চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫
আরোবা চৌধুরী আরু
বাড়ির প্রধান দরজাটা খুলল।
রাশিদ ভিলার রাজকীয় মার্বেল ফ্লোরে পড়ল কালচে লেদারের বুটের শব্দ।
ভেতরে ঢোকার পর থেকে নাফিসা চারদিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছে। সে এর আগে এমন বাড়ি কখনো দেখেনি।সে তো বড় হয়েছে গ্রামে, শুধু একটু স্কুল যাওয়ার আশা ছাড়া বাইরের জগত সম্পর্কে তার ধারণা খুবই কম। নাফিসা যেন নিঃশব্দেই ঢুকে পড়ল এই বিশাল অজানা জগতে।রাশিদ ভিলার রাজকীয়তা যে কাউকে শিহরিত করে দিতে পারে,
দ্বারপ্রান্তে কার্ভিং করা সোনালী প্যানেল, ছাদের দিকে তাকালে চমকে উঠতে হয় ঝাড়বাতির ঝলকে,
আর একপাশে বাঁধানো গোলাপি ও বেগুনি ফুলে ভরা বিশাল বড় টেবিল।চারদিকে দামি দামি জিনিসপত্র। এত বড় বাড়ি দেখে সে অবাক। মনে হচ্ছে কোন রাজপ্রাসাদে চলে এসেছে।
দেয়ালে লম্বা লম্বা পারিবারিক ছবি। পুরনো দিনের দাদু-দাদী থেকে শুরু করে বাচ্চাদের শৈশব ছবি,
নাফিসা যখন এগুলো অবাক হয়ে দেখছিল, ঠিক তখনই কেউ ছুটে এল তাদের দিকে।
সামনে তাকিয়ে দেখে সালোয়ার কামিজ পরা, দেখতে খুব ফর্সা, ফিটফাট গড়নের এক সুন্দরী মাঝবয়সী মহিলা বয়সটা ঠিক কত হবে তা বুঝে উঠতে পারলো না নাফিসা।
আফিয়া বেগম ছুটে এলেন সামনে।
তিনি তাঁর ছেলে সায়মানকে বুকে চেপে ধরলেন, যেন হারিয়ে যাওয়া কোনো প্রিয় জিনিস ফিরে পেয়েছেন অনেকদিন পর।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“তেহু, আমার সোনা ছেলে! আল্লাহ গো, কতদিন পর এলি!”
চোখে জল, কণ্ঠে কম্পন, বুকের গভীরে জমে থাকা মাতৃ-আবেগ যেন ফেটে পড়ল।
তাঁর কণ্ঠস্বর বাড়ির রাজকীয় দেয়াল ছুঁয়ে ছড়িয়ে পড়ল যেন।
মা কথা মনে পড়ে না, তাই না? চোখের পানিতে ছেলের বুক ভিজিয়ে দিলেন।
নাফিসা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে। সে বুঝতে পারল, এ হয়তো পুলিশ অফিসারের মা হবেন।
পেছন পেছন ছুটে এসে হাজির হলেন বিলকিস আরা।
নাতিকে এতদিন পর দেখে তাঁর চোখেও পানি চলে এল।
তাঁর বড় নাতি দেখতে যেমন তার , বড় ছেলের মতো। তেমনি তার বড় ছেলের মতো ঘাড়ত্যারা যা বলে তাই করে।
আজ দীর্ঘ ছয় মাস পর সায়মান বাড়ি ফিরলো।
“সায়মান দাদুভাই, কী মনে পড়ল আমাদের কথা এতদিন পর?”
সায়মান মুচকি হেসে, আরেক হাতে দাদুকে আগলে নিল।
ইমা বেগম,
“সায়মান আব্বু, কেমন আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো, ছোট আম্মু। তোমরা কেমন আছো?”
