Home চেকমেট ২ চেকমেট ২ পর্ব ২৫

চেকমেট ২ পর্ব ২৫

চেকমেট ২ পর্ব ২৫
সারিকা হোসাইন

দৃঢ় পায়ে শক্ত হাতে রোদ কে কোলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে শাহরান।শান্ত দৃষ্টি সামনের দিকে। যেনো কোলে কোনো মেয়েলি শরীর নয় বরং বস্তা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সে। রোদ শাহরান এর শক্ত গম্ভীর চোয়ালের পানে তাকিয়ে আরেকটু শক্ত করে শাহরান এর গলা জড়িয়ে ধরলো।শরীরে অদ্ভুত ঝাঁকুনি অনুভব করলো শাহরান।কিন্তু মেয়েটাকে বুঝতে দিলো না এক বিন্দু। শাহরান যখন গ্যারেজের কাছে এলো ঠিক তখনই শাহরান এর গাড়ি নিয়ে ধেয়ে এলো নিনাদ।ব্রেক কষলো একদম শাহরান এর সামনে। যেনো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এহেন ভঙ্গিমায় পড়িমড়ি করে নামলো গাড়ি থেকে।এরপর অবিশ্বাস্য চোখে গালে দুই হাত রেখে হা করে রইলো।না চাইতেও নিনাদ এর মুখ গলিয়ে বেরিয়ে এলো –

“ও হো হো,ও হো।
শাহরান নাক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে বলে উঠল –
“নাটক বন্ধ কর আর সামনে থেকে সরে যা।”
নিনাদ সরলো না।তার মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে। নয়তো রুদ্র রাজ চৌধুরীর মেয়ে শাহরান কোলে এলো কি করে?তাও আবার ভেজা শরীরে?
নিনাদ ভ্রম কাটানোর জন্য নিজেকে নিজেই চিমটি কাটলো। চিমটির মাত্রা বোধ হয় জোরে হলো। আ আ করে চিৎকার করে উঠল নিনাদ।এরপর রোদের কাছ ঘেঁষে হিসহিস করে বলে উঠল –
“অ্যাই মেয়ে কোলে উঠেছো কেন? নামো শিগগির !জানোনা ও অসুস্থ!”
রোদ শুনল না।ইচ্ছে করেই চোখ বন্ধ করে অজ্ঞান হবার ভান ধরে পড়ে রইলো।নিনাদ হা হা করে হেসে বললো –
“সবটা নাটক,ইচ্ছে করে চোখ বন্ধ করে আছে। দেখ দেখ চোখের পাতা কাপছে।যেই দেখেছে তুই ওর লেকচারার অমনি কোলে উঠে বসেছে।সব এক্সট্রা মার্ক পাবার ধান্দা।এক্সাম শেষ হলে আবার তোকে জেলে ভরে দেবে।”
শাহরান মুখে চ সূচক শব্দ উচ্চারণ করে বলে উঠল –
“আহ নিনাদ কি বলছিস এসব?সামনে থেকে সরে যা না।”
“না সরবো না।আগে একে ছুঁড়ে মার।”

বলে কোমরে হাত গুঁজে পথ আগলে দাঁড়িয়ে রইলো নিনাদ।নিনাদ কে পাশ কাটিয়ে এক হাতে গাড়ির দরজা খুলতে খুলতে শাহরান বলে উঠল –
“ওকে এঞ্জেলো কামড়েছে। হসপিটালে নিতে হবে ”
রুদ্র রাজের অহংকারী মেয়েকে কুকুরে কামড়েছে ভেবেই খুশিতে লাফিয়ে উঠলো নিনাদ।হাত তালি দিয়ে বলল –
“কুত্তা কামড়েছে?আহ !বড্ড শান্তি পেলাম রে বহুদিন বাদে।”
শাহরান ধমকে বলে উঠল –
“কুত্তা নয় বল এঞ্জেলো।
গলা পরিষ্কার করে নিনাদ বলে উঠল –
“সে যাই হোক।এঞ্জেলো কে আমার পক্ষ থেকে ট্রিট।”
পরক্ষণেই গাড়ির কাছে গিয়ে বলে উঠলো –
“হাসপাতালে নিয়ে কুত্তা মারার ইনজেকশন দিয়ে একে মেরে ফেল।প্রতিশোধ নে প্রতিশোধ।ভুলে যাস না ওকে তোকে মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে জেলে পাঠিয়েছিলো।মিথ্যাবাদী চুন্নি একটা।”
এবার আর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারলো না রোদ।ত্বরিত চোখ মেললো।প্রতিবাদ করতে চাইলো নিনাদ এর কথায় কিন্তু শরীর সায় দিলো না।রোদকে চোখ খুলতে দেখে নিনাদ বলে উঠল ,-

