Home চোখের আড়ালে ভালোবাসি চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ১১+১২

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ১১+১২

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ১১+১২
আয়াত বিনতে নূর

দূরের কোনো মসজিদ থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আজান।নিশির আধো ঘুম ভাঙলো সেই
মাগরিবের সুমধুর ধ্বনিতে—
“হায়্যা ‘আলাস্ সালাহ…”
পিট পিট করে চোখ খুলতেই মনে পড়লো—

আজ সকালে ফারিস ভাইয়ার রুমে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা গুলো। তখন প্রায় ১২টার দিকে ফারিস ভাইয়ের রুম থেকে কান্না করতে করতে নিজের রুমে আসে, আর এমনিতেই শরীর দূর্বল থাকায়,কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো মনে নেই। তারপর দুপুরের নামাজ এবং দুপুরের খাবারটা ও মিস হয়ে গেলো। আর এখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।
নিশি আর দেরি না করে পাশ থেকে নিজের উড়নাটা গলায় জড়িয়ে নিলো।তারপর ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো।
আজু করে এসে নামাজ পড়ে নিলো।নামাজ পড়েই বেলকনিতে গিয়ে দাড়ালো। অন্ধকারে ডোবে থাকা
আকাশটার দিকে তাকিয়ে নিজে নিজে বলতে লাগল—

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“ফারিস ভাই জানেন যখন আপনি আমাকে চড় মেরেছিলেন তখন এতোটাও কষ্ট আমার হয় নেই।
কিন্তু আজকে এই নিশি কে এমন ভাবে আঘাত দিয়েছেন। এখন আর বাচঁতে ইচ্ছে করে না।কিন্তু আমি আর আপনার কাছে যাবো না,আমার ভালোবাসাও প্রকাশ করবো না,আর দাবি করা তো,
বিলাসীতা।”
এরি ভাবনার মাঝে অহনার কল আসে,
নিশি দেড়িনা করে না বেলকনি থেকে রুমে
দ্রুত গিয়ে কল রিসিভ করে, ওপাশ থেকে অহনা বলে—
—“কি করছিস? তুই এমন কেন নিশু? কোনো কথা না বলে চলে গেলি? আমাদের চিন্তা হয় না?”তোকে কত খুজেছি জানিস??
নিশি হালকা হাসলো, কিন্তু ব্যথা লুকোনো যায় না—

— “আর যাবো না। অনেক হয়েছে।”কিন্তু তোরা তো
জানিস আমার রাগ কতটা? তাই রাগের মাথায় ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম।
তারপর আবার কাল….
নিশি কিছু বলার আগেই, অহনার অস্থীর কন্ঠ শুনা গেলো —
— “মানে? কালকে কী হয়েছিল, বল?”
একটু নীরব হয়ে নিশি বলতে শুরু করলো—
— “রাগ করে তখন কলেজ থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম।হঠাৎ কিছু খারাপ ছেলেদের হাতে পড়ে যাই…ওরা খুব বাজে কিছু করতে যাচ্ছিল…”
এইটা বলার সময় নিশিতার গলা কাপছিল…….
নিশিতা চুপ করে যায়……
নিশিতার কথা গুলো শুনে, অহনা শ্বাস আটকে—

— “কি বলছিস? তারপর?”
নিশির ঠোঁট কেঁপে উঠে—
— “হঠাৎ ফারিস ভাই এসে আমাকে বাঁচিয়ে নিলেন।আর…যখন ওই ছেলেগুলোর থেকে একটা ছেলে আমার হাত ধরে তখন ফারিস ভাই, আমাকে “হার্টবিট” বলেছিলেন। বিশেষ করে যখন ছেলেটা আমার হাত ধরে টান দিয়ে ছিলো তখন ওনি রেগে ওদের মারতে যায় আর এইটা আমাকে বলেছিলেন।
তারপর আমি অনেক দুর্বল থাকায় অজ্ঞান হারিয়ে পরে যাচ্ছিলাম,
তখন তিনি আমাকে তার কোলে নিয়ে গাড়িতে নিয়ে জান।
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে থামে নিশিতা।
এইদিকে নিশিতার কথা গুলো শুনে অহনা বিশ্বাস এই করতে পারলো না। ফারিস ভাই এমনটা বলেছিলো।
নিশিতার কথা শুনে অহনা বলল—
“নিশু তোর কি মাথা ঠিক আছে যেই ছেলে জাস্ট ভালোবাসি বলে ছিলি বলে, তোকে থাপ্পড় খেতে হয়েছিল। সেই ছেলে তোকে ( heartbeat) বলবে??
অহনার কথা শুনে নিশিতার মনটা
খারাপ হয়ে গেলো।

নিচে ডাইনিং হলের সোফায় বসে রিয়া, তনয়া আড্ডা দিচ্ছিলো। তখন আমেনা চৌধুরি তনয়ার আর নিশিতার মা। তনয়া কে বললেন—
” এই তনয়া রাত ৮টা বাজতে চলল এখনো নিশি নিচে এলো না সেই কখন মেয়েটাকে খায়িয়ে ছিলাম। আর কোন খুজ এই নেই। তোরা আড্ডা না দিয়ে মেয়েটাকে ডেকে নয়ে আয় না?
তনয়া মায়ের কথা শুনে বলল—
“আচ্ছা আমি যাচ্ছি মা।
এই বলে তনয়া উঠতে নিলে, রিয়া থামিয়ে দিয়ে বলে —
আমি যাচ্ছি আপু তুমি বসো।এই বলে তনয়া কে কিছু বলতে না দিয়েই নিজে চলে যায়।

নিশিতা আর অহনার কথার মাঝে। নিশিতার রুমে রিয়ার আগমন ঘটে। রিয়া এসে দেখলো নিশিতা কার সাথে যেন কথা বলছে।।তারপর রিয়া নিশির পাশে এসে বলল—
” কি রে নিশি তোর কি ক্ষুধা লাগে না?
তোর জন্য আমি নিজে না খেয়ে তোকে ডাকতে আসলাম। চল এখন তুই। আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে। ”
এসব কথা অহনা শুনে বলল…
—কি রে নিশি? তুই এখনও খাসনি?
যা গিয়ে তাড়াতাড়ি খেয়েনে।কালকে কলেজে আয় তারপর বাকি কথা হবে বলে।
নিশিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে। ফোন কেটে দিলো…….