“তুমি যেমন রেখেছো আমাদের।”
সায়মান মলিন হাসল।
রুহি, উচ্ছ্বসিত কিশোরী বয়সের প্রাণবন্ততা নিয়ে দৌড়ে এল,
আর রিশা, একটু নীরব, কিন্তু মুখে চওড়া হাসি।
দুই বোন ছুটে গিয়ে “দাভাই” বলে চিৎকার করে জড়িয়ে ধরল সায়মানকে।
সায়মান আগলে নিল দু’হাত দিয়ে সবাইকে ।
রাহিল ও ছুটে গিয়ে সায়মানের পা জড়িয়ে ধরল।
এত কিছুর মাঝেও কেউ লক্ষ করল না সেই এক অচেনা মেয়েটিকে…
এক পা পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা নাফিসাকে।
সে নীরব, একটু নত মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
এক হাতে ছোট্ট একটা সুটকেস, অন্য হাতে ওড়নার পাড় মোচড়ানো। তাকে যেন এই আলোর ঝলকানি আর রাজকীয়তার মাঝে বেমানান মনে হচ্ছে। সেও বাড়ি থেকে ছোট্ট একটা কোন রকমে ব্যাগ নিয়ে এসেছিল যাতে তার বাবা-মায়ের স্মৃতি ছিল কিছু কিছু। তাহমিদ ইকবাল এখানে আসার আগে এই সুটকেস ভোরে কিছু জামাকাপড় নিয়ে এসেছে তার জন্য।
সায়মান নিষেধ করেছিল তবু সে শোনেনি । তার ভিতর থেকে একটা ড্রেস পরে এসেছে। বিয়ের সাজে তো আর আসতে পারবে না।
এই রকম বাড়ি সে আগে কখনো দেখেনি।
নির্বাক বিস্ময়ে হঠাৎ তার গলা শুকিয়ে আসে, শ্বাস দ্রুত হয়ে আসে। সে বুঝতে পারল, এরা সবাই পুলিশ অফিসারের পরিবার…
ঠিক তখনই… এক তীক্ষ্ণ অনুভূতি হল তার।গায়ে একটা গভীর, স্নায়ু-চাপ তৈরি করা দৃষ্টি পড়ল যেন।
সে ধীরে ধীরে সামনে তাকাল।
সামনেই দাঁড়িয়ে আছে সায়ফান।
তাঁর গায়ে হালকা খোলা বোতামের শার্ট,জেল দিয়ে সেট করা চুল, হাতে গিটার। নাফিসা টিভিতে এমন বাড়ি, এমন মানুষজন মুভিতে দেখেছে সে৷ ।চোখ দুটো ঘোরানো স্ক্যানারের মতো যেন দেখছে তাকে
তাঁর চোখের চাহনিতে কৌতূহল, বিচার, আর একটা নিঃশব্দ চ্যালেঞ্জ। দারিতে হাত বুলাচ্ছেন। চোখে কৌতূহলী সন্দেহ,
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, যেন এক নজরেই পড়ে ফেলবেন মেয়েটির মনোজগৎ। বিশেষজ্ঞদের মত করে পর্যবেক্ষণ করছে।
চোখের দৃষ্টি ধীরে ধীরে স্ক্যান করছে নাফিসাকে, তার হাতের কাঁপুনি, মুখের বিবর্ণ ভাব ওড়না, চোখের ভাষা, পায়ের ভয়, হাতের থরথরানি, মুখের বিবর্ণ ভাব…
কিছুই অদৃশ্য নয় তাঁর কাছে।
নাফিসার বুক ধক করে উঠল। সে সঙ্গে সঙ্গে সায়মানের দিকে চেপে গিয়ে পিছন থেকে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল, তার শার্টের এক কোণা শক্ত করে চেপে ধরল নিজের কচি আঙুলে।
সায়মান শার্ট কেউ চেপে ধরায় মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখল নাফিসা,
ভয়ভরা ও কৌতূহলমুখ চেহারা ওর মাথা নিচু করে ফিসফিসিয়ে বলল,
“ভয় পাচ্ছো?”
