খান সাহেব পর্ব ৭৯ (২)
সুমাইয়া জাহান
ভোরের আলো এখনো পুরোপুরি ফুটেনি। জানালার ফাঁক গলে হালকা আলো এসে পড়ছে ঘরের ভেতর। আবছা অন্ধকারে ঘরের পর্দাগুলো দুলছে হালকা বাতাসে।
বিছানায় সুমু এখনো ঘুমিয়ে—তার নিঃশ্বাস ধীরে পড়ছে। পাশে শুয়ে আছে ছোট্ট সিমরান, আর একপাশে শেরান, মায়ের বাহু আঁকড়ে। দু’জনের মুখে শান্তির ঘুম।
ওদিকে রুমের কোণে দাঁড়িয়ে শেরাজ ওয়ার্কআউট করছে—উন্মুক্ত বুক, ঘামে ভেজা শরীর, নিঃশব্দে কেবল শ্বাসের ওঠানামা আর ডাম্বেলের ঠকঠক শব্দ। প্রতিটি মুভমেন্টে তার শরীরের পেশি টানটান হয়ে উঠছে, তবুও তার চোখ মাঝেমাঝে ঘুরে যাচ্ছে বিছানার দিকে—সুমুর শান্ত মুখের দিকে। মুখে এক ফোঁটা হাসি ফুটে উঠল শেরাজের। সে আস্তে বলল,
“আমার সকল শক্তির কারণ যদি কেউ হয়—তবে সে তুমি, সুইটহার্ট।”
তারপর আবার ডাম্বেল তোলায় মন দিল। হঠাৎ ঠকঠক শব্দে সুমুর ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে তাকাতেই আধো আলোয় শেরাজকে দেখতে পেল — ঘামে ভেজা শরীর, গম্ভীর মুখে মনোযোগ দিয়ে ওয়ার্কআউট করছে।
সুমু আধো ঘুমে চোখ পিটপিট করে উঠে বসল। তার লম্বা চুল এলোমেলো হয়ে মুখের পাশে এসে পড়েছে। ঘুমঘুম কণ্ঠে বলল,
“খান সাহেব, এত সকালে এইসব শব্দ না করলে হয়না?”
শেরাজ থেমে তাকাল, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি,
“সুইটহার্ট, ভোর মানেই তো এনার্জি। তুমি তো জানো, আমি দিনের শুরুটা ওয়ার্কআউট দিয়ে শুরু করতে পছন্দ করি।”
সুমু বালিশে মুখ গুঁজে বলল,
“আপনার শক্তির দরকার হলে কফি খান। আমি ঘুমাতে চাই…”
শেরাজ হালকা হাসল, টাওয়েল দিয়ে কপালের ঘাম মুছে এসে বিছানার পাশে বসল। এক ঝটকায় সুমুর চুল সরিয়ে তার কানে ফিসফিস করে বলল,
“তুমি ঘুমাও। আমি আর বিরক্ত করব না”
সুমু চোখ না খুলেই মিষ্টি হেসে বলল,
“আপনি আমার সবচেয়ে সুন্দর আর কিউট ডিস্টার্ব, খান সাহেব।”
শেরাজ হালকা হাসল। সে টাওয়েলটা কাঁধে থেকে রেখে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ঘামভেজা শরীরের প্রতিটি পেশি যেন আরও ফুলে উঠেছে। তার ভেইনি হ্যান্ডসের প্রতিটা শিরা ফুলে আছে। আয়নার দিকে তাকিয়ে সে হালকা হেসে হাত দুটো শক্ত করে ফ্লেক্স করল। এরপর একে একে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নিজের বডির ভিডিও করতে লাগল — যেন নিজের শৃঙ্খলা আর পরিশ্রমের প্রতিফলন ক্যামেরায় বন্দি করছে।
সুমু আধো ঘুমে চোখ খুলে সেই দৃশ্য দেখছে। তার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। ধীরে বলল,
“আপনি কি আবার নিজের প্রেমে পড়েছেন, খান সাহেব?”
শেরাজ আয়নার দিকে তাকিয়ে ফোন নামিয়ে হেসে বলল,
“না, সুইটহার্ট! আমি শুধু চেক করছি, আমার মিসেস খানকে মুগ্ধ করার মতো ফিট আছি কিনা।”
সুমু বালিশে মুখ লুকিয়ে হাসল,
“আপনি না, একদম পাগল।”
শেরাজ ফোন রেখে তার দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“তোমার জন্যই তো পাগল, সুইটহার্ট। আপাতত এসো একটা ভিডিও মেক করি।”
সুমু ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে উঠল,
“ভিডিও? এই সকালবেলা? আপনি কি পাগল হলেন?”