এরপর রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
‘— তুই যা রিয়া আমি ফ্রেইশ হয়ে আসতেছি।
এই বলে নিশিতা ওয়াস রুমে ছলে গেলো। রিয়া নিশিতার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলল—
“এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারিনা, নিশিতার বাচ্চা তাড়াতাড়ি আসিস কেমন আমি গেলাম নিচে।
—-রিয়া চলে যাওয়ার পর নিশিতা ওয়াস রুম থেকে ফ্রেইস হয়ে বের হয়ে। টেবিলে পড়তে বসে। এরপর রিয়া আবার হাজির হয় নিশিতাকে বলে—

—”কিরে নিশি তুই কখন আসবি?? আমাকে বলবি”
নিশিতার খাবার খাওয়ার মুড এমনি, কিন্তু খিদে অনেক পেয়েছে। নিশি তখন নিজের উড়নাটা নিয়ে মাথায় দিল।
উড়নাটা আজ ঠিকমতো পরারও শক্তি নেই, কিন্তু তবুও সেটি নিয়ে মাথা ঢেকে নিচে নেমে এলো। রিয়া সঙ্গে সঙ্গে পাশে পাশে হাঁটছে। নিচে নামতেই ড্রয়িং রুমে নজর গেল— তার বোন তানয়া সোফায় বসে ফোন স্ক্রল করছে। তার মুখে বিরক্তি নেই, নেই তেমন হাসিও, বরং যেন কাউ কে মেসেজ করতে ব্যাস্ত।
ওদের পায়ের শব্দ শুনে তানয়া মাথা তুলে তাকালো। নিশির চোখের দিকে তাকিয়ে সে একটু মুচকি হাসল।
নিশি থেমে গেল এবং বলল—

“কি করছো আপু?”
নিশির কণ্ঠেই যেন একটা সতর্কতা, যেন প্রশ্নের
বদলে নিজেকে ব্যস্ত দেখানোর চেষ্টা।
তনয়া মুচকি হেসে বলল—
“কিছু না বোন। তুই সারাদিন কোথায় ছিলি? তোকে দেখলাম না কোথাও।”
নিশি কিছু বলার আগেই মনে পড়লো, সারাদিন সে সত্যিই বাইরে বের হয়নি। তার শরীরও ছিল দুর্বল। কোথাও যেতে পারেনি, কারও সঙ্গে কথা বলতেও মন চায়নি। কিন্তু এখন বলতে গেলে নিজেকে খুব দুর্বল মনে হয় তার।
তাই কথা শুরু করার আগেই পেছন
থেকে আমেনা চৌধুরীর কণ্ঠ ভেসে এলো—
“না খেয়ে খেয়ে তো শরীরটা কাঠি বানিয়েছিস। কোথায় ছিলি? তোকে কতবার খাওয়ার জন্য ডাকলাম!”
কথাগুলোতে তিরস্কার আছে, কিন্তু মা’য়ের কণ্ঠে উদ্বেগও আছে।
নিশি মাথা নিচু করে শান্ত সুরে বলল—

“আম্মু সকালে শরীর দুর্বল থাকার কারণে ঘুমিয়ে গেছিলাম। তাই শুনতে পাইনি। সরি আম্মু…”
এই বলে সে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আমেনা চৌধুরীর হাত ধরে চুমু খেল।
চোখ তুলে তাকালেই দেখা যায়—আমেনা চৌধুরীর মুখে বিরক্তির ছাপ থাকলেও ভিতরে নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তা।
“আচ্ছা হয়েছে, আর ভালোবাসা দেখাতে হবে না।”
আটকে থাকা বিরক্তির মাঝেই মা’য়ের মমতা ধরা পড়লো।
তিনি আবার বললেন—
“সেই সকালে একটু স্যুপ খেয়েছিস, তারপর সারাদিন কিছু খাসনি। যা গিয়ে টেবিলে বস। খাবার দিচ্ছি।”
এ যেন আদেশ, কিন্তু তার মায়ের ভালোবাসায় ভরপুর।
রিয়া আর তানয়াকেও ডাকলেন খাওয়ার জন্য। তিনজন একসাথে ডাইনিং টেবিলের দিকে হাঁটল। বাড়ির মেটরা খাবারগুলো সাজিয়ে রাখছে।

বড় ফ্যামিলির মতো বড় ডাইনিং টেবিল,। সাজানো চামচ-কাঁটা, কাচের বাটি, কাচের জগে পানি—সবকিছু সুন্দরভাবে সাজানো। ঘরের আলো নরম। সবকিছু সুন্দর হলেও… নিশির মন একদম ভারী।
নিশি আর রিয়া পাশাপাশি দুটো চেয়ারে বসলো, আর তনয়া রিয়ার সামনের চেয়ারে।
খাবারের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
আজকে তার প্রিয় খাবার—গরুর মাংসের কালা ভুনা।
আমেনা চৌধুরী নিজ হাতে প্লেটে খাবার বেড়ে দিতে দিতে বললেন—
“নে মা, খেয়ে নে। তোর পছন্দের খাবার রান্না করেছি।”
নিশি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল।

খুব বেশি কথা বলছে না সে। খেতে চাইছে, কিন্তু মন যেন চেপে বসেছে তার গলায়।
একটু পরেই সবাই বসে গেল। ঠিক তখনই বাড়ির মূল দরজার দিকে সবার নজর গেল।
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো ফারিস আর রাজীব। দু’জন একসাথে হেঁটে আসছে। ফারিস সাদা শার্ট আর কালো ফরমাল পেন্ট পরে আছে। তার চুল একটু এলোমেলো, মুখটা ক্লান্ত, কিন্তু চোখগুলো অপ্রকাশিত কিছু ভাবেই ভরা।
ফারিসকে দেখেই নিশি চোখ নামিয়ে ফেললো।
মনে মনে বলতে লাগলো—

“যতই ভাবি ওনার সামনে যাবো না, ততই ওনি আমার সামনে চলে আসেন। কিন্তু না ফারিস ভাই, আমি আর আপনাকে আমার চেহেরাটা দেখাতে চাই না। আমি আর আপনার সামনে নিজেকে দুর্বল দেখাতে চাই না।”
এসব ভাবনার মাঝে রান্নাঘর থেকে আফিয়া চৌধুরী বেরিয়ে এসে বললেন—
“কি রে রাজীব, আজকে এত তাড়াতাড়ি চলে এলি?”
রাজীব হেসে বলল—
“আজকে জরুরি মিটিং ছিল। সেটা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো তাই একসাথে চলে এলাম।”
দা ভাই—এই নামে সবাই ফারিসকে ডাকে, এমনকি রিয়াও কখনো কখনো মজা করে বলে। ফারিস নামটা যেন তার প্রভাব, আর ‘দা ভাই’ নামটা তার দায়িত্ব।
আফিয়া চৌধুরী বললেন—