নাফিসা কিছু বলল না, কেবল মাথা দুলিয়ে ‘না’ জানাল।
কিন্তু তার চোখ, ওড়নার ভাঁজ, বুকের উঠা-নামা সবকিছুতেই ভয় স্পষ্ট। সে যেন গলা চেপে আসা এক অচেনা পরিবেশে আটকে গেছে।
সবাই ব্যস্ত… কেউ নোটিস করেনি নাফিসাকে ।
ঠিক তখনই…
সায়ফান নিজের গিটারটা এক পাশে রেখে,
দাড়িতে আবারও হাত বুলিয়ে, এক দৃষ্টিতে নাফিসার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
“ডাল মে কুচ কালা হ্যায়…
আপন কা সিক্স সেন্স কাভি গালত নেহি হোতা।”(বলেই ঠোঁটে বাঁকা এক হাসি টেনে, কাঁধ একটু ঝাঁকিয়ে, আত্মবিশ্বাসের ছাপ রেখে)
সে যতদূর জানে তার ভাই মেয়েদের থেকে দূরে থাকে, মনে হয় তার এলার্জি আছে মেয়েদের কাছে, যদিও বা এটা একটা ছোট্ট পিচ্চি মেয়ে তার ভাই কোন পিচ্চিকে বিয়ে করবে না যাই হোক। সে মাঝে মাঝে ভাবে ভাইয়ের আবার কোন সমস্যা সমস্যা নেই তো বিয়ে করতে চাই না বলে। এক বার তো সে ভেবে রেখেছিল বড় ভাইয়া আসলে তাকে ডক্টর এর কাছে নিয়ে যাবে। কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি দেখা যাবে জুতো খুলে তার দিকে ছুড়ে মারবে।
সায়মান নাফিসার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভয়ের কিছু নেই। আজ থেকে এটাই তোমারও পরিবার।”
সায়মানকে কারো সঙ্গে কথা বলতে দেখে সবাই একটু দূরে সরে দাঁড়াল।
সবার দৃষ্টি গেল তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীর দিকে।
আনারকলি আর চুড়িপাজামা পরা, সাদা-হালকা হলুদের মিশ্রণে ওড়নাটা মার্জিতভাবে মাথায় পেঁচানোছোট্ট মায়াবী পুতুলের মত দেখতে এক মেয়ে,যে এক হাতে সায়মানের শার্ট আঁকড়ে ধরেছে।
সবাই তাকিয়ে রইল।সবার চোখে প্রশ্ন।
সায়মান বলল,
“ও হলো নাফিসা। আজ থেকে বাড়িতেই থাকবে।”
“দাদুভাই, এটা কে গো?”
সবাইয়ের মুখেই একই প্রশ্ন।
সায়মান বলল,
“আমার একাডেমির এক বন্ধুর বোন। ওর বাবা-মা অনেক আগেই মারা গেছে। সম্প্রতি আমার সেই বন্ধু একটা মিশনে শহীদ হয়েছে।ওর আত্মীয় বলতে কেউ নেই, দেখাশোনার মতোও কেউ নেই। তাই আমি ওকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি।”
(বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
সে তো কখনো মিথ্যে কথা বলে না,কিন্তু পরিস্থিতির চাপে এখন কত কিছুই করতে হচ্ছে।)
আফিয়া বেগমের চোখ নরম হয়ে এল।
চোখে ভাসছে সদ্য আসা সেই সরল মুখটা,নাফিসা।
সে দাঁড়িয়ে আছে , লোকচক্ষুর আড়ালে, নিঃশব্দ। চোখে কেমন এক অনিশ্চয়তা, ভাবছে যাবে, না যাবে?
আফিয়া বেগম বুঝলেন,এই মেয়েটা আর পাঁচজনের মতো নয়।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন নাফিসার দিকে। গলার স্বরটা কোমল, ভরাট মায়ায় ভরা।
“এই যে মা… এদিকে এসো।”
নাফিসা চমকে সায়মানের দিকে তাকাল।যাবে, না যাবে দোটানায় তার চোখ টলটল করছে। সে যেন মনে মনে জানতে চাইছে,
“আমার কী করা উচিত?”