শেরাজ হেসে মাথা নেড়ে বলল,
“সেটা তো কবেই হয়েছি।”
সুমু মুখে বালিশ চেপে হেসে ফেলল,
“আমি এভাবে ভিডিও করব না, একদম না।”
শেরাজ ক্যামেরা অন করে বলল,
“তুমি না বললেই বা কী হবে, সুইটহার্ট? তুমি জানো তো, তোমাকে ছাড়া কোনো দৃশ্য সম্পূর্ণ হয় না।”
সুমু চাদর টেনে মাথা ঢেকে ফেলল,
“না মানে! আমি এখনো ঠিকমতো চুলে চিরুনীও করিনি। পাগলের মতো লাগছে আমাকে। আমি করব না।”
“এসো! তোমাকে ফেস দেখাতে হবেনা।”
“বললাম তো করব না। আপনি একা একা করুন।”
শেরাজ আয়নার সামনে চলে এল। সুমু মাথা বের করে দেখল। শেরাজ আবারও ভিডিও করছে। সুমু উঠে গিয়ে শেরাজের পেছন থেকে তার বুকের হাত রাখল। শেরাজের ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। সে আয়নাতে ক্যামেরা ধরে রাখল। সুমু আলতো হাতে শেরাজের বুকে নখ বসিয়ে দিয়ে স্লাইড করে বলল,
“সকাল সকাল এভাবে বডি দেখাচ্ছেন কেন? আমি মোটেও ইন্টারেস্টেড না আপনার বডির ওপর। তার ওপর এখন তো আপনি দুই বাচ্চার বাবা হয়ে বুড়ো হয়ে গেছেন। বুড়োদের ওপর তো আমার এমনিতেও ইন্টারেস্ট আসবেনা।”
শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
“তো তোমারটা দেখাও, সুইটহার্ট। আমি কিন্তু সেই লেভেলের ইন্টারেস্টেড তোমার ওপর।”
সুমু কিছু বলতে নিতেই পেছন থেকে শেরানের কান্নার আওয়াজ এল। সুমু দৌড়ে গেল। শেরানের ডায়পার লিক হয়ে গেছে। সুমু দুজনকে বেবি ক্রিবে রেখে শেরাজের দিকে তাকিয়ে বলল,
“বাবুদের ডায়পার চেঞ্জ করতে হেল্প করবেন, আসুন।
শেরাজ ফোনটা রেখে টাওয়েলটা হাতে তুলে নিয়ে বলল,
করতে পারি! যদি রাতে তুমি আমার মুড বানাতে স্বেচ্ছায় হেল্প করো।
সুমু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“দুই বাচ্চার বাবা হয়েছেন, এবার তো একটু লজ্জাশরম পেতে শিখুন।”
শেরাজ এগিয়ে এসে শেরানকে কোলে তুলে নিয়ে বলল,
“লজ্জার পাওয়া তো সেদিনই ভুলে গিয়েছিলাম, যেদিন থেকে বাচ্চা প্রেসেসিংয়ের কাজ শুরু করেছিলাম।”
“নির্লজ্জ পুরুষ একটা!” দাঁতে দাঁত চেপে বলল সুমু।
শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
“নির্লজ্জ যখন বললে, এবার একটু নির্লজ্জ কাজও করতে দাও। নির্লজ্জতা না করে শুধু শুধু নির্লজ্জের উপাধি তো আমি মেনে নিব না, সুইটহার্ট।”
সুমু চোখ বড় বড় করে তাকাল,
“আপনার লজ্জা বলে কিছু নেই, তাই না?”
