ডার্ক সাইড অফ লাভ শেষ পর্ব
দূর্বা এহসান
“বেবী, আই ক্যান্ট কন্ট্রোল মাইসেলফ এনিমোর।হোয়াট সুড আই ডু?”
মাঝে পেরিয়ে গেছে কয়েক মাস। তরুর পেট এখন বেশ ফুলে উঠেছে। নয় মাসের সেই ভারী পেট আর কোনোভাবেই আড়াল করার উপায় নেই। ঢিলেঢালা শাড়ি, বড় ওড়না কিংবা আলগা জামা,কিছুই আর তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে না। আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের বদলে যাওয়া শরীরটাকে দেখে সে নিজেই অবাক হয়ে যায়। মনে হয়, যেন তার ভেতরে আরেকটি ছোট্ট পৃথিবী ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে।
তরু খাটের ধারে বসে নিজের পেটের ওপর আলতো করে হাত রাখল। হঠাৎ ভেতর থেকে ছোট্ট একটা নড়াচড়া অনুভব করতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। এই অনুভূতিটা কখনোই পুরোনো হয় না। প্রতিবারই মনে হয়, যেন শিশুটি তাকে কিছু বলতে চাইছে।
উপরোক্ত কথা শুনে সামনে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে দাঁড়ানো মৃন্ময় এর দিকে তাকালো তরু।লোকটার চোখে মুখে অস্বাভাবিক রকমের চাহনি।আজও ড্রিংস করেছে! গত কয়েক মাসে বাবা মার খুনিকে ধরতে না পেরে প্রায় ডিপ্রেশন চলে গেছে মৃন্ময়।তার ফলস্বরুপ এই অবস্থা।তরুর মনে হলো সে ভুল শুনেছে।তাই প্রশ্ন করলো,
– সরি,কি বললে?
– নিড
– কিহ
চমকালো তরু।৯ মাসের প্রেগন্যান্ট সে।এইতো এই সপ্তাহেই ডেলিভারি ডেট পড়েছে।এখন,এই অবস্থায়,কিভাবে?
উচু পেটটা ধরে সে কোনরকম হেঁটে এগিয়ে এলো মৃন্ময় এর দিকে।দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়ানো মৃন্ময়কে হাত ধরে এনে বিছানায় বসিয়ে দিলো।সাথে সাথেই মৃন্ময় কোমর জড়িয়ে ধরলো তার।পেটের মাঝে মাথা রেখে বলল,
– বাবু,কবে বের হবে মাম্মামের পেট থেকে?
তোমার পাপার কষ্ট হচ্ছে তো।পাপা নিড ইওর মাম্মা।
তরু আলতো হাতে মৃন্ময় এর চুল গুলো বুলিয়ে দিলো।এই ছেলের পাগলামির শেষ কোথায়?
– আর মাত্র ৪ দিন
মাথা তুলে তাকালো মৃন্ময়।তরু এখন বেশ গুলুমুলু হয়েছে।ফোলা গাল গুলো দেখলেই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।কিন্তু পারে না,আর ,মাত্র চারদিন পর তার ছেলে,তার রক্ত পৃথিবীতে আসবে।ভাবতেই শান্তি মেলে।কিন্তু শরীর এখন অশান্তিতে ভরে আছে।নিজের মধ্যে নিডি অনুভুতিটা জেগে উঠেছে।বউ তার সামনে অথচ কিছু করা যাচ্ছে না
হঠাৎ মৃন্ময়ের নজর গেলো তরুর বুকের দিকে।চোখ গোল করে সে বলল,
– আমার কষ্টে গড়া খাবারে অন্য কেউ ভাগ বসাবে?
তরু শোনো বাবুকে কিনে এনে খাওয়াবো ঠিক আছে?
এগুলা শুধু আমার, অনলি মাইন।
তরু হালকা করে মৃন্ময়ের মাথায় মারলো।
-হিংসুটে একটা
– হুস, গোলাপজামুন গুলো শুধু আমার
ছটফট করছে মৃন্ময়। এক্ষনি তার তরুকে চাই।তরু ৯ মাসের উচু পেট টা নিয়ে মৃন্ময় এর সামনে বসলো।করুণ চোখে তাকালো মৃন্ময়।ছোট মিয়া হঠাৎ’ই কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে।
-তরু!!!