সায়মান চোখের ইশারায় মাথা একটু নাড়ল,
“যাও।”
তার চোখে নির্ভরতার ছায়া।
নাফিসা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল।
আফিয়া বেগম হাত বাড়িয়ে দুহাতে আগলে নিলেন নাফিসাকে, বুকের কাছে টেনে নিলেন এমনভাবে, যেন বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া কন্যাকে আবার ফিরে পেয়েছেন।
তাঁর গলায় অদ্ভুত কাঁপন,
“তুই জানিস মা, আমার একটাই শখ ছিল, একটা মেয়ে হবে।
আল্লাহ দিলেন না।এই বাড়ির বাকি মেয়েগুলোকে ঠিক নিজের মতোই ভালবাসি,ওদের মতো তুই ও আমার মেয়ে আজ থেকে।
তোর কথা শুনে… কেমন যেন বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
তুই কাউকে আপন-পর ভাববি না।এই বাড়ি, এই মানুষগুলো… এখন থেকে তোরও। আমাকে তুই ‘মামনি’ বলেই ডাকবি।”
নাফিসার চোখ ভরে এল জলে।
সেই কাঁপা কাঁপা চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ করে সে মাথাটা রেখে দিল আফিয়া বেগমের বুকে।একটা গন্ধ, অপরিচিত, তবু বড় চেনা…সে চোখ বন্ধ করে গন্ধ নিতে লাগল।মনে পড়ে গেল তার নিজের মা। কী আশ্চর্য, সেই গন্ধটাই যেন মিশে আছে মামনির গায়ে ।
সেই ঘ্রাণ, সেই কোমল ছোঁয়া, সেই শব্দহীন ভালোবাসা ,
এক মুহূর্তে যেন তাকে শৈশবে ফিরিয়ে নিল। তার মায়ের কথা মনে পড়ছে খুব অনেক ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছে সে। তারপর থেকে মায়ের মত তাকে কেউ বুকে আগলে নেই নি।
“দাভাই! এটাতো এক্কেবারে পুতুল!”রিশা আর রুহি একসাথে চেঁচিয়ে উঠল।
রুহির গলায় ছিল খুশির সুর,
রিশা চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে নাফিসার দিকে,
ছোট রাহিল, এক কোণায় দাঁড়িয়ে শান্তভাবে সব দেখছিল।
সে বেশি কথা বলে না, সে ছোট ছোট চোখে বড় বড় বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল নাফিসার দিকে।
তার চোখের চাহনিতে অবাক প্রশংসা,কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই। শুধু চুপচাপ তাকিয়ে আছে, যেন বুঝে নিচ্ছে,এই নতুন মানুষটা কেমন।
বিলকিস আরা ধীরে এগিয়ে এলেন।তাঁর চোখে কোমলতা, মুখে শান্ত হাসি।নাফিসার হাত ধরে কাছে টেনে নিলেন, জড়িয়ে ধরলেন পরম আদরে।
“আয় আমার কাছে , তুই এখন থেকে আমাদেরই।
ভয় পেয়ও না । এই বাড়িতে তোকে কেউ কষ্ট করতে দিবে না।”
তার গলার স্বরে অভয়, আদর আর আশ্বাস সব দিয়ে বলে উঠল।
তারপর তিনি পাশের একজন গৃহকর্মীকে ডেকে বললেন,
“উপরের একটা রুম একটু ভালো করে পরিষ্কার করে দেও।
নতুন সদস্য এসেছে পরিবারে , ওর জন্য সব গুছিয়ে রাখো ।”
তিনি আবার ফিরে তাকালেন রুহি আর রিশার দিকে।
“তোমরা দুইজন ওকে নিয়ে যাও, ফ্রেশ হতে দাও।
ও তোমাদের সাথেই থাকুক আপাতত।”
রুহি ও রিশা এক লাফে এগিয়ে এলো।
রুহি তো লাফিয়ে জড়িয়ে ধরল,
“এই যে পিচ্চি! একদম টেনশন নিবি না।তুই এখন আমাদের পরিবারের সদস্য!তোর চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তুই একেবারে কিউটনেসের হিরোইন!”বলেই ঠাট্টার ছলে ওর গাল টেনে দিল।
রিশা কোমলভাবে বলল,
” তুই আমাদের ছোট, তাই তুই করে বললাম।আশা করি রাগ করবি না!তার কণ্ঠে ছিল নিখাদ খুশি আর উচ্ছ্বাস।
নাফিসার চোখ থেকে আবার পানি গড়িয়ে পড়ল।
এই এত অচেনা পরিবেশে এত ভালোবাসা পেয়ে যেন সে নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।
সে চুপচাপ চোখের জল মোছে আর বলে,
“তোমরা সবাই অনেক ভালো।আমি তো শুনেছিলাম বড়লোকরা অহংকারী হয়। কিন্তু তোমরা… তোমরা একদমই আলাদা।”
রুহি হেসে উঠল,
“তোকেই কে এসব শিখিয়ে দিয়েছে পিচ্চি?”