শেরাজ শেরানকে কোল থেকে নামিয়ে সযত্নে বেবি ক্রিবে রাখল। তারপর ধীরে ধীরে সুমুর দিকে এগিয়ে এলো। মুখে একচিলতে দুষ্টু হাসি।
“লজ্জা পাই শুধু তখনই, যখন তুমি আমার থেকে দূরে থাকো।”
সুমু দুই হাত বুকের কাছে তুলে পিছিয়ে গেল,
“না, না, এখন একদম এসব নয়। সকালে বাচ্চাদের সামনেই এসব কথা বলছেন। আপনি না, সত্যি একদম ইনসেন।”
শেরাজ হেসে এক পা এগিয়ে এল,
“ইনসেন না, সুইটহার্ট। ইন লাভ উইথ ইউ — সব সময়, সব মুহূর্তে।”
সুমু একচিলতে হেসে মুখ ফিরিয়ে নিল,
“আপনার ডায়ালগগুলো দিন দিন ড্রামা সিরিয়ালের মতো হয়ে যাচ্ছে।”
শেরাজ কাছে এসে তার কানের পাশে ফিসফিস করে বলল,
“ড্রামা নয়, রিয়েল লাইফ লাভ স্টোরি, সুইটহার্ট। আর তুমিই আমার হিরোইন।”
সুমু কিছু বলার আগেই, পাশের ক্রিব থেকে সিমরান হালকা শব্দ কেঁদে উঠল। সুমু দৌড়ে গিয়ে মেয়েটাকে কোলে তুলে নিল,
“আল্লাহ! দু’জনেই এখন একসাথে জেগে গেছে।”
শেরাজ হেসে বলল,
“ওদের সামলাও। আমি বরং তোমার জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে আসি — এক্সট্রা স্ট্রং, যেন সারাদিন আমার মতো এনার্জি থাকে।”
সুমু মাথা নেড়ে হেসে ফেলল,
“না, আমার শুধু একটু শান্তি চাই, খান সাহেব। আর একটু ঘুম।”
শেরাজ সুমুর কপালে আলতো চুমু খেয়ে বলল,
“ঘুমের দরকার নেই, সুইটহার্ট। তোমার এই অবসন্ন চেহারাটা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিস।”
সুমু চোখ নামিয়ে বলল,
“এসব কথা শুনে বারবার আপনার প্রেমে পড়ে যাই।”
শেরাজ হাসল,
“তো পড়ে যাও না। আমি তো প্রতিদিনই তোমার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি, সুইটহার্ট।”
শেরাজের ফোন হঠাৎ বেজে উঠল। স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে “স্যান্ডি” নামটি। সে দ্রুত কল রিসিভ করে এয়ারপডস কানেক্ট করে বেলকনিতে চলে গেল, আর সুমু বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
প্রায় পাঁচ মিনিট পর শেরাজ ফিরে এল। সুমু তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“কী হয়েছে? হঠাৎ চুপচাপ কেন?”
শেরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“সাতটা আফগানের কোচি আফগান ক্লাসিক বা চারমদার যেটাকে বলে, এই ড্রেস এসেছে। আপাতত এই ড্রেসগুলোর ভিডিও শুটের জন্য ভালো মডেল লাগবে। সান, যেসব মডেল দেখিয়েছে, একটাও এই শুটের জন্য পারফেক্ট নয়।”
সুমু হালকা স্বরে বলল,
“আরে চিন্তা করবেন না। মডেলের অভাব নেই। পেয়ে যাবেন।”
শেরাজ সুমুর দিকে তাকাল। সুমু কাজ করতে করতে শেরাজের দৃষ্টি অনুভব করল। ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কী? ওভাবে কী দেখছেন?”
শেরাজ নরম কণ্ঠে একটু টেনে বলল,
“সুইটহার্ট…”
সুমু সরাসরি চোখে চোখ রাখল,
“দেখুন খান সাহেব, একদম না। আমি এখন এসব পারব না।”
শেরাজ ধীরে হেসে বলল,
“আমার জন্য তোমার থেকে ভালো মডেল আর কে হবে, সুইটহার্ট।”
সুমু বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি এখন এই কাজে যেতে পারব না, খান সাহেব। বাচ্চাদের জন্য আমার সময় দরকার।”
শেরাজ ধীরে এগিয়ে এসে বসে সুমুর হাত ধরে বলল,
“সুইটহার্ট, আমি জানি তুমি বাচ্চাদের জন্য যত্নশীল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবেনা। ওদের জন্য ওদের তো পাপা আছে।”
সুমু কিছুটা চুপ। শেরাজ আরও এগিয়ে বলল,
“আরও ভালো লাগার কথা হলো, ইনায়া, নাতাশা, ইশিতা—তারা সবাই থাকবে। আর শুট হবে পুরোপুরি আমাদের বাড়ির ভেতরে আর বাড়ির সামন। সারবাজ শুটের সব ব্যবস্থা করবে।”
সুমু শ্বাস ফেলে মাথা নাড়ল। শেরাজ আলতো হেসে সুমুর কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। তার ফোনে আবারও টুং করে শব্দ হলো। শেরাজ মেসেজ চেক করে বলল,
“এই দেখো, ড্রেসগুলো। দুটো ফিরোজা কালার (টারকোয়েজ), একটা রেড, একটা ইয়োলো, একটা গ্রিন, একটা হোয়াইট অ্যান্ড গ্রিন কম্বিনেশন, আর এইটা ব্ল্যাক, হোয়াইট, গ্রিন, পিংক, কম্বিনেশনে। এখানের প্রতিটা ড্রেসই বিভিন্ন রঙের কম্বিনেশনে। বাট যেসব কালারগুলো বেশি হাইলাইট করা, আমি ঠিক সেই কালারগুলোর কথা বললাম।”
“হুম! ড্রেসগুলো অসম্ভব সুন্দর। বিশেষ করে এই ফিরোজ কালারের ড্রেসটা। একদম প্রেমে পড়ে যাবার মতো।”
“তোমার লাগবে?”