“আচ্ছা, তোরা আগে ফ্রেশ হয়ে যা। খেতে দিচ্ছি।”
ফারিস মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। তারপর সে একবার ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকালো… নিশিকে দেখলো—
নিশি বসে আছে কিন্তু মুখ দেখা যাচ্ছে না। সে পেছন ঘুরে বসে আছে।
ফারিসের মুখে এক সেকেন্ডের জন্য চেনা অনুভূতি ফুটে উঠলো, কিন্তু সে কিছু বললো না। শান্ত মুখে উপরে চলে গেলো।

প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ফ্রেশ হয়ে ফিরে এলো। গায়ে সেই সাদা শার্ট—কিন্তু এবার কলারের বোতাম খোলা, যেন একটু যন্ত্রণাও আছে সেখানে। নিচে নেমে যখন টেবিলে এসে দাঁড়ালো… তখন দেখলো—নিশি নেই।
সে কিছুটা অবাক, খানিকটা বিরক্ত, কিন্তু মুখে প্রকাশ নেই।
ভিতরে কেমন যেন খটকা—একটু আগেও তো ছিলো! এখন কোথায়?
সে টেবিলে বসলো। বাকি সবাই আছে—রিয়া, তনয়া, রাজীব, আরাফাত চৌধুরী, আলতাফ চৌধুরী, আমেনা চৌধুরী, আফিয়া… সবাই। সবাই খাচ্ছে, হাসছে, টুকটাক কথা বলছে।
ফারিস বসতে না বসতেই বলল—
“ছোট মা, সবাই কোথায়?”
কথাটা শোনার পর সবাই তাকালো তার দিকে। তারা অবাক—এখানে তো সবাইই আছে।
আমেনা চৌধুরী বলার আগেই আলতাফ চৌধুরী চেয়ারের উপর ভর দিয়ে বললেন—

“আমার নিশি মা কোথায়?”
দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে আমেনা চৌধুরী উত্তর দিলেন—
“তোমার মেয়ে কোনো রকম দু’চামচ মুখে দিয়ে না খেয়ে চলে গেছে। তার নাকি ঘুম আসছে। না খেয়ে খেয়ে দিন দিন কাঠি হচ্ছে।”
কথাটা শুনে ফারিসের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
চামচ থামলো তার হাতে।
কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে থাকলো সে।
তারপর তাড়াতাড়ি উঠে হাত ধুতে গেল।
আফিয়া চৌধুরী বললেন—
“ফারিস বাবা, না খেয়ে কোথায় যাচ্ছি! সারাদিন বাইরেও কিছু খাস না। এখন একটু খেয়ে যা।”
ফারিস কিছু না ভেবে বলল—

“আমার ক্ষুধা নেই আম্মু। একটা ইম্পরট্যান্ট কল করতে হবে। তোমরা খাও।”
তার কণ্ঠটা গম্ভীর।
এমন না যে সে রেগে আছে, কিন্তু সে নিজেকে থামিয়ে রেখেছে যেন।
সে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল।
সবার মনে প্রশ্ন। কি হলো? কেন গেল?
আফিয়া চৌধুরী মাথা দোলাতে দোলাতে বললেন—
“এরা কি যে শুরু করছে! কে জানে! সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ। নিজের যত্ন নেবে না, ঠিকমতো খাবে না। আবার নিশিও না খেয়ে চলে গেল।”
সবার মনে একটু অস্বস্তি, একটু দুশ্চিন্তা।
কিন্তু কথার ভেতরেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের গল্প।

অন্যদিকে ফারিস উপরে গিয়ে নিশির রুমের দিকে দেখলো। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ।
সে দাঁড়িয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড।
চোখের ভেতর একটু অনুশোচনা।
সে কিছু বলতে চাইল কিন্তু পারে না।
শেষমেষ নিজের রুমে গিয়ে পায়চারি শুরু করল।
“মেয়েটার সাথে কি বেশি করে ফেললাম?”
সে বিড়বিড় করে বলল।
তার কণ্ঠের ভার—নিজেকেই আঘাত করছে যেন।
“আজকে আমার দিকে একবার তাকালোও না! না খেয়ে রুমে চলে গেলো। কিন্তু আমারি বা কি করার?”
তার কণ্ঠে বিরক্তি নেই, আছে কষ্ট।
কিছু না বলে সে বিছানায় শুয়ে পড়লো। কিন্তু চোখে একফোঁটাও ঘুম নেই। শুধু নিশির মুখ ভেসে আসছে।

নিশি রুমে গিয়ে বসল বিছানার উপর।
চোখ ভেজা, নাক লাল, ঠোঁট কাঁপছে।
সে নিজেকে জোর দিয়ে বলছে—
“আমি ওই মানুষটার সামনে যেতে চাই না। এত অবহেলা, এত অপমান… আর নিতে পারছি না।”
তার বুকের ভেতর জমে ওঠা সব কথাগুলো যেন শ্বাস রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
সে নিজেকে শক্ত করে বলে—
“থাম… থাম! আর একবারও ওনার নাম নিজের মুখ থেকে উচ্চারণ করবি না। ওনি তোর কেউ না। আজ থেকে… তোর লাইফে ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরীর কোনো জায়গা নেই।”
তার কণ্ঠ ভেঙে গেলেও কথা দৃঢ়।
এ যেন নিজের সঙ্গে করা একটা প্রতিজ্ঞা।
“তোকে পড়াশোনায় মন দিতে হবে…”
এই কথাটাই ছিল শেষ কথা। তারপর আর কিছু না ভেবে নিশি ধীরে ধীরে বালিশে মাথা রাখলো।
শরীর দুর্বল, চোখ ক্লান্ত… আর সে ঘুমিয়ে গেল খুব দ্রুত। কিন্তু ঘুমের গভীরে যে মানুষটা তাকে কাঁদিয়েছে, সেই মানুষটার মুখই বারবার ভেসে উঠছে।

—এটাই ছিল রাতের নীরব যুদ্ধ।
একজন দূরে সরে যেতে চায়,
অন্যজন তাকে নিজের করে নিতে চায়।

নিশি রোজকার মতো আজও গভীর ভোরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে ধীরে ধীরে জেগে উঠলো। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে আসা হালকা নরম আলো ঘরটাকে যেন ধীরে ধীরে জাগিয়ে তুলছে। চারপাশে তখনো নিস্তব্ধতা—শুধু দূরে কোথাও ভোরের পাখিদের ডাকে পরিবেশ একটু একটু করে জীবন্ত হচ্ছে।
ঘুম থেকে উঠেই নিশি নিজের নরম সাদা উড়নাটা গায়ে জড়িয়ে নিলো। শীতল সকালের হাওয়ায় একটু কেঁপে উঠলেও মুখে একটা শান্ত স্থিরতা ছিলো।
নরম পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ওয়াশরুমের দিকে গেলো।
দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই নিজের ফ্যাকাশে কিন্তু শান্ত মুখটা চোখে পড়লো। গত কয়েকদিনের টেনশন, দুশ্চিন্তা চোখে জমে থাকা ক্লান্তি লুকাতে চাইলেও আড়াল রইলো না।
ও তারপর ধীরে ধীরে আজু করলো—

