Home খান সাহেব খান সাহেব পর্ব ৮৩ (২)

খান সাহেব পর্ব ৮৩ (২)

খান সাহেব পর্ব ৮৩ (২)
সুমাইয়া জাহান

হলরুমের অন্ধকার গলিপথ পেরিয়ে শেরাজ লিভিং রুমে এলো, তার বুটের নিচে রক্তের দাগ প্রতিটা পদক্ষেপে রক্তের ছাপ ফেলে দিল। লিভিং রুমের ভারী নিস্তব্ধতা যেন হঠাৎ জমাট বেঁধে গেল—একদিকে মৃত্যু, অন্যদিকে জীবনের সবচেয়ে আপন ডাক।
সুমু দাঁড়িয়ে দরজার ঠিক পাশে। তার গায়ের ওড়নাটা কাঁধ থেকে নেমে এসে মাটিতে ছুঁই ছুঁই করছে, কিন্তু সে টেরই পায়নি, যেন চোখ দুটো ছাড়া তার আর কোনো অস্তিত্ব নেই তার।

শেরাজ এসে থামল। সে একদম স্থির, যেন কেউ তার বুকের ভেতর জ্বলতে থাকা আগুনে হঠাৎ ঠাণ্ডা জল ঢেলে দিয়েছে। তার দৃষ্টি সুমুর চোখের সঙ্গে মিলতেই ভেতরের অমানুষিক রক্তপিপাসা এক নিমিষে নিস্তেজ হয়ে এলো।
সুমু এক পা এগিয়ে এলো। তার ঠোঁট কাঁপছে, নিঃশ্বাস ভাঙা ভাঙা—যেন কত যুগ পর সে তার ভালোবাসার মানুষটিকে সামনে পেয়েছে, অথচ বলতে ভুলে গেছে প্রথম কোন শব্দে তাকে ডাকবে।
শেরাজ ধীরে তার দিকে হাঁটতে শুরু করল। প্রতি পদক্ষেপ যেন দেয়াল জুড়ে বাজতে থাকা একটা অস্থির গর্জন, আর একটা অদম্য আকর্ষণের কোনো গোপন প্রতিধ্বনি। দু’জনের মাঝে দূরত্বটা খুবই কম। তবুও সুমুর মনে হচ্ছে, শেরাজ যেন শত যুদ্ধ পেরিয়ে, হাজার মৃত্যুকে হারিয়ে তার কাছে ফিরছে। শেরাজের একদম কাছে এসে থামল সুমু। শেরাজের রক্তমাখা হাত দুটো তার চোখের সামনে, কিন্তু চোখ দুটিতে এমন এক নরম, অনুচ্চারিত আকুতি, যা সুমুর মনকে কাঁদিয়ে তুলছে।
সুমু ধীরে হাত বাড়ালো—একটুও স্পর্শ না করে, শুধু শেরাজের মুখের ওপর ভাসিয়ে রাখল। সে যেন নিজের চোখ দিয়ে প্রশ্ন করল,

“আপনি কি ঠিক আছেন?”
শেরাজ নিঃশব্দে মাথা নিচু করল। তার রক্তমাখা নিঃশ্বাস সুমুর কাঁধ ছুঁয়ে গেল। এক মুহূর্তের জন্য তাদের পৃথিবী থেমে গেল। এখন যেন রক্ত, প্রতিশোধ, যুদ্ধ, এসব কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই।
শেরাজ হঠাৎ কোনো কথা ছাড়াই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে সুমুর চোখ আটকে ধরল। সুমু থতমত খেয়ে গেল,
“খান সাহেব, কি করছেন?”
শেরাজ কিছু না বলেই তাকে নিয়ে অন্ধকার হলরুমের দিকে পা বাড়াল। তারা হলরুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দূরে বাঁধা অবস্থায় থাকা আরিয়ান আর রায়য়ান তাদের পায়ের শব্দ শুনে নড়েচড়ে বসল। শেরাজ সুমুকে নিয়ে হলরুমের মাঝখানে এলো। সুমু নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল,

