চেকমেট ২ পর্ব ২৪
সারিকা হোসাইন
শাহরানদের বাড়ির গেটের সামনে স্থির পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোদ।মনের মাঝে হাজারো অনুশোচনা,লজ্জা,দ্বিধা, জড়তা আর ভয়।এহেন কঠিন পরিস্থিতিতে হঠাৎই সরফরাজের চড়ের কথা মনে পড়লো।আনমনে চমকে গালে হাত বুলিয়ে চোখ মুখ কুচকে ফেললো সে।কোনো ভাবে ওই ভদ্রলোকের সংগে দেখা হয়ে গেলে লজ্জায় মাটিতে দেবে যাবে সে।এই বাড়ির একটা মানুষের সঙ্গেও তার ভালো পরিচিত সুন্দর কোনো স্মৃতি নেই।মন বলছে একা আসাটাই চরম বোকামি হয়েছে।
এদিকে রোদ কে এভাবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাড়ির গার্ডের সন্দেহ হলো।সে নিজের বন্দুক তাক করে এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চাইলো।গার্ডের কালো পোশাক আর উচ্চতা দেখে সামান্য ঘাবড়ে গেলো রোদ।দু কদম পিছিয়ে দাঁড়ালো সে।পরিচয় কী দেবে সেটাই যেনো খুঁজে পাচ্ছে না সে।নিশ্চুপ রোদকে দেখে গার্ডের কপালের ভাঁজ আরেকটু ঘন হলো।সে বলিষ্ঠ গলায় জিজ্ঞেস করলো –
“হু আর ইউ?”
রোদ ঠোঁট কামড়ে কিছুক্ষন কাল বিলম্ব করলো।এরপর ইতস্তত করে বলল –
“ডক্টর রুদ্র রাজ চৌধুরীর মেয়ে আমি।রূপকথা আন্টির সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”
গার্ড এবার একটু নমনীয় হলো।সে বলল –
“বাড়িতে কেউ নেই।ম্যাডাম হাসপাতালে,বস অফিসে।”
“মিস্টার সুফিয়ান চৌধুরী আছেন?উনি থাকলেও চলবে।”
“ম্যাডামের সাথে বডি চেকআপে গেছেন উনি।শুধু ছোট স্যার আছেন।”
ছোট স্যার আছে বলে কি বাড়িতে ঢোকা যাবে না নাকি?বেশ অপমান বোধ করলো রোদ।সেই সঙ্গে চূড়ান্ত মেজাজ বিক্ষিপ্ত হলো।সেই মেজাজ দমিয়ে গার্ডকে বলে উঠলো –
“ছোট স্যারের সঙ্গেই আমার কাজ। ডাকুন উনাকে।”
গার্ড মাথা চুলকালো।ইতিউতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে শক্ত মুখে বললো –
“উনি প্রচন্ড রকমের অসুস্থ।রেস্ট করছেন।আপাতত বিরক্ত না করার নির্দেশ আছে।আপনি বরং অপেক্ষা করুন।নয়তো দুদিন পর আসুন।”
রাগে তপ্ত শ্বাস ফেললো রোদ।চিবিয়ে বললো –
“আমার এখনই দরকার উনাকে।’
বলেই বাড়ির ভেতর হাঁটা ধরলো।গার্ড পিছন পিছন দৌড়ে এসে বললো –
“ম্যাম আপনি এভাবে ঢুকতে পারবেন না।বস জানলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।”
রোদ পিছন ফিরে বলে উঠলো –
“আপনার বস যদি জানতে পারে তার হবু ছেলের বউকে আপনি বাড়িতে ঢুকতে নিষেধ করছেন তখন আপনার হাল কি হবে জানেন?”
কথাটা বলেই নিজের মুখ নিজেই চেপে ধরলো রোদ।কেমন বেফায়েস কথা বলে ফেললো।এটা কি আদৌ সম্ভব নাকি?সেসবের সমাপ্তি পার্ট তো কবেই চুকে গিয়েছে।এমন মুখ ফস্কে যাওয়া কথায় লজ্জা পেয়ে মুখ লুকালো রোদ ।তবে গার্ড একটু দমলো।সে মনে মনে ভাবতে লাগলো হবু বউ কোত্থেকে এলো?
এমন সময় ইয়ং এলো অফিসের জরুরি কিছু কাগজপত্রের ফাইল নিতে।গার্ড ব্লু কে করো সাথে বাকবিতন্ডা করতে দেখে দ্রুত গাড়ি থেকে নামলো ইয়ং।দৌড়ে বাড়ির ভেতর এরিয়ায় ঢুকে ডাকলো –
“ব্লু!”