“বলেছিলাম না ভঙ ধরেছে।এই দেখে মেরে ফেলার কথা শুনেই জেগে উঠেছে।”
শাহরান নিনাদ এর বকবক শুনল না।গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে ছুটলো হাসপাতাল এর অভিমুখে।
শাহরান দের যাবার পানে তাকিয়ে ফোস করে শ্বাস নিয়ে বলে উঠলো –
“ইয়ে সালা জরুর ফাঁসেগা।”
ত্রিশ মিনিটের মাথায় হাসপাতালে পৌঁছালো শাহরান।এরপর গাড়ির দরজা খুলে রোদকে বলে উঠলো –
“নামো।”
রোদ নামার চেষ্টা করলো।কিন্তু মাটিতে পা ফেলতেই ব্যাথায় চোখ মুখ কুচকে শাহরান এর গায়ের শার্ট খামচে ধরলো।আজ যেনো বিশাল ফ্যাসাদে ফেঁসে গেলো শাহরান।কঠিন চোখ মুখে পুনরায় রোদকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে গেলো।এরপর রিসিপশনে গিয়ে বলে উঠলো –
“কুকুরে কামড়েছে আর পা মচকে গেছে।”

ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে রোদকে নেবার জন্য দুজন নার্স এলো । রোদ কাতর চোখে মুখে শাহরান এর পানে তাকিয়ে রইলো।এরপর দ্বিধা আর ইতস্তত নিয়ে শাহরান এর কনিষ্ঠা অঙ্গুলি টেনে ধরে বলে উঠলো –
“ইনজেকশনে আমার ভয় লাগে।আপনিও চলুন প্লীজ।
ফস করে জমিয়ে রাখা শ্বাস ফেলল শাহরান।এরপর ফোন বের করে রূপকথাকে কল করে বলে উঠলো –
“একবার ইমার্জেন্সিতে এসো মা।”
ইমার্জেন্সির কথা শুনেই রূপকথার বুক কেঁপে উঠলো। সকালেই ছেলেকে মেডিসিন খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে হসপিটালে এলো।এখন আবার কি হলো?চেম্বারের বাইরে পেশেন্ট বসিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি ধরে নিচে নামলো রুপকথা।ইমার্জেন্সির সামনে শাহরান কে দেখে হুড়মুড়িয়ে ছেলের কাছে এসে কপালে হাত ছোঁয়ালো। জ্বর নেই।তাপমাত্রা স্বাভাবিক।এমন সময় হুইল চেয়ারে নজর গেলো।রোদ কে দেখেই চীনে ফেললো রুপকথা।মেয়েটার চেহারা বিধ্বস্ত।ভেজা শরীর কুনই ভর্তি জখম ।শাহরান মাকে সব খুলে বলতেই রুপকথা নার্সকে নির্দেশ দিলো রোদ কে ভেতরে নিয়ে যেতে।কিন্তু রোদ শাহরানএর আঙুল ছাড়লো না।রুপকথা খেয়াল করলো তা।সবটা বুঝেও না বোঝার ভান করে বলে উঠলো –
“ভেতরে তুমিও এসো শাহ।হেল্প লাগবে আমার।”
“মা আমি নার্স নই।”

বলেই হাত ছাড়িয়ে নিলো শাহরান।এরপর কঠিন গলায় বললো –
“নিয়ে যাও ওকে।আমি বাইরে অপেক্ষা করছি।
ছেলের ভেতরের কাঠিন্য পরিমাপ করে রুপকথা রোদকে বলে উঠলো –
“ভয় পেলে আন্টিকে জড়িয়ে ধরবে কেমন?
রোদ ঘাড় কাত করে সায় জানালো।রুপকথা তপ্ত কম্পিত শ্বাস ছেড়ে রোদকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলো।একজন নার্স ট্রলি তে করে মেডিসিন আর ইনজেকশন নিয়ে এলো।ওগুলো দেখেই ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেলো রোদের চোখ মুখ।রুপকথা পরম মমতায় রোদকে আগলে নিয়ে বলে উঠলো –
“চোখ বন্ধ করে আমাকে ধরে রাখো।কিচ্ছু হবে না।”
সত্যিই কিছু হলো না।কিচ্ছু টের পেলো না রোদ।টের পাবে কি করে?সে তো ঘোরের মাঝে ছিলো। এতো অমায়িক একজন মানুষ শাহরান এর মা ।রোদের মনে হলো সে তার মায়ের বুকে আছে।রূপকথার আদরে আরেকবার অনুশোচনায় দগ্ধ হলো রোদ।নিজের কৃত ভুলে নিজের উপর নিজের ঘেন্না জন্মালো।ইচ্ছে হলো সত্যি সত্যি কুত্তা মারার ইনজেকশন শরীরে পুষ করে ম রে যেতে।কিন্তু সে ভীতু।ওতো সাহস তার নেই।
ইনজেকশন দেয়া শেষ হতেই রোদের পা আলতো হাতে চেপে ধরলো রুপকথা।বললো –
“এখন তোমাকে ব্যাথা দেবো।কিন্তু লক্ষ্মী মেয়ের মতো সহ্য করবে ঠিক আছে?”
রোদ অবাক চোখে রূপকথাকে দেখতে লাগলো। এতো সুন্দর মানুষও বুঝি হয়?
রোদের অবাকতার মাঝেই কট করে পা মুচড়ে ধরলো রুপকথা। জোরে আর্তনাদ করে উঠল রোদ।বাইরে থেকে সেই আর্তনাদ শুনে দৌড়ে ভেতরে ঢুকলো শাহরান ।এসে দেখলো বেডের চাদর খামচে ধরে ঠোঁট কামড়ে নিচু হয়ে ঝুঁকে আছে রোদ। শাহরান ব্যস্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো –

“বড় কিছু হয়নি তো নাহ?
ছেলের পানে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসলো রুপকথা।লজ্জা পেলো শাহরান। চট করে বললো –
“হাজার হলেও আমার স্টুডেন্ট সে।সামনে এক্সাম আছে।পড়াশোনায় বড্ড ঢিলে।বড় কিছু হলে সেটার ছুতো দিয়ে এক মাস ক্লাস করবে না।ফাঁকিবাজ স্টুডেন্ট একদম পছন্দ নয় আমার।”
বলেই মাথার চুলে হাত বুলালো।নিজের ইমোশন কন্ট্রোল করলো।এরপর পুনরায় বলে উঠল –
“কনুই কে টে গেছে।ব্যান্ডেজ করে দাও।বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে।আমার জরুরি কাজ আছে।সারাদিন একে নিয়ে ঘোরার সময় থোরাই আছে আমার?”
রোদের কনুই এন্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করতে করতে রুপকথা বলে উঠলো –
“তুমি চলে যাও।আমি ওর বাবাকে কল করে আসতে বলছি।
বেকায়দায় ফেঁসে হা হয়ে তাকিয়ে রইলো শাহরান।তাৎক্ষনিক চোখে মুখে গাম্ভীর্য ঢেলে বলে উঠলো –
“পাগল নাকি তুমি?আমার একটা দায়িত্ববোধ আছে না?”
বলেই মা কে তাড়া দিয়ে বেরিয়ে গেলো শাহরান।ছেলের মনোভাবে ঠোঁট টিপে শক্ত মুখে রোদের কনুই ব্যান্ডেজ করে দিলো রুপকথা।এরপর বলে উঠলো –
“মেডিসিন লিখে দিচ্ছি নিয়ম করে খাবে কেমন?আর তোমার বাবাকে বলে দেব বাকি ইনজেকশন গুলো তোমাকে দিয়ে দিতে।”

রূপকথার পানে তাকিয়ে রোদ নীরব রইলো কিছুক্ষন।এরপর নমনীয় গলায় বললো –
“আপনাকে একবার জড়িয়ে ধরি?
হেসে ফেললো রুপকথা শব্দ করে এরপর নিজেই জড়িয়ে ধরলো রোদকে।বললো –
“তুমি এখনো সেই ছোট বেলার মতোই আদুরে রয়ে গেছো তুমি এলে শাহরান কি পাগলামী ই না করতো। যেনো তোমার উপর শুধু তারই অধিকার।সে ছাড়া আর কেউ তোমায় ধরতে পারবে না।”
রোদের চোখ ছলছল হলো এই কথা শুনে।রূপকথার কাঁধে থুতনি রেখে অপরাধী গলায় বলে উঠলো –
“আমায় আপনারা ক্ষমা করে দিবেন আণ্টি।আমি শাহরান এর সাথে বড্ড অন্যায় করেছি।প্লীজ ওসব পুরোনো কথা মনে রাখবেন না।আমি সত্যিই আমার কৃত কর্মের জন্য লজ্জিত।
রুপকথা রোদের হাতে চুমু খেয়ে বললো –