“খান সাহেব, আমাকে ছাড়ুন। কি করছেন আপনি এসব?”
শেরাজ তবুও নিরুত্তর। সে সুমুকে নিয়ে আরেকটু সামনে এসে দাঁড়াল। তাদের সামনে রাখা একটি সোনার খাঁচা। অন্ধকারের ভেতরেই শেরাজ খাঁচাটির দিকে তাকিয়ে রইল। সুমুর শ্বাস ধীরে গভীর হয়ে উঠল। সে বুঝতে পারছিল না শেরাজ তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কেন নিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ শেরাজ খাঁচার দরজা খুলে দিল। সোনার শিকগুলো হালকা শব্দে দুলে উঠে ভারী এক প্রতিধ্বনি পাঠাল চারদিকে। এক মুহূর্ত থেমে শেরাজ সুমুর চোখ ছেড়ে হাতটা ধরল। সুমু কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে সুমুকে খাঁচার ভেতরে ধীরে, কিন্তু নির্দয়ভাবে ঠেলে দিল। সুমু খাঁচার ভেতরে ঢুকে গেল। শেরাজ বাহির থেকে খাঁচার দরজায় তালা মেরে দিল।
সুমু অন্ধকারে চারপাশে হাতড়ে বুঝল—সে বন্দি হয়ে গেছে। শ্বাসটা যেন বাঁধা পড়ল গলায়। সামনে তাকাতেই ক্ষীণ আলোয় ভেসে উঠল আরিয়ান আর রায়য়ানের রক্তাক্ত দেহ, শক্ত করে বাঁধা অবস্থায়। ভয়ে কাঁপা কণ্ঠে সে বলল,

“খান সাহেব, আপনি এখানে এসব কী করছেন? ওদের এভাবে বেঁধে রেখেছেন কেন? ছেড়ে দিন ওদের। ফিরে চলুন আমার সঙ্গে।”
শেরাজ কোনো কথা না বলে নিঃশব্দে আরিয়ানদের দিকে এগিয়ে গেল। ভারী পায়ের শব্দ অন্ধকারের গায়ে লেগে অদ্ভুত প্রতিধ্বনি তুলল। সে গিয়ে রায়য়ান ও আরিয়ান—দুজনের সামনে বসল। দু’জনই চেষ্টা করছে সুমুকে দেখার, কিন্তু অন্ধকার যেন আজ প্রতিজ্ঞা করেছে—তাদের ওই তৃষ্ণার্ত দুই চোখ আর কখনও সুমুকে দেখতে পারবে না।
শেরাজ তাদের দুজনের রক্তাক্ত, বিবশ মুখটার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বিদ্রূপে ভরা এক কঠিন হাসি হেসে উঠল।
“দেখো সুইটহার্ট, এই দুই ভাই অন্যের বউকে দেখার জন্য কীভাবে ছটফট করছে?”
সুমুর ভ্রু কুঁচকে উঠল। আরিয়ান এক ভ্রু তুলে জিজ্ঞেস করল,
“ভাই?”
শেরাজ হাসল—ঠাণ্ডা, ধারালো, ক্ষতচেরা এক হাসি।
“আরেহ্, তুই তো আসল কথাটা জানিসই না। চল আজ তোকে একটা গল্প শোনাই।”
আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। শেরাজ ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টেনে আরিয়ান আর রায়য়ানের অতীত বলতে শুরু করল,

“সে অনেক বছর আগের কথা বুঝলি, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সাফা আল মান্থারি নামের একজন ছোটখাটো মডেল ছিল। ছোটখাটো মডেল হলেও সৌন্দর্যে তিনি যেন আলোর জন্ম দিতেন। রূপে, আচরণে, অসাধারণ এক নারী ছিলেন। সাফা আল মান্থারি এবং মরিয়ম আল মান্থারি ছিলেন দুই বোন। ছোট থেকেই তাদের মা ছিল না—শুধু ধর্মপ্রাণ, বয়স্ক এক বাবা ছিল। সাধারণ পরিবারের এই দুই মেয়ে, স্বপ্ন আর টানাপোড়েনে বড় হওয়া। সাফা আল মান্থারি গোপনে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন খুব বড় অভিনেত্রী হবার স্বপ্ন নিয়ে। শরীয়তপ্রাণ বাবাকে তিনি ভয়ে বলতে পারেননি সেই কথা। কাজ করতে করতে একসময় তার পরিচয় হয় আফতাব চৌধুরীর সঙ্গে। আফতাব চৌধুরী তখন খুব নামি-দামি পরিচালক। সাফা আল মান্থারি ছিলেন রূপে মোহময়। কাজের সূত্রে তাদের কথাবার্তা শুরু হয়, তারপর ধীরে ধীরে অনুভূতি, এবং অবশেষে প্রেম। সেই প্রেমের ছয় মাস না যেতেই সাফা আল মান্থারি প্রেগন্যান্ট হন। তিনি খবরটা আফতাব চৌধুরীকে জানাতেই আফতাব চৌধুরী বলেন, ‘আমি কাল সকালে কোরিয়া যাচ্ছি শুটিংয়ে জন‍্য। তুমি একটু ম্যানেজ করো। ফিরে এসে আমি তোমাকে বিয়ে করব।’ সাফা আল মান্থারিও তার ভালোবাসার মানুষের কথায় বিশ্বাস করেছিলেন। অপেক্ষা করেছিলেনও, কিন্তু পৃথিবী তো জানে, অপেক্ষা সবচেয়ে বড় শাস্তি। এদিকে তার বয়স্ক বাবা, যিনি তারজীবনটা কঠোর নিয়ম-আদর্শে গড়ে তুলেছিলেন, তিনি সবকিছু জেনে ফেলেন। বড় মেয়ে—অবিবাহিত অবস্থায় প্রেগন্যান্ট, এটা তিনি মানতে পারেননি।‌ দোয়া আর কান্নায় ভেঙে পড়া মানুষটা সেদিন রাতেই স্ট্রোক করেন। আর তারপরের দিন সকালেই মারা গেলেন।”