রিশা বলল,
“মানুষ এত ভাবে কেন? চল, তোর ঘর দেখাই!”
ওরা হাসতে হাসতে হাত ধরে উপরের দিকে নিয়ে যেতে লাগল নাফিসাকে।
ওদের যাওয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সায়মান।
এদিকে সায়ফান এগিয়ে এলো সায়মানের দিকে।চোখে ছায়ামাখা হাসি, ভেতরে চাপা উচ্ছ্বাস। সে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল বড় ভাইকে।
“দাভাই, অনেক দিন পর তোর গলা জড়িয়ে ধরলাম।
মনটা যে কেমন হয়ে গিয়েছিল!”
সায়মানও ওকে আগলে নিল।
গলার স্বর একটু থমথমে, কিন্তু তাতে ভালোবাসা মিশে ছিল,
“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
তুই কেমন আছিস, দুষ্টুটা?”
“তোর দেখা না পেয়ে প্রায় সবার উপর রাগ হচ্ছিল।”
বলেই দুই ভাই হেসে উঠল।
ভাইয়া তুমি তো সাথে করে একটা ডল নিয়ে এসছো আমি ভাবলাম, এইবার মনে হয় সকলের আসা পূরণ করে বউ নিয়ে এলে তার পর দেখলাম এটা গো একখান পিচ্চি আশায় পানি ডেলে দিলে হতাশ হয়ে সায়মানের দিকে তাকালো বোঝার চেষ্টা করলো সায়মানের মুখের অবস্থা।
এদিকে সায়মান বিয়ের কথা শুনে মনে হলো থমকে গেল। তারপর চোখ গরম করে সায়ফানের দিকে তাকালো।
ঠিক তখনি আফিয়া বেগম ওদের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তেহু, উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও।
পরে কথা বলবে। আফিয়া বেগম সায়মানকে ভালোবেসে তেহু বলে ডাকে।
তোমার খাবার কি আমি উপরে পাঠিয়ে দেব, না তুমি নিচে আসবে খেতে?”
সায়মান জবাব দিল,
“না আম্মু, দরকার নেই। আমি নিচেই আসব।”
বলেই ধীরে ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে চলে গেল।
আফিয়া বেগম আবার বললেন,
“সায়ফান, তুই রাহিলকে নিয়ে যা ডক্টরের কাছে লেট হয়ে যাচ্ছে।
সায়ফান হাঁসলো। রাহিলের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আয়, চল তোর মূল্যবান সম্পদ কাটতে যাই!”বলেই হঠাৎ এক ধাক্কায় রাহিলকে কাঁধে তুলে নিল,রাহিল হেসে হেসে বলল,
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪
“ভাইয়াাা… নামাও!”
এভাবেই এক নতুন সকালের সূচনা ঘটল রাশিদ ভিলায়।
নাফিসার নতুন জীবন শুরু হলো,
ভয়ের ছায়া সরিয়ে,গেল না কি কোনো নতুন কিছুর দেখা মিলবে নাকি ভালোবাসার আলোয় ভরা এক নতুন অধ্যায়।