করুণ কন্ঠে ডাকলো মৃন্ময়। তরু নিজের ফোলা হাত টা মৃন্ময় এর গালে ছোঁয়ালো।
– যার কেউ নেই তার হাত আছে।তোমার বউয়ের এই প্রিটি হাতটা কাজে লাগানোর সময় এসেছে জান
মৃন্ময় চোখ বন্ধ করলো।তরুর হাত ধীরে ধীরে মৃন্ময় এর গাল থেকে নেমে ছোট মিয়ার দিকে এগোলো। মৃন্ময় অদ্ভুত এক শান্তিতে বিছানার চাদর খামচে ধরলো
ভোর তখনও পুরোপুরি নামেনি। রাত আর দিনের মাঝামাঝি সেই নরম, ধূসর সময়। জানালার কাঁচে জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো ম্লান আলোয় ঝিকমিক করছে। দূরে কোথাও মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে আসছে, শান্ত আর গভীর। পাখিরা এখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি, তবে দু-একটা চেনা ডাক নিস্তব্ধতাকে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
শহরও তখন ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায়। রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা, বাতাসে রাতের শীতলতার শেষটুকু রয়ে গেছে। সবকিছু এত শান্ত, এত স্থির যেন পৃথিবী কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে আছে।আর সেই নীরবতার মাঝেই হঠাৎ একটি আর্তনাদ ছিন্ন করে দিল চারপাশের সমস্ত শান্তি।
-আহ…!
ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে বিছানার চাদর শক্ত করে মুঠোয় ধরলো তরু।ঘুমের ঘোরে থাকা মৃন্ময় এক ঝটকায় উঠে বসল।
-তরু!
মৃন্ময় এর কণ্ঠে আতঙ্ক স্পষ্ট।কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না। কী হয়েছে? কোথায় ব্যথা? কী করবে এখন?তরুর কপাল ঘামে ভিজে গেছে। মুখ ফ্যাকাশে। দুহাতে নিজের পেট আগলে ধরে আছে সে। চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ।
-মৃন্ময়… খুব ব্যথা করছে…
কাঁপা কণ্ঠে বলা কথাগুলো শুনে মৃন্ময়ের বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠলো।ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ এখনও তিন দিন পরে।তাহলে এখন কেন?মাথার ভেতর একসঙ্গে হাজারটা চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগলো।সে দ্রুত বিছানা থেকে নেমে এল।
-এক মিনিট, আমি ডাক্তারকে ফোন করছি।
ফোন আনতে গিয়েও হাত কাঁপতে লাগলো তার।এতদিন ধরে সে নিজেকে শক্ত রেখেছে। প্রতিটি চেকআপে তরুর পাশে থেকেছে। ওষুধের সময় মনে করিয়ে দিয়েছে। রাতে ঘুম ভেঙে গেলেও উঠে পানি এনে দিয়েছে।
কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের সমস্ত সাহস যেন কোথায় হারিয়ে ফেলেছে।কারণ আজ প্রথমবার সে সত্যি সত্যি বুঝতে পারছে তাদের সন্তান পৃথিবীতে আসার সময় হয়তো এসে গেছে।ফোনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তার কণ্ঠ কাঁপছিল।ওপাশ থেকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলা হলো।মৃন্ময় আর এক মুহূর্ত দেরি করলো না।
-চলো
তরু মাথা নাড়লো।কিন্তু বিছানা থেকে উঠতেই আবার ব্যথার ঢেউ এসে তাকে কাঁপিয়ে দিল।
-আহ…
মৃন্ময়ের বুক মোচড় দিয়ে উঠলো।
-ধীরে… আমি আছি।
সে একহাতে তরুর কাঁধ জড়িয়ে ধরলো, অন্য হাতে তাকে সামলে দাঁড় করালো। তারপর যত্নসহকারে কোলে তুলে নিলো তরুর ভারী শরীর খানা।
বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ভোরের ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে লাগলো।চারপাশে এখনও আধো অন্ধকার।
গাড়ির দরজা খুলে খুব সাবধানে তরুকে বসালো সে।সিটবেল্ট লাগিয়ে দেওয়ার সময়ও তার হাত কাঁপছিল।
তরু সেটা লক্ষ্য করলো।ব্যথার মাঝেও দুর্বল হাসি ফুটলো তার ঠোঁটে।
-তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেন?
মৃন্ময় কিছু বলতে পারলো না।শুধু কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলো।তার এই মানুষটাকে সে কত ভালোবাসে!