শেরাজের কণ্ঠ থমকে গেল এই মুহূর্ত। পুরো হলরুম নিস্তব্ধ। রায়য়ান চেয়ারের সাথে মাথা হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে। আরিয়ান অবিশ্বাস্য চোখে শেরাজের দিকে তাকিয়ে আছে। ওদিকে, খাঁচার ভেতর বন্দি সুমুর যেন নিশ্চুপ। শেরাজ একে একে সকলের প্রতিক্রিয়া দেখল। সে সামান্য ঝুঁকে বসে আরিয়ান আর রায়য়ানের মুখের দিকে তাকাল। তার কণ্ঠ ধীরে, কিন্তু ছুরির মতো ধারালো হয়ে উঠল,
“ওদিকে, আফতাব চ‍ৌধুরী তখন কোরিয়াতে, আর সেখানে গিয়ে তিনি পরিচিত হন মৌ সেনের সঙ্গে। গ্ল‍্যামার, ক্যামেরার ঝলকানিতে এক উজ্জ্বল মুখের পেছনের ক্লান্ত এক নারীর গল্প—মৌ সেন। মৌ সেন তখন তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে। সৌন্দর্যে, খ্যাতিতে, আর অহংকারে— সবকিছুতেই পরিপূর্ণ। কোরিয়াতে গিয়ে শুট করতে করতে আফতাব চৌধুরী, মৌ সেনের প্রেমে এমনভাবে পড়ে গেলেন যে, সাফা আল মান্থারি কে, তার কি হয়, তাকে কোথায় রেখে এসেছেন— সব ভুলে গেলেন। আফতাব চৌধুরী আর মৌ সেন তাদের সম্পর্কটা নিয়ে এতটাই সিরিয়াস হয়ে পড়েন যে, তারা মানসিক সম্পর্কের সাথে সাথে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন— সেটাও একবার নয়, বারবার। আর তারপর যা হাবার তা হলো, মৌ সেনও প্রেগন্যান্ট হলেন। আফতাব চৌধুরী এবার আর পালালেন না। তিনি পরের ধাপে পা বাড়ালেন আর বিয়ে করে নিলেন মৌ সেনকে। তখন তার ঝকঝকে নতুন সংসার, নতুন স্ত্রী, নতুন জীবন, আর এদিকে?”

শেরাজের চোখ ফিরল অন্ধকারের দিকে,
“এদিকে সাফা আল মান্থারি বাবাকে হারিয়ে, নিজেকে দোষ দিতে দিতেই ভেঙে পড়ছিলেন। চোখের সামনে বাবার লাশকে শুয়ে থাকতে দেখে তিনি বাবার মৃত্যুর জন‍্য নিজেকে দায়ী করতে শুরু করলেন। দিন দিন তার শরীর শুকিয়ে যাচ্ছিল। মনটা ভেঙে গিয়েছিল আরও আগে। মরিয়ম আল মান্থারি সবসময় চেষ্টা করে গেছেন আফতাব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে। একবার নয়, দশবার নয়—অগণিত বার। কিন্তু আফতাব চৌধুরী তখন মৌ সেনের মোহে এতটাই ডুবে ছিলেন যে, মরিয়ম আল মান্থারির কথা তার কাছে পৌঁছানো তো দূরের কথা—তিনি ওমানেই ফিরলেন, নতুন বউকে নিয়ে। সাফা আল মান্থারির খবর নেওয়ার আর সময় হয়নি তার। এভাবেই কেটে গেল আরও কিছু‌ মাস। হঠাৎ এক ঝড়ো রাতে সাফা আল মান্থারির অবস্থা খারাপ হয়।”
শেরাজ ধীরে নিঃশ্বাস নিল। কিন্তু আরিয়ান আর রায়য়ান যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছে না।
“সেই রাতেই তার লেবার পেইন উঠল। মরিয়ম আল মান্থারির তখন এমন করুণ অবস্থা, যে তার কাছে টাকাপয়সা নেই এবং পাশে কেউ নেই। সাফা আল মান্থারিকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল না। তখন মরিয়ম আল মান্থারি অসুস্থ বোনকে রেখে রাতের অন্ধকারে দৌড়ে দৌড়ে একজন স্থানীয় গাইনি খুঁজে আনেন। অন্ধকার ঘরের মাঝখানে, ভাঙা শেলফ, মোমবাতির আলো আর ব্যথায় পাগল হয়ে যাওয়া এক নারী সেই রাতেই জন্ম দেয় এক পুত্র সন্তানের।”