ঠান্ডা পানি হাত–মুখে লাগতেই একটা প্রশান্তি নেমে এল।
মানুষের মনকে শান্ত করতে নামাজের মতো আশ্রয় আর কোথায় আছে?
আজু শেষে সে নরম পায়ে এসে জায়নামাজ বিছিয়ে আগের মতোই নামাজে দাঁড়ালো।
আস্তে আস্তে সুরা পড়তে পড়তে তার চোখ দুটো আরও শান্ত হয়ে উঠলো।
বাইরের দুনিয়াটা তখনও ঘুমে, কিন্তু নিশির মন আজকে যেন একটু বেশিই অস্থির—যা সে আবার নিজের মধ্যেই দমিয়ে রাখছে।

এই সময়েই দরজার কাছে একটা ছায়া এসে দাঁড়ালো।
ধীরে ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন আমেনা চৌধুরী। মেয়ের নামাজ পড়ার দৃশ্য দেখে তার চোখে অদ্ভুত এক মায়া জমলো। তিনি কিছুটা এগিয়ে গিয়ে থামলেন—চোখ সরাতে পারছিলেন না মেয়ের মুখ থেকে।
তার মনে মনে কথাগুলো প্রতিধ্বনির মতো ভেসে উঠলো—
“আল্লাহ… আমার মেয়ের মতো এমন মেয়ে
তুমি সবাইকে দিও।
আমার নিশিটা কবে এতো বড় হয়ে গেলো?”
তিনি স্মৃতির জগতে ডুব দিলেন।

কয়েক বছর আগের ছোট্ট মেয়েটা—যে আম্মুকে আঁকড়ে ধরে থাকতো, একটু আঘাত লাগলে কেঁদে ফেলতো, আর আজ সেই মেয়েই নিজের ভোর শুরু করছে নামাজ দিয়ে, নিজের দায়িত্ব বুঝে।
মেয়ের প্রতি মমতায় ভরে উঠে আমেনা চৌধুরীর হৃদয়।
নামাজ শেষে নিশি সালাম ফিরিয়ে মুখ তুলতেই দেখলো—
আমেনা চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছেন পুরোটা সময় ধরে।
নিশি একটু অবাক হয়ে বললো—

“আম্মু… তুমি?”
তার মায়ামাখা কণ্ঠে আমেনা চৌধুরীর ধ্যান ভেঙে গেলো।
তিনি এগিয়ে গেলেন।
নিশিও আদব করে উঠে দাঁড়ালো।
মেয়ের কাছে গিয়ে আমেনা চৌধুরী নিশির কপালে আলতো করে চুমু খেলেন।
তার কন্ঠ একটু নরম, একটু কাঁপা—
“মা… তুই কবে এতো বড় হয়ে গেলি?
আমার ছোট্ট মেয়াটা আজ কত মানিয়ে নিতে শিখে গেছে!”
নিশি মুচকি হেসে বলল—

“দেখতে হবে না কার মেয়ে।”
এই কথায় আমেনা চৌধুরী হেসে উঠলেন—জানেন, এই মেয়ে তার শক্তি, তার গর্ব।
নিশি আবার বললো—
“কিছু বলবা আম্মু?”
আমেনা চৌধুরী মাথা নেড়ে বললেন—
“না মা, কিছু না।
তুই উঠেছিস কি না দেখতে এসেছিলাম।
আর… ওই দুটো কে না ডাকলে তো ঘুম ভাঙবে না।
চল, একটু পরে নিচে নাস্তা করতে আসিস।”
নিশি নরম হাসলো—
“আচ্ছা আম্মু। আমি একটু পড়া রিভাইজ দিয়ে আসছি।”
আমেনা চৌধুরী নরম পায়ে বেরিয়ে গেলেন।

নিশির পড়ার রুটিন — মনের ভেতরের অস্থিরতা
ঘরটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।
নিশি পড়ার টেবিলে গিয়ে বসল।
টেবিলে সাজানো বইগুলো সব পরিচ্ছন্ন—তার মতোই। সে হাতে একটা বই তুলে নিলো।
কিন্তু পাতা উল্টানোর সাথে সাথে মন কোথায় যেন দৌড়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ ফারিসের কথা মন পড়ে গেলো।
গত কয়েকদিনের অদ্ভুত আচরণ, কঠোরতা, না–বোঝা সেই দৃষ্টি—সব মিলিয়ে তার ভেতরটা কেমন যেন ভেঙে যায়।
নিশি নিজের মনকে শক্ত করলো, ঠোঁট কামড়ে বললো—
“ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরী নামে

আমার জীবনে কেউ নেই। না কোনোদিন ছিলো…
আর না কোনোদিন আসবে।তোকে পড়ায় মনোযোগ দিতে হবে নিশি।যে মানুষকে সম্মান দিতে জানে না… তার জন্য মন দুর্বল করা বোকামি।”
সে আবার পড়া শুরু করলো।
অনেকক্ষণ পড়লো।
কিন্তু মাঝে মাঝে ফারিসের চোখ, তার হালকা হাসি, কখনো কঠোরতা—সব যেন পাতা থেকে মাথায় উঠে আসতে লাগলো। সময় গড়িয়ে গড়িয়ে আটটা বেজে গেলো।
নিশি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়ালো।
হাতে একটা টাওয়াল আর সুন্দর কাজ করা কালো–কালো থ্রিপিস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।

সাজগোজ ও নরম সকালের আলো
গোসল সেরে বেরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো।
চুল ভেজা।
হেয়ার ড্রায়ার অন করতেই ঘরে এক উষ্ণ শব্দ ভেসে উঠলো।
চুলগুলো বাতাসে উড়তে লাগলো—নরম, ঘন, রাতের মতো কালো চুল।
চুল শুকিয়ে মাথায় উড়না দিলো।
আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হলো খুবই সাধারণ—তবু অদ্ভুত শান্ত, অদ্ভুত মায়াময়।
তারপর দ্রুত পায়ে নিচে নামতে লাগলো।

ডাইনিং টেবিল — দুই মা আর ব্যস্ত সকাল
ডাইনিং টেবিলে তখন কেউ বসেনি।
বাড়ির পুরুষরা রেডি হচ্ছে।
আমেনা চৌধুরী আর আফিয়া চৌধুরী দুজন মিলে রান্নাঘরের কাজ দেখছেন।
বাড়ির মেটরা খাবার সাজিয়ে টেবিলে রাখছে।
নিশি নিচে নেমেই একপাশে গিয়ে চেয়ার টেনে বসল।
আফিয়া চৌধুরী তার সামনে খাবার বাটিগুলো এগিয়ে দিলেন।
তিনি স্নেহমাখা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন—
“এখন শরীর কেমন আছে মা?”
নিশি খাবার মুখে দিতে দিতে মাথা নাড়িয়ে বলল—

