জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৬৭
লামিয়া রহমান মেঘলা
মধ্যরাতে আদ্রিতা কাউকে বিরক্ত করে, এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি বললেই চলে। মেয়েটা যেমন চুপচাপ ও শান্ত স্বভাবের, তেমনি এই গর্ভাবস্থার সময়টাতেও সে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যেন তার জন্য কারও কোনো অসুবিধা না হয়। আর এই কারণেই বাড়ির সবাই তাকে একটু বেশিই আগলে রাখে। কারণ তারা জানে, আদ্রিতা নিজ থেকে কাউকে কিছু বলতে পারে না। কোনো কষ্ট হলে মুখ ফুটে জানাবে না, বরং নীরবে সবটুকু সহ্য করে যাবে।
কিন্তু আজকের রাতটা যেন একটু ভিন্ন।
গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে যায় আদ্রিতার। শরীরটা ঘামে ভিজে উঠেছে। এই সময়টাতে অনেক মায়েরই শরীরে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয়, নানা রকম শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আদ্রিতার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
চোখ মেলে সে দেখতে পেল, আদ্রিস তাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। আদ্রিতা ধীরে ধীরে আদ্রিসের হাতটা নিজের পেটের উপর থেকে সরিয়ে বিছানায় উঠে বসল। তার ভীষণ খিদে পেয়েছে।
বিছানা ছেড়ে নামতেই দরজার দিকে পা বাড়ালো সে। কিন্তু ঠিক তখনই হাতে একটা টান অনুভব করল।
আদ্রিতা ফিরে তাকাল।
আদ্রিস জেগে উঠেছে। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে আদ্রিতার মুখের দিকে।
আদ্রিতা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল,
“কি হয়েছে?”
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
“প্রশ্নটা তো আমার করা উচিত। কি হয়েছে?”
আদ্রিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত গলায় বলল,
“খিদে পেয়েছে।”
কথাটা শুনেই আদ্রিস আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে উঠে দাঁড়িয়ে আদ্রিতাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল।
আদ্রিস তাকে নিয়ে নিচে নেমে এল। কিচেন কাউন্টারের উপর সাবধানে বসিয়ে দিয়ে ফ্রিজ খুলে দেখতে লাগল কী আছে খাবারের জন্য।
ঠিক সেই সময় পানি নিতে রান্নাঘরে এসেছিলেন মিসেস মিহু। আদ্রিস আর আদ্রিতাকে দেখে তিনি অবাক হয়ে এগিয়ে এলেন।
“কি হয়েছে? আদ্রিতা মা এত রাতে রান্নাঘরে?”
আদ্রিস হেসে বলল,
“নাথিং মম, আপনার মেয়ের খিদে পেয়েছে, তাই নিয়ে এলাম।”
মিসেস মিহু হাতের জগটা পাশে রেখে মৃদু হেসে বললেন,
“এই সময়টাতে এমন হয়। আমারও হতো। আমার আদ্রিতা কত শান্ত, তোকে জ্বালায় না আদ্রিস। আমি কিন্তু তোর শ্বশুরকে অনেক জ্বালিয়েছিলাম। বেচারা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেই পারত না।”
মায়ের কথা শুনে আদ্রিতা ফিক করে হেসে উঠল।
সেই হাসি দেখে আদ্রিসের ঠোঁটেও হালকা হাসি ফুটে উঠল।
ইতোমধ্যে চুলার উপর খাবার গরম হতে দিয়েছে আদ্রিস।
মিসেস মিহু আবার বললেন,
“আমার জন্যও কর বাবা। মেয়ের সাথে আমিও খাব।”
আদ্রিস মজা করে বলল,
“আর তোমার ডায়েটের কি হবে মম?”