আবারও এক মুহূর্ত থামল শেরাজ। একটু সময় নিয়ে সে ধীরে বলল,
“কিন্তু সাফা আল মান্থারি তখন এতটাই দুর্বল, যে তার শরীর, তার মন—দুটোই ক্ষয়ে গিয়েছিল। সন্তান জন্মানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই, তিনি ওই ছোট্ট প্রাণটাকে ছেড়ে চলে গেলেন।”
শেরাজ ধীরে শ্বাস নিল। তার কণ্ঠ আরও নিচু, আরও ভারী হয়ে উঠল,
“এরপর কেটে গেল এক মাস। সেই সময়টায়ও ছোট্ট শিশুটার কোনও নাম রাখা হয়নি। কারণ সাফা আল মান্থারি জীবিত থাকতে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার সন্তানকে নাম দেবে তার বাবা। শুধু তিনিই এই সন্তানের নাম রাখবেন।’ এ যেন ছিল তার শেষ স্বপ্ন, শেষ বিশ্বাস, যা ধরে রেখে মরিয়ম আল মান্থারির দিন কাটছিল।”
অন্ধকারে বাঁধা অবস্থায় রায়য়ানের মাথা নিচু হয়ে গেল। শেরাজ লক্ষ করল তার অবস্থা।
“একদিন, ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ওঠেনি, মরিয়ম আল মান্থারি তার বোনের সেই নামহীন শিশুটাকে কোলে নিয়ে আবার রওনা হন আফতাব চৌধুরীর বাড়ির দিকে। শীতের হাওয়া ছিল তীব্র, আর তার থেকেও ঠাণ্ডা ছিল মানুষের হৃদয়।”

শেরাজের চোখে ঘৃণা ভেসে উঠল।
“গেটের সামনে পৌঁছাতেই গার্ড তাকে থামিয়ে দিল। ভেতরে অচেনা কারও প্রবেশ নিষেধ। মরিয়ম আল মান্থারি সেদিন থামেননি। তিনি গেটের দু’চৌকাঠ আঁকড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললেন, ‘আফতাব ভাই, বের হন! আপনার সাথে আমার অনেক কথা আছে।’ বাড়িটা প্রথমে নীরব ছিল। সম্মানের ভয়, লোকচক্ষুর ভীতি—সব মিলিয়ে কিছুক্ষণ পরে দরজা খুলল। বেরিয়ে এলেন আফতাব চৌধুরী, আর তার গর্ভবতী স্ত্রী মৌ সেন। তারা এসে মরিয়ম আল মান্থারিকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। কিন্তু তাকে এমনভাবে ভেতরে নেওয়া হলো, যেন তিনি কোনও ভিক্ষুক,‌ কোনও অনাহূত বোঝা। ভেতরে বসানো হলো তাকে। আফতাব চৌধুরী তার সামনে টাকার বান্ডিল এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এগুলো নিয়ে চলে যান। আমার ওপর কোনও দাবি রাখবেন না।’ সেদিন মরিয়ম আন্টির মুখটা কেমন একটা হয়ে গিয়েছিল। রাগে, অপমানে, আর বোনের স্মৃতির আগুনে জ্বলতে থাকা এক নারীর মুখ ছিলেন সেদিন তিনি।”
সুমু নিঃশ্বাস আটকে শুনছিল। আরিয়ান এবং রায়য়ান দুজনেই কাঁপছিল—দুজনের কারণ আলাদা।