“জি আলহামদুলিল্লাহ, ভালো বড় আম্মু।”
আফিয়া চৌধুরী নিশির এই ভদ্রতা, নম্রতা দেখে সব সময়ই মুগ্ধ হন।
খেতে খেতে তিনি আবার বললেন—
“রিয়া কোথায়? ওর কি আজ কলেজ নেই?
কি যে করি মেয়েটাকে নিয়ে!
একদিকে আমাদের নিশি—ভোরে উঠে, নামাজ পড়ে, পড়াশোনা করে,
আর অন্যদিকে রিয়া—এখনো ঘুম ভাঙে নাই!”
নিশি হাসিমুখে বললো—
“চিন্তা করবেন না বড় আম্মু, গিয়ে ডেকে আনছি।”
খাওয়া শেষে নিশি হাত ধুয়ে সিড়ির দিকে যেতেই—

সিরির গোড়ায় দাঁড়িয়েই সে থমকে গেলো।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে ফারিস—
সাদা ফর্সা রঙ, উঠে যাওয়া চোয়াল, তীক্ষ্ণ চোখ,
মারাত্মক সুদর্শন, ৬’১” লম্বা এক রাজপুত্রের মতো লাগছে।
হাতে তার অফিসের স্যুট।
আজকে সে ফর্মাল পরে আছে—এতটাই সুদর্শন যে চোখ আটকে যায়।
নিশি একবার তাকালো…
তারপরই সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিলো। যেন তাকালেই অপরাধ হবে।
কিন্তু ফারিস?
সে তাকিয়ে রইলো—নিঃশব্দে, স্থিরভাবে—
তার চোখে বিস্ময়, বিরক্তি, আকর্ষণ—সব মিশে আছে।
ফারিসের মনে কথাটা নিজে নিজেই ভেসে উঠলো—

“কালো রংটা তোকে একটু বেশিই মানায় নিশি…
এত সুন্দর কেনো তুই?
কি আছে তোর মধ্যে?”
নিশি ভাবলো, “দেখলেই বা কি! আমি তো তাকে পাত্তাই দিচ্ছি না।”
সে দ্রুত উপরে চলে গেলো—
এমন ভাবে যেন ফারিস নামের মানুষটাই নেই।
ফারিস হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।

“এই মেয়েটা… আমাকে ইগনোর করছে??
আমাকে??
ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরীকে??”
তার ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
কিছুতেই সহ্য করতে পারলো না।
সে গম্ভীর মুখে নিচে চলে গেলো…

রিয়ার রুমে — দুই বোনের ছোট্ট মুহূর্ত
অন্যদিকে নিশি দ্রুত পায়ে রিয়ার রুমে গেলো।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখলো—রিয়া রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নিশি অবাক হয়ে বলল—
“বাহ! আমি তোকে ডাকতে আসলাম—তুই তো আগেই রেডি!”
রিয়া একটু মুচকি হেসে বললো—
“তুই কি আমাকে অলস ভাবিস নাকি?
আমি তোকে চমক দিয়েছি।”
নিশি ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো—
“থাক, থাক… তুই খুব পরিশ্রমী!
চল, আমি রেডি হতে যাই।”
রিয়া হাসতে হাসতে নিচে চলে গেলো।
নিশিও নিজের রুমে গিয়ে রেডি হতে লাগলো।

নিচে গিয়ে ফারিস ডাইনিং টেবিলে বসে বলল—
“আম্মু, তাড়াতাড়ি খাবার দাও।”
আফিয়া চৌধুরী অবাক হয়ে গেলেন।
“কি রে? তুই এতো তাড়াতাড়ি উঠলি কখন থেকে?”
ফারিস ঠান্ডা গলায় বলল—
“আজ থেকে।”
তার গলায় এমন সুর—যেন কিছু একটা ভুল হচ্ছে, কিছু একটা অস্থির করছে তাকে।
রিয়া এসে তার পাশে বসল।
আফিয়া চৌধুরী ধমকে বললেন—
“এতো দেরি হয় কেন তোর?”
রিয়া চুপচাপ মাথা নিচু করলো।
ফারিস বিরক্ত হয়ে বলল—
“তাড়াতাড়ি খা।
আর নিশিকে ডেকে আন—তোদের আমি কলেজে ড্রপ করবো।”
আফিয়া চৌধুরী হতভম্ব—

“তুই… তাদের ড্রপ করবি?”
ফারিস মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।
আমেনা চৌধুরী ঠোঁট চেপে হেসে বললেন—
“হুম… বোনদের প্রতি দায়িত্ব বেড়েছে বুঝি?”
কথাটা শুনে ফারিস তো ভিষম খেলো!
মানে—এটা তো অন্য মানে হয়ে যাচ্ছে! তার কাশি থামতেই চাইছিলো না।
—অনেক বেশি রেগেমেগে উঠে দাড়ালো। আফিয়া বেগম এগিয়ে এসে বললেন —
“কি হয়েছে ফারিস তুই এইভাবে উঠে দাড়ালি কেন?
ফারিস তার মায়ের কথার কোন জবাব না দিয়ে,রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল*
– “তাড়াতাড়ি নিশিতাকে নিয়ে গাড়ির দিকে আয় আমি গাড়িতে ওয়েইট করছি।”
এইবলে ফারিস বাহিরে বের হয়ে গেলো।

ফারিস চলে যাওয়ার পর নিশিতা নিচে নেমে আসলো। রেডি হয়ে কাধে ব্যাগ।
রিয়া তাড়াতাড়ি বললো—
“চল নিশি। দেরি হয়ে যাবে।”ভাইয়া ওয়েইট করছে।
কথাটা যেনো একপ্রকার বাজ পরলো নিশিতার মাথায়।
তারপর নিশি বললো—
“আমি গাড়িতে যাবো রাজু আঙ্কেলের সাথে।”
রিয়া হতবাক—

“তুই কি পাগল?
ফারিস ভাই তো আমাদেরকে ড্রপ করবে!”
ফারিস পেছন থেকে তাকালো—
মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে ক্ষেপে আছে।
আমেনা চৌধুরী আর আফিয়া চৌধুরীও অবাক—
“কেন যাবি না নিশি?”
নিশি চুপ।
কারণ ব্যাখ্যা করার মতো শক্তি তার ছিলো না।
রিয়া ফিসফিস করে বললো—
“প্লিজ আজকে ঝামেলা করিস না।”
নিশি কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো।