মিসেস মিহু নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন,
“ওটা পরে করে নেব, সমস্যা নাই।”
আদ্রিস মাথা নেড়ে আবার খাবার গরম করার কাজে মন দিল।
কিছুক্ষণ পর খাবার গরম হয়ে গেলে সে সুন্দর করে টেবিলে পরিবেশন করল।
আজকাল আদ্রিতার ঝালের প্রতি অদ্ভুত একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। ভাতের সঙ্গে আলাদা করে কাঁচামরিচ নিয়ে খেতে তার বেশ ভালো লাগে। আর ভাত ছাড়া অন্য কোনো খাবার যেন তার মনই ভরাতে পারে না।
তৃপ্তি ভরা মুখে আদ্রিতা ভাত খেয়ে চলেছে।
আর তার সামনে বসে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে আদ্রিস ও মিসেস মিহু।
খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে মা আর মেয়ের টুকটাক গল্প চলছে। কখনো দুজনের হাসির শব্দ ভেসে উঠছে, কখনো আবার পুরোনো স্মৃতির কথা মনে করে মৃদু হাসিতে মেতে উঠছে তারা।
রাতের নিস্তব্ধ রান্নাঘরটাও যেন তাদের সেই হাসির উষ্ণতায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
কিন্তু এই সুন্দর দৃশ্যের সাক্ষী ছিল আরেক জোড়া চোখ।
সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে সবকিছু গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছিল কেউ একজন।
সে আর কেউ নয়, মাধবী বেগম।
তার চোখে তখন রাগের আগুন জ্বলছে।
কেন জানি না, রাদিয়া সুলতানা মিহুর এই সুখ, এই পারিবারিক উষ্ণতা, এই নিঃস্বার্থ আনন্দ তার সহ্য হচ্ছে না।
নিচে বসে থাকা তিনজন মানুষের হাসি, গল্প আর ভালোবাসায় ভরা মুহূর্তগুলো যেন তার বুকের ভেতর অদৃশ্য এক অস্থিরতার আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
যতই সে দৃশ্যটা দেখছে, ততই তার ভেতরে জমে থাকা হিংসা আর ক্ষোভ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।
মনে হচ্ছে, এই আনন্দ, এই শান্তি, এই পারিবারিক বন্ধন তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
আর সেই কারণেই হয়তো সিঁড়ির অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা তার চোখ দুটো ক্রমশ আরও কঠিন, আরও অগ্নিময় হয়ে উঠছে।
পরদিন সকাল থেকেই মেনশনজুড়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছিল। সকাল সকাল পাঁচজন হেনা আর্টিস্ট এসে পৌঁছেছে। আজ সবার হাতে মেহেদি পরানোর আয়োজন। আর বিকেলে মিরাকে ঘিরে হবে ছোট্ট এক হলুদের অনুষ্ঠান।
বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ। আদ্রিস এবং রেভেন মিলে এমন এক গ্র্যান্ড ওয়েডিংয়ের পরিকল্পনা করেছে, যার প্রতিটি আয়োজন নিখুঁতভাবে সাজানো হয়েছে। সায়ের বর মানুষ, তাই এসব আয়োজনের খুঁটিনাটি নিয়ে সে খুব একটা মাথা ঘামায়নি।
সকাল থেকেই একে একে মেনশনে আসতে শুরু করেছে আদ্রিস এবং সায়েরের বিজনেস পার্টনাররা, তাদের বন্ধুরা, আর মিসেস মিহুর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীরা। সবার থাকার জন্য আগেভাগেই সুব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে যেহেতু আজ মেহেদি এবং হলুদের আয়োজন, তাই অতিথিরা বেশ সেজেগুজেই এসেছে আনন্দে অংশ নিতে।
আদ্রিতা আজ স্বাভাবিকভাবেই হালকা সাজগোজ করেছে। তার শরীর এখন খুব একটা ভালো নয়, তাই কেউ তাকে কোনো কিছুতেই জোর করেনি। তবুও সে পরেছে একটি অপূর্ব সুন্দর পোশাক।
মেয়ের জন্য সব পোশাক নিজ হাতে কিনেছেন মিসেস মিহু। তবে সেই পোশাকগুলোর মধ্যে আদ্রিতা কোনটা পরবে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদ্রিস।