“মরিয়ম আল মান্থারি সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি এখানে ভিক্ষা নিতে আসিনি। টাকা নয়—আমার দরকার শুধু একটি নাম। এইটা আমার বোনের শেষ ইচ্ছা। ওর সন্তানের নাম আপনি রাখবেন, আর কেউ নয়।’ আফতাব চৌধুরী সেদিন সম্মানের ভয়ে, আর স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে খুব ঠাণ্ডাভাবে বললেন, ‘ঠিক আছে।’ তিনি শিশুটার দিকে তাকালেন না। কোলেও নিলেন না। শুধু নাম বললেন, ‘রায়য়ান চৌধুরী।’‌ এমনভাবে, যেন সেই নাম কোনও সন্তানের জন্য নয়—বরং একটা বোঝা থেকে মুক্তির সই।”
শেরাজের গলা আরেকটু ভারী হয়ে গেল।
“আর সেই দিনই মরিয়ম আল মান্থারি বুঝে গিয়েছিলেন, সাফা আল মান্থারির সন্তান বড় হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় শত্রু হবে, তার আফতাব চৌধুরী।”
শেরাজ ধীরে মাথা তুলল। তার চোখের দৃষ্টি যেন অতীতের অন্ধকার ভেদ করে গেল।

“এসব জানার পরে মৌ সেনের অন্তরেও প্রচণ্ড ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সে নিজের গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তানের কথা ভেবে প্রথমবার বুঝেছিল, যেই পুরুষটিকে তিনি ভালোবাসেন, সেই পুরুষই অন্য এক নারীর জীবন ধ্বংস করে এসেছে। আর ঠিক তখনই মৌ সেন সিদ্ধান্ত নিলেন—তিনি আর আফতাব চৌধুরীর সঙ্গে এক ছাদের নিচে জীবন কাটাবেন না। না স্ত্রী হিসেবে, না একজন মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে। আর তাই মৌ সেন আরিয়ানের জন্মের পর ছোট আরিয়ানকে আমার মমের কাছে রেখে ফিরে গেলেন কোরিয়ায়, তার নিজের জগতে, নিজের পরিচয়ে। এদিকে আফতাব চৌধুরী, তিনি হার মানার মতো মানুষ ছিলেন না। মৌ সেনের চলে যাওয়া, তার প্রতিশোধ, তার রাগ, তাকে অন্ধকারে ঠেলে দিল। মৌ সেন তাকে ছেড়ে চলে যাওয়াতে, তিনি ভাবলেন যাদের কারণে তার জীবন এমন বিপর্যস্ত হয়েছে, তাদের মুছে ফেললেই সমস্যার শেষ হবে। আর তাই, তিনি পরিকল্পনা করলেন রায়য়ানকে আর মরিয়ম আল মান্থারিকে মেরে ফেলবেন। হ্যাঁ, নিজের সন্তানের রক্ত চাইলেন তিনি, তার হাতেই।”
সুমুর দেহ কেঁপে উঠল। আরিয়ান স্তব্ধ। রায়য়ানের শ্বাস ওঠানামা করতে লাগল, যেন এসব তার কাছে পুরানো গল্প। শেরাজের গলা হঠাৎ শান্ত হয়ে গেল,

“কিন্তু, ওই যে কথায় আছে—’রাখে আল্লাহ তো মারে কে’। যে রাতে ওদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেই রাতেই ঘটল অলৌকিক কিছু, যেন অদৃশ্য কোনও হাত আগলে রাখল দু’জনকে। মরিয়ম আল মান্থারি রাস্তায় কারও সাহায্যে লুকানোর সুযোগ পেলেন, রায়য়ানকে কোলে নিয়ে পাগলের মতো দৌড়েছিলেন। তিনি জানেন না কোথায় যাচ্ছেন, জানেন না কে তাদের রক্ষা করছে। তবে সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন তারা দু’জনেই। এক চুলের জন্য। মাত্র এক নিঃশ্বাসের ব্যবধানে। আর সেই রাতেই মরিয়ম আল মান্থারি একটি বিষয় চিরতরে বুঝে গেলেন, ‘এই পৃথিবীতে তার বোনের সন্তানের জন্য কেউ নেই। আছেন শুধু তিনি, আর সেই নিয়তির সৃষ্টিকর্তা, যিনি রায়য়ানকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছেন।”