“না!”
“ঠিক আছে, এনে দিব।”
“চাইনা তো!”
“আমার চাই।”
সুমু আলতো হাসল। শেরাজ তাকে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে বলল,
“আমার বউজানটা। আমার বাবুদের আম্মুটা।”
সুমু শেরাজ বুকের মধ্যে মিশে রইল। এখানেই যেন দুনিয়ার সব শান্তি মেলে তার।
বিকালে শুট শুরু হলো। সকলে গার্ডেনে উপস্থিত। শেরাজ সিমরানকে কোলে নিয়ে বসে আছে। সে আর রাজকন্যার সাথে কথার ভান্ডার খুলে বসেছে। অপরদিকে, শেরান ইনায়ার কোলে। সেও যে শেরানের সাথে কথা বলাতে ব্যস্ত আছে।
ইশিতা আর নাতাশা সুমুকে তৈরি করে গার্ডনে নিয়ে এলো। তাকে প্রথমেই ফিরোজা রঙের কোচি আফগান ক্লাসিক ড্রেসটা পরানো হয়েছে। তার সাথে ম্যাচিং অর্নামেন্টস আর ফিরোজা এবং হোয়াইট রঙের ফুলের একটা বুকে তার হাতে দেওয়া হয়েছে। শেরাজ সুমুকে দেখে যেন একমুহূর্তের জন্য থমকাল। কোলের মধ্যে সিমরান নড়ে উঠতেই তার নজর আবারও সিমরানের দিকে গেল।
সারবাজ ক্যামেরা ঠিকঠাক করে বলল,
“সুমু, শুরু করা যাক। প্রথম শুট হবে, এই বাড়ির সামনে। তুমি গেট খুলে ভেতরে যাবে। হালকা ঘুরতে তারপর একদম গিয়ে এই ফুলটার কাছে এসে ফুলে টাচ করবে। ওকে?”
সুমু মাথা নাড়ল। সকলে প্রস্তুত হলো। ভিডিও শুট শুরু হলো। সারবাজ প্রতিটা ক্লিপ নিয়ে আবারও সুমুর কাছে গিয়ে বলল,
“সেকেন্ড শুট হলো, তুমি সিঁড়ি দিয়ে তিন ধাপ ওপরে গিয়ে দাঁড়াবে, তারপর ফুলগুলো উঁচু করবে, হালকা ঘুরবে, তারপর আবারও দু’ধাপ নিচে নেমে গিয়ে বসে পড়বে। তোমার ওড়না মেলে ধরবে। কখনও ওড়নাটা কাঁধে ফেলবে।”
সুমু সারবাজের নির্দেশ মতো সব করল। সারবাজ আবারও এগিয়ে এসে বলল,
“এবার পুলের কাছে গিয়ে বসো। হাতে কলসিটা নাও।”
সুমু পুলের কাছে গেল। সারবাজ তার ভিডিও শুট করল। একে একে সে সাতটি ড্রেসেই সুমুর শুট করল। শুটের মাঝে সুমু অনেকবার ব্রেক নেওয়াতে রাত হলো তার শুট শেষ করতে।
সুমু রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিল। সিমরান আর শেরান এখন ঘুমিয়ে। আজ তারা দুজন তাদের পাপাকে প্রচণ্ড বিরক্ত করেছে। শেরাজও শুয়ে আছে ওদের সাথে। সুমু ফ্রেশ হয়ে বাহিরে বেরিয়ে এল। সে এসে বাচ্চাদের আদর করে শেরাজের পাশে গিয়ে বসল। শেরাজ বালিশ থেকে উঠে এসে সুমুর কোমর জড়িয়ে ধরে তার কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল।