মূলত আদ্রিতার সবকিছুতেই আদ্রিসের এক নীরব অথচ দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
মেকআপ আর্টিস্ট থাকা সত্ত্বেও মিসেস মিহুই নিজের হাতে আদ্রিতাকে সাজিয়ে দিয়েছেন। কারণ আদ্রিতা অন্য কারও হাতে সাজতে রাজি হয়নি।
কপালে একটি ঝলমলে টিকলি, পরনে নানা রঙের কলি দেওয়া লম্বা একটি লেহেঙ্গা, আর তার সঙ্গে সবুজ রঙের একটি সুন্দর ব্লাউজ।
মিসেস মিহু যত্ন করে মেয়ের চুল ঠিক করে দিলেন। তারপর কপালে টিকলি পরিয়ে ওড়নাটা সুন্দর করে গুছিয়ে দিলেন।
এরই মধ্যে মিরা এবং প্রিয়াও প্রস্তুত হয়ে গেছে।
প্রিয়া সেজেগুজে আদ্রিতার সামনে এসে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলল,
“আন্টি, জানো? আদ্রিতার বেবি হবে কিছুদিন পর। কিন্তু তাকে দেখে মনে হচ্ছে আদ্রিতা নিজেই একটা বেবি। কোনো একটা বিয়েতে তার মা তাকে সাজিয়ে দিচ্ছে।”
কথাটা শুনে মিসেস মিহুর চোখ দুটো হঠাৎ করেই ছলছল করে উঠল।
হয়তো সত্যিই, যদি ছোটবেলা থেকে মেয়েটাকে নিজের কাছে পেতেন, তাহলে এভাবেই সাজিয়ে দিতেন তাকে।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, দূরে থেকেও আদ্রিতা ঠিক তার মনের মতোই হয়ে উঠেছে শান্ত, কোমল হৃদয়ের এক সুন্দরী মেয়ে।
মিসেস মিহু স্নেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আদ্রিতার কপালে আলতো করে চুমু খেলেন। তারপর একইভাবে চুমু খেলেন প্রিয়ার কপালেও।
মৃদু কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
“তোরা হাজার বড় হয়ে যা, থাকবি তো আমার ছোট্ট মেয়েই।”
প্রিয়া কথাটা শুনে মিষ্টি করে হেসে উঠল।
তারপর বলল,
“আচ্ছা আদ্রিতা, চল। মিরা আপুকে নিয়ে স্টেজে যেতে হবে।”
আদ্রিতা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
মিসেস মিহু তার হাতে চুড়িগুলো পরিয়ে দিয়ে স্নেহমাখা কণ্ঠে বললেন,
“সাবধান, আম্মাজান।”
আদ্রিতা মৃদু হেসে উত্তর দিল,
“আচ্ছা, আম্মু।”
প্রিয়া আদ্রিতার হাত ধরে তাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
মিসেস মিহু তখন নিজের মেকআপের সরঞ্জামগুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে অবশিষ্ট সাজটুকুও শেষ করে নিলেন।
অন্যদিকে, প্রিয়ার পিছু পিছু ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন মাধবী বেগম।
কিন্তু ঘরের ভেতরের সেই দৃশ্য দেখে তিনি থমকে গেলেন।
মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো, তার সন্তান, তার পরিবার, তার সংসার, তার আপনজনদের ভালোবাসা, সবকিছু যেন ধীরে ধীরে মিসেস মিহু নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন।
এই স্নেহ, এই মায়া, এই নির্ভরতার বন্ধনগুলো দেখে তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা আর অস্বস্তি জন্ম নিল।
আর সেই অনুভূতি ধীরে ধীরে রূপ নিতে লাগল এক গভীর, নিঃশব্দ ক্ষোভে।
মিরাকে সাজানো হয়েছিল সবুজ রঙের একটি অপূর্ব লেহেঙ্গা আর রঙবেরঙের ফুলের গহনায়। তাকে দেখে যেন সত্যিকার অর্থেই এক নববধূ মনে হচ্ছিল। মুখভরা লাজুক হাসি আর চোখজোড়া জুড়ে ছিল এক অনন্য দীপ্তি।
আদ্রিতা ও প্রিয়া দুপাশে দাঁড়িয়ে মিরাকে নিয়ে ধীর পায়ে স্টেজের দিকে এগিয়ে এলো।
আদ্রিতার চোখ দু’টো আদ্রিসকে খুঁজে চলেছে।
কি অদ্ভুত আদ্রিস কোথাও নেই।
মিরা হেনা দিতে বসেছে।
তবে দেওয়ার আগে সে আদ্রিতার দিকে ফিরে চায়।
“পিঠের কাছে বলিস দিয়ে রিলাক্সে বস। এখান থেকে কোথাও জাস না। অনেক মানুষ বাড়িতে বুঝতে পেরেছিস?”