শেরাজ থামল। সুমুর চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। আরিয়ান বিকৃত মুখ করে বসে রইল। রায়য়ান যেন আজ নিশ্চুপ। জীবনের এই গল্পটা শুনলে তার শুধুই হাসি পায়। শেরাজ আবারও বলতে শুরু করল,
“জীবনের প্রতিটি মোড়ে ঝড় থেমে থাকেনি মরিয়ম আল মান্থারির জন্য—বরং ঝড়ই যেন তাকে আরও শক্ত, আরও দৃঢ় করে তুলেছে। আফতাব চৌধুরীর বিশ্বাসঘাতকতা, সাফা আল মান্থারিকে হারানোর শোক, রায়য়ানকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম—সব মিলিয়ে তার জীবনে যেন একটু শান্তির জায়গা বলতে কিছুই ছিল না। তবুও মানুষ তো আর পাথর নয়। অন্তর যতই ক্ষতবিক্ষত হোক, কোনো না কোনো মুহূর্তে একটা উষ্ণতার হাত ছুঁয়ে যায় হৃদয়ে। মরিয়ম আল মান্থারি সেই উষ্ণতার স্পর্শটাই একদিন পেয়েছিলেন। এক অবুঝ সন্ধ্যায় তিনি রায়য়ানকে নিয়ে বাজার থেকে ফিরছিলেন। হঠাৎ রাস্তার কোণে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিতেই তাকে বাঁচিয়ে দেন এক অচেনা পুরুষ। অপরিচিত হলেও লোকটির চোখে ছিল সম্মান, কথায় ছিল বিনয়, আর আচরণে ছিল বিরল এক সৌজন্য। দিন কেটে সপ্তাহ, সপ্তাহ কেটে মাস।

রায়য়ানের খোঁজ, মরিয়মের কাজে সাহায্য, অসুস্থ হলে খোঁজখবর—ধীরে ধীরে সেই মানুষটি হয়ে উঠলেন তাদের জীবনের নীরব আশ্রয়। মরিয়ম প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন—জীবনে এতো প্রতারণা দেখে আবার কারো ওপর বিশ্বাস রাখাটা যেন কঠিন। কিন্তু লোকটি কখনোই তার জীবনে জায়গা করে নিতে জোর করেনি, বরং নিঃশব্দে পাশে দাঁড়িয়েছে। একদিন সন্ধ্যায়, আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে দূর থেকে। মরিয়ম বসে রায়য়ানকে খেলতে দেখছিলেন। লোকটি সেদিন এসে নরম গলায় বলেছিলেন, ‘আপনার জীবনটা অনেক কষ্টের ছিল। কিন্তু আপনি জানেন? কষ্ট অনেক সময় মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় পৌঁছে দেয়। যদি অনুমতি দেন, আমি সেই সুন্দর জায়গাটার পথে আপনার সঙ্গ হতে চাই।’ মরিয়মের বুকের ভেতরটা সেদিন কেঁপে উঠেছিল। প্রথমবারের মতো একজন নারী হিসেবে তিনি নিজেকে সম্মানিত, নিরাপদ আর মূল্যবান মনে করেছিলেন। এভাবেই ধীরে ধীরে, নীরবে, দু’জন মানুষের মধ্যে ভয় পেরিয়ে ভালোবাসা জন্ম নিলো। আর একদিন, রায়য়ানের মাথায় হাত রেখে, সবার সামনে মরিয়ম আল মান্থারি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নিলেন। তিনি সেই মানুষটির হাত ধরে বিয়ে করলেন। কিন্তু ভাগ্য যেন মরিয়ম আল মান্থারির জীবনের প্রতি বারবারই নির্মম পরীক্ষা নিতে বদ্ধপরিকর। বিয়ের পর কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল—পরিবারের ছোট পরিসরে রায়য়ান, মরিয়ম আর তার স্বামী, যেন নীরব সন্ধ্যায় আলোর মতো ফুটে ওঠা ছোট্ট সুখী পরিবার। তারপর আলিশার জন্ম। এক নবজাতকের কান্নায় ঘর ভরে উঠল, অথচ সেই কান্নার সাথেই যেন অদৃশ্য অশান্তি ঢুকে পড়ল সংসারে।