নিশিতা আর রিয়া গাড়ির কাছে এলো।রিয়া গাড়ির ভিতরে গিয়ে বসলো, আর নিশিতা দাঁড়িয়ে আছে কারণ ফারিস তার ঠিক সামনে দাড়ানো। সে কি বলবে বুঝে উঠতে পারছেনা।ফারিস নিশিতার উদ্দেশ্যে বলে
“আমি কি তোর পার্সোলান ড্রাইভার? আমার সাথে
ফ্রন্ট সিটে বসবি।”ওকে এখন আস। কথাটা বলে নিজে গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে পরে।
কিন্তু নিশি? সে পাত্তা দিলো না।
শান্তভাবে পিছনে রিয়ার পাশে গিয়ে বসল।
ফারিসের মেজাজ একেবারে খারাপ হয়ে গেলো।
চোয়াল শক্ত, চোখ রাগে লাল।
তবু কিছু বললো না।

৩০ মিনিট পর গাড়ি কলেজের সামনে থামলো।
নিশি নেমেই দৌড়ে ভেতরে চলে গেলো।
রিয়া পিছন থেকে বললো—
“আস্তে যা! পড়ে যাবি তো!”
ফারিস তাকিয়ে রইলো নিশির যাওয়া দিকে।
তার মনে প্রশ্ন—
“মেয়েটার কি হলো? এত জেদ কেন?এই মেয়েকে সোজা করতে হবে।।
এইসব বির বির করতে লাগলো –
ঠিক তখনই রাজীবের কল।সে বলল—
ভাইয়া জরুরি মিটিং আছে তাড়াতাড়ি আয় কোথায় আসিস।
ফারিস ঠান্ডা গলায়—
“আসছি।”
গাড়ি স্টার্ট দিলো—কিন্তু মন তার অন্য কোথাও।

নিশির মন খারাপ
নিশি ক্লাসে গিয়ে অহনার পাশে বসল।
স্যার পড়ানো শুরু করলেও তার মন পড়ে আছে কোথাও দূরে। সে চুপচাপ, স্থির, অস্বাভাবিক।
অহনা কয়েকবার জিজ্ঞেস করলো—
“নিশি, কি হয়েছে?”
নিশি ছোট করে—
“কিছু না।”
অহনা বুঝলো—
আজকের দিনটা অন্যরকম… অন্যরকম চাপা।

অন্যদিকে ফারিস অফিসে ঢুকেই মিটিং শুরু করলো।কিন্তু মনের কোথাও একটা অস্থিরতা—
যা সে স্বীকার করতে চায় না। মিটিংয়ের মাঝেই বিরক্তি ধরে গেলো। হঠাৎ চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়িয়ে কেবিনে চলে গেলো। চোখ বন্ধ করে চেয়ার টেনে বসল।
একটাই প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরে মরছে—
“নিশি… কেন আমাকে এভাবে এড়িয়ে চলে?”
সম্ভবত সে উত্তর জানে…
কিন্তু স্বীকার করতে চায় না।

এইদিকে—–
কলেজের শেষ ঘণ্টার ঘণ্টাধ্বনি যেন নিশিতার কানে বাজছিলো, কিন্তু তার মন যেন অন্য জগতে হারিয়ে গেছে। ক্লাসরুমের চুপচাপ পরিবেশ, বাইরে বাতাসে দোলা দেয়া গাছের শাখা, দূরে মাটির মাঠ—সবকিছু যেন এক অপরিচিত জগতে পরিণত হয়ে গেছে। নিশি এখনও তার নিজের ভেতরের ভাবনায় ডুবে আছে।
রিয়া আর অহনা তাদের ব্যাগ গুছিয়ে কাঁধে তুলতে তুলতে নিশির দিকে তাকালো। তারা অবাক হয়ে দেখল, নিশি আগের মতোই চুপচাপ বসে আছে, যেন সে সময়ের গতিকে ভুলে গেছে।
অহনা একটু হাঁটু গেড়ে নিশিতার সামনে গিয়ে মুখ টেনে বলল—

— “নিশিতা… ওই… ওঠ না!”ছুটি হয়ে গিয়েছে ব্যাগ গুছিয়ে নে আমাদের বের হতে হবে।
কোনো সাড়া নেই।
রিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল—
— “এই মেয়েটা আবার কোনো চিন্তায় ডুবে গেলো নাকি?”
অহনা কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে গেলো।
তারপর হঠাৎ খুব জোরে বলে উঠলো—
— “নিশুশু!!!”
আচমকা সেই ডাকেই নিশিতার ধ্যান ভেঙে গেল। চমকে উঠে তাকালো দু’জনের দিকে। অবাক চোখে বলল—
— “কি হয়েছে? এইভাবে ডাকছিস কেন, গাধা?!”
রিয়া আর অহনা দু’জনই হা করে তাকিয়ে রইলো। নিশিতা চারদিকে তাকিয়ে দেখে ক্লাসরুম খালি।

— “কিরে… সবাই কই??”
এবার রিয়া আর অহনা দু’জনেই ফিক করে হেসে দিলো। এমন হাসিতে নিশিতার মুখ আরও গম্ভীর হয়ে গেল।
— “কি হলো? তোরা আমার দিকে তাকিয়ে এমন হাসছিস কেন?”
অহনা হাসি থামিয়ে কোনো রকমে বলল—
— “এখন ছুটি হয়ে গেছে রে বোকা। তুই তো দিব্যি স্বপ্নের চিন্তার রাজ্যে ডুবে ছিলি।”
রিয়া তো হাসতে হাসতে চোখে পানি এনে ফেলল।
নিশিতা মুখ বেঁধে ব্যাগ গুছাতে লাগল। বিরক্ত গলায় বললো—
— “তোরা যা। আমি আসছি।”
রিয়া আর অহনা ক্লাসরুম ছেড়ে বের হয়ে গেল।

নিশিতা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বের হলো। করিডর পেরিয়ে মাঠের দিকে আসতেই তার চোখ স্থির হয়ে গেল। সামনেই দাঁড়িয়ে আছে নাভিদ।
হালকা বাতাস তার চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে। নাভিদের চোখে একটা অদ্ভুত দৃঢ়তা। মনে হচ্ছিল অনেকক্ষণ ধরেই সে অপেক্ষা করছে।
নিশিতা থমকে গেল।
— “তুই এখানে?”
নাভিদ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। চোখে একটা লাজুক হাসি।
— “নিশি… তোর সাথে কিছু কথা ছিল। খুব জরুরি।”
নিশিতা ভ্রু কুঁচকালো।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই রিয়া আর অহনা দূর থেকে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। রিয়া অনেক ভয়ে পেয়ে গেছে—
কারণ আজ ফারিস ভাই যদি তাকে আর নিশিতাকে নিতে আসে তখন কি হবে।
রিয়া গম্ভীর কণ্ঠে বলল—