মিরার কথায় আদ্রিতা মাথা নাড়ায়।
“হ্যাঁ বুঝেছি৷”
“আর খারাপ লাগলে আমাকে বলবি ওকে।”
“ওকে।”
আদ্রিতা সেভাবে বসে।
আদ্রিতাকেও সুন্দর করে মেহেদী পরিয়ে দেওয়ার জন্য একটা মেয়ে বসে আদ্রিতার সামনে।
কিছু বাহির থেকে ড্যান্সার এসেছে যারা সমানে ড্যান্স করছে।
সবাই অনুষ্ঠানে বেশ আনন্দ করছে।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিস হাতের কাজ সেরে ভেনুতে প্রবেশ করে।
আদ্রিস ভেনুতে প্রবেশ করতেই স্টেজের উপর চুপচাপ বসে থাকা আদ্রিতার দিকে চায়৷ কি শান্ত কি মায়াবী দেখাচ্ছে মেয়েটাকে।
মিরা, প্রিয়াও পাশে বসে আছে। মিরাকে দেখে আদ্রিস শস্তি পেলো। যাক আদ্রিতার খেয়াল রাখার মত সেখানে কেউ আছে।
আদ্রিস ওদিকে এগিয়ে যাবে এমন সময় মিলা এসে আদ্রিসকে জড়িয়ে ধরে।
ততক্ষণে আদ্রিতার চোখও আদ্রিসকে খুঁজে নিয়েছে। সুন্দর একটা সি গ্রিন রঙা ব্লেজার পরেছে সে। নিচের সার্ট টাও ডিজাইন করা।
ছেলেদেরও এমন ডিজাইন করা পোশাক হয়। এত সুদর্শন দেখাচ্ছে এই মাফিয়া টাকে৷
কিন্তু দেখতে দেখতে যে আরেকটা মেয়ে তার বরকে জড়িয়ে ধরলো। বিষয়টা ভীষণ রাগিয়ে দিলো শান্ত মেয়েটাকে।
আদ্রিস এক হাতে মিলাকে সরিয়ে বলে,
“মিলা এটা কেমন আচরণ? ”
“কেন ভাই এখন একটা হাগ ও করতে পারব না? ”
“না কারণ আমার বউ তোর আমাকে হাগ করা দেখে রেগে গিয়েছে।”
মিলা আদ্রিসের চোখ বরাবর তাকায়। আসলেই আদ্রিতার রাগান্বিত দৃষ্টি তাদের দিকেই স্থির।
মিরা হাসে মৃদু। তবে সে আদ্রিসের কানের পেছনে আদ্রিতা লেখা ট্যাটু খানা লক্ষ করে।
“ওয়াউ তোর কানের কাছের এই ট্যাটুটা আগে দেখিনি আমি।’
” তোর জন্য করিনি। যার জন্য করেছি সে রোজ দেখে।”
“রুড এস।”
আদ্রিস চোখ ঘোরায় বিরক্তিতে। মিলাও দুষ্টু হেসে আদ্রিসের বুকে আঘাত করে বলে,
“কি বলিস তোর বউকে আরও রাগিয়ে দেই?”
“মোটেই না। তোর কাছেই আসব না কিন্তু আমি।”
“আচ্ছা আচ্ছা সরি। তবে যাই বলিস। আদ্রিতাকে খুঁজতে হলে তোর চোখে তাকাতে হবে। তুই যেদিকে তাকিয়ে আছিস ওখানেই আদ্রিতা আছে।”
কথাটা শুনে আদ্রিস হাসে একটু।
হ্যাঁ এটা সত্যি। আদ্রিতাকে খুঁজতে হলে আদ্রিসের চোখ বরাবর তাকালেই হয়। কারণ আদ্রিসের চোখ সব সময় তার প্রিয়তমার দিকেই স্থির থাকে।
আদ্রিস বাঁকা হেসে মিলাকে সেখানে রেখে এগিয়ে যায় স্টেজের দিকে।
তার প্রেগন্যান্ট বউ তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
আদ্রিস এগিয়ে গিয়ে সবার সমানেই আদ্রিতার কপালে চুমু খায়।
তা দেখে উপস্থিত সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। ওদিকে আদ্রিতার গাল লাল হয়ে গিয়েছে।
মিরা বিরক্ত হয়ে বলে,
“কিছুত সরম কর বেয়াদব ছেলে।’
” কিসের সরম। এটা আমারি বউ।’
“হ্যাঁ হ্যাঁ তোরই বউ।”
আদ্রিস বাঁকা হাসে।
এরপর হেনা আর্টিস্ট কে বলে,
“সুন্দর করে লিখে দিবেন আদ্রিস নামটা ওকে।”
“ওকে স্যার৷”
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৬৬
আদ্রিস কথাটা বলে স্টেজ থেকে নেমে যায়।
আদ্রিতার রাগ যেন উবে গেলো।
ওদিকে সায়ের এবং রেভেনও এসেছে রেডি হয়ে।
অনুষ্ঠানে সবাই মজা মস্তি করে মেহেদী পরলো। নাচ গান হলো।
এরপর আদ্রিস, সায়ের, রেভেন, প্রিয়া, মিরা, আদ্রিতা, মিসেস মিহু, মাধবী বেগম মিলে ছবি তুললেন।
এরপর শুরু দুপুরে সবাই খেয়ে আবার রুমে গেলো রাতের জন্য রেডি হতে।
