাথা বোধহয় গেছে ওনার। কখনো একসাথে দুদন্ড স্হির হয়ে বসে গল্প করেনা পর্যন্ত তার আবার দাবি বাচ্চা চাই! যত্তসব!
সামির পরেরদিন ভার্সিটি গিয়ে বুঝতে পারে আসলেই পরিস্হিতি গরম। জনতার মধ্যে আপাতত তাদের বিপক্ষে কিছু বলা মানেই কোব খাওয়া । সামিরকে বরাবরই সবাই যথেষ্ট ভয় পায়।
তবে সামির চলতি টপিক নিয়ে কোনো কথা বলেনি৷। চুপচাপ নিজের ক্লাস নিয়ে বেরিয়ে গেছে।
কিন্তু হাঁটতে চলতে ফিরতে শিমুল গাছটার দিকে তাকালে শুধু বারবার মনে পরে ওই বাচ্চাটার কথা যাকে ভুলতে চেয়েও ভুলতে পারছেনা। দুদিনও পার হয়নি। সামিরকে আবারো ড্রাগস পাচারের জন্য পাঠিয়েছে সাফিন৷ সামির তার কাজ ঠিকঠাক মতই করেছে।
কালকুঠুরি পর্ব ৫৭
ফেরত পথে ভার্সিটি পরেছিল। খেয়াল এআসে, ছাত্র জনতা এখনো সজাগ। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে কোথায় কেমন ঝামেলা হবে। না চাইতেও সামির শুনলো। তাদের বক্তব্য সাফিন সিকান্দার তাদের শুভাকাঙ্খী । আর যাই হোক তার কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া যাবে না৷
সামির বাঁকা করে একটু হাসলো । যাওয়ার পথে ফিসফিসিয়ে বললোো,,
” হাহ,, ইঁদুর বলছে বেড়াল আমাকে খাবেনা। সাবাশ বলা! “”