রাতের আকাশে আজ মেঘ জমেছে। রায়য়ান আর আরিয়ান আজ একসাথে রাস্তা বেরিয়েছে, দুজনের হাতে ওয়াইনের বোতল। বাতাসে মৃদু শীত, আর ল্যাম্পপোস্টের নরম আলো তাদের ছায়ায় খেলছে। কখনো কখনো তারা হেসে ওঠে, আর কখনো দৃষ্টির কোণ থেকে চুপচাপ একে অপরকে তীক্ষ্ণভাবে দেখছে। রাস্তার ধারে শোভাবর্ধক গাছগুলো বাতাসে দুলছে, যেন তাদের মধ্যে রহস্যময় কিছু বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
রায়য়ান গাড়ি ড্রাইভ করছে, আরিয়ান তার পাশে দেবদাসের মতো বসে আছে। চোখের কোণে হালকা দুঃখ, আর মুখে অর্ধেক হাসি। মাঝেমাঝে সে আঙুল দিয়ে বোতল ঘুরাচ্ছে।
গাড়ি এসে থামল বারের সামনে। বারের ভেতরের হালকা আলো বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে, আর কাঁচের জানালা দিয়ে ভেতরের জমকালো পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। রায়য়ান গাড়ি থেকে নামল। কিন্তু আরিয়ান এখনও বসে আছে, চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রায়য়ান আরিয়ানের পাশের দরজা খুলে দিয়ে হেসে বলল,
“নাম! চলে এসেছি।”
আরিয়ান ধীরে চোখ মেলল, মাথা কাত করে বলল,
“হুম, ঠিক আছে।”
আরিয়ান গাড়ি থেকে নামল। দুজন ধীরে ধীরে বারের ভেতরে ঢুকল। ভেতরের আলো আর গানের শব্দে মেতে আছে সবাই। রায়য়ান আরিয়ানকে নিয়ে বার কাউন্টারে চলে গেল। সেখানে রায়য়ানের দুই ডান হাত আর বাম হাত রুদ্র আর মাহিন এক সঙ্গে কিছু জঘন্যতম পরিকল্পনায় ব্যস্ত। আরিয়ান আর রায়য়ান এসে বসল তাদের সামনে। রায়য়ান ঠোঁটের মাঝখানে একটা সিগারেট রেখে আগুন ধরিয়ে বলল,
“কি করতে হবে জানিস তো?”
মাহিন রোবটের মতো করে বলল,
“ইয়েস বস!”
রায়য়ান ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টেনে বলল,
খান সাহেব পর্ব ৭৯
“আকিকার দিন অনেক লোকজন থাকবে ওদের বাড়িতে। কাজটা সাবধানে করা চাই। যেভাবেই হোক শেরাজের বাচ্চা দুটোকে নিয়ে আসবি। এস.কে, কী কম ছিল আমাদের জন্য। আবার একটা না, পুরো দুটো বীজ এসে হাজির হয়েছে। এস.কের বীজ দুনিয়াতে থাকুক আমি চাইনা। এসব করলে, সুহাসিনী কষ্ট পাবে আমি জানি। কিন্তু এখন কিছু করার নেই। আগে এস.কে’কে শেষ করার মাধ্যম একটাই ছিল, আর সেটা হলো সুহাসিনী। যেটা আমাদের পক্ষে মরে গেলেও সম্ভব না। এস.কে’কে শেষ করার জন্য সুহাসিনীর ক্ষতি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু এবার…এবার এস.কে’কে শেষ করার জন্য অন্য আরও দুটো মাধ্যম এসেছে। ওর বাচ্চাদের কিছু হলে, ও এমনিতেই অর্ধেক শেষ হয়ে যাবে। আর ও অর্ধেক শেষ হলে, বাকি অর্ধেক আমারই ওকে সহজে শেষ করতে পারব। আর তাই এই কাজটা তোদের করতেই হবে। যদি কাজটা না করতে পারিস, তাহলে তোরা নামক বীজ দুনিয়াতে থাকবি না।”