রোদ এবং ব্লু দুজনেই পিছন ফিরলো। রুদ্ররাজের আদলে গঠিত রোদকে চিনতে এক মুহূর্ত সময় লাগলো না ইয়ং এর।সে হাত উঁচু করে বলে উঠলো –
“যেতে দাও।সে যদি পুরো বাড়ি লুটে নিয়ে যায় নিতে দাও। ইভেন যদি তোমার ছোট স্যার কে মে রেও ফেলে মা রতে দাও। she has rights।”
গার্ড বিস্ময়ে ইয়ংয়ের পানে তাকিয়ে রইলো।রোদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইয়াংয়ের পানে তাকিয়ে বলে উঠলো –
“না কিছু লুটতে এসেছি না কাউকে মা রতে।আমার ফোন পরে আছে উনার কাছে।সেটাই নিতে এসেছি।”
বলেই রোদ হনহন করে হাঁটা ধরলো।ইয়ং রোদের যাবার পানে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।মনে মনে বললো –
“ভাগ্য কখন কাকে কোথায় এনে দাঁড় করায় তা কেউ জানে না।”
বাড়ির ভেতর ঢুকে রোদ আরেক বিপাকে পড়লো।বিশাল বড় বাড়ি।কিন্তু পুরোটাই ফাঁকা।বাড়িতে একটা প্রাণীর নিশ্বাস পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।অনন্য সুন্দর সাজানো গোছানো বাড়িটা কেমন ভূতুড়ে লাগছে। রোদ কিছুটা ঘাবড়ালো ।ফাঁকা ঢোক গিলে ডাকলো –
“মিস্টার শাহরান আপনি কোথায়?”
কোন সাড়া এলো না।এমন সময় বাড়ির সাইড এরিয়া থেকে কুকুরের ডাক ভেসে এলো।সেই ডাক অনুসরণ করে দরজা খুলে কয়েক কদম এগুতেই বিশাল বড় নীল পানির সুইমিং পুল নজরে এলো।বুক ভরে শ্বাস নিয়ে সেদিকে এগিয়ে গেলো রোদ।যেতে যেতে পুলের কিনারায় লাউঞ্জ চেয়ারে উন্মুক্ত ফর্সা শরীরের কারো পেছনের অংশ নজরে এলো।রোদের বুক ধড়ফড়িয়ে উঠলো।সেই সাথে থেমে গেলো পা।শুকিয়ে উঠা ঠোঁট জোড়া জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিলো রোদ।এরপর মনে মনে বলে উঠলো –
“ভার্সিটিতে সে আমার টিচার এখানে নয়।তাই তাকে দেখে অহেতুক ভয় পাবার কিছুই নেই।”
রোদ শাহরানের দিকে পা বাড়ালো।এমন সময় সরফরাজের কুকুর এঞ্জেলো ঘেউঘেউ করে লাফিয়ে উঠলো।কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে কেঁপে উঠলো রোদ।এঞ্জেলো ঘেউঘেউ করেই ক্ষান্ত হলো না।তেড়ে ছুটে এলো দাঁত খিঁচিয়ে।এঞ্জেলোর আকস্মিক হিংস্র আচরণে শাহরান আধ শোয়া থেকে উঠে বসলো।ততক্ষণে এঞ্জেলো রোদের সামনে এসে দাঁত বের করে ঘেউ ঘেউ করছে।
রোদ ভয়ে চিৎকার করে উঠলো।এঞ্জেলো তা কেয়ার ই করলো না।কামড়ে ধরলো রোদের পা।হ্যাঁচকা ঝাড়া দিয়ে এঞ্জেলো কে কোনো মতে ছাড়িয়ে কেঁদে দৌড় লাগালো।এঞ্জেলো পিছু পিছু ছুটলো।ঝিম ধরা মাথায় শাহরান এর মস্তিষ্ক কাজ করতে ভুলে গেলো।চোখের সামনে কি হচ্ছে কিছুই যেনো বুঝতে পারছে না।সুইমিং পুলের চারপাশে চক্রাকারে দৌড়ে চলেছে রোদ।পিছনে এঞ্জেলো। শাহরানের ঘোর কাটলো।সে ধমকে উঠলো –
“এঞ্জেলো স্টপ দেয়ার”