নয় মাস ধরে নিজের শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন, প্রতিটি অস্বস্তি, প্রতিটি আনন্দ ভাগ করে নিয়েছে তার সঙ্গে।
আজ সেই মানুষটাই তার সামনে অসহায় হয়ে আছে।
-আমি ভয় পাচ্ছি না
মৃন্ময় বললো।কিন্তু কথাটা বলেই নিজেই বুঝলো সে মিথ্যে বলছে।সে ভয় পাচ্ছে।ভীষণ ভয় পাচ্ছে।তরুকে হারানোর ভয়।কোনো সমস্যা হওয়ার ভয়।অজানা ভবিষ্যতের ভয়।ইঞ্জিন স্টার্ট দিল সে।গাড়ি ধীরে ধীরে ফাঁকা রাস্তায় এগিয়ে চললো।
ভোরের শহর যেন অন্য এক পৃথিবী।রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো এখনও জ্বলছে।কোথাও কোথাও কয়েকজন পথচারী হাঁটছে।এক-দুটা রিকশা দেখা যাচ্ছে।কিন্তু মৃন্ময়ের কাছে এসবের কিছুই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে না।
তার পুরো পৃথিবী এখন পাশের সিটে বসে থাকা তরু।প্রতিবার তরু ব্যথায় মুখ কুঁচকে ফেলছে, মৃন্ময়ের মনে হচ্ছে কেউ যেন তার বুকের ভেতর ছুরি চালাচ্ছে।সে বারবার তাকাচ্ছে।
– আরেকটু
-হ্যাঁ…
-আর একটু। আমরা পৌঁছে যাচ্ছি
তরু চোখ বন্ধ করে মাথা সিটে ঠেকিয়ে রাখলো।তার শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী। মৃন্ময় স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরলো।রাস্তা প্রায় ফাঁকা বলে সে দ্রুত গাড়ি চালাতে পারছে।তবু প্রতিটি সেকেন্ড তার কাছে ঘণ্টার মতো দীর্ঘ মনে হচ্ছে।লাল সিগন্যালের সামনে এসে গাড়ি থামাতে হলো।সে অধৈর্য হয়ে ঘড়ির দিকে তাকালো।তারপর আবার তরুর দিকে।
-ব্যথা খুব বেশি?
তরু মাথা নড়লো।
-একটু…”
মৃন্ময় তার হাত ধরলো।ঠান্ডা হাত।ভেজা হাত।কাঁপা হাত।সে নিজের আঙুলগুলো আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
-আমি আছি।
দুইটা ছোট শব্দ। অথচ তরুর বুকে প্রশান্তি মিলল এতেই।সিগন্যাল সবুজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার গাড়ি ছুটলো।
আকাশ ধীরে ধীরে ফর্সা হচ্ছে।পূর্ব দিগন্তে কমলা রঙের আভা দেখা যাচ্ছে।নতুন একটা দিনের শুরু।আর হয়তো তাদের জীবনেরও নতুন একটা অধ্যায়ের শুরু।হাসপাতালের বিল্ডিং দূর থেকে চোখে পড়তেই মৃন্ময়ের বুকের ভেতর জমে থাকা আতঙ্কের একটা অংশ যেন নেমে গেল।
-পৌঁছে গেছি।
গাড়ি থামার আগেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মীরা এগিয়ে এল।হুইলচেয়ার নিয়ে।মৃন্ময় দ্রুত নেমে দরজা খুললো।তরুকে নামাতে সাহায্য করলো।তারপর হুইলচেয়ার এগিয়ে যেতে শুরু করলো হাসপাতালের উজ্জ্বল আলোয় ভরা করিডোরের দিকে।মৃন্ময় কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইলো।তারপর দ্রুত পেছন পেছন হাঁটতে লাগলো।তার হৃদস্পন্দন এখনও দ্রুত।হাত এখনও কাঁপছে।কিন্তু এবার সেই কাঁপুনির সঙ্গে মিশে আছে অন্যরকম এক অনুভূতি।অপেক্ষাউদ্বেগ।আশা।আর গভীর ভালোবাসা।হাসপাতালের স্বয়ংক্রিয় কাচের দরজা খুলে গেল।
ভোরের আলো হাসপাতালের কাচের জানালায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। করিডোরজুড়ে সাদা আলো, হালকা ওষুধের গন্ধ আর ব্যস্ত পায়ের শব্দ। কিন্তু মৃন্ময়ের কাছে পুরো পৃথিবীটা যেন সীমাবদ্ধ হয়ে আছে এক জায়গায় তরুর পাশে।