— “অহনা… আজ যদি ভাইয়া এসব দেখে… তাহলে কিন্তু সর্বনাশ হয়ে যাবে।”
অহনার মুখ শুকিয়ে গেল—
— “চল… গিয়ে দেখি।”
দু’জনে কাছে এসে স্তম্ভিত হয়ে গেল।
নাভিদ ঠিক তখনই পকেট থেকে লাল গোলাপ বের করছে। পরক্ষণেই…
সে এক হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো নিশিতার সামনে!
চারপাশে যারা এখনও বের হয়নি, তারা থেমে তাকিয়ে আছে। মাঠ, করিডর—সবকিছু স্তব্ধ।
নিশিতা হতবাক।
নাভিদ জোরে সবার সামনে বলে উঠল—

— “I love you, Nishita. I really love you.
আমি তোকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারি না।”তুই কি আমার হবি???
মাঠ জুড়ে খেলা করা ছাত্রীরা থেমে গেল। ছেলেরাও তাকিয়ে আছে। বাতাসও স্থির।
আর দূরে… একটি গাড়ির জানালা দিয়ে সব দেখছিল ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরী।
তার চোখ লাল। রাগে ফেটে যাওয়ার মতো।
মুঠো শক্ত করে রেখেছে। সে এসে নাভিদকে ছিঁড়ে ফেলতে চাইলো…যেনো, কিন্তু নিজেকে থামালো।
তারপর কিছু একটা ভেবে রাজিবকে কল দিলো
কল দিলো রাজিবকে—
— “আমি নিশিদের কলেজে আছি তাড়াতাড়ি আয়। এখনই।”
বলেই রাজিবকে কিছু বলে না দিয়ে কল কেটে দিল…..

নিশিতা কিছু বলছিল না। নাভিদ দাঁড়িয়ে গেল, তার চোখে আশা। কিন্তু পরের মুহূর্তে—
চপ্! নিশিতার হাতের জোরে নাভিদের গালে নিখাদ ব্যথার দাগ ফুটে উঠল। সবাই হতবাক।
রিয়া আর অহনা তো একেবারে জমে গেছে।
নিশিতা ফুঁসে উঠল—
— “তোকে কতবার বলেছি, নাভিদ! আমি তোকে ভালোবাসি না! তুই শুধু বন্ধু! তুই কোন সাহসে আমার জীবনে ঢোকার চেষ্টা করছিস?!
সবার সামনে এসব করে কি প্রমাণ করতে চাস?
আমাকে হেয় করতে চাস? হাসির পাত্রী বানাতে চাস?!”
নাভিদ কিছু বলতে গেলেও নিশিতা থামিয়ে দিল—
— “আর কখনোই আমার সামনে আসবি না।”
রিয়া ছুটে এসে নিশির হাত ধরে বলল—
— “চল। অনেক হয়েছে।”
অহনাও রেগে নাভিদের দিকে তাকিয়ে বলল—
— “তুই তোকে কতবার বলেছি? আজকে যা করলি—এটার কোনো মানে হয়?!”
তারা তিনজন দ্রুত চলে গেল।

মেইন গেটের কাছে পৌঁছাতেই দেখা গেল—
ফারিস দাঁড়িয়ে আছে।
কালো শার্ট, ঠান্ডা দৃষ্টি, লাল চোখ।
রিয়ার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।
— “ওরে আল্লাহ… যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। ফিসফিস করে বললো রিয়া।
নিশি থেমে গেল।
ফারিসের চোখ তার চোখে ঠেকতেই নিশির বুক শুকিয়ে গেল।
রাজিবও ঠিক তখনই এসে দাঁড়াল।
ফারিস রিয়াকে তাকিয়ে বলল—

— “রিয়া রাজীবের সাথে বাসায় যা। এখনই।”
রিয়া বলতে যাচ্ছিল—
— “ভাইয়া আমি—”
ফারিস চিৎকার করে উঠলো—
— “যেটা বলেছি সেটা কর। ”
রিয়া আর অহনার পা থরথর করে কাঁপতে লাগল।
তারা গাড়িতে উঠে চলে গেল।
নিশিতা গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই—
ফারিস তার হাত ধরে ফেললো।
চেপে ধরা, রাগে কঠিন।
— “আমি তোকে যেতে বলেছি? কে বলেছে তোকে তুই গাড়িতে উঠবি?”
নিশি কাঁপা গলায় বলল—

— “আমি যাব না আপনার সাথে।”
ফারিস আর কিছু শুনলো না।
চড়!
চড়!
পরপর দুই চড়।
নিশির গাল ফুলে উঠলো। নিশির চোখে অশ্রু জমে উঠলো, কিন্তু সে চুপ। দাঁড়িয়ে রইলো।
ফারিস গর্জে উঠলো—
— “তোর মতো মেয়েকে কলেজে পাঠানো হয় এসব নষ্টামি করার জন্য?! ছেলেদের সাথে দাঁড়িয়ে এইসব করার জন্য তোকে কলেজে পড়তে আসিস?
নিশি কিছু বলতে চাইলো, কাঁপা গলায় বলল—
— “ফারিস ভাই… আপনি আমাকে ভু—”
নিশিতার কথাটি না শুনে, ফারিস নিশিতাকে থামিয়ে দিলো,
তারপর চেঁচিয়ে উঠলো—
— “চুপ! আর একটি শব্দ বেরোলেই তোকে মেরে ফেলবো একদুম মেরে ফেলবো ।”এখন গিয়ে গাড়ির পিছনের সিটে বস।”আমি আর কোনো কথা বলতে চাইনা।
নিশির ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগলো। সে গাড়িতে গিয়ে বসে পড়লো।

পুরো রাস্তা জুড়ে গভীর নীরবতা।
শুধু নিশির নীরব কান্না।
ফারিসের চোখ সামনে, কিন্তু মন ঝড়ের মধ্যে।
সে নিজেকে শান্ত করতে পারছে না—
একইসাথে ক্রোধ, অপরাধবোধ, ভয়, অস্থিরতা তাকে গ্রাস করছে।
নিশির মাথায় তার বলা কথাগুলো ঘুরছে—
—”নষ্ট মেয়ে, ছেলেদের সাথে নষ্টামি করার শখ
আমার সামনে দেখতেও ঘৃণা লাগে।
এই কথাগুলো তাকে ভেঙে দিচ্ছে।
তার বুকের ভেতরটা চিৎকার করতে চাইছে—
“আমি কিছু করিনি!”
কিন্তু গাড়িতে সে নির্বাক।