আলিশা জন্মানোর পরই মরিয়ম বুঝতে শুরু করলেন— তার স্বামী বদলে যাচ্ছেন। তার চোখে অস্থিরতা, কথায় বিরক্তি, আর আচরণে এমন এক কঠোরতা ঝরে পড়ছে, যেটা মরিয়ম আগে কখনো দেখেননি। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিবর্তনটা ঘটলো রায়য়ানের প্রতি তার মনোভাব নিয়ে। এক সন্ধ্যায় তার স্বামী বললেন, ‘এই ছেলেটাকে আমি মেনে নিতে পারছি না, মরিয়ম। আমার নিজের সন্তান আছে। আমি আর কারো বাচ্চাকে বড় করতে পারব না।’ মরিয়ম যেন সেদিন কথাটা শুনে মুহূর্তেই পাথর হয়ে গেলেন। রায়য়ান তখন বারান্দায় বসে হেসে হেসে খেলছে—তার নিষ্পাপ মুখের কোনো ধারণাই নেই যে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়দের এমন নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত তৈরি হচ্ছে। কিছুদিন পর, আরও কঠিন ভাষায় তার স্বামী বললেন, ‘রায়য়ানকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে দাও। আমার পক্ষে দু’জন সন্তানকে বড় করা সম্ভব না। তুমি যদি ওকে অনাথ আশ্রমে না রেখে আসো, তাহলে আমি আর তোমার সাথে সংসার করব না।” মরিয়মের সেদিন মনে হলো, এক মুহূর্তে আবার যেন তার জীবন থেকে সব আলো কেড়ে নেওয়া হলো। যে সন্তানকে তিনি তার জীবনের চেয়েও বেশি আগলে রেখেছেন, সেই সন্তানকে ত্যাগ করবেন? কখনোই না। সেই রাতে মরিয়ম সিদ্ধান্ত নিলেন। আলিশাকে বুকে জড়িয়ে, ঘুমন্ত রায়য়ানের মাথায় হাত রেখে তিনি বুঝলেন, ‘একজন মা দুই সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে পারে, কিন্তু একজন মা কখনোই নিজের সংসারকে বাঁচানোর জন্য আরেক সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলতে পারে না। সকালের আলো ফোটার আগেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার স্বামীকে জানিয়ে দিলেন, ‘আমি কোনো অবস্থাতেই রায়য়ানকে ছেড়ে দেব না। যদি এটাই তোমার শর্ত হয়, তাহলে আমি এই সংসারেই থাকব না।’ তার স্বামী তখনো তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, হুমকি দিলেন, রাগ দেখালেন—কিন্তু মরিয়মের হৃদয় আর নড়লো না। এভাবেই তিনি স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুই সন্তান—রায়য়ান আর আলিশাকে নিয়ে আবারও শুরু করলেন নতুন এক যুদ্ধের পথ। কিন্তু তিনি জানতেন—যে পথই হোক, মাতৃত্বের আলোয় হাঁটলে অন্ধকার কখনো পুরোপুরি জিততে পারে না।”

শেরাজ ধীরে রায়য়ানের দিকে তাকাল।
“এভাবেই একজন অনাথ শিশু, ঘৃণা, অবহেলা, আর মৃত্যুসংকুল অতীতের ওপর পা রেখে বড় হলো আজকের রায়য়ান হয়ে।”
শেরাজের শেষ কথাগুলো যেন অন্ধকার হলরুমে ধাতব প্রতিধ্বনির মতো ছড়িয়ে রইল। সোনার খাঁচার ভেতর দাঁড়িয়ে সুমুর বুকের ওঠানামা স্পষ্ট—চোখে পানি, ঠোঁটে এমন এক কা‌ঁপা প্রশ্ন, যার উত্তর সে হয়তো শুনতে চাইছে না, তবুও শুনতে বাধ্য হচ্ছে। আরিয়ান নিজের রক্তমাখা মুখটা ঘুরিয়ে রাখল—তার চোখে রায়য়ানের জন‍্য ব্যথা স্পষ্ট। রায়য়ান সম্পূর্ণ নিশ্চুপ—যেন আঘাত, ইতিহাস, বিশ্বাসঘাতকতা—সবই সে বহুবার শুনেছে, বহুবার সয়েছে, তাই আজ নতুন করে শুনে তার কোনো অনুভূত হচ্ছে না। শেরাজ ধীরে ধীরে নেমে গেল অন্ধকারের আরও গভীরে।
“যে সন্তান জন্মের দিন থেকেই যুদ্ধ শিখে ফেলে, তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারে না।”
সে তাকাল রায়য়ানের দিকে। রায়য়ানের স্থির দৃষ্টি। সেখানে কোনো আবেগ নেই। কোনো কাঁপুনিও নেই। শেরাজ আবার বলল,