ডেলিভারি রুমে নেওয়ার পরও সে তরুর হাত ছাড়েনি। তার আঙুলগুলো শক্ত করে জড়িয়ে আছে তরুর কাঁপতে থাকা হাতের সঙ্গে। এতদিনের অপেক্ষা, এতদিনের স্বপ্ন আজ বাস্তব হতে চলেছে। তবু এই মুহূর্তে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশি অনুভব করছে সে।
তরুর কপাল ঘামে ভিজে গেছে। চুলের কিছু গোছা মুখের ওপর লেগে আছে। ব্যথার ঢেউ এলে সে চোখ বন্ধ করে ফেলছে, কখনও চাদর মুঠো করে ধরছে, কখনও মৃন্ময়ের হাত।মৃন্ময়ের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠছে বারবার।
সে অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে। যদি পারত, এই কষ্টের অর্ধেক নিজের মধ্যে নিয়ে নিত। কিন্তু পারে না। তাই শুধু পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, কপালে আলতো হাত রাখে, আর নরম গলায় বলছে,
-আমি আছি, তরু।
তরু ক্লান্ত চোখে তার দিকে তাকায়।সেই চোখে ব্যথা আছে, ক্লান্তি আছে, কিন্তু তার থেকেও বেশি আছে বিশ্বাস।
মৃন্ময় সেই দৃষ্টিটা দেখে নিজের ভয় লুকিয়ে ফেলে। তার হাতও কাঁপছে, বুকের ভেতরও ঝড় চলছে
-আর একটু… তুমি পারবে।
সময় যেন থেমে গেছে।ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছে, ডাক্তার আর নার্সরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত, কিন্তু মৃন্ময়ের কাছে প্রতিটি মিনিট যেন এক একটি দীর্ঘ অধ্যায়।তরুর হাতের চাপ কখনও শক্ত হচ্ছে, কখনও আলগা। প্রতিবার সে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলে মৃন্ময়ের মনে হচ্ছে, তার নিজের বুকের ভেতরেও কেউ অদৃশ্যভাবে একটা টান মেরে ধরছে।সে ঝুঁকে এসে তরুর কপালে চুমু খায়।
তারপর ঘণ্টা পেরোলো,
একসময়, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে,রুম ভরে ওঠে একটি নবজাতকের প্রথম কান্নার শব্দে।মুহূর্তটা যেন সময়কে থামিয়ে দিলো।মৃন্ময় কয়েক সেকেন্ড নিঃশ্বাস নিতেও ভুলে যায়।তারপর ধীরে ধীরে চোখ ভিজে ওঠে।সে প্রথম তাকায় তরুর দিকে।ক্লান্ত, অবসন্ন, তবু মুখে এক অদ্ভুত শান্তি।মৃন্ময় আবার তার হাতটা নিজের দুই হাতের মাঝে নিয়ে আসে। কপাল ছুঁয়ে ফিসফিস করে বলে,
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ২৫
– মাই লাভ
পরক্ষনেই জ্ঞান হারায় তরু। মৃন্ময় দিশেহারা হয়ে পড়ে। ডাক্তাররা শান্ত করে তাকে।চিন্তার কোনো কারণ নেই।তবুও শান্ত হতে পারছে না সে।তরুর হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বসে পড়ল।তার সম্পূর্ণ অ্যাটেনশন তরুর পানে। নার্স ডাক্তাররা মুচকি হাসছে ওর কান্ডে।তারা প্রায় সময় দেখে এসেছে ডেলিভারির পর পরই বাচ্চাকে নিয়ে মেতে উঠতে।কিন্তু এখানে বিষয়টা উল্টেগেছে।একজন নার্স সাদা মোলায়েম কাপড়ে মোড়ানো একটা ছোট্ট প্রাণ হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলো মৃন্ময়ের সামনে।মৃন্ময় তাকালো সেদিকে। নার্স এগিয়ে দিলো তার হাতে ।মৃন্ময় দুইহাতে আঁকড়ে ধরলো ছোট্ট প্রাণটাকে।তাদের ছেলে। আল্লাহ্ এতো সুখ সুখ অনুভূতি হচ্ছে ক্যান মৃন্ময়ের ।এটাই কি তবে বাবা হওয়ার অনুভূতি।তরুর দিকে তাকালো মৃন্ময়।
– জান,দেখো আমাদের বাচ্চা,আমাদের ছেলে। মৃণ.. মৃণ আবরার খান। মৃন্ময় আবরার খান এবং তরু আবরার খানের একমাত্র ছেলে মৃণ আবরার খান।
সমাপ্ত