বাড়িতে পৌঁছাতেই নিশি দৌড়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।
দরজা বন্ধের আওয়াজ পুরো বাড়িতে প্রতিধ্বনি হলো।
সে বেডে পড়ে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো।
হেসে উঠলো না, শুধু কাঁদলো।
— “আপনি আমাকে নষ্ট মেয়ে বললেন কেন?
আমি কি করেছি?আমি কি দোষ করেছি?” আমার কথাটা না শুনে এতো কিছু বলে দিলেন???তার গলা ভেঙে গেল।
কথা গুলো বলতে বলতে ঘুমিয়ে গেলো।

ফারিস বক্সিং রুমে ঢুকলো।
গ্লাভস ছাড়াই বক্সিং ব্যাগে ঘুষির পর ঘুষি মারতে লাগলো।
ব্যাগ দুলছে, ঘুষির শব্দ পুরো ঘর কাঁপিয়ে তুলছে।
— “ওই জানোয়ারকে… আমি ছাড়ব না!
সে সাহস দেখায় আমার নিশিতার দিকে হাত বাড়ায়?
ওকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবো আমি!”
ঘুষির শব্দ এত তীব্র যে, রিয়া সামনে দাঁড়িয়েও ভয় পেয়ে গেল।
— “ভাইয়া… আসবো?”
ফারিস থামলো না।
কিছুক্ষণ পর সোফায় বসে বলল—

— “আয়।”
রিয়া ভিরতে গিয়ে বুঝতে পারলো ফারিস রেগে আছে শান্ত গলায় বললল—
—”ভাইয়া আজকের ঘটনায় নিশির কোনো দোষ নেই । এমনি নিশি নাভিদকে চড় ওব্দি মেরেছে। নিশি সবসময় ওকে এড়িয়ে চলে কিন্তু আজকে ও বেশি করে ফেলছিলো তাই নিশি রেগে গিয়ে ওকে চড় মেরেছে।”
হঠাৎ করে ফারিসের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেলে।
মনে মনে বলল—
ওহ্ শীট, আমি না জেনে শুনে আমার হার্টবিট কে আঘাত করে ফেললাম.। এতো গুলো বাজে কথা বললাম। এখন কি করবো? এমনিতেই জেদের শেষ নেই । এরপর যদি আবারও কিছু হয়৷
ফারিস রিয়াকে যেতে বলল….!
রিয়াও চলে গেলো।

ফারিস নিজের রুমে গিয়ে লম্বা সাওয়ার নিলো। কালো টিশার্ট আর কালো ট্রাউজার পরে নিচে গেলো।
খাবার টেবিলে দেখলো সবাই আছে।
নিশি নেই। ফারিস আমেনা চৌধুরী জিগ্যেস করলো…..
নিশি কোথায় মামনি?
আমেনা চৌধুরী হতাশ হয়ে বললেন….
—”আসা মাত্রই নিজের রুমে দৌড়ে চলে গেলো তারপর থেকে আর খোজ নেই। মেয়েটাকে নিয়ে যে আমি কি করি।
ফারিস চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো।
ফারিসের উঠা যাওয়া দেখে আমেনা চৌধুরী বললেন…..
—খেয়ে যা না খেয়ে কোথায় যাচ্ছিস??

ফারিস বলল….
আমার ক্ষুধা নেই।
কেউ আর কিছু বলল না। সবাই খাওয়াই মনোযোগ দিলো।
ফারিসের উপরে গিয়ে নিশির দরজায় নক করলো
বেশ কয়েকবার। কিন্তু ভিতর থেকে কোনো সারা পাওয়া গেলো না। ফারিস নিজের রুম থেকে এক্সট্রা কি নিয়ে আসলো৷
নিশির রুমের দরজা খুলে দেখলো৷.. নিশি বেডের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। কান্না করার জন্য ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে ।
এসব দেখে ফারিসের অনুসূচনা হলো। সে নিশির কাছে গিয়ে বসলো। নিশিকে কোলে তুলে জড়িয়ে নিলো। বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলল….

সরি মাই হার্টবিট, আমি তোকে আঘাত করতে চাই নি। কিন্তু তখন রাগের জ ন্য আমার মাথা ঠিক ছিলো না।
নিশির শরীর অতিরিক্ত গরম। ফারিস বুঝতে পারলো নিশির জ্বর এসেছে। এর মাঝেই নিশি কিছু বিড়বিড় করে বললল…. নিশি ঘুমের ঘোরে বলে—
“কবে আমাকে ভালোবাসি বলবেন?
আর কত দিন অপেক্ষা করাবেন?
ফারিস ভাই—
ফারিস নিশিকে কোলে
রেখেই বোকের সাথে আরও শক্ত
করে জরিয়ে বলল—
“আমি অন্যদের মতো নিজের
ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারিনা নিশি ”
কিন্তু দেখিস তোকে এমন ভাবে আগলে রাখবো,এমন গভীর ভাবে ভালোবাসবো”

— যে তুই আগের সব কষ্ট ভুলে যাবি।
কথাগুলো শেষ করতেই ফারিসের বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠল যেনো। তারপর নিশির গালে হাত রাখতেই সে আবার ফিসফিস নিশিতা ঘুমের ঘোরে বলল —
— “ফারিস ভাই… যাবেন না…”
ফারিস নিশির হাত শক্ত করে ধরলো—
— “আমি কোথাও যাচ্ছি না, নিশি।
আমি তোকে একা ছাড়বো না।”
তার চোখ ভিজে উঠলো।
কিন্তু নিজের অশ্রু সে চেপে রাখলো।
নিশির কপালে চুমু দিয়ে বলল—
— “ঘুমা… আমি আছি। সবসময়।”
রাত গভীর হলো।

কিন্তু ফারিস নিশির হাত ছাড়েনি। নিশির পাশে বসেই সারারাত জেগে রইলো। তার চোখে একটাই ভয়—আজ সে যাকে ভেঙে ফেলেছে…কাল সে কি তাকে ক্ষমা করবে?
আর মনে মনে একটাই কথা—
“আমি তোকে ভালোবাসি, নিশি…
যতটা তুই ভাবতেও পারবি না।”কিন্তু এখন না তুই আমার দূর্বলতা এইটা তোকে বোঝতে দেওয়া যাবেনা কারন তুই অনেক ছোট্ট জান পাখি……..

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৯+১০

ফারিস সারারাত নিশিতাকে কোলে নিয়ে বসে ছিলো তাই কখন ঘুমিয়ে গিয়েছে মনে নেই। ফজরের আজান কানে আসতেই ফারিস চোখ খোলে এরপর সব মনে পরতেই নিশিতাকে খাটে আসতে করে বালিশে শুইয়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।
এই দিকে নিশিতা…………

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ১৩+১৪