এঞ্জেলো শুনল না।হাঁপাতে হাঁপাতে প্রাণপনে চিৎকার করতে করতে ছুটতে লাগলো রোদ।শেষমেশ পা আর সায় দিলো না।পুলের পাশে রাখা ফুলের টবের সাথে বেঁধে হুড়মুড়িয়ে পরে গেলো।বিছানো পাথরে লেগে কেটে গেলো কনুই মচকে গেলো পা।করুন আর্তনাদ করে ফুপিয়ে উঠলো রোদ।শাহরান দৌড়ে রোদের কাছে যাবার আগেই এঞ্জেলো লাফিয়ে রোদের উপরে উঠতে চাইলো।উপায় না পেয়ে পানিতে ঝাপিয়ে পড়ল রোদ। শাহরান কপাল চেপে দাঁড়িয়ে রইলো।এই মুহূর্তে তার কি করা উচিত কিছুই যেনো সে ভেবে পাচ্ছে না। শাহরান দৌড়ে গিয়ে এঞ্জেলোকে নিয়ে গলায় বেল্ট পরিয়ে একটা খুঁটির সাথে বেঁধে দিলো।ধরে নিলো এঞ্জেলো শান্ত হলে মেয়েটা নিজেই উঠে আসবে।কিন্তু শাহরান এর ভাবনা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঢকঢক করে পানি খেতে খেতে তলিয়ে যেতে লাগলো রোদ। শাহরান পুলের দিকে তাকিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। রোদ যখন তলিয়ে গেলো তখন শাহরান নড়ে উঠলো।
“ওহ শিট”
শাহরান ঝাপিয়ে পড়লো পানিতে।এখানে তারই গলা সমান পানি।সেখানে এই লিলিপুট মেয়ে নাগাল পাবে কি করে?
রোদকে কোলে তুলে শাহরান কিনারায় এনে বসালো।পানি খেয়ে পেট ফুলে ঢোল হয়ে গিয়েছে। ডাঙায় উঠেই যেনো প্রাণ ফিরে পেলো সে। জোরে জোরে শ্বাস নিতে শুরু করলো।এদিকে কাশি এলো প্রচুর।কাশতে কাশতে বমি করে ফেললো।এরপর শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে পুলের টাইলসে চোখ বন্ধ করে পরে রইলো। শাহরন ঘাবড়ে গেলো।সে ডাকলো –
“রোদ!”
রোদ ইচ্ছে করেই জবাব দিলো না।শরীর ব্যাথায় নীল হয়ে যাচ্ছে।পায়ে হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা।সেই সঙ্গে কনুই জ্বলে যাচ্ছে।ইচ্ছে হলো হাউমাউ করে চিৎকার করে কাদতে।কিন্তু দাঁত চেপে সবটা সয়ে নিলো।
অবস্থা বেগতিক ভেবে শাহরান হ্যাঁচকা টানে কোলে তুলে নিলো রোদকে। পড়ে যাবার ভয়ে শাহরণের গলা জড়িয়ে ধরলো রোদ।কিছুক্ষণের জন্যে দুজনের দৃষ্টি মিলে গেলো। তাৎক্ষনিক শাহরান চোখ নামিয়ে নিলো। রোদ আরেকটু শক্ত করে শাহরানের গলা জড়িয়ে ধরলো,তাকিয়ে রইলো অনিমেষ। বাড়ির ভেতরের দিকে চলতে চলতে শাহরন বলে উঠলো –
“ভয় নেই এতটাও দুর্বল নই। ফেলবো না ।”
রোদ জবাব দিলো না।তার বুকের ভেতর যুদ্ধের দামামা বাজছে।কিন্তু কোল্ড ব্ল্যাডেড শাহরনের অভিব্যক্তি একদম শান্ত স্থির। যেনো রোদ তার বড্ড অপরিচিত।আজই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে তাদের প্রথম দেখা এবং আর দশ জন সাধারণ মানুষের মতোই তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে এই ভদ্রলোক ।
চলতে চলতে নিজের বেডরুমে এনে রোদকে ভেজা শরীরেই বিছানায় শুইয়ে গায়ে ব্ল্যাংকেট জড়িয়ে দিলো শাহরান। মেয়েটির সাদা টিশার্ট ভিজে ভেতরের অন্তর্বাস স্পস্ট।পুরুষের নিষিদ্ধ দৃষ্টি বারবার ওখানেই গিয়ে পড়ছে।বিছানায় শোয়াতেই ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো রোদ।কোনো মতে ভাঙ্গা গলায় বলে উঠলো –
“আমার পা ভেঙে গেছে।”
এই কথায় শাহরনের প্রচুর রাগ হলো।ধমকে উঠলো কঠিন গলায় –
“এখানে কেনো এসেছেন?অযথা আমাকে বিপদে ফেলার জন্য?”