“আরে পাগলি মেয়ে কি বলে দেখো রাগ করবো কেনো?তোমার উপর আমাদের কোনো রাগ নেই।তুমি তো আমার মেয়ের মতো ।তুমিও ওসব মনে রেখে কষ্ট পেও না।অতীত বর্তমানে টেনে আনার মানেই হয়না।
কথাগুলো বলে রোদকে দাড় করালো রুপকথা ।ফ্লোর জুড়ে অল্প হাঁটিয়ে বলে উঠলো –
“তোমার মা বললো তুমি নাকি সবসময় ডিপ্রেসড থাকো?এই বয়সে এসব হলে চলবে?বোকা মেয়ে।
রোদ অল্প হাসলো।রুপকথা সেই হাসিতে মুগ্ধ হয়ে বললো –
“যখনই মন খারাপ হবে আন্টির বাড়ি এসো কেমন?জমিয়ে আড্ডা দেব ।আশা করি মন ভালো হয়ে যাবে ।
রোদ প্রশস্ত হেসে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো । শাহরান বাইরেই পায়চারি করছিল।রোদকে দেখে কিছুটা দৌড়ে এলো ।মাকে বললো –
“ক্যান উই গো?
রুপকথা মাথা ঝাঁকিয়ে এপ্রনের দুই পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাসতে হাসতে লিফট ধরে চলে গেলো ।রোদের সাথে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে গাড়ির নিকট এলো শাহরান।দরজা খোলে গাড়িতে রোদ কে বসিয়ে সিট বেল্ট বেঁধে দিলো।এরপর ড্রাইভিং সিটে বসে চলতে লাগলো।
পথিমধ্যে দুজনের কোনো কথা হলো না। রোদ আড় চোখে বার কয়েক শাহরান কে দেখলো।ছেলেটা কেমন অহংকারী ভাব ধরে বসে রয়েছে। যেনো সে ছাড়া গাড়িতে আর কেউ নেই। রোদ তাকে বিরক্ত করতে চাইলো না।সিটে মাথা হেলিয়ে চোখ বুজে পরে রইলো।ফিনফিনে ঠান্ডা বাতাসে কখন ঘুমিয়ে গেলো টেরই পেলো না।

রোদের নানা বাড়ির সামনে এসে থামলো শাহরান এর গাড়ি। রোদ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।রোদকে ডাকতে গিয়ে থেমে গেলো শাহরান।ভারী নিশ্বাস তুলে ঘুমুচ্ছে রোদ।এই ঘুম ভাঙতে চাইলো না সে।মনে হলো এই ঘুম ভাঙলে মস্ত বড় অপরাধ হয়ে যাবে। শাহরান চুপচাপ বসে রইলো।না চাইতেও দৃষ্টি মেয়েটার মুখের দিকে চলে যাচ্ছে বারবার।কত মায়া সেই মুখ জুড়ে।হঠাৎই নড়ে উঠল রোদ।কয়েক গাছি বেবী হেয়ার তার নাকের কাছে হুটোপুটি করছে।তাদের অত্যাচারে মেয়েটির সুন্দর ঘুম ভেংগে যেতে চাইছে বারবার। শাহরান আলতো হাতে সেই চুল সরাতে গেলো। পাছে রোদ উঠে যায়।সেই ভয়ে বিনা স্পর্শে চুল সরানোর চেষ্টা করলো।দীর্ঘ সেকেন্ডের যুদ্ধের পর সফল হলো শাহরান।সেই সফলতায় অদ্ভুত আনন্দের হাসি খেলে গেলো তার লালচে ঠোঁট জুড়ে।

চেকমেট ২ পর্ব ২৪

রোদ ঘুমালো।বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলো।মেয়েটি যেনো আজ পণ করেছে শাহরান কে ধরে রাখবে। হলোও তাই।ঘড়ির সময় যখন আটের ঘরে তখন পিটপিট করে চোখ মেললো রোদ।রোদকে চোখ মেলতে দেখেই ঘুমের ভান ধরে পড়ে রইলো শাহরান। রোদ হকচকিয়ে চারপাশ দেখলো।গভীর ঘুমে হেলে পড়ে রয়েছে শাহরান। রোদ উপরের দাঁত দিয়ে নিম্ন ভাগের ঠোঁটের চামড়া কামড়ে কিছু ভাবলো।এরপর করলো অদ্ভুত এক কাজ ।আলগোছে শাহরান এর মাথা সিটে শুইয়ে দিলো। চাঁদের হলদে আলোয় নেশালো লাগছে মানুষটাকে।রোদের কেমন লোভ হলো ওই নেশা পানে।সে শাহরানএর চুলে হাত বুলালো।হাত নড়ে উঠলো শাহরান এর।কিন্তু চোখ মেললো না সে।সহসাই শাহরান এর একদম সন্নিকটে ঘেঁসলো রোদ।নিজের ভেজা ঠোঁট আলতো করে ছুঁইয়ে দিলো শাহরণের অধরে।ধীরে ধীরে চোখ খুললো শাহরান।দৃষ্টি মেললো দুজনের।ভয়ে লজ্জায় সটকে নিজের সিটে এসে পড়লো রোদ। শাহরান ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো –
“গেট আউট অফ দ্যা কার।”

চেকমেট ২ পর্ব ২৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here