“রায়য়ান বড় হতে হতে শিখেছে, কাউকে বিশ্বাস করা পাপ। কাউকে আপন করা দুর্বলতা। আর নিজের হৃদয়ের ওপর কারো হাত রাখতে দেওয়া—সেটা মৃত্যুর ডাক।”
শেরাজের ঠোঁটের কোণে কেমন এক তিক্ত হাসি খেলে গেল।
“মরিময় আল মান্থারি চেষ্টা করেছিলেন ওকে স্বাভাবিকভাবে বড় করতে। কিন্তু জীবনটা স্বাভাবিক ছিল না—তাই রায়য়ানও স্বাভাবিক হতে পারেনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে অন্য রকম হয়ে উঠল। চোখের ভেতর আলো কমে অন্ধকার বাড়তে লাগল। যে বয়সে বাচ্চারা খেলনা বন্দুক নিয়ে খেলে, সে বয়সে রায়য়ান আসল বন্দুকের শব্দে ঘুম ভাঙতে শিখল। যে বয়সে বাচ্চারা বন্ধু বানায়, সে বয়সে সে মানুষের মুখের বিশ্বাসঘাতকতা পড়তে শিখল। আর যে বয়সে ছেলেরা প্রথমবার কাউকে ভালোবাসতে শেখে, সেই বয়সে রায়য়ান মানুষের প্রতি ঘৃণা করতে শিখল।”
শেরাজ থামল। তার পরের কথাগুলো যেন বিশেষভাবে আরিয়ানের উদ্দেশে,
“একসময় মরিয়ম আল মান্থারি বুঝলেন, রায়য়ানকে নরম শিক্ষা দিয়ে বাঁচানো যাবে না, রায়য়ানকে শক্ত হতে শেখাতে হবে। যেভাবে এই নিষ্ঠুর পৃথিবী তাকে মারতে চেয়েছিল, ঠিক উল্টোভাবে— পৃথিবীকে হারাতে শেখাতে হবে।”

সে রায়য়ানের দিকে তাকাল। রায়য়ানও মাথা একটু হেলিয়ে তাকালো—দৃষ্টি দু’জনের মিলল, তবুও সেখানে কোনো উষ্ণতা নেই, শুধু এক অদ্ভুত সম্মতি।
“এরপর”, শেরাজের কণ্ঠ আরও গভীর হলো,
“একদিন রায়য়ান সিদ্ধান্ত নিল—সে শুধু নিজের অতীতকে পেছনে ফেলবে না, যারা তার মাকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের মুখোমুখিও দাঁড়াবে।”
আরিয়ান চোখ বন্ধ করল। হলরুমের অন্ধকার যেন আরও ঘন হয়ে উঠল।

“এভাবেই”, শেরাজ ধীরে ধীরে শেষ বাক্যগুলো উচ্চারণ করল, “একজন অবহেলিত, অনাথ, ছিন্নমূল শিশু, নিজের অতীতকে ঢাল বানিয়ে, পৃথিবীর অন্ধকারকে অস্ত্র বানিয়ে, বড় হলো আজকের—রায়য়ান চৌধুরী হয়ে। যার কারও ভালোবাসা লাগে না। কারও ক্ষমা লাগে না। কাউকে ভয়ও করে না। সে একেরপর এক খুন করতে লাগল। বিশেষ করে বিয়ের আগে যেসব ছেলে-মেয়েরা ফিজিক্যাল রিলেশনে জড়াতো, রায়য়ান সেসব ছেলে-মেয়েদের খুন করে দুনিয়া থেকে তাদের মুছে দিত, যাতে দুনিয়াতে ওর মতো অবৈধভাবে আর কোনো সন্তানের জন্ম না হয়।”
শেরাজ একটু থেমে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,

খান সাহেব পর্ব ৮৩

“এবং রায়য়ান এইটাও ভেবে নিল, যে সে আফতাব চৌধুরীর জীবনে শান্তি আসতে দিবেনা। এইজন্যই ওর তোর সাথে বন্ধুত্ব করল। তোর নষ্ট হবার পেছনে তো রায়য়ানের ভূমিকা অপরিসীম। ও কখনও চায়নি তুই আফতাব চৌধুরীর যোগ্য সন্তান হোস। এরজন‍্যই ও তোকে গ‍্যঙ্গস্টার বানালো। তুই যাতে বিগড়ে যাস, তার জন‍্য যা যা করা লাগে সব করল রায়য়ান। ইভেন, আমার থেকে সুমুকে কেড়ে নেওয়া জন‍্য ও তোকে উসকে দিত, কারণ ও চাইত, তোকে আমি খুন করি।”

খান সাহেব পর্ব ৮৩ (৩)