এমন নিঠুর প্রশ্নে রোদের চোখ ফেটে জল এলো।এতোবড় অপমান কেউ কাউকে করে?তবুও নিজেকে সামলে উঠে বসার চেষ্টা করলো।এখানে আর এক মুহূর্ত থাকবে না সে।দুর্বল হাতে ব্ল্যাঙ্কেট সরাতে সরাতে উঠে বসার বৃথা চেষ্টা করে কাতর গলায় বলে উঠলো –
“আমার ফোনটা দিয়ে দিন।আমি এক্ষুনি চলে যাব।”
থমথমে দৃষ্টিতে রোদের দিকে তাকিয়ে রইলো শাহরণ ।মেয়েটার চোখে মুখে ব্যথার ছাপ স্পষ্ট।ভেতরে কেমন একটা ছটফট অনুভূতি হলো তার।বলতে ইচ্ছে হলো –
“খুব লেগেছে বুঝি?”
বললো না।গিলে খেলো মনের সব কথা।অতপরঃ মুখে আরেকটু কাঠিন্য ভাব ফুটিয়ে বাজখাঁই গলায় জিজ্ঞেস করলো –
“বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ফোনে যোগাযোগ হচ্ছে না বলে একদম আমার বাসায় ছুটে এসেছেন?”
রোদ অবিশ্বাস্য ছলছল চোখে শাহরান এর পানে তাকিয়ে রইলো।বিশ্বাস করতে কষ্ট হলো এই মানুষটা এক সময় প্রাণ লাগিয়ে তাকে ভালোবেসেছে।অথচ আজ কত নিষ্ঠুর কথার বানে তাকে পুড়িয়ে মারছে। রোদ বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসলো।শিরশিরে ব্যাথায় পুরো শরীর দূর্বল হয়ে উঠলো।তবুও বেড সাইড টেবিলের সহায়তায় দাঁড়াতে চাইলো।কিন্তু শরীর সায় দিলো না।ব্যাথায় পরে যেতে নিলো।তাৎক্ষনিক বাঁচার আশায় শাহরানের ট্রাউজার এর কোমর খামচে ধরলো।নিজের সম্মান বাঁচাতে ঝুঁকে গেলো শাহরান।দুজনেই পড়লো মেঝেতে। ব্যাথার্ত শরীরে আরো খানিক ব্যাথা পাবার ভয়ে শব্দ করে কেঁদে ফেললো রোদ।কিন্তু একি গায়ে কোনো ব্যাথা হলো না।আলগোছে নিজের হাত দিয়ে রোদের মাথা আর কোমর সামলে নিলো শাহরান।জায়গা দিলো প্রশস্ত বুকে নিজে পড়লো মেঝেতে।পিঠে আঘাত পেয়ে দাঁত চেপে রইলো শাহরান। রোদ কিছুক্ষন ঘাপটি মেরে রইলো শাহরানের বুকে।
শাহরানের নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে।কোমল মোলায়েম একটা শরীর তার বাহু বন্দি।অদ্ভুত শিহরন জাগানো এক অনুভূতি। সন্তপর্নে রোদ কে মেঝেতে শুইয়ে উঠে দাঁড়ালো শাহরান।কাবার্ড থেকে নিজের একটা শার্ট ছুঁড়ে বলে উঠলো –
“এটা গায়ে জড়িয়ে শিগগির আমার সামনে থেকে সরে যাও।”
শাহরণের কথায় নিজের দিকে তাকালো রোদ।লজ্জায় চোখ মুখ ঢেকে ফেললো হাতের আজলায়।এরপর তড়িঘড়ি করে সেই শার্ট গায়ে জড়িয়ে উঠে বসার চেষ্টা করলো।পায়ের ব্যাথায় পারলো না। শাহরান হাত বাড়িয়ে টেনে দাড় করালো তাকে। রোদ ব্যথিত গলায় বললো –
“আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিবেন প্লিজ?আমি হাঁটতে পারছি না।”
শাহরান রোদের দিকে ঝুঁকে হিসহিস করে বলে উঠলো –
চেকমেট ২ পর্ব ২৩
“ইচ্ছে করেই আমাকে জ্বালাতে এসেছো তাই না?”
ঠোঁট উল্টে বাচ্চাদের মতো মাথা নাড়ালো রোদ।তার চোখে মুখে শারীরিক কষ্টের ছাপ স্পস্ট।ব্যাথায় নাকের ডগা লাল হয়ে আছে।ইচ্ছে করে কান্না আটকানোর দরুন চোখ জোড়াও লাল হয়ে আছে। শাহরান তপ্ত শ্বাস ফেললো। অতপরঃ রোদকে পাঁজা কোলে তুলে হাঁটা ধরলো গ্যারেজ এর দিকে।
